দূরের বস্তু দেখার ক্ষমতা হারাচ্ছে শিশুরা

দূরের বস্তু দেখার ক্ষমতা হারাচ্ছে শিশুরা

মোবাইল ও কম্পিউটার ডিভাইস মাত্রাতিরিক্ত আসক্তিতে বাড়ছে শিশুদের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগ মায়োপিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় বাচ্চাদের হাতে উঠেছে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ, নোটবুক। যারা আগে এসব ডিভাইস থেকে দূরে ছিল তারাও হয়েছে আসক্ত। খেলার সময়, খাওয়ার আগে, অনলাইন ক্লাস, ঘুমের সময় ক্ষণে ক্ষণে চাই মোবাইল। আর এতে করে শিশুদের মাঝে ‘মায়োপিয়া’ বা চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগ বাড়ছে।

রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী আরিশা। বয়স ১১ বছর। চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে গেল তিন বছর ধরে চশমা ব্যবহার করছেন। ছয় মাস পর পর চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করা লাগে। সবশেষ জুনে চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করা হয়েছে।

আরিশার মা ফামিদা তারিন জানান, এটা জন্মগত কোনো সমস্যা নয়। পড়াশোনা ও অধিক সময় মোবাইল ব্যবহারের কারণে কমে এসেছে দূরের দৃষ্টি শক্তি। করোনার কারণে মোবাইল নির্ভরতা আরও অনেক বেড়েছে। করোনার মধ্যে রুটিনের বাইরে চলে গেছে মোবাইল ব্যবহারের পরিমাণ।

ফামিদা বলেন, ‘মাঝে মাঝে মাথা ব্যথা ও চোখ ব্যথায় ভোগে আরিশা। এখন রাতে ঘুমায় দেরি করে, সকালে ওঠে দেরি করে। উঠেই মোবাইল খোঁজে। কিছু বললে বলে মোবাইলে পড়ালেখা করবে। আর আমরা সাংসারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় মনিটরিংও করতে পারছি না।’

আরিশার মতো হাজার শিশু এখন এই সমস্যায় ভুগছে।

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় বাচ্চাদের হাতে উঠেছে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপ, নোটবুক। যারা আগে এসব ডিভাইস থেকে দূরে ছিল তারাও হয়েছে আসক্ত। খেলার সময়, খাওয়ার আগে, অনলাইন ক্লাস, ঘুমের সময় ক্ষণে ক্ষণে চাই মোবাইল। আর এতে করে শিশুদের মাঝে ‘মায়োপিয়া’ বা চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত রোগ বাড়ছে।

করোনার সময়ে মাইওপিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

দূরের বস্তু দেখার ক্ষমতা হারাচ্ছে শিশুরা

কী পরিমাণ এমন রোগী রয়েছে তার পরিসংখ্যান না থাকলেও দেশের সবচেয়ে বড় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক। গেল দুই বছরে এই হাসপাতাল থেকে সেবা নেওয়া মায়োপিয়া রোগী বেড়েছে ১১ শতাংশ।

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, করোনার আগে এই হাসপাতালে সেবা নেয়া রোগীর ২২ শতাংশ মাইয়োপিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যেতে। করোনা কারণে ঘরবন্দি থাকায় শিশুদের মধ্যে বেড়েছে এ রোগ। এখন বেড়ে ৩৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

দূরের বস্তু দেখার ক্ষমতা হারাচ্ছে শিশুরা

চিকিৎসকরা বলছেন, প্রায় দুই বছর শিশুরা ঘরবন্দি। কাজ না থাকায় সারাক্ষণ স্ক্রিনে; দূরের জিনিস দেখেনি। ফলে তাদের দূরের দৃষ্টিশক্তি ঠিকমতো তৈরিই হচ্ছে না। আটবছর পর্যন্ত শিশুদের চোখের গঠনগত পরিবর্তন হতে থাকে। এই বয়সের শিশুরা যদি দূরের জিনিস না দেখে তাহলে আস্তে আস্তে দূরের দৃষ্টিশক্তিই হারিয়ে ফেলবে। বড় হওয়ার পরেও তাদের এই সমস্যা কাটবে না।

