ঝুমন দাসের অপরাধ কী

ঝুমন দাসের অপরাধ কী

আইনজীবী তবারক বলেন, ‘এ দেশে ওয়াজ মাহফিলের নামে প্রতিনিয়ন মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা হয়। সব ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করা হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। অথচ ফেসবুকে কেউ কিছু লিখলেই তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। এই আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।’

স্বাধীন রাষ্ট্রে সবার মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে- এমন মন্তব্য করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, বীর মুক্তিযোদ্ধা তবরাক হোসাইন প্রশ্ন তুলেছেন, কোন অপরাধে ঝুমন দাসকে ছয় মাস ধরে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে? তার অপরাধ কী?

সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বুধবার বিকেলে ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদী কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে দেয়া বক্তব্যে এমন প্রশ্ন তোলেন তবরাক হোসাইন।

তিনি বলেন, ঝুমন দাস হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে লিখেছেন। এই মামুনুল হকের সমালোচনা সংসদে দাঁড়িয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীও করেছেন। নানা অভিযোগে মামুনুল কারাগারেও আছেন। তারপরও মামুনুলের সমালোচনার কারণে ঝুমনকে কেনো ছয় মাস ধরে জেলে থাকতে হবে?

হেফাজতে ইসলামের নেতা মামুনুল হকের সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে গত ১৬ মার্চ গ্রেপ্তার হন সুনামগঞ্জের শাল্লার যুবক ঝুমন দাস। পর দিন ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকীর দিন সকালে ঝুমনের গ্রাম নোয়াওগাঁওয়ে হামলা চালায় হাজারও সশস্ত্র লোক। তারা ভাঙচুর করে ওই গ্রামের প্রায় ৯০টি হিন্দু বাড়ি। বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার সবাই জামিন পেয়েছেন। তবে ছয় মাসেও জামিন মেলেনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় ঝুমনের।

এর প্রতিবাদে এবং ঝুমন দাসের মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার সিলেটে এই প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’।

প্রতবাদী কর্মসূচির শুরুতে শাল্লার নোয়াগাঁওয়ে হামলা, ঝুমনের গ্রেপ্তার ও জামিন না পাওয়ার পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’র সংগঠক আব্দুল করিম কিম।

তিনি বলেন, ‘ঝুমন দাস একজন গ্রাম্য যুবক। তিনি মামুনুল হককে নিয়ে যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন সেটিকে পুঁজি করে একটি গোষ্ঠী হাজার হাজার মানুষকে উসকে দিয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি। সেদিন কী পরিমাণ নির্যাতনের শিকার হয়েছিল মানুষগুলো। অথচ নিজেদের প্রাণ রক্ষায় হামলার আগের রাতেই ঝুমন দাসকে আইনের হাতে তুলে দিয়েছিল সংখ্যালঘু গ্রামটির বাসিন্দারা। তারপরও তারা রক্ষা পায়নি।

‘এ ঘটনায় সংখ্যালঘুদের বাড়ি ঘরে হামলায় মামলা হয়েছে, কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কিন্তু তারা সবাই জামিন পেয়েছেন। আর ঝুমন দাস এখনও জেল হাজতে। তার ৬ মাসের সন্তান নিয়ে অসহায় স্ত্রী পথে পথে ঘুরছেন। আমরা ঝুমন দাসের মুক্তি চাই। সেই সঙ্গে ডিজিটাল আইন নামক যে আইনে তাকে গ্রেপ্তার দেখান হয়েছে, এই কালো আইন দিয়ে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা নষ্ট করা হয়েছে- সে আইন বাতিল দাবি করছি।’

অবস্থান কর্মসূচিতে সমাপনী বক্তব্যে প্রবীণ আইনজীবী তবারক হোসাইন বলেন, স্বাধীনতার আগে নিবর্তনমূলক আইনের মাধ্যমে বাঙালিদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল, শোষণ-নির্যাতন ছিল। তাই আমরা এমন দেশ চেয়েছিলাম যেখানে শোষণ নির্যাতন থাকবে না। আমাদের মূল সংবিধানে নিবর্তনমূলক কোনো আইনও ছিল না। পরে এগুলো যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বাধীনতা হরণ হয়েছে। যার উদাহরণ ঝুমন দাস। তিনি যে স্ট্যাটাস দিয়েছিল সেটি আমি পড়েছি। স্ট্যাটাসে কিছু অতিরঞ্জন থাকতে পারে। তবে এটা কোনোভাবেই অপরাধ নয়।’

তবারক বলেন, ‘এ দেশে ওয়াজ মাহফিলের নামে প্রতিনিয়ন মানুষের ধর্মানুভূতিতে আঘাত করা হয়। সব ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করা হয়। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয় না। অথচ ফেসবুকে কেউ কিছু লিখলেই তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়। এই আইন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।’

