এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

এসপি অফিসের সামনে দুই শিশুকে রেখে গেলেন মা

ঝালকাঠি এসপি কার্যালয়ের সামনে যমজ দুই শিশুকে ফেলে বাড়িতে চলে গেছেন তাদের মা। ছবি: নিউজবাংলা

সুমাইয়া আক্তার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে টাইফয়েড জ্বরে ভুগছে শিশু আরাফ ও আয়ান। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করলে রোববার সকালে চিকিৎসক ৬ হাজার টাকার বেশ কিছু টেস্ট দেন, যে টাকা তার কাছে ছিল না। বাবা ইমরানকে বিষয়টি জানালে, তিনি টাকা পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সেই ক্ষোভে যমজ দুই ছেলেকে এসপি কার্যালয়ের গার্ডরুমের সামনে রেখে বাড়ি চলে যান সুমাইয়া।

ঝালকাঠি পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের সামনে ১১ মাসের যমজ দুই শিশুকে ফেলে বাড়িতে চলে গেছেন তাদের মা সুমাইয়া আক্তার।

রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। রাত ১০টা পর্যন্ত কাঁদছিল টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত শিশু দুটি। পরে দাদি এসে তাদের নিয়ে যান।

বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তানের দায়িত্ব না নেয়ায় পুলিশ সদস্য স্বামীর ওপর রাগ করে তিনি শিশু দুটিকে ফেলে যান।

সুমাইয়ার অভিযোগ, ৬ মাস আগে স্বামী ইমরান হোসেনের সঙ্গে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর দুই সন্তান তার কাছে ছিল।

ইমরান হোসেন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া থানায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। তার বাড়ি বরিশালের বানারীপাড়ায়।

সুমাইয়া জানান, পুলিশ সদস্য হওয়ার বিবাহবিচ্ছেদের পর ইমরানের সঙ্গে তিনি পেরে উঠছিলেন না। স্থানীয় লোকজন এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়, শিশু দুটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত মায়ের কাছে থাকবে এবং ভরণপোষণের জন্য ইমরান প্রতি মাসে তিন হাজার করে টাকা দেবেন।

তবে সন্তানদের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার জন্য কোনো খরচ দেন না ইমরান-এমনটাই অভিযোগ সুমাইয়ার।

কনস্টেবল ইমরান সুমাইয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রতি মাসে শিশু দুটির ভরণপোষণের জন্য তিন হাজার করে টাকা সুমাইয়াকে দিয়ে আসছি।’

সুমাইয়া আক্তার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে টাইফয়েড জ্বরে ভুগছে শিশু আরাফ ও আয়ান। ওদেরকে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করলে রোববার সকালে চিকিৎসক ৬ হাজার টাকার বেশ কিছু টেস্ট দেন, যে টাকা তার কাছে ছিল না।

টাকা চেয়ে সন্তানদের বাবা ইমরানকে বিষয়টি জানালে, তিনি টাকা পাঠাতে অপারগতা প্রকাশ করে জানান, প্রশিক্ষণের জন্য জামালপুরে আছেন। সেই ক্ষোভে যমজ দুই ছেলেকে এসপি কার্যালয়ের গার্ডরুমের সামনে রেখে ঝালকাঠি সদরের খাওক্ষির গ্রামের বাড়িতে চলে যান সুমাইয়া।

বিকেলে দুই শিশুকে ঝালকাঠি সদর থানায় নিয়ে নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে দায়িত্বরত নারী কনস্টেবলের হেফাজতে রাখা হয়। তিনি জানান, তখন দুইজনের শরীরে বেশ জ্বর ছিল। শিশু দুটি অনবরত কান্না করতে থাকে।

সদর থানা থেকে ইমরানকে বিষয়টি জানানো হলে তার মা রাত ১০টার দিকে শিশু দুটিকে নিয়ে যান। দাদির কাছে যাওয়ার পরপরই কান্না থামে তাদের।

ঝালকাঠি সদর থানার ওসি খলিলুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, জমজ দুই শিশুকে রাতেই ওদের দাদির জিম্মায় দেয়া হয়েছে।

তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের মে মাসে সুমাইয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় ইমরানের। পারিবারিক বিরোধের জেরে গত মার্চে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ছুটির দিনে পাটুরিয়ায় গাড়ির চাপ

ছুটির দিনে পাটুরিয়ায় গাড়ির চাপ

সরকারি ছুটির দিনে গাড়ির চাপ বেড়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরি ঘাট এলাকায়। ছবি: নিউজবাংলা

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এমনিতেই পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ থাকে। তারমধ্যে সরকারি ছুটির দিনে একটু চাপ বেশি হয়। যানাবহনের চাপ বেশি হলেও সমস্যা নাই, কারণ ১৮টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। আশা করছি, বিকেলের আগে ঘাটের চাপ কমে যাবে।’

