সহযোগিতা বাড়াতে রোডম্যাপ করছে বাংলাদেশ-কুয়েত

সহযোগিতা বাড়াতে রোডম্যাপ করছে বাংলাদেশ-কুয়েত

জাতিসংঘের সদরদপ্তরে কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল সাবাহর সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে বসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল সাবাহর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বিভিন্ন সেক্টরে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একটি রোডম্যাপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ও কুয়েত।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদরদপ্তরে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় দুপুরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল সাবাহর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। কুয়েতের সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক দিনের পুরোনো সম্পর্ক। উনি (কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী) মনে করেন আগামী ৫ বছর বাংলাদেশ ও কুয়েত একটা রোডম্যাপ তৈরি করবে, অ্যাকশনেবল প্রোগ্রাম তৈরি করবে। যাতে আমাদের সম্পর্ক আরও অধিকতর শক্তিশালী হয়। বিভিন্ন রকম প্রজেক্টও হাতে নিতে চান তিনি।’

দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে খুবই ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ‘দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে এই রোডম্যাপ তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত কাজ করা হবে। তারা বলছে, আগামী পাঁচ বছর তারা একটা রোডম্যাপ করতে চায় এবং আমরা এটা নিয়ে কাজ করব। আমাদের আলোচনা করতে হবে যে কী কী ক্ষেত্রে আমরা তাদের সাহায্য চাইব এবং তারা আজকে বলেছে কোন কোন ক্ষেত্রে তারা আমাদের সাহায্য চায়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যেই কুয়েত ফান্ড থেকে অনেকগুলো প্রজেক্ট আমরা দেশে চালিয়েছি। আমরা আরও চাই এবং তারাও আগ্রহী। তারা রিফাইনারি করার জন্য বাংলাদেশে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন অবশ্যই, আমরা তাদের জায়গা দিয়ে দেব। সুতরাং আমরা সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছি।’

কুয়েত ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কুয়েতের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরে যিনি আমির হন তিনি ঢাকায় এসে ওআইসি সম্মেলনে উনি নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সময় থেকে কুয়েতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক।

কুয়েত একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চায় জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কুয়েতের অর্থায়নে পাঁচটি বড় প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আমরা সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চাই, আরও বড় করতে চাই। রিফাইনারি করার জন্য তাদের থেকে প্রাথমিক একটা প্রস্তাব এসেছে। এখন এটা আরও সুনির্দিষ্ট হবে।’

কুয়েত ফান্ড সম্পর্কে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, কুয়েত ফান্ডটি বাংলাদেশে প্রথম দফায় ব্যবহার করা হয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিভিন্ন পৌরসভা এবং উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়নে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে দ্বিতীয় দফার যে ফান্ড সেটা ১০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হবে, সেটা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। প্রথম দফার যে ৫০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ছিল সেটার সবই বাস্তবায়ন হয়ে গেছে।

কুয়েত সেনাবাহিনীতে ‘বাংলাদেশ কন্টিনজেন্ট’ নামে একটা কন্টিনজেন্ট আছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে ইরাক যখন কুয়েত আক্রমণ করে, কুয়েতের বর্ডারে যে মাইনগুলো তখন ছিল সেগুলো সরাতে এখনও কাজ চলছে। যদিও কুয়েত সেনাবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনী চূড়ান্তভাবে সেটাকে আরেকবার দেখেছে। তারপর এই এলাকাটাকে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়।

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর এই অবদানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে জানান শাহরিয়ার আলম।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর তিনি সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লোফভেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

আরও পড়ুন:
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন

বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানার উদ্বোধন

ঢাকার পূর্বাচলে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৩০৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের অনুদান ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

দেশের পণ্য প্রদর্শনী ও বাণিজ্য মেলার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে রাজধানীর পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১১ টার দিকে ভার্চুয়ালি সেন্টারটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্ত থেকে যোগ দেন তিনি।

নির্মাণ কাজ শেষে এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রদর্শনী কেন্দ্রটি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে চীন।

ঢাকার পূর্বাচলে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৩০৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এর মধ্যে চীন সরকারের অনুদান ৬২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

এটি নির্মাণ করেছে চীনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন। এই প্রদর্শনী কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর কাছে।

