এক রেটের ইন্টারনেটে গতির ফাঁকি

এক রেটের ইন্টারনেটে গতির ফাঁকি

প্রতীকী ছবি

আইএসপিএবি-এর সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। তবে এখানে কথা আছে, এ ইন্টারনেট কিন্তু ওয়ান বাই এইট শেয়ারিং ব্যান্ডউইথ। তার মানে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস কিন্তু ইন্টারনেট পাবে না, পাবে ৬২৫ কেবিপিএস। এই গতির ইন্টারনেট নিয়ে তারা তেমন কিছুই করতে পাবে না।’

একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে এয়ার টিকেটিং অফিসার হিসাবে কাজ করেন আরিফ হোসেন। এয়ার টিকেট বিক্রির নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, তাই অফিসের বাইরেও সারাক্ষণ ইন্টারনেট সংযোগে থাকতে হয়।

মোবাইল ইন্টারনেটে ব্যয় বেশি বলে আরিফ হোসেন বাসায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারসংযোগ নিয়েছেন ৫ এমবিপিএস ৫০০ টাকায়। তবে প্রায়ই দেখা যায়, বাসার ইন্টারনেটে ফেসবুক-ইউটিউব চললেও এয়ার টিকেট বুকিং সফটওয়্যার কাজ করে না, তখন মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হয়। বাধ্য হয়ে বাড়তি ৩০০ টাকা দিয়ে সংযোগ ১০ এমবিপিএস করে নিয়েছেন। এতে আগের চেয়ে ইন্টারনেটের গতি কিছুটা বাড়লেও তা মন মতো হচ্ছে না।

আরিফের মতো অনেক গ্রাহকেরই অভিযোগ, সর্বনিম্ন রেটের এ ইন্টারনেট ঠিক মতো কাজ করে না। তারা ইন্টারনেটের সঠিক গতি পাচ্ছেন না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কাজ করতে প্রচুর সময় লাগে।

এক রেটে ইন্টারনেট

চলতি মাস থেকে সারা দেশে এক দাম ও সর্বনিম্ন রেটে ইন্টারনেট পাবার পথ তৈরি হয়েছে। এতে গ্রাম বা শহর সব জায়গাতেই সর্বনিম্ন ৫০০ টাকায় ইন্টারনেট পাবেন গ্রাহকরা। এক রেটে ইন্টারনেট কার্যকার হলেও এই ইন্টারনেটের সত্যিকার গতি কত তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে ‘এক রেটে’ ইন্টারনেট সেবামূল্য (ট্যারিফ) চালু করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। গত ১২ আগস্ট বিটিআরসিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ইন্টারনেটের নতুন এই ট্যারিফ ঘোষণা করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

নতুন দাম হিসাবে খুচরায় ৫ এমবিপিএস ৫০০ টাকা, ১০ এমবিপিএস ৮০০ এবং ২০ এমবিপিএস ১ হাজার ২০০ টাকায় পাবেন গ্রাহক।

এর আগে ৬ জুন ‘এক দেশ এক রেট’ ইন্টারনেট ঘোষণা দেয়ার পরে তা বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছিল। ইন্টারনেটের একেক পর্যায়ে একক দর ছিল। তাই ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের তিনটি ধাপে খুচরা পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি), বেসরকারি নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ের (আইআইজি) অভিন্ন ট্যারিফ চালু করা হয়েছে। এতে আইআইজি ও এনটিটিএন চালু হওয়ার ১২ বছর পর এ সেবামূল্য নির্ধারণ করা হলো।

অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী বলেন, মূল্য নির্ধারণের মধ্যে দিয়ে সারা দেশে ‘এক দেশ এক রেট’ ইন্টারনেট বাস্তবায়ন হবে। এতে গ্রাম বা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মানুষও শহরের মানুষের মতো কম দামে ইন্টারনেট সেবা পাবে। সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ দর কার্যকর করতেই হবে।