এ বিষয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিউটের অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী জানান, করোনার কারণে মায়োপিয়া রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সরকারের দেয়া বিধিনিষেধ স্বাভাবিক হওয়ার পর হাসপাতালে রোগী অনেকগুণ বেড়েছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘লকডাউনের মধ্যে আমাদের হাসপাতালে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী দেখলেও এখন এই সংখ্যা বেড়ে ৩০০ খেকে ৪০০ হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৩ শতাংশই দূরে দেখার দৃষ্টিতে সমস্যা নিয়ে আসে। তার একটি বড় অংশ শিশুরা।’

খায়ের আহমেদ জানান, করোনার আগে ২০১৯ সাল ও ২০২০ সালে ২০ থেকে ২২ শতাংশ ছিল মায়োপিয়া। করোনার মধ্যে এ জাতীয় রোগীর হার বেড়েছে ১১ শতাংশ। এর অন্যতম কারণ করোনা মধ্যে শিশুদের ডিভাইসে আশক্তি।

শিশুরা এখন অধিকাংশ সময় এখন অনলাইনে কাটায়। করোনা সংক্রমণের আগে বাচ্চারা বাবা-মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানের ঘুরতে যেতে পারত, এখন সেটাও করতে পারেনা। ঘরবন্দি বাচ্চারা সময় কাঁটতে মোবাইলকে বেছে নিচ্ছে। ঘুমের সময় ছাড়া বাকি সময় কাটছে মোবাইলের মাধ্যমে।

করণীয় কী

করোনার কারণে এতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হচ্ছে। শিশুদেরকে মোবাইল, ল্যাপটপ জাতীয় ডিভাইস থেকে ফেরাতে তাদের হাতে তুলে দেয়া যেতে পারে গল্পের বই। সেই সঙ্গে শিশুদের সঙ্গে বাবা-মায়েরা গল্প করতে পারে। পরিবারের সবাই মিলে মিলে মাঝে মাঝে আড্ডার ব্যবস্থা করতে পারে।

সবাই মিলে চেষ্টা করলে এই সমস্যা কাটিয়ে তোলা যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের পরামর্শ, শিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নিলে যেন বিরতি নেয়। ৩০ মিনিট পর পর গ্যাপ দিলে বেশি ভালো হয়।

এ সমস্যা কাটাতে আরও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কথা বলেছেন তারা। শাক-সবজি বেশি করে খেতে হবে। শহর এলাকার বাচ্চাদের বেশির ভাগ ফাস্ট ফুডের ওপর নির্ভরশীল। এই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

দূরের বস্তু দেখার ক্ষমতা হারাচ্ছে শিশুরা

ডিভাইসগুলো অবশ্যই সীমিত পরিসরে ব্যবহার করতে হবে। অল্প আলোতে লেখাপড়া যাতে না করে সেটাও লক্ষ্যে রাখতে হবে। বাড়ির কাজ করলে বিরতি দিয়ে দিয়ে করতে হবে। গল্পের বই একটানা যেন দীর্ঘ সময় ধরে না পড়ে। এক্ষেত্রে শুধু অভিভাবকরা নয়, চিকিৎসক ও শিক্ষকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিজ্ঞানের বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজনীন খান নিউজবাংলাকে বলেন, চোখের ক্ষীণ দৃষ্টিজনিত সমস্যা দূর করতে কোনোভাবে যেন একনাগাড়ে কম্পিউটারের সামনে বা কোনো ডিভাইসের সামনে না থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

তার ভাষ্য, শিশুদের চোখের সমস্যা স্থায়ী হয়ে যাওয়ার কারণ সঠিক সময়ে তাদের চোখ বা দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করা হয় না। শিশুদের দৃষ্টিশক্তি কম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে যতক্ষণ তারা কথা না বলে বোঝাতে পারছে ততক্ষণ তাদের অভিভাবকরা বুঝতেই পারেন না তার শিশুর চোখের দৃষ্টিশক্তি কত।

