দেশজুড়ে পণ্যবাহী পরিবহনশ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটের প্রথম দিন কোথাও কোথাও বন্ধ রয়েছে পরিবহন, আবার কোথাও পরিবহনশ্রমিকরা বলছেন, তারা জানেনই না ধর্মঘটের কথা।
মোটরযান মালিকদের ওপর আরোপিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহারসহ ১৫ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে ধর্মঘট।
প্রাইম মুভার ট্রেইলর মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হাসান মুরাদ বাদশা জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের বৈঠক রয়েছে। তার আগ পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। বৈঠকের পর নতুন করে সিদ্ধান্ত হবে কর্মবিরতি চলবে কি না।
ধর্মঘটের কারণে পচনশীল পণ্য পরিবহন নিয়ে উদ্বেগে আছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। যদিও তিন দিনের ধর্মঘটের প্রথম দিন পালনে দেশের বিভিন্ন জেলায় দেখা গেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র।
চট্টগ্রাম
ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে পণ্যবাহী কোনো গাড়ি ঢুকতে পারেনি বন্দরে।
কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়িতে চট্টগ্রামের ১৮টি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও খালি কনটেইনার আনা-নেয়া হয়। গাড়ি না থাকায় জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
কনটেইনার ডিপো সমিতির সচিব রুহুল আমিন সিকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিদিন রপ্তানি পণ্যবাহী দেড় হাজার কনটেইনার বন্দরে পাঠানো হয়। কর্মবিরতির কারণে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে পাঠানো যাচ্ছে না। আবার আমদানি পণ্যবাহী যেসব কনটেইনার ডিপোতে খুলে খালাস করা হয়, তাও বন্দর থেকে আনা যাচ্ছে না।’
বরিশাল
বরিশালে পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘটে অংশ নিয়েছে বরিশাল জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি, কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন। বন্ধ রয়েছে পণ্যবাহী সব ধরনের যানবাহন।
জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি, কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজাদ হোসেন কালাম মোল্লা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা বাধ্য হয়েই ১৫ দফা দাবি আদায়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছি। মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও শ্রমিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ধর্মঘটে কোনো ট্রাক, ট্যাংক-লরি, কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক চলতে দেয়া হবে না।’
ধর্মঘটের সমর্থনে মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রহমতপুর বিমানবন্দর মোড়ে সমাবেশ করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
বাংলাদেশ ট্রাকচালক শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি তালুকদার মো. মনির জানান, গাড়ির কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে পুলিশি হয়রানি ও পৌর টোলের নামে সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। তাদের ১৫ দফা দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
সিলেট
ধর্মঘটে সিলেট বিভাগে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। তবে বিভাগের চার জেলার মধ্যে কিছু ট্রাক, পিকআপ ভ্যান চলাচল করছে।
বাংলাদেশ কাভার্ড ভ্যান-ট্রাক-প্রাইম মুভার পণ্য পরিবহন মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট জেলার আহ্বায়ক শাব্বির আহম্মেদ ফয়েজ নিউজবাংলাকে জানান, ধর্মঘটের কারণে পণ্যবাহী ট্রাক সিলেটে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। তবে বিকেলের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজশাহী
পরিবহনশ্রমিকদের কেন্দ্রীয় ঘোষণার প্রতি সমর্থন দিয়ে রাজশাহীর ট্রাকশ্রমিকরা সকাল থেকে ট্রাক নামায়নি। জেলার বাইরে কোনো পণ্যবাহী পরিবহন যায়নি।
তবে রাজশাহী মহাসড়কে বাইরের জেলার কিছু ট্রাক চলতে দেখা গেছে। চলেছে পিকআপ ভ্যানও।
আশপাশের উপজেলা ও জেলা থেকে অটোরিকশা ও ভটভটিতে করে পণ্য নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা।
ট্রাক বন্ধ থাকায় ব্যবসার ওপর এখনও কোনো প্রভাব পড়েনি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
