শিশুর হারিয়ে যাওয়া এক বছরের কী হবে

শিশুর হারিয়ে যাওয়া এক বছরের কী হবে

সোয়া চার বছরের ভোরকে স্কুলে ভর্তি করতে নিয়েও ফিরে এসেছেন মা। কারণ, সেখানে কবে ক্লাস শুরু হবে সেটি নিশ্চিত নয়। রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এর স্টারলিট স্কুল অফ ইংলিশ থেকে ছবিটি তুলেছেন পিয়াস বিশ্বাস।

২০২০ সালে স্কুল বন্ধ করে দেয়ার সময় যে শিশুর বয়স তিন থেকে সাড়ে চার বছর ছিল, তাদের শিক্ষাজীবন এখনও শুরু হয়নি। এক থেকে দুই বছর পরে শুরু করতে যাওয়া এ শিশুরা ভবিষ্যতে পিছিয়ে যাবে বলে ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে। এ অবস্থায় প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষাবর্ষ এক বছর না রেখে কয়েক মাস কমানোর পরামর্শ এসেছে।

স্কুলে যাওয়ার অপেক্ষায় স্বরিৎ ঋতি ভোর। বয়স তার সোয়া চার বছর। স্বাভাবিক সময়ে এই বয়সের আগেই শিশুরা স্কুলে যাওয়া শুরু করে।

রাজধানীতে বেসরকারি স্কুলগুলোতে প্রাক প্রাথমিকে প্লে গ্রুপ, নার্সারি, কেজি ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে কেজি টু পার হওয়ার পর প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয়।

ভোরকে তার বাবা-মা ভর্তি করাতে চান ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে। এখনও ক্লাস শুরু না হলেও প্লে-তে ভর্তি নেয়া হচ্ছে আগে থেকেই।

জুলাই থেকে জুন শিক্ষাবর্ষে ভোরকে এখন ভর্তি করা হলে ক্লাস ওয়ানে উঠতে উঠতে তার বয়স আট বছর পার হয়ে যাবে।

এ কারণে ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোতে সাধারণত তিন বছর থেকেই শিশুদের ভর্তি করা হয়, যা করোনার কারণে সম্ভব ছিল না। ২০২০ সালের মার্চ থেকেই বন্ধ সব স্কুল। আর ১৭ মাস পর গত ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খুললেও এখনও প্রাক-প্রাথমিকে ক্লাস শুরু হয়নি।

ভোরের মতোই লাখ লাখ শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হতে দেরি হয়েছে। যারা আগে থেকে স্কুলে ভর্তি ছিল, তারা অনলাইনে ক্লাস করলেও একেবারে প্লে গ্রুপের শিশুদের এভাবে ক্লাস করানো কঠিন। তাছাড়া এ বয়সে ভোরকে অনলাইন ক্লাসে অভ্যস্ত করতে রাজিও ছিলেন না তার বাবা-মা।

ভোরের মায়ের এ উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে। সেখানে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রাক‌-প্রাথমিক থেকে উচ্চতর শিক্ষার স্তর পর্যন্ত ৪ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব শিশু শুরুর বছরগুলোতে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে, তারা প্রায় ক্ষেত্রেই স্কুলে কাটানো অবশিষ্ট সময়ের জন্য পিছিয়ে থাকে এবং বছরের পর বছর এই ব্যবধান বাড়তে থাকে। একটি শিশুর প্রাপ্ত শিক্ষাবছরের সংখ্যা তার ভবিষ্যতের আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

শিশুর হারিয়ে যাওয়া এক বছরের কী হবে

রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা জান্নাত আক্তারের দুশ্চিন্তা আরও বেশি। তার ছেলে আরিয়ান হোসেনের বয়স এখন ৬ বছর। কিন্তু সে এখনও স্কুলে যায়নি। ফলে তার শিক্ষাজীবন আরও পিছিয়ে যাবে।

নিউজবাংলাকে জান্নাত বলেন, ‘পরিকল্পনা ছিল ৫ বছরে ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করার। কিন্তু করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। এখন কোন ক্লাসে ভর্তি করব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। তাছাড়া আমরা চাইলেই স্কুলগুলো ওপরের ক্লাসে ভর্তি নেবে কি না, তাও জানি না।’

