লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

যে ফান্ড বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে, সেই ফান্ডের দরপতনও তুলনামূলক বেশি। দরপতনে শীর্ষ পাঁচ মিউচ্যুয়াল ফান্ড

জুন শেষে ফান্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যের কোনো হানি হয়নি এই লভ্যাংশের কারণে। কিন্তু আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে বড় পতনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে সব ফান্ডই।

দেশে মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে হতাশা কাটিয়ে যখন উচ্চাশা তৈরি হয়েছিল, সে সময় লভ্যাংশের রেকর্ড ডেটের পর মূল্য পতন আবার সেই হতাশার বৃত্তে নিয়ে গেছে বিনিয়োগকারীদের।

যে ফান্ড বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে, সেই ফান্ডের দরপতনও তুলনামূলক বেশি হয়েছে, যার কোনো যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা।

বাজারে মোট ৩৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ড রয়েছে। এর মধ্যে জুনে অর্থবছর শেষ করে লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ২৯টি। এই লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছর শেষে হাতে থাকা নগদ টাকার ভিত্তিতে।

অর্থাৎ জুন শেষে ফান্ডের আর্থিক স্বাস্থ্যের কোনো হানি হয়নি এই লভ্যাংশের কারণে। কিন্তু আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এসে বড় পতনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে সব ফান্ডই।

আর এই দরপতনের ক্ষেত্রে আরও একটি ঘটনা ঘটছে, যেটি বিস্ময়করই বটে।

যেমন- ইউনিটপ্রতি ৮৫ পয়সা করে লভ্যাংশ দেয়া পপুলার ফার্স্ট ও পিএইচপি মিউচ্যুয়াল ফান্ড রেকর্ড ডেট শেষে দর হারিয়েছে ৭০ পয়সা। আগের দিন যে দাম ছিল, তাতে এর চেয়ে বেশি কমতে পারত না দাম।

অন্যদিকে ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া এফবিএফআইএফ দর হারিয়েছে ৪০ পয়সা।

রোববার রেকর্ড ডেট শেষে লেনদেন শুরু করা ১০টি ফান্ডের সব এভাবে দর হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯০ পয়সা করে দর কমেছে ফার্স্ট জনতা মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের। এই দুটি ফান্ড ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল।

রেকর্ড ডেটে দুটি ফান্ডের দাম ছিল যথাক্রমে ৯ টাকা ৭০ পয়সা ও ৯ টাকা ৪০ পয়সা। এক দিনে কমতে পারত সর্বোচ্চ ৯০ পয়সা, কমেছেও সেটাই।

পুঁজিবাজারে লভ্যাংশ দুই ধরনের হয়ে থাকে। বোনাস শেয়ার ও নগদ লভ্যাংশ। যতটুকু বোনাস শেয়ার দেয়ার প্রস্তাব করা হয়, রেকর্ড ডেট শেষে সেই পরিমাণ দাম আগেই সমন্বয় করে দেয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ, কিন্তু নগদ লভ্যাংশ সমন্বয় করা হয় না কখনও।

তার পরই মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে এই নগদ লভ্যাংশও কার্যত সমন্বয় হয়ে যাওয়ায় লভ্যাংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের আসলে কোনো মুনাফা থাকছে না।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক ইপিএলের সাবেক গবেষণা প্রধান দেবব্রত কুমার সরকার এর কোনো যুক্তিই খুঁজে পাচ্ছেন না।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘নগদ লভ্যাংশ দেয়ার পর মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর কমে আসার কারণ হচ্ছে, সারা বছর এ খাতের ইউনিটের দুরবস্থা। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে, মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে মূলত লভ্যাংশ দেবার সময় এসেছে এ জন্য। ফলে ভালো লভ্যাংশ দেবে এমন প্রত্যাশায় বেশ কিছু মিউচ্যুয়াল ফান্ডে নতুন বিনিয়োগ হয়।

‘তবে বেশির ভাগ ইউনিট হোল্ডার লভ্যাংশ না নিয়েই ইউনিটপ্রতি মুনাফা হলেই বিক্রি করে বের হয়ে যায়। ফলে পরবর্তী সময়ে এখানে নতুন করে কোনো বিনিয়োগ হয় না। যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেন তারাই শুধু এখানে থাকেন।’

‘তবে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম ওঠা-নামার সঙ্গে লভ্যাংশের খুব বেশি সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। এটাই হয়তো একটা কারণ।’

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কমিশনার মিজানুর রহমান আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই চিত্র হয়তো থাকবে না। তিনি বলেন, ‘মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো যদি ইউনিটধারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী রিটার্ন দিতে না পারে, তাহলে এখানে কেউ বিনিয়োগ করতে আসবে না। তবে এখন আসছে। সর্বশেষ অর্থবছর বিবেচনায় সিংহভাগ মিউুচ্যয়াল ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে। ফলে আশা করা যায়, এ খাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে।’

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

বেশি লভ্যাংশ দিয়ে বেশি পতন

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফান্ডগুলোর মধ্যে ইউনিটপ্রতি সবচেয়ে বেশি ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে এনএলআই মিউচ্যুয়াল ফান্ড।

ফান্ডটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ২৮ আগস্ট। সেদিন দর ছিল ১৭ টাকা ৬০ পয়সা।

পরের দিন এক দিনেই দাম কমে ১ টাকা ৬০ পয়সা। দাম দাঁড়ায় ১৫ টাকা ৯০ পয়সা। পরে আরও কমে রোববার লেনদেন হয়েছে ১৪ টাকা ৪০ পয়সা।

অর্থাৎ ১ টাকা ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ নেয়ার পর একেকটি ইউনিটের দাম পড়েছে ৩ টাকা ২০ পয়সা।

এসইএমএল লেকটার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড ইউনিটধারীদের ২০২১ সালের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ফান্ডটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ছিল ২ সেপ্টেম্বর।

সেদিন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দর ছিল ১২ টাকা ৫০ পয়সা। পরদিন দর কমে হয় ১১ টাকা ৩০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমে ৮০ পয়সা।

সে সময় ৭০ পয়সা মুনাফা হলেও পরে তা আর থাকেনি। কারণ এরপর থেকে দাম আরও কমছে। রোববার ফান্ডটির একেকটি ইউনিট লেনদেন শেষ করেছে ১০ টাকা ৪০ পয়সায়।

অর্থাৎ দেড় টাকা নগদ লভ্যাংশ দিতে গিয়ে বিনিয়োগকারী খুইয়েছেন ২ টাকা ১০ পয়সা।

ইউনিটধারীদের ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে এসইএমএল এফবিএলএসএল গ্রোথ ফান্ড। এর লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটও ছিল ২ সেপ্টেম্বর।

