‘অপহরণের’ ৫ মাস পর যুবক উদ্ধার

‘অপহরণের’ ৫ মাস পর যুবক উদ্ধার

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থেকে উদ্ধার করা যুবক আফরোজ হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

জয়পুরহাট গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহেদ আল মামুন জানান, চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন আফরোজ। ২৬ জুন প্রতিবেশী তাহের ও তার ভাতিজা হাফিজুলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন আফরোজের ভাই ফিরোজ।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিখোঁজের পাঁচ মাস পর এক যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, তাকে অপহরণ করা হয়েছিল।

তবে অভিযুক্তদের দাবি, পারিবারিক বিরোধে ওই যুবককে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

উপজেলার মোহম্মদপুর ইউনিয়নের শাহাজাদপুর গ্রামের একটি ইট ভাটা থেকে মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে ওই যুবককে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার যুবকের নাম আফরোজ হোসেন। তার বাড়ি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের নামা বাঁশখুর গ্রামের নেজাম উদ্দীনের ছোট ছেলে।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জয়পুরহাট গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক শাহেদ আল মামুন।

তিনি জানান, বাঁশখুর গ্রামের নেজাম উদ্দীনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আবু তাহেরের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত বছর দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আবু তাহেরের ভাই, ভাতিজা ও ছেলে গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়াও গত ৫ মার্চ রাতে তাহেরের ভাতিজা হাফিজুলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নেজামের ছেলে আনোয়ার হোসেন, ফিরোজ হোসেন, ফরিদুল ইসলাম, উমর হোসেন ও আফরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচবিবি থানায় মামলা করে হাফিজুল।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন আফরোজ। ২৬ জুন তাহের ও তার ভাতিজা হাফিজুলসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন আফরোজের ভাই ফিরোজ।

তবে আবু তাহের ও তার স্বজনদের অভিযোগ, নেজামের পরিবার আফরোজকে লুকিয়ে রেখে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছিল।

পরিদর্শক শাহেদ আরও জানান, এ ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে মঙ্গলবার আফরোজকে উদ্ধার করা হয়। শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শারীরিক পরীক্ষার পর আফরোজকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
স্বামী দিয়েছেন তালা, ৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার
চট্টগ্রামে চুরি হওয়া শিশু চাঁদপুরে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
বন বিভাগের ৩৬ একর ভূমি উদ্ধার
লঞ্চে অভিযানে উদ্ধার তিনটি হরিণের চামড়া
‘জিনের বাদশার’ খপ্পরে কিশোরী, উদ্ধার করল পুলিশ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মেঘনা থে‌কে কোস্ট গার্ড সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

মেঘনা থে‌কে কোস্ট গার্ড সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

হিজলা উপ‌জেলার হ‌রিনাথপুর ইউ‌নিয়নসংলগ্ন মেঘনা নদী‌ থে‌কে বৃহস্প‌তিবার সকা‌লে পার‌ভেজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন কোস্ট গার্ড ব‌রিশাল স্টেশ‌নের মি‌ডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এস এম তাহ‌সিন রহমান।

ব‌রিশা‌লের মেঘনা নদী থে‌কে নি‌খোঁ‌জের দুই দিন পর কোস্ট গার্ড সদস‌্যের মরদেহ উদ্ধার ক‌রা হ‌য়ে‌ছে।

হিজলা উপ‌জেলার হ‌রিনাথপুর ইউ‌নিয়নসংলগ্ন মেঘনা নদী‌ থে‌কে বৃহস্প‌তিবার সকা‌লে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মৃত কোস্ট গার্ড সদস্যের নাম পার‌ভেজ বলে নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ড ব‌রিশাল স্টেশ‌নের মি‌ডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট এস এম তাহ‌সিন রহমান।

