ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের

মানুষের ভালো থাকা সহ্য হয় না বিএনপির

মানুষের ভালো থাকা সহ্য হয় না বিএনপির

দেশের মানুষের ভালো থাকা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিব কাল্পনিক অভিযোগ করে বলছেন দেশের মানুষ ভালো নেই। আসলে দেশের মানুষ করোনার অভিঘাত মোকাবিলা করে ভালো আছে বলেই বিএনপি নেতাদের কষ্ট হচ্ছে। নেতিবাচক রাজনৈতিক মানসিকতার কারণে বিএনপিই নিজেদের ভালো থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে মিথ্যাচার আর বিষোদগারকে রোজনামচায় পরিণত করার কারণেই দেশের মানুষের ভালো থাকা বিএনপির সহ্য হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বুধবার এ মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব কাল্পনিক অভিযোগ করে বলছেন দেশের মানুষ ভালো নেই। আসলে দেশের মানুষ করোনার অভিঘাত মোকাবিলা করে ভালো আছে বলেই বিএনপি নেতাদের কষ্ট হচ্ছে।’

বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করে কাদের বলেন, ‘ক্ষমতার মোহে অন্ধ, যারা মিথ্যাচার করে আর বিষোদগারকে যারা রোজনামচায় পরিণত করেছে, মানুষের ভালো থাকা তাদের পছন্দ না করা এটাই স্বাভাবিক।’

‘নেতিবাচক রাজনৈতিক মানসিকতার কারণে বিএনপিই নিজেদের ভালো থাকার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে’- যোগ করেন তিনি।

মানুষের ভালো থাকা সহ্য হয় না বিএনপির
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

করোনার অভিঘাত মোকাবিলা করে জীবন এখন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন ‘বিএনপি গৃহকোণে বসে নসিহত করছে। তাদের এমন নেতিবাচক বক্তব্য একদিকে মানুষের এগিয়ে চলার উদ্যমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অপরদিকে নিজেদের হতাশাকে জাতির সামনে স্পষ্ট করে তোলে।’

‘সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ভাঙা রেকর্ড জনগণ গত ১৩ বছর শুনে আসছে’ উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ঘরে বসে বিএনপি কৃষক, শ্রমিক আর সাংবাদিকদের জন্য মায়াকান্না দেখায়।’

কৃষক পণ্যের উৎপাদিত মূল্য পাচ্ছে না বলে বিএনপি নেতাদের অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘এদেশে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু যা করেছেন সে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

কৃষিবান্ধব সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উৎপাদন, পণ্যমূল্য, পণ্য বাজারজাতকরণ, উপকরণ সরবরাহ এবং ঋণ ও প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে দেশে এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বিএনপির শাসনামলে উৎপাদনের জন্য সার চেয়েও পায়নি কৃষকরা, বরং কৃষকদের বুকে গুলি চালিয়েছিল বিএনপি সরকার। কৃষকরা পায়নি প্রয়োজনীয় সাপোর্ট, ভর্তুকি, অথচ আজ বিএনপি নেতারা কৃষকদের জন্য মেকি দরদ দেখাচ্ছে।’

এসডিজি অগ্রগতি সম্মাননা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন

২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে নিজেদের অগ্রগতির স্বীকৃতি মিলিছে বাংলাদেশের। এসডিজি অর্জনে ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বিভিন্ন সূচকে এগিয়ে থাকায় ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ পেল বাংলাদেশ।

এসডিজির নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ সম্মাননা গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মানুষের ভালো থাকা সহ্য হয় না বিএনপির
এসডিজির নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ‘এসডিজি প্রোগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগসহ দেশের সকল মানুষের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

দারিদ্র্য দূরীকরণ, পৃথিবীর সুরক্ষা ও সবার জন্য শান্তি সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেয়ার স্বীকৃতি হিসেবে এসডিজি অগ্রগতি পুরস্কার তাকে দেয়া হয়েছে বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এই অনন্য অর্জন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।’

আরও পড়ুন:
দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বিএনপি: যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কাদের
রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা
‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’
মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের মঞ্চ ভেঙে দিলেন কাদের
আদালতের ওপর সরকারের চাপ নেই: কাদের

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘যে কোনো সময়’ আন্দোলনের ডাক বিএনপির

‘যে কোনো সময়’ আন্দোলনের ডাক বিএনপির

রাজধানীর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতা-কর্মীরা। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

