পৌর নির্বাচনের ৫টিতে আ. লীগ, একটিতে স্বতন্ত্র

পৌর নির্বাচনের ৫টিতে আ. লীগ, একটিতে স্বতন্ত্র

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন, যশোরের নওয়াপাড়ায় নৌকার সুশান্ত কুমার দাস শান্ত, পঞ্চগড়র দেবীগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বক্কর সিদ্দিক (আবু), ফরিদপুরের ভাঙ্গায় নৌকার আবু রেজা মো. ফয়েজ, কক্সবাজারের মহেশখালীতে নৌকার মকছুদ মিয়া এবং চকরিয়ায় নৌকার আলমগীর চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, দুজনের প্রাণহানি ও কিছু প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে সোমবার ১৬০টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ৯টি পৌরসভার নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে।

সব পৌরসভায় ভোট হয়েছে ইভিএমে। ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে ১১টিতে ইভিএমে ভোট দিয়েছেন ভোটাররা।

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। যশোরের নওয়াপাড়া পৌরসভায় সুশান্ত কুমার দাস শান্ত টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হয়েছেন।

পঞ্চগড়র দেবীগঞ্জ পৌরসভায় নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক (আবু) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ফরিদপুরের ভাঙ্গা মডেল পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা মো. ফয়েজ আবারও মেয়র হয়েছেন।

কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকছুদ মিয়া এবং চকরিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আলমগীর চৌধুরী বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

নিউজবাংলা প্রতিনিধিদের বিস্তারিত খবর-

সোনাগাজীতে জয় পেল নৌকা

ফেনীর সোনাগাজী পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খোকন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি ৫ হাজার ৩৬১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু নাছের মোবাইল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫ ভোট।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ সেলিম পেয়েছেন ৭৯ ভোট।

রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এম জহিরুল হায়াত এসব তথ্য জানিয়েছেন।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলে। এই পৌরসভায় মোট ভোটার ১৫ হাজার ৯৮৫ জন। ভোট দিয়েছেন ৬ হাজার ৮৯৯ জন। এর মধ্যে ২৫টি ভোট বাতিল হয়েছে।

সোনাগাজী পৌরসভায় এবারেই প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ হয়।

পৌরসভায় মেয়র পদে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। আর কাউন্সিলর পদে ৯টি ওয়ার্ডে ২৩ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৪ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অভয়নগরে আবারও মেয়র শান্ত

যশোরের অভয়নগরে নওয়াপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী সুশান্ত কুমার দাস শান্ত টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীকে তিনি ২২ হাজার ৯১৮ ভোট পেয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের এইচ এম মহসীন পেয়েছেন ৭ হাজার ৮২৯ ভোট। লাঙল প্রতীকের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আলমগীর ফারাজী পেয়েছেন ৭৩৫ ভোট।

সোমবার রাত ৯টায় বেসরকারিভাবে এ ফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুর রহমান।

২০১৬ সালে নওয়াপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের সুশান্ত কুমার দাস শান্ত বিএনপির প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন।

দেবীগঞ্জ পৌরসভায় আ. লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর জয়

পঞ্চগড়র দেবীগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক (আবু) মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। রেল ইঞ্জিন প্রতীকে তিনি ২ হাজার ৯৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ২৪৭ ভোট।

সোমবার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং অফিসার ও দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রত্যয় হাসান।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ক্যারাম বোর্ড প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৯৮ ভোট।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ভোটার ১০ হাজার ৯১৪ জন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৫৯৮ জন ভোট দিয়েছেন। ভোট পড়েছে ৭৮.৭৭ শতাংশ।

ভাঙ্গায় আবু রেজা আবারও মেয়র

ফরিদপুরের ভাঙ্গা মডেল পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু রেজা মো. ফয়েজ আবারও মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন খান জানান, আবু রেজা ১২ হাজার ২৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের প্রার্থী আছাদুজ্জামান আছাদ মিয়া হাতপাখা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৩৭ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল মুন্সি নারিকেল গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৭১৯ ভোট।

কক্সবাজারে দুই পৌর নির্বাচনে নৌকার জয়

কক্সবাজারের মহেশখালী পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকছুদ মিয়া এবং চকরিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।

মহেশখালী পৌরসভায় নৌকা প্রতীকে মকছুদ মিয়া ৬ হাজার ৯৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। মকছুদ মিয়া টানা তৃতীয়বারের মতো মহেশখালী পৌরসভার মেয়র হলেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নারিকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থী সাবেক মেয়র সরওয়ার আজম ৫ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়েছেন।

