মৃতদেহের গেঞ্জিতে ছিল হত্যাকাণ্ডের সূত্র

মৃতদেহের গেঞ্জিতে ছিল হত্যাকাণ্ডের সূত্র

গ্রেপ্তারকৃত মিরাজ ও রাসেল

প্রতি ডেলিভারিতেই জুয়েলের কাছে কালেকশনের ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা থাকতো। এই কথা ভালো করেই জানতো মিরাজ। টাকা আত্মসাৎ করার জন্যই সে জুয়েলকে হত্যা করে।

টাকার জন্যই খুন হন জুয়েল মিয়া। পরে তাকে একটি ড্রামে ভরে মিরপুর এলাকায় ফেলে যায় সঙ্গীরা।

প্রথমে অজ্ঞাত পরিচয় হিসেবে জুয়েলের মৃতদেহ পায় পুলিশ। পরে পরনে থাকা গেঞ্জির সূত্র ধরে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় তিন সঙ্গীকেও।

সোমবার বিকেলে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার আ স ম মাহাতাব উদ্দিন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ১৭ তারিখ প্রথম প্রহর রাত আনুমানিক ২টার দিকে এক সুইপার পুলিশকে জানান, মিরপুর লাভ রোডে রাস্তার উপর নীল রংয়ের একটি ড্রাম পড়ে আছে। ড্রামের ভেতর একটি মৃতদেহ। এ তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।

তাৎক্ষনিকভাবে মৃতদেহের পরিচয় ও ড্রামটি কোথা থেকে এল তা জানতে ব্যর্থ হয় পুলিশ। ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়েও মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। থানা পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাও প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্তে ব্যর্থ হয়।

শেষ পর্যন্ত একটি সূত্র পাওয়া যায়। মৃতদেহের পরনে থাকা গেঞ্জিতে লেখা ছিল- ‘সাফল্যের পথে একসাথে’। এই স্লোগানের সূত্র ধরেই পরিচয় শনাক্ত হয়। মৃতের নাম জুয়েল রানা। চাকরি করেন একটি টোব্যাকো কোম্পানিতে। তার পরিবারকে খবর দেয় পুলিশ। মৃতদেহের ছবি দেখে স্বামীর পরিচয় নিশ্চিত করেন জুয়েলের স্ত্রী। পরে তিনি মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেন।

আসামীদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে উপ-পুলিশ কমিশনার মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘শনাক্তের পর- লাশ কোথা থেকে এল- আমরা তার তদন্ত শুরু করি। ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজসহ গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্ত শুরু হয়।’

তদন্ত করতে গিয়েই হত্যাকাণ্ডে জুয়েলের বন্ধু মিরাজের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। সোমবার প্রথম প্রহর রাত আড়াইটায় দারুস সালাম গৈদার টেক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মিরাজকে। এ সময় তার কাছে জুয়েল রানার কাছ থেকে নেয়া ৩৮ হাজার টাকাও জব্দ করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাইফুল ও সোহাগ নামে আরও দুজন গ্রেপ্তার হয়। তারাও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

মিরাজের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি কাভার্ড ভ্যান ও এর ভেতরে থাকা জুয়েল রানার মার্লবোরো সিগারেট কোম্পানির আইডি কার্ড, চার কার্টুন মার্লবোরো সিগারেট ও হত্যার কাজে ব্যবহৃত রশি জব্দ করা হয়।

কী কারণে হত্যাকাণ্ডটি ঘটল, এ প্রসঙ্গে মাহাতাব উদ্দিন জানান, মিরাজ একটি দুধ কোম্পানিতে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে চাকরি করেন। জুয়েলের সঙ্গে তার চলাফেরা ছিল। প্রতি ডেলিভারিতেই জুয়েলের কাছে কালেকশনের ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা থাকতো। এই কথা ভালো করেই জানতো মিরাজ। টাকা আত্মসাৎ করার জন্যই সে মূলত জুয়েলকে হত্যা করে। হত্যার সময় সহযোগী হিসেবে নেয় বাকী দুজনকে।

গ্রেপ্তারকৃতরা জানায়, হত্যা করার উদ্দেশে জুয়েলকে তারা ঘটনাস্থলে আসতে বলে। পরে জুয়েল সেখানে আসলে মিরাজ ও সাইফুল তাকে মাদক জাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট খাওয়ায়। এক পর্যায়ে আসামী রাসেল কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।

ইয়াবা সেবনের সময় পরিকল্পনা মতো জুয়েলকে পেছন থেকে রশি দিয়ে গলায় পেচিয়ে ধরে সাইাফুল। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জুয়েলের পা চেপে ধরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে মিরাজ। পরে জুয়েলের পকেটে থাকা মার্লবোরো কোম্পানির মালামাল বিক্রির ৭৬ হাজার টাকা নিয়ে নেয় তারা।