মগবাজারের বাসিন্দা অর্পিতা সাহা বলেন, ‘করোনার কারণে ৫ বছরের ছেলে শুভ্র সাহাকে সঠিক সময়ে স্কুলে ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু ছেলে প্রতিদিনই স্কুলের ড্রেস পরে তৈরি হয়ে বাসায় বসে থাকে। আর সব বিষয়ে জেদ করে।’

মেয়ের শিক্ষার বয়স পিছিয়ে যাওয়ায় চিন্তিত মা নাহিদা খানম। নিউজবাংলাকে বলেন, ‘স্কুলে যাওয়া শুরু করলে মেয়ের সঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি হতো, এখন ঘুম থেকে ওঠে বেলা করে।

‘ঘরে একা থাকার কারণে কথা বলাতে তার জড়তাও রয়ে গেছে। মোবাইল ফোন আর টেলিভিশনে আসক্ত হয়ে পড়েছে। সে খেলাধুলা করতে চায়, তবে ঘরে তো সুযোগ কম। আগে পার্কে গেলেও করোনায় কয়েক মাস বন্ধ থাকায় অনভ্যস্ততার কারণে এখন আর যেতে চায় না।’

নাহিদা খানম বলেন, ‘জীবনের শৃঙ্খলা স্কুলে যাওয়ার মাধ্যমেই শুরু হয়। স্কুলে না যাওয়ায় মেয়েটা পিছিয়ে পড়েছে। শিক্ষাজীবন শুরু হতে না হতেই মেয়েটার জীবন থেকে এক বছর হারিয়ে গেল।’

সমাধান কী?

শুরুতেই পিছিয়ে পড়া এ শিশুদের নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনার তাগিদ এসেছে শিক্ষাবিদদের পক্ষ থেকে।

প্রাক-প্রাথমিকে পড়াশোনার চাপ কম থাকায় শিক্ষাবর্ষ ১২ মাসের বদলে কমিয়ে আনার পরামর্শ এসেছে। আবার ক্লাসে চাপ না দিয়ে শিশুদের সংবেদনশীলতার সঙ্গে যত্ন নিয়ে পড়ানোর তাগিদও এসেছে। প্রাক-প্রাথমিকে সনাতন পরীক্ষাপদ্ধতি ‍তুলে নেয়ার কথাও বলছেন কেউ কেউ।

শিশুর হারিয়ে যাওয়া এক বছরের কী হবে
ছয় বছর বয়সী আরিয়ান হোসেন এখনও স্কুলে যায়নি। তাকে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত তার বাবা-মা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের দেশেই বেশি সময় ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। বিষয়টিকে বাস্তব দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে।

‘আর যেসব শিশুর জীবন থেকে এক অথবা দুটি বছর হারিয়ে গেল, তাদের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে। কেননা দীর্ঘদিন বাসায় থাকার ফলে তাদের মানসিক ও দৈনন্দিন জীবনযাপনে বিভিন্ন পরির্বতন এসেছে। তাই শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলামও মনে করেন, ‘যে সময়টুকু চলে গেছে তা মেনে নিয়েই আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে।’

শিশুদের শিক্ষাজীবনের গ্যাপ কমানোর জন্য শিক্ষকদের বিশেষ ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘গ্যাপ কমাতে শিক্ষকদের একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে। তবে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দেয়ার বিষয়টিও খেয়াল রাখতে হবে। আর পড়াশোনাকে আনন্দদায়ক করার ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে হবে।’

আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের পরিচালক (শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘শিশুর জীবন থেকে কয় বছর অথবা কোন ক্লাস পার হলো, এটাকে বিবেচ্য না করে শিক্ষার্থী এই সময়ে কতটুকু শিক্ষা অর্জন করল, সেদিকে নজর দেয়া উচিত।’

তার মতে, প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষাবর্ষের সময় কমানো যেতে পারে। এক বছরের বদলে ৮ বা ৯ মাস করা যায়। এ জন্য আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা করতে হবে। তাহলে যাদের জীবন থেকে এক বছর হারিয়ে গেছে, সেটি ফিরে পাবে।

