ভোট নিয়ে সংকটের চাবি ইসির হাতে নেই: মাহবুব তালুকদার

ভোট নিয়ে সংকটের চাবি ইসির হাতে নেই: মাহবুব তালুকদার

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। ফাইল ছবি

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সার্বিকভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না। রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যতীত এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়।’

দেশে নির্বাচন নিয়ে সংকট চলছে বলে মনে করেন আলোচিত নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি এই সংকট উত্তরণে রাজনৈতিক সমঝোতা চেয়েছেন। মনে করেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের চাবি নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই।

সাম্প্রতিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট নিয়ে মূল্যায়ন তুলে ধরতে গিয়ে বুধবার তিনি এ মন্তব্য করেন।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী তৃণমূলের এই নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। তবে মাহবুব তালুকদার তুলে ধরেছেন ‘ভোটারদের নির্বাচন বিমুখতা’র প্রসঙ্গ। বলেছেন এটি গণতন্ত্রের জন্য ‘অশনিসংকেত’। বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনে বহু দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

‘সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচন সম্পর্কে আমার কথা’ শিরোনামে লিখিত বক্তব্যে তার মত তুলে ধরেন মাহবুব তালুকদার।

ভোট নিয়ে সংকটের চাবি ইসির হাতে নেই: মাহবুব তালুকদার
২০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত হন ২ জন। ফাইল ছবি

গত ১৭ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এ সময় ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও একটি পৌরসভা ভোট হয়। এই সময়ের মধ্যে তার সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে সাংবাদিকেদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই লিখিত বক্তব্য রাখেন।

এই নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ ছিল না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, দলের বিদ্রোহী নেতা ও বিএনপির বিদ্রোহীরাই এই ভোটে অংশ নিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলেও চট্টগ্রামে ভোটের সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন দুজন।

মাহবুব তালুকদার অবশ্য কেবল এই নির্বাচন নয়, তিনি তার আমলের নানা নির্বাচন নিয়েই কথা বলেন। ভোটের পরিবেশ নিয়ে তিনি যে খুশি নন, এর আগেও নানা সময় জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সার্বিকভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না। রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যতীত এই অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়।’

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ জরুরি বলেও মত দেন তিনি। বলেন, ‘এহেন সংক্ষিপ্ত সময়ে আকস্মিকভাবে নির্বাচনি ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন সাধন সম্ভব নয়। তারপরও কিছু কথা থেকে যায়।

‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচনে বহু দলের অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনের কারণ বিশ্লেষণ করে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ অনিবার্য। ভোটারদের নির্বাচন বিমুখতাও আমার কাছে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত মনে হয়।’

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়া প্রার্থীদের নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই নির্বাচন কমিশনার। বলেন, ‘এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটের টার্নআউট মোটামুটি ভালো ছিল, শতকরা ৬৯ দশমিক ৩৪ ভাগ। কিন্তু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন অনুষ্ঠান ও ইউনিয়ন পরিষদে ৪৩ জন প্রার্থী নির্বাচন না করেই চেয়ারম্যান পদে অভিষিক্ত হওয়া এই নির্বাচনকে ম্লান করে দিয়েছে।

ভোট নিয়ে সংকটের চাবি ইসির হাতে নেই: মাহবুব তালুকদার
কক্সবাজারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটাররা। ফাইল ছবি

‘অন্যদিকে ৯টি পৌরসভায় তিনজন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। নির্বাচন যেহেতু অনেকের মধ্যে বাছাই, সেহেতু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পদে আসীন হওয়াকে নির্বাচিত হওয়া বলা যায় কি?’

১৫ সেপ্টেম্বর ‘আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে’ গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার নীরবতা তাকে হতাশ করেছে বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, আমরা কী গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় শামিল হতে অনীহা প্রকাশ করছি?’

