হোটেলে তরুণীর মরদেহ, পলাতক সঙ্গী

হোটেলে তরুণীর মরদেহ, পলাতক সঙ্গী

সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান বলেন, ‘তারা দুজন তিন দিন আগে ওই রিসোর্টে ওঠেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ওই রুমে কোনো সাড়াশব্দ না পেলে হোটেল কর্তৃপক্ষ দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ফারজানার মরদেহ দেখতে পায়। কিন্তু তার সঙ্গী সাগরের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফারজানার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

কক্সবাজারের আমারী রিসোর্ট নামক একটি হোটেল থেকে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

হোটেলের ৪০৮ নম্বর কক্ষ থেকে মঙ্গলবার দুপুরে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় আরিফুল ইসলাম রানা নামে হোটেলের এক কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান।

তিনি জানান, ২৩ বছরের মৃত তরুণীর নাম ফারজানা। তার সঙ্গীর নাম সাগর, তিনি পলাতক আছেন।

হোটেলে ওঠার সময় অতিথি নিবন্ধন খাতায় তাদের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা থানা লেখা হয়। এই ঠিকানা সঠিক কি না তা যাচাই করছে পুলিশ।

সহকারী পুলিশ সুপার মিজানুজ্জামান জানান, তারা দুজন তিন দিন আগে ওই রিসোর্টে ওঠেন। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ওই রুমে কোনো সাড়াশব্দ না পেলে হোটেল কর্তৃপক্ষ দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে ফারজানার মরদেহ দেখতে পায়। কিন্তু তার সঙ্গী সাগরের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফারজানার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গত এক সপ্তাহে কক্সবাজারে ছয় পর্যটকের অপমৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন পানিতে ডুবে এবং তিনজন হোটেলে অবস্থানকালে মারা গেছেন।

আরও পড়ুন:
অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’
ডোবায় মিলল যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ
বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মরদেহ
শাটারবিহীন দোকানে যুবকের গলাকাটা মরদেহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লায় নিহত দিলীপ দাশের পরিবার চলবে কীভাবে?

কুমিল্লায় নিহত দিলীপ দাশের পরিবার চলবে কীভাবে?

নিহত দিলীপ দাস। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। দিলীপ দাশের মেয়ে প্রিয়া জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর তেমন কেউ খোঁজখবর নিতে আসেনি। 

সাকালে বাসায় নাস্তা সেরে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর রাজ রাজেশ্বরী কালী মন্দিরে পূজা দিতে গিয়েছিলেন দিলীপ দাশ।

নানুয়ার দিঘীর পাড়ের একটি মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার পর তখন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে নগরীজুড়ে। রাজরাজেশ্বরী কালী মন্দিরেও চলে হামলা।

সংঘাত দেখে বাসায় ফিরতে চেয়েছিলেন দিলীপ। তবে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মন্দিদের গেটের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় হামলার শিকার হন, লুটিয়ে পড়েন মাটিতে।

রাজ রাজেশ্বরী কালী মন্দিরের পুরোহিত দুলাল চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে জানান, ১৩ অক্টোবর ওই সহিংসতার সময় মন্দির থেকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন দিলীপ। তবে বাইরে প্রচণ্ড গণ্ডগোল শুরু হওয়ায় তিনি মন্দিরের গেটের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে মন্দিরের ভেতরে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে হামলাকারীরা। এ সময় গুরুতর আহত হলে পূজারীরা আহত দিলীপকে মাথায় গামছা দিয়ে মাথা বেঁধে বসিয়ে রাখেন। পরে তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দিলীপের স্ত্রী রুপা দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওইদিন দেড়টায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ফোন পাই। এ সময় আমাদের বাসার সামনে পুলিশ ও হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। পুলিশ আমাদেরকে বাইরে যেতে নিষেধ করে। এর মধ্যেই আমি এক আত্মীয়কে নিয়ে হাসপাতালে যাই।’

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। আমরা তাকে সেখানে নিলে চিকিৎসক সিটিস্ক্যান করাতে বলেন।

কুমিল্লায় নিহত দিলীপ দাশের পরিবার চলবে কীভাবে?