করোনার কারণে দীর্ঘদিন ঘরবন্দি শিশুদের ক্লাসমুখী করতে বিশেষ পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রাদার লিও পেরেরা।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে বেশির ভাগ প্রাক‌-প্রাথমিক স্কুলের ক্ষেত্রেই (কিছু ইংরেজি মাধ্যম ছাড়া) বইনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু শিক্ষাবিদরা চান শিক্ষার্থীরা যতটা বই পড়বে তার চেয়ে বেশি খেলাধুলা/গানবাজনা, চিত্রাঙ্কন ইত্যাদি করবে। এগুলোর উদ্দেশ্য হচ্ছে শিক্ষার সঙ্গে তাদের পরিচয় করে দেয়া ও প্রস্তুত করা। এ বিষয়গুলোর প্রতি এখন বেশি করে জোর দিতে হবে।’

গতানুগতিক ক্লাস নেয়ার বিপক্ষে কথা বলেন এই শিক্ষক। বলেন, ‘প্রথমে তাদের স্কুলে আসার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। লম্বা সময় ধরে ক্লাস না নিয়ে আগে তাদের পড়ার জন্য প্রস্তুত করতে হবে।’

এসওএস হারমান মেইনার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রাফিয়া আক্তার বর্তমান বাস্তবতা মেনে দ্রুত প্রাক‌-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার সুযোগ দেয়ার পক্ষে।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য ক্লাসের মতো এক দিনের জন্য হলেও প্রাক‌-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার সুযোগ দিতে হবে।’

দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকায় শিশুরা মানসিকভাবে চাপে থাকে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশন অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হক। তিনি বলেন, ‘তারা ঘন ঘন বিরক্ত ও হতাশ হতে পারে, আবার তাদের দুষ্টুমিও বেড়ে যেতে পারে। এ জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে।’

আরও পড়ুন:
স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান
বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুল খোলার খবরে ভাঙা হাত নিয়ে হাজির জিহান
সিলেটে যেসব স্কুল খোলেনি
স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক

ঢাবির কনসার্টে সহিংসতা প্রতিহতের ডাক

বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। ছবি: সিমু নাসের

ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো। মিছিল, বক্তৃতা, সভা ও সেমিনারের চেয়ে শিল্প অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদের মাধ্যম৷ তাই আমরা এই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছি।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কনসার্টের আয়োজন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতিমনা একদল শিক্ষার্থী।

বিকেল ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে কনসার্ট শুরু হয়। রাত ১০টায় শেষ হয় এ কনসার্ট। ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

কনসার্টে শিরোনামহীন, মেঘদল ও সহজিয়াসহ ১২টি ব্যান্ড দল গান পরিবেশন করে। গানের পাশাপাশি হয়েছে মূকাভিনয়, একক গান, নৃত্য ও থিমেটিক পারফরম্যান্স।

গানের দলগুলোর মধ্যে রয়েছে শিরোনামহীন, মেঘদল, সহজিয়া, শহরতলী, বাংলা ফাইভ, গানপোকা, কৃষ্ণপক্ষ, কাল্, অবলিক, অসৃক, গানকবি ও বুনোফুল৷

এ ছাড়া একক সংগীত পরিবেশন করেছেন জয় শাহরিয়ার, তুহিন কান্তি দাস, সাহস মোস্তাফিজ, লালন মাহমুদ, নাঈম মাহমুদ, প্রিয়াংকা পাণ্ডে, যশ নমুদার, তাবিব মাহমুদ, রানা, উদয়, অপু, উপায় ও অনিন্দ্য৷

উম্মে হাবিবা ও আবু ইবনে রাফি নৃত্য পরিবেশন করেছেন। মূকাভিনয় পরিবেশন করেছে ঢাকা ইউনিভার্সিটি মাইম অ্যাকশন। এছাড়া কনসার্টে একটি সমবেত ‘থিমেটিক পারফরম্যান্স’ পরিবেশন করা হয়।

বিকেলের দিকে কনসার্ট শুরু হলেও সন্ধ্যার দিকে কনসার্ট জমজমাট হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই কনসার্ট উপভোগ করেন।

ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজনের উদ্যোক্তা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষার্থী তুহিন কান্তি দাস বলেন, ‘এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে একাত্ম হয়ে সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো। মিছিল, বক্তৃতা, সভা ও সেমিনারের চেয়ে শিল্প অনেক শক্তিশালী প্রতিবাদের মাধ্যম৷ তাই আমরা এই মাধ্যমকেই বেছে নিয়েছি।’