দেশের বাইরেও পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক

করোনাভাইরাস মহামারিতে ঘরে আটকে থাকা শিশুদের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য বেরিয়ে এসেছে চীন ও হংকংয়ে পরিচালিত কয়েকটি গবেষণাতেও।

আরও পড়ুন: ঘরবন্দি শিশুদের দূরের বস্তু দেখার ক্ষমতা কমছে

হংকংয়ের দ্য চায়নিজ ইউনিভার্সিটি অফ হংকং-এর একদল গবেষক দেড় বছরের বেশি সময় গবেষণা চালানোর পর বলছেন, দূরের বস্তু পরিষ্কার দেখতে পাওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছে অনেক শিশু। তাদের নিবন্ধটি ব্রিটিশ জার্নাল অফ অফথমলজিতে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা গত বছর ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী ৭০৯ শিশুকে পর্যবেক্ষণ করে অনেকের মধ্যেই হ্রস্বদৃষ্টি বা মায়োপিয়ার লক্ষণ দেখতে পান। এ ধরনের শিশুরা কাছের বস্তুকে ভালোভাবে দেখতে পেলেও দূরের বস্তু ছিল ঘোলাটে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালের তুলনায় করোনার প্রথম বছরে শিশুদের মায়োপিয়ায় আক্রান্তের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ।

গবেষকরা বলছেন, মহামারির সময়ে শিশুদের জীবনযাপনে পরিবর্তন আসায় মায়োপিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তারা বাড়ির বাইরে যেতে পারছে না। পাশাপাশি দিনভর ঘরের ভেতরে ডিজিটাল মাধ্যমে আসক্তি, আঁকাআঁকি, বই পড়ার মতো কাজ করায় ‘হ্রস্বদৃষ্টি’ তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মায়োপিয়ার ক্ষেত্রে জিনগত কারণের চেয়ে বেশি দায়ী ঘরের বাইরে না যাওয়া। ঘরের মধ্যে দীর্ঘদিন আটকে থাকলে মানুষের চোখ দূরের বস্তুকে দেখার জন্য প্রয়োজনীয় অভিযোজন ক্ষমতা হারাতে থাকে।

হংকংয়ের গবেষকরা তাদের নিবন্ধে লিখেছেন, ‘মহামারির বিস্তার ঠেকাতে ঘরে থাকার বাধ্যবাধকতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থা চিরদিন থাকবে না, তবে এই সময়ে ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তিসহ মানুষের জীবনযাপনে যে পরিবর্তন ঘটছে, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সবার জীবনে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর থাকবে।’

আধুনিক জীবনে বিভিন্ন দেশেই মায়োপিয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের ৯০ শতাংশের মতো মানুষ হ্রস্বদৃষ্টির সমস্যায় আক্রান্ত, এ কারণে দেশটিতে মায়োপিয়াকে মহামারি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চীনে ২০২০ সালে ৬ বছর বয়সী শিশুদের মায়োপিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে তিন গুণ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত ওই গবেষণায় চীনে মায়োপিয়া বাড়ার কারণ হিসেবেও লকডাউনকে দায়ী করা হয়েছে।

আক্রান্তের লক্ষণ কী কী

ঘরে থাকা শিশু বারবার মোবাইল বা টেলিভিশন দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, বারবার চোখের পাতা বন্ধ করে খুলতে থাকলে মাওপিয়া আক্রান্ত হতে পারে। মাঝে মাঝে মাথা ও চোখব্যথা হতে পারে।

অনেক সময় দৃষ্টিত্রুটির কারণে চোখ বাঁকা হতে পারে। আবার চোখ বাঁকা হওয়ার কারণে দৃষ্টিতে ত্রুটি হতে পারে। কিছু পড়তে গেলে শিশু চোখ কুঁচকে দেখার চেষ্টা করছে কি না, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