সভার সভাপতি বাণিজ্যমন্ত্রী ‍টিপু মুনশী বলেন, ‘এই এক্সিবিশন সেন্টারটিকে বিজনেস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

একটা স্থায়ী কাঠামো না থাকার কারণে পণ্য প্রদর্শনীতে যেমন জটিলতা হচ্ছিল তেমনি উন্মুক্তস্থানে মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছিল বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় প্রকল্প বাস্তবায়নে চীন সরকারের ভূমিকায় ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। আগামীতেও এমন সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এবং দুই দেশ বাণিজ্য খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করব।’

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিবছরের পয়লা জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করতে পারবেন।’

চীনের আর্থিক অনুদান ও কারিগরি সহায়তায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মালিকানায় পূর্বাচলে ২০ একর জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু চায়না-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারটি।

আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে টানতে তৈরি এই কেন্দ্রটির নাম বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তাতে সম্মতি দিয়েছে চীন।

এটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবরে। আর শেষ হয় গেল গত বছরের নভেম্বরে।

নির্মাণের কারণ ব্যাখ্যায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বলছে, বাণিজ্য সম্প্রসারণে দেশি-বিদেশি পণ্য উৎপাদনকারী ও ক্রেতাদের বাংলাদেশে আর্ন্তজাতিক মানের একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত ও সরাসরি যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি করা।

যা থাকছে এক্সিবিশন সেন্টারে

এক্সিবিশন সেন্টারের মোট ফ্লোরের আয়তন ৩৩ হাজার বর্গমিটার। ভবনের ফ্লোরের আয়তন ২৪ হাজার ৩৭০ বর্গমিটার। এক্সিবিশন হলের আয়তন ১৫ হাজার ৪১৮ বর্গমিটার।

এক্সিবিশন হলে ৮০০টি বুথ রয়েছে। প্রতিটি বুথের আয়তন ৯ দশমিক ৬৭ বর্গমিটার।

দোতলা পার্কিং বিল্ডিংয়ের মোট পার্কিং স্পেস ৭ হাজার ৯১২ বর্গমিটার যেখানে ৫০০টি গাড়ি রাখা যাবে। আর এক্সিবিশন বিল্ডিংয়ের সামনের খোলা জায়গায় আরও ১ হাজার গাড়ি পার্কিং করার সুযোগ আছে।

এতে রয়েছে ৪৭৩ আসনের একটি মাল্টি ফাংশনাল হল, ৫০ আসনের একটি কনফারেন্স রুম, ছয়টি নেগোসিয়েশন/মিটিং রুম, ৫০০ আসনের ক্যাফেটরিয়া/রেস্টুরেন্ট, শিশুদের খেলার স্পেস, নামাজের কক্ষ, অফিস রুম দুইটি, মেডিক্যাল রুম, ডরমিটরি-গেস্ট রুম, ১৩৯টি টয়লেট, বিল্ট ইন পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।

এ ছাড়াও রয়েছে নিজস্ব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, স্টোর রুম, সিএটিভি কন্ট্রোল রুম, অটোমেটেড সেন্ট্রাল এসি সিস্টেম, ইনবিল্ট ইন্টারনেট/ওয়াইফাই, আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, আলাদা রেজিস্ট্রেশন হল, আধুনিক ফোয়ারা, ইন বিল্ট পতাকা স্ট্যান্ড, রিমোট কন্ট্রোলড-ইলেকট্রনিক প্রবেশ গেইট।

আরও পড়ুন:
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ

শেয়ার করুন

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায় ফের পেছাল

সিনহার অর্থ আত্মসাৎ মামলার রায় ফের পেছাল

রায়ের নতুন তারিখের বিষয়টি আদালতের বিচারক নাজমুল আলম এজলাসে বসে জানিয়ে দেন। আর দুদকের আইনজীবী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আজ রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয় নাই।’

চার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আবার পিছিয়েছে। পরবর্তী তারিখ রাখা হয়েছে ৯ নভেম্বর।

আদালত থেকে বলা হয়েছে, রায় প্রস্তুত না হওয়ায় নতুন তারিখ রাখা হয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে বৃহস্পতিবার আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর এই মামলার রায়ের তারিখ থাকলেও সেদিন বিচারক ছুটিতে থাকায় তা পিছিয়ে ২১ অক্টোবর দিন রাখা হয়।