সরকারি ছুটির দিনে গাড়ির চাপ বেড়েছে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায়। নদী পারাপারের জন্য দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ পথে চলাচলকারীরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ২০টি ফেরির মধ্যে ১৮টি ফেরি সচল রয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুটি ফেরি আছে মেরামতে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয় সূত্র জানায়, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় বুধবার ভোর থেকে পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। পাটুরিয়া ঘাটে ১০০ বাস, দুই শতাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ও তিনশতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের ডিজিএম জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এমনিতেই পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ থাকে। তারমধ্যে সরকারি ছুটির দিনে একটু চাপ বেশি হয়। যানাবহনের চাপ বেশি হলেও সমস্যা নাই, কারণ ১৮টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। আশা করছি, বিকেলের আগে ঘাটের চাপ কমে যাবে।’

পরিবাহের চাপ কমলে সিরিয়াল অনুযায়ী ট্রাকগুলো পার করা হবে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন

গাড়িচাপায় ২ শ্রমিক নিহত

গাড়িচাপায় ২ শ্রমিক নিহত

গাড়ি চাপায় দুই শ্রমিক নিহত ও আহত তিনজন। ছবি: নিউজবাংলা

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, অটো রাইস মিলে কাজ করতে বুধবার রাতে দিনাজপুর থেকে হায়দার আলীসহ ৫ শ্রমিক আশুগঞ্জে আসেন। ভোরে হেঁটে রাইস মিলে যাওয়ার পথে সোনারামপুর এলাকায় একটি গাড়ি তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে হায়দার ও অপর এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে গাড়িচাপায় দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিন জন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ সোনারাম এলাকায় বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি দিনাজপুর সদর উপজেলার মাঝিপাড়া এলাকার হায়দার আলী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাইওয়ে পুলিশ জানায়, অটো রাইস মিলে কাজ করতে বুধবার রাতে দিনাজপুর থেকে হায়দার আলীসহ ৫ শ্রমিক আশুগঞ্জে আসেন। ভোরে হেঁটে রাইস মিলে যাওয়ার পথে সোনারামপুর এলাকায় একটি গাড়ি তাদের চাপা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলে হায়দার ও অপর এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

পুলিশ দুই শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের এখানেই চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

খাটিহাতা হাইওয়ে থানার উপ পরিদর্শক রাফিউল করিম বলেন, নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। অপরজনের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কোন পরিবহনের গাড়ি তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হতে পারে।

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জে সহিংসতা: গ্রেপ্তার আরও ১১

পীরগঞ্জে সহিংসতা: গ্রেপ্তার আরও ১১

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হলো ৫৩ জনকে।

মঙ্গলবার রাতে পীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেশ চন্দ্র।

তিনি বলেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা এজাহারভুক্ত আসামি। তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তোলা হবে।

এর আগে পীরগঞ্জের ঘটনায় ৪২ জনকে আটক করা হয়। পরে দুটি আলাদা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে দুটি মামলা করেন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায়। এতে ৪১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলা একজনকে আসামি করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

ছাতক থানার সেই ওসি বদলি

ছাতক থানার সেই ওসি বদলি

সদ্য বদলি হওয়া সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওসি নাজিম উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামক ফেসবুকভিত্তিক একটি পেজে লাইভে আসেন। সেই ভিডিও ছড়ালে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

সুনামগঞ্জের ছাতক থানার সেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফেসবুক লাইভে আসার অভিযোগ উঠেছিল।

ছাতক থানার ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম শেখ নাজিম উদ্দিন। তাকে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, ওসি নাজিমের আসামিকে ফেসবুক লাইভে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি দায়িত্বে অবহেলার সমান। তাই তাকে ছাতক থানা থেকে বদলি করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনসে আনা হয়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওসি নাজিম উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামক ফেসবুকভিত্তিক একটি পেজে লাইভে আসেন। সেই ভিডিও ছড়ালে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আসামি আবু সুফিয়ান সোহাগকে গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান ও থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ওসি নাজিম। ভিডিওটি ভাইরাল হলে ১ ঘণ্টা পর সেটি পেজ থেকে ডিলেট করা হয়।

ওই সময় ওসি নাজিম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এগুলো করিনি। আসামি যখন আমাদের বিবরণ বলেছিল প্রমাণের জন্য তা ভিডিও করা হয়। কিন্তু এ ভিডিও লাইভে কীভাবে গেল সেটা আমি জানি না। আমি এসব কিছু করিনি।’

এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

শেয়ার করুন

‘জুয়ার টাকা বাঁটোয়ারা’ নিয়ে যুবক খুন

‘জুয়ার টাকা বাঁটোয়ারা’ নিয়ে যুবক খুন

নিহতের বোন সুফিয়া আক্তার জানান, সুরুজ আলী প্রতি রাতেই জুয়া খেলতেন। মঙ্গলবার রাতেও জুয়া খেলতে দুর্লভপুর চৌমুহনীতে যান তিনি। খেলার সময় টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে অন্য জুয়াড়িদের সঙ্গে সুরুজের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সুরুজকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

হবিগঞ্জে জুয়া খেলার টাকা ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে এক যুবককে খুনের অভিযোগ উঠেছে।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ৩টার দিকে সুরুজ আলী মারা যান। এর আগে শহরের দুর্লভপুর গ্রামে বুধবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ আহমেদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ৩৫ বছর বয়সী সুরুজ আলীর বাড়ি দুর্লভপুর গ্রামে।