তিনি বলেন, আমাদের প্রতিবাদের ভাষা গান, নৃত্য ও কবিতা। আমরা এই কনসার্টের মাধ্যমে দেশবাসীকে সহিংসতা প্রতিহতের বার্তা দেয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা চাই এদেশের মানুষ হিন্দু-মুসলিম পরিচয়ের চেয়ে সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে পরিচিত হোক। এটাই আজকের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।’

আরও পড়ুন:
স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান
বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুল খোলার খবরে ভাঙা হাত নিয়ে হাজির জিহান
সিলেটে যেসব স্কুল খোলেনি
স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

শেয়ার করুন

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষায় চট্টগ্রামে অনুপস্থিত ১১ শতাংশ

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষায় চট্টগ্রামে অনুপস্থিত ১১ শতাংশ

শুক্রবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা। ছবি: নিউজবাংলা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এসএম জিয়াউল ইসলাম জানান, পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিভাগের ৩ হাজার ৫৬৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ১৮০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩৭৯ জন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার ছিল ৮৯ শতাংশ।

শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হয়ে দেড় ঘণ্টার এই পরীক্ষা শেষ হয় দুপুর সাড়ে ১২টায়। এতে অনুপস্থিত ছিলেন ১১ শতাংশ পরীক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এসএম জিয়াউল ইসলাম জানান, পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিভাগের ৩ হাজার ৫৬৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ১৮০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩৭৯ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে পরীক্ষা হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার এবং উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) প্রফেসর বেনু কুমার দে ভর্তি পরীক্ষার হলগুলো পরিদর্শন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাবির ‘গ’ ইউনিট ভর্তি কমিটির চবি কো-অর্ডিনেটর বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম সালামত উল্যা ভূঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গ’ ইউনিট চট্টগ্রাম অঞ্চলের কো-অর্ডিনেটর এবং ট্রেজারার অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদসহ অনেকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভুঁইয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি। পরীক্ষার্থীদের সুবিধার জন্য সকাল ৮টা ও সাড়ে ৮টায় দুটি শাটল ট্রেন শহর থেকে ছেড়ে আসে।’

আরও পড়ুন:
স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান
বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুল খোলার খবরে ভাঙা হাত নিয়ে হাজির জিহান
সিলেটে যেসব স্কুল খোলেনি
স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

শেয়ার করুন

পূর্বাচলে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত স্থাপন শনিবার

পূর্বাচলে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত স্থাপন শনিবার

রাজধানীর বীর উত্তম রফিকুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে সিইউবির অস্থায়ী ক্যাম্পাস। ছবি: সংগৃহীত

পূর্বাচলের ৯ নম্বর সেক্টরে শনিবার বেলা ৩টায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত স্থাপনের কথা রয়েছে। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

রাজধানীর পূর্বাচলে নিজেদের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে যাচ্ছে দেশের প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ (সিইউবি)।

পূর্বাচলের ৯ নম্বর সেক্টরে শনিবার বেলা ৩টায় স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত স্থাপনের কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন ঢাকায় কানাডিয়ান হাইকমিশনার বেনোয়া প্রিফন্টেইন।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা এবং বোর্ড অফ ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্বাচলে ১২ বিঘা জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সুবিশাল ক্যাম্পাস। সেখানে নির্মাণ করা হবে অ্যাকাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন, ল্যাব বিল্ডিং, বিনোদন, অডিটরিয়াম, লাইব্রেরি এবং প্রার্থনাকক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য নকশাটি বিশ্বমানের স্থপতিদের দিয়ে প্রণয়ন করা হবে বলে আশা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সিনিয়র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এইচ এম জহিরুল হকসহ অনুষ্ঠানে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, ইউজিসি সদস্য, কূটনীতিক, সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশে রয়েছে আধুনিক সময়ের উপযোগী বিভাগ। শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে রয়েছে বৃত্তির সুযোগ। ইনফরমেশন সিস্টেমস অডিট অ্যান্ড কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।

এ ছাড়া কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসারে সাজানো হয়েছে পাঠ্যক্রম।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা সর্বোত্তম মানের শিক্ষা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। প্রতিষ্ঠানটি দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনে প্রায়োগিক জ্ঞানের ওপর জোর দিয়ে থাকে।