রাজশাহী বেনেতি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার আলী নিউজবাংলাকে জানান, ট্রাক বন্ধের ঘোষণা আগে থেকে দেয়া ছিল বলে এখন পর্যন্ত এর প্রভাব সেভাবে নেই। কারণ যাদের জরুরি পণ্য প্রয়োজন ছিল তারা আগেই নিয়ে এসেছেন। তবে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভয় কাজ করছে যে ধর্মঘট যদি শিগগিরই তুলে নেয়া না হয়, তাহলে পণ্যসংকট দেখা দেবে। পণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে।
সেকেন্দার আলী বলেন, ‘রাজশাহীতে তেমন পাইকারি বড় ব্যবসায়ী নেই। এখানে বেশি দিনের জন্য পণ্য মজুত করা হয় না। কয়েক দিন পরপরই পণ্য আনা হয়। এ কারণে তাদের মধ্যে ভীতি কাজ করছে।’
রাজশাহী ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সাদরুল ইসলাম বলেন, ‘রাজশাহীতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার ট্রাক চলাচল করে। রাজশাহীর কোনো ট্রাক আজকে চলাচল করেনি। তবে অন্য জেলায় কিছু চলেছে।
‘আমাদের নিজেদের দাবি আদায়ে এই কর্মসূচি পালন হচ্ছে। এখানে কোনো জোরজবরদস্তি নেই। কোনো পিকেটিং নেই।’
রংপুর
ধর্মঘটের বিপরীত চিত্র দেখা গেছে রংপুরে। এখানে চলাচল করছে সব ধরনের যানবাহন।
জেলা ট্রাক, ট্যাংক-লরি, কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘যে কর্মবিরতি দেয়া হয়েছে তা রাজধানীর তেজগাঁওকেন্দ্রিক। এই কর্মসূচি আমরা পালন করছি না।’
শহরের শাপলা টার্মিনালে ট্রাকচালক মনির হোসেন বলেন, ‘শুনছি ঢাকাত ধর্মঘট চলোছে। আমাদের এই দিকে ধর্মঘট নাই। আমরা গাড়ি নিয়ে ভাড়ার জন্য আসচি। ভাড়া পাইলে ভাড়া মারমো।’
কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালের ট্রাকচালক আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি শুনেছেন ২৬ তারিখ থেকে ধর্মঘট।
রংপুর নগর পুলিশের উপকমিশনার কাজী মুত্তাকী ইবনে মিনান বলেন, ‘আমরা মাঠেই আছি। কোথাও কোনো ধর্মঘট নেই।’
ময়মনসিংহ
রংপুরের মতো ময়মনসিংহেও মানা হচ্ছে না ধর্মঘট। সব সড়ক-মহাসড়কে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। ট্রাকের কারণে কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে যানজটও।
ধর্মঘটের কথাই জানেন না পণ্যবাহী পরিবহনের চালকরা।
ময়মনসিংহের পাটগ্রাম বাস টার্মিনালে ট্রাকচালক মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘সারা দেশে ধর্মঘট চলছে শুনেছি। তবে আমাদের নেতারা কিছুই জানায়নি। বলেছে এ ধর্মঘট মানতে হবে না। এ জন্য গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি।’
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বাইপাস মোড়ে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চালক মো. আরফান বলেন, ‘কের (কিসের) ধর্মঘট? এক দিন বাড়িতে বইয়্যা (বসে) রইলে পেডে ভাত দেওন যাইত না। দাবি আদায় করলে নেতারা আলোচনা করে করুক।’
জেলা মোটর মালিক সমিতির (ট্রাক বিভাগ) সম্পাদক রবিউল ইসলাম শাহীন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধর্মঘটের ডাক দেয়া সংগঠনটি একটি অঞ্চলভিত্তিক সংগঠন। তাদের ধর্মঘটে আমরা সাড়া দিইনি। পণ্য পরিবহনের সব গাড়ি চলাচলের নির্দেশ দিয়েছি।’
শাহীন জানান, তারা নিজেদের দাবি আদায়ে আগামী ২৭ ও ২৮ সেপ্টেম্বর পরিবহন ধর্মঘট পালন করবেন। দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।
চালকরা মনে করেন, পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের একাধিক সংগঠনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে দাবি আদায় হয় না। যদি সবাই একসঙ্গে বসে আলোচনা করে আন্দোলনের ডাক দেয়, তাহলেই সুফল মিলবে। বিচ্ছিন্নভাবে ধর্মঘট করে দাবি আদায় অসম্ভব।
সাভার
সাভারে সারা দিন স্বাভাবিকভাবে পণ্যবাহী পরিবহন চলাচল করেছে। ধর্মঘটের কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আশুলিয়া শাখার সদস্য আমির আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ধর্মঘটটা মূলত দক্ষিণবঙ্গের ওই দিকে। আমাগো এই দিকে কোনো ধর্মঘট নাই। সব স্বাভাবিকভাবেই চলতেছে। এই দিকে ধর্মঘট দেয়ার কোনো সম্ভাবনাও নাই।’
সাতক্ষীরা
পণ্য পরিবহনশ্রমিকদের ধর্মঘটের কোনো প্রভাব পড়েনি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরেও।