“সময় সুযোগ পাবেন না, আপনারা প্রস্তুত থাকুন, যে কোনো সময় আন্দোলনের ডাক আসবে, আজকের মত সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমাদের দাবি, ‘এক দফা এক দাবি, শেখ হাসিনা এখন যাবি’৷”

যে কোনো সময় সরকার পতনের ডাক আসতে পারে বলে নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলেছেন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তারা মনে করেন, আন্দোলন ছাড়া তাদের দাবি অর্জন করা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েতে এই পরামর্শ দেন দলের নেতারা। একাদশ সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অংশ নিলেও আগামী নির্বাচনে আর সেটি হবে না বলে জানিয়ে দেন তিনি।

দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রেখে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে সারা দেশে বিভিন্ন মণ্ডপ, মন্দির, বাড়িঘরে হামলার প্রতিবাদ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রতিবাদে বিএনপির পক্ষ থেকে এই জমায়েত করা হয়।

তবে এর কোনো পূর্ব ঘোষণা ছিল না। হঠাৎ করেই দলের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে যায়। শুরুতে পুলিশেরও কোনো প্রস্তুতি ছিল না।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমরা এ সরকারের অধীনে নির্বাচন যাব না। আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায় করে নির্বাচনের বাধ্য করব।

‘এ সরকার ক্ষমতায় থাকলে নেত্রীকে মুক্ত করা যাবে না, আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা যাবে না। তাই এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’

আন্দোলনের ডাক হঠা করেই আসবে বলে জানান স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “সময় সুযোগ পাবেন না, আপনারা প্রস্তুত থাকুন, যে কোনো সময় আন্দোলনের ডাক আসবে, আজকের মত সবাইকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমাদের দাবি, ‘এক দফা এক দাবি, শেখ হাসিনা এখন যাবি’৷”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দিন, এছাড়া আপনাদের আর কোনো পথ নেই।’

আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া বিএনপির বিকল্প নেতা বলে মনে করেন তিনিও। বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ আন্দোলন সংগ্রাম, এছাড়া আর কোনো পথ নেই৷ এটাই একমাত্র পথ।’

সরকারকে উদ্দেশ করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনাদের এ খেলা বন্ধ করেন, জনগণের ক্ষমতা জনগণকে ফিরিয়ে দিন, এছাড়া আপনাদের আর কোনো পথ নেই।’

‘সাম্প্রদায়িক হামলায় সরকার নিজেই’

হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে হামলা হয়েছে, তাতে হামলায় সরকার নিজেই জড়িত দাবি করেন বিএনপির নেতারা।

গয়েশ্বর বলেন, ‘সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশকে পৃথিবীর সামনে অপমান করছে। আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।’

এই ঘটনায় বিএনপির যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদেরকে সন্ধ্যার মধ্যে মুক্তি দেয়ার দাবি জানান তিনি। বলেন, ‘না দিলে লড়াইটা জনগণের সঙ্গে পুলিশের হবে। আমি বলব, পুলিশের দায়িত্ব পুলিশ পালন করবে। আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সংঘাত নাই, পায়ে পাড়া দিয়ে সংঘাত করবেন না।’

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে, যারা জোর করে জনগণকে বাহিরে রেখে ক্ষমতা দখল করে, গণতন্ত্রকে হত্যা করে তাদের একমাত্র পথ, তারা এ ধরনের কাজ করে।

‘এরশাদের যখন পতন হয়েছে তখনও মন্দিরে হামলা হয়েছে, তখনও এরশাদের ক্ষমতা টিকেনি। এবারও মন্দিরে হামলা করে গদি টেকানো যাবে না।’

সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, আহমেদ আযম খান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীও এতে বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের মধ্যে যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কৃষক দল সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলও জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বিএনপি: যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কাদের
রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা
‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’
মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের মঞ্চ ভেঙে দিলেন কাদের
আদালতের ওপর সরকারের চাপ নেই: কাদের

শেয়ার করুন

রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে অনুমতি নেবেন না নুর

রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে অনুমতি নেবেন না নুর

গণ অধিকার পরিষদ নামে নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা অনুষ্ঠানে নুরুল হক নুরসহ অন্যরা। ছবি: নিউজবাংলা

নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা আজকের এ অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে করতে চেয়েছিলাম। যার কারণে ছোট পরিসরে আমরা এটি করছি। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য তো আমরা কারও কাছে অনুমতি নিতে যাব না। রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার এদেশের সংবিধান দিয়েছে।’