রেট ৫০০ টাকা, কিন্তু গতি আট ভাগের এক ভাগ

আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সরকারের ঘোষণার পর বেশির ভাগ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান তাদের প্যাকেজে পরিবর্তন এনেছে। একই প্যাকেজের মূল্য আগে বেশি থাকলেও তা কমিয়েছে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান কয়েক বছর থেকেই ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস ব্যান্ডইউথ সেবা দিয়ে আসছে, তবে তা শহরে যেখানে গ্রাহক বেশি সেখানেই সম্ভব ছিল। প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে গ্রাহকদের ব্যান্ডইউথ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সর্বনিম্ন দরে ইন্টারনেট গ্রাহকরা আরও আগে থেকেই পেয়ে আসছে। কিন্তু এখানে একটি ফাঁক রয়েছে। বিশেষ করে সর্বনিম্ন দরে যে লাইন দেয়া হয়, সেগুলো শেয়ারড লাইন। এখানে গ্রাহক চাইলে তার মনমতো স্পিড পাবে না। কারণ ৫০০ টাকায় যারা প্যাকেজ নিচ্ছে, তাদের এ সংযোগ দেয়া হচ্ছে। এতে এক জনের ইন্টারনেট সংযোগের গতি আট ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। তাই বেশির ভাগ গ্রাহক এতে সন্তুষ্ট নন। তাদের ব্যান্ডউইথ ও স্পিডের চাহিদা আরও অনেক বেশি। বিশেষ করে করপোরেট অফিস শেয়ারড ইন্টারনেট দিয়ে চলে না। তাদের ডেডিকেটেড ব্যান্ডউইথ নিতেই হয়। তবে এ ক্ষেত্রে মাসিক চার্জও বেশি।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। তবে এখানে কথা আছে: এ ইন্টারনেট কিন্তু ওয়ান বাই এইট শেয়ারিং ব্যান্ডউইথ। তার মানে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস কিন্তু ইন্টারনেট পাবে না, পাবে ৬২৫ কেবিপিএস। এই গতির ইন্টারনেট নিয়ে তারা তেমন কিছুই করতে পাবে না। ইউজাররা হ্যাপি থাকবে না। এই খানেই একটু বোঝার ভুল রয়েছে।

‘অনেকে মনে করে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস গতি পাবে। এ ডাটা ৮ জনে শেয়ার করলে তা যে ৬২৫ কেবিপিএস হয়, এ কথা অনেকেই বলে না। মনে করেন কেউ শেয়ারড লাইন নিল। তার বাসায় লোক ৪ জন, তাহলে ৬২৫ কেবিপিএস গতিও চার ভাগ হয়ে যাবে, এ গতি দিয়ে সে কী করতে পারবে? তাই কাজ করতে চাইলে তাকে প্যাকেজে আপডেট করে নিতেই হবে। তখন কিন্তু সর্বনিম্ন দাম থাকবে না।’

সর্বনিম্ন এক রেট কি সম্ভব

আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সর্বনিম্ন রেটে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া সম্ভব। তবে তা খুব যে কার্যকর হবে তা নয়। কারণ ৫০০ টাকায় শেয়ারড লাইন ছাড়া ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া সম্ভব নয়। সর্বনিম্ন প্যাকেজ যদিও ভ্যাটসহ ৫২৫ টাকা খরচ পড়ে, অপারেটররা ৫০০ টাকাই রাখছেন। তবে, গ্রাহকের সুবিধার জন্য কেউবা ১ বনাম ৮ এর জায়গায় ১ বনাম ৩ বা ১ বনাম ৪ করছেন। আবার অনেকে ১ বনাম ৮ শেয়ারিং লাইন দিলেও ৫ এমবিপিএসের জায়গায় ৮ এমনকি ১০ এমবিপিএস স্পিডও দিচ্ছে। টাকাও একটু বেশি নিচ্ছে। কারণ, সব গ্রাহকের এক সঙ্গে একই সময় ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়ে না। ফলে কোনো গ্রাহক ব্যবহার না করলে অন্যরা তখন তুলনামূলক ভালো স্পিড পায়। তবে কেউ বিশেষ কোনো কাজ করতে চাইলে কিংবা বাফারিং (ধীরগতি) মুক্ত নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট চাইলে তাকে ডেডিকেটেড লাইন নিতেই হবে। তবে এক্ষেত্রে বেশি খরচ করতেই হবে।’

