লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী

লিঙ্গ সমতা অর্জনে নারী নেতাদের নেটওয়ার্ক চান প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নারী নেতাদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ প্রস্তাব রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘দৃঢ়ভাবে অনুভব করছি, নারী নেতাদের নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারি, যা আমাদের শুধু একক বৈঠকের জন্য একত্রিত করবে না, বরং লিঙ্গ সমতা অর্জনে বাস্তব পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে একটি শক্তি হিসেবে কাজ করবে।’

বিশ্বে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে নারী নেতৃত্বের একটি নেটওয়ার্ক গঠনের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে এ নেটওয়ার্ক চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মঙ্গলবার নারী নেতাদের নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দৃঢ়ভাবে অনুভব করছি, নারী নেতাদের নিয়ে একটি নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করতে পারি, যা আমাদের শুধু একক বৈঠকের জন্য একত্রিত করবে না, বরং লিঙ্গ সমতা অর্জনে বাস্তব পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে একটি শক্তি হিসেবে কাজ করবে এবং এটি নারী ক্ষমতায়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।’

লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে বিশ্ব নেতাদের সামনে তিনটি প্রস্তাব পেশ করেন শেখ হাসিনা।

প্রথম প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লিঙ্গ সমতার বিষয়ে উপদেষ্টা বোর্ড প্রতিষ্ঠার জন্য আপনাদের প্রশংসা করি। এখন এটিকে স্থানীয়করণ করা দরকার। প্রতিটি পর্যায়ে, বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে লিঙ্গ চ্যাম্পিয়ন প্রয়োজন। এর মাধ্যমে আমরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারি।’

দ্বিতীয় প্রস্তাবে নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোকে পর্যাপ্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা দেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, এ ধরনের প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দরকার।

লিঙ্গ সমতার জন্য সাধারণ কর্মসূচিকে জোরদার করতে বিশ্ব নেতাদের একটি সম্মেলনের আহ্বান জানিয়ে তৃতীয় প্রস্তাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু আমরা নয়, সকল নেতার এতে যোগদান করা উচিত এবং লিঙ্গ সমতার অগ্রগতির জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন।’

করোনা মহামারিতে দেশে নারীদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী এবং তারা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনের সারিতে রয়েছে। তৈরি পোশাককর্মীদের ৮০ শতাংশের বেশি নারী। অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে নারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।’

সেই সঙ্গে করোনাকালে নারীদের পিছিয়ে পড়ার চিত্রটিও তুলে ধরেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘তাদের অনেকে চাকরি ও আয় হারিয়েছে। নারীসহ ২০ লাখ প্রবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছে।’

করোনা মহামারির কারণে বাংলাদেশ কষ্টার্জিত অগ্রগতির চাকা পেছনে ঘোরার ঝুঁকি রয়েছে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। মহামারির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণে তাগিদ দেন তিনি।

করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অর্থনীতি সচল রাখতে বাংলাদেশের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ২৮টি প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়িয়েছি। যেখানে বেশির ভাগ সুবিধাভোগী নারী ও শিশু।’

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ, নারীদের দক্ষতা উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ, নারী উদ্যোক্তাদের বিনা জামানতে ঋণ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ
জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ছয় প্রস্তাব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জনসংখ্যা ১৭ কোটি, জন্মনিবন্ধন সাড়ে ১৮ কোটি

জনসংখ্যা ১৭ কোটি, জন্মনিবন্ধন সাড়ে ১৮ কোটি

পরিকল্পিত অর্থনীতির জন্য সঠিক জনসংখ্যা হিসাব অপরিহার্য। ছবি: সাইফুল ইসলাম/নিউজবাংলা

নিবন্ধকের কার্যালয় বলছে, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কার্যক্রমের দুর্বলতা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। এ ছাড়া দ্বৈত নিবন্ধন, মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন বাতিল না করাসহ বিভিন্ন কারণে হিসাবে গড়মিল হয়।

দেশে এ পর্যন্ত জন্মনিবন্ধন হয়েছে সাড়ে ১৮ কোটির বেশি। আবার সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটির কম। এ হিসাবে দেশে জনসংখ্যার চেয়ে জন্মনিবন্ধনকারীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিকল্পিত অর্থনীতির জন্য সঠিক পরিসংখ্যান অপরিহার্য। সঠিক, সময়োপযোগী এবং মানসম্মত পরিসংখ্যান দেশের পরিকল্পনা প্রণয়ন, উন্নয়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণে বড় ভূমিকা রাখে।

জনশুমারি, কৃষিশুমারি, অর্থনৈতিক শুমারিসহ নানা জরিপে উঠে আসে বিভিন্ন পরিসংখ্যান। হালনাগাদ পরিসংখ্যানের জন্য সরকারের অন্যতম ভরসার জায়গা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। এসডিজির ২৩১টি সূচকের মধ্যে ১০৫টির উপাত্তেই ভরসা বিবিএস।