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তিনজনের প্রাণহানি ঘটনাকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ বলছেন তিনি। মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘আমি সর্বদা বলে এসেছি জীবনের চেয়ে নির্বাচন বড় নয়। তবু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সহিংসতা রোধ করা গেল না। নির্বাচনে ঘটনা বা দুর্ঘটনা যা-ই হোক না কেন, নির্বাচন কমিশনের ওপরই দায় এসে পড়ে।’

নির্বাচনের সব দুর্ঘটনা অর্থাৎ বিশৃঙ্খলা, অবৈধভাবে ব্যালটে সিল মারা, প্রতিপক্ষকে হুমকি দেয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ের পুনরাবৃত্তি রোধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কেও আলোকপাত করেন মাহবুব তালুকদার। বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনানুগভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। যেসব স্থানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, এর জন্য যারা দায়ী, প্রমাণসাপেক্ষে তাদের আটক করা হয়েছে। যারা অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদেরও আটক করা হয়েছে। অধিকতর তদন্ত করে আরও অনেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

‘সহিংসতা রোধে কাউকে ছাড় দেয়া হয়নি এবং হবে না’ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে একজন সংসদ সদস্যকে সতর্কবার্তা পর্যন্ত প্রেরিত হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
মাহবুব তালুকদার করোনায় আক্রান্ত
মাহবুব তালুকদার পদত্যাগ করেন না কেন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: আরও ৩ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলা: আরও ৩ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম জানান, শনিবার বিকেলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহের আদালতে রিপন আহাম্মেদ মাহীর, আরাফাত হোসেন আবির ও ইব্রাহিম খলিল ওরফে রাজিব ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১৩ জনের মধ্যে আরও তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শহীদুল ইসলাম রোববার দুপুরে নিউজবাংলাকে জানান, শনিবার বিকেলে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নবনীতা গুহের আদালতে রিপন আহাম্মেদ মাহীর, আরাফাত হোসেন আবির ও ইব্রাহিম খলিল ওরফে রাজিব ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার আবদুর রহিম সুজন জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

এসপি জানান, কুমিল্লার ঘটনার জেরে চৌমুহনী বাজারের পূজামণ্ডপ, মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, আগুন ও হত্যার ঘটনায় ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের একটি মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নে ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় এবং পরদিন দুপুরে একই উপজেলার চৌমুহনী পৌর এলাকায় ১১টি পূজামণ্ডপে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। লুটপাট করা হয় মন্দিরের আসবাব, স্বর্ণালংকার, ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা।

হামলায় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাশ নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে যতন সাহা নামে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে যতনের পরিবারের অভিযোগ, তিনিও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

নোয়াখালীতে সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মাহবুব তালুকদার করোনায় আক্রান্ত
মাহবুব তালুকদার পদত্যাগ করেন না কেন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

বংশালে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

বংশালে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু

আবেদ বলেন, ‘আমার ভাই নেশাপানি করত। কখনও গাজা কখনও ইয়াবা সেবন করত। তবে কারও ক্ষতি করত না। নেশাপানি করে বাসায় চলে আসত। আমাদের প্রশ্ন, আমার ভাই এই বাসায় কেন আসল? এই অবস্থা কেন মারা গেল? আমরা চাই, সুষ্ঠুভাবে তদন্তের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত করা হোক।’

রাজধানীর বংশালে মোহাম্মদ জাবেদ নামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহুতটুলির চান মসজিদের গলির একটি বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

৩৮ বছর বয়সী জাবেদ মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

নিহতের ভাই মো. আবেদ বলেন, ‘আমার ভাই নিকেলের কাজ করে। কাজ শেষে যত রাতই হোক বাসায় চলে আসে। শনিবার রাত ৯টার দিকে খাওয়া-দাওয়া সেরে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি।’

তিনি বলেন, ‘সকালে লোকজনের মাধ্যমে খবর পাই, আমার ভাই ওয়াসি উদ্দিন মিয়ার চারতলা বাড়ির নিচতলায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে দেখি তার কান এবং চোখ দিয়ে রক্ত ঝরছে। পায়ের হাঁটুতে জখম। পরে বংশাল থানায় খবর দিই।’

আবেদ বলেন, ‘আমার ভাই নেশাপানি করত। কখনও গাজা কখনও ইয়াবা সেবন করত। তবে কারও ক্ষতি করত না। নেশাপানি করে বাসায় চলে আসত। আমাদের প্রশ্ন, আমার ভাই এই বাসায় কেন আসল? এই অবস্থা কেন মারা গেল? আমরা চাই, সুষ্ঠুভাবে তদন্তের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘রিপোর্ট খারাপ আসলে আমরা মামলা করব। আমাদের পাঁচ ভাই দুই বোনের জাবেদ চতুর্থ। সে অবিবাহিত ছিল।’

বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দুলাল আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে দুপুর ১টার দিকে ঘটনাস্থলে যাই। এলাকার লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। ওই বাড়িতে কীভাবে গেলেন, এ বিষয়ে এই মুহূর্তে বলা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জাবেদ স্ট্রোক করে মারা গেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আসল রহস্য বের হয়ে আসবে।’

আরও পড়ুন:
মাহবুব তালুকদার করোনায় আক্রান্ত
মাহবুব তালুকদার পদত্যাগ করেন না কেন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

প্রতারক শাহীরুল দুই দিনের রিমান্ডে

প্রতারক শাহীরুল দুই দিনের রিমান্ডে

শাহীরুলের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্র।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক কামরুল হক জিহান শাহীরুলকে আদালতে হাজির করে রামপুরা থানায় করা অস্ত্র আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেয়।

অস্ত্র আইনের মামলায় কথিত মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান এবং সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) পরিচয়ে গ্রেপ্তার প্রতারক শাহীরুল ইসলাম সিকদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে দুই দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

রোববার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম আবু বকর ছিদ্দিক এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক কামরুল হক জিহান শাহীরুলকে আদালতে হাজির করে রামপুরা থানায় করা অস্ত্র আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

আসামির পক্ষে অ্যাডভোকেট তুহিন হাওলাদার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়।

শুনানি শেষে আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড আদেশ দেয়।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর রামপুরা থানার বনশ্রী এলাকার বাসা ও প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে শাহীরুলকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

সোলায়মান হোসেনসহ অনেকে ভুক্তভোগী প্রতারক শাহীরুলের বিরুদ্ধে র‌্যাবের কাছে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার বিষয়ে অভিযোগ করেন।

এরপর র‌্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জানা যায়, শাহীরুল নিজেকে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলে দাবি করতেন। এসব পরিচয়ে চাকরি দেয়ার নামে মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন।

বাহিনীটি বলছে, রাজধানীতে শাহীরুলের বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাট ও জমিসহ দৃশ্যমান প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া তার কথিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড গার্ড সার্ভিসেস লিমিটেড, হোমল্যান্ড ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ, মানবাধিকার সংস্থা, শাহীরুল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, হোমল্যান্ড হাউজিং, হোমল্যান্ড বেভারেজ অ্যান্ড অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মাদারল্যান্ড সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেড, বাংলাদেশ আউট সোর্সিং অ্যান্ড পাওয়ার সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোশিয়েশন।

আটকের পর এ ঘটনায় র‌্যাব-৪ এর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার আনোয়ার হোসেন মামলাটি করেন।

আরও পড়ুন:
মাহবুব তালুকদার করোনায় আক্রান্ত
মাহবুব তালুকদার পদত্যাগ করেন না কেন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

ঋণের টাকা পরিশোধে শিশু অপহরণ

ঋণের টাকা পরিশোধে শিশু অপহরণ

অপহরণের আগে বাবা-মায়ের সঙ্গে তিন বছর ছয় মাস বয়সী শিশু আফিয়া। ছবি: সংগৃহীত

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ টানা দুই দিন অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে একটি বাসা থেকে অপহৃত শিশু আফিয়াকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী রানা আহমেদ বাকিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

২০০৯ সালে জমি বিক্রি ও ঋণের টাকা দিয়ে দুবাই যান রানা আহমেদ বাকি। সঠিক কাগজপত্র না থাকায় ২৩ দিন জেল খেটে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে আসার পর রিকশা চালিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না। শিশু আফিয়াকে অপহরণ করে মুক্তিপণের টাকা দিয়ে ঋণের ৩-৪ লাখ টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা করেন তিনি।

আফিয়া অপহরণের পর তার বাবা-মা প্রথমে থানায় গেলে থানা থেকে পাঠানো হয় র‌্যাব-৪ এ। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যারের একটি আভিযানিক দল টানা দুই দিন অভিযান চালিয়ে রোববার ভোর ৬টায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে একটি বাসা থেকে অপহৃত শিশু আফিয়াকে উদ্ধার করে।