সেদিন ইউনিট মূল্য ছিল ১২ টাকা ২০ পয়সা। রেকর্ড ডেটের পর সার্কিট ব্রেকারের নিম্নতম সীমা অনুযায়ী দাম কমে ১ টাকা ২০ পয়সা। এরপর আরও কমে রোববার লেনদেন শেষ করে ১০ টাকা ৬০ পয়সায়।

অর্থাৎ দেড় টাকা লভ্যাংশ দিয়ে এই ফান্ডে বিনিয়োগকারী ইউনিটপ্রতি মূল্য হারিয়েছেন ১ টাকা ৬০ পয়সা।

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডে ইউনিটপ্রতি দেড় টাকা লভ্যাংশ নেয়ার রেকর্ড ডেট ছিল ৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন ইউনিটপ্রতি দর ছিল ১৩ টাকা ১০ পয়সা।

রেকর্ড ডেট শেষে প্রথম দিন কমে ১ টাকা ৩০ পয়সা। পরে আরও কমে রোববার দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ১০ পয়সায়।

অর্থাৎ দেড় টাকা লভ্যাংশ নিয়ে দুই টাকা খুইয়েছেন বিনিয়োগকারী।

সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৫ পয়সা লভ্যাংশ নিয়েও লাভবান হয়নি বিনিয়োগকারীরা।

ফান্ডটি লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের দিন দর ছিল ১৯ টাকা ৫০ পয়সা। রোববারের দর ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।

অর্থাৎ ১ টাকা ৩৫ পয়সা লভ্যাংশ দিয়ে একেকজন খুইয়েছেন ১ টাকা ৭০ পয়সা।

সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ানের ইউনিটধারীরা ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ নিতে গিয়ে খুইয়েছেন ১ টাকা ৫০ পয়সা।

৮ সেপ্টেম্বর রেকর্ড ডেটের দিন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ১২ টাকা ৭০ পয়সা। রোববার দাম কমে দাঁড়ায় ১১ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ কমেছে দেড় টাকা।

ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর রেকর্ড ডেটে ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা।

১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ নিতে গিয়ে বিনিয়োগকারীর এখন পর্যন্ত লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৫০ পয়সা। রোববার ফান্ডটির প্রতিটি ইউনিটের দাম ছিল ৮ টাকা ২০ পয়সা।

সমপরিমাণ লভ্যাংশ দেয়া গ্রিনডেল্টা মিউচ্যুয়াল ফান্ডেরও একই দশা। রেকর্ড ডেট ১ সেপ্টেম্বর ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৬০ পয়সা। সেটি এখন কমে হয়েছে ৮ টাকা ১০ পয়সা।

অর্থাৎ ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ নিয়ে একেকজন হারিয়েছেন ১ টাকা ৫০ পয়সা।

ফার্স্ট জনতা ব্যাংক মিউচ্যুয়াল ফান্ড ২০২১ সালে ইউনিটধারীদের জন্য ১৩ শতাংশ বা ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩০ পয়সা হারে লভ্যাংশ দিয়েছে।

ফান্ডটির লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেট ১৬ সেপ্টেম্বরে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৭০ পয়সা। রোববার দাম ৯০ পয়সা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ টাকা ৮০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের কারণে ৯০ পয়সার বেশি কমার সুযোগ ছিল না।

ইবিএল ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডেও একই অবস্থা। ইউনিটধারীদের ১৩ শতাংশ অর্থাৎ ১ টাকা ৩০ পয়সা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ফান্ডটি। রেকর্ড ডেট ১৬ সেপ্টেম্বর ইউনিটপ্রতি দর ছিল ৯ টাকা ৯০ পয়সা।

রেকর্ড ডেট শেষে সার্কিট ব্রেকারের নিম্নতম সীমা অনুযায়ী কমতে পারত ৯০ পয়সা, কমেছেও তা।

ইউনিটপ্রতি ৯০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রেকর্ড ডেটে দাম ছিল ৭ টাকা ৪০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকারের কারণে কমার সুযোগ ছিল ৭০ পয়সা। কমেছে তাই। রেকর্ড ডেট শেষে দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা।

৮৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা পিএইচপি ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের রেকর্ড ডেটের দিন ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৭ টাকা ২০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী কমার সুযোগ ছিল সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। কমেছেও ততটাই। রেকর্ড ডেট শেষে দাম দাঁড়িয়েছে ৬ টাকা ৫০ পয়সা।

একই পরিমাণ লভ্যাংশ দেয়া পপুলার ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দাম রেকর্ড ডেটে ছিল ৭ টাকা। রেকর্ড ডেট শেষে সার্কিট ব্রেকারের নিম্ন সীমা ছিল ৬ টাকা ৩০ পয়সা। এই একটি দামেই লেনদেন হয়েছে দিনভর।

৮০ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর রেকর্ড ডেটে ছিল ৭ টাকা ১০ পয়সা। সার্কিট ব্রেকার অনুযায়ী কমতে পারত সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। কমেছেও তাই।

রেকর্ড ডেটে ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ ঘোষণা করা এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৭ টাকা ৯০ পয়সা। কমার সুযোগ ছিল সর্বোচ্চ ৭০ পয়সা। কমেছেও তাই।

ইউনিটপ্রতি ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া আইএফআইসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর রেকর্ড ডেটে ছিল ৭ টাকা। কমার সুযোগ ছিল ৭০ পয়সা। তবে কমেছে ৬০ পয়সা।

ইবিএল এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও এফবিএফআইএফের লভ্যাংশ নেয়া বিনিয়োগকারীদের কার্যত কোনো মুনাফা হয়নি।

৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া প্রথম ফান্ডের দাম কমেছে সমপরিমাণ, আর ইউনিটে ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়া দ্বিতীয় ফান্ডের দাম কমেছে ৪০ পয়সা।

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

আইসিবির ৮ ফান্ডে মুনাফা

এবার চাঙা পুঁজিবাজারে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট পরিচালিত আটটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ভালো মুনাফা করতে না পারার পর লভ্যাংশ দিয়েছে তুলনামূলক কম। তবে লভ্যাংশ যারা নিয়েছেন, তারা অতটা হতাশ নন। এর কারণ একটির ইউনিট মূল্য লভ্যাংশের পর বেড়েছে। বাকিগুলোর কমলেও এতটা কমেনি যে লভ্যাংশ হিসাব করলে লোকসান হবে।

আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা অবশ্য ব্যাপক মুনাফা করেছেন। ইউনিটপ্রতি ৮০ পয়সা লভ্যাংশ নিয়ে রেকর্ড ডেটের দিন ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ১১ টাকা ৬০ পয়সা। রোববার দাম ছিল ১৫ টাকা। অর্থাৎ লভ্যাংশ নেয়ার পরও দাম বেড়েছে ৩ টাকা ৪০ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল অগ্রণী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

রেকর্ড ডেটে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৪০ পয়সা। এখন দাম ৯ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ এই ফান্ডে বিনিয়োগকারীর মুনাফা হয়েছে ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা।

আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছে।

আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ড মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই ফান্ডটির ইউনিটধারীরাও মুনাফা পেয়েছেন। রেকর্ড ডেটের দিন ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৮ টাকা ১০ পয়সা। ৩০ পয়সা কমে এখন দাম ৭ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি ৩০ পয়সা মুনাফায় আছেন বিনিয়োগকারীরা।

লভ্যাংশ যত ভালো, দরপতন তত বেশি!

আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লভ্যাংশসংক্রান্ত রেকর্ড ডেটে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৮ টাকা ৮০ পয়সা। রোববার দাম ৮ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমেছে ৪০ পয়সা। এই ফান্ডেও ইউনিটপ্রতি মুনাফা আছে ৩০ পয়সা।

আইএফআইএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ৪০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রেকর্ড ডেটে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা। রোববার দাম দাঁড়ায় ৬ টাকা ৭০ পয়সা। অর্থাৎ দাম কমেছে ২০ পয়সা।

সবচেয়ে কম লভ্যাংশ দেয়া ফান্ডটির বিনিয়োগকারীরাও ইউনিটপ্রতি ২০ পয়সা মুনাফায় আছেন।

ফিনিক্স ফিন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৬০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই ফান্ডটির ইউনিটধারীদেরও মুনাফা হয়েছে।

রেকর্ড ডেটে ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৯ টাকা ৬০ পয়সা। রোববার দাম ৯ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ যারা লভ্যাংশ নিয়েছেন, তাদের অন্তত লভ্যাংশের ৫০ পয়সা মুনাফা আছে।

প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট এএমসিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ৭৫ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই ফান্ডের রেকর্ড ডেটের দিন ইউনিটপ্রতি দাম ছিল ৭ টাকা ৯০ পয়সা, রোববার দাম দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ ইউনিট-মূল্য কমেছে ৩০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু
৪ টাকা আয় করে ১ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ রিলায়েন্স ওয়ানের
৬ টাকা আয় করে ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
রেইসের লভ্যাংশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ফের আগ্রহ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আয় কমেছে সিঙ্গারের

আয় কমেছে সিঙ্গারের

তৃতীয় প্রান্তিকের আয় মিলিয়ে গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সিঙ্গারের আয় দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৯৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় ছিল ৬ টাকা ২৯ পয়সা।

জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ব্যবসা খারাপ হওয়ার প্রভাবে চলতি অর্থবছরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি সিঙ্গার বিডির আয় কমে গেছে।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ হয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে অর্থবছরের তিন প্রান্তিকে।

এই তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ২৮ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ৪ টাকা ২৮ পয়সা।

সোমবার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ তৃতীয় প্রান্তিকের এই অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর তা প্রকাশ করে।

তৃতীয় প্রান্তিকের আয় মিলিয়ে গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সিঙ্গারের আয় দাঁড়িয়েছে ৫ টাকা ৯৭ পয়সা। গত অর্থবছরের একই সময়ে শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় ছিল ৬ টাকা ২৯ পয়সা।

গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আর্থিক হিসাবে কোম্পানিটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ আয় করেছিল। চলতি বছর শেয়ার প্রতি এই আয় ছিল ৪ টাকা ৬৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ২ পয়সা।

আয় কিছুটা কমলেও কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য বাড়ছে। সেপ্টেম্বর শেষে এই সম্পদমূল্য হয়েছে ৩৫ টাকা। গত ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছর শেষে শেয়ার প্রতি এই সম্পদমূল্য ছিল ৩২ টাকা ১৯ পয়সা।

গত অর্থবছরে শেয়ার প্রতি ৭ টাকা ৮৫ পয়সা আয় করে সিঙ্গার ৩ টাকা করে লভ্যাংশ দিয়েছিল।

কোম্পানিটির শেয়ারদর গত এক বছরে ১৫৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২১৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত উঠানামা করেছে।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনে অন্যান্য কোম্পানির পাশাপাশি মৌলভিত্তির এই কোম্পানিটির শেয়ারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দর হারিয়েছে।

এই আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের দিন শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১৮৩ টাকা ২০ পয়সা।

গত ৫ সপ্তাহে শেয়ারদর কমেছে ২৫ টাকার বেশি।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু
৪ টাকা আয় করে ১ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ রিলায়েন্স ওয়ানের
৬ টাকা আয় করে ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
রেইসের লভ্যাংশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ফের আগ্রহ

শেয়ার করুন

ফারইস্টের পুনর্গঠিত কমিটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

ফারইস্টের পুনর্গঠিত কমিটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ও ডিন রহমত উল্লাহ লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তাকে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই সময়ের অভাবে ফারইস্টের দায়িত্ব পালন একেবারেই অসম্ভব।

পুঁজিবাজার তালিকাভুক্ত বিমা খাতের কোম্পানি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পুনগঠন করা বোর্ডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ পদত্যাগ করেছেন।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ এ সক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত ব্যস্ততার’ কথা তুলে ধরা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ও ডিন রহমত উল্লাহ লেখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তাকে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই সময়ের অভাবে ফারইস্টের দায়িত্ব পালন একেবারেই অসম্ভব।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আইডিআরএ নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র এস এম শাকিল আক্তার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত।’

রহমত উল্লাগ যে কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন তার বাইরে কোনো বিষয় আছে কি না, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘কিছু কারণ তো থাকেই। পুনর্গঠন করা বোর্ডের চেয়ারম্যান কিন্তু কোম্পানির চেয়ারম্যানের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, তারা শুধু পরামর্শ দিতে পারে।

তিনি বলেন, ‘বিমা কোম্পানি চালানোর জন্য এ খাতের দক্ষ লোক প্রয়োজন। বাইরে থেকে কাউকে এনে বাসলে তার সেটি আয়ত্বে নিতে অনেক সময় প্রয়োজন হয়। সে সময়টা অনেকে দিতে চান না।’

গত ১ সেপ্টেম্বর বিএসইসি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে রহমত উল্লাহসহ নয়জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে আগের পর্ষদ ভেঙে দেয় বিএসইসি।

নতুন বোর্ডকে আগামী ৬ মাসের মধ্যে তাদের কোম্পানির শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, করপোরেট ক্যাশ ও সম্পদ ফিরিয়ে আনা, যারা গত ১০ বছরে কোম্পানিতে আর্থিক অপরাধ ও মানি লন্ডারিং করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