এই আইনজীবী বলনে, ‘ঝুমনের জামিনের ব্যাপারে বৃহস্পতিবর হাইকোর্ট দেয়ার কথা। আশা করি হাইকোর্ট যথাযথ বিবেচনার মাধ্যমে ঝুমন দাসকে জামিন দিবেন। এবং সরকার তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’

এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব এনামুল মুনির, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সিলেট মহানগরের সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, বাসদ (মার্কসবাদী) সিলেটের সমন্বয়ক উজ্জল রায়, হাওর ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক কাশমির রেজা, কবি আবিদ ফায়সাল, সারী বাঁচাও আন্দোলন নেতা আব্দুল হাই আল হাদি, শিক্ষক ও সংগঠক প্রণবকান্তি দেব, আইনজীবী দেবব্রত চৌধুরী লিটন, মাহবুব রাসেল, প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী নিরঞ্জন সরকার অপু, তানভীর রুহেল, হিতাংশু কর বাবু, রাজীব রাসেল, অরূপ বাউলসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাবনা সুজানগরে শিকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার প্রায় ২ শ দেশীয় প্রজাতির পাখি অবমুক্ত করা হয়েছে।

সুজানগর থানা চত্বর সোমবার দুপুরের পর পাখিগুলো অবমুক্ত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।

এর আগে চরদুলাই বাজারে অভিযান চালিয়ে পাখিসহ তিন শিকারীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আটক শিকারীরা হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের আতোয়ার শেখ, ঘোড়াদহ গ্রামের আলাউদ্দিন, চলদুলাই গ্রামের মোজাহার আলী।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাখি অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মুহা. আ. লতিফসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

প্রতীকী ছবি

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কয়রা থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন জানান, সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটছিল শিশু জামিলা। এ সময় পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে মারা যায় শিশুটি।

খুলনার কয়রায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা চলাকালে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

এর আগে উপজেলার বাগালি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে সরদারবাড়ির সামনে সোমবার সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মৃত শিশুর নাম জামিলা খাতুন। তিন বছরের জামিলা নারায়ণপুর গ্রামের কবিরুল ইসলামের মেয়ে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটছিল শিশু জামিলা। এ সময় পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে মারা যায় শিশুটি।

ওসি শাহাদাৎ জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি।

আরও পড়ুন:
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৫ দিন পর গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের ৫ দিন পর গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনি এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মনসুর। তবে পরে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় রোববার ডিমলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনসুরের স্ত্রী সাহিদা বেগম।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে এক গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহলপাড়ায় তিস্তার গ্রোয়িং বাঁধের নিচ থেকে সোমবার দুপুর ১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম মনসুর আলী। তার বাড়ি উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামের দৌলতপাড়া এলাকায়।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায়।

পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনি এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মনসুর। তবে পরে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় রোববার ডিমলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনসুরের স্ত্রী সাহিদা বেগম।

সাহিদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গরু কেনার জন্য কলোনি যান উনি। রাত ১১টা বেজে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় তারে কল দেই। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। ক্লিনিক, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।’

পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায় জানান, সোমবার দুপুরে দোহলপাড়ায় তিস্তার গ্রোয়িং বাঁধের নিচে স্থানীয়রা মনসুরের মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় জানায়। বাঁধের নিচে মরদেহটি আটকে ছিল।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলাও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

‘সত্য উদঘাটন করুন, গ্রেপ্তার-বাণিজ্য নয়’: সুজনের সম্পাদক

‘সত্য উদঘাটন করুন, গ্রেপ্তার-বাণিজ্য নয়’: সুজনের সম্পাদক

কুমিল্লা টাউন হল মুক্তিযোদ্ধা কর্নারে এক সংলাপে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। ছবি: নিউজবাংলা

সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘লোক দেখানো তদন্ত না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করুন। বিচারহীনতা, পরস্পর দোষারোপের সংস্কৃতি ও দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ।’

‘কুমিল্লার ঘটনায় গ্রেপ্তার-বাণিজ্য নয়, সত্য উদঘাটন করুন’- বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

কুমিল্লা টাউন হল মুক্তিযোদ্ধা কর্নারে এক সংলাপে সোমবার দুপুরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘লোক দেখানো তদন্ত না করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করুন। বিচারহীনতা, পরস্পর দোষারোপের সংস্কৃতি ও দোষীদের বিচারের আওতায় না আনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ।

‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির ফলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। নাগরিক সোচ্চার হলেই রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হবে। দেশের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি ছেয়ে গেছে। এক শ্রেণির আমলা, ব্যবসায়ী, সরকারি চাকরিজীবী সরাসরি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।’