রায়ের নতুন তারিখের বিষয়টি আদালতের বিচারক নাজমুল আলম এজলাসে বসে জানিয়ে দেন।

দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘রায় প্রস্তুত না হওয়ায় আজ রায় ঘোষণা করা সম্ভব হয় নাই।’

রায় উপলক্ষে এদিন আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতীকে (বাবুল চিশতী) আদালতে উপস্থিত করা হয়েছিল।

গত ২৪ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মামলার অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত।

গত বছরের ১৩ আগস্ট একই আদালত ১১ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

মামলায় আসামিরা খালাশ পাবেন বলে দাবি তাদের আইনজীবী মো. শাহীনুর ইসলাম অনির। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, মামলার শুনানিতে ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হলেও সাক্ষীরা তাদের জবানবন্দিতে মামলার ঘটনা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছেন। এ ছাড়া, জেরার সময় সাক্ষীরা তাদের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলের দাবি, আসামিদের অপরাধ প্রমাণে তারা সক্ষম হয়েছেন। তাই তাদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ফারমার্স ব্যাংক থেকে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন। মামলা তদন্ত করে একই বছরের ৯ ডিসেম্বর চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের পরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আসামিদের মধ্যে ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী) কারাগারে, ফারমার্স ব্যাংকের সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান এবং একই এলাকার বাসিন্দা নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা জামিনে আছেন।

এ ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায় পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ

শেয়ার করুন

মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৪ পুলিশ

মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৪ পুলিশ

মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে অভিযানে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জ জোনের নৌপুলিশের এসপি মিনা মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কতজন জেলে আহত হয়েছেন তা আমরা তাৎক্ষণিক জানতে পারিনি। তবে আমাদের চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে ইলিশ রক্ষায় অভিযানে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে নৌপুলিশের। এ সময় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন জেলেও।

অভিযান চলাকালে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জোনের নৌপুলিশের এসপি মিনা মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘কতজন জেলে আহত হয়েছেন তা আমরা তাৎক্ষণিক জানতে পারিনি। তবে আমাদের চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

আহতদের মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ইলিশ শিকারে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে জেলায় গত ৪ অক্টোবর থেকে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন ও নৌপুলিশ।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন:
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ

শেয়ার করুন

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী নদীতে সেতু না থাকায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি। ছবি: নিউজবাংলা

খারামোরার নুরুল আমীন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে শুরু কইরে হাজার হাজার মানুষ আমরা কত যে কষ্ট করতাছি, কেউ আমাগো কষ্ট দেহে না। আমরা নদীতে পানি বাড়লে বাজার সদাই করবার পাই না। না খাইয়া থাহা নাগে।’

শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচ গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সোমেশ্বরী নদী। স্বাধীনতার পর থেকেই এ নদীতে একটি সেতু নির্মাণে দাবি জানিয়ে আসছেন এসব গ্রামের লোকজন। এত বছর ধরে আশ্বাসই পেয়ে আসছেন তারা। সেতুর দেখা আর মেলেনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভারত থেকে বয়ে আসা সোমেশ্বরী উপজেলার গারো পাহাড়ের খারামোরা, রাঙাজান ও কোচপাড়াসহ পাঁচ গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করেছে। এর উত্তর প্রান্তে রয়েছে ভারতের সীমানা।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

বেশিরভাগ সময় এ নদীতে থাকে হাঁটুপানি। তবে একটু বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে নদী কানায় কানায় ভরে যায়।

গ্রামবাসীরা জানান, পাঁচ গ্রামে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ থাকেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে নদী পার হতে তাদের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। তবে পানি বাড়লে স্রোতের কারণে তা ব্যবহার করা যায় না।

ওই সময় গ্রাম থেকে বের হতে পারেন না কেউ। দিনের পর দিন শিক্ষার্থীরা স্কুলেও যেতে পারে না। এমনটি সীমান্তে টহল দিতে পারেন না বিজিবির সদস্যরা।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

ওই সময় খাবারের সংকটেও পড়ে গ্রামবাসী। আবার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সময় মতো চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। বিনা চিকিৎসায় অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।

৯৫ বছরের আইজুর রহমান ১৯৬৫ সালে ভারতের আসাম থেকে বাংলাদেশে এসে বসতি গড়েন শ্রীবরদীর খারামুরা গ্রামে। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৯৬৫ সালে এইহানে আইছি। এর থাইকে কষ্ট করতাছি। এই নদীর ওফর এডা ব্রিজ অইলে আমাগো খুব বালা অইতো।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

