বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মত চান কাদের

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মত চান কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ছবি: নিউজবাংলা

নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্টে বিএনপি এখনই প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘তাদের এসব অসাংবিধানিক প্রয়াস অতীতের মতো কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় একটা ক্রেডিবল ইলেকশন আয়োজনে কী করা যায়, তা নিয়ে আপনারা মতামত দিন।’

সংবিধান মেনে বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে কীভাবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় তা নিয়ে মতামত নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দিতে বিএনপিকে আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগও মতামত কমিশনে দেবে বলে জানান তিনি।

রাজধানীর সরকারি বাসভবন থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি যেমন গায়ের জোরে আইন লঙ্ঘন করতে চায়, তেমনি সংবিধানও জানতে চায় না। জাতীয় নির্বাচন কীভাবে, কার অধীনে হবে- এটা মীমাংসিত বিষয়। সংবিধানসম্মতভাবে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।’

নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্টে বিএনপি এখনই প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্তব্য কাদেরের। তিনি বলেন, ‘তাদের এসব অসাংবিধানিক প্রয়াস অতীতের মতো কোনো সুফল বয়ে আনবে না, বরং বিদ্যমান কাঠামোর আওতায় একটা ক্রেডিবল ইলেকশন আয়োজনে কী করা যায়, তা নিয়ে আপনারা মতামত দিন। সময় হলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও নির্বাচন কমিশনে মতামত দেবে।’

‘গত ১৩ বছর ধরে বিএনপি আন্দোলনের নিষ্ফল আহ্বান যেমনি ব্যর্থ হয়েছে, বর্তমান প্রয়াসও নিষ্ফল হবে’, যোগ করেন কাদের।

শেখ হাসিনার উদারতা দুর্বলতা নয়

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘উদারতা’, এটাকে ‘দুর্বলতা’ ভাবলে বিএনপি ভুল করবে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের আইন-আদালতের তোয়াক্কা না করে মনগড়া কথা বলাই বিএনপির স্বভাব। তারা অভিযোগ করেছে, সরকার নাকি বেগম জিয়াকে ভয়ে বিদেশ যেতে দিচ্ছে না। প্রকৃতপক্ষে বিএনপিই বেগম জিয়ার চিকিৎসা চায় কি না তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ আছে।’

বিএনপি নেতারা বেগম জিয়ার মুক্তির ইস্যুতে রাজনীতি করছেন জানিয়ে কাদের বলেন, ‘চিকিৎসার ব্যাপারে যতটা নজর দিচ্ছেন, তার চেয়ে তাদের চিন্তা বেগম জিয়াকে ইস্যু করে রাজনীতি করা।’

বেগম জিয়া কিংবা ক্ষয়িষ্ণু বিএনপিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ভয় পায় না জানিয়ে কাদের বলেন, ‘তার (খালেদা জিয়ার) বয়স এবং স্বাস্থ্যের ওপর নজর দিয়ে সাজা স্থগিত করেছে চতুর্থবারের মতো। এ উদারতা একমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাই দেখিয়েছেন। বিএনপি শেখ হাসিনার উদারতাকে দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবে।’

ভাবনায় এবং চর্চায় বিএনপির একমুখী দর্শন তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্বের শিকড়কে দিন দিন দুর্বল করছে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়ার চিকিৎসা গ্রহণের বিষয়টি ইতিমধ্যেই মীমাংসিত। বিএনপি সব সময় মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করার অপপ্রয়াস চালায়। একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামির বিদেশ গমন বিদ্যমান আইনে সুযোগ আছে কি না, এটা বিএনপিও ভালো করে জানে।’

আইন মন্ত্রণালয় বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়ে দিলেও বিএনপি জেনে-শুনে না জানার ভান করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার কৌশল নিয়েছে বলেও অভিযোগ কাদেরের।

তিনি বলেন, ‘যে নেত্রীর জন্য তারা এত মায়াকান্না কাঁদছেন, সেই নেত্রীর মুক্তির জন্য একটা কার্যকর বিক্ষোভ মিছিলও তারা বাংলাদেশের কোথাও এ যাবৎ করতে পারেনি।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
নির্বাচন নিয়ে সংলাপে যেতে শর্ত থাকবে বিএনপির
যুবসমাজের কণ্ঠস্বর বাড়েনি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
‘তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আ. লীগের ‘দুর্গে’ নেই নৌকা প্রতীক