সুজন কুমিল্লার সভাপতি শাহ আলমগীর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হুমায়ুন কবির মাসুদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুজনের কুমিল্লা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ টিটু।

আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রুহুল আমিন ভুইয়া, কুমিল্লা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোসলে উদ্দিন আহমেদ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তারিকুল রহমান জুয়েল, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ফারহানা আমিন, সিনিয়র জেলা তথ্য অফিসার নজরুল হক, জেলা কালচারার অফিসার আয়াজ মাবুদ, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি জহিরুল হক দুলাল।

আরও পড়ুন:
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

ফতুল্লায় স্টিল কারখানায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫

ফতুল্লায় স্টিল কারখানায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫

দগ্ধ আলী হোসেনের ভাই রুবেল ভান্ডারি বলেন, ‘আমরা দুই ভাই একই ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। বিস্ফোরণ আমাদের ভুলেই হয়েছে। আমরা ভুলবশত মেশিন চালু করে ওই লাইনের কাজ শুরু করে দেই। এত প্রেশার নিতে না পেরেই বিস্ফোরণ হতে পারে।’

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় স্টিল কারখানায় ফার্নেস পাইপ বিস্ফোরণে পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ফতুল্লার পাগলা রসুলপুর এলাকায় সিএসআরএম স্টিল কারখানায় সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

দগ্ধরা হলেন সোহেল রানা, মো. লিটন, মো. আরিফ, বিল্লাল হোসেন ও আলী হোসেন।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

কারখানার কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার বদরুল আলম জানান, দুপুর ১২টার দিকে ফার্নেস পাইপ বিস্ফোরণে পাঁচ শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের দ্রুত বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা এস এম আইয়ুব হোসাইন বলেন, ‘যে পাঁচ শ্রমিককে আনা হয়েছে তাদের শরীরের ১১ থেকে ৫২ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। আলী হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার শরীরের ৫২ শতাংশ পুড়ে গেছে।’

আলী হোসেনের ভাই রুবেল ভান্ডারি বলেন, ‘আমরা দুই ভাই একই ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। বিস্ফোরণ আমাদের ভুলেই হয়েছে। আমরা ভুলবশত মেশিন চালু করে ওই লাইনের কাজ শুরু করে দেই। এত প্রেশার নিতে না পেরেই বিস্ফোরণ হতে পারে।’

ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন।

আরও পড়ুন:
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

আ. লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তারাপুরে বিক্ষোভ

আ. লীগ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে তারাপুরে বিক্ষোভ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আউলিয়া বলেন, ‘রাজাকারের ছেলের হাতে দলীয় নৌকা প্রতীক কীভাবে গেল? কারা এখানে মদদ দিলেন? সব খতিয়ে দেখা দরকার। সাইফুলরা ৮ ভাইয়ের মধ্যে ৬ জনেই জামায়াতের কর্মী-সমর্থক।’ তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আ. লীগের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তাকে বিতর্কিত উল্লেখ করে প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।

ইউনিয়ন পরিষদের পাশে সোমবার দুপুরে চৈতন্যবাজারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

যারা বিক্ষোভ করেছেন তাদের অভিযোগ, প্রার্থী সাইফুল ইসলামের বাবা আজিজুল হক মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সাইফুল দাবি করেছেন, তার সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেই অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি পক্ষ।

মানববন্ধনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামছুল হক বলেন, তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাইফুলকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। এমনকি তিনি দলের কর্মী-সমর্থকও ছিলেন না। সম্প্রতি তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসরে এসেছেন।

৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মৌলভী আজিজুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিস কমিটির চেয়ারম্যান (থানা) ছিলেন। তখন তিনি স্থানীয় ইমামগঞ্জ সিনিয়র মাদ্রাসায় প্রিন্সিপাল ছিলেন। আমি দশম শ্রেণিতে পড়তাম।

‘আজিজল হক ছিলেন পিস কমিটির সদস্য। তারা পাক বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করে তথ্য সরবরাহ কাজে নিয়োজিত ছিল।’

এ নিয়ে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আউলিয়া বলেন, ‘রাজাকারের ছেলের হাতে দলীয় নৌকা প্রতীক কীভাবে গেল? কারা এখানে মদদ দিলেন? সব খতিয়ে দেখা দরকার। সাইফুলরা ৮ ভাইয়ের মধ্যে ৬ জনেই জামায়াতের কর্মী-সমর্থক। তাদের মধ্যে মৌলভী তারা মিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সদস্য।’

ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আজমুল হোসেন পলাশ বলেন, ‘তিনবারের ইউপি চেয়ারম্যান ও তারাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ খোকাকে দলীয় নেতাকর্মীরা সমর্থন দিয়েছিলেন। সারা জীবন তিনি দলের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন। দলীয় প্রতীক তিনিই পাওয়ার যোগ্য।’