তি‌নি জানান, মঙ্গলবার ভো‌রে হিজলার মেমা‌নিয়া ইউ‌নিয়নসংলগ্ন মেঘনা নদী‌তে জে‌লে‌দের ট্রলা‌রের সঙ্গে কোস্ট গা‌র্ডের ট্রলা‌রের সংঘর্ষ হয়। এ‌তে কোস্ট গা‌র্ডের ট্রলার‌ থে‌কে দুজন নদী‌তে প‌ড়ে যান।

এ সময় একজনকে উদ্ধার করা গেলেও পার‌ভেজ নি‌খোঁজ ছি‌লেন।

আরও পড়ুন:
স্বামী দিয়েছেন তালা, ৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার
চট্টগ্রামে চুরি হওয়া শিশু চাঁদপুরে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
বন বিভাগের ৩৬ একর ভূমি উদ্ধার
লঞ্চে অভিযানে উদ্ধার তিনটি হরিণের চামড়া
‘জিনের বাদশার’ খপ্পরে কিশোরী, উদ্ধার করল পুলিশ

শেয়ার করুন

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

উজানের ঢলে এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। ছবি: নিউজবাংলা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়ার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার পর তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এক দিনের বন্যা ও ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তিস্তার তীরবর্তী নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব এলাকার অর্ধলাখ মানুষ। চোখের সামনে ঘরবাড়ি, ফসল বন্যায় নষ্ট হতে দেখে বলার ভাষা হারিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে।

নীলফামারী

উজানের ঢলে বুধবার ভোরে প্রথম বিধ্বস্ত হয় ভারত-বাংলাদেশের জিরো পয়েন্টে থাকা নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রোয়েন বাঁধ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বাঁধের ৬০ মিটার ভেঙে যাওয়ায় তিন শতাধিক বসতঘরসহ কয়েক শ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যায়।

বন্যায় চরের শত শত হেক্টরের ভুট্টা, উঠতি আমন ধান, শাকসবজি, পুকুরের মাছ, বসতঘর ভেসে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে পূর্বছাতনাই ঝাড় সিংহেশ্বর গ্রামের বৃদ্ধা মোহনা বেওয়ার। খোলা আকাশের নিচে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘মোর (আমার) সব শেষ হইল (হয়েছে)। ঘর, গরু-ছাগল সব মোর এই বন্যা নিয়ে গেইল। অ্যালা (এখন) কি হইবে মোর?’

একই গ্রামের রজব আলী বলেন, ‘ফজর নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাই। তখন বাঁধ ভাঙার খবর পাই। নামাজ শেষে বের হয়ে দেখি নদীর পানি বাড়তাছে। ৩০ মিনিটের মধ্যে বাড়িতে কোমর পর্যন্ত পানি উঠে আসে।’

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

বাঁধ ভাঙার পরপরই নীলফামারী জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন দ্রুত উদ্ধারকাজ চালায়।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে ডিমলা উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জিআরের ৪০ টন চাল ও টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। শহর রক্ষা বাঁধসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেয়া বন্যা ও ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোকে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

ডিমলা উপজেলা ফায়ার সর্ভিসের ইনচার্জ এটি এম গোলাম মোস্তফা জানান, তিস্তার বন্যায় চর এলাকায় আটকে পড়া অসংখ্য পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে। এ কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ডালিয়ার বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার পর তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

পাউবোর প্রধান প্রকৌশলী (উত্তরাঞ্চল) জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বলেন, ‘এই বন্যায় তিস্তা ব্যারেজ ও নদী রক্ষার প্রায় ৯টি স্পার্ক, ক্রস ও গ্রোয়েন বাঁধ বিধ্বস্ত হয়ে ৫০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

লালমনিরহাট

দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের লালমনিরহাট অংশে প্রচণ্ড পানির চাপে ফ্লাড বাইপাস বাঁধের ৩০০ মিটার ভেঙে যায়।

জেলা পাউবো সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৬৯৬ মিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজ রক্ষা বাঁধের ৩০০ মিটার ভেঙে যাওয়ায় নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