মহেশখালী পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিন আল পারভেজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে চকরিয়া পৌরসভায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর চৌধুরী ২১ হাজার ৪৯০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

আলমগীর চৌধুরী দ্বিতীয়বারের মতো চকরিয়া পৌরসভার মেয়র হলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নারিকেল গাছ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়াবুল হক পেয়েছেন ৯ হাজার ৭৬২ ভোট।

চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এর মধ্যে সহিংসতার জেরে কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

সহিংসতায় কক্সবাজারে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, ভোটের আগেই ৪৪টি ইউপির চেয়ারম্যান পদে ও ৩টি পৌরসভার মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় একক প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। সেখানে ভোট হয়েছে অন্য পদগুলোতে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২
ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

মন্দিরে হামলাকারীরা কোনো ধর্মের নয়: মেয়র আইভী

মন্দিরে হামলাকারীরা কোনো ধর্মের নয়: মেয়র আইভী

সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘ইসলামে অন্য ধর্মকে আক্রমণ করার অনুমতি নেই। যারা মন্দিরে হামলা চালিয়েছে তারা মুসলিম নন, তারা জঙ্গি। আর জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে যারা হামলা চালিয়েছে তারা কোনো ধর্মের অনুসারী নয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় বঙ্গবন্ধু সড়কে আয়োজিত এক সম্প্রীতি সমাবেশে শনিবার সকাল ১০টার দিকে এ মন্তব্য করেন আইভী।

তিনি বলেন, ‘ইসলামে অন্য ধর্মকে আক্রমণ করার অনুমতি নেই। যারা মন্দিরে হামলা চালিয়েছে তারা মুসলিম নন, তারা জঙ্গি। আর জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই।’

একটি মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ধর্মীয় সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে উল্লেখ করে মেয়র আইভী বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি নষ্ট করতে মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। জড়িতদের সাজা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ আর সংগঠিত হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই অপরাধে জড়িত তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, সম্প্রীতির শহর নারায়ণগঞ্জে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করবেন না। এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বাস করে। সম্প্রীতির এই আয়োজনে আজ যারা অংশ নেননি তাদের ধিক্কার জানাই।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কাদির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ও আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিছুর রহমান দীপু।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২
ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

ভবঘুরে-উন্মাদ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

ভবঘুরে-উন্মাদ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

কুমিল্লার চকবাজার এলাকায় শনিবার মন্দির পরিদর্শন শেষে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: নিউজবাংলা

গয়েশ্বর বলেন, ‘জামায়াতকে দিনে দেখা যায় না, রাতেও দেখা যায় না, তারা কীভাবে হামলা-ভাঙচুর করতে পারে। হিন্দু-মুসলমানকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। না হয় ইন্ধনদাতাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না সরকার?’

ভবঘুরে-উন্মাদ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা, এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘ইকবাল ভবঘুরে-উন্মাদ, রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে। কারা তাকে ইন্ধন দিল, সেটা খুঁজে বের করতে হবে।’

শনিবার কুমিল্লা নগরীর চকবাজার এলাকার শ্রীশ্রী চাঁন্দমনি রক্ষাকালী মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি এ বক্তব্য দেন।

গয়েশ্বর বলেন, ‘নানুয়ার দিঘির পাড়ের ঘটনার পর সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লায় কিছু অপরিচিত যুবক বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা-লুটপাট করে। অথচ পুলিশ মামলা দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের।

‘জামায়াতকে দিনে দেখা যায় না, রাতেও দেখা যায় না, তারা কীভাবে হামলা-ভাঙচুর করতে পারে। হিন্দু-মুসলমানকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। না হয় ইন্ধনদাতাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না সরকার?’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অজয় রায় চৌধুরী, গৌতম রায়, দেবাশীষ চৌধুরী, অমলেন্দু দাস, সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২
ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী

কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলায় দিলীপ দাশের মৃত্যুর পর মুছে গেছে তার স্ত্রী রুপা দাশের সিঁথির সিঁদুর, পরেছেন সাদা শাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

দিলীপের মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যায় টিক্কার চর শ্মশানে দাহ করার আগে মুছে দেয়া হয় রুপার মাথার সিঁদুর, ভাঙা হয় হাতের শাঁখা। রঙিন শাড়ির পরিবর্তে তিনি এখন পরছেন বিধবার সাদা কাপড়।