এ সময় অপহরণকারী রানা আহমেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৪।

রোববার বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর ১টার সময় আশুলিয়া পল্লীবিদ্যুৎ, কবরস্থান রোড এলাকা থেকে তিন বছর ছয় মাস বয়সী শিশু আফিয়া অপহৃত হয়। ওই ঘটনার দিনই অপহরণকারী মোবাইল ফোনে শিশুটির বাবা-মার কাছে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। টাকা না দিলে শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি গোয়েন্দা দল অপহরণকারীর অবস্থান শনাক্তে ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রথমে অপহরণকারীর নিজ জেলা পাবনা এবং শ্বশুড় বাড়ি নাটোরের বড়াই গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে তথ্য সংগ্রহ করে।

সর্বশেষ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, অপহরণকারী সিরাজগঞ্জ জেলার শাহাজাদপুরে দুর্গম চরাঞ্চলে অবস্থান করছে।

তিনি আরও বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ টানা দুই দিন অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর ১০ নং কৈজুরি ইউপি ৭ নং ওয়ার্ডের বাঁধের স্লুইসগেট এলাকার একটি বাসা থেকে অপহৃত শিশু আফিয়াকে উদ্ধার করে। এ সময় অপহরণকারী রানা আহমেদ বাকিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, অপহরণকারী রানা আহমেদ বাকি ২ বছর ধরে আশুলিয়া পল্লীবিদ্যুৎ কবরস্থান রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। অপহরণকারী পেশায় একজন রিকশাচালক। সে বেশিরভাগ সময় রাত্রে রিকশা চালাত, দিনে বাসায় থাকত এবং মাঝে মাঝে স্থানীয় একটি কয়েল ফ্যাক্টরিতে কাজ করত বলে জানা যায়।

সে বাসা ভাড়া নেয়ার সময় সে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে তার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলায় এবং নানির বাড়ি ধামরাই থানায় বলে জানায়। সে নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সে বিবাহিত এবং দুই সন্তানের বাবা। তার বড় মেয়ের বয়স ৯ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স ১০ মাস। তার বাড়ি পাবনা ভাউডাঙ্গা গ্রামে।

কীভাবে অপহরণ হলো আফিয়া

র‌্যাব জানায়, ভিকটিম শিশুটির বাবা আবুল কালাম আজাদ ও মা সোনিয়া বেগম দুজনই গার্মেন্টসে চাকরি করার কারণে মেয়েকে দীর্ঘ দিনের পরিচিত আনোয়ারা নামের বৃদ্ধার বাসায় রেখে অফিসে যেতেন। এই বৃদ্ধা তাদের সম্পর্কে নানি হন। এই বৃদ্ধার পাশের রুমে অপহরণকারী রানা এক হাজার টাকা ভাড়ায় বসবাস করতেন।

সেই সুবাদে প্রায় সময়ই ভিকটিম শিশুটি তার কাছে যাতায়াত করত। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক অপহরণকারী রানা ভিকটিম শিশু আফিয়াকে মাঝে মাঝে চকলেট, চিপস্ ও খেলনা কিনে দিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং শিশু আফিয়া তাকে মামা বলে ডাকে।

অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের জন্য রানা শিশুটিকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। অপহরণকারী রানা আহমেদ ২০০৯ সালে জমি-জমা বিক্রি ও ঋণ করে দুবাই যায়। কিন্তু সঠিক কাগজপত্র না থাকায় ২৩ দিন জেল খেটে দেশে ফেরত আসেন। দেশে আসার পর থেকে সে রিকশা চালিয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না।

ঋণের ৩-৪ লাখ টাকা পরিশোধের জন্য সে এই অপহরণের পরিকল্পনা করে বলে স্বীকার করেছেন। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক, শিশুটির বাবা-মা দুজনেই বাসায় না থাকায় শিশুটিকে অপহরণ করার উদ্দেশ্যে প্রথমে তাকে একটি চিপস্ কিনে দিয়ে পল্লীবিদ্যুৎ থেকে রিকশা করে বলিভদ্র বাজারে যায়। সেখান থেকে শিশুটিকে গেঞ্জি ও সেন্ডেল কিনে দেয়। পরবর্তীতে বলিভদ্র থেকে বাসে করে চন্দ্রা যায়।