জুয়েলের মৃতদেহ গোপন করার জন্য সেকশন-১১ থেকে একটি নীল রংয়ের ড্রাম কিনে আনে মিরাজ ও সাইফুল। মৃতদেহটি ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ করে এটি ফেলার জন্য নিরাপদ স্থান খুঁজতে থাকে তারা। এক পর্যায়ে আসামীরা পরিকল্পনা করে ড্রামটি মিরপুর সেকশন-২, লাভ রোডস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয় মিরপুর হাউজিং এস্টেট এর সরকারী অফিসের বিপরীত পার্শ্বে রাস্তার উপরে রেখে চলে যায়।

আরও পড়ুন:
মোবাইল ফোন নিয়ে মারামারিতেই খুন হন ভাসমান যুবক
কে এই মোল্লা হাসান আখুন্দ
প্রেমিকার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী’ সন্দেহে খুন
স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে বন্ধুকে খুন
রাজশাহীতে চোরের হাতে গেল ২ প্রাণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শফিকুল ডিএমপি কমিশনার থাকছেন আরও এক বছর

শফিকুল ডিএমপি কমিশনার থাকছেন আরও এক বছর

ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম। ফাইল ছবি

পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়োগের সারসংক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জার্মানি থেকে ফেরার পর তিনি সই করলেই আদেশ জারি করা হবে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে মোহা. শফিকুল ইসলামকে আরও এক বছর রাখতে যাচ্ছে সরকার। অবসরোত্তর ছুটিতে না গিয়ে এ দায়িত্বে বাড়তি এক বছর তিনি থাকবেন।

আগামী ২৯ অক্টোবর শফিকুলের বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হবে। এর পরদিন থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার কথা তার। কিন্তু এই অবসরোত্তর ছুটি বাতিল করে আবার ডিএমপি কমিশনার হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়োগের সারসংক্ষেপে অনুমোদন দিয়েছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জার্মানি থেকে ফেরার পর তিনি সই করলেই আদেশ জারি করা হবে।

ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ফাইলটি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি দেশে ফেরার পর আগামী রবি বা সোমবার নিয়োগের প্রজ্ঞাপন আসতে পারে।’

গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, বর্তমান ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম অবসরে যাচ্ছেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হতে যাওয়ায় তাকে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর ৫৯ বছর পূর্ণ হবে শফিকুলের।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত শফিকুলকে এক বছরের অবসর ও অবসরোত্তর ছুটি দেয়া হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে ওই ছুটি বাতিল হবে।

ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আগে শফিকুল ইসলাম সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি ১৯৮৯ সালে অষ্টম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশে যোগ দেন।

চাকরিজীবনে শফিকুল পুলিশ সুপার হিসেবে নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালী, সুনামগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলায় দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের প্রধান (অতিরিক্ত আইজিপি), পুলিশ সদর প্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (এইচআরএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পেশাদারত্ব ও দক্ষতার জন্য তিনি একাধিকবার বিপিএম পদক পান।

শফিকুল ইসলামের জন্ম চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি (সম্মান) পাস করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
মোবাইল ফোন নিয়ে মারামারিতেই খুন হন ভাসমান যুবক
কে এই মোল্লা হাসান আখুন্দ
প্রেমিকার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী’ সন্দেহে খুন
স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে বন্ধুকে খুন
রাজশাহীতে চোরের হাতে গেল ২ প্রাণ

শেয়ার করুন

পেঁয়াজে ফিরেছে স্বস্তি, বাড়ছে তেলের দাম

পেঁয়াজে ফিরেছে স্বস্তি, বাড়ছে তেলের দাম

সরকারি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে। আগের সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকায়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়।

শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন। পরিবার নিয়ে নিজ ঘরে বা বাইরে গিয়ে সবার সঙ্গে মিলেমিশে হইহুল্লোড়। দুপুর গড়ালেই পেটের চিৎকার-চেঁচামেচি। খাবার তো খেতেই হয়, ঘরে থাকুন আর বাইরে।

কিন্তু এই খাবারের তালিকায় কী রাখবেন আর কী রাখবেন না, তা নির্ভর করছে কতটা খরচের ভার নিতে পারবেন।

এমন বক্তব্যে আতঙ্কেরও কিছু নেই। বাজারের সবকিছুর দাম যে আকাশচুম্বী তা কিন্তু নয়।

গত দুই সপ্তাহ আগে বাজারে হইচই ফেলে দেয়া পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। ৭০-৭৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজের দাম এখন ৬০-৬৫ টাকা।