এমদাদুল হক বলেন, ‘৫ এমবিপিএস ডেডিকেটেড (এক লাইন এক ইউজার) লাইনে অপারেটরের ২০০০ টাকার মতো খরচ পড়ে। তাহলে সে ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস দেবে কীভাবে? কোনো প্রতিষ্ঠান হয়তো বা ১০০ টাকা বেশি নিয়ে ৮ জনের ক্ষেত্রে ৪ বা ৫ জনকে একটি শেয়ার লাইন দিচ্ছে। গ্রাহকও একটু ভালো গতির ইন্টারনেট পাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ইন্টারনেটের কচ্ছপ গতি: অপারেটরদের ব্যাখ্যা চায় বিটিআরসি
১ মাসে বাড়ল ৩৬ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক
৫০০ টাকায় ইন্টারনেট কত দূর?
সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের এক দাম

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জেনেশুনে ঘৃণাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে ফেসবুক

জেনেশুনে ঘৃণাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে ফেসবুক

ঘৃণা ছড়ানো নিয়ন্ত্রণ না করার অভিযোগ রয়েছে ফেসবুকের বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

নতুন করে শুক্রবার ফেসবুকের এমন সব কর্মকাণ্ড ফাঁস করেছেন মাধ্যমটির সাবেক এক কর্তা। ফেসবুক কীভাবে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছে এবং অবৈধ কাজ করছে সেসব বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

কিছুদিন আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সাবেক এক কর্মকর্তা দাবি করেন, মাধ্যমটির মূল লক্ষ্য মুনাফা করা। সে জন্য মাধ্যমটি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকেও খুব বেশি আমলে নেয় না।

নতুন করে শুক্রবার ফেসবুকের এমন সব কর্মকাণ্ড ফাঁস করেছেন মাধ্যমটির সাবেক এক কর্মকর্তা। ফেসবুক কীভাবে ঘৃণামূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছে এবং অবৈধ কাজ করছে সেসব বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।

নির্বাচনের সময় ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুক। এমনকি নতুন কিছু নথি ফাঁসের পর ফেসবুক বেশ চাপে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন করে ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা ওই ব্যক্তি কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের সঙ্গে।

তিনি জানান, ফেসবুকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থা যারা পাবলিক ট্রেড কোম্পানিতে বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ করে তাদের কাছেও অভিযোগ করা হয়েছে।

সাবেক ওই কর্মকর্তা সেখানে বলেছেন, ফেসবুক কীভাবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও তার মতো রাগান্বিত ব্যক্তি ও কোম্পানিকে খুশি রাখতে নিরাপত্তা বিধি প্রয়োগে অস্বীকার করেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতেও বিভিন্ন ধরনের ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে মাধ্যমটির বিরুদ্ধে। সেসব নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকার কথা জানা যায়নি মাধ্যমটির পক্ষ থেকে।

অবশ্য ফেসবুকের যোগাযোগ কর্মকর্তা ট্র্যাকার বাউন্ড ২০১৬ সালের নির্বাচনে প্ল্যাটফর্মটির ভূমিকা নিয়ে যে উদ্বেগ তা উড়িয়ে দিয়েছেন।

বাউন্ড বলেন, ‘সেটি তো শেষ হয়ে গেছে।’

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘এসব অভিযোগের কিছু ধরার মধ্যেই ছিল না। তারা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি ভুলে অন্যদিকে চলে যায়। আমরা টাকা আয় করছি এবং আমরা ভালো আছি।’

ফেসবুকের সাবেক প্রোডাক্ট ম্যানেজার ফ্রান্সেস হাউজেন বলেন, ফেসবুক জননিরাপত্তার বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে ক্রমাগত মুনাফার দিকে ঝুঁকছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, হাউজেন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ফেসবুকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সামনেই যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সাক্ষ্য দেবেন তিনি। এ বিষয়কে ঘিরে তৈরি হয়েছে সংকট। তাই ব্র্যান্ডটি নিজেদের নাম পরিবর্তন করার মতো বিষয় নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে ফেসবুক।