তিনি আরও বলেন, চন্দ্রা বাসষ্ট্যান্ড থেকে বাসে করে সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর এলাকায় তার এক বন্ধু রবিউলের বাড়ীতে পৌঁছে। তার বন্ধুকে সে শিশুটি তার নিজের মেয়ে বলে পরিচয় দেয় এবং বন্ধুকে জানায় তার স্ত্রীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না বিধায় কিছুদিন থেকে চলে যাবে।

আরও পড়ুন:
মাহবুব তালুকদার করোনায় আক্রান্ত
মাহবুব তালুকদার পদত্যাগ করেন না কেন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

চাঙা অর্থনীতি, রাজস্ব আদায়ে জোয়ার 

চাঙা অর্থনীতি, রাজস্ব আদায়ে জোয়ার 

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বা রাজস্ব আহরণে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ। এ সময়ে মোট রাজস্ব আহরণ হয় ৫৮ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা।

করোনার প্রভাবে সৃষ্ট গভীর খাদ থেকে উঠে দাঁড়িয়েছে দেশের রাজস্ব খাত। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায় বেড়েছে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় পাঁচ গুণ।

অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, করোনার প্রভাব কাটিয়ে দেশের অর্থনীতি যে চাঙা হচ্ছে, এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রাজস্ব আদায়ে। এটি দেশের জন্য সুসংবাদ বলে মনে করেন তারা।

রোববার প্রকাশিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সবশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বা রাজস্ব আহরণে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

এ সময়ে মোট রাজস্ব আহরণ হয় ৫৮ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৪৯ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা।

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের আদায়ের এই চিত্র সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রেকর্ড তৈরি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ২১ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম থেকে রাজস্ব আয়ে গতিশীলতা লক্ষ করা যাচ্ছে। আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে গতি আরও বেড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি-রপ্তানিতে গতি এসেছে। চাঙা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আহরণে।

দেশে করোনা সংক্রমণ হওয়ার পর সবকিছু বন্ধ থাকায় গত বছরের এপ্রিল-মে রাজস্ব আদায় হয়নি বললেই চলে। জুন মাসেও তেমন রাজস্ব আদায় হয়নি।

গত বছরের জুলাই মাস থেকে রাজস্ব আদায় স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আর চলতি অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে করোনার আগের সময়ের ধারায় ফিরে আসে এনবিআর।

করোনার প্রথম ধাপে ২০১৯-২০ অর্থবছর রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক বা নেতিবাচক ছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী আর কখনোই এমনটি দেখা যায়নি। সেই অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রাজস্ব খাত ক্রমাগত উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে যাচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে আমদানি খাত। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ হারে আদায় বেড়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, করোনা পরিস্থিতি উন্নতির ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা চাঙা হওয়ায় আমদানির চাহিদা বেড়েছে। এ কারণে আমদানি শুল্ক বাড়ছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজোরে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও আমদানি শুল্ক বাড়ে। কারণ, তখন বেশি দামের ওপর ভিত্তি করে পণ্যের শুল্কায়ন করা হয়।

এনবিআরের হালনাগাদ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব আহরণ হয় ১৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ১৫ হাজার ৯৫৮ কোটি টাকা।

রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৬ শতাংশ। গত অর্থবছর একই সময়ে এটি ছিল মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ।

এ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ভ্যাট আদায় হয়েছে ২১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে একই সময় আদায় হয় ১৮ হাজার ১১২ কোটি টাকা।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেন, করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার পর গত আগস্ট মাসে বিধিনিষেধ তুলে দেয়া হয়। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হয়। যে কারণে ভ্যাট আহরণ বেড়েছে।

অভ্যন্তরীণ আয়ের অন্যতম উৎস আয়কর বা প্রত্যক্ষ কর খাত অন্য দুটি অপেক্ষা কিছুটা পিছিয়ে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে আয়কর আদায় বেড়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ হারে, যেখানে গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয় ২ শতাংশের কিছু বেশি।