এ পরিস্থিতিতে বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিসংখ্যান দিবস।

বিবিএসের ‘বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্টাটিস্টিকস ২০২০’-এর তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের সর্বশেষ হিসাবে দেশে জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯১ লাখ ১ হাজার।

এদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন’ বলছে, গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট জন্মনিবন্ধনের সংখ্যা ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০। আর মৃত্যুনিবন্ধনের সংখ্যা মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার।

কেন এ পার্থক্য

নিবন্ধকের কার্যালয় বলছে, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কার্যক্রমের দুর্বলতা এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। এ ছাড়া দ্বৈত নিবন্ধন, মৃত ব্যক্তির জন্মনিবন্ধন বাতিল না করাসহ বিভিন্ন কারণে হিসাবে গড়মিল হয়। সংকট সমাধানে নতুন সফটওয়্যারে পুরোনো তথ্য স্থানান্তর হচ্ছে। এতে আবার অনেকেরই পূর্বের নিবন্ধন তথ্য হারিয়ে যাচ্ছে।

সাধারণত জন্মনিবন্ধনের সংখ্যা থেকে মৃত্যুনিবন্ধনের সংখ্যা বাদ দিলে দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা বের হওয়ার কথা। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই তথ্যের দুর্বলতায় এখন প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে না।

বর্তমানে জরুরি ১৮টি সেবা পেতে জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। দেশে ২০১০ সালে অনলাইনে জন্মনিবন্ধন শুরু হয়। জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন আইন অনুযায়ী জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করার বাধ্যবাধকতা আছে, কিন্তু এ হার খুবই কম।

দুর্বল সফটওয়্যার, দক্ষ লোকবলের অভাবসহ নানা সংকটে একই ব্যক্তির একাধিকবার নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হয়। এসব বিষয়ে অসংগতি দূর করতে পুনরায় অনলাইনে জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাদের নিবন্ধন অনলাইনে হয়নি, তাদের আবারও নিবন্ধন করতে হচ্ছে।

রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় বলছে, বর্তমানে দেশ ও দেশের বাইরে মিলিয়ে ৫ হাজারের বেশি জায়গা থেকে জন্মনিবন্ধন করা হচ্ছে। এর মধ্যে দেশের সব ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের পাশাপাশি বিদেশের বাংলাদেশি মিশনও রয়েছে।

এসব সংস্থার মধ্যে এতদিন কোনো সমন্বয় ছিল না। এক স্থানের তথ্য অন্য স্থানে যাচাই করার উপায় ছিল না। এ জন্য অনেক দ্বৈত নিবন্ধন রয়ে গেছে। কোনো সমস্যায় পড়লে বা কোনো তথ্য সংশোধন করতে হলেও অনেকে ঝামেলা এড়াতে নতুন করে নিবন্ধন করেছেন। আবার অনেক সময় অপারেটর নিজেও ঝামেলায় না গিয়ে গ্রাহককে নতুন করে নিবন্ধন করিয়ে দিয়েছেন। অনেকে জানেন না তাদের নামে কতটি নিবন্ধন রয়েছে।

অপর দিকে মৃত্যুনিবন্ধনের ক্ষেত্রে মানুষের কোনো আগ্রহ নেই। একান্ত প্রয়োজন না হলে সবাই তা এড়িয়ে যায়। একমাত্র ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারসংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়লেই কারও ওয়ারিশানরা মৃত্যুনিবন্ধন করিয়ে নিচ্ছেন। যেসব জায়গা থেকে নিবন্ধন করা হয় সেসব স্থান থেকেই এগুলোর দ্বৈততা পরিহার করতে হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে সেগুলো যাচাইয়ের তেমন সুযোগ নেই। কেবল কেউ নতুন করে নিবন্ধন করতে গেলেই তার ক্ষেত্রে দ্বৈততা যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।

‘রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন’-এর ডেপুটি রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. ওসমান ভূইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অনেকের একাধিক জন্ম নিবন্ধনও রয়েছে। এমনকি তিনটাও আছে কারও কারও। এতে প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে নিবন্ধন বেশি দেখাতে পারে।

‘তবে নতুন অনলাইন নিবন্ধন চালুর পর থেকে দ্বৈত নিবন্ধনের সুযোগ নেই বললেই চলে। একই ধরনের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে চাইলে সার্ভারে আগের নিবন্ধনের তথ্য ভেসে উঠছে।