একই দিনে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং এনবিসি একটি গোপন নথি ফাঁসের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, ২০২০ সালের নির্বাচনেও মাধ্যমটি কীভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে।

নির্বাচনে হেরে গিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ফেসবুক জো বাইডেনের হয়ে কাজ করেছে।

অবশ্য একটি তথ্য বিশ্লেষণ করে নিউইয়র্ক টাইমস দেখিয়েছে, বাইডেনের পক্ষে প্রচারে ফেসবুকে যেসব তথ্য ছড়ানো হয়েছে তার অন্তত ১০ শতাংশ ছিল ভুয়া।

এটা শুধু মুনাফা লাভের আশাতেই করেছে বলে দাবি করেছেন ফেসবুকের সাবেক কর্মকর্তা ও তথ্য ফাঁসকারী।

মানবাধিকার সংস্থা ফ্রি প্রেস অ্যাকশনের কো-সিইও জেসিকা জে গোলন্দাজ বলেন, ‘এখন কংগ্রেসের উচিত হবে ফেসবুকের ব্যবসার মডেলটি খতিয়ে দেয়া। কেননা তাদের বিরুদ্ধে খুব বেশি পরিমাণে ঘৃণা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।’

আরও পড়ুন:
ইন্টারনেটের কচ্ছপ গতি: অপারেটরদের ব্যাখ্যা চায় বিটিআরসি
১ মাসে বাড়ল ৩৬ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক
৫০০ টাকায় ইন্টারনেট কত দূর?
সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের এক দাম

শেয়ার করুন

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর

প্রতীকী ছবি

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাসহ সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে আমরা কাজ করছি। আমরা সফল হব।’

ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ডিজিটাল প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের আয়োজিত ডিজিটাল সিকিউরিটি সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাসহ সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। এটা নিয়ন্ত্রণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে আমরা কাজ করছি। আমরা সফল হব।’

যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী উদ্যোক্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ এবং বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নসহ সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জিং হলেও আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পিছিয়ে নেই। অতীতের তিনটি শিল্প বিপ্লব মিস করায় সৃষ্ট পশ্চাদপদতা অতিক্রম করে বাংলাদেশ ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশে বৈশ্বিক নেতৃত্বের জায়গায় উপনীত হয়েছে। এই অর্জন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফসল।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং আইটিইউ ও ইউপিইউর সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে দেশে ডিজিটাইজেশনের যাত্রা শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কম্পিউটারের ওপর থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স প্রত্যাহার করে তা সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছে দেন।

‘মোবাইল ফোন সহজলভ্য করতে এবং ভি-স্যাটের মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ডিজিটাইজেশনে বঙ্গবন্ধুর বপন করা বীজটিকে চারা গাছে রূপান্তর করেন। আমরা সৌদি আরবে আইওটি ডিভাইস রপ্তানি করছি। বিশ্বের ৮০টি দেশে বাংলাদেশ থেকে সফটওয়্যার রপ্তানি হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
ইন্টারনেটের কচ্ছপ গতি: অপারেটরদের ব্যাখ্যা চায় বিটিআরসি
১ মাসে বাড়ল ৩৬ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক
৫০০ টাকায় ইন্টারনেট কত দূর?
সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের এক দাম

শেয়ার করুন

আইফোন ১৩ নিয়ে এলো গ্রামীণফোন

আইফোন ১৩ নিয়ে এলো গ্রামীণফোন

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাহকদের জন্য আইফোন সর্বশ্রেষ্ঠ লাইনআপ নিয়ে এসেছে গ্রামীণফোন, যার মধ্যে রয়েছে সৃজনী ও রুচির প্রশ্নে অনন্য আইফোন ১৩ প্রো, আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স, আইফোন ১৩ এবং আইফোন ১৩ মিনি।

বাংলাদেশি গ্রাহকদের জন্য আইফোন ১৩ নিয়ে এসেছে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন।

অপারেটরটির শুক্রবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাহকদের জন্য আইফোন সর্বশ্রেষ্ঠ লাইনআপ নিয়ে এসেছে গ্রামীণফোন, যার মধ্যে রয়েছে সৃজনী ও রুচির প্রশ্নে অনন্য আইফোন ১৩ প্রো, আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স, আইফোন ১৩ এবং আইফোন ১৩ মিনি।