আমরা অনেক কষ্ট কইরা নদী পার অই। যেদিন পানি বেশি থাহে, ওইদিন আর বাড়িতে যাবার পাই না। নদীর এপারেই কষ্ট কইরা থাহন নাগে। কত মানুষ আইল আমাগো ব্রিজ কইরা দিবে। ভোটও দিলাম, কিন্তু ব্রিজ আর অইল না। আপনেগর কাছে অনুরোধ আমাগো ব্রিজটা কইরা দেন। শেষ বয়সে অইলেও ব্রিজটা দেইখা যাবার পামু।’

খারামোরার নুরুল আমীন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে শুরু কইরে হাজার হাজার মানুষ আমরা কত যে কষ্ট করতাছি, কেউ আমাগো কষ্ট দেহে না। আমরা নদীতে পানি বাড়লে বাজার সদাই করবার পাই না। না খাইয়া থাহা নাগে।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

‘আর কেউ যদি অসুখ হয় তালে তার জন্য ওষুদ পাওয়া যায় না। ওষুদ বেগরে মানুষ মারাই যাব, তাও পার অবার কোনো ব্যবস্থা থাহে না।’

কোচপাড়ার স্কুলছাত্র নাসিদ জানান, ‘প্রায় প্রায় নদীর পানি বাড়ে, তখন আমরা স্কুলে আসতে পারি না। দিনের পর দিন আমাদের স্কুল কামাই করতে হয়। আবার ভয়ে ভয়ে নদী পার হয়ে স্কুলে, বাজার-ঘাটে যাই।’

তাওয়াকুচার অছিরা বেগম জানান, ‘আমি আমার মেয়েডারে নদী ওপারে বিয়া দিছি। তারেও আপদে বিপদে দেখবার পাই না। আমরা অনেক কষ্ট করে আছি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্রিজ চাই।’

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

এ বিষয়ে কথা বলতে শ্রীবরদী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বরাবরের মতোই তিনি আশ্বাস দেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সেতু নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে নকশা ও মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলেই শুরু হবে নির্মাণ কাজ।’

আরও পড়ুন:
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ

শেয়ার করুন

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখলের কাজ চলছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে পৌর শহরের চৌরাস্তা হাটের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় কোনো বাধা ছাড়াই জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও ভবন নির্মাণ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমিটি দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ চলছে অবাধে ও প্রকাশ্যেই।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

পৌরসভা দপ্তরে সূত্রে জানা যায়, বাজারটি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পৌরসভা থেকে বার্ষিক ইজারায় দেয়া হয়। এরপর থেকে আর ইজারা দেয়া হয়নি। ভূমি অফিসের লোকজনের সহায়তায় সেখানে রাতারাতি অবৈধভাবে আধাপাকা বাড়ি, পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন এলাকার প্রভাবশালীরা।

হাটের জায়গায় ব্যক্তি মালিকানায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় পরে কর্তৃপক্ষ তা বাজার হিসেবে ইজারা দিতে চাইলেও প্রভাবশালী দখলদারদের ভয়ে কেউ লিজ নিতে রাজি হয়নি।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪-৮৫ এবং ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে দুটি মিস কেসের মাধ্যমে চৌরাস্তা হাটের সম্পত্তি পেরিফেরিভুক্ত করে ভূমি অফিস।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

বাজারের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ২০০৯ সালে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ওই বছরই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাস্তবায়নে পীরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলেও সে সময় কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সেই সুযোগে শহরের প্রাণকেন্দ্র রঘুনাথপুর মৌজায় (ঢাকাইয়াপট্টি) পেরিফেরিভুক্ত চৌরাস্তা হাটের উত্তর পূর্বাংশে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনার কাজ শুরু করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব।

শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি হাটের জমি দখল করতে ইমদাদুল হক সীমানা প্রাচীর তুলছেন। আর বিপ্লব ওই জমিতে বানাচ্ছেন বহুতল ভবন।

বিষয়টি নজর আসলে দখল ঠেকাতে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিমকে নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহাবুবুর রহমান।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

ডিসি নিউজবাংলাকে জানান, নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে জানিয়েছেন।