দুদিন আগেই পরনে ছিল রঙিন শাড়ি, মাথায় সিঁদুর আর হাতে শাঁখা। আর এখন সব রঙ মুছে দিয়ে সাদা শাড়িতে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন রুপা দাশ। স্বামীকে চিতার আগুনে পোড়ানোর আগে তার পায়ের বুড়ো আঙুলে মুছে দেয়া হয়েছে রুপার সিঁথির সিঁদুর।

কুমিল্লায় গত ১৩ অক্টোবর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় গুরুতর আহত হন দিলীপ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

দিলীপের মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যায় টিক্কার চর শ্মশানে দাহ করার আগে মুছে দেয়া হয় রুপার মাথার সিঁদুর, ভাঙা হয় হাতের শাঁখা। রঙিন শাড়ির পরিবর্তে তিনি এখন পরছেন বিধবার সাদা কাপড়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সহিংসতার দিন সকালে বাসায় নাস্তা সেরে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর রাজ রাজেশ্বরী কালী মন্দিরে পূজা দিতে গিয়েছিলেন দিলীপ দাশ।

নানুয়ার দিঘীর পাড়ের একটি মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার পর তখন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে নগরীজুড়ে। রাজরাজেশ্বরী কালী মন্দিরেও চলে হামলা।

সংঘাত দেখে বাসায় ফিরতে চেয়েছিলেন দিলীপ। তবে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মন্দিদের গেটের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় হামলার শিকার হন, লুটিয়ে পড়েন মাটিতে।

রাজ রাজেশ্বরী কালী মন্দিরের পুরোহিত দুলাল চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে জানান, ১৩ অক্টোবর ওই সহিংসতার সময় মন্দির থেকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন দিলীপ। তবে বাইরে প্রচণ্ড গণ্ডগোল শুরু হওয়ায় তিনি মন্দিরের গেটের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে মন্দিরের ভেতরে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে হামলাকারীরা। এ সময় গুরুতর আহত হলে পূজারীরা আহত দিলীপকে গামছা দিয়ে মাথা বেঁধে বসিয়ে রাখেন। পরে তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দিলীপের স্ত্রী রুপা দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওইদিন দেড়টায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ফোন পাই। এ সময় আমাদের বাসার সামনে পুলিশ ও হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। পুলিশ আমাদেরকে বাইরে যেতে নিষেধ করে। এর মধ্যেই আমি এক আত্মীয়কে নিয়ে হাসপাতালে যাই।’

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। আমরা তাকে সেখানে নিলে চিকিৎসক সিটিস্ক্যান করাতে বলেন।

রুপা দাশ অভিযোগ করে বলেন, ‘এ সময় হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকায় সিটিস্ক্যান করাতে আমাদেরকে অন্তত আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী
পরিবারের কাছে দিলীপ দাশ এখন কেবলি ছবি

দিলীপ দাশ ধোপার কাজ করে সংসার চালাতেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে প্রিয়া রানী দাশ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। আর ছেলে রাহুল দাশ ঢাকায় লেখাপড়া করেন।

দিলীপের মেয়ে প্রিয়া বলেন, ‘বাবার মাথায় যে আঘাত দেখেছি তাতে স্পষ্ট যে হামলাকারীরা আমার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তার মাথার খুলি ভেঙে যায়। রক্তক্ষরণ ও তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমার বাবা মারা গেছেন।’

প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। দিলীপ দাশের মেয়ে প্রিয়া জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর তেমন কেউ খোঁজখবর নিতে আসেনি।

প্রিয়া নিউজবাংলাকে জানান, তিনি দৃষ্টিপাত নাট্যদলের সদস্য। তার বাবা হামলায় আহত হওয়ার পর ওই নাট্য সংগঠন চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। এছাড়া কেউ এগিয়ে আসেনি।

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী


দিলিপের স্ত্রী জানান, তাদের পরিবারের মূল নির্ভরশীলতা ছিল স্বামীর আয়ের উপর। পাশাপাশি একটি ছোট দোকান ভাড়া দিয়ে মাসে পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

রুপা দাশ বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর আমরা বড় সমস্যায় পড়েছি। দোকান ভাড়ার মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় কীভাবে সংসার চলবে, দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাব তা নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি।’

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২
ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

মণ্ডপে হামলা: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগ

মণ্ডপে হামলা: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগ

কমলগঞ্জে দুটি মণ্ডপে ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা। ছবি: নিউজবাংলা