‘জন্মনিবন্ধনের জন্য অনেক জায়গায় আটকে যেতে হচ্ছে। কিন্তু মৃত্যুনিবন্ধনের জন্য তা হচ্ছে না। এ জন্য মৃত্যুনিবন্ধন একেবারেই কম হচ্ছে। তাই সঠিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘দ্বৈত নিবন্ধন যাচাইয়ে আমরা পদক্ষেপ নিচ্ছি। যেসব প্রান্ত থেকে নিবন্ধন করা হয়, সেসব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ছাড়া একাধিক নিবন্ধনের তথ্য খুঁজে বের করার পদক্ষেপও নেয়া হচ্ছে। পরে যেকোনো একটি রেখে অন্যগুলো বাতিল করা হবে।’

জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এম নুরুল ইসলাম নিউজবাংলা বলেন, ‘পরিসংখ্যান বা তথ্যের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হচ্ছে বিবিএস। সঠিক পরিসংখ্যান অর্থনীতিসহ নানা ক্ষেত্রে দক্ষ পরিকল্পনাসহ নানা পদক্ষেপের জন্য একান্ত অপরিহার্য।

‘আমাদের কিছু ক্ষেত্রে তথ্যের অভাব রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। তবে কিছুটা পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কারণ একেক সংস্থার হিসাবের ধরন একেক রকম। তবে আগের চেয়ে আমাদের পরিসংখ্যান আরও উন্নত হয়েছে। আর জনসংখ্যার প্রকৃত তথ্য জানার একমাত্র উপায় জনশুমারি, কিন্তু এটি প্রতি দশ বছর পরপর করা হয়। অন্যান্য সময় এ তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই প্রাক্কলন করা হয়। এ জন্য তথ্যের কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে পরিসংখ্যান যত সঠিক হবে, পরিকল্পনা তত ফলপ্রসূ হবে।’

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ
জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ছয় প্রস্তাব

শেয়ার করুন

২৬ জেলায় বাড়তি সতর্কতা জারি

২৬ জেলায় বাড়তি সতর্কতা জারি

কুমিল্লার ঘটনার পর সড়কে টহল দিতে দেখা যায় বিজিবি সদস্যদের। ছবি: নিউজবাংলা

উত্তরাঞ্চলের একটি জেলার পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সামনে ঈদে মিল্লাদুন্নবী, লক্ষ্মীপূজা, বৌদ্ধদের আরেকটা উৎসব রয়েছে। সেগুলোতে যেন এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

দেশের ২৬ জেলার পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। কুমিল্লার ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন জেলায় যে সহিংসতা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সেজন্য নানা ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার পুলিশ সদরদপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং ঈদে মিল্লাদুন্নবী, সনাতন ধর্মাবলম্বীদে লক্ষ্মী পূজা ও বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমাকে সামনে রেখে এই বাড়তি সতর্কতার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের কর্মকর্তারা।

আগামী ১০ দিন এ বাড়তি সতর্কতা থাকবে। এ সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে ধাপে ধাপে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি কমিয়ে আনা হবে। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক মনে না হলে সতর্কতার মেয়াদ আরও বাড়বে।

থানা এলাকায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি, সাইবার মনিটরিং বাড়ানোর পাশাপাশি বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি ইউনিয়ন, গ্রামে সম্প্রীতির বার্তা পৌঁছে দিতে কথা বলা হয়েছে। এই কাজে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

যেসব জেলাতে সতর্ক করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রংপুর বিভাগের সাতটি জেলা রয়েছে। এগুলো হলো পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী। রাজশাহী বিভাগের রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনা। খুলনা বিভাগের জেলা রয়েছে পাঁচটি। এগুলো হলো: বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুরা, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ।

যে জেলা থেকে ঝামেলার শুরু, সেই কুমিল্লা ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী ও কক্সবাজার। ঢাকা বিভাগে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের একটি জেলার পুলিশ সুপার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সামনে ঈদে মিল্লাদুন্নবী, লক্ষ্মীপূজা, বৌদ্ধদের আরেকটা উৎসব রয়েছে। সেগুলোতে যেন এ রকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য বাড়তি সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।’

কুমিল্লার ঘটনার পর থেকেই সব ইউনিটকে পুলিশ সদরদপ্তর থেকে নানা নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে বলে জানান, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মুনতাসিরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে শুরু থেকেই আমাদের নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সভা করার জন্য, নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়, এমন কিছু যেন না ঘটে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। অনলাইনে মনিটরিং বাড়াতে বলা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রত্যেক থানায় টহল বাড়ানো হয়েছে। বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কথা বলব।

‘এর আগে আমরা বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বাল্য বিবাহ, নারী নির্যাতন বন্ধে কথা বলতাম। এখন এই বিষয়টা সামনে রাখা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আজকে জেলা প্রশাসন মিলে ধর্মীয় নেতা, ইমামদের ডেকেছিলাম। বলেছি, তারা যেন প্রতি ওয়াক্ত নামজের পরে বা আগে, জুমার নামাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলে।

‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ হচ্ছে ইসলাম। এ বিষয়ে হাদিসগুলো মানুষকে বলার অনুরোধ করা হয়েছে।’

নতুন কোনো নির্দেশনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনার পরপরই আমরা অনেকগুলো নির্দেশনা পেয়েছি। সে অনুযায়ী আমাদের কাজ চলছে। সেজন্য আমাদের থানার পেট্রোল সজাগ আছে, গোয়েন্দারা কাজ করছে।’

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে পূজামণ্ডপ কেন্দ্রিক অপ্রীতিকর ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭১টি মামলা হয়েছে। আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে। এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সারা দেশে ইতোমধ্যে ৪৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর।

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরআন পাওয়ার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্দির ও বাড়িঘর ভাঙচুর এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় ৭১টি মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার।

মঙ্গলবার র‍্যাব সদরদপ্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আজ পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপে কোনো কিছু ঘটেনি। কিন্তু এবার দেখছি অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। আসলে ঘটানো হয়েছে। কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে কিছু উগ্র মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করেছে। সেখানে পুলিশকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হয়েছে। সেখানে চার জন মারা গেছেন। আজ আরেকজন মেডিক্যালে মারা গেছেন।

‘কেন এই হত্যাকাণ্ড, কেন এই মৃত্যু? কার উদ্দেশ্য সফল হওয়ার জন্য এই মৃত্যু? আমরা দেখলাম এক অল্প বয়সী ছেলে ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়েছে। সেটা কেন্দ্র করে সহিংসতা। আমাদের পুলিশবাহিনী তার বাড়ি ঘর রক্ষায় সর্বত চেষ্টা করেছে। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু ইতোমধ্যে তার পাশের গ্রামে অগ্নিসংযোগ লুটপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। এটার আমরা নিন্দা জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ
জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ছয় প্রস্তাব

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের ১০০ বান্ডিল টিন, ৩ লাখ টাকা

পীরগঞ্জে দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের ১০০ বান্ডিল টিন, ৩ লাখ টাকা

পীরগঞ্জে হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রণালয় জানায়, বরাদ্দ প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি মিনিকেট চাল, ১ কেজি দেশি মসুরের ডাল, ১ কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি, ১০০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া এবং ১০০ গ্রাম ধনিয়া গুড়াসহ আট ধরনের পণ্য দেয়া হয়।

রংপুরের পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ১০০ বান্ডিল ঢেউটিন ও ঘর তৈরির জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয় হয়, রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য ১০০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং ঘর নির্মাণের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০০ প্যাকেট শুকনো ও অন্য খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, বরাদ্দ প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি মিনিকেট চাল, ১ কেজি দেশি মসুরের ডাল, ১ কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি, ১০০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া এবং ১০০ গ্রাম ধনিয়া গুড়াসহ আট ধরনের পণ্য দেয়া হয়।

এ খাবার একটি চার সদস্যের পরিবার প্রায় এক সপ্তাহ খেতে পারবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া ঢেউটিন, টাকা এবং অন্য খাবার সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সঙ্গে পরামর্শ করে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ
জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ছয় প্রস্তাব

শেয়ার করুন

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি ১৪ দলের

ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি ১৪ দলের

সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর ১৪ দলের পক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। ছবি: নিউজবাংলা

১৪ দলের পক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন বজায় থাকে এবং এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সব পূজামণ্ডপ বা বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে সেসব পুনর্বাসনের দাবি ১৪ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানান জোটের প্রতিনিধিরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর ১৪-দলীয় জোটের পক্ষে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন বজায় থাকে এবং এ ধরনের ঘটনা যেন আর না হয় তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় যে সব পূজামণ্ডপ বা বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে সেসব পুনর্বাসনের দাবি ১৪ দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।’

‘পীরগঞ্জে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরগুলো নতুনভাবে গড়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন। আমরা বলেছি, সারা দেশে যে ভাঙচুর হয়েছে সেখানেও ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে। এটাই আমরা দাবি করেছি।’

বৈঠকে কি নিয়ে আলোচনা হলো জানতে চাইলে মেনন বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে তাতে আমাদের অবজারভেশনগুলো জানিয়েছি। আমরা যেটা বলেছি, আমাদের ১৪ দলের মতামত হচ্ছে এ ঘটনাগুলো একদমই পূর্বপরিকল্পিত। ৫০ বছরের বাংলাদেশে মন্দির ভাঙার ঘটনা ঘটেছে বিভিন্ন সময়ে কিন্তু দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা আমাদের জন্য খুব অস্বস্তিকর ছিল।