রুপা দাশ অভিযোগ করে বলেন, ‘এ সময় হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকায় সিটিস্ক্যান করাতে আমাদেরকে অন্তত আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

দিলীপ দাশ ধোপার কাজ করে সংসার চালাতেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে প্রিয়া রানী দাশ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। আর ছেলে রাহুল দাশ ঢাকায় লেখাপড়া করেন।

দিলীপের মেয়ে প্রিয়া বলেন, ‘বাবার মাথায় যে আঘাত দেখেছি তাতে স্পষ্ট যে হামলাকারীরা আমার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তার মাথার খুলি ভেঙে যায়। রক্তক্ষরণ ও তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমার বাবা মারা গেছেন।’

প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। দিলীপ দাশের মেয়ে প্রিয়া জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর তেমন কেউ খোঁজখবর নিতে আসেনি।

প্রিয়া নিউজবাংলাকে জানান, তিনি দৃষ্টিপাত নাট্যদলের সদস্য। তার বাবা হামলায় আহত হওয়ার পর ওই নাট্য সংগঠন চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। এছাড়া কেউ এগিয়ে আসেনি।

কুমিল্লায় নিহত দিলীপ দাশের পরিবার চলবে কীভাবে?


দিলিপের স্ত্রী জানান, তাদের পরিবারের মূল নির্ভরশীলতা ছিল স্বামীর আয়ের উপর। পাশাপাশি একটি ছোট দোকান ভাড়া দিয়ে মাসে পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

রুপা দাশ বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর আমরা বড় সমস্যায় পড়েছি। দোকান ভাড়ার মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় কীভাবে সংসার চলবে, দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাব তা নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি।’

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন:
অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’
ডোবায় মিলল যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ
বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মরদেহ
শাটারবিহীন দোকানে যুবকের গলাকাটা মরদেহ

শেয়ার করুন

ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা: আটক ৮

ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা: আটক ৮

উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা মসজিদ

এপিবিএন-৮-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার বলেন, শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অস্ত্রসহ আটক মুজিবুর রহমান বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় ৮ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-৮-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

শুক্রবার অস্ত্রসহ আটক মুজিবুর রহমান বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।

৬ জন নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময়ে এসব ক্যাম্পে সহিংসতা ঘটতে পারে বলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গার স্রোত নামার পর গত চার বছরে এ রকম আতঙ্কজনক পরিস্থিতি আর কখনও তৈরি হয়নি। হামলার ভয়ে রোহিঙ্গাদের অনেক নেতা ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এই হামলায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে পুলিশ বলছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কিন্তু আরসার নাম ব্যবহার করে অপতৎরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

যে মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে, সেটি পরিচালনা করে ইসলামি মাহাস নামের রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠন। ওই সংগঠনটির সঙ্গে আরসার দ্বন্দ্ব আছে বলে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। তবে আরসার সশস্ত্র হামলার বিষয়ে ১৮ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দারা কথা বললেও তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

গুলিতে নিহত নুর আলম ওরফে হালিমের স্বজন ও ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি রাতে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক-ছাত্র ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা মিলে তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করেন। আমিও নিয়মিত তাহাজ্জুতে শরিক হই। তবে বৃহস্পতিবার আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় মসজিদে দেরিতে যাই।

‘কিন্তু আমি গিয়ে দেখি মাদ্রাসার ভেতরে সবাই ছোটাছুটি করছে। অনেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করছে। তাদের দেখে আমি দূরে সরে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এরপর সন্ত্রাসীরা চলে যায়।’

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লাম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ডি ব্লকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) কার্যালয়ে ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন।

আরসা নেতা আবদুর রহিমের নেতৃত্ব ২০ থেকে ২৫ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ওই হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পর্যন্ত মুহিবুল্লাহ হত্যার সঙ্গে জড়িত আরসার ৫ জন সদস্য ও ৪০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। আরসার সদস্যদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে ইসলামি মাহাসের সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন—এই ধারণা থেকে ওই মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছে রোহিঙ্গারা।

১৮ নম্বর ক্যাম্পের মাঝি আবুল কালাম বলেন, ‘প্রত্যাবাসন নিয়ে ইসলামি মাহাসের সঙ্গে আরসার বিরোধ আছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর মাহাসের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে গেছে।