দল ঘোষণা করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ- ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য তারা কারও কাছে অনুমতি নিতে যাবেন না।

মঙ্গলবার দুপুরে পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে নতুন রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের ঘোষণা করে নূর এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা আজকের এ অনুষ্ঠান সুশৃঙ্খলভাবে করতে চেয়েছিলাম। যার কারণে ছোট পরিসরে আমরা এটি করছি। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য তো আমরা কারও কাছে অনুমতি নিতে যাব না। রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার এদেশের সংবিধান দিয়েছে।’

দল ঘোষণার জন্য লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত করতে চেয়ে পুলিশ প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন নূর।

নুরুল হক নূর বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য আমরা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা জায়গা চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। যার কারণে এখানে ছোট পরিসরে করতে হচ্ছে। আমরা আর কাউকে এজন্য বলিনি।

‘সভা-সমাবেশ করার অধিকার দেশের সংবিধান দিয়েছে, তবে আমরা অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে পাইনি। আমরা বাইরে একটা সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। যেখানে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে। আইন-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার জন্য আমরা বলেছিলাম।’

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি বলেন, ‘জাফরুল্লাহ স্যারসহ কিছু বিদেশি মেহমান থাকত, তাদের নিরাপত্তা চেয়েছিলাম। সেটা তারা সহযোগিতা করেননি। সেজন্য আমরা অল্প পরিসরে অনুষ্ঠান করছি। কিন্তু আন্দোলন সংগ্রাম করার জন্য কারও কাছে আমরা অনুমতি নেব না।

নুর বলেন, ‘আমরা উত্থান দেখিয়েছি কোটা সংস্কার আন্দোলনে। ছাত্র সমাজের সঙ্গে কিন্তু আমরা বেইমানি করি নাই। দাবি কিন্তু আদায় করেছি। তাই আশা করছি সামনের দিনগুলোতে শুধু ছাত্র সমাজ নয়, নানা পেশার মানুষ এখানে আছে, তাদের মাধ্যমেই আগামী দিনে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করতে পারব।’

অন্য দলের সঙ্গে জোট গঠন প্রসঙ্গে নূর বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান ও আইন মেনে যারা রাজনীতি করতে পারে, বর্তমান সংকটে যারা রাজনীতির মাঠে লড়াই সংগ্রাম করতে প্রস্তুত, তাদের সঙ্গে নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে জোটগত আন্দোলন হতে পারে। কারণ এই দায়িত্ব আমাদের একার না, আর আমরা একা পারব না। সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

আরও পড়ুন:
দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বিএনপি: যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কাদের
রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা
‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’
মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের মঞ্চ ভেঙে দিলেন কাদের
আদালতের ওপর সরকারের চাপ নেই: কাদের

শেয়ার করুন

‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়’

‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নিয়ে বিএনপির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়। পূজামণ্ডপে হামলার পর থেকে বিএনপি নেতারা মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারের ফানুস উড়িয়ে যাচ্ছেন। তাদের এসব অভিযোগ কল্পনাপ্রসূত, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।’

যেকোনো ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে বিতর্কিত করাই বিএনপির কাজ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেন, দলটির নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়।

রাজধানীতে নিজ বাসভবনে মঙ্গলবার ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হামলা সরকারের নীলনকশা, সরকার হামলাকারীদের বিচারের উদ্যোগ নেয়নি- বিএনপি নেতাদের এমন মন্তব্যেরও জবাব দেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচার গোয়েবলসকেও হার মানায়। পূজামণ্ডপে হামলার পর থেকে বিএনপি নেতারা মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারের ফানুস উড়িয়ে যাচ্ছেন। তাদের এসব অভিযোগ কল্পনাপ্রসূত, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।’

গোয়েবলস ১৯৩৩-৪৫ সাল পর্যন্ত নাৎসি জার্মানির প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রধান ছিলেন। মিথ্যা বলা, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তৃতা দেয়া এবং ইহুদিবিরোধী তৎপরতার জন্য কুখ্যাত ছিলেন তিনি।

কোন সরকার কি চায় দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে? আর তা করে সরকারের কি লাভ? এমন প্রশ্ন রেখে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দোষারোপের রাজনীতি যেহেতু বিএনপির আদর্শ সেহেতু সরকারের বিরুদ্ধে কিছু না কিছু বলতেই হবে। এ ধরনের কল্পিত ও অন্তসারশূন্য অভিযোগ তারই ধারাবাহিকতা।’