‘এখানে আমরা বলেছি, এর পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন যে জড়িতদের শিগগিরই খুঁজে বের করে জনসম্মুখে হাজির করা হবে। তিনিও একমত যে এগুলো পূর্বপরিকল্পিত।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমরা বলেছি, প্রশাসনিক বা গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল কিনা সেটা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা চৌমুহনির ঘটনা বলেছি, রংপুরের ঘটনা বলেছি, বিভিন্ন জেলার কথা বলেছি। সেখানে যদি কোনো শৈথিল্য থাকে…. কারণ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বর্ডার গার্ড নিয়োগ করা হল কিন্তু তারপরেই আমরা দেখলাম বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ কেন আনসারও নেই, এমন ঘটনাও দেখেছি আমরা।’

‘এই ধরনের হামলা ফের হয়েছে কারণ রামু থেকে শুরু করে সহিংসতার মামলাগুলোর কোনটির চার্জশিট হয়েছে দুবছর পরে, কোনটির এখনও হয়নি। এখন এই যে বিচার না হওয়ায় এরা সাহস পেয়ে গেছে। এ বিষয়টি আমরা বলেছি।’

এরআগে, দুপুরে আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফের নেতৃত্বে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন ১৪ দলের একটি প্রতিনিধি দল। এতে আরও ছিলেন বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতারসহ আরও অনেকে।

বুধবার কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘির উত্তর পাড়ের অস্থায়ী পূজামণ্ডপে কোরআন শরিফ পাওয়ার অভিযোগ তোলার পর ওই দিন সকাল থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির বিপুলসংখ্যক সদস্য। তবে আলোচিত মণ্ডপের পূজার আয়োজকরা বলছেন, সেখানে পবিত্র কোরআন শরিফ কী করে এলো, সে বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।

কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে নোয়াখালীর চৌমুহনী, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মণ্ডপ, মন্দির ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এর মধ্যে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের বাটের হাটে হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকটি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। হামলাকারীরা অন্তত ২৩টি বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, এসব ঘটনায় সোমবার পর্যন্ত ৭১টি মামলা হয়েছে। এতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪৫০ জনকে। আরও কিছু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ
জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ছয় প্রস্তাব

শেয়ার করুন

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়: প্রধানমন্ত্রী

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

‘বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ তার ধর্ম পালন করবে স্বাধীনভাবে। আমাদের সংবিধানেও সে নির্দেশনা দেয়া আছে। আমাদের ইসলাম ধর্মও সেই কথা বলে।’

অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ধর্ম নিয়ে যাতে কেউ বাড়াবাড়ি না করে সেটা নিশ্চিত করা তার সরকারের লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন সরকার প্রধান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার আয়োজিত আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। তাতে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন দলীয় সভাপতি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ তার ধর্ম পালন করবে স্বাধীনভাবে। আমাদের সংবিধানেও সে নির্দেশনা দেয়া আছে। আমাদের ইসলাম ধর্মেও সেই কথা বলে।’

মহানবী (স.) উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নবী করিম (সা.) বলেছেন ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করো না। কাজেই সে বাড়াবাড়ি যেন কেউ না করে, সেটাও আমরা চাই এবং এদেশে সব মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’

ভৌগোলিক সীমারেখায় বাংলাদেশ ছোটো হলেও, জনসংখ্যার দিক থেকে অনেক বড় দেশ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই প্রত্যেকটি মানুষের জীবন যেন সুন্দর হয়, উন্নত হয়। প্রত্যেকটা মানুষ যেন অন্ন, বস্ত্র, পায়, উন্নত জীবন পায়। যেটা জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল, সেটা যেন আমরা পূরণ করতে পারি।’

শিশুর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শিশুপুত্র শেখ রাসেলের পরিণতি যেন দেশের কোনো শিশুকে বরণ করতে না হয়, সেজন্য এক নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকারও করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ বিশ্বকে পারব কিনা আমি জানি না, কিন্তু আমার দেশের মানুষের জন্য আমি একটা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে যেতে চাই, যেন আমার রাসেলের মতো আর কারও জীবন হারাতে না হয়।

‘একটা শিশু, তার যে আকাঙ্ক্ষা পূরণ হলো না। অচিরেই তাকে জীবন দিতে হল, রক্ত দিতে হলো। এই ঘটনা যেন বাংলাদেশে আর ঘটে সেটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা, সেটাই আমরা চাই।

‘একটা শিশু তার যে মেধা, তার যে জ্ঞান, তার যে বুদ্ধি সেটা যেন বিকশিত হতে পারে, যাতে বাংলাদেশকে তারা যেন সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, সেই চেষ্টাই আমি করে যাচ্ছি। কারণ এত রক্তক্ষয়, এতকিছু বাংলাদেশে ঘটে গেছে আর যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।’