অথচ গত ১৪ অক্টোবর দেখা যায় নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ডিসির নিদের্শনা পর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ না করে দখলদারদের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে চলে যান। সরকারি জমি দখলদারদের পাইয়ে দেয়ার পেছনে খোদ ইউএনও রেজাউল করিম কাজ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও রেজাউল বলেন, অভিযোগ ঠিক নয়। কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। আবার কাজ চালু হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আবারও নির্মাণকাজ বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব বলেন, ‘আমি এখানে বিশ বছর ধরে আধাপাকা বাড়ি করে আছি। এখন ভেঙে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছি। হাটের পেরিফেরি থেকে জায়গাটা অবমুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।’

পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক বলেন, ‘পেরিফেরিভুক্ত জমিতে ঘর নির্মাণের অনুমতি পৌরসভা দিতে পারে না। কাজ বন্ধ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ

শেয়ার করুন

ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের রহস্য উন্মোচন

ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের রহস্য উন্মোচন

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের মামলায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। ঠবি: নিউজবাংলা

আসামি ফিরোজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, তার সঙ্গে নিহত ফকিরের লিজ নেয়া ৯ একর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ফকিরের সঙ্গে কয়েকবার কথাকাটাকাটিও হয়েছে ফিরোজের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজ, এখলাস ও মান্নান মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ছেলে হত্যার মামলাটি নিয়ে পিবিআইয়ের কাছে যাওয়ার কথা শুনে ভয়ে এজহার মিয়াকেও খুন করেন আসামিরা।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবা-ছেলে খুনের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

ঘটনার প্রায় এক বছর পর দায়িত্ব পেয়ে পিবিআই মাত্র ২০ দিনে এই জোড়া খুনের রহস্য উন্মোচন করে। এ মামলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামাল আব্বাস বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার।

জোড়া খুনের মামলায় গ্রেপ্তার তিন জন হলেন মো. ফিরোজ, মো. সালাহ উদ্দিন ওরফে মন্নান ও মো. এখলাস। তারা ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

এর মধ্যে মো. ফিরোজ বুধবার চট্টগ্রাম অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদা ইয়াসমিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকি দুই জনকে তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

এর আগে মঙ্গলবার খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি থেকে মন্নানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী ভুজপুরের সুয়াবিল থেকে ফিরোজ এবং কাঞ্চননগর থেকে এখলাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক কামাল আব্বাস নিউজবাংলাকে জানান, ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে দুইদ্যা খাল থেকে ফকির আহমেদের গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পরের দিন ফটিকছড়ি থানায় অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন নিহতের বাবা এজহার মিয়া।

খুনের নয় মাসেও পুলিশ কাউকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে না পাড়ায় মামলাটির তদন্তের বিষয়ে পিবিআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেন এজহার মিয়া। আসামিরা বিষয়টি জানতে পারেন।

পিবিআই জানায়, সংস্থাটি মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেলে আর রক্ষা নেই, এই চিন্তা করে এজহার মিয়াকেও খুন করার সিদ্ধান্ত নেন ফকির আহমেদকে খুনের মামলার আসামিরা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৪ জুন কাঞ্চননগর ইউনিয়নের খামার বাড়ির কাছাকাছি লাঙ্গল মেরামতের সময় এজহার মিয়াকেও খুন করেন আসামিরা। পরদিন দক্ষিণ কাঞ্চননগরের গরজইজ্ঞা থেকে এজাহার মিয়ার গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় ২৬ জুন নিহতের স্ত্রী নাছিমা বেগম ফটিকছড়ি থানায় আরেকটি হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে হত্যার কোনো কূল কিনারা খুঁজে না পাওয়ায় মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়া হয়।

পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক কামাল আব্বাস বলেন, ‘মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর ওই এলাকার সোর্সকে কাজে লাগিয়ে খুনের সঙ্গে এজহারের মেয়ের জামাই এখলাসেরও জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হই। এরপর লিজ নেয়া ৯ একর জমি নিয়ে মান্নান নামের এক জনের সঙ্গে নিহত ফকিরের বিরোধের তথ্য পাই। পরবর্তীতে মান্নানের কাছে থেকে হত্যার পরিকল্পনাকারী ফিরোজের তথ্য পাই।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফকির আহমেদকে খুনের কথা স্বীকার করে ফিরোজ আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