আরও পড়ুন:
স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান
বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুল খোলার খবরে ভাঙা হাত নিয়ে হাজির জিহান
সিলেটে যেসব স্কুল খোলেনি
স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

শেয়ার করুন

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষা শুরু, আসনপ্রতি ২২ জন

ঢাবির ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ফাইল ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস জানায়, ‘গ’ ইউনিটে ১ হাজার ২৫০ আসনের বিপরীতে ২৭ হাজার ৩৭৪ জন আবেদন করেছেন। এই হিসাবে ইউনিটটিতে আসনপ্রতি লড়বেন ২২ শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সাত বিভাগের আরও সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে একযোগে শুরু হয় পরীক্ষা। চলবে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস জানায়, ‘গ’ ইউনিটে ১ হাজার ২৫০ আসনের বিপরীতে ২৭ হাজার ৩৭৪ জন আবেদন করেছেন। এই হিসাবে ইউনিটটিতে আসনপ্রতি লড়বেন ২২ শিক্ষার্থী।

গত ১ অক্টোবর থেকে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। ওই দিন বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়।

২ অক্টোবর (শনিবার) কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের পরীক্ষা হয়। ৯ অক্টোবর (শনিবার) চারুকলা অনুষদভুক্ত ‘চ’ ইউনিটের বহু নির্বাচনি অংশের ভর্তি পরীক্ষা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ইউনিটে এবার মোট ১২০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হবে। সেখানে মূল পরীক্ষায় (বহু নির্বাচনি ও লিখিত) ১০০ এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ওপর ১০ করে ২০ নম্বর থাকবে।

‘ক’, ‘খ’, ‘গ’ ও ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ৬০ নম্বরের বহু নির্বাচনি ও ৪০ নম্বরের লিখিত অংশ থাকবে। উভয় অংশের জন্য ৪৫ মিনিট করে সময় থাকবে।

তবে ‘চ’ ইউনিটের ৪০ নম্বরের বহু নির্বাচনি পরীক্ষার জন্য ৩০ মিনিট আর ৬০ নম্বরের অঙ্কন পরীক্ষার জন্য ৪৫ মিনিট সময় বরাদ্দ ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি ইউনিটে ৭ হাজার ১৪৮টি আসনের বিপরীতে এবার ৩ লাখ ২৪ হাজার ৩৪০ প্রার্থী অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন করেছেন। প্রতি আসনের বিপরীতে ৪৫ শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

বিভাগীয় শহরের যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির পরীক্ষা কেন্দ্র করা হয়েছে সেগুলো হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন:
স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান
বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুল খোলার খবরে ভাঙা হাত নিয়ে হাজির জিহান
সিলেটে যেসব স্কুল খোলেনি
স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

শেয়ার করুন

স্বর্ণার স্মরণে জগন্নাথে মোমবাতি প্রজ্বলন

স্বর্ণার স্মরণে জগন্নাথে মোমবাতি প্রজ্বলন

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজিব মঞ্চে জগন্নাথের শিক্ষার্থী সুমাইয়া মেহজাবিন স্বর্ণার স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

স্বর্ণার বন্ধু আম্মান সিদ্দিকী বলেন, ‘স্বর্ণা অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্রী ছিল। তার আত্মহত্যার ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো না। তার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। তাকে স্মরণ করতে আজ আমরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছি।’ স্বর্ণার আত্মহত্যায় বিভাগের শিক্ষককে দায়ী করছেন তার বোন ও সহপাঠীরা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া মেহজাবিন স্বর্ণার স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় মুজিব মঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মোমবাতি প্রজ্বলনের আয়োজন করেন। এতে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরাসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

স্মৃতিচারণ করে স্বর্ণার বন্ধু আওলাদ হোসাইন সম্রাট বলেন, ‘সে অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্রী ছিল। তার এক্সট্রা-কারিকুলাম এক্টিভিটিজ ছিল অসাধারণ। সে একজন মনোযোগী স্টুডেন্ট। শিক্ষকরা যা বলতো সে সবসময় নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে তা করার চেষ্টা করতো। তার অকালে বিদায় কখনও মেনে নেওয়ার মতো না। আমাদের ডিপার্টমেন্ট সবসময়ই মনে রাখবে যে স্বর্ণা নামে একজন ছাত্রী ছিল। তার অকাল মৃত্যু সবসময়ই আমাদের শোকাহত করবে।’