এতে উল্লেখ করা হয়, আগাগোড়া নতুন আঙ্গিকে সাজানো আইফোন ১৩ প্রো এবং আইফোন ১৩ প্রো ম্যাক্স ব্যবহারকারীদের দিচ্ছে আইফোনের সর্বকালের সেরা প্রোক্যামেরা সিস্টেম, প্রো-মোশন সমৃদ্ধ সুপার রেটিনা এক্সডিআর ডিসপ্লে, উন্নত ব্যাটারি লাইফ এবং অ্যাপলের ডিজাইনকৃত ফাইভ-কোর জিপিইউ সংবলিত এ১৫ বায়োনিক চিপ। মসৃণ ও টেকসই ডিজাইনের আইফোন ১৩ ও আইফোন ১৩ মিনিতে ব্যবহারকারীরা পাচ্ছেন আইফোনের সর্বকালের সেরা ডুয়াল ক্যামেরা সিস্টেম এবং শক্তিশালী এ১৫ বায়োনিক চিপ।

গ্ৰামীণফোনে আইফোন ১৩ সিরিজের হ্যান্ডসেটে প্রি-অর্ডার থাকছে ৩৬ মাস পর্যন্ত। নির্দিষ্ট ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে শূন্য শতাংশ সুদে ইএমআইতে ক্রয়ের সুবিধা থাকছে। এ ছাড়াও থাকছে ফ্রি ১৪ জিবি ফোরজি ইন্টারনেটসহ (মেয়াদ ১৪ দিন) বিভিন্ন জিপি গিফট আইটেম, জিপি স্টার প্লাটিনাম প্লাস স্ট্যাটাস এবং বিভিন্ন জিপি স্টার পার্টনারের ডিসকাউন্ট কুপন।

ডিভাইস ইন্স্যুরেন্স সাবস্ক্রিপশনে ২০ শতাংশ ডিসকাউন্ট এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে ইএমআই ক্যাশব্যাক অফারও থাকছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ অক্টোবর থেকে গ্রাহকরা আইফোন ১৩ সিরিজের হ্যান্ডসেট প্রি-অর্ডার করতে পারবেন, যা তাদের হাতে পৌঁছে দেয়া হবে ২৯ অক্টোবর থেকে। প্রি-অর্ডার, মূল্যতালিকা ও প্রাপ্যতাসহ বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে ওয়েবসাইটে

আরও পড়ুন:
ইন্টারনেটের কচ্ছপ গতি: অপারেটরদের ব্যাখ্যা চায় বিটিআরসি
১ মাসে বাড়ল ৩৬ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক
৫০০ টাকায় ইন্টারনেট কত দূর?
সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের এক দাম

শেয়ার করুন

দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালন করল ‘ডিজিটাল স্কলার’

দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি পালন করল ‘ডিজিটাল স্কলার’

দুই বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে কেক কাটে ডিজিটাল স্কলার পরিবার।

দেশের তরুণ সমাজের বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে আইটি সেক্টরে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছে ‘ডিজিটাল স্কলার’।

আইটি পেশা এবং ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল স্কলার’ সম্প্রতি ২ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে।

কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে ‘ডিজিটাল স্কলার’-এর শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিশিষ্ট আইটি ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

‘ডিজিটাল স্কলার’ থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে ৬২ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ উপার্জন করেছেন। ফলে ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে অনেক তরুণ ও তাদের পরিবারের।

‘ডিজিটাল স্কলার’-এ এখন পর্যন্ত ২৮টি ব্যাচে প্রায় ১২ শতাধিক শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়েছেন প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী।

দেশের তরুণ সমাজের বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে আইটি সেক্টরে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছে ‘ডিজিটাল স্কলার’। সম্প্রতি তাদের স্মার্ট ক্যাম্পাস যাত্রা শুরু করেছে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরের শাহ আলী প্লাজা, লেভেল ১১-তে।