আ. লীগের ‘দুর্গে’ নেই নৌকা প্রতীক

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ অক্টোবর সদর উপজেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনই এখানে স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ১৪টি ইউনিয়নে কোনো নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না

তৃতীয় দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাদারীপুর সদর উপজেলার যে ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তার একটিতেও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের একাংশের নেতাকর্মীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে অপর একটি পক্ষ বলছে, দলীয় প্রতীক না থাকায় অন্তকোন্দল সৃষ্টির সুযোগ থাকছে না। ভোটরাও স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে উৎসাহ পাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ২৪ অক্টোবর সদর উপজেলায় প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় লোকজনই এখানে স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ফলে ১৪টি ইউনিয়নে কোনো নৌকা প্রতীকের প্রার্থী থাকছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ অক্টোবর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এজাজুর রহমান আকনের উপস্থিতিতে বর্ধিত সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শাজাহান খান।

আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই উপজেলার সবগুলো ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীর সংখ্যা বেশি এবং তাদের আলাদা করে বাছাই করা উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সম্ভব হচ্ছে না বলে আলোচনা হয়। তাই সভায় সবার সম্মতিতে সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা উম্মুক্ত রাখার সুপারিশ করা হয়। পরে সভার কার্যবিবরণী দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে সদর উপজেলার আরেক অংশের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ চৌকদার ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা কামালের উপস্থিতিতে ১৯ অক্টোবর শিল্পকলা একাডেমিতে বর্ধিত সভা হয়। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা। সেই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নৌকা প্রতীকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু দলীয় সংসদীয় বোর্ড ও স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভা শেষে সদর উপজেলায় তৃতীয় দফা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন থাকছে না বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

নৌকা প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে না, বিষয়টি জানার পর বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রার্থীরা প্রচারণা শুরু করেছে। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। বিভিন্ন এলাকাতে উঠান বৈঠকও করতে দেখা গেছে তাদের। এরই মধ্যে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র কিনতে শুরু করেছে। তৃণমূল আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নৌকা প্রতীক না থাকার বিষয়টি দেখছেন ভিন্নভাবে।

আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা যায়, তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ের রাজনীতিতেও একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। কেউ ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিতে আবার কেউ কেউ উপজেলা পর্যায়ের কমিটিতে রয়েছেন।

শাজাহান খানপন্থি একাংশের নেতাদের দাবি, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দলীয় মনোনয়ন দিতে গেলে একাধিক যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে বেছে নেয়া দুরূহ হতো। তা ছাড়া পরস্পরের মধ্যে মনোমালিন্য ও দূরত্ব সৃষ্টি হতো। এই মনোমালিন্য আর দূরত্ব রোধে সদরের ১৪টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনো দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি। দলীয় সমর্থনে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত সব প্রার্থী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট নিয়ে উৎসাহ তৈরি হয়েছে। নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভাপতি সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন সেলিম বলেন, ‘সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রার্থীতা উন্মুক্ত রেখেছে। এখানে দলীয় একক কোনো সমর্থন দেয়া হয়নি। কারণ প্রার্থীদের বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। একক প্রার্থী দিলে অন্তদ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এখন ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারবে। আমাদের আর কোনো সমস্যা নেই।’

মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ মোল্লা জানান, ‘নেত্রীর সিদ্ধান্তই আমরা মেনে চলি। তিনি যে নির্দেশনা দেবেন, সেটাই আমরা পালন করব। তারপরেও জেলা আওয়ামী লীগ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নের দলীয়ভাবে নিবেদিত কর্মীদের সমর্থন দিব। যাতে ত্যাগীরা জয়ী হতে পারে।’

মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, তৃতীয় ধাপে সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২ নভেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ। যাচাই-বাছাই হবে ৪ নভেম্বর, ১১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ এবং ২৮ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। এ উপজেলায় ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ২ লাখ ২১ হাজার ৭৮৩ জন ভোটার। আমাদের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
নির্বাচন নিয়ে সংলাপে যেতে শর্ত থাকবে বিএনপির
যুবসমাজের কণ্ঠস্বর বাড়েনি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
‘তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’