নবনির্বাচিত পর্ষদ কোম্পানিটির করপোরেট গভর্নেন্স ২০১৮ আইন অনুসারে একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করবে বলেও জানানো হয়। একটি নমিনেশন ও রিমুন্যারেশন কমিটি গঠন করার জন্যও বলা হয়।

পুনগঠন করা বোর্ড দায়িত্ব নেয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নানা অনিয়মের অভিযোগে কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হেমায়েত উল্লাহকে অপসারণ করে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

এর আগে বিএসইসি যেসব কোম্পানির পর্ষদ পুনগঠন করেছিল সেগুলো ছিল লোকসানি অথবা বন্ধ। উদ্যোক্তা পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার না থাকলেও পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

এসব কোম্পানির মধ্যে আলহাজ্ব টেক্সটাইল ও রিংসাইন টেক্সটাইল এরই মধ্যে উৎপাদন শুরু করেছে। এমারেল্ড অয়েল ১ সেপ্টেম্বর উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েও পারেনি।

বাকিগুলোর মধ্যে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলকে অধিগ্রহণে অনুমতি দেয়া হয়েছে আলিফ গ্রুপকে। ফ্যামিলি টেক্স চালু আছে বলে নতুন পর্ষদ দেখতে পেয়েছে।

এই বোর্ড পুনর্গঠন ইস্যুতে প্রায় সবগুলো কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। আদৌ উৎপাদনে আসা নিয়ে সংশয় থাকা, বা কার্যক্রম চালু হলেও কবে মুনাফায় ফিরবে এ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকার পরেও কোনো কোনো কোম্পানির শেয়ারদর দ্বিগুণ, কোনোটির তিন গুণ, কোনোটির চারগুণ হয়েছে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৩০ শতাংশ শেয়ার আছে। ২০২০ সালে লভ্যাংশ ছাড়া বাকি বছরগুলোর নিয়মিত লভ্যাংশও দিয়ে আসছে। কোম্পানিটি পুনর্গঠন করার উদ্দেশ্য আর্থিক অনিয়ম ঠেকানো।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু
৪ টাকা আয় করে ১ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ রিলায়েন্স ওয়ানের
৬ টাকা আয় করে ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
রেইসের লভ্যাংশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ফের আগ্রহ

শেয়ার করুন

শেয়ারে ১ টাকা ১০ পয়সা লভ্যাংশ দেবে লাভেলো আইসক্রিম

শেয়ারে ১ টাকা ১০ পয়সা লভ্যাংশ দেবে লাভেলো আইসক্রিম

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৪১ পয়সা। তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা। এই আয়ের মধ্যে সিংহভাগই হয়েছে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকে। মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছির ৭৬ পয়সা। পরের তিন মাসে আয় হয় ৬৫ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর আয় সামান্য বাড়াতে পেরেছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি লাভেলো আইসক্রিম। গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদেরকে ১১ শতাংশ নগদ, অর্থাৎ শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১০ পয়সা লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানিটি।

সোমবার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৪১ পয়সা। তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ১ টাকা ৩১ পয়সা।

এই আয়ের মধ্যে সিংহভাগই হয়েছে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত চতুর্থ প্রান্তিকে। মার্চে তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ছির ৭৬ পয়সা। পরের তিন মাসে আয় হয় ৬৫ পয়সা।

কোম্পানিটি তালিকাভুক্ত হওয়ার সময় শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য ১২ টাকা ৭৫ পয়সা। গত ৩০ জুনেও তাই ছিল।

যারা লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে আগামী ১৭ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ সেদিন হবে রেকর্ড ডেট।

লভ্যাংশ চূড়ান্ত করতে বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম ডাকা হয়েছে আগামী ২৮ ডিসেম্বর।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রথম দুই দিন ৫০ শতাংশ করে শেয়ার দর ২২ টাকা ৫০ শতাংশ হয়ে যায়।

সে সময় শেয়ার দর টানা দাম বেড়ে ২৭ টাকা ৫০ পয়সা হয়ে গেছেও পরে দাম কমে ২০ টাকা হয়ে যায়। গত মে মাস থেকে ধাপে ধাপে শেয়ার দর বাড়তে বাড়তে সর্বোচ্চ দাম হয়ে যায় ৪০ টাকা।

তবে লভ্যাংশ ঘোষণার দিন শেয়ার দর কিছুটা কমে হয়েছে ৩৫ টাকা ৮০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু
৪ টাকা আয় করে ১ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ রিলায়েন্স ওয়ানের
৬ টাকা আয় করে ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
রেইসের লভ্যাংশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ফের আগ্রহ

শেয়ার করুন

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে

টানা পতনে হতাশ হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফাইল ছবি

গত ১১ অক্টোবর থেকে টানা যে পতন শুরু হলো, তাতে ছয় দিনেই পড়ল ২৭০ পয়েন্ট। গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারিও এত বেশি সূচক পড়েনি। সে সময় ৬ দিনে সূচক পড়েছিল ২২৮ পয়েন্ট।

যত সংখ্যক শেয়ারের দর বেড়েছে, পতন হওয়া কোম্পানির সংখ্যা তার প্রায় ১০ গুণ। এক বছরের বেশি সময় ধরে চাঙা থাকা পুঁজিবাজারে হঠাৎ করেই যে পতন শুরু, সেখান থেকে বের হওয়ার যেন কোনো নাম নেই।

গত ফেব্রুয়ারির মতো টানা ছয় দিনের পতনের দিনে সোমবার এক পর্যায়ে সূচক একশ পয়েন্টের বেশি পড়ে গেলেও দিনের শেষ বেলায় অবশ্য কিছুটা উঠে।

তার পরেও ৮৯ পয়েন্ট সূচকের পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চিড় ধরা আত্মবিশ্বাস আরেকটু নড়বড়ে হলো।

গত ১১ অক্টোবর থেকে টানা যে পতন শুরু হলো, তাতে ছয় দিনেই পড়ল ২৭০ পয়েন্ট। গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারিও এত বেশি সূচক পড়েনি। সে সময় ৬ দিনে সূচক পড়েছিল ২২৮ পয়েন্ট।

কেবল শেয়ার দর না, সেই সঙ্গে কমছে লেনদেন। গত ২৯ জুনের পর সোমবারই সবচেয়ে কম সংখ্যক শেয়ার হাতবদল হয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে।

দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৯২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। ২৯ জুন এর চেয় কম লেনদেন ছিল ১ হাজার ১৪৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।

লেনদেন হওয়া কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে কেবল ৩৩টির দর। বিপরীতে কমেছে ৩২৪টির।

গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণার পর আগের দিন আতঙ্কে যে পতন হয়েছিল, এরপর এমন দিন আর আসেনি। সেদিন কেবল ৬টি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছিল। তবে এত বেশি শেয়ারের দরপতন হয়নি। এর কারণ, সে সময় ফ্লোর প্রাইস থাকায় শতাধিক কোম্পানির শেয়ারের দাম একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি কমা সম্ভব ছিল না। কিন্তু এখন ফ্লোর প্রাইস না থাকায় শেয়ার দর কমার কোনো সীমা নেই।

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে
সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে যখন দর সংশোধন শুরু হয়, প্রথমে দুর্বল ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর বেশি কমছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বড় মূলধনি, কোম্পানিগুলোও দর হারাতে থাকে। টানা পরপতন অব্যাহত থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

সোমবারের পতনের বিষয়ে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ভিআইপিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারে যে পতন হয়েছে স্বল্প সময়ের জন্য এমনটি হতে পারে। তবে সূচকের পতনটি কিছুটা সময় নিয়ে হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আর সূচক শত পয়েন্টের বেশি নেমে আসলে স্বাভাবিকভাবেই সেটিকে অস্বাভাবিক মনে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সচেতনতাটি তৈরি হওয়া উচিত। তারা যেন আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি না করে। তাহলে আল্টিমেটলি পুঁজিবাজার ভালো হওয়ার চেয়ে খারাপই হবে।’

আগের দিন একই ৩০ পয়েন্টের বেশি সূচক বাড়ানো ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির শেয়ারদর কমায় সূচক কমেছে ১১.৭৫ পয়েন্ট। বড় মূলধনি অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে গ্রামীণ ফোরন, ওয়ালটন, স্কয়ার ফার্মা, আইসিবি, বেক্সিমকো ফার্মা, ব্র্যাক ব্যাংক, পাওয়ার গ্রিড, শাহজিবাজার পাওয়া ও তিতাস গ্যাসের কারণে সূচক কমেছে সবচেয়ে বেশি।

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে
সূচকের বড় পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা ১০ কোম্পানি

এই ১০টি কোম্পানির কারণেই সূচক পড়েছে ৪৯.১৭ পয়েন্ট।

অন্যদিকে যে ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে সেগুলো হলো ইউনাইটেড পাওয়ার, বিএসআরএম লিমিটেড, রবি, সাউথবাংলা ব্যাংক, ওরিয়ন ফার্মা, সোনালী পেপার, এনআরবিসি, হেইডেলবার্গ সিমেন্ট, ফরচুর সুজ ও ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স। তবে এসব শেয়ারের দর বৃদ্ধির হার ও শেয়ার সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় এই ১০ কোম্পানি সূচকে যোগ করেছে কেবল ১২.১৪ পয়েন্ট।

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে
সূচক বাড়ানো ১০টি কোম্পানি যোগ করেছে কেবল ১২ পয়েন্ট

এদিন দর বৃদ্ধিতে এগিয়ে ছিল মৌলভিত্তির ‘এ‘ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলো।

তবে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে গোল্ডেনসন, যেটি গত কয়েকবছর লোকসানের বৃত্ত ভেঙে এবার মুনাফার মুখ দেখছি। কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে ৯.৭৫ শতাংশ।

এছাড়া সাউথবাংলা ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে ৫.২৩ শতাংশ। বিএসআরএম এর শেয়ার দর বেড়েছে ৪.৪৭ শতাংশ।

চার খাতে শতভাগ শেয়ারের পতন

চার খাতের একটি কোম্পানির শেয়ার দরও বাড়েনি। এরমধ্যে আছে খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক, সিরামিক, ভ্রমন ও অবকাশ, পাট খাত।

খাদ্য ও আনুষাঙ্গিক খাতের ২০টি কোম্পানির সবগুলোর দর পতন সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৮.১০ শতাংশ দর হারিয়েছে মেঘনা কনডেনসড মিল্ক। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ দর হারিয়েছে এমারেল্ড অয়েলের দর। এপেক্স ফুডের দর কমেছে ৪.৬০ শতাংশ। জেমিনি সি ফুডের দর কমেছে ৪.১০ শতাংশ, মেঘনা পেটের ৪ শতাংশ।

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে
খাদ্যসহ মোট চারটি খাতে সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে

ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের তালিকাভুক্ত আছে তিনটি কোম্পানি। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে পেনিনসুলার ১.৯৯ শতাংশ। শেয়ার দর ৩০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২৯ টাকা ৪০ পয়সা।

তারপরই আছে ইউনিক হোটেল, যার শেয়ার দর কমেছে ১.৮৫ শতাংশ। সি পার্ল হোটেলের শেয়ার দর কমেছে দশমিক ২১ শতাংশ।

পাট খাতে সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে ‘জেড‘ ক্যাটাগরির জুট স্পিনার্স। ২.৯৮ শতাংশ কমেছে এর দর। এছাড়া নর্দনা জুন ২.৫০ ও সোনালী আশ ২.৫৪ শতাংশ শেয়ার দর হারিয়েছে।

সূচকের বড় পতনে নিভু আলো ব্যাংক বিমায়

অন্য খাতের যেখানে কোম্পানির শেয়ারের দর বৃদ্ধি নিয়ে টানাটানি সেখানে এমন পতনে মুখেও ব্যাংক ও বিমা খাতের শেয়ার দর বৃদ্ধিতে কিছুটা আশার আলো দেখা গেছে।

এদিন ব্যাংক খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৭টির। দর হারিয়েছে ১৯টি কোম্পানি। তবে পতনের হার বেশ কম।

টানা পতনের ষষ্ঠ দিনে ধস, লেনদেন তলানিতে
৩২৪টি কোম্পানির দরপতনের ভিড়ে ব্যাংক খাতে পতনের হার ছিল কম

এ খাতের সবচেয়ে বেশি দর হারিয়েছে আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ২.৫৭ শতাংশ। আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ২.১৩ শতাংশ। আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার দর কমেছে ১.৭৬ শতাংশ।

অপরদিকে দর বেড়েছে সাউথবাংলা, এমটিবি, এনআরবিসি, সাউথইস্ট, ইউসিবি, উত্তরা, সিটি ব্যাংক।

বিমা খাতের লেনদেনে জীবন বিমা খাতের কোনো কোম্পানির শেয়ার দর বাড়েনি। যে চারটি কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে সবগুলোই সাধারণ বিমা খাতের।

লেনদেনে ৪৬টি কোম্পানির শেয়ার দর কমেছে।

দর বৃদ্ধি পাওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে আছে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া প্যাসিফিক, রূপালী ইন্স্যুরেন্স ও সোনারবাংলা ইন্স্যুরেন্স।

সূচক লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৮৯ দশমিক ১৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৯৭ দশমিক ২৭ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ২১ দশমিক ১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৫ দশমিক ১৭ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ২৬ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু
৪ টাকা আয় করে ১ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ রিলায়েন্স ওয়ানের
৬ টাকা আয় করে ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
রেইসের লভ্যাংশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ফের আগ্রহ