পাউবোর উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী জ্যোতি প্রসাদ ঘোষ বলেন, ‘অনেক জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে; আমরা প্রটেক্টশন দেয়ার চেষ্টা করছি। এখনও আমাদের কাজ চলছে।’

রংপুর

তিস্তায় হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ায় রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বানভাসীরা কেউ সড়কে, কেউ বাঁধে, কেউ বা আবার অস্থায়ী তাঁবুতে রাত কাটিয়েছেন। গৃহপালিত পশু রাখা হয়েছে সড়কের ওপর। বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সংকট।

হঠাৎ বন্যায় শত শত একর ফসলি জমির আবাদ নষ্ট হয়েছে। পানির তোড়ে কাঁচা রাস্তা বিলীন হয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

বানভাসী মজনু মিয়া বলেন, ‘নদী তো শুকনে ছিল। শুকনে নদীত হঠাৎ পানি। সেই পানি বাড়িঘর ভাসি গেইল। গরু-ছাগল, বাচ্চা নিয়ে আস্তাত আছি। খুব ক্ষতি হইচে।’

আরেক বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পানিতে বাড়ি যাওয়ার রাস্তা নাই। কষ্ট করি রাস্তার উপরে আছি। রান্না নাই, খাওয়াও নাই।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ করি বন্যা আসি, ধান চাল সোগ শ্যাষ। ৬ দোন মাটির ধান কাটি থুচি আর সব ভাসি গেইচে। ছৈল পৈল নিয়ে কি খামো। কপাল নিয়ে গেইচে পানি।’

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

আব্দুল মজিত বলেন, ‘হামার আবাদি জমি সোগ তলে গেইচে। হঠাৎ এমন করি ভারত পানি ছাড়লে হামরা বাঁচমো ক্যামন করি? একে তো এবারের বানোত (বন্যা) হামার মেলা ক্ষয়ক্ষতি হইছে। তার ওপর এই অসময়ে ফির বান! নদীপাড়োত হামার সুখ-শান্তি নাই।’

বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গংগাচড়ার নোহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, গজঘণ্টা লক্ষ্মীটারী ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের কোথাও আংশিক, কোথাও ৩ থেকে ৫টি পাড়াসহ তিস্তা নদীর উত্তরে গংগাচড়া উপজেলার সব মানুষ এখন পানিবন্দি হয়ে মানবতার জীবন যাপন করছেন। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন।

এক দিনের বন্যায় বিপর্যস্ত উত্তরের ৩ জেলা

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি বলেন, ভয়াবহ এ বন্যায় ইউনিয়নের কেল্লারপাড়, শংকরদহ, বাগেরহাটসহ বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিস্তার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন যে পরিস্থিতি, তাতে আর দু-এক দিন এভাবে পানি বাড়তে থাকলে স্মরণকালের বন্যা হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘বুধবার বন্যাকবলিতদের ২০ টন চাল ও ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলো বিতরণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
স্বামী দিয়েছেন তালা, ৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার
চট্টগ্রামে চুরি হওয়া শিশু চাঁদপুরে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
বন বিভাগের ৩৬ একর ভূমি উদ্ধার
লঞ্চে অভিযানে উদ্ধার তিনটি হরিণের চামড়া
‘জিনের বাদশার’ খপ্পরে কিশোরী, উদ্ধার করল পুলিশ

শেয়ার করুন

এক মাসে গরুর দুধের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

এক মাসে গরুর দুধের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে বেড়েছে গরুর দুধের দাম। ছবি: নিউজবাংলা

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য শাহজাহান মাস্টার বলেন, ‘সারা বছর দুধের দাম কম থাকে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে আশ্বিন-কার্তিক মাসে দুধের দাম বেশি থাকে। গত শনিবার ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হয়েছে। কিছুদিন পর আগের দামে চলে যাবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে এক মাসে দ্বিগুণ বেড়েছে গরুর দুধের দাম।

বাজারে প্রতি লিটার দুধ এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকায়। গত মাসেও গরুর দুধের দাম ছিল লিটারপ্রতি ৪০-৫০ টাকা।