শেয়ার করুন

বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

বিতর্কিতদের বাদ দিতে নাম চায় আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সেটি জমা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কিছু জায়গায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূল থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিতে তাদের নাম কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নামও পাঠাতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে ব্রিফিংয়ের সময় এ নির্দেশনা দেন সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আপিলের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সেটি জমা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কিছু কিছু জায়গায় প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তৃণমূল থেকে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিষদের মনোনয়নের জন্য প্রস্তাবিত প্রার্থীর তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা তারপর জেলা হয়ে কেন্দ্রে নামের সুপারিশ আসে। এর আগে নাম তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও লোভের বশবর্তী না হয়ে এবং প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য গোপন না করতে দলীয়ভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না, বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘মীমাংসিত ইস্যু নিয়ে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের বক্তব্য আত্মঘাতী প্রবণতা ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে বিএনপি এখনও পুরোনো ধূসর পথে হাঁটছে। সময় ও স্রোতের মতো নির্বাচনও বসে থাকবে না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে হবে না। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। বিএনপি ক্ষমতায় যেতে চায়, তবে সেটি ব্যালটের মাধ্যমে নয়। ভিন্ন কোনো অগণতান্ত্রিক এবং চোরাগলি পথে।’

বিএনপি আরও একটি ওয়ান-ইলেভেনের স্বপ্নে বিভোর মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এ দেশে আর এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে হয় না। দেশের জনগণের ধ্যান- ধারণা বদলে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জনগণ এখন উন্নয়নপ্রিয়, ভবিষ্যৎদর্শী।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যারা গুজব ও অপপ্রচারকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নিয়েছে, তাদের চেহারা জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। বিএনপি নিজেরাই নিজেদের ফাঁদে আটকা পড়েছে, তাই তো তারা এখন উভয় সংকটে। না পারছে আন্দোলন জমাতে, না পারছে নির্বাচনে যেতে।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নয়, প্রকৃত অর্থে বিএনপিই এখন দেউলিয়া হয়ে গেছে। তারা এখন জনবিচ্ছিন্ন তাই নির্বাচনকে ভয় পায়। তাদের আন্দোলনের কথা শুনলে মানুষ হাসে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি ষড়যন্ত্র ও গুজবনির্ভর। তাদের রাজপথে কোনো অস্তিত্ব নেই। তাদের অস্তিত্ব শুধু ফেসবুক আর অনলাইনে। এসব কি বিএনপির দেউলিয়াত্বের লক্ষণ নয়?’

আরও পড়ুন:
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
নির্বাচন নিয়ে সংলাপে যেতে শর্ত থাকবে বিএনপির
যুবসমাজের কণ্ঠস্বর বাড়েনি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
‘তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’

শেয়ার করুন

ফরিদপুরের চর-ঝাউকান্দা ইউপি নির্বাচন স্থগিত

ফরিদপুরের চর-ঝাউকান্দা ইউপি নির্বাচন স্থগিত

নির্বাচন স্থগিতের পর সীমানা ও ওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের আগেই নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে উচ্চ আদালত।

সীমানা নির্ধারণে জটিলতা থাকায় ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার চর-ঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন স্থগিত করেছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে সীমানা ও ওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের আগেই নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

এ সংক্রান্ত এক আবেদনের পর সোমবার বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

সীমানা নির্ধারণে জটিলতার অভিযোগ তুলে চর-ঝাউকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরহাদ হোসেন মৃধা রিট করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম টিপু, তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার গালিব আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।

আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক ইনাম বলেন, ‘চর-ঝাউকান্দা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে পাঁচটি ওয়ার্ড গত বন্যায় পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সে কারণে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন বিদ্যমান ওয়ার্ড এবং ভোটার এলাকার সীমানা নির্ধারণ করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

‘যার ফলে নতুন করে সীমানা নির্ধারণ ও ভোটার এলাকা পুনর্গঠনের জন্য সীমানা নির্ধারণ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। সে সীমানা নির্ধারণের কাজে কর্মকর্তারা গত ১৮ আগস্ট নতুন করে একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়নি। সে মতে কোনো গেজেটও প্রকাশিত হয়নি।’

নতুন করে ওয়ার্ড পুনর্গঠন ও ভোটার এলাকা নির্ধারণের আগে এ ধরনের নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা আইনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেয়।

আরও পড়ুন:
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
নির্বাচন নিয়ে সংলাপে যেতে শর্ত থাকবে বিএনপির
যুবসমাজের কণ্ঠস্বর বাড়েনি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
‘তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’