ফিরোজের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে পিবিআই জানতে পারে তার সঙ্গে নিহত ফকিরের লিজ নেয়া ৯ একর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ফকিরের সঙ্গে কয়েকবার কথাকাটাকাটিও হয়েছে ফিরোজের। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফিরোজ, এখলাস ও মান্নান মিলে ফকিরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, ছেলে হত্যার মামলাটি নিয়ে এজহার মিয়া পিবিআইয়ের দারস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় আসামিরা ভয় পেয়ে যান। তাই এজহার মিয়াকেও খুন করেন তারা।

আরও পড়ুন:
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ

শেয়ার করুন

সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়

সালাম না দেয়ায় ঢাবির হলে শিক্ষার্থীদের চড়-থাপ্পড়

‘বড় ভাইদের’ সালাম না দেয়ায় এবং ছাত্রলীগের নিয়মকানুন না মানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদেরকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি হল গেটে দাঁড়ানো ছিলাম। পাশ দিয়ে তৃতীয় বর্ষের এক বড় ভাই চলে গিয়েছিল, আমি খেয়াল করিনি। পরদিন ইনফরমাল গেস্টরুমে আমাকে জহুরুল ভাই থাপ্পড় দেয়। আমি দাঁত চেপে সহ্য করতে পারছি। কিন্তু আমার অনেক বন্ধু এটা সহ্য করতে পারে না। তারা কান্না করে দেয়।’

সিনিয়রদের সালাম না দেয়ায় এবং ছাত্রলীগের নিয়ম-কানুন না মানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে রুমে ডেকে নিয়ে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে দ্বিতীয় বর্ষের সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

প্রায় প্রতিদিন প্রথম বর্ষের অন্তত একজন শিক্ষার্থীকে হলের ২২৫ ও ১১৯ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী একাধিক শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগীরা যাদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছেন তারা হলেন ইতিহাস বিভাগের আনিসুর, দর্শন বিভাগের নাফি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাইসুল, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সজীব, ফারসি বিভাগের জহিরুল, সমাজ কল্যাণ বিভাগের শাকিল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শামীম। তারা সবাই ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী।

দ্বিতীয় বর্ষের এসব শিক্ষার্থী হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি আবদুল্লাহ আল সোবাইলের ‘ছোট ভাই’ হিসেবে পরিচিত। সোবাইল ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।

হল সূত্রে জানা যায়, হলের অধিকাংশ রুম ছাত্রলীগের দখলে। এসব রুমে ছাত্রলীগ নেতারাই সিট বরাদ্দ দেন। এ রকম একটি রুম হলের ২২৮ নম্বর। এই রুমটি সোবাইলের দখলে। প্রথম বর্ষের ২০ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে এই রুমে থাকেন। সোবাইলের অনুসারীরাই মূলত এসব শিক্ষার্থীকে হলে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বিনিময়ে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হয় ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে। আর রাতে বসতে হয় গেস্টরুমে।

গেস্টরুমে ছাত্রলীগকর্মীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের নিয়ম জানিয়ে দেন। এর মধ্যে সিনিয়রদের বাধ্যতামূলক সালাম দেয়া, সালাম দিয়ে হ্যান্ডস শেক (করমর্দন) করা, নিয়মিত রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশ নেয়া অন্যতম। এ ছাড়া সিনিয়রদের সামনে হলের ক্যান্টিনে খাবার না খাওয়া, হলের লিফটে না চড়ার মতো উদ্ভট অনেক নিয়মও গেস্টরুম থেকে জানিয়ে দেয়া হয়।

এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতেই মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথম বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হয়েছেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী কর্মীরা। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের রুমে ডেকে চড়-থাপ্পড় এমনকি স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে।

আবদুল্লাহ আল সোবাইলের অনুসারীরা সপ্তাহে ছয় দিনই প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের গেস্টরুমে নেয়। এসব গেস্টরুম এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বিত হয়। ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন আনুষ্ঠানিক এবং বাকি তিন দিন অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আনুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয় হলের নিচতলার অতিথি কক্ষে। এখানে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছাড়াও তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকায় এ গেস্টরুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধর বা তাদের প্রতি খারাপ ভাষা ব্যবহার করা হয় না।