ক্যাম্পাসটিতে রয়েছে ডিজিটাল ক্লাসরুম, স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেন্টার, অনলাইন লাইভ ক্লাস রুম, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম ইত্যাদি।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এন আলম মুন্না বলেন, ‘একটি আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টারের সবচেয়ে বড় সফলতা হল এখানে আসা শিক্ষার্থীদের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা আমাদের দক্ষ মেন্টর দ্বারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ সাপোর্ট দিয়ে তাদের স্কিল ডেভেলপ করে যাচ্ছি। ক্রমবর্ধমান এই ধারাবাহিকতার মাধ্যমেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিজিটাল স্কলার তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।’

আরও পড়ুন:
ইন্টারনেটের কচ্ছপ গতি: অপারেটরদের ব্যাখ্যা চায় বিটিআরসি
১ মাসে বাড়ল ৩৬ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক
৫০০ টাকায় ইন্টারনেট কত দূর?
সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের এক দাম

শেয়ার করুন

শাহজালালে বসবে নতুন রাডার, বাড়বে নজরদারি-রাজস্ব

শাহজালালে বসবে নতুন রাডার, বাড়বে নজরদারি-রাজস্ব

প্রতীকী ছবি

পুরনো রাডারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় দেশের আকাশসীমায় কোনো আকাশযান চলাচল করলে তা থেকে রাজস্বও আদায় করতে পারছে না সরকার। এসব এলাকায় রাডার কাভারেজ দিয়ে আয় করছে ভারত ও মিয়ানমার।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩০ বছরের পুরনো রাডার সরিয়ে বসানো হবে নতুন রাডার। এই রাডার স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যেই ফ্রান্সের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান থ্যালাস এলএএস-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চুক্তিটি অনুষ্ঠিত হয়।

বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান ও থ্যালাসের ভাইস চেয়ারম্যান নিকোলাস নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যাঁ ম্যাঁরি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমানে যে রাডার রয়েছে, এটি কার্যক্ষমতা হারিয়েছে অনেক আগে। প্রায় ৩০ বছর আগে স্থাপন করা এই রাডার দিয়ে আকাশপথে নজরদারি চালাতে হিমশিম খেতে হয় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে। তার ওপর সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু অঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগরে নতুন নিয়ন্ত্রণে আসা বিস্তীর্ণ এলাকা এর আওতার বাইরে থেকে যায়। ফলে ওইসব এলাকা দিয়ে কোনো আকাশযান উড়ে গেলে তা জানতে পারছে না বাংলাদেশ। এতে আকাশপথের সার্বভৌমত্ব ঝুঁকির মুখে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ ছাড়া নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় দেশের আকাশসীমায় কোনো আকাশযান চলাচল করলে তা থেকে রাজস্বও আদায় করতে পারছে না সরকার। এসব এলাকায় রাডার কাভারেজ দিয়ে আয় করছে ভারত ও মিয়ানমার।

শাহজালালে বসবে নতুন রাডার, বাড়বে নজরদারি-রাজস্ব
বেবিচক চেয়ারম্যান এম মফিদুর রহমান ও থ্যালাসের ভাইস চেয়ারম্যান নিকোলাস চুক্তিতে সই করেন

এয়ারলাইন্সগুলো বলছে, পুরনো রাডার দিয়ে সব ক্ষেত্রে সেবা নিশ্চিত করতে পারছে না বেবিচক। নতুন রাডার বসানোর প্রকল্পটি গত বছরের ৮ জুন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পায়। বেবিচক আশা করছে, ২০২৪ সাল নাগাদ এই রাডার বসানোর কাজ সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘নতুন এ অত্যাধুনিক রাডার স্থাপনের ফলে দেশের সমগ্র আকাশসীমা নজরদারির আওতায় আসবে। এর ফলে বাংলাদেশের আকাশ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করা সকল বিদেশি উড়োজাহাজ শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং এদের থেকে ফ্লাইং ওভার চার্জ আদায় করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ আমরা এভিয়েশন খাতের উন্নয়নের একটি বড় পদক্ষেপের সাক্ষী হয়ে থাকছি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাডার, এটিসি টাওয়ার স্থাপন ছাড়াও কমিনিউকেশন, নেভিগেশন, নজরদারি ও এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।’