বাবার আদর্শ ধরেই কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানালেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। শিশুরা যেন নির্মমতার শিকার না হয়, সেটাই তার সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশের শিশুরা যেন আর এই নির্মমতার শিকার না হয়। কিন্তু এখনও আমরা দেখি সেই নির্মমতা। এখনও মাঝে মাঝে দেখি। পরবর্তীতেও আমরা দেখেছি। কিন্তু এটা যেন না হয়। কারণ দেখেছি, আগুন দিয়ে পুড়িয়ে কীভাবে হত্যা করা হচ্ছে জ্যান্ত মানুষদের, শিশুদের পর্যন্ত।

‘খালেদা জিয়া বিরোধী দলে থাকতেই তো অগ্নিসন্ত্রাস করে চলন্ত বাসে আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে মেরেছে, বাপ দেখেছে নিজের চোখের সামনে সন্তান আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে। তেমন নিষ্ঠুর ঘটনা তো বাংলাদেশে ঘটেছে। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের।’

মানবাধিকার নিয়ে যারা প্রশ্ন তোলেন তাদের উদ্দেশ করেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটুকুই চাইব যে এখানে মানবতার প্রশ্ন যারা তোলে, তারা যেন এই ঘটনাগুলো ভালোভাবে দেখে যে, বাংলাদেশে কী ঘটত? আমরা সরকারে আসার পর থেকে আমাদের প্রচেষ্টা কোনো শিশু রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে না, টোকাই থাকবে না। তাদের যেন একটা ঠিকানা থাকে। তারা যেন একটু ভালোভাবে বসবাস করতে পারে।’

১৫ আগস্ট আরেক কারবালা

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার রাতকে ‘কারবালার’ সঙ্গে তুলনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘কারবালাতেও কিন্তু নারী শিশুকে হত্যা করা হয়নি। ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা…যাদের জন্য আমার বাবা সারাজীবন সংগ্রাম করলেন, তাদের হাতেই তাকে জীবন দিতে হল। জীবন দিতে হলো, পরিবারের সকল সদস্যকে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারাবিশ্বে অনেকেই কথা তোলে, মানবাধিকারের কথা তোলে, আমাকে অনেক সময় মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন করে। তখন আমার মনে হয়, আমি জিজ্ঞেস করি, তাদের কী অধিকার আছে আমাকে এই প্রশ্ন করার? যখন আমার বাবা-মা সবাইকে হত্যা করার পর আমি বিচার চাইতে পারিনি। আমি যখন বাংলাদেশে আসলাম, আমি কোনো মামলা করতে পারব না। আমি বিচার চাইতে পারব না। কারণ ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স।

‘খুনিদের বিচারের হাত থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে। এবং তাদেরকে দূতাবাসে বিভিন্ন জায়গায় চাকরি দেয়া হয়েছে। তাদেরকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেয়া হয়েছে। জনগণের ভোট চুরি করে পার্লামেন্ট সদস্য করা হয়েছে। তাদেরকে নানাভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে এই দেশে।’

৫ বছরে ১৯ ক্যু

সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের সময়ে কীভাবে সেনাবাহিনী সুশৃঙ্খল ছিল- সেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘৭৫ এর পর বাংলাদেশে ১৯টা ক্যু হয়েছে। আমি জানি বিএনপির অনেক নেতা, বা বিএনপিতে আগে ছিল তারা অনেকে দাবি করে জিয়াউর রহমানের হাতে সেনাবাহিনী খুব নাকি ডিসিপ্লিন ছিল। শক্তিশালী হয়েছে। সেখানে আমার প্রশ্ন, ১৯ ক্যু যখন হয় একটা দেশে, অর্থ্যাৎ ৭৫-৮১ এর মধ্যেই ১৯টা ক্যু হয়েছিল। তাহলে সেই দেশে সেনাবাহিনী ডিসিপ্লিন থাকে শক্তিশালী থাকে এই দাবি করে কোন মুখে। আর এ কথা বলেই বা কোন মুখে?’

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ
জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ছয় প্রস্তাব

শেয়ার করুন

বৃষ্টি আরও তিন দিন, কমবে তাপমাত্রা

বৃষ্টি আরও তিন দিন, কমবে তাপমাত্রা

গত কয়েকদিন তীব্র গরমের পর বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে। রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে থেকে ছবিটি তুলেছেন সাইফুল ইসলাম।

থেমে থেমে বৃষ্টি নাগরিক জীবনে স্বস্তি বয়ে আনলেও তা বেশি মাত্রায় হলে অস্বস্তির কারণ হতে পারে কৃষকদের জন্য। এই সময়ে বৃষ্টি বেশি হলে শীতকালীন আগাম শাক-সবজি আবাদে বাড়বে অপেক্ষা।

বৃষ্টি হয়ে ঝরতে শুরু করেছে শরতের মেঘের ভেলা। গরমে আরাম হয়ে দেখা দিয়েছে এই বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশজুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টি হবে আরও তিনদিন। ধীরে ধীরে কমে আসবে গরমের আধিক্য, শুরু হবে হিমেল হাওয়া।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আগেই জানানো হয়েছিল ১৮ তারিখ থেকে ২১ তারিখ পর্যন্ত সারা দেশে থেমে থেমে বৃষ্টি হবে। তাই হচ্ছে।

মঙ্গলবার ভোর থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ২৭ মিলিমিটার। এই সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে সাতক্ষীরায়, ৯১ মিলিমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস নিউজবাংলাকে বলেন, এখন যে বৃষ্টি হচ্ছে তা ২১ তারিখ পর্যন্ত থাকার সম্ভাবনা আছে। এখন বৃষ্টির কারণ হচ্ছে পূবালী ও পশ্চিমা বায়ুর সংযোগ।

থেমে থেমে বৃষ্টি নাগরিক জীবনে স্বস্তি বয়ে আনলেও তা বেশি মাত্রায় হলে অস্বস্তির কারণ হতে পারে কৃষকদের জন্য। এই সময়ে বৃষ্টি বেশি হলে শীতকালীন আগাম শাক-সবজি আবাদে বাড়বে অপেক্ষা।

কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি উন্নতকরণ প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অ্যান্ড ইভেলুয়েশন অফিসার ফারহানা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই বৃষ্টি খুব বড় প্রভাব পড়বে না শীতকালীন আগাম ফলনে। তবে আমাদেরকে ব্যবস্থা নিয়ে রাখতে হবে। এখনকার বৃষ্টিটা কিন্তু সারা দেশেই হচ্ছে না। কিছু কিছু অঞ্চলে হচ্ছে। তবে বেশি বৃষ্টি হলে সমস্যা হবে।’

কয়েক দিন ধরে উপকূলীয় অঞ্চলে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।

এর ব্যাখ্যায় আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস বলেন, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তীব্র বৃষ্টিপাতও হতে পারে।

তবে ভারতের তেলেঙ্গনাতে যে লঘুচাপ রয়েছে সেটির প্রভাব বাংলাদেশে পড়বে না বলে জানান এই আবহাওয়াবিদ। বললেন, সেটি বর্তমানে মধ্যপ্রদেশে সরে যাচ্ছে।

শীত কবে আসছে, এমন প্রশ্নে রুহুল কুদ্দুস বলেন, ‘এই বৃষ্টি শেষে একটু হিমেল ভাব আসবে। উত্তরাঞ্চলে তখন রাতে একটু ঠান্ডা লাগবে, সঙ্গে হালকা কুয়াশাও থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের তেলেঙ্গানা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বিরাজমান লঘুচাপটি কিছুটা সরে গিয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ এলাকায় অবস্থান করছে। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে বিদায় নিয়েছে। মৌসুমি বায়ু দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে তা মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ
জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ছয় প্রস্তাব

শেয়ার করুন

‘অপরাধী শনাক্তে এক ধাপ এগিয়ে র‍্যাব’

‘অপরাধী শনাক্তে এক ধাপ এগিয়ে র‍্যাব’

র‍্যাব সদর দপ্তরে ‘র‍্যাবের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন’ শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ছবি: নিউজবাংলা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ও সার্বিক ব্যবহারে অপরাধীদের শনাক্ত করতে র‍্যাব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারে র‍্যাব আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।’ র‍্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তথ্য দিতে সেই ভয় পায় যে অপরাধী। সাধারণ মানুষ কখনও তথ্য দিতে ভয় পায় না। অপরাধীরা যদি তথ্য দেয় তাহলে হয়তো ধরা পড়ে যাবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর জালে আটকে যাবে। সেজন্য তথ্য দিতে ভয় পায়।’

ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) ‘ডাটা হাব’ ও ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে র‍্যাব। এছাড়া ডিজিটাল অফিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ও প্রাইভেট ক্লাউড তৈরি করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। এর মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে র‍্যাবের সক্ষমতা বেড়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে র‍্যাব সদর দপ্তরে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ও সার্বিক ব্যবহারে র‍্যাব ফোর্সেসের সকল ব্যাটালিয়ন ও ক্যাম্প পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষে ‘র‍্যাবের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন’ শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বরাষ্টমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এর উদ্বোধন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ও সার্বিক ব্যবহারে র‍্যাব ফোর্সেসের সকল ব্যাটালিয়ন ও ক্যাম্প পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষে ‘র‍্যাবের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন’ শীর্ষক কার্যক্রমের আজ উদ্ভোধন হলো। অপরাধীদের শনাক্ত করতে র‍্যাব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। আমি প্রত্যাশা করবো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারে র‍্যাব আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। র‍্যাবের দাপ্তরিক কাজ, প্রাইভেট কাজ, গুরুত্বপূর্ণ নথি, তথ্য সংরক্ষণে সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।’