মণ্ডপে হামলার অভিযোগগুলো কেন মামলা হিসেবে নেয়া হচ্ছে না, জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, দুটি মণ্ডপ ছাড়া বাকিগুলোতে তেমন বড় কোনো হামলা হয়নি। আসা-যাওয়ার পথে গেট ভাঙচুর করা হয়েছে। এগুলো জিডি আকারে আছে, তারা খতিয়ে দেখছেন।

কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় একাধিক মণ্ডপে ভাঙচুর হলেও সব ঘটনায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

মণ্ডপ কমিটির অভিযোগ, উপজেলায় ১৩ তারিখ রাতে পাঁচটিসহ মোট ১৪টি মণ্ডপে হামলা চালানো হয়। তবে পুলিশ মামলা নিয়েছে মাত্র দুটি। আরও চারটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও তা মামলা হিসেবে নেয়া হয়নি। বারবার চেষ্টা করেও মামলা করতে পারেনি মণ্ডপ কমিটি।

আর পুলিশের দাবি, হামলা হয়েছে আটটি মণ্ডপে। এর মধ্যে যে দুটি মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে সেখানকার মামলা নেয়া হয়েছে। অন্য মণ্ডপগুলোতে ছোটখাটো হামলা হয়েছে। এ জন্য জিডিগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, ভাঙচুর করতে গিয়ে অনেক জায়গায় প্রতিরোধের মুখে পড়ে হামলাকারীরা। এ জন্য সব জায়গায় সমান ক্ষতি হয়নি। দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বাকিগুলোতে মণ্ডপ, গেট, ডেকোরেশনসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তার দাবি, প্রতিরোধের কারণে হামলা হলেও সব মণ্ডপে মূর্তি ভাঙতে পারেনি দুর্বৃত্তরা। আবার ঘটনার দিন ভয়ে অনেকে হামলার কথা প্রকাশও করেনি। তাদের হিসাবে, ১৩ তারিখ রাত থেকে দশমীর পরদিন পর্যন্ত ১৪টি মন্দিরে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টিতে অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ মামলা নিয়েছে দুটি। অন্য মণ্ডপসংশ্লিষ্টরা ভয়ে মামলা করতে চাইছে না।

পূজা উদযাপন পরিষদের এই নেতা বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু তারা যখন দেখছে অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে নেয়া হচ্ছে না, তখন তারা আরও উৎসাহ হারাচ্ছে। আর পুলিশ কেন এমন করছে, তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।’

কুমিল্লার ঘটনার পর গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন স্থানীয়রা। সেই মিছিল থেকে মইদাইল সর্বজনীন পূজামণ্ডপ ও কামারছড়া চা-বাগান পূজামণ্ডপের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।

এ ছাড়া বৃন্দাবনপুর জগন্নাথ জিউর আখড়া পূজামণ্ডপ, বৈরাগির চক সর্বজনীন পূজামণ্ডপ, রামপুর সর্বজনীন পূজামণ্ডপ, নারায়ণক্ষেত্র শব্দকর একাডেমি পূজামণ্ডপ, রহিমপুর ইউনিয়নের শ্রীঘর পূজামণ্ডপ ও রানীরবাজারের সর্বজনীন পূজামণ্ডপের গেটে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই ঘটনায় হওয়া দুটি মামলায় এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতপরিচয়সহ প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মন্সিবাজার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুনিল মালাকার জানান, তার ওয়ার্ডে পড়েছে রামপুর ও নারায়ণক্ষেত্র মণ্ডপ দুটি। এখানে হামলা হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। মামলা দিতে কয়েকবার থানায় গেলেও ফিরে আসতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার গিয়েছি, কিন্তু আমাদের অভিযোগকে কেন মামলা হিসেবে নেয়া হলো না, তা আমরা বুঝতে পারিনি।

‘ওসি সাহেব বলেছেন, ক্ষতি বেশি হয়েছে যে দুইটার, তার মামলা নিয়েছি। আমরা প্রতিরোধ করার কারণে আমাদের এখানে ক্ষতি কম হয়েছে, কিন্তু মামলা নেয়ার ব্যাপারে ক্ষয়ক্ষতির হিসেবটা বুঝিনি। আমাদের বড় ক্ষতি হলে মামলা নিয়ে কী হতো?’