এর আগেও একবার রাডার প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল বেবিচক। ২০১২ সালে সরকারি-বেসরকারি মালিকানার ভিত্তিতে রাডার প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমতি দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। অনুমোদনের পর ২০১৫ সালে দরপত্রও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় বাতিল হয়ে যায় সেই উদ্যোগ।

আরও পড়ুন:
ইন্টারনেটের কচ্ছপ গতি: অপারেটরদের ব্যাখ্যা চায় বিটিআরসি
১ মাসে বাড়ল ৩৬ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক
৫০০ টাকায় ইন্টারনেট কত দূর?
সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের এক দাম

শেয়ার করুন

ফেসবুক-টুইটারের বিকল্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ আনছেন ট্রাম্প

ফেসবুক-টুইটারের বিকল্প ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ আনছেন ট্রাম্প

২০২২ সালের প্রথমার্ধ্বে পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হবে ডনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রুথ সোশ্যাল। ছবি: এএফপি

৭ জানুয়ারি থেকে দুই বছরের জন্য ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক। ‘তিনি আরও সহিংসতা উসকে দিতে পারেন’-এমন শঙ্কায় টুইটারও ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়; অ্যাকাউন্টটিতে তার অনুসারীর সংখ্যা সে সময় ছিল প্রায় নয় কোটি। এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু করবেন বলে শোনা যাচ্ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিজস্ব একটি অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছেন। ফেসবুক-টুইটারের বিকল্প হিসেবে আগামী মাসেই পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করবে ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাপ।

বিশ্বের জনপ্রিয়তম ও বহুল ব্যবহৃত সামাজিক মাধ্যম ফেসবুক-টুইটারে নিষিদ্ধ ট্রাম্প জানান, ‘বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেন’ তিনি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রুথ সোশ্যাল তৈরিতে কাজ করবে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান। সাবেক আমেরিকান রাষ্ট্রপ্রধান ও ধনকুবের ডনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ (টিএমটিজি) ও একটি বিশেষ অধিগ্রহণ সংস্থা ডিজিটিল ওয়ার্ল্ড অ্যাকুইজিশন করপোরেশন (ডিডব্লিউএসি) একীভূত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি গঠন করবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দুটি কোম্পানিই। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটিতে ট্রাম্প একটি লিখিত বক্তব্যও দিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, ‘আমরা এমন এক বিশ্বে বাস করি, যেখানে টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্মে তালেবানের মতো কট্টরপন্থিদের বিচরণ দিন দিন বাড়ছে। তাও আপনাদের জনপ্রিয় আমেরিকান প্রেসিডেন্ট নিশ্চুপ। এটা অগ্রহণযোগ্য।

‘টিএমটিজি সব মানুষকে কথা বলার সুযোগ দেয়ার মহৎ লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল… ট্রুথ সোশ্যালে আমার সত্যটা আমি প্রকাশ করব খুব শিগগিরই। নিজের চিন্তাভাবনা আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেব এবং বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করব।’

চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গার ঘটনায় টুইটার-ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ট্রাম্পের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ট্রাম্প সমর্থকদের চালানো ওই সহিংসতার ঘটনায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার উসকানিতেই ঘটেছে নজিরবিহীন ওই ঘটনা।

৭ জানুয়ারি থেকে দুই বছরের জন্য ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক। ‘তিনি আরও সহিংসতা উসকে দিতে পারেন’-এমন শঙ্কায় টুইটারও ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেয়; অ্যাকাউন্টটিতে তার অনুসারীর সংখ্যা সে সময় ছিল প্রায় নয় কোটি।

এমন পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম চালু করবেন বলে শোনা যাচ্ছিল।

নির্ধারিত তিন ধাপের কর্মপরিকল্পনার প্রথম ধাপ অনুযায়ী, সব ঠিক থাকলে আগামী মাসের কোনো এক সময় যাত্রা শুরু করবে নতুন সামাজিক মাধ্যমটি। ২০২২ সালের প্রথমার্ধ্বেই পূর্ণাঙ্গরূপে চালু হবে ট্রুথ সোশ্যাল।