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগ নেতা মাহালম মিয়া, শিক্ষক নাজমুল হোসেন, ছাত্রলীগ নেতা রিপন মিয়া ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়াসহ আরও অনেকে।

মানববন্ধনে সাইফুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান বক্তারা।

অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ১৯৮০ সালে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পদকের দায়িত্বে ছিলাম। সরকারি চাকরি হওয়ায় সেখানে যোগদান করি। গত বছরে অবসরে এসে আমি পুনরায় ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে যোগ দেই।নেত্রী আমাকে যোগ্য প্রার্থী বিবেচনা করে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি এ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।’

তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের কেউ জামায়াত কিংবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা আওয়ামী পরিবারের সদস্য। একটি মহল আমাদের জামায়াত শিবির বানানোর পাঁয়তারা করছেন। এ ছাড়া আমার বাবা কোনো শান্তি কমিটির সদস্য কিংবা মুক্তিবাহিনীর বিপক্ষে ছিলেন না।’

আরও পড়ুন:
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন

ফ‌রিদপুর-কুয়াকাটা মহাসড়কে ৪ লেনের কাজ আগামী বছর

ফ‌রিদপুর-কুয়াকাটা মহাসড়কে ৪ লেনের কাজ আগামী বছর

বরিশাল নগরীর সড়ক ও জনপথ বরিশাল জোন অফিসে আয়োজিত এক অংশীজন সভায় বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব মো. শামিমুজ্জামান। ছবি: নিউজবাংলা

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের উপসচিব বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান। বরিশালে যাতে বাইপাস সড়ক হয় সেই লক্ষ্যে আমি ২-৩ বছর আগে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। নগরীর মধ্যে যদিও ভূমি অধিগ্রহণ একটি কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আশা করছি দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হলে আগামী বছর যে কোনো সময় সড়কের কাজ শুরু করা হবে।’

ফরিদপুর-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ আগামী বছর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামিমুজ্জামান।

তিনি জানান, এ কাজের জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটনের যে অংশ অধিগ্রহণ করা হবে তা অবশ্যই বাইপাস সড়ক নির্মাণের লক্ষ‌্য নিয়ে করা হবে।

উপসচিব বলেন, ‘আমি এই এলাকার সন্তান। বরিশালে যাতে বাইপাস সড়ক হয় সেই লক্ষ্যে আমি ২-৩ বছর আগে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। নগরীর মধ্যে যদিও ভূমি অধিগ্রহণ একটি কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। আশা করছি দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হলে আগামী বছর যে কোনো সময় সড়কের কাজ শুরু করা হবে।’

নগরীর সড়ক ও জনপথ বরিশাল জোন অফিসে আয়োজিত এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মহাসড়কের বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার অন্তর্ভুক্ত অংশের এলাইনমেন্ট নির্ধারণের জন্য এ সভার আয়োজন করা হয়।

সভার সভাপতি এবং সড়ক ও জনপথ বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবু হেনা মো. তারেক ইকবাল বলেন, ‘বরিশাল নগরবাসী সব সময় বাইপাস সড়কের পক্ষে ছিল। আমি বরিশাল সিটি মেয়রের সঙ্গে আলাপ করেছি। তিনিও আমাদের ভূমি অধিগ্রহণে সহায়তা করবেন।

‘যতদিন বাইপাস সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ না হয় তত‌দিন নগরীর রাস্তা যাতে কিছুটা প্রশস্ত করা যায় সে বিষয়েও আমাদের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন মেয়র।’

তারেক ইকবাল আরও বলেন, ‘সিটি মেয়রের সঙ্গে আলাপের সময় নগরীর রূপাতলী এলাকার ব্রিজ নিয়েও কথা হয়। এ সময় তাকে জানানো হয় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) ব্রিজের এলাকায় অতিরিক্ত জায়গা নেই। ফলে ব্রিজ বড় করা যাচ্ছে না। তিনি সহায়তা করলে ব্রিজের দু্ই পাশে আমরা স্ট্রিল ব্রিজ করে দেব। ফলে যানজট কমবে।’

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সওজ বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মিন্টু রঞ্জন দেবনাথ, রোড ডিজাইন ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী বুলবুল হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন সহ অনেক।

সওজ সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ২০১৮ সা‌লের অ‌ক্টোব‌রে পাশ হয়। ২০২০ সা‌লের জুন মা‌সের ম‌ধ্যে জ‌মি অধিগ্রহণ করার কথা ছিল। ত‌বে নানা জ‌টিলতার কারণে তা সম্ভব হয়‌নি।

আরও পড়ুন:
ঝুমনকে বিনা বিচারে আটকে রাখছেন কেন: নির্মলেন্দু গুণ

শেয়ার করুন