বিএনপি নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য মায়াকান্না করলেও প্রকৃতপক্ষে পূজামণ্ডপে হামলার বিচার তারা চাননি বলে দাবি ওবায়দুল কাদেরের। বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হলেও তারা বলছেন বিরোধীদের হেনস্তা করার জন্য মামলা করা হয়েছে। এটা বিএনপির ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।’

আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা বলেন, ‘ঘটনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে কেউ হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ায়নি, অথচ এখন প্রায় দুই সপ্তাহ পর বিএনপির দলীয় টিম বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করছেন। ঘটনার রেশ কেটে যাওয়ার পর এই লোক দেখানো পরিদর্শন দলীয়ভাবে বিএনপির দায়িত্বহীনতাকেই স্পষ্ট করছে।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন সরকার নাকি পুরোহিতদের বাধা দিয়েছে বিএনপির সঙ্গে কথা বলতে, এমন সৃজনশীল মিথ্যাচার বিএনপির মুখেই মানায়।’

আরও পড়ুন:
দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বিএনপি: যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কাদের
রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা
‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’
মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের মঞ্চ ভেঙে দিলেন কাদের
আদালতের ওপর সরকারের চাপ নেই: কাদের

শেয়ার করুন

আ.লীগের পতন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে: ফখরুল

আ.লীগের পতন জনগণের দাবিতে পরিণত হয়েছে: ফখরুল

মিছিলে অস্থায়ী মঞ্চে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

ফখরুল বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ চাই, যারা খুন হয়েছে তার বিচার চাই। আওয়ামী লীগকে জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আজ আওয়ামী লীগের পতন জনগণের দাবীতে পরিণত হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের পতন জনগণের দাবীতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পিক-আপ ভ্যানে তৈরি অস্থায়ী মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন।

দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ রাখার ঘটনায় দেশের বেশ কিছু মণ্ডপ, মন্দির, বাড়িঘরে হামলা হয়। এসব হামলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রতিবাদে মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।

মিছিলের আগে বক্তব্যে ফখরুল বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে র‍্যালি করে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত যাব। সকাল থেকে পুলিশ আমাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জনগণের আন্দোলন থেকে দৃষ্টি সরাতে সারা দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ হাজার বছর এখানে একসঙ্গে বাস করছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তখন তারা হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার উপর হামলা করে।’

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার দেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে, মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে, প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। আমাদের সভা সমাবেশ করতে দেয় না। এসব করছে তাদের অবৈধ ক্ষমতাকে টিকিয়ে রাখতে।’

ফখরুল বলেন, ‘সংখ্যালঘুদের যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ চাই, যারা খুন হয়েছে তার বিচার চাই। আওয়ামী লীগকে জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। আজ আওয়ামী লীগের পতন জনগণের দাবীতে পরিণত হয়েছে।’

এ সময় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে পুলিশের সঙ্গে জনগণের লড়াই হবে।’

সরকার পরিকল্পিতভাবে খালেদা জিয়াকে খুন করতে চায় বলেও অভিযোগ করেন গয়েশ্বর।

বেলা ১১টায় মিছিল শুরু করার কথা থাকলেও ১০টার আগ থেকে নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা। পুলিশের কড়া প্রহরার কারণে তারা সামনে আসতে পারেননি।

সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে কাকরাইল মোড় থেকে বড় একটি মিছিল নয়াপল্টন অভিমুখে আসলে পুলিশ কার্যালয়ের সামনে থেকে সরে যায়। পরে বিএনপি নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে নয়াপল্টনে আসলে কার্যালয়ের সামনে লোকারণ্য হয়ে যায়।

বিএনপি নেতাকর্মীরা স্লোগানে স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত করে তুলে। ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, দিতে হবে, দিয়ে দাও; লাল সবুজের পতাকায় জিয়া তোমায় দেখা যায়; জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জালো’, এমন সব স্লোগান দিতে থাকে।

নয়াপল্টনে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি শেষ করে কাকরাইল মোড়ের দিকে মিছিল নিয়ে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় পুলিশ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লা আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান প্রমুখ।

আরও পড়ুন:
দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বিএনপি: যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কাদের
রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা
‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’
মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের মঞ্চ ভেঙে দিলেন কাদের
আদালতের ওপর সরকারের চাপ নেই: কাদের