শেয়ার করুন

জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন ইনুর

জামায়াত নিষিদ্ধ হচ্ছে না কেন, প্রশ্ন ইনুর

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসদ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় ক্ষমতাসীন ১৪ দলের নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

ইনু বলেন, ‘জামায়াত দেশে বারবার সশস্ত্র ও জঙ্গিবাদী আক্রমণ চালিয়েছে। এরপরেও জামায়াতকে কেন এখনও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীকে কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

তিনি বলেছেন, ‘জামায়াত দেশে বারবার সশস্ত্র ও জঙ্গিবাদী আক্রমণ চালিয়েছে। এরপরেও জামায়াতকে কেন এখনও নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না? জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।’

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাসদ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস: রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলের ভূমিকা’ শীর্ষক ওই আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক হামলার প্রসঙ্গ টেনে ইনু বলেন, ‘এ লড়াইটা আমাদের কারও একার লড়াই না। এটা সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই।’

১৪ দলের আরেক শরিক তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘সরকারের এত শক্তি থাকতে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা যাচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্ন তো আসতেই পারে।’

সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সিলেটের একজন হিন্দু ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার কারণে। এটার জন্য তো দেশের স্বাধীনতা আসেনি। আমি প্রশ্ন রেখে যাচ্ছি সরকারের কাছে, উত্তর তো সরকারের কাছেই।’

নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী বলেন, ‘শেখ হাসিনাই পারেন আমাদের ৭২-এর সংবিধানে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। নাহলে আর কোনো দিন তা হবে না। একমাত্র আওয়ামী লীগ চাইলেই এটা সম্ভব, না হলে সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সুফি মতবাদের যারা আলেম-ওলামা আছেন, তাদের সরকারের কাছে অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি নেয়ার সময় রাত ৮-৯টা পর্যন্ত লিখে দেয়া হয়। হেফাজতের কাউকে কিংবা জামায়াতের যে আলেমরা আছেন, তাদের তো এ অনুমতি নিতে হয় না। সারা রাত তারা মাহফিল করতে পারেন।’

সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলেও সত্য, সাম্প্রদায়িক হামলার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দর্শনে আক্রমণ করে জনগণের মধ্যে বিভক্তি নিয়ে আসতে চাইছে।’

৭২-এর সংবিধানের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা করে সাম্প্রদায়িক দর্শন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করা দরকার বলে মত দেন তিনি।

আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী। এ ছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

আরও পড়ুন:
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
নির্বাচন নিয়ে সংলাপে যেতে শর্ত থাকবে বিএনপির
যুবসমাজের কণ্ঠস্বর বাড়েনি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
‘তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’

শেয়ার করুন

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন: ফখরুল

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন: ফখরুল

বিএনপির চেয়ারপারসন কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

মির্জা ফখরুল বলেন বলেন, ‘ম্যাডাম বিপদমুক্ত। যতগুলো পুরনো ডিজিজ তার আছে, এ জন্য তার মাল্টি অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে এই ব্যবস্থা নেই। এটা আমরা বারবার বলে আসছি।’

বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার বিষয়ে তার মেডিক্যাল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সোমবার দলটির চেয়ারপারসন কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম বিপদমুক্ত। যতগুলো পুরনো ডিজিজ তার আছে, এ জন্য তার মাল্টি অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে এই ব্যবস্থা নেই। এটা আমরা বারবার বলে আসছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তার মুক্তিতে আইনগত বাধা আছে বলে মনে করি না। কেন তিনি জামিন পাবেন না? জামিন তার প্রাপ্য, এটা অধিকার, দয়া নয়। জামিন পাওয়াটা তার অধিকার। অবিলম্বে তার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার দরকার।’

এর আগে সোমবার সকালে বেগম জিয়ার চিকিৎসা-কার্যক্রমে যুক্ত একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক ‘প্যারামিটারগুলো’ ওঠা-নামা করছে। এ বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। সোমবার মেডিক্যাল বোর্ড তার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবেন।

গত মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকালে শারীরিক অবস্থার ফলোআপ করাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। পরদিন থেকে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) থেকে ব্যবস্থাপত্র দিতে শুরু করেছেন চিকিৎসকেরা।

সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের সদস্য ডা. আল মামুন, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
নির্বাচন নিয়ে সংলাপে যেতে শর্ত থাকবে বিএনপির
যুবসমাজের কণ্ঠস্বর বাড়েনি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
‘তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’