বাসুদেবপুর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মলয় মালাকার জানান, ১৩ অক্টোবর তাদের মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর হয়। পরদিন থানায় অভিযোগ দেন। তবে শনিবার পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। বারবার তাগাদা দিলেও কাজ হচ্ছে না।

কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, ‘মইদাইল সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কামারছড়া চা-বাগান পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের জানামতে, কমলগঞ্জ উপজেলায় মোট আটটি পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুর হয়।’

অভিযোগগুলো কেন মামলা হিসেবে নেয়া হচ্ছে না, জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ‘বাকিগুলোতে তেমন বড় কোনো হামলা হয়নি। আসা-যাওয়ার পথে গেট ভাঙচুর করা হয়েছে। এগুলো জিডি আকারে আছে, আমরা খতিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২
ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা: আটক ৮

ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা: আটক ৮

উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা মসজিদ

এপিবিএন-৮-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার বলেন, শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অস্ত্রসহ আটক মুজিবুর রহমান বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় ৮ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-৮-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

শুক্রবার অস্ত্রসহ আটক মুজিবুর রহমান বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।

৬ জন নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময়ে এসব ক্যাম্পে সহিংসতা ঘটতে পারে বলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গার স্রোত নামার পর গত চার বছরে এ রকম আতঙ্কজনক পরিস্থিতি আর কখনও তৈরি হয়নি। হামলার ভয়ে রোহিঙ্গাদের অনেক নেতা ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এই হামলায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে পুলিশ বলছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কিন্তু আরসার নাম ব্যবহার করে অপতৎরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

যে মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে, সেটি পরিচালনা করে ইসলামি মাহাস নামের রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠন। ওই সংগঠনটির সঙ্গে আরসার দ্বন্দ্ব আছে বলে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। তবে আরসার সশস্ত্র হামলার বিষয়ে ১৮ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দারা কথা বললেও তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

গুলিতে নিহত নুর আলম ওরফে হালিমের স্বজন ও ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি রাতে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক-ছাত্র ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা মিলে তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করেন। আমিও নিয়মিত তাহাজ্জুতে শরিক হই। তবে বৃহস্পতিবার আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় মসজিদে দেরিতে যাই।

‘কিন্তু আমি গিয়ে দেখি মাদ্রাসার ভেতরে সবাই ছোটাছুটি করছে। অনেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করছে। তাদের দেখে আমি দূরে সরে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এরপর সন্ত্রাসীরা চলে যায়।’

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লাম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ডি ব্লকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) কার্যালয়ে ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন।

আরসা নেতা আবদুর রহিমের নেতৃত্ব ২০ থেকে ২৫ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ওই হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পর্যন্ত মুহিবুল্লাহ হত্যার সঙ্গে জড়িত আরসার ৫ জন সদস্য ও ৪০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। আরসার সদস্যদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে ইসলামি মাহাসের সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন—এই ধারণা থেকে ওই মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছে রোহিঙ্গারা।

১৮ নম্বর ক্যাম্পের মাঝি আবুল কালাম বলেন, ‘প্রত্যাবাসন নিয়ে ইসলামি মাহাসের সঙ্গে আরসার বিরোধ আছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর মাহাসের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে গেছে।

‘আরসা মনে করছে, তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সরকারি বাহিনীকে সহযোগিতা করছে মাহাস। তা ছাড়া মাহাসের মাদ্রাসাটি আরসা এর আগেও দখল করতে চেয়েছিল। হুকুমতের (সরকারি) বাহিনী মাদ্রাসাটি রক্ষা করতেছে। সব মিলিয়ে এই হামলাটি হয়েছে।’

তবে পুলিশ বলছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আরসার অস্তিত্ব নেই। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খান বলেন, ‘মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কিন্তু আরসার নাম ব্যবহার করে অপতৎরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।’

গুলি করে হত্যায় নিহতরা হলেন দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও বালুখালী ২ নম্বর শিবিরের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস, বালুখালী-৯ নম্বর শিবিরের ব্লক-২৯–এর বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন, বালুখালী ১৮ নম্বর ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক আজিজুল হক ও মোহাম্মদ আমিন, একই মাদ্রাসার শিক্ষক ও বালুখালী-১৮ নম্বর শিবিরের ব্লক-এফ-২২-এর নুর আলম ওরফে হালিম এবং মাদ্রাসার শিক্ষক ও ২৪ নম্বর শিবিরের হামিদুল্লাহ। এর মধ্যে প্রথম চারজন ঘটনাস্থলেই এবং অপর দুজনকে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের ক্যাম্পে দাফন করা হয়েছে।

শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নানান অপরাধ ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের হত্যা করছে? এ প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর কাঠামো, আধিপত্য বিস্তার, আবাস-বিন্যাস, ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিবৃদ্ধি এবং নানান জাতের অবৈধ কারবারের বিস্তারে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় সাতটি দল। সেগুলোর মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের জন্য দ্বন্দ্বরত বিভিন্ন ছোট দল ও উপদলের মধ্যকার সংঘাত নিয়মিত চলছে। দলগুলোর মধ্যে কোনো একটি দল এ হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে লাভবান হয়েছে। এ জন্য তারা হামলা চালিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২
ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

চবি ছাত্রলীগ কর্মীকে ‘পেটালেন’ বাড়ির মালিক

চবি ছাত্রলীগ কর্মীকে ‘পেটালেন’ বাড়ির মালিক

চবির সহকারী প্রক্টর এসএএম জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বাড়ির মালিক মারধর করেছেন বলে শুনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ বক্সে আনা হলে তিনি একেকবার একেক কথা বলেন। আমরা বিষয়টি হাটহাজারি থানায় হ্যান্ডওভার করেছি।’

ভাড়া নিয়ে তর্ক করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যম্পাসের বউবাজারের কাছে শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র। তিনি ছাত্রলীগের উপগ্রুপ-ভিএক্স এর কর্মী।

অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বউবাজারের কাছে বিসমিল্লাহ্ ভবন-১ এর মালিক মো. জসিম।

মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃ্হস্পতিবার রাতে ভর্তি পরীক্ষার্থী রাখার জন্য জসিমের সঙ্গে বাসা ভাড়া নিয়ে আমার আলোচনা হয়। ছয় হাজার টাকায় তিনি বাসা ভাড়া দিতে রাজি হন। শুক্রবার সকালে তাকে ফোন দিলে তিনি বাসা ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ জানতে চাইলে বলেন, এখানে স্যার-ম্যাডাম থাকেন, তারা নিষেধ করেছেন। খবর নিয়ে জানলাম, এখানে স্যার ম্যাডাম থাকেন না।

‘এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার তর্কাতর্কি হয়। এরপর চার-পাঁচটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে তার লোকজন নেমে আমাকে মারধর শুরু করে। জিরো পয়েন্টে এলে আমাকে আবার মারধর করা হয়। এ সময় আমার মোবাইল ভেঙে যায়।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর হাটহাজারি থানার ওসি (তদন্ত) আমাকে উদ্ধার করেন। এরপর প্রক্টোরিয়াল বডি আসে। এই ঘটনায় আমি হাটহাজারি থানায় অভিযোগ করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এসএএম জিয়াউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বাড়ির মালিক মারধর করেছেন বলে শুনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ বক্সে আনা হলে তিনি একেকবার একেক কথা বলেন। আমরা বিষয়টি হাটহাজারি থানায় হ্যান্ডওভার করেছি।’

হাটহাজারি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষার্থী রাখার জন্য বাড়ি ভাড়ার টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। একজন আট হাজার টাকা বলছেন, আরেকজন ছয় হাজার। এটা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি, ঝগড়া বিবাদ। আমরা মীমাংসা করে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২
ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ভোলার

মিতু হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ভোলার

মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ভোলা। ছবি: নিউজবাংলা

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহীন জানান, চট্টগ্রাম মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক শফিউদ্দিনের আদালতে শনিবার সকালে ভোলা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ভোলা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক শফিউদ্দিনের আদালতে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, জবানবন্দি শেষে বিচারক ভোলাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম নগরীর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা জানান, যশোরের বেনাপোল থেকে শুক্রবার ভোরে ভোলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

মিতু হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ভোলাকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়।

জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন চৌধুরী ১৪ অক্টোবর বলেন, ‘ভোলা আজ আত্মসমর্পণ না করে সময়ের আবেদন করেন। আমরা এর বিরোধিতা করি। ভোলা হাইকোর্টের নির্দেশনা পালন না করায় আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।’

মিতু হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ভোলার
মাহমুদা খানম মিতু

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই দিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড শেষ হওয়ার পর থেকে কারাগারে আছেন বাবুল।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরুতে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
কক্সবাজারে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বেড়ে ২
ভোট বর্জন, সংঘাতের মধ্যে বাগেরহাটে চলছে ভোট

শেয়ার করুন