শেয়ার করুন

টানা তিন প্রান্তিকে আয় বাড়াল আইপিডিসি

টানা তিন প্রান্তিকে আয় বাড়াল আইপিডিসি

কোম্পানিটি গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১১ পয়সা আয় করে। আগের বছর গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৮৫ পয়সা। তৃতীয় প্রান্তিকে আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি আয় করার পর তিন প্রান্তিক মিলিয়ে আয় দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৩৫ পয়সা।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকেও আয় কিছুটা বাড়াতে পেরেছে।

এই তিন মাসে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ৫৯ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে এই আয় ছিল ৫০ পয়সা। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ৯ পয়সা বা ১৮ শতাংশ।

এ নিয়ে চলতি বছরের তিন প্রান্তিকেই কোম্পানিটির আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বাড়ল।

গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১ টাকা ৭০ পয়সা, যা গত বছরের এই সময়ে ১ টাকা ৩৫ পয়সা ছিল। অর্থাৎ আয় বেড়েছে ২৫.৯২ শতাংশ।

রোববার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়।

এর আগে জুন পর্যন্ত দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বাড়িয়েছিল ৩০ শতাংশের বেশি।

কোম্পানিটি গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে শেয়ার প্রতি ১ টাকা ১১ পয়সা আয় করে। আগের বছর গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৮৫ পয়সা।

এর মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত আয় হয়েছিল শেয়ার প্রতি ৫৫ পয়সার কিছুটা বেশি। আগের বছর এই আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

আর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকে আয় হয়েছিল ৫৫ পয়সার কিছুটা কম। আগের বছর একই সময়ে আয় ছিল ৪০ পয়সা।

আয়ের পাশাপাশি সম্পদমূল্যও বেড়েছে আইপিডিসির। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ১৬ টাকা ৪৮ পয়সা। জুন শেষে সম্পদমূল্য ছিল ১৫ টাকা ৮৮ পয়সা।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ১ টাকা ৯০ পয়সা আয় করে ১ টাকা ২০ পয়সা লভ্যাংশ দিয়েছিল আইপিডিসি।

লভ্যাংশ শেষে গত কোম্পানিটির শেয়ার দরে উল্লম্ফন হয়েছে। লভ্যাংশ ঘোষণার সময় কোম্পানিটির শেয়ার মূল্য ছিল ২৬ টাকা ৮০ পয়সা। সম্প্রতি তা বেড়ে এক পর্যায়ে ৪৯ টাকা ৭০ পয়সা হয়ে যায়। এটি গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দর।

তবে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শেয়ার মূল্য কমতে শুরু করেছে। রোববার শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৭০ পয়সা।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু
৪ টাকা আয় করে ১ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ রিলায়েন্স ওয়ানের
৬ টাকা আয় করে ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
রেইসের লভ্যাংশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ফের আগ্রহ

শেয়ার করুন

ছয় বছরে সর্বনিম্ন আয়ের পর সবচেয়ে কম লভ্যাংশ নাহীর

ছয় বছরে সর্বনিম্ন আয়ের পর সবচেয়ে কম লভ্যাংশ নাহীর

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নাহী অ্যালুমিনিয়ামের পণ্য

২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ১৫ পয়সা। আগের বছর এই আয় ছিল ২ টাকা ৪৭ পয়সা। ওই বছর শেয়ার প্রতি ৮০ পয়সা নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০টি শেয়ারে ৭টি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি।

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি নাহী অ্যালুমিনিয়াম গত ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারপ্রতি এক টাকা অর্থাৎ ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০১৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর শেয়ার প্রতি সর্বনিম্ন আয় করার পর ইতিহাসের সবচেয়ে কম লভ্যাংশ দিতে যাচ্ছে কোম্পানিটি।

রোববার কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে জানানো হয় ২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২ টাকা ১৫ পয়সা।

আগের বছর এই আয় ছিল ২ টাকা ৪৭ পয়সা। ওই বছর শেয়ার প্রতি ৮০ পয়সা নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রতি ১০০টি শেয়ারে ৭টি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল কোম্পানিটি।

এর আগে তালিকাভুক্ত হওয়ার বছরে ২০১৭ সালে শেয়ার প্রতি ২ টাকা ৫৬ পয়সা আয় করে ৫০ পয়সা নগদ ও প্রতি ১০টি শেয়ারে একটি বোনাস দিয়েছিল কোম্পানিটি।

পরের বছর শেয়ার প্রতি আয় আরও বেড়ে হয় ৩ টাকা ৮ পয়সা। বাড়ে লভ্যাংশও। ওই বছর প্রতি ১০টি শেয়ারে একটি বোনাসের পাশাপাশি শেয়ার প্রতি ৭০ পয়সা দেয়া হয় নগদ।

২০১৯ সালে শেয়ার প্রতি আয় আরও বেড়ে হয় ৩ টাকা ৭৮ পয়সা। তবে কমে লভ্যাংশ। সে বছর ২০১৭ সালের মতোই শেয়ার প্রতি ৫০ পয়সা নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস দেয়া হয়।

তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের বছর ২০১৬ সালে নাহীর শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৩৩ পয়সা।

এবার আয় কমলেও শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য সামান্য বেড়েছে। ২০২০ সালে এই সম্পদমূল্য ছিল ১৭ টাকা ৯ পয়সা। ৭ শতাংশ বোনাস শেয়ার যুক্ত হওয়ার পরেও এক বছর শেষে তা বেড়ে হয়েছে ১৭ টাকা ৩৮ পয়সা।

যারা এবার লভ্যাংশ নিতে চান, তাদেরকে আগামী ১০ নভেম্বর শেয়ার ধরে রাখতে হবে। অর্থাৎ, সেদিন রেকর্ড ডেটে লেনদেন থাকবে স্থগিত।
আগামী ১৫ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভায় এই লভ্যাংশ অনুমোদন হবে।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু
৪ টাকা আয় করে ১ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ রিলায়েন্স ওয়ানের
৬ টাকা আয় করে ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
রেইসের লভ্যাংশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ফের আগ্রহ

শেয়ার করুন

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী

সপ্তাহের প্রথম দিন ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো খাতের বিনিয়োগকারীরাই স্বস্তিতে ছিলেন না বলা যায়। ছবি: নিউজবাংলা

গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকেই এই খাতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। সেদিন ব্যাংক খাতে হাতবদল হয়েছিল ১৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা। পরদিন কিছুটা কমে হয় ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১২ অক্টোবর আবার বেড়ে হয় ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ১৩ অক্টোবর তা আরও বেড়ে হয় ১৯৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১৪ অক্টোবর পুঁজিবাজারে লেনদেন প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমে গেলেও ব্যাংক খাতে শতকরা হারে হিস্যা আরও বাড়ে। সেদিন এই খাতে লেনদেন হয় ১৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেখান থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকা বেড়ে আজ হাতবদল হলো ২৮৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

আগের সপ্তাহে টানা চার কর্মদিবসের পর পুঁজিবাজারে নতুন সপ্তাহের শুরুটাও হলো বাজে। দিনের অর্ধেক সময় বাজার ইতিবাচক থাকলেও শেষ পর্যন্ত বড় পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো লেনদেন।

সামগ্রিক পতনের মধ্যেও সবচেয়ে বড় বাজার মূলধনের ব্যাংক খাতে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। বহু বছর পর লেনদেনের শীর্ষে উঠে এলো ব্যাংক খাত।

সামগ্রিকভাবে লেনদেন কমলেও এই খাতে লেনদেন বেড়েছে ৯০ কোটি টাকার মতো। মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশের মতো হাতবদল হলো একটি খাতে।

আগের সপ্তাহে টানা চার কর্মদিবসে সূচক পড়েছিল ১২৫ পয়েন্টের মতো। রোববার পড়েছে আরও ৫৬ পয়েন্ট।

গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া বাজার সংশোধনে এ নিয়ে টানা পাঁচ কর্মদিবস সূচক কমল, যা গত ২৩ ফেব্রুয়ারির পর আর ঘটেনি। এর আগে গত ১৬ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ছয় কর্মদিবস সূচক পড়েছিল।

দিনের শেষটা হতাশ করলেও শুরুটা খারাপ ছিল না। ৩৬ পয়েন্ট বেড়ে গিয়ে শুরু হয় লেনদেন। দুপুর ১২টা পর্যন্তও সূচক ৩৫ পয়েন্ট বেড়ে লেনদেন হচ্ছিল। কিন্তু এরপর কেবলই পড়তে থাকে।

বেলা একটা পর্যন্ত সূচক আগের কর্মদিবসের চেয়ে বেশিতে লেনদেন হচ্ছিল। কিন্তু এরপর থেকে কেবলই কমেছে। একপর্যায়ে লেনদেন শেষ হওয়ার ৭ মিনিট আগে সূচক পড়ে যায় ৭৭ পয়েন্ট। পরে সেখান থেকে কিছুটা বাড়ে সূচক।

শেয়ার মূল্য বেড়েছে কেবল ৬৫টি কোম্পানির। বিপরীতে পড়েছে ২৮৭টির। অপরিবর্তিত ছিল বাকি ২৪টির।

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী
রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের চিত্র

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির তিনটি ছিল ব্যাংক খাতের আর সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১৫টি কোম্পানির মধ্যে ছয়টি ছিল এই খাতের। বহু দিন পর এই চিত্র দেখা গেল।

এর মধ্যে নতুন তালিকাভুক্ত সাউথ বাংলা ব্যাংকের শেয়ার দর বেড়েছে এক দিনে যত বাড়া সম্ভব ততই। আগের দিনের দামের সঙ্গে যোগ হলো ৯.৯৪ শতাংশ।

টানা চতুর্থ দিন বৃদ্ধি পাওয়া এনআরবিসির দর বেড়েছে ৮.২২ শতাংশ। এ ছাড়া আইএফআইসি ব্যাংকের শেয়ার দর ৫.০৫ শতাংশ, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের দর ৩.৫১ শতাংশ, আল-আরাফাহ ব্যাংকের দর ৩.৪১ শতাংশ এবং এবি ব্যাংকের দর বেড়েছে ৩.৪০ শতাংশ।

সব মিলিয়ে ৩২টি ব্যাংকের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১৯টির। শেয়ার দর ১০ থেকে ৩০ পয়সা কমেছে ৭টি ব্যাংকের, দর অপরিবর্তিত ছিল বাকি ৬টির।

২০২০ সালে যেকোনো খাতের তুলনায় ভালো লভ্যাংশ দেয়া ব্যাংকগুলোর আয় অর্ধবার্ষিকে আরও বেড়েছে। তার মধ্যেও এই খাতটির ঘুমিয়ে থাকা নিয়ে আলোচনার মধ্যে দর সংশোধনের বাজে সময়েও বিনিয়োগকারীরা উৎসাহী হয়ে উঠছেন।

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী
গত কয়েক দিন ধরেই ব্যাংক খাতে বিনিয়োগ বেড়ে চলার যে প্রবণতা দেখা দিয়েছিল, তা আরও স্পষ্ট হলো

গত ১০ সেপ্টেম্বর থেকেই এই খাতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। সেদিন ব্যাংক খাতে হাতবদল হয়েছিল ১৯১ কোটি ২০ লাখ টাকা। পরদিন কিছুটা কমে হয় ১৪০ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১২ অক্টোবর আবার বেড়ে হয় ১৭৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ১৩ অক্টোবর তা আরও বেড়ে হয় ১৯৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। ১৪ অক্টোবর পুঁজিবাজারে লেনদেন প্রায় ৫০০ কোটি টাকা কমে গেলেও ব্যাংক খাতে শতকরা হারে হিস্যা আরও বাড়ে। সেদিন এই খাতে লেনদেন হয় ১৯৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সেখান থেকে প্রায় ৯০ কোটি টাকা বেড়ে আজ হাতবদল হলো ২৮৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।

দিন শেষে সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৮৬ পয়েন্ট। গত ১৯ সেপ্টেম্বরের পর সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান এটি।

সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে কিছুটা। বৃহস্পতিবার হাতবদল হয়েছিল ১ হাজার ৪৩৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সেখান থেকে খানিকটা বেড়ে আজ লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।

ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো খাতেই দিনটি ভালো যায়নি। এর ভিড়ে সবচেয়ে বেশি খারাপ দিন গেছে সিমেন্ট খাতে। গত মাসে হঠাৎ করেই ব্যাপক লেনদেন শুরু হওয়া খাতটির সবগুলো কোম্পানিই দর হারিয়েছে।

আর্থিক খাতের ২২টি কোম্পানির মধ্যে একটি মাত্র দর ধরে রাখতে পেরেছে, পতন হয়েছে বাকি সবগুলোর।

বিমা খাতে কেবল চারটি কোম্পানির দর বেড়েছে, কমেছে বাকি ৪৭টির। লেনদেনের দ্বিতীয় শীর্ষে থাকলেও ওষুধ ও রসায়ন খাতেও পতন হয়েছে। চারটি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২৬টির দর।

বস্ত্র খাতে ৭টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৪৬টির দর, জ্বালানি খাতে দুটির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ২০টি আর প্রকৌশল খাতে ৭টির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৩৪টির দর।