জেলা ভিআইপি ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহিন আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা পণ্য পরিবহন ধর্মঘটে সহমর্মিতা জানিয়েছি। তবে এতে অংশ নিচ্ছি না।’
ভোমরা স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি পরিতোষ ঘোষ জানান, বন্দরে ট্রাক চলাচল স্বাভাবিক আছে। বন্দরের কোনো কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি।
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গায় কৃষিপণ্যের ওপর ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
সকাল থেকেই জেলার সব রুটে বন্ধ রয়েছে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ সব ধরনের পণ্যবাহী পরিবহন। এতে জেলার বাইরে পণ্য পাঠাতে পারছেন না কৃষকরা। পচনশীল পণ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ৫ বিগি শিম চাষ করিচি। আমি শিম নিয়ি ঢাকায় বিক্রি করি। টিরাক ও মিনি টিরাক বন্দ হওয়ায় আমরা চিন্তায় পড়িগিচি। একুন তো সব নষ্ট হয়ি যাবে। একেনেও খুব একটা দাম পাওয়া যাবে না।’
জেলা শহরের বড় বাজার কাঁচামাল আড়ত সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষিপণ্য আমদানি করি। পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় কাঁচামাল আমদানি করতে পারছি না। এতে কৃষিপণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে।’
এদিকে দাবি আদায় না হলে আরও বড় কর্মসূচি দেয়ার কথা জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকনেতারা।
জেলা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান লাভলু বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারিতে সারা বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্য বিপর্যস্ত হয়েছে। এই সময় পণ্য পরিবহনমালিকদের ওপর অগ্রিম আয়কর চাপিয়ে দিয়েছে সরকার। এই সিদ্ধান্ত বাতিলসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা কর্মবিরতি পালন করছি।
‘আমাদের কেন্দ্রীয় নেতারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করছেন। দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।’
নওগাঁ
পণ্যবাহী পরিবহনশ্রমিকদের ডাকা ধর্মঘটে নওগাঁর সঙ্গে সারা দেশের পণ্য পরিবহন সেবা বন্ধ হয়ে গেছে।
নওগাঁ শহরের রজাকপুর ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। সকাল থেকে কোনো ট্রাক বা কাভার্ড ভ্যান ছেড়ে যায়নি। বাইরে থেকেও শহরে আসেনি।
এতে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী।
শহরের বিহারী কলোনির রশিদুল আলম বলেন, ‘আমি তিন মাস হলো ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করছি। আজ থেকে ধর্মঘটের কারণে কোনো ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান চলছে না। আমি পড়েছি মহাবিপদে।
‘দুই দিনের ছুটি নিয়ে বাড়ি এসেছিলাম। পরিবারসহ বাসার সব মাল নিয়ে আমার আজ ঢাকা ফেরার কথা ছিল। এখন মনে হচ্ছে সব রেখে একাই ফিরতে হবে।’
নওগাঁ পৌর কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা কাঁচা পণ্য ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় সরবরাহ করি। ধর্মঘটের কারণে কোনো পণ্য আজ পাঠাতে পারিনি। এভাবে তো আমার লস হয়ে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি সব চালু না হলে বড় ধরনের লসে পড়ে যাব।’
জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার জানান, দেশের ৮ থেকে ৯ শতাংশ চাল নওগাঁয় উৎপাদিত হয়। তিন দিন অন্য জেলায় চাল পাঠাতে না পারায় অনেক চাল ব্যবসায়ীই বিপাকে। কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
নওগাঁ জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি শেখ ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘১৫ দফার মধ্যে আমাদের প্রধান দাবি হচ্ছে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের অগ্রিম আয়কর নেয়া যাবে না এবং এ পর্যন্ত নেয়া অগ্রিম আয়কর ফেরত দিতে হবে। সহজ শর্তে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের নিবন্ধন এবং এসব গাড়িচালকদের লাইসেন্স দিতে হবে।
‘কেন্দ্রীয় সংগঠনের নির্দেশনা অনুযায়ী মালিক ও শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মঘট পালন করছেন। আমাদের দাবি আদায় না হলে আগামীতে আবারও ধর্মঘটের ডাক দেয়া হতে পারে।’
