অভিযোগ করেও ‘মিলছে না প্রতিকার’

অভিযোগ করেও ‘মিলছে না প্রতিকার’

খেয়ামাঝি বলেন, ‘৯ জনের নামে সদর থানায় মঙ্গলবার রাতে লিখিত অভিযোগ করি। তাদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার পূর্ব রাস্তি এলাকায়। বুধবার দুপুর পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেয়া হয়নি। পুলিশ কোনো অ্যাকশনেও যাচ্ছে না।’

মারধরের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, অভিযোগ জমা পড়েছে থানায়। কিন্তু পুলিশ জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন এক মাঝি।

ঘটনাটি মাদারীপুর শহরের লঞ্চঘাট এলাকার। অভিযোগকারী মাঝির নাম সাইদুল মাল।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ১০ থেকে ১২ জন যুবক আড়িয়াল খাঁ নদী পার হয় তার খেয়ায় করে। এ সময় ভাড়া চাইলে তারা জানায় ফেরার পথে দেবে। কিছু সময় পর তারা ফের খেয়ায় উঠে। এবার ভাড়া চাইলে তাকে মারধর করা হয়।

সেই মারধরের ভিডিও একজন রেকর্ড করেন। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। ভিডিওতে দেখা যায় কয়েকজন যুবক লাঠি দিয়ে এক ব্যক্তিকে পেটাচ্ছেন। তাদেরকে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না।

খেয়ামাঝি বলেন, ‘ এ ঘটনায় ৯ জনের নামে সদর থানায় মঙ্গলবার রাতে লিখিত অভিযোগ করি। তাদের সবার বাড়ি সদর উপজেলার পূর্ব রাস্তি এলাকায়। বুধবার দুপুর পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নেয়া হয়নি। পুলিশ কোনো অ্যাকশনেও যাচ্ছে না।’

খেয়া ঘাটের ইজারাদার আব্দুর রশিদ বলেন, ‘পাঁচখোলা এলাকার ৪ থেকে ৫ হাজার লোক প্রতিদিন খেয়া পার হন। মাঝির আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা তার কাছ থেকে কোনো অর্থ আদায় করি না। এর ফলে লোকজন ৩ থেকে ৫ টাকা দিয়ে নদী পার হতে পারছে। এরপরও কিছু মানুষ ভাড়া নিয়ে ঝামেলা করে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।’

লঞ্চঘাট এলাকার কয়েকজন দোকানদার জানান, কিছু যুবক এখানে নিয়মিত আড্ডা দেয়। ঘাটে অবস্থান করা লঞ্চে বসে মাদক সেবন করে। তাদেরকে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না।

লঞ্চঘাট সংলগ্ন ১ নম্বর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই মনির হোসেন জানান, ঘটনার পরপর সদর থানা থেকে ফোর্স এসেছিল। খেয়ামাঝি থানায় অভিযোগ করেছেন। আশা রাখি মামলা নথিভুক্ত হলে আসামিরা দ্রুত গ্রেপ্তার হবে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মিঞা জানান, মাঝির অভিযোগের বিষয়ে তার জানা নেই। অভিযোগ যদি থাকে তবে তদন্ত করে মামলা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কারাগারে

৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কারাগারে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় আইমুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়ায় আত্মগোপন করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। সেখানে থাকাকালে চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি। 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মুন্সিগঞ্জের লৌহজং থানার নয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে ৮ বছর ধরে পলাতক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।

কারাগারে পাঠানো আইমুদ্দিন উপজেলার রুপসীপাড়া (ভেকসি) গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বরাত দিয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে আইমুদ্দিন তার প্রতিবেশী মোজাহার আলীর কাছে ৪২ শতক জমি বিক্রির জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী মোজাহার ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আইমুদ্দিনকে দেন। তবে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে মোজাহার দেখতে পান দলিলে ৪২ শতকের পরিবর্তে ৩৬ শতক লেখা।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে আইমুদ্দিন তার জমি ছেলে-মেয়ের নামে লিখে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ওই বছর ১৮ মার্চ তার ছেলে আব্দুল আজিজ আদালতে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেন।

ওসি আরও জানান, পুলিশের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন মোজাহার। জামিন পেয়ে নিখোঁজ আইমুদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি ক্রয়সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। বিচারক নিখোঁজ আইমুদ্দিনকে ২ বছরের সাজাও দেন।

আইমুদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন জানিয়ে ওসি আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়ায় আত্মগোপন করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করেন।

সেখানে থাকাকালে চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি।

সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোড মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ নাশকতার ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক আহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন। পুলিশ ২০১৫ সালে আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতা মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

চট্টগ্রামের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আ স ম শহীদুল্লাহ কায়সার সোমবার দুপুরে অভিযোগ গঠন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী আইনজীবী রুবেল পাল নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানি করেছে। শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন। ২৩ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।’

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন চলাকালে ২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোড মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ নাশকতার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক আহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৫ সালে আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তাদের মধ্যে ৪৮ আসামি পলাতক। আসলাম চৌধুরী এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে থাকলেও অন্য মামলায় তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

আদালত সাত আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করে। এ সময় দুজন আসামি সময়ের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

তার নামে বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে তিনটি মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

শেয়ার করুন

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা করেছে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন। ছবি: নিউজবাংলা

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা প্রদর্শন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন ও প্রাণ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সভা ও নাটিকা প্রদর্শিত হয়।

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

নাটিকার মাধ্যমে তরুণরা মাটি, বায়ু ও পানি দূষণমুক্ত রাখার পাশাপাশি শূন্য কার্বনভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

পরে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন বাঁধনের নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান ও সাংবাদিক আরিফুল হকসহ অনেকে।

শেয়ার করুন

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

২ শ পাখি পেল মুক্ত আকাশ

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাবনা সুজানগরে শিকারীদের কাছ থেকে উদ্ধার প্রায় ২ শ দেশীয় প্রজাতির পাখি অবমুক্ত করা হয়েছে।

সুজানগর থানা চত্বর সোমবার দুপুরের পর পাখিগুলো অবমুক্ত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান।

এর আগে চরদুলাই বাজারে অভিযান চালিয়ে পাখিসহ তিন শিকারীকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আটক শিকারীরা হলেন গোবিন্দপুর গ্রামের আতোয়ার শেখ, ঘোড়াদহ গ্রামের আলাউদ্দিন, চলদুলাই গ্রামের মোজাহার আলী।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, পাখি শিকারীরা উপজেলার গাজনার বিল থেকে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে পাখি শিকার করে বিক্রি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১০০০ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

পাখি অবমুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের মুহা. আ. লতিফসহ আরও অনেকে।

শেয়ার করুন

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মেহবুবা রায়না। ছবি: সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক জানান, ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য চিঠি পাঠান। তবে তার আবেদনপত্রে নানা ভুলত্রুটি ছিল বলে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। পরদিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করেন রায়না।

কিশোরগঞ্জে পাঁচ বছর ধরে স্কুলে না পড়িয়েও বেতনভাতা তোলা সেই শিক্ষিক মেহবুবা রায়নার অব্যাহতিপত্র গ্রহণ করেছে উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক সোমবার বিকেলে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেহবুবা রায়না করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।

সুব্রত কুমার বণিক নিউজবাংলাকে জানান, স্কুলে না গিয়ে মেডিক্যাল ছুটি নিয়ে বছরের পর বছর স্কুলে অনুপস্থিত থাকার কারণে গত ১৭ অক্টোবর রায়নার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

তিনি আরও জানান, ১৮ অক্টোবর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে তিনি চিঠি দেন। তবে তার আবেদনপত্রে নানা ভুলত্রুটি ছিল বলে পুনরায় তাকে আবেদন করতে বলা হয়। পরদিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে পুনরায় আবেদন করেন রায়না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার জানান, পারিবারিক নানা সমস্যার কারণে চাকরি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন রায়না। সরকারি বিধি অনুযায়ী ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে গত সেপ্টেম্বর মাসের মূল বেতনের অর্ধেক টাকা জমা দিয়েছেন তিনি।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর করিমগঞ্জ উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি আমলে নেন।

রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, ডাকযোগে মেহবুবা রায়নার চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্র হাতে পান তিনি। আবেদনপত্রে তার চাকরিতে যোগদানসহ কোনো তারিখের উল্লেখ ছিল না। চাকরি থেকে কবে তিনি অব্যাহতি নিতে চান সে বিষয়টিও উল্লেখ করেননি তিনি।

এ কর্মকর্তা আরও জানান, অব্যাহতির আবেদনের ক্ষেত্রে হাজির হয়ে সই করে আবেদন জমা দেয়ার নিয়ম থাকলেও ওই শিক্ষক ডাকযোগে আবেদন করেছেন।

৫ বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন: সেই শিক্ষকের অব্যাহতিপত্র গ্রহণ

তা ছাড়া অব্যাহতির বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা সহকারী কর্মকর্তাকেও অবগত করেননি তিনি। পরে নিজে উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি আমলে নিয়ে সোমবার রায়নার অব্যাহতিপত্রে সই করেন রফিকুল ইসলাম তালুকদার।

অব্যাহতি দেয়ার তারিখ ১৮ অক্টোবর ধরে ওই দিন থেকেই পদটি শূন্য ধরা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

গত ১৫ অক্টোবর ‘তিনি ক্লাস না করিয়ে বেতন তুলছেন পাঁচ বছর ধরে’ শিরোনামে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মেহবুবা রায়নাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউজবাংলা।

এরপরপই ফেসবুকে কিশোরগঞ্জ জেলাভিত্তিক বিভিন্ন গ্রুপে শুরু হয় সমালোচনা। এই অনিয়মের জন্য জেলা এবং উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের দায়ী করে মন্তব্য করেন অনেকে।