শেয়ার করুন

বায়োপসি হয়েছে খালেদার

বায়োপসি হয়েছে খালেদার

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বায়োপসি হয়েছে খালেদা জিয়ার। ফাইল ছবি

রোগ শনাক্তের অংশ হিসেবে দেহের কোনো অংশ থেকে টিস্যু নেয়াকে বায়োপসি বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সুচের সাহয্যে ছোট্ট নমুনা টিস্যু সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। শরীরে সন্দেহজনক কোনো পিণ্ড বা টিউমারে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিতে বায়োপসি করা হয়ে থাকে।

রাজধানী এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বায়োপসি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসক দলের সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে তিনি এ কথা জানান।

এর আগে বিএনপি চেয়ারপারসন কার্যালয়ের প্রেস উইং সূত্র জানিয়েছিল, সোমবার দুপুরে খালেদা জিয়াকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট্ট একটি অপারেশন হয়েছে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসকরা দেখলেন, উনার একটা বায়োপসি করা দরকার। ছোট একটা লাম্প (পিণ্ড) আছে এক জায়গায়। যেহেতু লাম্প আছে, তার নেচার অফ ভিউ জানার জন্য লাম্পে বায়োপসি করা হয়েছে।

‘অপারেশনের পরে বেগম জিয়া সুস্থ আছেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করেছেন। এখন তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তিনি সব ধরনের বিপদমুক্ত।’

বায়োপসির পর ফল পেতে কেমন সময় লাগতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদ বলেন, ‘এটা ৭২ ঘণ্টাও লাগতে পারে। এ ধরনের অপারেশনের পর কখনো কখনো ১৫ থেকে ২১ দিনও সময় লাগে। আমেরিকার মতো জায়গায়ও এমন হয়। ফলে আজকেই বলা যাবে না নেচার অফ অরিজিন কী।’

ডা. জাহিদ বলেন, ‘বায়োপসি করার পরিপ্রেক্ষিতে রেজাল্ট পেতে সময় লাগে। উনি সুস্থ আছেন।’

এ চিকিৎসক বলেন, ‘অপারেশনের পর বেগম জিয়ার ভাইটাল প্যারামিটারগুলো স্ট্যাবল (স্থিতিশীল) আছে। এখন তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। বায়োপসি ডায়াগনস্টিক পার্ট। পরের চিকিৎসা কী হবে, সেটা ঠিক হবে পরে।’

দেশের বাইরে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, ‘ডেডিকেটেড হাসপাতালে তার চিকিৎসার প্রয়োজন আছে। আপনারা সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন, তিনি যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং দেশের বাইরে চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। সবাই যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন।’

এক সাংবাদিক লাম্পটা কোন জায়গায় জানতে চাইলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন ডা. জাহিদ।

তিনি বলেন, ‘আপনি এ রকমভাবে কথা বলেন কেন? আমি বলেছি একটা ছোট লাম্প আছে। সেটার জন্য বায়োপসি করতে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়েছে। আর কিছু না।’

ওই সময় পাশে থাকা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে শান্ত করে দিয়ে মাইক নিয়ে বলেন, ‘আপনারা মোরালিটির জায়গাটা দেখেন; এথিকসটা দেখেন। সে ব্যাপারে সহযোগিতা করে আমাদের পাশে থাকেন।

‘আমরা বলেছি কতটুক কী হয়েছে। একটা পেশেন্টের প্রাইভেসি থাকে। কোথায় কী হয়েছে, সেটা বলা যায় না।’

বায়োপসি কী

রোগ শনাক্তের অংশ হিসেবে দেহের কোনো অংশ থেকে টিস্যু নেয়াকে বায়োপসি বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় সুচের সাহয্যে ছোট্ট নমুনা টিস্যু সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। শরীরে সন্দেহজনক কোনো পিণ্ড বা টিউমারে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না, সেটি নিশ্চিতে বায়োপসি করা হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালট্যান্ট উম্মে নাজমিন ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মূলত ক্যানসার রোগ নির্ণয় করার জন্য বায়োপসি করা হয়। এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে মানবদেহের কোষ সংগ্রহ করা হয়। তাই এই পরীক্ষা দিয়ে কোনো কোনো টিউমার ক্যানসারের জন্য দায়ী না হলেও সেগুলো সম্পর্কে জানা যায়।