নিহতের বোন সুফিয়া আক্তার জানান, সুরুজ আলী প্রতি রাতেই জুয়া খেলতেন। মঙ্গলবার রাতেও জুয়া খেলতে দুর্লভপুর চৌমুহনীতে যান তিনি। খেলার সময় টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে অন্য জুয়াড়িদের সঙ্গে সুরুজের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সুরুজকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই শরীফ আহমেদ জানান, মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, জুয়ার টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে সুরুজকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় মামলা হবে।

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুপাড়ায় এখনও আতঙ্ক, বিনিদ্র রাত

পীরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুপাড়ায় এখনও আতঙ্ক, বিনিদ্র রাত

পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে হামলার পর আতংকে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কনক মালা বলেন, ‘ছোট ছোয়া (ছেলে) সুজন কয়, মা ওমরা কি ফির আইসপে (আসবে)। মুই কইচোং (বলেছি), না বাবা আর আইসপের নয়। তুই ঘুম যা। ঘুম পড়ে না ভয়োতে (ভয়ে)...।’

যেই আইত (রাত) হইল অমনি ভয় ধরিল, খালি ভয় নাগে (লাগে), শরীল (শরীর) দলদল করি কাঁপে। মনে হয় ওমরা (ওরা) ফির আসিল। ওই চিন্তায় ঘুম হয় নাই। ঘুমোতে চটকি চটকি (চমকে চমকে) উটি। ছৈল গুল্যা ঘুম পাড়ে নাই।’

কথাগুলো বলছিলেন, পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের রুহিনী চন্দ্র দাস।

ওই এলাকার বাসিন্দা কনক মালা বলেন, ‘ঘুমোতে মনে হয় বাড়িত আগুন ধরি দেইল। সোউগ (সব) নিয়ে গেইল। ভাঙি (ভেঙে) ফেলাইল। খালি এ্যাইলা (এগুলো) দেকি। ঘুমবার পাড়ি নাই। সারা আইত (রাত) বসি আচিনোং (ছিলাম)। ছোয়াগুলেক (বাচ্চাদের) কই তোমরা ঘুমেন হামরা (আমরা) জাগি আচি, ওমরাও ঘুমেয় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছোট ছোয়া (ছেলে) সুজন কয়, মা ওমরা কি ফির আইসপে (আসবে)। মুই কইচোং (বলেছি), না বাবা আর আইসপের নয়। তুই ঘুম যা। ঘুম পড়ে না ভয়োতে (ভয়ে)...।’

উপেন চন্দ্র দাস বলেন, ‘হামলা করি তো সোউগ নষ্ট করি ফেলাইচে, পুড়ি ফেলাইচে। কাল থাকি চুলেত আগুন ধরাই নাই। এখানে সরকার থাকি পাক-সাক (রান্না-বান্না) করোছে (করছে) ওইলা খাওচি (খাচ্ছি)। খাবার তো ভিতরোত (ভেতরে) ঢোকে না। খালি চিন্তা হয়, সোগ শ্যাষ হইল এ্যালা চলমো কেমন করি। বউ বাচ্চাক কেমন করি চলামো।

রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রামনাথ পুরের উত্তর পাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।

এতে ৬০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীদের দেয়া আগুনে পুড়ে যায় ধান, চাল, আসবাব, ঘরে থাকা জামাকাপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছু। এ সময় বাড়ি-ঘর ছেড়ে ধানক্ষেত, বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

বর্তমানে তারা পুলিশের অস্থায়ী তাবুতে রাত কাটাচ্ছেন। তবে হমলার সেই দৃশ্য তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ভয়, ক্ষোভ আর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পল্লীতে নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা। তাদের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে খাবার, কাপড় এবং ঘর নির্মাণের জন্য টিন ও নগদ আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

রংপুর পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, এ ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৪২ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন।

শেয়ার করুন

৩৫ বছরের হকারি জীবন গেল কাভার্ডভ্যানের চাপায়

৩৫ বছরের হকারি জীবন গেল কাভার্ডভ্যানের চাপায়

কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত হকারের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাভার হাইওয়ে থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, কাভার্ডভ্যানটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকার সাভারে রাস্তা পারাপারের সময় কাভার্ডভ্যানের চাপায় পত্রিকার হকার নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

৬০ বছর বয়সী রুহুল আমিন ৩৫ বছর ধরে পত্রিকার হকার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর থানায়।

আশুলিয়ার ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

নিহতের সহকর্মী আশরাফুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করে আসছিলেন রুহুল আমিন। প্রতিদিনের মতো আজও ভোরে নিজ বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে নবীনগরে আসছিলেন পত্রিকা নিতে।

‘জয় রেস্তোরাঁর সামনে রাস্তা পারপারের সময় একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।’

ওই সময় স্থানীয় লোকজন কাভার্ডভ্যানটিকে জব্দ করে পুলিশে দেয়। গাড়িটির চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, কাভার্ডভ্যানটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন