ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে এবার আসছে আইন

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে এবার আসছে আইন

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে অর্থ আত্মসাত মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। ফাইল ছবি

ই-কমার্স নিয়ন্ত্রণে একটি কর্তৃপক্ষ তৈরি, সেটির এখতিয়ার নির্ধারণ ও অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানের শাস্তি ঠিক করতে আইন দরকার বলে মনে করে সরকার ও খাত সংশ্লিষ্টরা। বুধবার এ ব্যাপারে সরকারের চার মন্ত্রী বসছেন বৈঠকে।

পরিচালন নির্দেশিকা জারির পর সরকার এবার ই-কমার্স খাতের জন্য নতুন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণহীন এ খাতে কঠোর শৃঙ্খলা আনতে চায় সরকার।

আইনটির নাম হতে পারে ‘ডিজিটাল ই-কমার্স অ্যাক্ট’। এ ব্যাপারে যৌথ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার এক জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন চার মন্ত্রী।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অন্যদের মধ্যে অংশ নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহ্‌মুদ। এ ছাড়া বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বিকেল ৩টায় এ বৈঠক বসবে।

বর্তমানে ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠু বিকাশে ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০১৮ নামে শুধু একটি নীতিমালা রয়েছে। খাত সংশ্লিষ্টদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর তা হালনাগাদ করতে ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০২১ এর খসড়া তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া সাময়িক সমস্যা মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে ডিজিটাল ই-কমার্স খাতের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) জারি হয়েছে, যা সময় সময় পরিবর্তন ও সংশোধনযোগ্য।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এতে ব্যবসায় কিছুটা শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হলেও যারা প্রতারণা করবে তাদের কী শাস্তি দেয়া হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো দিক-নির্দেশনা নেই। এ ছাড়া ই-কমার্স খাতের কর্তৃপক্ষ কে হবে, কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা বা এখতিয়ার কতটুকু থাকবে, নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষণিক কী কী ব্যবস্থা নিতে পারবে– এগুলো কোথাও বলা নেই।

দেশে ডিজিটাল ই-কমার্স খাতের যত সম্প্রসারণ ঘটছে, তা নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতাও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে প্রতারণা। যেখানে একের পর এক আসছে বিতর্কিত মডেলের ব্যবসা। দেয়া হচ্ছে নিয়মবহির্ভূত ডিসকাউন্ট অফার।

এর বিপরীতে তদারকি জোরদার না হওয়া এবং আইনি কাঠামোর দুর্বলতার সুযোগেও দেশে কিছু পঞ্জি মডেলের অসৎ উদ্যোক্তার জন্ম হয়েছে। তারা গ্রাহকের কাছে ব্যাপক ডিসকাউন্ট অফারের টোপ ফেলছে। ক্রেতারা তা লুফে নিতে দলে দলে কয়েক হাজার থেকে কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত লেনদেন করছেন। ওই টাকা গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে আগাম।

কিন্তু পঞ্জি উদ্যোক্তা আগাম টাকা নিয়েও সময়মতো পণ্য সরবরাহ করছে না। একইভাবে ঠকানো হচ্ছে পঞ্জি উদ্যোক্তার ব্যবসায় পণ্য দিয়ে সহায়তাকারী মার্চেন্ট বা সেলারদেরও।

ব্যাপক ডিসকাউন্টের ফাঁদে এখন পর্যন্ত দেশের প্রায় ৬ লাখ লোকের ১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা খোয়া গেছে, যেখানে গ্রাহক বা ক্রেতা রয়েছেন তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ। আর সরবরাহকারী রয়েছেন দুই থেকে আড়াই লাখ।

মূলত ১০-১২টি প্রতিষ্ঠান এ ধরনের প্রতারণায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলেও একই ধরনের অভিযোগ অন্যান্য ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও উঠতে শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খাতটির ওপর গ্রাহকের হারানো আস্থা ফেরাতে আইন তৈরির সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে।

দেশের অনেক খাত ও ব্যবসার জন্য আলাদা আলাদা নীতিমালা, বিধিবিধান ও আইন রয়েছে। ব্যতিক্রম শুধু ডিজিটাল ই-কমার্সের ক্ষেত্রে।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘ক্রমর্ধমান ডিজিটাল ই-কমার্স খাতে সাম্প্রতিক সময়ে বহু অভিযোগ উঠছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও এখন স্পষ্ট। এ ধরনের প্রবণতা ঠেকাতে একটি আলাদা আইন হওয়া দরকার। সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় করণীয় ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।’

ডিজিটাল ই-কমার্স সেল প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ই-কমার্স খাতের সুষ্ঠ বিকাশে প্রণীত নীতিমালা যুগোপযোগী করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ইতিমধ্যে ডিজিটাল ই-কমার্স খাত পরিচালন নির্দেশিকা (এসওপি) জারি হয়েছে। তবে ক্রমবর্ধমান খাতটির অবাধ বিকাশ ও সম্ভাবনার সুফল পেতে হয়ত আমাদেরকে আইন তৈরির দিকেও যেতে হবে।’

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন
সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট
ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট
ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার
ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইভ্যালির মামলা তদন্ত করবে না দুদক

ইভ্যালির মামলা তদন্ত করবে না দুদক

দুদক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ই-কমার্স বা ইভ্যালির দুর্নীতি দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধ নয়। শুধু মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি দেখে আমরা এটি আমলে নিয়েছিলাম।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে সরে আসছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সংস্থাটির চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন আব্দুল্লাহ মঙ্গলবার অফিস ছাড়ার সময় সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স বা ইভ্যালির দুর্নীতি দুদকের শিডিউলভুক্ত অপরাধ নয়। শুধু মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়টি দেখে আমরা এটি আমলে নিয়েছিলাম।’

গত জুলাইতে ইভ্যালির অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছিল সংস্থাটি।

ইভ্যালির বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ ছিল অনেক দিন ধরে। এসবের মধ্যেই গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

এরপর গুলশান থানায় করা অর্থ আত্মসাতের মামলায় তাদের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এই মামলায় রিমান্ড শেষে ধানমন্ডি থানায় করা অর্থ আত্মসাতের অপর এক মামলায় রাসেলকে ফের রিমান্ডে পাঠানো হয়। আসামি দুজনই বর্তমানে কারাগারে।

এ ছাড়া গত ১৬ অক্টোবর ইভ্যালির ওয়েবসাইট ও অ্যাপ বন্ধ করে দেয়া হয়। গঠন করা হয় একটি পরিচালনা পরিষদ। সরকারের সাবেক সচিব ও বর্তমানসহ চার কর্মকর্তাকে পরিষদে রাখা হয়েছে।

হাইকোর্টের গঠন করে দেয়া বিশেষ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন
সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট
ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট
ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার
ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

লিটারে ৭ টাকা বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম

লিটারে ৭ টাকা বাড়ল ভোজ্যতেলের দাম

নতুন দাম অনুযায়ী, এক লিটার খোলা সয়াবিন বাজারে বিক্রি হবে ১৩৬ টাকা। অনুরূপভাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হবে ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম পড়বে ৭৬০ টাকা।  এ ছাড়া প্রতি লিটার পামওয়েল বিক্রি হবে ১১৮ টাকায়। 

খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের সয়াবিনের দাম লিটারে ৭ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক বিজ্ঞপ্তিতে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, এক লিটার খোলা সয়াবিন বাজারে বিক্রি হবে ১৩৬ টাকা। অনুরূপভাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হবে ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম পড়বে ৭৬০ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি লিটার পামওয়েল বিক্রি হবে ১১৮ টাকায়।

এর আগে রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ও চিনি ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে প্রাথমিকভাবে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তৈরি করা হয়। তবে গত ১৪ অক্টোবর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ১০ শতাংশ শুল্ক কমানোর ঘোষণায় চিনির দাম বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

গত ৬ সেপ্টেম্বর লিটারে তেলের দাম বাড়ানো হয় ৪ টাকা। ওই দাম বাজারে কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিনের দাম নির্ধারিত ছিল লিটারপ্রতি ১৫৩ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম ৭২৮ টাকা। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছিল ১২৯ টাকায়।

বৈঠকের পর দাম বাড়ানোর সুপারিশে সম্মতি দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন
সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট
ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট
ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার
ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ

ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, সরকারকে আইনি নোটিশ

নোটিশে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে মার্কিন ডলারের দাম অনৈতিক ও অন্যায়মূলকভাবে বাড়ানো হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মান অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রার অবমূল্যায়নের দরুণ বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিতে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে এবং আমদানিকৃত খাদ্য দ্রব্য ও জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং অনলাইনে ডলার কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বরাবর মঙ্গলবার নোটিশটি পাঠান সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

এতে বলা হয়, বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য মূলত মার্কিন মুদ্রা ডলার ব্যবস্থায় করা হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ডলারের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ২০০৬ সালে ১ ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ৭০ টাকা। অপরদিকে ২০২১ সালের অক্টোবরে ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৫.৬০ টাকা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ৮৮ টাকা দরে ডলার বিক্রি হচ্ছে।

নোটিশে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে মার্কিন ডলারের দাম অনৈতিক ও অন্যায়মূলকভাবে বাড়ানো হচ্ছে এবং বাংলাদেশের মুদ্রা টাকার মান অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রার অবমূল্যায়নের দরুণ বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় দ্রব্য আমদানিতে বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে এবং আমদানিকৃত খাদ্য দ্রব্য ও জিনিসপত্রের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে।

ফলে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ব্যাপক সমস্যায় পড়েছে; দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষ তাদের প্রযোজনীয় খাদ্য দ্রব্য কিনতে পারছে না।

আইনি নোটিশে বলা হয়, মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও টাকার অবমূল্যায়ন রোধে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যর্থতার জন্য দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অপরদিকে বাংলাদেশ ফরেন একচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স ব্যাতীত বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এরপরও বাংলাদেশে অনলাইনে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে অধিক মূল্যে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে।

নোটিশে নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন রোধ এবং অনলাইনে ডলার কেনা-বেচা নিয়ন্ত্রণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন
সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট
ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট
ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার
ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

নজরদারিতে আসছে ই-কমার্স

নজরদারিতে আসছে ই-কমার্স

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ফাইল ছবি

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘ই-কমার্স তো বন্ধ করা যাবে না। সুতরাং তাদের সবাইকে রেজিস্ট্রেশন ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কীভাবে মনিটর করা যাবে, সে ব্যবস্থা আমরা করে ফেলেছি। আশা করি, দেড় বা দুয়েকের মধ্যে একটা ভালো কিছু হবে।’

সরকার ই-কমার্স বন্ধ করতে চায় না। তবে এ পদ্ধতিতে ব্যবসা করতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের আওতায় আসতে হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

পাশাপাশি ই-কমার্সভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নজরদারির আওতায় আনার বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক পরবর্তী এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘ই-কমার্স তো বন্ধ করা যাবে না। সুতরাং তাদের সবাইকে রেজিস্ট্রেশন ও মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। কীভাবে মনিটর করা যাবে, সে ব্যবস্থা আমরা করে ফেলেছি। আশা করি, দেড় বা দুয়েকের মধ্যে একটা ভালো কিছু হবে।’

ই-কমার্স নিয়ে মন্ত্রিসভায় আলোচনা হয়েছে বলেও জানান সচিব। তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে গত কয়েকদিন আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক সভায় পাঁচ সদস্যের কমিটি করে দেয়া হয়েছে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সচিব বলেন, ‘এক মাস সময় দেয়া হয়েছিল। আমার মনে হয় আগামী ২০ দিনের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবেন। বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিব দুজনই বলেছেন তারা অনেকদূর এগিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। গত দু্ই থেকে আড়াইমাস ধরে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ই-কমার্সের প্রলোভনে না পড়তে জনগণকেও এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও মন্ত্রিসভায় জোর দেয়া হয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, ‘জনগনকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যে, তিনি কী জাতীয় প্রস্তাবে সাড়া দিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচ লাখ টাকার মোটরবাইক আড়াই লাখ টাকায় দেয়া হবে বলছে। সেটি শুনেই ঝাঁপিয়ে না পড়ে নিজেরও বিচার বিবেচনা থাকা দরকার।’

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন
সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট
ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট
ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার
ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