লক্ষণগুলো দেখা দিলে অভিভাবকদের উচিত দ্রুত সময়ের মধ্যে শিশুকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘এখন আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। আক্রান্ত শিশুরা যখন স্কুলে গিয়ে ক্লাস করবে, তাদের ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা দেখতে অসুবিধা হবে।

‘তারা (আক্রান্ত শিশু) ব্ল্যাকবোর্ডের লেখা খাতাতে তুলতে পারে না। এ কারণে পাশের বাচ্চা থেকে লেখা কপি করে।’

চিকিৎসা কী

এ রোগের প্রধান কারণ মোবাইল ফোন অথবা অন্য কোনো ডিভাইসের প্রতি নির্ভরতা। কম্পিউটার বা মোবাইল থেকে এক ধরনের নীল আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। নিয়মিত দীর্ঘসময় ধরে নীল উজ্জ্বল আলো চোখের ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে অঙ্গটির ক্ষতি করে। করোনাভাইরাসের কারণে এ সমস্যা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ রোগ থেকে বাঁচতে অভিভাবকদের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি।

জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. খায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা যারা চক্ষু বিশেষজ্ঞ, তাদের যেমন ভূমিকা রয়েছে, একই সঙ্গে এখানে অন্য চিকিৎসক ও অভিভাবকদের তেমন ভূমিকা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে শিশু চিকিৎসকরা। শিশুদের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অভিভাবকরা দ্রুত তাদের কাছে নিয়ে আসেন। তারা অন্যান্য পরীক্ষার সঙ্গে চোখের পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিতে পারেন।

‘এসব সমস্যা দেখা দিলে হয়তো চশমা দিয়ে সমাধান করা যাবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সচেতনতায় এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।’

আরও পড়ুন:
বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!
‘ফেসবুক’ নিয়ে ব্যস্ত নার্স, ২ শিশুর মৃত্যু
শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি
এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিশুদের জন্য ফাইজারের ৩৫ লাখ টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

শিশুদের জন্য ফাইজারের ৩৫ লাখ টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ফাইজারের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা। ফাইল ছবি

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরও ৩৫ লাখ ডোজ টিকা অনুদান দিতে পেরে আনন্দিত। এ ছাড়াও আমরা বাংলাদেশি শত শত স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছি, যাতে তারা ফাইজারের এ টিকাগুলো ১২ ও তদূর্ধ্ব বয়সী শিশুদের নিরাপদে দিতে পারে।’

বাংলাদেশের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ফাইজারের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার ৩৫ লাখ ডোজ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটির ঢাকা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ নিয়ে দেড় কোটি ডোজ টিকা বাংলাদেশকে দিতে যাচ্ছে দেশটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফাইজারের টিকা ১২ ও তদূর্ধ্ব বয়সী বাংলাদেশিদের টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণে বাংলাদেশকে সক্ষম করে তুলবে।

এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্র সরকারের করোনাভাইরাস সহায়তা ১২১ মিলিয়ন ডলার বা ১ হাজার ৫২ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

এ বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য ফাইজার-বায়োটেকের টিকার অনুমোদন করে।

ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে আরও ৩৫ লাখ ডোজ টিকা অনুদান দিতে পেরে আনন্দিত। এ ছাড়াও আমরা বাংলাদেশি শত শত স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়েছি, যাতে তারা ফাইজারের এ টিকাগুলো ১২ ও তদূর্ধ্ব বয়সী শিশুদের নিরাপদে দিতে পারে।

‘আমরা আশা করি এ টিকা কম বয়সী বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কোভিড-১৯ থেকে সুরক্ষা পেতে সহায়তা করবে এবং তারা পরিপূর্ণভাবে তাদের লেখাপড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে পারবে।’

আরও পড়ুন:
বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!
‘ফেসবুক’ নিয়ে ব্যস্ত নার্স, ২ শিশুর মৃত্যু
শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি
এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