প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন চট্টগ্রামের সিফায়াত উল্লাহ, বরিশালের তন্ময় তপু, সিলেটের দেবাশীষ দেবু, রাজশাহীর আহসান হাবিব অপু, রংপুরের রফিকুল ইসলাম, ময়মনসিংহের কামরুজ্জামান মিন্টু, সাভারের ইমতিয়াজ উল ইসলাম, সাতক্ষীরার রফিকুল ইসলাম শাওন, চুয়াডাঙ্গার জহির রায়হান সোহাগ ও নওগাঁর সবুজ হোসেন
মঙ্গলবার রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাহিদ হোসেন। ছবি: বাসস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল ফটকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন জাহিদ হোসেন।
এই হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শারীরিক অবস্থার হঠাৎ অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেই চিকিৎসা উনি (বেগম খালেদা জিয়া) গ্রহণ করতে পারছেন, অথবা আমরা যদি বলি উনি মেনটেইন করছেন।
তিনি বলেন- আমরা এই সংকটময় মুহূর্তে আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে উনার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই। এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যাতে দেশবাসীর দোয়া, সারা পৃথিবীর অনেক মানুষের উনার প্রতি ভালোবাসা এবং দোয়ার কারণে হয়তো বা উনি এই যাত্রায় সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আমরা আশা করি।
বেগম খালেদা জিয়ার এই ব্যাক্তিগত চিকিৎসক বলেন, ‘আমরা আপনাদের মাধ্যমে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং সেই সঙ্গে কোন ধরনের গুজব ছড়ানো এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনীতভাবে পরিবারের পক্ষ থেকে, দলের পক্ষ থেকে আপনাদেরকে আমরা অনুরোধ করছি।
আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সম্মানিত সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনারা ধৈর্য ধরুন দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ আপনারা আমাদেরকে সহযোগিতা করেছেন। ইনশাআল্লাহ আমরা এই যাত্রাও আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের সহযোগিতা এবং আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ মেহেরবানীতে.... আমরা আবারো আমাদের প্রাণপ্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে আজকে দেশের মানুষের অকৃতিম ভালোবাসার প্রতীক সেটি আজকে প্রমাণিত, সেই লক্ষ্যেই আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
ডা. জাহিদ বলেন, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করেছেন- ধৈর্য ধারণ করার জন্য এবং উনি সার্বক্ষণিকভাবে বিরামহীনভাবে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। তিনি বলেন, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া চিকিৎসাকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। কোন ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে অনুরোধ করছি এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য সুস্থতার জন্য আপনাদের মাধ্যমে দেশ তথা সব ধর্মের মানুষের প্রতি আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকরা আজ আসছেন জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আজকেও ইউকে থেকে উনাকে দেখার জন্য বিশেষজ্ঞরা আসবেন এবং উনারা দেখবেন। দেখার পরবর্তীতে উনাকে যদি ট্রান্সফারেবল হয়, আমাদের যদি ট্রান্সফার করার প্রয়োজন পড়ে, উনার মেডিকেল বোর্ড মনে করে তখনই উনাকে যথাযথ সময়ে উনাকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সকল প্রস্তুতি আছে। কিন্তু সর্বোচ্চটা মনে রাখতে হবে যে রোগীর বর্তমান অবস্থা এবং সর্বোপরি মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কোন কিছু করার সুযোগ এই মুহূর্তে আমাদের নেই।’
দলের নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া কারো ব্রিফিংয়ে কান দেবেন না এমন আহ্বান জানিয়ে জাহিদ বলেন, ‘আমাদের দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- আমাদের দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ উনার স্বাস্থ্য ব্যতীত অন্যান্য বিষয়ে আপনাদেরকে মাঝে-মাঝে ব্রিফ করবেন। আমি ডাক্তার এসএম জাহিদ হোসেন দলের একজন কর্মী, আমি আপনাদেরকে উনার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্রিফ করব।’ এর বাইরে আপনারা অন্য কারো ব্রিফিংয়ের প্রতি কোন ধরনের কান না দেওয়ার জন্য দল আপনাদেরকে অনুরোধ করেছে। আপনারা যদি এটা মানেন, ফলো করেন তাহলে আর কোন গুজব ছড়ানোর সুযোগ থাকে না।