‘টিবি (যক্ষ্মা) নির্ণয় করতেও বায়োপসির প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া রক্তনালিতে তৈরি টিউমার শনাক্ত করতেও বায়োপসি করা হয়।’

কোন ধরনের জটিলতায় ভুগছেন খালেদা জিয়া

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া অনেক বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হচ্ছে।

তারা জানান, নতুন করে খালেদার কিডনি সমস্যা বেড়েছে; রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতিও রয়েছে। এর মধ্যে আবার থেমে থেমে জ্বর আসায় একাধিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়।

জ্বর আসায় গত ১২ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে করোনাভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা ৫৪ দিন একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।

বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন: ফখরুল

বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার বিষয়ে তার মেডিক্যাল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলটির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কথা জানান।

ফখরুল বলেন, ‘ম্যাডাম বিপদমুক্ত। যতগুলো পুরোনো ডিজিজ তার আছে, এ জন্য তার মাল্টি অ্যাডভান্স সেন্টারে চিকিৎসা প্রয়োজন। আমাদের দেশের হাসপাতালগুলোতে এ ব্যবস্থা নেই। এটা আমরা বারবার বলে আসছি।’

আরও পড়ুন:
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
নির্বাচন নিয়ে সংলাপে যেতে শর্ত থাকবে বিএনপির
যুবসমাজের কণ্ঠস্বর বাড়েনি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
‘তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’

শেয়ার করুন

খালেদার বিরুদ্ধে দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩ নভেম্বর

খালেদার বিরুদ্ধে দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩ নভেম্বর

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ফাইল ছবি

সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে মামলা দুটির অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ঠিক করা ছিল। তবে এদিন অসুস্থ থাকায় আদালতে আসতে পারেননি খালেদা।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা দুই মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির তারিখ পিছিয়ে ৩ নভেম্বর ঠিক করেছে আদালত।

মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভুয়া জন্মদিন পালন এবং যুদ্ধাপরাধীদের মদত দেয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ওই দুটি মামলা হয়েছিল।

সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্যমহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে মামলা দুটির অভিযোগ গঠনের শুনানির তারিখ ঠিক করা ছিল। তবে এদিন অসুস্থ থাকায় আদালতে আসতে পারেননি খালেদা।

এজন্য তার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতে সময় আবেদন করেন। আদালত সেটি অনুমোদন করে অভিযোগ গঠন শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করেন।

২০১৬ সালের ৩০ আগস্ট ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী জহিরুল ইসলাম ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, খালেদা জিয়ার একাধিক জন্মদিন নিয়ে ১৯৯৭ সালের ১৯ ও ২২ আগস্ট দুই জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ম্যাট্রিক পরীক্ষার মার্কশিট অনুযায়ী জন্ম তারিখ ১৯৪৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর।

এতে বলা হয়, ১৯৯১ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় একটি দৈনিকে তার জীবনী নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জন্মদিন লেখা হয়েছিল ১৯৪৫ সাল ১৯ আগস্ট। খালেদার বিয়ের কাবিননামায় জন্মদিন ১৯৪৪ সালের ৪ আগস্ট। সর্বশেষ ২০০১ সালের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট অনুযায়ী বিএনপির এই চেয়ারপারসনের জন্মদিন ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট।

মামলায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন মাধ্যমে তার পাঁচটি জন্মদিন পাওয়া গেলেও কোথাও ১৫ আগস্ট জন্মদিন পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায় তিনি পাঁচটি জন্মদিনের একটিও পালন না করে ১৯৯৬ সাল থেকে ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বার্ষিকীর জাতীয় শোক দিবসে আনন্দ উৎসব করে জন্মদিন পালন করে আসছেন। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য তিনি ওইদিন জন্মদিন পালন করেন।

২০১৬ সালের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এবি সিদ্দিকী ‘স্বীকৃত স্বাধীনতা বিরোধীদের গাড়িতে জাতীয় পতকা তুলে দিয়ে দেশের মানচিত্র এবং জাতীয় পতাকার মানহানি’ ঘটানোর অভিযোগে আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন।

আরও পড়ুন:
জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিএনপি
নির্বাচন নিয়ে সংলাপে যেতে শর্ত থাকবে বিএনপির
যুবসমাজের কণ্ঠস্বর বাড়েনি: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য
‘তরুণ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অর্থায়নই বড় চ্যালেঞ্জ’

শেয়ার করুন