এসময় স্বর্ণার আরেক বন্ধু আম্মান সিদ্দিকী বলেন, ‘স্বর্ণা অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্রী ছিল। তার আত্মহত্যার ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো না। তার মৃত্যুতে আমরা সবাই শোকাহত। তাকে স্মরণ করতেই আজ আমরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেছি।’

গত ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ওই শিক্ষার্থী তার গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার পলাশ পোল মধুমাল্লার ডাঙ্গী গ্রামে আত্মহত্যা করেন। স্বর্ণার আত্মহত্যায় বিভাগের শিক্ষককে দায়ী করছেন তার বোন ও সহপাঠীরা।

আরও পড়ুন:
স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান
বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুল খোলার খবরে ভাঙা হাত নিয়ে হাজির জিহান
সিলেটে যেসব স্কুল খোলেনি
স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

শেয়ার করুন

ইউজিসি স্বর্ণপদকের আবেদন আহ্বান

ইউজিসি স্বর্ণপদকের আবেদন আহ্বান

ইউজিসির রিসার্চ সাপোর্ট অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণকালীন শিক্ষকরা ইউজিসি স্বর্ণপদকের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

‘ইউজিসি স্বর্ণপদক ২০২০’ এর জন্য আবেদন আহ্বান করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। আবেদনপত্র পাঠাতে হবে আগামী ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার ইউজিসির রিসার্চ সাপোর্ট অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের পরিচালক মো. কামাল হোসেনের সই করা অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আবেদনের শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে-

১. দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণকালীন শিক্ষকরা ইউজিসি স্বর্ণপদকের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

২. আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে।

৩. প্রকাশিত প্রবন্ধ বা বই অবশ্যই ২০২০ সালে প্রকাশিত হতে হবে। কোনো পুনর্মুদ্রিত প্রবন্ধ বা পুস্তক গ্রহণযোগ্য হবে না।

৪. বর্ণনা ও জরিপমূলক, অনুবাদ বা সম্পাদনা কর্ম এবং রিভিউ আর্টিকেল এই স্বর্ণপদকের জন্য বিবেচিত হবে না।

৫. প্রবন্ধ যদি যৌথ প্রকাশনা হয় সে ক্ষেত্রে শুধু প্রধান লেখক বা সর্বশেষ লেখক অন্যান্য সহলেখকের সম্মতিপত্রসহ আবেদন করতে পারবেন।

৬. বইয়ের ক্ষেত্রে একাধিক লেখক হলে যৌথভাবে আবেদন করতে হবে।

৭. বাংলা ও ইংরেজিতে সর্বোচ্চ ২০০ শব্দের মধ্যে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিতে হবে।

৮. প্রকাশিত প্রবন্ধের ক্ষেত্রে ছয় কপি এবং বইয়ের ক্ষেত্রে চার কপি জমা দিতে হবে।

৯. বাংলা ও ইংরেজিতে সর্বোচ্চ ২০০ শব্দের মধ্যে সারাংশ জমা দিতে হবে।

১০. প্রবন্ধের সফট কপি [email protected] ঠিকানায় অবশ্যই জমা দিতে হবে।

১৯৮০ সালে প্রবর্তিত হয় ‘ইউজিসি অ্যাওয়ার্ড’। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষায় মৌলিক গবেষণা ও প্রকাশনায় উৎসাহ দিতে এই সম্মাননার নাম পরবর্তী সময়ে ‘ইউজিসি স্বর্ণপদক’ করা হয়।

আরও পড়ুন:
স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান
বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুল খোলার খবরে ভাঙা হাত নিয়ে হাজির জিহান
সিলেটে যেসব স্কুল খোলেনি
স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