শেয়ার করুন

বছরে ১৮ লাখের বেশি স্ট্রোকের রোগী

বছরে ১৮ লাখের বেশি স্ট্রোকের রোগী

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে। দুটি বিভাগে এই হার সর্বোচ্চ হাজারে ১৪ জন করে। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী বিভাগে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর হার সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। বিভাগটিতে এই হার ৭ দশমিক ৪০।

দেশে প্রতি বছর হাজারে ১১ দশমিক ৪ জন রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স বিভাগ।

সে হিসাবে দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ধরলে বছরে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন ১৮ লাখ ২৪ হাজারের বেশি রোগী।

দেশে ৬৪ জেলা থেকে স্ট্রোকের রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণার পর এমন তথ্য জানিয়েছে বিভাগটি।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে সবচেয়ে বেশি স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগী ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে। দুটি বিভাগে এই হার সর্বোচ্চ হাজারে ১৪ জন করে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রাজশাহী বিভাগে স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর হার সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। বিভাগটিতে এই হার ৭ দশমিক ৪০।

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে নিউরো সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

বছরে ১৮ লাখের বেশি স্ট্রোকের রোগী
স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন ঢামেক পরিচালক।

তিনি জানান, এখন নানান কারণে স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। তবে উচ্চ রক্তচাপের কারণে বেশিরভাগ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন। দেশে যারা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপের রোগী।

ঢামেকের নিউরোসার্জান্সি বিভাগের অধ্যাপক রাজিউল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক।

ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতি ১০০ জন রোগীর মধ্যে ৪৮ জনেরই উচ্চ রক্তচাপ থাকে। এ ছাড়া স্ট্রোকে আক্রান্তদের মধ্যে ৩৬ রোগী অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেন।

তিনি জানান, স্ট্রোকে আক্রান্ত ১৯ শতাংশ রোগীর দেহে অতিরিক্ত মেদ থাকে। ১৭ শতাংশ রোগী মানসিক চাপের শিকার। এ ছাড়া অতিরিক্ত ডায়াবেটিসের কারণে স্ট্রোক হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের ২০২০ সালের করা এক গবেষণার বরাতে ওই গবেষক বলেন, মানুষ তার জীবদ্দশায় প্রতি ৪ জনের ১ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন। এর আগে ৬ জনের একজনের স্ট্রোকের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল।

বাংলাদেশের পরিসংখ্যানের কথা তুলে ধরে ঢামেকের ওই গবেষক জানান, দেশের প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ স্ট্রোকের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে স্ট্রোকের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের উপায়গুলো জানান তিনি। স্ট্রোক সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য। স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে ফাস্টফুড ও ধূমপান ত্যাগ করা, ব্লাডপেশার আর সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, লক্ষণ দেখার সঙ্গে সঙ্গে অবহেলা না করে হাসপাতালে নেয়া ও সর্বোপরি জনসচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

স্ট্রোকের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঢামেক অনেক অগ্রসর হয়েছে। এ রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সরকার আমাদের সবকিছু দিচ্ছে।’

বছরে ১৮ লাখের বেশি স্ট্রোকের রোগী
বিশ্ব স্ট্রোক দিবস উপলক্ষে ঢামেক হাসপাতালে এক কর্মশালায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়া, চোখে ঘোর দেখা, চেহারা পরিবর্তন হওয়া, বাহু অবশ হওয়া, কথা বলার সময় জড়তা চলে আসা ইত্যাদি। এসব লক্ষণ দেখা দিলে গোল্ডেন টাইম বা ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎশকের শরণাপন্ন হতে হবে।’

তিনি জানান, ১৯৮০ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইউরোপ বা আমেরিকাতে স্ট্রোকের ৪২ শতাংশ রোগী কমেছে। কিন্তু অনুন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই রোগ শতভাগ বেড়েছে।

ঢামেকের নিউরোসায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে অপারেশন লাগবে এমন ১০ জনের বেশি স্ট্রোকের রোগী আসে। তবে দিনে ৩ জন সার্জারি করা সম্ভব হয়। আমরা চাই ১০ জনকেই সময়মতো সার্জারি করাতে। স্ট্রোক রোগীদের আইসিইউ ও এসডিইউ অনেক বেশি প্রয়োজন। তবে ঢামেকে এখনও বসানো সম্ভব হয়নি। এটা দ্রুত সময়ের মধ্যে বসানোর ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ।’

নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আহমেদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, ‘রোগীর সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিতে নিউরোলজি বিভাগের একটি আইসিইউ ইউনিট খুলতে হবে। তাহলে অনেক রোগীর জীবন বাঁচনো সম্ভব হবে। সঙ্গে সবার মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।’

কর্মশালায় ঢামেকের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজমুল হক বলেন, ‘স্ট্রোকের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জটিল রোগী এই হাসপাতালে আসেন। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিভাগের চিকিৎসকরা।’

তিনি বলেন, ‘ঢামেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে গড়ে ছয় শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। দিনে গড়ে ৫০ জনের মতো নতুন রোগী আসেন। তাদের মধ্যে প্রতিদিন ৭-১০ জনের সার্জারি করা সম্ভব হয়। ’

ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘স্ট্রোকের চার ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে হাসপাতালে আনা সম্ভব হলে কিছু ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা সম্ভব। আমরা এই ওষুধগুলোর বেশিরভাগ বিনামূল্যে দিয়ে থাকি। ’

তিনি জানান, স্ট্রোকের রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০ শয্যার পৃথক স্ট্রোক সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখানে ১০টি আইসিইউ-এসডিইউ শয্যা থাকবে।

২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা চালুরও আশ্বাস দেন হাসপাতাল পরিচালক।

কর্মশালায় বলা হয়, স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা দেওয়া গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চিকিৎসা নিয়ে পরদিনই রোগী হেঁটে বাসায় ফিরতে পারবেন। অনেকে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে হৃদ্‌রোগ ভেবে সময় নষ্ট করেন, যা রোগীর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন:
বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!
‘ফেসবুক’ নিয়ে ব্যস্ত নার্স, ২ শিশুর মৃত্যু
শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি
এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

শেয়ার করুন

করোনায় মৃত্যু ৭, শনাক্ত ৩০৬

করোনায় মৃত্যু ৭, শনাক্ত ৩০৬

গত এক দিনে দেশের ৮৩৩টি ল্যাবে করোনার ১৯ হাজার ৯৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ৩৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ৩০৬ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বুধবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশে এ নিয়ে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৩ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮৪০ জনের।

গত এক দিনে দেশের ৮৩৩টি ল্যাবে করোনার ১৯ হাজার ৯৫১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১ দশমিক ৫৩ শতাংশ। দেশে এ নিয়ে টানা ৩৫ দিন করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনায় অনুযায়ী, কোনো দেশে করোনা সংক্রমণ পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সেই দেশে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে বলে ধরা হয়। সে অনুযায়ী দেশে করোনা দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসছে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসিবে ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত একদিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৩ জন, নারী ৪ জন। এর মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া চল্লিশোর্ধ্ব ২, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১ ও ষাটোর্ধ্ব ৩ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এক জন করে মারা গেছে। এ ছাড়া খুলনাতে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৮৮ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৬৮ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!
‘ফেসবুক’ নিয়ে ব্যস্ত নার্স, ২ শিশুর মৃত্যু
শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি
এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

শেয়ার করুন

বিশেষ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ডোজ শুরু বৃহস্পতিবার

বিশেষ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ডোজ শুরু বৃহস্পতিবার

সেপ্টেম্বরে বিশেষ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় দিনে টিকা দেয়া হয় ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৪ জনকে। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামসুল হক বলেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে বিশেষ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে গত ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইনে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হয়েছিল প্রায় ৮১ লাখ মানুষকে। তাদের দ্বিতীয় ডোজ বৃহস্পতিবার দেয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বুধবার স্বাস্থ্য বুলেটিন এ তথ্য জানান অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. শামসুল হক।

তিনি বলেন, ‘২৮ সেপ্টেম্বর সারা দেশে বিশেষ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আমরা আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের অবহিত করেছি।