চাইলে আরও কমে পাওয়া যাবে, তবে সে ক্ষেত্রে নিজের পছন্দ করে বেছে নেয়া বা মান যে খুব ভালো হবে তার নিশ্চয়তা নেই। এমন ধরনের পেঁয়াজও বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৮ টাকা কেজিতে।

সরকারি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) বলছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে। আগের সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকায়। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়।

এর মধ্যে আবার আমদানি করা পেঁয়াজের দাম দেশি পেঁয়াজের তুলনায় কিছুটা কম। এই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়।

পেঁয়াজের পর তেলের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে এখন নতুন আলোচনা।

আগের সপ্তাহে লিটারপ্রতি তেলের দাম নির্ধারণ করায় এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৪.৯১ শতাংশ। তবে সপ্তাহের ব্যবধানেও বেড়েছে দর। সয়াবিনের লিটারপ্রতি দর ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪২ টাকায়। আর পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৭২০ টাকায়। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬৮০ টাকা।

পাম অয়েল খোলা বিক্রি হচ্ছে ১২৮ টাকায়। আগের সপ্তাহে এটি ছিল ১২৫ টাকা।

মালিবাগ বাজারে ক্রেতা আসাদুল্লাহ দরদাম সম্পর্কে বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে, তবে এখনও সহনীয় পর্যায়ে নেই।’

বাজারে অনেক আগে থেকেই আগমনের অপেক্ষায় থাকা শীতের সবজি বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে সারা বছর পাওয়া যায় এমন সবজি তো আছেই।

মাছ-মাংসের দরদাম অনেক আগে থেকেই স্থির। তবে মুরগির বাজারে যেন হঠাৎ করে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগের সপ্তাহেও একই অবস্থা ছিল।

ফলে সাধ আর সাধ্য মিলিয়ে অনায়াসে আজকের দিনে বাজার করে নিতে পারেন।

রাজধানীর খিলগাঁও কাঁচাবাজারের ভেতরে সবজির খুব বেশি আয়োজন নেই। তবে ভ্যান আর রাস্তার দুই পাশে সারি সারি সবজি বিক্রেতার যেন দম ফালানোর সুযোগ নেই।

খিলগাঁও বাগানবাড়ি বাজারেও একই অবস্থা। এখানে স্থায়ী বাজার না হলেও প্রতিদিনই বসে অস্থায়ী বাজার। আর সরকারি ছুটির দিন শুক্রবার যেন এ বাজারেও ক্রেতার অভাব পড়ে না।

বাসাবো কাঁচাবাজার, মালিবাগ রেলগেট বাজারেও নানা পদের সবজি, মাছ, মাংসের কোনো কমতি নেই।

তবে দাম বৃদ্ধির বিষয়ে খুচরা বাজারের বিক্রেতাদের যে দাবি তাও ফেলে দেয়ার নয়। কারওয়ান বাজার বা যাত্রাবাড়ী থেকে যে সবজি বা মাছ পাইকারি দরে নিয়ে আসা হয় বিক্রি জন্য, তার পরিবহন খরচ অনেক বেড়েছে, যা যোগ হচ্ছে পণ্যমূল্যের সঙ্গে।

বাসাবো বাজারের মাসুদ ট্রেডার্সের বিক্রেতা ইব্রাহিম বলেন, ‘চকবাজার, বাবুবাজার থেকে আগে যে পণ্য রিকশা বা ভ্যানে ২০০ টাকায় আনা যেত, এখন সেটিতে দিতে হচ্ছে সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। ফলে পাইকারি বাজারে যে পণ্যের দাম ১০ টাকা, সেটি নিয়ে আসার পরই হয়ে যাচ্ছে ১৩ টাকা। তার সঙ্গে লাভ, কর্মচারীর বেতন যোগ হলে পাইকারি দামের কথা আর বিবেচনা করা যায় না।’

খিলগাঁও কাঁচাবাজারের বিক্রেতা আসলাম আলম বলেন, ‘কারওয়ান বাজারের দাম এখানে বলে লাভ নেই। কারওয়ান বাজারে মুলা পাওয়া যায় ৫ টাকা কেজিতে। কিন্তু সেই মুলার বস্তা এখানে নিয়ে আসতে যে খরচ হয় সেটি উঠাতে হলে দাম ২০ টাকার কম রাখা সম্ভব নয়।’

দামদর

এদিকে মসলার বাজারে দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৫০-৮০ টাকায়। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৬০-৮০ টাকা। আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ টাকায়।

শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজিতে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২০০ টাকা। হলুদ দেশি বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়, আগের সপ্তাহে একই দরে বিক্রি হয়েছে হলুদ।

আদা দেশি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়, আর আমদানি করা আদা মান ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায়। জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা, এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ টাকা, ধনে ১৪০ টাকা, তেজপাতা ২০০ টাকা কেজিতে।

মাছের বাজারে রুই বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা কেজি, তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি, কাতল ৩০০ টাকা কেজি, শিং ৪০০ টাকা কেজি, পাঙাশ ১৪০ টাকা কেজি, কাচকি ৪০০ টাকা কেজি, চাষের কই ২৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৪৫০ টাকা কেজি।

ব্রয়লারের মুরগির বাজারে এখনও সেই উত্তাপ পাওয়া যায়। এক মাস আগেও যে ব্রয়লারের মুরগি পাওয়া যেত ১৫০ টাকা কেজিতে, এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে। দেশি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৩২০ টাকা।

সবজির বাজারে শুক্রবারকেন্দ্রিক শসা, টম্যাটোর বাড়তি চাহিদা থাকে। ফলে স্বাভাবিক সময়ে যে দামে বিক্রি হয় এই পণ্যগুলো, এদিন একটু বেশি দামই হাঁকেন বিক্রেতারা।

বাজারে পাকা টম্যাটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, কাঁচা টম্যাটো ১০০ টাকা। আর শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজিতে।

ছোট আকারের ফুলকপি কিনতে হবে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়। লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজিতে।

এর মধ্যে পালংশাকের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়। আর লালশাক ১৫ থেকে ২০ টাকায়। ডাটাশাকের আঁটি ১৫ টাকা আর বড় আকারের ডাটা আঁটি পাওয়া যাবে ২৫ টাকায়। লাউশাক পাওয়া যাবে ৪০ টাকা আঁটি, মুলাশাকের আঁটি ২০ টাকা জোড়া।

এ ছাড়া চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, উস্তে ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, ঝিঙা ৫০ টাকা, বেগুন কেজি ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা আর ধনে পাতা ১১০ টাকায়।

আরও পড়ুন:
মোবাইল ফোন নিয়ে মারামারিতেই খুন হন ভাসমান যুবক
কে এই মোল্লা হাসান আখুন্দ
প্রেমিকার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী’ সন্দেহে খুন
স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে বন্ধুকে খুন
রাজশাহীতে চোরের হাতে গেল ২ প্রাণ

শেয়ার করুন

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে প্রজন্ম ’৭১

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে প্রজন্ম ’৭১

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধনে প্রজন্ম ’৭১

সংগঠনটির যুগ্ম সম্পাদক নুজহাত চৌধুরী শম্পা বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের বাবাদের রক্তে রঞ্জিত পবিত্র ভূমি। বাংলাদেশকে অসম্প্রদায়িক রাখব। তার জন্য প্রয়োজন হলে রক্তও দেব।’

সাম্প্রদায়িকতা রুখতে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১। ১৯৭২ সালের সংবিধান ফিরিয়ে আনারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শুক্রবার সকালে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এসব দাবি জানানো হয়।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বাতিলসহ সংগঠনের অন্য দাবিগুলো হলো সব ধর্মের মানুষকে নির্ভয়ে ধর্মীয় উৎসব পালনের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ ছাড়া স্কুলপর্যায়ে পাঠ্যপুস্তক সাম্প্রদায়িকতামুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস অবশ্যই পাঠ্য করতে হবে।

মানববন্ধনে যুগ্ম সম্পাদক নুজহাত চৌধুরী শম্পা বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িকতাকে প্রগতিশীল বাঙালি জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রতিবছর আমরা দেখছি পূজামণ্ডপে হামলা করতে। আমরা বারবার ফিনিক্স পাখির মতো উঠে দাঁড়াব। আমরা এ দেশ ছাড়ব না।

‘বাংলাদেশ আমাদের বাবাদের রক্তে রঞ্জিত পবিত্র ভূমি। বাংলাদেশকে অসম্প্রদায়িক রাখব। তার জন্য প্রয়োজন হলে রক্তও দেব।’

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, শুধু আইন প্রয়োগ করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির সংস্কৃতি বন্ধ করা যাবে না। বঙ্গবন্ধু প্রণীত ১৯৭২-এর সংবিধানকে উপেক্ষা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি ও রাজনীতির চর্চাকে অবাধ করা হয়েছে সমাজের সবস্তরে।