কার্ডে আন্তব্যাংক লেনদেনে চার্জ নির্ধারণ

কার্ডে আন্তব্যাংক লেনদেনে চার্জ নির্ধারণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের আওতায় একটি ব্যাংকের গ্রাহক ভিন্ন ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করলে বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা নেয়া যাবে। আর ৫ টাকা দেবে ব্যাংক কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক। এ ছাড়া, স্থিতি অনুসন্ধান ও খুদে বিবরণীর জন্য বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে ৫ টাকা ফি নেয়া যাবে।

ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের (এনপিএসবি) আওতায় এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন করলে দিতে হবে ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ। এর মধ্যে গ্রাহক দেবেন ১৫ টাকা। বাকি ৫ টাকা কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক দেবে।

তবে এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের এটিএম বুথ ব্যবহার করে টাকা জমা দিলে ২০ টাকা খরচ হবে, যার পুরোটাই কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংককে দিতে হবে।

এটিএম, পয়েন্ট অফ সেল বা পস এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে ফান্ড ট্রান্সফারের জন্য ফি ও চার্জ নতুন করে নির্ধারণ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ বাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে।

দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের নতুন নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ ও ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট স্কিমের আওতায় লেনদেনের ক্ষেত্রে নতুন এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের আওতায় একটি ব্যাংকের গ্রাহক ভিন্ন ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে টাকা উত্তোলনে বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা নেয়া যাবে। আর ৫ টাকা দেবে ব্যাংক কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক। এ ছাড়া, স্থিতি অনুসন্ধান ও খুদে বিবরণীর জন্য বর্তমানের মতোই গ্রাহক থেকে ৫ টাকা ফি নেয়া যাবে।

পাশপাশি এটিএম থেকে তহবিল স্থানান্তরে কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা এবং অন্য ব্যাংকের এটিএমে জমার জন্য ২০ টাকা ফি নেয়া যাবে।

দেশের ভেতরে পস ব্যবহার করে নগদ অর্থ উত্তোলনে প্রতি লেনদেনে গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা চার্জ নেয়া যাবে।

এক ব্যাংকের গ্রাহক অন্য ব্যাংকের পস ব্যবহার করে মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে মার্চেন্ট থেকে মোট লেনদেনের ন্যূনতম ১ দশমিক ৬০ শতাংশ ডিসকাউন্ট বাবদ আদায় করবে। এর ১ দশমিক ১ শতাংশ বিনিময় ফি হিসেবে কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংক দেবে।

এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকের ইন্টারনেট ব্যাংকিং তহবিল স্থানান্তরে লেনদেন প্রতি গ্রাহক থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা এবং বাংলা কিউআরে মার্চেন্ট থেকে মোট লেনদেনের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ চার্জ কাটা যাবে। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বিনিময় চার্জ বাবদ কার্ড ইস্যুকারী ব্যাংককে দিতে হবে।

কার্ডের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবার মূল্য পরিশোধের কর পরিশোধে বাংলাদেশে ইস্যুকৃত কার্ডের জন্য ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পরিশোধে গ্রাহক থেকে লেনদেন প্রতি সর্বোচ্চ ২০ টাকা আদায় করবে। এর মধ্যে ২৫ হাজার টাকার বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রচলিত ফি দেবে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন
সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট
ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট
ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার
ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

আইএফসির কাছে সহজ শর্তে ঋণ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

আইএফসির কাছে সহজ শর্তে ঋণ চাইলেন অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ফাইল ছবি

আইএফসির এমডিকে উদ্দেশ্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এ জন্য অনেক বেশি বিনিয়োগ দরকার। তাই পিপিপির মাধ্যমে বেসরকারি খাতে অধিক বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছি।’  

বেসরকারি খাতের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনকে (আইএফসি) সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

আইএফসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ম্যাকথার ডিউপের সঙ্গে সোমবার এক বৈঠকে তিনি এ অনুরোধ করেন।

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বার্ষিক সভার সাইড লাইনে বাংলাদেশ ও আইএফসির মধ্যে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী। আইএফসির পক্ষে ছিলেন সংস্থার এমডি ম্যাকথার ডিউপ।