তারেক রহমান সর্বক্ষণ তদারকি করছেন জানিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার এই চিকিৎসক বলেন, বিভিন্ন ধরনের গুজব, বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য বিভিন্ন জায়গায় দেখার পরিপ্রেক্ষিতে দলের পক্ষ থেকে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার তদারকি করছেন। চিকিৎসার সমস্ত বিষয়ে তিনি দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে আমাদের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন।’
জাহিদ বলেন, ‘দলের মহাসচিব এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ সারা দেশের মানুষের মতো প্রধান উপদেষ্টা উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সার্বক্ষণিকভাবে উনার চিকিৎসার ব্যাপারে যথাযথ সহযোগিতা, এই হাসপাতাল হাসপাতালের চিকিৎসক নার্স এবং সব কর্তৃপক্ষ দিয়ে যাচ্ছেন এবং আমরা সবার প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
তিনি বলেন, আমাদের বন্ধু প্রতীম দেশ যারা অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, আমাদের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান এই চিকিৎসার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
অধ্যাপক জাহিদ জানান, গত ২৩ নভেম্বর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতত্বে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকরদের সমন্বয়ে মেডিকেল বেগম জিয়ার চিকিৎসা সেবায় কাজ করছেন। এই মেডিকেল বোর্ড রয়েছেন, অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক নুরুদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক এ কিউ এম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক জিয়াউল হক, অধ্যাপক মাসুম কামাল, অধ্যাপক এজেড এম সালেহ অধ্যাপক অবসরপ্রাপ্ত বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম, ডাক্তার জাফর ইকবাল. বাংলাদেশের বাইরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রফেসর হাবিবুর রহমান, প্রফেসর রফিকউদ্দিন আহমেদ, প্রফেসর জন হ্যামিল্টন, প্রফেসর ডক্টর হামিদ রব, যুক্তরাজ্য থেকে প্রফেসর জন পেট্রিক, প্রফেসর জেনিফার ক্রস, ডাক্তার জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের এবং বাংলাদেশের চিকিৎসকদের যৌথভাবে গঠিত মেডিকেল টিম কাজ করছেন।
গত ২৭ নভেম্বর থেকে এভার কেয়ার হাসপাতালের ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিটে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান অধ্যাপক জাহিদ। সূত্র: বাসস
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন মেয়াদে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে অবসরে যাওয়া তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষককে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বিদায়ী সংবর্ধনা গ্রহণকারী তিন প্রজন্মের তিনজন প্রধান শিক্ষক হলেন, সন্তোশ কুমার, মো: ফজলুল আমিন, মো: সোহরাওয়ার্দী।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার টবগী ইউনিয়নে পশ্চিম বিশারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, সাইফুল ইসলাম কামরুছ, পরিচালক, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রনজিৎ চন্দ্র দাস, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বোরহাউদ্দিন।
বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাখাওয়াত হোসাইন হাওলাদার, উপদেষ্টা সম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশ বানী, কাজী শহীদুল আলম নাসিম, যুগ্ন আহ্বায়ক, বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপি, কাজল মিয়া হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক, টবগী ইউনিয়ন বিএনপি, বশির আহমেদ, সভাপতি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি, মানসুর হাওলাদার, জাকারিয়া আজম, অধ্যক্ষ, হাফিজ ইব্রাহিম মহাবিদ্যালয়, জসিমউদ্দিন হাওলাদার, চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, কামাল হাওলাদার, সাবেক চেয়ারম্যান, টবগী ইউনিয়ন পরিষদ, আঃ হান্নান মিঠু, সভাপতি, হাকিমুদ্দিন ফাজিল মাদ্রাসা, তন্ময় শিকদার, সাধারণ সম্পাদক মলংচড়া ইউনিয়ন বিএনপি। এছাড়াও বিদ্যালয়টির প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় দীর্ঘ ১০ মাস ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজারের পদ শূন্য রয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন সরোয়ার ইউসুফ জামান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মিলন হোসেন। শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরে যান এবং একাডেমিক সুপারভাইজার বদলি হয়ে অন্যত্র যোগদান করেন। এরপর থেকে এ দুই পদে কেউ নিয়োগ না হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বর্তমানে গাবতলী উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সারিয়াকান্দির কার্যক্রম দেখছেন। তবে একাধারে দুই উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় সারিয়াকান্দিতে প্রয়োজনীয় নজরদারি ও তদারকি হচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোতে নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান শিক্ষকদের কাজের সমন্বয়, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি সাকী মো. জাকিউল আলম বলেন, “দীর্ঘদিন শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে। ফাইলপত্র জমা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা না পাওয়ায় শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।”
মথুরপাড়া কাজী বছির উদ্দীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি মো. তোফায়েল আহম্মেদ বলেন, “নিয়মিত শিক্ষা কর্মকর্তা না থাকায় শিক্ষার মান উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষকদের সমস্যা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে।”
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আতিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি শিক্ষা বিভাগের হলেও আমি ইতোমধ্যে জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করছি।”
বগুড়া জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমজান আলী আকন্দ বলেন, “সারিয়াকান্দির শূন্য পদে নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আপাতত গাবতলীর শিক্ষা কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে কাজ করছেন। দ্রুত পদ পূরণের চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয় শিক্ষাবন্ধুরা মনে করছেন, দ্রুত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও একাডেমিক সুপারভাইজার নিয়োগ না হলে উপজেলার শিক্ষার মান আরও পিছিয়ে পড়বে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বিসিক শিল্পাঞ্চলের একটি গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সকালের এ ঘটনায় দগ্ধদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
দগ্ধরা হলেন- কারখানাটির শ্রমিক আলআমিন (৩০), আজিজুল্লা (৩২), সেলিম (৩৫), জালাল মোল্লা (৪০), নাজমুল হুদা (৩৫) এবং সিকিউরিটি গার্ড সুপারভাইজার নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কারখানাটির নিচ তলায় কাজ করছিলেন ওই শ্রমিকেরা। এক পর্যায়ে গ্যাস লাইন থেকে বিকট একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয় শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন।
বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, সবার অবস্থাই গুরুতর। দগ্ধদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর নিরাপত্তাহীনতায় পুনরায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় গারো পাহাড় সীমান্তে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যসহ ৭ জনকে আটক করেছে বিজিবি।
সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল পৌণে সাতটার দিকে শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার নকশি সীমান্ত পথে নকশি ক্যাম্পের টহলরত বজিবি সদস্যরা তাদের আটক করে বিকেলে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বিষয়টি ২৬ আগষ্ট সকালে বিজিবি পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
আটককৃতরা হলো মানব পাচারকারী চক্রের সদস্য নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে রমজান আলী (২৪) ও আসমত আলীর ছেলে রাসেল (১৬)। আটক অনুপ্রবেশকারীরা হলো, নড়াইল জেলার কালিয়া থানার বোমবাঘ গ্রামের শামীম শেখ (২৩), আফসানা খানম (২২), রুমা বেগম (৩২), মিলিনা বিশ্বাস (২৮) ও তিন বছর বয়সী শিশু কাশেম বিশ্বাস।