‘ইতোমধ্যে কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। টিকা কর্মকাণ্ডে প্রথম ডোজ টিকা দেয়া হবে না; শুধু দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ‘কাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজন হলে ৩টার পরেও এই ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি চলমান থাকবে।’

তিনি বলেন, ওই দিন সারা দেশে সব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলায় বিশেষ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন হবে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনে ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯২ ডোজ টিকা দেয়া হয়। ২৯ সেপ্টেম্বর ১৩ লাখ ৩৪ হাজার ২৪৪ ডোজ টিকা দেয়া হয়।

২৮ সেপ্টেম্বরের আগে গত ৭ আগস্ট থেকে প্রথম ধাপে গণটিকাদানের ঘোষণা দেয় সরকার। সে সময় পাঁচ দিনের জন্য চলে এ কার্যক্রম, তবে টিকা সংকটের কারণে সে কার্যক্রম চালু রাখতে পারেনি সরকার।

আরও পড়ুন:
বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!
‘ফেসবুক’ নিয়ে ব্যস্ত নার্স, ২ শিশুর মৃত্যু
শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি
এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

শেয়ার করুন

স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা সপ্তাহের মধ্যে, আশা মন্ত্রীর

স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা সপ্তাহের মধ্যে, আশা মন্ত্রীর

মানিকগঞ্জে স্কুলশিক্ষার্থীদের পরীক্ষামূলক টিকা দেয়া হয়। ফাইল ছবি

দীপু মনি বলেন, ‘স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দিতে রেজিস্ট্রেশন চলছে। আশা করছি সপ্তাহখানেকের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে।’

স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সপ্তাহখানেকের মধ্যে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা দেয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় গবেষণা দিবসে বুধবার বৈজ্ঞানিক অধিবেশন ও অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দীপু মনি বলেন, ‘স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকা দিতে রেজিস্ট্রেশন চলছে। আশা করছি সপ্তাহখানেকের মধ্যে স্কুলশিক্ষার্থীদের গণটিকা কার্যক্রম শুরু হবে।’

পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষার্থীকে গণটিকা দেয়া শুরুর কথা ছিল ৩০ অক্টোবর।

স্কুলশিক্ষার্থীদের মাঝে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলক করোনা প্রতিরোধী টিকা দেয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ১৪ অক্টোবর মানিকগঞ্জে ১০০ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হয়।

বড় পরিসরে স্কুলশিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!
‘ফেসবুক’ নিয়ে ব্যস্ত নার্স, ২ শিশুর মৃত্যু
শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি
এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিট

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিট

নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা মোছলেহউদ্দিন তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিটের মাধ্যমে অত্যাধুনিক থ্রম্বোলাইসিস চিকিৎসার মাধ্যমে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুহার ও শারীরিক অক্ষমতা অনেকাংশে কমে আসবে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে স্ট্রোকের রোগীদের চিকিৎসায় চালু হয়েছে বিশেষায়িত স্ট্রোক ইউনিট।

নিউরোলজি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এই ইউনিট উদ্বোধন করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ুন কবির।

সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নিউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ওয়াহিদুর রহমানের নামে এর নাম রাখা হয়েছে ওয়াহিদুর রহমান মেমোরিয়াল স্ট্রোক ইউনিট।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘স্ট্রোক ইউনিটের মাধ্যমে চট্টগ্রামের রোগীরা অত্যাধুনিক চিকিৎসা পাবেন। ঢাকার নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের পর সরকারিভাবে এই প্রথম চট্টগ্রাম মেডিক্যালে এ ইউনিট সংযোজন হতে যাচ্ছে। এখানে বিশেষায়িত সেবা দেয়ার জন্য হাসপাতালের ওয়ান স্টপ জরুরি সেবাকেন্দ্রে একটি নতুন সিটিস্ক্যান মেশিন শিগগির সংযোজন করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিউরোলজি ওয়ার্ডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক সময় লিফটের পাশে বারান্দায় রোগী রাখতে হয়; এটি অমানবিক। আমরা চেষ্টা করছি, এই ওয়ার্ডে একটি বর্ধিত ওয়ার্ড খুঁজে বের করার।’