বিক্রেতারা জানায়, হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবের কারণে বেড়েছে দুধের চাহিদা। সরবরাহ সে অনুযায়ী দিতে না পারলেও দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হয়েছে গরুর দুধ।

উপজেলার আড়াউসিধা ইউনিয়নের চকবাজার থেকে মঙ্গলবার সকালে দুধ কিনতে আসেন দিদার মিয়া। তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এ বাজারে দুধ বিক্রি হচ্ছে অর্ধশত বছর ধরে। তবে কিছুদিন থেকে দুধের দাম বাড়তি। কিনতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

‘আগে এ বাজারে প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হতো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা করে। আর এই অক্টোবর মাসে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা পর্যন্ত। সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।’

এক মাসে গরুর দুধের দাম বেড়ে দ্বিগুণ

ইদ্রিস হোসেন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘আশ্বিন কার্তিক মাসে আমাদের এলাকায় বিয়ের আমেজ থাকে। তা ছাড়া সনাতন ধর্মীদেরও চলছে পূজার আমেজ। তাই দুধের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আজকে এক লিটার দুধ নিতে হয়েছে ৯০ টাকায়।’

দুধ বিক্রেতা নাহিদ মিয়া বলেন, ‘এক মাস ধরে দুধের ভালো দাম পাচ্ছি। আগে ৪০ টাকা লিটার বিক্রি করতাম। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকা করে বিক্রি করছি। সারা বছর এই দামে বিক্রি করতে পারলে গাভী পালন করে লাভবান হতে পারতাম।’

বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য শাহজাহান মাস্টার বলেন, ‘এ বাজারে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ মণ দুধ বিক্রি হয়। সারা বছর দুধের দাম কম থাকে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে আশ্বিন কার্তিক মাসে দুধের দাম বেশি থাকে। গতকাল শনিবার ৯০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হয়েছে। কিছুদিন পর আগের দামে চলে যাবে।’

আরও পড়ুন:
স্বামী দিয়েছেন তালা, ৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার
চট্টগ্রামে চুরি হওয়া শিশু চাঁদপুরে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
বন বিভাগের ৩৬ একর ভূমি উদ্ধার
লঞ্চে অভিযানে উদ্ধার তিনটি হরিণের চামড়া
‘জিনের বাদশার’ খপ্পরে কিশোরী, উদ্ধার করল পুলিশ

শেয়ার করুন

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

শেরপুরে শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী নদীতে সেতু না থাকায় এলাকাবাসীর ভোগান্তি। ছবি: নিউজবাংলা

খারামোরার নুরুল আমীন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে শুরু কইরে হাজার হাজার মানুষ আমরা কত যে কষ্ট করতাছি, কেউ আমাগো কষ্ট দেহে না। আমরা নদীতে পানি বাড়লে বাজার সদাই করবার পাই না। না খাইয়া থাহা নাগে।’

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাঁচ গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সোমেশ্বরী নদী। স্বাধীনতার পর থেকেই এ নদীতে একটি সেতু নির্মাণে দাবি জানিয়ে আসছেন এসব গ্রামের লোকজন। এত বছর ধরে আশ্বাসই পেয়ে আসছেন তারা। সেতুর দেখা আর মেলেনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারত থেকে বয়ে আসা সোমেশ্বরী উপজেলার গারো পাহাড়ের খারামোরা, রাঙাজান ও কোচপাড়াসহ পাঁচ গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করেছে। এর উত্তর প্রান্তে রয়েছে ভারতের সীমানা।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

বেশির ভাগ সময় এ নদীতে থাকে হাঁটুপানি। তবে একটু বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ঢলে নদী কানায় কানায় ভরে যায়।

গ্রামবাসী জানায়, পাঁচ গ্রামে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ থাকেন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে নদী পার হতে তাদের একমাত্র ভরসা খেয়া নৌকা। তবে পানি বাড়লে স্রোতের কারণে তা ব্যবহার করা যায় না।