আর অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয় দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের রুমে। কোনো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে সেখানেই মূলত প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের মারধর এবং অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, হলগেটে বড় ভাইদের সালাম না দেয়ায় গত কয়েক দিন ধরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর মারধর চলছে। প্রথমবর্ষের ১৫ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের এসব মারের শিকার হয়েছেন। মারধরের বিষয়টি কাউকে না জানাতেও নির্দেশ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত শুক্রবার আমি হলগেটে দাঁড়ানো ছিলাম। পাশ দিয়ে তৃতীয় বর্ষের এক বড় ভাই চলে গিয়েছিল, আমি খেয়াল করিনি। পরদিন ইনফরমাল গেস্টরুমে আমাকে জহুরুল ভাই থাপ্পড় দেয়। আমি দাঁত চেপে সহ্য করতে পারছি। কিন্তু আমার অনেক বন্ধু এটা সহ্য করতে পারে না। তারা কান্না করে দেয়।’

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের গেস্টরুমে ১৪টি নিয়ম শেখানো হয়। প্রতিদিন এগুলো মুখস্থ বলতে হয়, কিন্তু আমি না পারায় আমাকে থাপ্পড় দিয়েছে আনিসুল ভাই। আমি গেস্টরুমে টিশার্ট পরে আসছি এটাও নাকি আমার অপরাধ ছিল।’

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, সপ্তাহের শনি সোম ও বুধবার তাদের ইনফরমাল গেস্টরুম। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরাই মূলত তাদের গায়ে হাত তুলে।

দ্বিতীয় বর্ষের যে সাত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তাদের মধ্যে জহুরুলই সবচেয়ে বেশি উগ্র বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ক্যাম্পাস খোলার পর থেকে সোবাইল ভাইয়ের গ্রুপের ইমিডিয়েট সিনিয়ররা নিয়মিত গেস্টরুম করায়। সেখানে তারা বড় ভাইদের সালাম না দেয়া, হ্যান্ডশেক না করা, প্রোগ্রামে যেতে সামান্য দেরির কারণে মারধর করে।

‘সপ্তাহে তিন দিন আমাদের অনানুষ্ঠানিক গেস্টরুম হয়। প্রতিবারই তারা কাউকে না কাউকে মারধর করে। এ ছাড়া পিতা-মাতার নাম নিয়ে বিশ্রী ভাষায় গালিগালাজও করেন।’

মারধরের প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমার এক বন্ধুকে রাজু ভাস্কর্য কোথায় জিজ্ঞাসা করেছিল দ্বিতীয় বর্ষের বড় ভাইয়েরা। তখন তার মাথায় বিষয়টি আসছিল না, তাই সে বলতে পারেনি। এরপর তাকে জহুরুল ভাই এমন জোরে থাপ্পড় দিয়েছিল, আমার সে বন্ধু কান্না করে দিয়েছে। তার হাঁফানি রোগও ছিল। থাপ্পড় খেয়ে সে হাঁফাচ্ছিল। পরে তাকে গেস্টরুম থেকে ছুটি দিয়ে দেয়।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সোবাইল গ্রুপের অনুসারী দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আনিসুর বলেন, ‘এ বিষয়ে আপনি সোবাইল ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আমাদের নেতা। এ ছাড়া আমার আর কিছু বলার নেই।’

সোবাইলের অনুসারী শাকিল ও জহিরুল অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। আর নাফি, সজীব, শামীমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল সোবাইল বলেন, ‘আরও কয়েকজনের কাছে ঘটনাটা আমি শুনেছি। এরপর আলাদাভাবে দ্বিতীয় বর্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমি বসেছি। তারা বলেছে, তারা মারধর করেনি। সামান্য উচ্চ বাক্যে বকা বা ধমক দিয়েছে।’

তবে সূত্র বলছে, মারধরের বিষয়ে গণমাধ্যমের কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকের ফোন পেয়ে সোবাইল তাৎক্ষণিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রলীগ কর্মীদের হলের অতিথি কক্ষে ডেকে আনেন। এরপর তিনি প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলা হয়েছে সেটি জানতে চান। শুরুতে বলতে দ্বিধা করলেও পরে সোবাইলের কাছে স্বীকার করেন, তারা প্রথম বর্ষের তিনজন শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলেছেন, তবে বেশি মারেননি।

এ বিষয়ে নিউজবাংলাকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি বিষয়টি মাত্র শুনেছি। খোঁজ নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ

শেয়ার করুন