বাংলাদেশের পক্ষে সভায় বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আলম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় অর্থমন্ত্রী ২০১৯ সালে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ ‘বাংলা বন্ড’ ইস্যু করার জন্য আইএফসির প্রশংসা করেন এবং করোনা মহামারির সময় বেসরকারি খাতে বিশেষ করে ব্যাংক, বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠান ও নতুন উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সহযোগিতা অব্যাহত রাখায় আইএফসিকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ‘টাকা বন্ড’ ইস্যুসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতের সংস্কার, আইএফসির কান্ট্রি স্ট্র্যাটেজি এবং পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর মাধ্যেমে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের উন্নয়নে পিপিপিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য আইএফসিকে অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রী।

আইএফসির এমডিকে উদ্দেশ্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো ২০৩১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এ জন্য অনেক বেশি বিনিয়োগ দরকার।

তাই পিপিপির মাধ্যমে বেসরকারি খাতে অধিক বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশকে সহযোগিতার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী।

এ ছাড়া আইএফসির সঙ্গে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পার্টনারশিপ আরও সংহত করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন মুস্তফা কামাল।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন
সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট
ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট
ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার
ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন

সহজে দেশে আনা যাবে সেবা খাতের আয়

সহজে দেশে আনা যাবে সেবা খাতের আয়

বাংলাদেশ ব্যাংক। ফাইল ছবি

সার্কুলারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মে কিংবা বিদেশি পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার (এডি) বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব বা নস্ট্রো হিসাবে জমা করা অর্থ ওই ব্যাংক পরে সেবা প্রদানকারী গ্রাহকের হিসাবে জমা করবে।

ফ্রিল্যান্সার ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের হিসাব রক্ষণাবেক্ষণে এখন থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডারগুলো কাজ করতে পারবে বলে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে সেবা খাতের আয় দেশে আনার পদ্ধতি আরও সহজ হলো।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সেবা সরবরাহকারি আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনাসহ বিদেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীরা নোশনাল হিসাব করতে পারবে।

সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব অনুমোদিত ডিলারের কাছে পাঠানো হয়।

এর আগে সেবা খাতের আয় প্রত্যাবাসনের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০১১ সালে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোকে বিদেশে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারদের (ওপিজিএসপি) সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ করে দেয়।

সার্কুলারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মে কিংবা বিদেশি পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার (এডি) বিদেশি ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব বা নস্ট্রো হিসাবে জমা করা অর্থ ওই ব্যাংক পরে সেবা প্রদানকারী গ্রাহকের হিসাবে জমা করবে।

এক্ষেত্রে এডি ব্যাংকসেবা প্রদানকারীর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের সঙ্গে পরিচালিত মার্চেন্ট হিসাব পরিচালনা এবং বিদেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত পেমেন্ট সেবা প্রদানকারীর সঙ্গে তার নোশনাল হিসাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেবে।

এরপর সেবা প্রদানকারীর সেবা কার্যক্রম সম্পর্কিত তথ্যাদিসহ ঘোষণা নিতে হবে। প্রদত্ত সেবার বিপরীতে প্রাপ্য আয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক মার্কেট প্লাটফর্মের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন কিংবা নোশনাল ও মার্চেন্ট হিসাবে জমার মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে তা দেশে আনার বিষয়ে গ্রাহকের নিকট থেকে আন্ডারটেকিং গ্রহণ করবে। সেবা খাতের বিপরীতে প্রাপ্ত আয় গ্রাহকের হিসাবে জমা হবে।

নতুন নির্দেশনায় গ্রাহকের স্থানীয় ডিজিটাল ওয়ালেটে উক্ত অর্থ টাকায় জমা করা যাবে। প্রাপ্ত আয়ের প্রযোজ্য অংশ গ্রাহকের সম্মতি সাপেক্ষে এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটা (ইআরকিউ) হিসাবে জমা করতে পারবে। প্রযোজ্য কর কর্তন, পরিশোধের বিধিবিধান মেনে চলার বিষয়েও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

সেবা আয় দেশে আনার জন্য মার্চেন্ট বা নোশনাল হিসাব ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে দেশের বাইরে অর্থ সংরক্ষণ করা যাবে না। সেবা খাতের এ আয় নির্ধারিত চার মাসের মধ্যে দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার মুক্তি চেয়ে মানববন্ধন
সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট
ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট
ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার
ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

শেয়ার করুন