‘আরসা মনে করছে, তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সরকারি বাহিনীকে সহযোগিতা করছে মাহাস। তা ছাড়া মাহাসের মাদ্রাসাটি আরসা এর আগেও দখল করতে চেয়েছিল। হুকুমতের (সরকারি) বাহিনী মাদ্রাসাটি রক্ষা করতেছে। সব মিলিয়ে এই হামলাটি হয়েছে।’

তবে পুলিশ বলছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আরসার অস্তিত্ব নেই। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খান বলেন, ‘মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কিন্তু আরসার নাম ব্যবহার করে অপতৎরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।’

গুলি করে হত্যায় নিহতরা হলেন দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও বালুখালী ২ নম্বর শিবিরের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস, বালুখালী-৯ নম্বর শিবিরের ব্লক-২৯–এর বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন, বালুখালী ১৮ নম্বর ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক আজিজুল হক ও মোহাম্মদ আমিন, একই মাদ্রাসার শিক্ষক ও বালুখালী-১৮ নম্বর শিবিরের ব্লক-এফ-২২-এর নুর আলম ওরফে হালিম এবং মাদ্রাসার শিক্ষক ও ২৪ নম্বর শিবিরের হামিদুল্লাহ। এর মধ্যে প্রথম চারজন ঘটনাস্থলেই এবং অপর দুজনকে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের ক্যাম্পে দাফন করা হয়েছে।

শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নানান অপরাধ ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের হত্যা করছে? এ প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর কাঠামো, আধিপত্য বিস্তার, আবাস-বিন্যাস, ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিবৃদ্ধি এবং নানান জাতের অবৈধ কারবারের বিস্তারে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় সাতটি দল। সেগুলোর মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের জন্য দ্বন্দ্বরত বিভিন্ন ছোট দল ও উপদলের মধ্যকার সংঘাত নিয়মিত চলছে। দলগুলোর মধ্যে কোনো একটি দল এ হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে লাভবান হয়েছে। এ জন্য তারা হামলা চালিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’
ডোবায় মিলল যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ
বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মরদেহ
শাটারবিহীন দোকানে যুবকের গলাকাটা মরদেহ

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ভোলার

মিতু হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ভোলার

মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ভোলা। ছবি: নিউজবাংলা

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহীন জানান, চট্টগ্রাম মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক শফিউদ্দিনের আদালতে শনিবার সকালে ভোলা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ভোলা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক শফিউদ্দিনের আদালতে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, জবানবন্দি শেষে বিচারক ভোলাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম নগরীর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা জানান, যশোরের বেনাপোল থেকে শুক্রবার ভোরে ভোলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

মিতু হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ভোলাকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়।

জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন চৌধুরী ১৪ অক্টোবর বলেন, ‘ভোলা আজ আত্মসমর্পণ না করে সময়ের আবেদন করেন। আমরা এর বিরোধিতা করি। ভোলা হাইকোর্টের নির্দেশনা পালন না করায় আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।’

মিতু হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ভোলার
মাহমুদা খানম মিতু

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই দিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড শেষ হওয়ার পর থেকে কারাগারে আছেন বাবুল।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরুতে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’
ডোবায় মিলল যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ
বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মরদেহ
শাটারবিহীন দোকানে যুবকের গলাকাটা মরদেহ

শেয়ার করুন

অস্ত্রের কারিগর গ্রেপ্তার, পাইপগান জব্দ

অস্ত্রের কারিগর গ্রেপ্তার, পাইপগান জব্দ

ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে এক অস্ত্রের কারিগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহ র‍্যাব-১৪ এর পুলিশ সুপার (কোম্পানি কমান্ডার) মাসুরা বেগম বলেন, ‘বাবুল মিয়া দেশীয় পাইপগান তৈরি ও বিক্রি করেন, এমন গোপন তথ্যে তাকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। কালিরবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার শরীর তল্লাশি করে একটি দেশীয় পাইপগান জব্দ করা হয়েছে।’