বড় মূলধনি ১০ কোম্পানির উত্থানেও ঠেকানো গেল না পতন

টানা দর বাড়তে থাকা ব্রিটিশ আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানির শেয়ার দর আরও ৩.৭৬ শতাংশ বেড়েছে। এই একটি কোম্পানির কারণেই সূচকে যোগ হয়েছে ৩০.৭৭ পয়েন্ট।

এ ছাড়া বেক্সিমকো লিমিটেডের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় সূচকে যোগ হয়েছে ৮.১১ পয়েন্ট, গ্রামীণ ফোন বাড়িয়েছে ৪.৮৩ পয়েন্ট।

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী
পতনের বাজারে সূচক টেনে তুলতে প্রধান ভূমিকায় ছিল যেসব কোম্পানি

অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে এনআরবিসি ৪.০৩, আইএফআইসি ৩.২২, সাউথবাংলা ব্যাংক ৩.১৩, ফরচুন সুজ ২.৯৩, ইসলামী ব্যাংক ২.৩৭, ডেল্টালাইফ ২.০৩ এবং আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সূচকে যোগ করেছে ২.০১ পয়েন্ট।

অর্থাৎ এই ১০টি কোম্পানিই সূচকে যোগ করেছে মোট ৬৩.৪৩ পয়েন্ট।

অন্যদিকে সূচক সবচেয়ে বেশি কমেছে লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের দরপতনে সূচক থেকে কমেছে ১৫.১৪ পয়েন্ট। অন্যদিকে আইসিবির কারণে ৮.৩ পয়েন্ট, বিকন ফার্মার কারণে ৬.৯৪ পয়েন্ট, রবির কারণে ৬.৬১ পয়েন্ট, ইউনাইটেড পাওয়ারের কারণে ৬.০৯ পয়েন্ট, ওরিয়ন ফার্মার কারণে ৫.৪১ পয়েন্ট, পাওয়ারগ্রিডের কারণে ৫.০৯ পয়েন্ট, জিপিএইচ ইস্পাতের কারণে ৪.১৭ পয়েন্ট, বেক্সিমকো ফার্মার কারণে ৩.৫৬ পয়েন্ট এবং সাবমেরিন কোম্পানির শেয়ারের দরপতনে সূচক কমেছে ৩.৪৩ পয়েন্ট।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানির কারণে সূচকের পতন হয়েছে ৬৪.৭৪ পয়েন্ট।

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী
সূচক পতনে প্রধান ভূমিকায় ছিল এই ১০টি কোম্পানি

দর হারানো কোম্পানির দাম কমেছে ব্যাপক হারে

টানা দুই মাস ধরে চাঙা থাকা ওরিয়ন ফার্মার শেয়ার এক দিনেই দর হারিয়েছে ৯.৫৪ পয়েন্ট। ১১৫ টাকা ২০ পয়সা থেকে দাম নেমে এসঠে ১০৪ টাকা ২০ পয়সায়।

এছাড় উদ্যোক্তা পরিচালকদের চার কোটিরও বেশি শেয়ার লক ফ্রি হওয়ার খবরে ইন্দোবাংলা ফার্মা দর হারিয়েছে ৮.৮৭ পয়েন্ট।

লোকসানি কোম্পানি ইমাম বাটন ৮.৪৭, আরেক লোকসানি জিলবাংলা সুগার ৮.০৭, শেয়ার এক টাকা লভ্যাংশ ঘোষণার খবরে লাফ দেয়ার পর পতনমুখি ফারইস্ট নিটিং ৭.৭৯ শতাংশ, এক মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখি এডভেন্ট ফার্মা ৭.৬৯ শতাংশ, ওরিয়ন গ্রুপের আরেক কোম্পানি ওরিয়ন ইনফিউশন ৭.৩০ শতাংশ, নতুন প্ল্যান্ট উৎপাদনে আসার খবরে উল্লম্ফনে থাকা জিপিএইচ ইস্পাত ৭.২৬ শতাংশ কমেছে।

পতন টানা পাঁচ দিন, বিনিয়োগ এখন ব্যাংকমুখী
ব্যাংক ছাড়া সব খাতের পতনের ভিড়ে সবচেয়ে বেশি বাজে দিন গেছে সিমেন্ট ও আর্থিক খাতে

এক বছরে শেয়ার দর তিন গুণের বেশি বেড়ে যাওয়ার পর পতনমুখি ফুওয়াং সিরামিক ৭.১৭ শতাংশ, অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির তদন্ত চলতে থাকা জিবিবি পাওয়ার ৭.০৯ শতাংশ, গত এক মাস ধরে তুমুল আলোচিত লাফার্জ হোলসিম সিমেন্ট ৬.৪৬, ওটিসি মার্কেট থেকে মূল মার্কেটে ফিরে ছুটতে থাকার পর এক মাস ধরে পতনের মুখে থাকা পেপার প্রসেসিং আরও ৬.৩৬ শতাংশ, দেড় বছর ধরে অস্বাভাবিক হারে দর বৃদ্ধি পাওয়া ঢাকা ডায়িং ৬.১৮ শতাংশ, দুই বছরে শেয়ার দর ১০ গুণ হয়ে যাওয়া বিকন ফার্মা ৬.১৮ শতাংশ, ছয় মাসে শেয়ার দর পাঁচ গুণ বেড়ে যাওয়ার পর পতনমুখি আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ৬.০৪ শতাংশ দর হারিয়েছে।

আরও ১২টি কোম্পানি ৫ শতাংশের বেশি, আরও ২৯টি কোম্পানি ৪ শতাংশের বেশি, ৪৭টি কোম্পানি ৩ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে।

এত বেশি হারে কোম্পানির দরপতনের কারণেই মূলত সূচক কমেছে বেশি।

সূচক লেনদেন

ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৬ দশমিক ৮০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৮৬ দশমিক ৪৬ পয়েন্টে।

শরিয়াভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস ২১ দশমিক ১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৩১ পয়েন্টে।

বাছাই করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস-৩০ সূচক ১৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭০৫ দশমিক ১৩ পয়েন্টে।

দিনশেষে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৯৫২ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:
লভ্যাংশ ১.৭৫ টাকা, দাম কমল ২ টাকা ৩০ পয়সা
আনরিয়েলাইজড গেইন: দায় ডিএসইকে দিল গ্রামীণ টু
৪ টাকা আয় করে ১ টাকা ৫ পয়সা লভ্যাংশ রিলায়েন্স ওয়ানের
৬ টাকা আয় করে ১ টাকা ৩০ পয়সা লভ্যাংশ গ্রামীণ টুর
রেইসের লভ্যাংশে মিউচ্যুয়াল ফান্ডে ফের আগ্রহ

শেয়ার করুন