দ্বিতীয় ধাপে টিএমটিজি প্লাস নামের একটি সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক ভিডিও সেবা চালু হবে। এতে থাকবে বিনোদন ও সংবাদমূলক কনটেন্ট আর পডকাস্ট।

নিজেদের ওয়েবসাইটে টিএমটিজি আভাস দিয়েছে, অ্যামাজন ডটকমের এডব্লিউএস ক্লাউড আর গুগল ক্লাউডকে টেক্কা দেয়া লক্ষ্য তাদের।

বিবৃতিতে টিএমটিজি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য ডিডব্লিউএসির সঙ্গে একীভূত হবে প্রতিষ্ঠানটি। ডিডব্লিউএসি একটি ‘ব্ল্যাংক চেক কোম্পানি’, অর্থাৎ কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বা লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নেই তাদের। বরং অন্য কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হওয়াই লক্ষ্য ডিডব্লিউএসির।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর ২০২৪-এ পরবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে এর মধ্যে নির্বাচনী প্রচারধর্মী বেশ কিছু জনসমাবেশে অংশ নিয়েছেন রিপাবলিকান এ নেতা।

আরও পড়ুন:
ইন্টারনেটের কচ্ছপ গতি: অপারেটরদের ব্যাখ্যা চায় বিটিআরসি
১ মাসে বাড়ল ৩৬ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক
৫০০ টাকায় ইন্টারনেট কত দূর?
সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের এক দাম

শেয়ার করুন

‘ডিজিটাল স্কলার’ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন

‘ডিজিটাল স্কলার’ এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন

প্রতিষ্ঠানটির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এন আলম মুন্না বলেন, ‘একটি আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টারের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো এখানে আসা শিক্ষার্থীদের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করা। এই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা আমাদের দক্ষ মেন্টর দ্বারা শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ সাপোর্ট দিয়ে তাদের স্কিল ডেভেলপ করে যাচ্ছি।’

আইটি পেশা এবং ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডিজিটাল স্কলার’ সম্প্রতি ২ বছর পূর্তি উদযাপন করেছে। কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ‘ডিজিটাল স্কলার’ এর শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিশিষ্ট আইটি ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।

ডিজিটাল স্কলার থেকে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রায় ৬২ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ উপার্জন করেছেন। ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে অনেক তরুণ ও তাদের পরিবারের।

ডিজিটাল স্কলারে এ পর্যন্ত ২৮টি ব্যাচে প্রায় ১২ শতাধিক শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এদের মধ্যে বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে সফলভাবে ক্যারিয়ার গড়েছেন প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী।

দেশের তরুণ সমাজের বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে আইটি সেক্টরে বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ করছে ‘ডিজিটাল স্কলার’।

ফ্রিল্যান্সিং খাতে কর্মসংস্থানের নতুন উদ্যোগ হিসেবে ডিজিটাল স্কলার ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ শুরু করেছে মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বরের শাহ আলী প্লাজার লেভেল ১১ তে। ক্যাম্পাসটিতে রয়েছে ডিজিটাল ক্লাসরুম, স্টুডেন্ট সাপোর্ট সেন্টার, অনলাইন লাইভ ক্লাস রুম, মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম ইত্যাদি।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার এন আলম মুন্না বলেন, ‘একটি আইটি প্রশিক্ষণ সেন্টারের সবচেয়ে বড় সফলতা হল এখানে আসা শিক্ষার্থীদের স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন করা। এই লক্ষ্যই সামনে রেখে আমরা আমাদের দক্ষ মেন্টর দ্বারা শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ সাপোর্ট দিয়ে তাদের স্কিল ডেভেলপ করে যাচ্ছি। ক্রমবর্ধমান এই ধারাবাহিকতার মাধ্যমেই ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিজিটাল স্কলার তার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।’

আরও পড়ুন:
ইন্টারনেটের কচ্ছপ গতি: অপারেটরদের ব্যাখ্যা চায় বিটিআরসি
১ মাসে বাড়ল ৩৬ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহক
৫০০ টাকায় ইন্টারনেট কত দূর?
সারা দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের এক দাম

শেয়ার করুন