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. হাসানুজ্জামান বলেন, ‘এই স্ট্রোক ইউনিট গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো থ্রম্বোলাইটিক থেরাপির মাধ্যমে রোগীদের বিশেষায়িত চিকিৎসা দেয়া। এই থেরাপির মাধ্যমে স্ট্রোকের রোগীদের হাতে-পায়ে প্যারালাইসিস হওয়া রোধ করা যাবে। তবে স্ট্রোক হওয়ার সর্বোচ্চ ৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি থেরাপি দেয়া না যায় তাহলে এটি ফলপ্রসূ হবে না।’

নিউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল আলম খন্দকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারহানা মোছলেহউদ্দিন।

মোছলেহউদ্দিন তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন, এই ইউনিটের মাধ্যমে অত্যাধুনিক থ্রম্বোলাইসিস চিকিৎসার মাধ্যমে স্ট্রোকজনিত মৃত্যুহার ও শারীরিক অক্ষমতা অনেকাংশে কমে আসবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রয়াত চিকিৎসক ওয়াহিদুর রহমানের বাবা মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাহেনা আক্তার, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এম এ হাছান চৌধুরী, রেডিওলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক সুভাষ মজুমদার, নিউরো সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এস এম নোমান খালেদ চৌধুরী, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের প্রধান শওকত হোসেন।

আরও পড়ুন:
বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!
‘ফেসবুক’ নিয়ে ব্যস্ত নার্স, ২ শিশুর মৃত্যু
শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি
এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

শেয়ার করুন

রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় দেশে সিনোফার্মের ২ লাখ টিকা

রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় দেশে সিনোফার্মের ২ লাখ টিকা

২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৬ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৩ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৪ কোটি ৬২ লাখ ৭ হাজার ৬৮৮ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২ কোটি ৮ লাখ ৬২ হাজার ৬৫ জন।

আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে করোনাভাইরাসের দুই লাখ ডোজ টিকা দেশে এসেছে।

মঙ্গলবার বিকেলে চীন থেকে সিনোফার্মের ওই টিকা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম প্রধান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব ও সাবেক রেলওয়ে সচিব ফিরোজ সালাউদ্দিন বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে টিকাগুলো গ্রহণ করেন।

এ সময় তিনি উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেন। তার সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্মারা উপস্থিত ছিলেন। পরে টিকাগুলো সংরক্ষণের জন্য ওয়্যার হাউজে নিয়ে যাওয়া হয়।

দেশে চলতি বছরের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা দেশে শুরু হয় গণটিকাদান কার্যক্রম। এরপর ৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে দেশে অ্যাস্ট্রাজনেকা, ফাইজার, মর্ডানা এবং সিনোফার্মের টিকা দেয়া হচ্ছে।

২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ৬ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৩ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৪ কোটি ৬২ লাখ ৭ হাজার ৬৮৮ জন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ২ কোটি ৮ লাখ ৬২ হাজার ৬৫ জন।

২৭ জানুয়ারি থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেয়া ৬ কোটি ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৩ ডোজের মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১ কোটি ৩৭ লাখ ২৩ হাজার ১৩০ ডোজ, ফাইজারের ৬ লাখ ৬ হাজার ১৮৭ ডোজ, সিনোফার্মের ৪ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৩২৫ ডোজ এবং মডার্নার ৫২ লাখ ৪ হাজার ১১১ ডোজ টিকা রয়েছে।

আরও পড়ুন:
বাবার ‘উল্টো সাক্ষ্যে’ সন্তান হত্যা মামলার সব আসামি খালাস!
‘ফেসবুক’ নিয়ে ব্যস্ত নার্স, ২ শিশুর মৃত্যু
শরীরের বাইরে হৃৎপিণ্ড: বাঁচল না শিশুটি
এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

শেয়ার করুন