কীভাবে এই প্রযুক্তি কাজ করবে সে প্রসঙ্গে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনন্স) কর্নেল কে এম আজাদ বলেন, যে দেশ প্রযুক্তিতে যত উন্নত, অপরাধ দমনে সেই দেশ তত এগিয়েছে। র‍্যাব সদরদপ্তর ও ব্যাটেলিয়নে যুক্ত ‘অত্যাধুনিক প্রযুক্তি’র মাধ্যমে যেকোন ধরনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অতীতের চেয়ে আরও সক্ষমতার সঙ্গে অপরাধী শনাক্ত ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং যেকোন বিষয়ে র‍্যাব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।

কর্নেল আজাদ বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে র‍্যাবের উদ্ভাবিত ‘জেল ডাটাবেজ’, ‘ক্রিমিনাল ডাটাবেজ’... ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সফলভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ দমন করা এবং অপরাধীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে এসব প্রযুক্তির প্লাটফর্ম হচ্ছে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার বা এনটিএমসি। বর্তমানে বিশ্বে যতধরনের উন্নত প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতি আছে তার সবই এখানে আছে। এই এনটিএমসি থেকে বিভিন্ন অভিযানিক এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন অতীতের চেয়ে অনেক সহজে অপরাধ দমন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হচ্ছে।’

কর্নেল আজাদ বলেন, র‍্যাব সদর দপ্তর এনটিএমসি থেকে ডাটা হাবসহ অনেক সহযোগিতা পাচ্ছে। এই সহযোগিতা শুধু সদর দপ্তর না, এখন থেকে র‍্যাবের ১৫টি ব্যাটেলিয়ন এই সুবিধা পাবে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় থাকা ক্যাম্পগুলোও ব্যাটেলিয়ন থেকে সুবিধা পাবে। র‍্যাব অতীতের চেয়ে আরও ভালোভাবে সক্ষমতার সঙ্গে অপরাধী শনাক্ত ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং যেকোন বিষয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।’

র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘তথ্য দিতে সেই ভয় পায় যে অপরাধী। সাধারণ মানুষ কখনও তথ্য দিতে ভয় পায় না। অপরাধীরা যদি তথ্য দেয় তাহলে হয়তো ধরা পড়ে যাবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর জালে আটকে যাবে। সেজন্য তথ্য দিতে ভয় পায়।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখন সার্চ দিলেই কোনো অপরাধ সম্পর্কে ও অপরাধী বা আসামী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মিলবে। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার সুফল এখন দেশের মানুষ ভোগ করছে। র‌্যাব এর উৎকর্ষতা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।

র‌্যাবের ডিজি বলেন, আমরা আজকে যে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কথা বলছি এ প্রযুক্তির মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যে তথ্য এক জায়গাতে সংরক্ষণ করবো। আমরা এই তথ্যের সহায়তা কিন্তু এনটিএমসি থেকে আগেও পেয়েছি। আমাদের প্রযুক্তিগত সুবিধায় অপরাধ ও অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবো। যে তথ্যের জন্য র‌্যাব হেড কোয়ার্টারে বা কোন ব্যাটালিয়নে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই। অথবা এমটিএমসি’তে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই। সার্চ দিলেই তথ্য পেয়ে যাবে র‌্যাবের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোম্পানি (সিপিসি) কর্মকর্তারাও। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অপারেশনাল কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে পারব। এর জন্য আমরা আমাদের নিজস্ব একটি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ও সার্বিক ব্যবহারে র‍্যাব ফোর্সেসের সকল ব্যাটালিয়ন ও ক্যাম্প পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষে ‘র‍্যাবের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন’ শীর্ষক কার্যক্রমের আজ উদ্ভোধন হলো। অপরাধীদের শনাক্ত করতে র‌্যাব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। আমি প্রত্যাশা করবো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারে র‌্যাব আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। র‌্যাব দাপ্তরিক কাজ, প্রাইভেট কাজ, গুরুত্বপূর্ণ নথি, তথ্য সংরক্ষণে সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী, এনটিএমসি’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি অপারেশন্স) কর্নেল একে আজাদ।

আরও পড়ুন:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী
এসডিজি অগ্রগতি পদক পেল বাংলাদেশ
এসডিজি অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুর নামে বৃক্ষরোপণ, বেঞ্চ উৎসর্গ
জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ছয় প্রস্তাব

শেয়ার করুন