শেয়ার করুন

শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল

শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই কমিটির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আইনি এবং নৈতিক কোনো অধিকার নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষক সমিতিকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি না দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক সমিতির মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির পদত্যাগ দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নীলদলের একাংশ। একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষক সমিতিকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি না দিতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের সভাপতি ড. মো. আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, শিক্ষক সমিতির ২০২০ সালের কমিটির নেতারা শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার বদলে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে তৎপর। শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে তাদের দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশন গঠন করা। কিন্তু এই সমিতি শিক্ষকদের প্রতি দায়বদ্ধতাকে পাশ কাটিয়ে এবং সমিতির গঠনতন্ত্রকে অবমাননা করে অবৈধভাবে দুই বছর পদ আঁকড়ে ধরে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত। যথাসময়ে নির্বাচন কমিশন গঠন না করে তারা শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে এই কমিটির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের আইনি এবং নৈতিক কোনো অধিকার নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষক সমিতিকে কোনো ধরনের স্বীকৃতি না দিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নীল দলের সভাপতি ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘মেয়াদ শেষ হলেও সাধারণ শিক্ষকদের মতামত উপেক্ষা করে এ সমিতি প্রায় দুই বছর ধরে দায়িত্ব পালন করে আসছে। এটি সমিতির গঠনতন্ত্রবিরোধী। সমিতির গঠনতন্ত্রকে ঠিক রেখে সাধারণ শিক্ষকদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে আমি পদত্যাগ করেছি।’

ড. মো. আবুল হোসেন জবি শিক্ষক সমিতির ২০২০ সালের কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি জবি নীলদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চায় জবি নীলদল
মেয়াদ উত্তীর্ণ শিক্ষক সমিতির পদত্যাগ চেয়ে জবি নীলদলের বিজ্ঞপ্তি

বুধবার রাতে তিনি শিক্ষক সমিতি থেকে পদত্যাগের পরই নীলদলের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

ড. মো. আবুল হোসেনের পদত্যাগ ও জবি নীলদলের পক্ষ থেকে শিক্ষক সমিতির পদত্যাগের দাবি জানানোর পরপরই শিক্ষক সমিতির নির্বাচন কমিশন গঠনের খবর আসে।

৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৩তম সভার সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২২ আয়োজনের লক্ষ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মনোনীত করে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন ২৫ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এটি ১০ অক্টোবর শিক্ষক সমিতির প্যাডে প্রকাশ করা হয়।

ক্যাম্পাস খোলার পরই বর্তমান নেতারা শিক্ষক সমিতির ব্যানার ও পদ পরিচয়ে নিজেরা প্রোগ্রাম করেন ও অন্য প্রোগ্রামেও অংশ নেন। এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে জবি নীল দল।

শিক্ষক সমিতির বর্তমান কমিটির সভাপতি নূ‌রে আলম আব্দুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সাধারণ সভার মাধ্যমে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা পর্যন্ত শিক্ষক সমিতি বহাল থাকবে। তবে এসময় সমিতি সীমিত আকারে তাদের কার্যাবলি পরিচালনা করবে।

‘দায়িত্ব হস্তান্তর ছাড়া কোনো সাধারণ সভা করা যাবে না। ড. আবুল হোসেন যখন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, তখন শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচিত হওয়ার পরেও পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। গত শিক্ষক সমিতিও ইলেকশন কমিশন গঠনের পরে পিকনিকের আয়োজন করেছিল।’

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাস বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালিত হবে। তফসিল ঘোষণার কাজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হবে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির গঠনতন্ত্রের ধারা ৫ এর ৩ উপধারায় কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদের বিষয়ে লেখা রয়েছে, ‘কার্যনির্বাহী পরিষদের মেয়াদ হবে বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে নতুন কার্যনির্বাহী পরিষদ দায়িত্ব নেয়ার আগে পর্যন্ত বর্তমান পরিষদ দায়িত্ব পালন করবে।’

এর আগে ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর শিক্ষক সমিতির বর্তমান কমিটির দ্বিতীয় সাধারণ সভার ৫ নম্বর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয়ার এক মাসের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। এ সময় পর্যন্ত বর্তমান শিক্ষক সমিতি দায়িত্ব পালন করবে।

করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার পর একটি সাধারণ সভা আয়োজন করে সভার মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যনির্বাহী পরিষদ দ্বারা নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় জবিশিস।

আরও পড়ুন:
স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান
বকেয়া ফি বেশি হলে ধাপে ধাপে নিন: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুল খোলার খবরে ভাঙা হাত নিয়ে হাজির জিহান
সিলেটে যেসব স্কুল খোলেনি
স্কুল পানিতে তলিয়ে, ক্লাস সড়কে

শেয়ার করুন