এ সময়ে আয়কর আদায় হয়েছে ১৭ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা। গত অর্থবছর এ সময়ে আদায় ছিল ১৫ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। এনবিআর বলছে, অর্থবছরে শুরুতে উন্নয়ন কাজের গতি মন্থর থাকায় আয়কর আদায় কম হয়। শুষ্ক মৌসুমে এডিপির কাজের গতি বাড়ে। ফলে আয়কর আদায়ও বাড়বে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এনবিআরের তিনটি উৎস– আমদানি, ভ্যাট ও আয়কর আদায়ে অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ডাবল ডিজিট প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল সিঙ্গেল ডিজিট।

তবে আদায় পরিস্থিতি ভালো হলেও তিন মাসে রাজস্ব আদায় পিছিয়ে আছে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায়। ঘাটতি ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

বাজেটের মোট অর্থের ৮৬ শতাংশ জোগান দেয় এনবিআর।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের পরিমাণ ধরা হয় মোট ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তবে এই লক্ষ্যমাত্রাকে অতি উচ্চাভিলাষী বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

গত অর্থবছরে ২ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরছে। রেমিট্যান্স কিছুটা কমলেও রপ্তানি বাড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরছে। এসব কারণে রাজস্ব আদায় বাড়ছে।’

আরও পড়ুন:
মাহবুব তালুকদার করোনায় আক্রান্ত
মাহবুব তালুকদার পদত্যাগ করেন না কেন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

বীর নিবাস তৈরির মান বজায় রাখার নির্দেশ

বীর নিবাস তৈরির মান বজায় রাখার নির্দেশ

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথমে ১৪ হাজার বীর নিবাস অনুমোদন হলেও পরে প্রধানমন্ত্রী ৩০ হাজার নির্মাণের অনুমোদন দেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শেখ হাসিনার আন্তরিক ভালোবাসার প্রতিফলন হচ্ছে বীর নিবাস।’

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার বীর নিবাস তৈরির ক্ষেত্রে যথাযথ মান বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন (বীর নিবাস) নির্মাণ প্রকল্প কার্যালয়ে রোববার এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ এবং মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ হাজার বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে।

‘প্রথমে ১৪ হাজার বীর নিবাস অনুমোদন হলেও পরে প্রধানমন্ত্রী ৩০ হাজার নির্মাণের অনুমোদন দেন। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শেখ হাসিনার আন্তরিক ভালোবাসার প্রতিফলন হচ্ছে বীর নিবাস।’

মন্ত্রী জানান, প্রতিটি বীর নিবাস তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজী করতে উপজেলাভিত্তিক বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এ কমিটিতে কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাড়ি বরাদ্দপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাকেও রাখা হয়েছে। যাতে তিনি তার বাড়ির কাজ বুঝে নিতে পারেন।’

বাড়ি নির্মাণের সময় ছবি এবং ভিডিওধারণ করতে, বরাদ্দপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী।

এ ছাড়া প্রকৃত অস্বচ্ছল এবং সঠিক তালিকাভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা যাতে বীর নিবাস বরাদ্দ পান তা নিশ্চিত করতেও নির্দেশনা দেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মাহবুব তালুকদার করোনায় আক্রান্ত
মাহবুব তালুকদার পদত্যাগ করেন না কেন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন

নোংরা পরিবেশে খাবার-মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ: ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নোংরা পরিবেশে খাবার-মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ: ৬ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে খুলনার ছয় প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

অভিযানে ফুলতলার বেলতলার রবি চানাচুর, মিল্লাত বেকারি, সোনালী মেডিক্যাল হল, মেসার্স মিলন মেডিক্যাল, স্বর্ণা গিফট ও চম্পা চানাচুর ফ্যাক্টরির কাছ থেকে জরিমানার ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির দায়ে খুলনার ছয় প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রোববার দুপুরে ফুলতলা উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক ইব্রাহীম হোসেন এবং জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

অভিযানে ফুলতলার বেলতলার রবি চানাচুর, মিল্লাত বেকারি, সোনালী মেডিক্যাল হল, মেসার্স মিলন মেডিক্যাল, স্বর্ণা গিফট ও চম্পা চানাচুর ফ্যাক্টরির কাছ থেকে জরিমানার ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মাহবুব তালুকদার করোনায় আক্রান্ত
মাহবুব তালুকদার পদত্যাগ করেন না কেন: জাফরুল্লাহ

শেয়ার করুন