শেয়ার করুন

দল গঠন করেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি রেজা-নুরের

দল গঠন করেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবি রেজা-নুরের

রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু নতুন রাজনৈতিক দল ‘গণঅধিকার পরিষদ’-এর। ছবি: নিউজবাংলা

‘গণঅধিকার পরিষদ’-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আন্দোলন করা তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। আমাদের আসল দাবি হলো আমরা একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। জাতিসংঘের পরিচালিত একটি নির্বাচনব্যবস্থা আমরা চাই। এটা ছাড়া নির্বাচনে নামার কোনো মানে হয় না।’

আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরকে সদস্যসচিব করে আত্মপ্রকাশ হলো ‘গণঅধিকার পরিষদ’-এর। দলটির পথচলার দিনই তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি তোলা হয়েছে।

পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ‘গণঅধিকার পরিষদ’-এর আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন নুরুল হক নুর। দলটির স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘জনতার অধিকার আমাদের অঙ্গীকার’।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

৮৩ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে নানা পেশার মানুষ স্থান পেয়েছেন বলে জানান নুর। ঘোষণাপত্রে নুর বলেন, ‘৫০ বছর হলো বাংলাদেশের বয়স। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা আজ প্রিয় দেশবাসীর সামনে হাজির হয়েছি। মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করে, আমূল বদলে দেয়ার বার্তা নিয়ে, নতুন করে বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে।

‘আমরা আজ যখন একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিচ্ছি, তখন আমাদের মাতৃসম পৃথিবী দুটি বড় সংকট মোকাবিলা করছে। আজ সকলের সম্মুখে দাঁড়িয়ে এই প্রত্যয় ঘোষণা করছি যে, আমরা নানান ক্ষেত্রে সৃষ্টি হওয়া বহুস্তরবিশিষ্ট বৈষম্য লাঘব করে বাংলাদেশকে মানবিক উন্নয়নের প্রগতিশীল ধারায় স্থাপন করব ইনশাআল্লাহ।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমি নির্বাচন কমিশন নিয়ে আন্দোলন করা তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। আমাদের আসল দাবি হলো আমরা একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই। জাতিসংঘের পরিচালিত একটি নির্বাচনব্যবস্থা আমরা চাই। এটা ছাড়া নির্বাচনে নামার কোনো মানে হয় না।

‘যারা এর আগে দুইবার প্রতারণা করেছে, তারা যে আবার করবে না সেটার ভরসা আমি করি না। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়ে অন্য সব দলের সঙ্গে আমরা আলোচনা করব। আমি আশা করি, দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে তারা আমাদের সহযোগিতা করবে।’

‘গণঅধিকার পরিষদ’ কাদের সঙ্গে জোট গড়বে, এমন প্রশ্নে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘কার সঙ্গে জোট করব সেটা তখনকার পরিস্থিতি দেখে আমরা ঠিক করব। আমাদের পরিকল্পনা ৩০০ আসনে এই মুহূর্তে প্রার্থী দেয়া। তবে পরিস্থিতির ওপর তা নির্ভর করছে।’

দল কাদের টাকায় পরিচালিত হবে, এমন প্রশ্নে রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘দলটি যেহেতু গণমানুষের, সেহেতু গণমানুষের টাকায় এই দল পরিচালিত হবে। কোটিপতিদের টাকা নিয়ে আমরা দল চালাব না।’

আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানে মোট ২১ দফা খসড়া ঘোষণা করেছে গণঅধিকার পরিষদ।

খসড়া কর্মসূচি পাঠ করেন যুগ্ম-আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান। তা ছাড়া, দলটির চারটি মূলনীতির কথা জানান তিনি। এগুলো হচ্ছে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ।

আরও পড়ুন:
দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বিএনপি: যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কাদের
রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা
‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’
মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের মঞ্চ ভেঙে দিলেন কাদের
আদালতের ওপর সরকারের চাপ নেই: কাদের

শেয়ার করুন

পুলিশ বাধা দিলেই বিশৃঙ্খলা করে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশ বাধা দিলেই বিশৃঙ্খলা করে বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি বিএনপি সব সময়ই এমন করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলেই এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে।’

পুলিশ বাধা দিলেই বিএনপি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএফআরএফ) সঙ্গে সংলাপে এ মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদিন নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখেছি বিএনপি সব সময়ই এমন করে। পুলিশ বাধা দিতে গেলেই এ ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে।’