ওই সময় গ্রাম থেকে বের হতে পারেন না কেউ। দিনের পর দিন শিক্ষার্থীরা স্কুলেও যেতে পারে না। এমনটি সীমান্তে টহল দিতে পারেন না বিজিবির সদস্যরা।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

ওই সময় খাবারের সংকটেও পড়ে গ্রামবাসী। আবার কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে সময় মতো চিকিৎসা করানো সম্ভব হয় না। বিনা চিকিৎসায় অনেকের মৃত্যুও হয়েছে।

৯৫ বছরের আইজুর রহমান ১৯৬৫ সালে ভারতের আসাম থেকে বাংলাদেশে এসে বসতি গড়েন শ্রীবরদীর খারামুরা গ্রামে। আক্ষেপ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ১৯৬৫ সালে এইহানে আইছি। এর থাইকে কষ্ট করতাছি। এই নদীর ওপর এডা ব্রিজ অইলে আমাগো খুব বালা অইত।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

আমরা অনেক কষ্ট কইরা নদী পার অই। যেদিন পানি বেশি থাহে, ওই দিন আর বাড়িতে যাবার পাই না। নদীর এপারেই কষ্ট কইরা থাহন নাগে। কত মানুষ আইল আমাগো ব্রিজ কইরা দিবে। ভোটও দিলাম, কিন্তু ব্রিজ আর অইল না। আপনেগর কাছে অনুরোধ, আমাগো ব্রিজটা কইরা দেন। শেষ বয়সে অইলেও ব্রিজটা দেইখা যাবার পামু।’

খারামোরার নুরুল আমীন বলেন, ‘বাপ-দাদার আমল থেকে শুরু কইরে হাজার হাজার মানুষ আমরা কত যে কষ্ট করতাছি, কেউ আমাগো কষ্ট দেহে না। আমরা নদীতে পানি বাড়লে বাজার-সদাই করবার পাই না। না খাইয়া থাহা নাগে।

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

‘আর কেউ যদি অসুখ হয় তালে তার জন্য ওষুধ পাওয়া যায় না। ওষুধ বেগরে মানুষ মারাই যাব, তাও পার অবার কোনো ব্যবস্থা থাহে না।’

কোচপাড়ার স্কুলছাত্র নাসিদ জানান, ‘প্রায়ই নদীর পানি বাড়ে, তখন আমরা স্কুলে আসতে পারি না। দিনের পর দিন আমাদের স্কুল কামাই করতে হয়। আবার ভয়ে ভয়ে নদী পার হয়ে স্কুলে, বাজার-ঘাটে যাই।’

তাওয়াকুচার অছিরা বেগম জানান, ‘আমি আমার মেয়েডারে নদীর ওপারে বিয়া দিছি। তারেও আপদে-বিপদে দেখবার পাই না। আমরা অনেক কষ্ট করে আছি। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে ব্রিজ চাই।’

সেতুর আশ্বাসেই ৫০ বছর পার

এ বিষয়ে কথা বলতে শ্রীবরদী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বরাবরের মতোই তিনি আশ্বাস দেন।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘সেতু নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে নকশা ও মাটি পরীক্ষার কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্প প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলেই শুরু হবে নির্মাণকাজ।’

আরও পড়ুন:
স্বামী দিয়েছেন তালা, ৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার
চট্টগ্রামে চুরি হওয়া শিশু চাঁদপুরে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
বন বিভাগের ৩৬ একর ভূমি উদ্ধার
লঞ্চে অভিযানে উদ্ধার তিনটি হরিণের চামড়া
‘জিনের বাদশার’ খপ্পরে কিশোরী, উদ্ধার করল পুলিশ

শেয়ার করুন

ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

ফেসবুক লাইভে স্ত্রীকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

ফেনীতে স্ত্রীকে হত্যায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি। ছবি: নিউজবাংলা

ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বারাহিপুর এলাকা ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল ফেসবুকে লাইভে এসে স্ত্রীকে হত্যা করেন টুটুল।

ফেনী শহরের বারাহিপুর এলাকায় ফেসবুক লাইভে এসে স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে আসামি ওবায়দুল হক টুটুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সেই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক বেগম জেবুন্নেছা বৃহস্পতিবার দুপুরে এই রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফেজ আহমদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দাম্পত্য কলহের জেরে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন স্বামী টুটুল।

২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল এই ঘটনা ঘটে।

ফেনী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বারাহিপুর এলাকার টুটুল এবং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের তাহমিনার বিয়ে হয় প্রায় পাঁচ বছর আগে। তাদের একমাত্র সন্তানের বয়স ঘটনার সময় ছিল দেড় বছর।

ঘটনার দিন ফেসবুকে লাইভে এসে টুটুল জানান, পারিবারিক অশান্তির কারণে তিনি স্ত্রীকে হত্যা করছেন। শিশুকন্যাকে দেখভালের জন্য তিনি সবার কাছে অনুরোধ করেন এবং হত্যার ঘটনার জন্য মাফও চান।

এরপর তাহমিনাকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি। এ ঘটনায় তাহমিনার বাবা সাহাব উদ্দিন ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার করা হয় টুটুলকে।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর টুটুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি শুরু হয় মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ। ১৩ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষে বৃহস্পতিবার এই রায় দেয় আদালত।

রায় ঘোষণার পর নিহত তাহমিনার বাবা সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘ন্যায়বিচার পেয়েছি... সরকারের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’

এই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু। তিনি নোয়াখালীর আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলারও আইনজীবী ছিলেন। তাহমিনা হত্যা মামলা নিজ খরচে তিনি পরিচালনা করেছেন।

তিনি বলেন, ‘অল্প সময়ে মামলাটির বিচারকাজ শেষ হয়েছে। এ রায়ের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। আমরা সুবিচার পেয়েছি। মাত্র ৬০ কার্যদিবসে এই হত্যার বিচার হয়।’

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুস সাত্তার জানান, সুবিচার হয়নি। উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

আরও পড়ুন:
স্বামী দিয়েছেন তালা, ৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার
চট্টগ্রামে চুরি হওয়া শিশু চাঁদপুরে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
বন বিভাগের ৩৬ একর ভূমি উদ্ধার
লঞ্চে অভিযানে উদ্ধার তিনটি হরিণের চামড়া
‘জিনের বাদশার’ খপ্পরে কিশোরী, উদ্ধার করল পুলিশ

শেয়ার করুন

মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৪ পুলিশ

মেঘনায় জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ৪ পুলিশ

মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে অভিযানে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষে চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

নারায়ণগঞ্জ জোনের নৌপুলিশের এসপি মিনা মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কতজন জেলে আহত হয়েছেন তা আমরা তাৎক্ষণিক জানতে পারিনি। তবে আমাদের চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

মুন্সীগঞ্জের মেঘনা নদীতে ইলিশ রক্ষায় অভিযানে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে নৌপুলিশের। এ সময় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন জেলেও।

অভিযান চলাকালে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ জোনের নৌপুলিশের এসপি মিনা মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘কতজন জেলে আহত হয়েছেন তা আমরা তাৎক্ষণিক জানতে পারিনি। তবে আমাদের চারজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

আহতদের মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ইলিশ শিকারে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে জেলায় গত ৪ অক্টোবর থেকে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন ও নৌপুলিশ।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন:
স্বামী দিয়েছেন তালা, ৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার
চট্টগ্রামে চুরি হওয়া শিশু চাঁদপুরে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
বন বিভাগের ৩৬ একর ভূমি উদ্ধার
লঞ্চে অভিযানে উদ্ধার তিনটি হরিণের চামড়া
‘জিনের বাদশার’ খপ্পরে কিশোরী, উদ্ধার করল পুলিশ

শেয়ার করুন

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখলের কাজ চলছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে পৌর শহরের চৌরাস্তা হাটের সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকি না থাকায় কোনো বাধা ছাড়াই জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর ও ভবন নির্মাণ করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমিটি দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, কাজ চলছে অবাধে ও প্রকাশ্যেই।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

পৌরসভা দপ্তরে সূত্রে জানা যায়, বাজারটি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত পৌরসভা থেকে বার্ষিক ইজারায় দেয়া হয়। এরপর থেকে আর ইজারা দেয়া হয়নি। ভূমি অফিসের লোকজনের সহায়তায় সেখানে রাতারাতি অবৈধভাবে আধাপাকা বাড়ি, পাকা ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন এলাকার প্রভাবশালীরা।

হাটের জায়গায় ব্যক্তি মালিকানায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় পরে কর্তৃপক্ষ তা বাজার হিসেবে ইজারা দিতে চাইলেও প্রভাবশালী দখলদারদের ভয়ে কেউ লিজ নিতে রাজি হয়নি।

ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪-৮৫ এবং ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে দুটি মিস কেসের মাধ্যমে চৌরাস্তা হাটের সম্পত্তি পেরিফেরিভুক্ত করে ভূমি অফিস।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

বাজারের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য ২০০৯ সালে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ওই বছরই ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাস্তবায়নে পীরগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করলেও সে সময় কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

সেই সুযোগে শহরের প্রাণকেন্দ্র রঘুনাথপুর মৌজায় (ঢাকাইয়াপট্টি) পেরিফেরিভুক্ত চৌরাস্তা হাটের উত্তর পূর্বাংশে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনার কাজ শুরু করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি ইমদাদুল হক এবং সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব।

শত কোটি টাকা মূল্যের সরকারি হাটের জমি দখল করতে ইমদাদুল হক সীমানা প্রাচীর তুলছেন। আর বিপ্লব ওই জমিতে বানাচ্ছেন বহুতল ভবন।

বিষয়টি নজর আসলে দখল ঠেকাতে চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিমকে নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাহাবুবুর রহমান।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

ডিসি নিউজবাংলাকে জানান, নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাকে জানিয়েছেন।

অথচ গত ১৪ অক্টোবর দেখা যায় নির্মাণকাজ চলছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ডিসির নিদের্শনা পর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ না করে দখলদারদের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে চলে যান। সরকারি জমি দখলদারদের পাইয়ে দেয়ার পেছনে খোদ ইউএনও রেজাউল করিম কাজ করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ইউএনও রেজাউল বলেন, অভিযোগ ঠিক নয়। কাজ বন্ধ করা হয়েছিল। আবার কাজ চালু হওয়ার বিষয়টি তিনি জানেন না।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে আবারও নির্মাণকাজ বন্ধের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সরকারি জমিতে প্রকাশ্যে আ. লীগ নেতাদের দখল

সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমদাদুল হক বলেন, ‘বাজারটা হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। অনেকেই দখল করে বড় বড় বিল্ডিং করেছেন। আমি জমি দখল করছি না। আমি প্রাচীরের কাজ করছি।’

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বিপ্লব বলেন, ‘আমি এখানে বিশ বছর ধরে আধাপাকা বাড়ি করে আছি। এখন ভেঙে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছি। হাটের পেরিফেরি থেকে জায়গাটা অবমুক্তির জন্য আবেদন করা হয়েছে।’

পীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরামুল হক বলেন, ‘পেরিফেরিভুক্ত জমিতে ঘর নির্মাণের অনুমতি পৌরসভা দিতে পারে না। কাজ বন্ধ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
স্বামী দিয়েছেন তালা, ৯৯৯-এ কল পেয়ে উদ্ধার
চট্টগ্রামে চুরি হওয়া শিশু চাঁদপুরে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
বন বিভাগের ৩৬ একর ভূমি উদ্ধার
লঞ্চে অভিযানে উদ্ধার তিনটি হরিণের চামড়া
‘জিনের বাদশার’ খপ্পরে কিশোরী, উদ্ধার করল পুলিশ

শেয়ার করুন