বিজিবি এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানায়, মাথাপিছু ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২৩ আগস্ট রাতের আধারে নালিতাবাড়ীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে নারী এবং শিশুসহ ৫ বাংলাদেশীকে ভারতে পাঠায় মানব পাচারকারী রমজান আলী ও রাসেল। কিন্তু ভারতীয় পুলিশের তৎপরতায় নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে এ পাঁচ বাংলাদেশী। এ কারণে ২৫ আগষ্ট সোমবার সকাল পৌণে সাতটার দিকে ঝিনাইগাতির নকশি সীমান্তের কালিমন্দির এলাকা দিয়ে পুনরায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় টহলরত বিজিবি সদস্যরা টের পেয়ে সবাইকে আটক করে। পরে মানব পাচারে জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে এবং অন্য ৫ জনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অপরাধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা দায়ের করা হয় এবং সবাইকে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ময়মনসিংহ বিজিবি’র ৩৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
ঝালকাঠিতে গ্রাহকদের চাহিদা বিবেচনায় এনে ব্রান্ডশপ লোটো ও লি কুপার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১৩২তম ফ্লাগশিপ আউটলেট উদ্বোধন করেছে।
এক্সপ্রেস লেদার প্রোডাক্ট লিঃ এর ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর কাজী জাভেদ ইসলাম সহ কোম্পানির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের সাথে নিয়ে ফিতা কেটে আউটলেটটি উদ্বোধন করেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়।
পৌর শহরের সাধনার মোড়ে মঙ্গলবার ২৬ আগষ্ট সকাল ১০টায় লোটো ও লি কুপারের ফ্ল্যাগশিপ আউটলেটদ্বয়ের শুভ উদ্বোধন আনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠিতে কোম্পানীর এ যাত্রার প্রথম দিনে স্থানীয় ফ্যাশন সচেতন তরুণ তরুণীরা তাদের পছন্দের পন্য কালেকশন বেছে নিতে ভীর জমায়।
কোম্পানীর পক্ষ থেকে জানানো হয় প্রথম তিনদিনের প্রতিদিন প্রথম ৩০ জন পাবেন ৫০% ছাড়, ২য় ৩০ জন পাবেন ৪০% ছাড়, ৩য় ৩০ জন পাবেন ৩০% ছাড়, ৪র্থ ৩০ জন পাবেন ২০% ছাড় এবং তৎপরবর্তী সকল কাস্টমার পাবেন ১০% ছাড়। এই বিশেষ ছাড় ২৬শে আগষ্ট থেকে শুরু হয়ে ২৮ তারিখ পর্যন্ত চলমান থাকবে
নওগাঁয় সপ্তম শ্রেণীর এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে আটক রেখে ধর্ষণ মামলায় আ: সালাম (৩৮) নামে এক আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার এ রায় দেন।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আ: সালাম সদর উপজেলার বর্ষাইল মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম ওই শিক্ষার্থীর পরিবার পত্নীতলা উপজেলায় ভাড়া থাকতেন। ভাঙ্গারী ব্যবসার সুবাদে আসামী আ: সালামও পাশাপাশি একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ভিকটিম মাদ্রাসায় যাওয়া আসার পথে আ: সালাম বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিতো এবং রাস্তাঘাটে বিরক্ত করতো। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামী আ: সালাম ওই ভিকটিমের পরিবারকে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখাতো। এরই একপর্যায়ে ২০২২ সালের ১১ জুলাই বিকেল তিনটার দিকে আসামী আ: সালাম একটি বাজার এলাকা থেকে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করে নওগাঁ সদর উপজেলার ভবানীপুর দক্ষিন পাড়া গ্রামের মোজাফ্ফর রহমানের ভাড়া বাড়িতে আটক রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে ওই শিক্ষার্থীর বাবা পত্নীতলা থানায় অভিযোগ করলে র্যাব ওই বাড়ি থেকে আসামিকে গ্রেফতার ও মেয়েকে উদ্ধার করে। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা থাকায় আসামী আ: সালামসহ চার জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহন শেষে আজ আ: সালামকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং একই সঙ্গে এক লাখ টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়। বাকি আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে খালাস দেওয়া হয়।
মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রেজাউল করিম সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামী পক্ষের আইনজীবী ফাহমিদা কুলসুম উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানান।
মন্তব্য