বিএনপির বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

নয়াপল্টনে প্রতিবাদ মিছিলে নেমে বিএনপি নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাহিনীটি।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন মিয়া। তিনি বলেন, ‘যাচাই বাছাই করে, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। রাস্তায় যান চলাচল স্বাভবিক রয়েছে।’

বিএনপির মিছিল থেকে নেতাকর্মীদের আটকের কথাও স্বীকার করেছেন ওসি সালাহউদ্দীন মিয়া। তিনি বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০-৩৫ জনকে আমরা আটক করেছি। যারা আটক আছেন যাচাই বাছাই করে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়ে মামলার পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।’

মঙ্গলবার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নয়াপল্টনে প্রতিবাদ মিছিলে নামে বিএনপি। এসময় দলটির নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।

এর আগে সকাল থেকেই দলটির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার-ফ্যাস্টুন নিয়ে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে নয়াপল্টন এলাকা, নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক

পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের সংঘষর্ষের ঘটনায় নয়াপল্টন এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ঘণ্টা ধরে ওই এলাকায় কোনো যান চলাচল করেনি।

নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি কর্মীদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি নেতা-কর্মীরা একটি মিছিলের প্রস্তুতি নিলে পূর্ব অনুমতি না থাকায় তাতে বাধা দেয় পুলিশ।

তখন পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে মিছিল থেকে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে পুলিশ।

এসময় নাইটিংগেল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১ ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল। এর প্রভাব পড়ে আশপাশ এলাকার অন্যান্য সড়কে।

কাকরাইল, বিজয়নগর, শান্তিনগর, রাজারবাগ, প্রেসক্লাব, পল্টন, মতিঝিল এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। সাড়ে ১২ টার দিকে নাইটিংগেল মোড় থেকে আরামবাগ মোড় পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভবিক হলেও যানজট রয়েছে সেখানে।

আরও পড়ুন:
দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বিএনপি: যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কাদের
রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা
‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’
মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের মঞ্চ ভেঙে দিলেন কাদের
আদালতের ওপর সরকারের চাপ নেই: কাদের

শেয়ার করুন

নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ

নয়াপল্টনে বিএনপির মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মিছিল থেকে নেতা-কর্মীদের এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে নয়াপল্টনে প্রতিবাদ মিছিলে নামা বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নেতা-কর্মীদের ওপর লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা যায়। নেতা-কর্মীরাও পুলিশকে উদ্দেশ করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন।

এর আগে সকাল থেকেই দলটির নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন ব্যানার ফ্যাস্টুন নিয়ে নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে নয়াপল্টন এলাকা, নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে কাকরাইল পর্যন্ত সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকে ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাব পর্যন্ত মিছিল করার কথা ছিল বিএনপির।

এর আগে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি কাকরাইল মোড়ের কাছে আসতেই শুরু হয় সংঘর্ষ।

নেতা-কর্মীরা বলছেন, পুলিশ সকাল থেকেই নেতা-কর্মীদের মিছিল নিয়ে আসতে বাধা দিচ্ছিল। তারা মিছিল চলাকালীন লাঠিচার্জ শুরু করে।

উল্টো অভিযোগ পুলিশ সদস্যদের। তারা বলছেন, মিছিল থেকে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা করা হয়।

এ সময় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিছিল করবই।’

ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্য কামরুল হাসান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের পুলিশ সদস্যরা আহত হয়েছেন। মিছিল থেকে হঠাৎ করেই তারা উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছি।’

কতজন গ্রেপ্তার করা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা বলা যাচ্ছে না।’

মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার আব্দুল আহাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে বের হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। তখন পুলিশ তাদের প্রতিহত করে, ছত্রভঙ্গ করে দেয়। লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট, টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করা হয়।’

মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ছয়জন পুলিশ আহত হয়েছেন। মিছিল ও আশপাশ থেকে ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে বলে জানান ডিসি আহাদ।

আরও পড়ুন:
দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বিএনপি: যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ প্রসঙ্গে কাদের
রাঙ্গা পরিবহন জগতের সবচেয়ে বড় চাঁদাবাজ: কাদের মির্জা
‘সরকারবিরোধী রূপকল্প তৈরি করছে বিএনপি’
মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের মঞ্চ ভেঙে দিলেন কাদের
আদালতের ওপর সরকারের চাপ নেই: কাদের

শেয়ার করুন