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়া নামের এক অস্ত্রের কারিগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তার কাছ থেকে একটি দেশীয় পাইপগান জব্দ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালিরবাজার এলাকা থেকে বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাবুল কাঁঠাল ইউনিয়নের আয়নাখেত এলাকার বাসিন্দা। তিনি অবৈধভাবে দেশীয় পাইপগান বানিয়ে বিক্রি করতেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ এর পুলিশ সুপার (কোম্পানি কমান্ডার) মাসুরা বেগম বলেন, ‘বাবুল মিয়া দেশীয় পাইপগান তৈরি ও বিক্রি করেন, এমন গোপন তথ্যে তাকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। কালিরবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার শরীর তল্লাশি করে পাওয়া একটি দেশীয় পাইপগান জব্দ করা হয়েছে।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল তার সঙ্গে আরও ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছেনে বলে জানান। এ ঘটনায় ত্রিশাল থানায় মামলা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা মাসুরা বেগম।

আরও পড়ুন:
অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’
ডোবায় মিলল যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ
বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মরদেহ
শাটারবিহীন দোকানে যুবকের গলাকাটা মরদেহ

শেয়ার করুন

নিজ প্রতিষ্ঠানে মারধরের শিকার সাঈদীর মামলার সাক্ষী

নিজ প্রতিষ্ঠানে মারধরের শিকার সাঈদীর মামলার সাক্ষী

পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাঈদীর মামলার স্বাক্ষী জলিল শেখ। ছবি: নিউজবাংলা

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সাক্ষী জলিল শেখের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এক ব্যক্তির সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত জাহিদুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।’

পিরোজপুরে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মারধরের শিকার হয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী জলিল শেখ।

জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট বন্দর বাজারে শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশ হামলাকারী জাহিদুল ইসলামকে আটক করেছে। আর আহত জলিল শেখকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জলিল শেখকে মারধর করেন জাহিদুল।

এ ঘটনায় আহত ৭২ বছরের জলিল শেখের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে। আটক জাহিদুলের বাড়ি খুলনার রামনগর এলাকায়।

পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জলিল শেখ জানান, পাড়েরহাট বন্দর বাজারে তার ইলেক্টনিক্স যন্ত্রাংশ মেরামতের দোকার রয়েছে। কয়েক দিন আগে স্থানীয় একজন তার কাছে একটি আইপিএস মেরামতের জন্য দেন।

শুক্রবার সেই ব্যক্তির পরিবর্তে জাহিদুল আইপিএসটি নিতে যান। অপরিচিত হওয়ায় তিনি আইপিএস দিতে না চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহিদুল তার উপর হামলা চালায়।

পিরোজপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তন্ময় মজুমদার জানান, জলিল শেখের পিঠের দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সাক্ষী জলিল শেখের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এক ব্যক্তির সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত জাহিদুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।’

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, যুদ্ধাপরাধী মামলার সাক্ষী জলিল শেখের নিরাপত্তার জন্য থাকা পুলিশই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’
ডোবায় মিলল যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ
বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মরদেহ
শাটারবিহীন দোকানে যুবকের গলাকাটা মরদেহ

শেয়ার করুন

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট: চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট: চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিট পরীক্ষায় চট্টগ্রাম ও বরিশালে অনুপস্থিত ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাবিসহ দেশের সাত বিভাগের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার বেলা ১১টায় একযোগে শুরু হয়। চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রে ৬৯ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩১ শতাংশ শিক্ষার্থী।

অনুপস্থিতির একই চিত্র বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রেও।

শনিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে ভর্তি পরীক্ষা সাড়ে ১২টায় শেষ হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এসএম জিয়াউল ইসলাম জানান, ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিভাগের ৯ হাজার ৯০৩ জনের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৬ হাজার ৮৬৯ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৩৪ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন, কলা ও মানববিদ্যা, সমাজ বিজ্ঞান ও আইন অনুষদে পরীক্ষা হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে ভর্তি পরীক্ষার হল পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ‘ঘ’ ইউনিট ভর্তি কমিটির চবি কো-অর্ডিনেটর চবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী, জয়েন্ট কো-অর্ডিনেটর চবি আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এবিএম আবু নোমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ-ইউনিট চট্টগ্রাম অঞ্চলের কো-অর্ডিনেটর ঢাবি ট্রেজারার প্রফেসর মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভুঁইয়া বলেন, ‘সন্তোষজনকভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সব কিছু ভালোভাবে হয়েছে, কোন ধরনের সমস্যা হয়নি।’

এদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. খোরশেদ আলম জানান, ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষায় বরিশাল বিভাগে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত ছিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র।

তিনি আরও জানান, ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় বরিশালে ৩ হাজার ১৩ জন অংশ নেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে ২ হাজার ১০৪ জন অংশ নেন। অনুপস্থিত ছিলেন ৯০৯ জন।

সেই হিসেবে উপস্থিতির হার ছিল ৬৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রের বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন।

কোন ধরণের সমস্যা ছাড়াই পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ঢাবিসহ দেশের সাত বিভাগের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শনিবার বেলা ১১টায় একযোগে শুরু হয়। চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস জানায়, ‘ঘ’ ইউনিটে ১ হাজার ৫৭০ আসনের বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৮৮১ জন আবেদন করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬১ হাজার ৮৫০, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২ হাজার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯ হাজার ৮৯৮, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭ হাজার ৭৯৮, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ হাজার ১২৪, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ১৭৮, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ১৩ এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ হাজার ২০ জনের আসন পড়েছে।

ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে মানবিক, ব্যবসায় শিক্ষা ও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা বিভাগ পরিবর্তন করতে পারবেন। এ ইউনিটে ১১টি অনুষদের অধীনে বিভাগ রয়েছে ৫৫টি।

গত ১ অক্টোবর থেকে ঢাবির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ওই দিন বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়।

আরও পড়ুন:
অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’
ডোবায় মিলল যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ
বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মরদেহ
শাটারবিহীন দোকানে যুবকের গলাকাটা মরদেহ

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে সহিংসতার ‘হোতা’ সৈকত ছাত্রলীগ নেতা

পীরগঞ্জে সহিংসতার ‘হোতা’ সৈকত ছাত্রলীগ নেতা

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় অভিযুক্ত সৈকত মণ্ডল রংপুর কারমাইকেল কলেজের ছাত্রলীগ নেতা। সহিংসতার পর তাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

সৈকত রংপুরের কারমাইকেল কলেজের দর্শন বিভাগের যে কমিটিতে ছিলেন, সেটি ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট অনুমোদন দেন কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার ও সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ। এ-সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পেয়েছে নিউজবাংলা। সাইদুজ্জামান সিজারও বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লিতে সহিংসতার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে র‍্যাব যাকে আটকের কথা জানিয়েছে, সেই মো. সৈকত মণ্ডল ছাত্রলীগ নেতা বলে নিশ্চিত হয়েছে নিউজবাংলা।

তিনি রংপুরের কারমাইকেল কলেজে সংগঠনটির দর্শন বিভাগের কমিটির ১ নম্বর সহসভাপতি। তবে পীরগঞ্জ সহিংসতার পর তাকে অব্যাহতি দেয়ার কথা জানায় কলেজ ছাত্রলীগ।

সৈকত দর্শন বিভাগের যে কমিটিতে ছিলেন, সেটি ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট অনুমোদন দেন কারমাইকেল কলেজ শাখার সভাপতি সাইদুজ্জামান সিজার ও সাধারণ সম্পাদক জাবেদ আহমেদ। এ-সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পেয়েছে নিউজবাংলা।

সাইদুজ্জামান সিজারও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সৈকত মণ্ডল দর্শন বিভাগের কমিটিতে ছিলেন। ফেসবুকে কমেন্ট করার কারণে রোববার তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।’

পীরগঞ্জে সহিংসতার ‘হোতা’ সৈকত ছাত্রলীগ নেতা


রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে শনিবার দুপুরে পীরগঞ্জে হিন্দুপল্লিতে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সৈকত মণ্ডলই এ ঘটনার হোতা। শুক্রবার রাতে টঙ্গী থেকে সৈকত ও তার সহযোগী রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।’