রায়না ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যে স্নাতক শেষ করে এখন স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে পড়ছেন। তিনি ২০১৬ সালে চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ২০১৪-২০১৫ সেশনে।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, ২০১৬ সালে রায়না স্কুলে যোগ দিয়ে তিন মাস নিয়মিত ক্লাস নিয়েছেন। এরপর স্কুলে যাননি টানা তিন বছর। ২০২০ সালের মার্চে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগে ছয় মাস মাঝেমধ্যে আসতেন। করোনা শুরু হলে অন্য শিক্ষকরা স্কুলে এলেও তিনি আসেননি এক দিনের জন্যও।

স্কুলটির একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, ‘আমরা সারা বছর পরিশ্রম করে যে বেতন পাই, রায়না তার কিছুই না করেও একই বেতন পাচ্ছেন।

‘রায়না সরকারি চাকরি করে কর্মস্থলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার বিষয়টি গোপন করেছেন, আবার অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়েও চাকরির ব্যাপারটা গোপন করেছেন। তিনি একসঙ্গে দুটি অপরাধ করেছেন।’

রায়নার ফেসবুক প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার তথ্য সেখানে উল্লেখ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ছবি নিয়মিত আপডেটও করেন।

চাঁনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী রায়নার নামও বলতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে বলে, ‘হেই ম্যাডাম পহেলা কয়েক দিন ইস্কুলে আইছে, পরে আর আইছে না। হের লাইগ্যে হেই ম্যাডামের নামটা মনে নাই।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘মেহবুবা রায়না বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তার ইনক্রিমেন্ট স্থগিত করা হয়। পরে তাকে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়।’

তিনি জানান, রায়না চাকরিতে যোগ দেয়ার পর তিনি বিভিন্ন মেয়াদে শুধু মেডিক্যাল ছুটি কাটিয়েছেন ২১৩ দিন। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর স্কুল খোলার পর ১২ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারণে ২৩ সেপ্টেম্বর তার কৈফিয়ত তলব করা হয়। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তিন কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব চাওয়া হয়।

এরপর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম তালুকদার বিষয়টি তদন্ত করেন৷ তদন্ত প্রতিবেদনে তিনি জানান, রায়না ওয়ার্কশিট বিতরণ ও মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগসংক্রান্ত কোনো কাজেও অংশগ্রহণ করেননি৷ তাকে প্রধান শিক্ষক ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জানালেও তিনি গুরুত্ব দেননি।

পরে রায়নার বেতন বন্ধ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন মফিজুল ইসলাম। আর গত ২৩ সেপ্টেম্বর মেহবুবা রায়নাকে শোকজ করা হয়। ২৭ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে এর জবাব দেন রায়না। কিন্তু জবাব সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় রায়নার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ফাইলটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে কথা বলতে রায়নার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি। পরে মেসেজ দিয়েও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

তার হোয়াটস অ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জারে একাধিকবার বার্তা পাঠানোর পর তিনি নিউজবাংলার প্রতিবেদককে ব্লক করে দেন।

শেয়ার করুন

ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

প্রতীকী ছবি

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কয়রা থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন জানান, সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটছিল শিশু জামিলা। এ সময় পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে মারা যায় শিশুটি।

খুলনার কয়রায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ধাক্কায় এক শিশু নিহত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা চলাকালে সোমবার বেলা ১১টার দিকে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।

এর আগে উপজেলার বাগালি ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে সরদারবাড়ির সামনে সোমবার সকাল ৯টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মৃত শিশুর নাম জামিলা খাতুন। তিন বছরের জামিলা নারায়ণপুর গ্রামের কবিরুল ইসলামের মেয়ে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাৎ হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, সকালে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাঁটছিল শিশু জামিলা। এ সময় পেছন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের লোকজন শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালে মারা যায় শিশুটি।

ওসি শাহাদাৎ জানান, মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও কাউকে আটক করা যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো অভিযোগ জানানো হয়নি।

শেয়ার করুন

নিখোঁজের ৫ দিন পর গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

নিখোঁজের ৫ দিন পর গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনি এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মনসুর। তবে পরে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় রোববার ডিমলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনসুরের স্ত্রী সাহিদা বেগম।

নিখোঁজের পাঁচ দিন পর নীলফামারীর ডিমলায় তিস্তা নদী থেকে এক গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের দোহলপাড়ায় তিস্তার গ্রোয়িং বাঁধের নিচ থেকে সোমবার দুপুর ১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম মনসুর আলী। তার বাড়ি উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামের দৌলতপাড়া এলাকায়।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিমলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায়।

পুলিশ জানায়, গত ২০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের কলোনি এলাকায় যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন মনসুর। তবে পরে তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পাওয়ায় রোববার ডিমলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মনসুরের স্ত্রী সাহিদা বেগম।

সাহিদা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গরু কেনার জন্য কলোনি যান উনি। রাত ১১টা বেজে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় তারে কল দেই। তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়। ক্লিনিক, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।’

পরিদর্শক (তদন্ত) বিশ্বদেব রায় জানান, সোমবার দুপুরে দোহলপাড়ায় তিস্তার গ্রোয়িং বাঁধের নিচে স্থানীয়রা মনসুরের মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় জানায়। বাঁধের নিচে মরদেহটি আটকে ছিল।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলাও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

শেয়ার করুন