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অরাজকতা তৈরি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের লক্ষ্যে হামলা-অগ্নিসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার এবং মাইকিং করে হামলাকারীদের জড়ো করেন বলে জানিয়েছেন। গ্রেপ্তার সৈকত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণকে উত্তেজিত করে তোলেন। এ ছাড়া তিনি ওই হামলা ও অগ্নিসংযোগে অংশগ্রহণে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করেন।’

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, সৈকতের বাবা রাশেদুল ইসলাম রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় না থাকলেও দাদা আবুল হোসেন মণ্ডল রামনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এবং তার চাচা রেজাউল করিম রামনাথপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৬ নম্বর ইউনিটের সভাপতি।

নিউজবাংলার প্রতিনিধি শনিবার বিকেলে সৈকত মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় সৈকতকে নির্দোষ দাবি করেন তারা।

সৈকতের চাচা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমার ভাতিজা সৈকত মণ্ডল ঘটনার দিন দক্ষিণ পাড়ায় হিন্দুপল্লিতে অবস্থান করছিল। ওই সময় পুলিশ ও রামনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম ছিলেন।

‘পুলিশ যখন বলছিল পরিতোষকে (ফেসবুকে যার একটি কমেন্ট নিয়ে উত্তেজনার শুরু) গ্রেপ্তার করা হবে, তখন সৈকত প্রশ্ন করেছিল কতক্ষণের মধ্যে গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে সৈকত হাত উঁচিয়ে সবাইকে বাড়ি যেতে বলে এবং এ নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে অনুরোধ করে।’

পীরগঞ্জে সহিংসতার ‘হোতা’ সৈকত ছাত্রলীগ নেতা
রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে সৈকত ও তার সহযোগী

রেজাউল দাবি করেন, সৈকত যখন পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় পুলিশের সঙ্গে ছিলেন, তখন উত্তর পাড়ায় আগুন লাগে। তিনি নির্দোষ ও নিরপরাধ। তার পুরো বংশ আওয়ামী লীগ করে।

সৈকতের মা আঞ্জুয়ারা বেগম বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাদেকুল পরে আমাদের কইছে বাড়ি থাকি সরি যাও। আমি আমার স্বামী আর সৈকতকে নিয়ে পলাশবাড়ি যাই। সেখান থেকে তিন বাড়ি চেঞ্জ করি। তারপর বোনের বাড়ি থেকে অন্য বাড়িতে আসি। সেখানে র‍্যাব আমাদের ধরে ফেলে। তখন সৈকতের ঠিকানা বলি। তারা সৈকতকে ধরে।’

নির্দোষ হলে বাড়ি থেকে পালালেন কেন, জানতে চাইলে সৈকতের মা আঞ্জুয়ারা বলেন, ‘চেয়ারম্যান আমাদের সরতে কইছে। রেকর্ড করার ফোন থাকলে রেকর্ড করলেম হয়।’

সৈকত মণ্ডলের দাদা আবুল হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘আমি বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে আওয়মী লীগ করি। যখন এলাকায় কেউ আওয়ামী লীগ করার সাহস পায় নাই, তখন আমরাই আওয়ামী লীগ করেছি। আমরা কেমন করি জামায়াত শিবির হই।’

এ ঘটনায় যারা জড়িত তদন্ত করে তাদের গ্রেপ্তার এবং সৈকতের মুক্তি দাবি করেন তিনি।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রোববার রাতে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তর পাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকালে দুটি মামলা করেন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। ৪১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায় একটি মামলা করেন। আরেকটি মামলা করেছেন একজনকে আসামি করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে।

এরপর বুধবার রাতে পীরগঞ্জ থানার আরেক এসআই সুপথ হালদার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দুজনকে আসামি করে তৃতীয় মামলাটি করেন।

পীরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুবুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত তিন মামলায় ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অর্ধগলিত সেই মরদেহ ‘বগুড়ার রেজাউলের’
ডোবায় মিলল যুবকের বস্তাবন্দি মরদেহ
বাড়ির ছাদে দুই বোনের ঝুলন্ত মরদেহ
নিখোঁজের পরদিন পুকুরে মিলল পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মরদেহ
শাটারবিহীন দোকানে যুবকের গলাকাটা মরদেহ

শেয়ার করুন