গত বছর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যবিরোধী সন্ত্রাসও এই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারাবাহিকতা। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাসংশ্লিষ্ট কোনো সিলেবাস প্রণয়ন হয়নি, বরং সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন করা হয়েছে।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সভাপতি আসিফ মুনীর তন্ময়, সাধারণ সম্পাদক কাজী সাইফুদ্দিন আব্বাস, যুগ্ম সম্পাদক বশীর আহমেদসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
মোবাইল ফোন নিয়ে মারামারিতেই খুন হন ভাসমান যুবক
কে এই মোল্লা হাসান আখুন্দ
প্রেমিকার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী’ সন্দেহে খুন
স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে বন্ধুকে খুন
রাজশাহীতে চোরের হাতে গেল ২ প্রাণ

শেয়ার করুন

পল্টনের জামান টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে

পল্টনের জামান টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে

প্রতীকী ছবি

ফায়ার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার বেলা ১টা ১২ মিনিটে আগুন ধরার খবর আসে। বাহিনীর সদস্যরা বেলা ১টা ২৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

রাজধানীর পুরানা পল্টনের জামান টাওয়ারে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, শুক্রবার বেলা ১টা ১২ মিনিটে আগুন ধরার খবর আসে। বাহিনীর সদস্যরা বেলা ১টা ২৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বেলা ১ টা ১২ মিনিটে খবর পাই রাজধানীর পুরানা পল্টনের ১০ তলাবিশিষ্ট জামান টাওয়ারের চতুর্থ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ওই খবরে মোট চারটি ইউনিট পাঠানো হয়।

‘বেলা ১টা ২৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।’

আরও পড়ুন:
মোবাইল ফোন নিয়ে মারামারিতেই খুন হন ভাসমান যুবক
কে এই মোল্লা হাসান আখুন্দ
প্রেমিকার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী’ সন্দেহে খুন
স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে বন্ধুকে খুন
রাজশাহীতে চোরের হাতে গেল ২ প্রাণ

শেয়ার করুন

সদিচ্ছা থাকলে হিন্দুদের ওপর হামলা ঠেকানো যেত

সদিচ্ছা থাকলে হিন্দুদের ওপর হামলা ঠেকানো যেত

জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সহযোগী সংগঠন জাতীয় হিন্দু ছাত্র-যুব মহাজোট। ছবি: নিউজবাংলা

হিন্দুদের ওপর হামলা নিয়ে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুধাংশু চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে এই ঘটনা এড়ানো যেত। প্রশাসনের মধ্যে এখনও ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে মৌলবাদী চক্র।’

প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে দুর্গাপূজার সময় সারা দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ঠেকানো যেত বলে মনে করছে জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

জাতীয় প্রেস ক্লাবে শুক্রবার হিন্দু মহাজোট আয়োজিত প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ সমাবেশে এমন মত দেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুধাংশু চন্দ্র বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজার সময় সারা দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর সহিংসতা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; বরং এটা হিন্দু ধর্মের ওপর সুস্পষ্ট আঘাত।’

দুর্গাপূজার মধ্যে প্রথমে কুমিল্লা শহরে একটি মন্দিরে কোরআন রাখাকে কেন্দ্র করে হিন্দুদের পূজামণ্ডপ ভাঙচুর করা হয়। পরে নোয়াখালী, বরিশাল, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা হয়।

এ নিয়ে সুধাংশু বলেন, ‘প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে এই ঘটনা এড়ানো যেত। প্রশাসনের মধ্যে এখনও ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে মৌলবাদী চক্র।

‘সরকারের দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রশ্নে নমনীয় নীতির কারণে আজকের এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।’

হিন্দু মহাজোটের ভাষ্য, দেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় এখনও মন্দির, প্রতিমা ভাঙচুর করা হচ্ছে। আগে রাতের আঁধারে মন্দির ভাঙা হতো। এখন দিনে মন্দির ভাঙা হচ্ছে।

সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের ঘটনায় কেউ ধরা পড়লে প্রশাসন তাকে ‘পাগল ও মানসিক ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিচ্ছে। অর্থাৎ হিন্দু নির্যাতনে জড়িতকে ‘পাগল’ বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।

কুমিল্লার ঘটনায় কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, ইকবাল অপ্রকৃতিস্থ।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের প্রধান সমন্বয়কারী শ্যামল কুমার রায়, নির্বাহী মহাসচিব ও মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে, সহসভাপতি প্রভাস চন্দ্র মণ্ডলসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
মোবাইল ফোন নিয়ে মারামারিতেই খুন হন ভাসমান যুবক
কে এই মোল্লা হাসান আখুন্দ
প্রেমিকার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী’ সন্দেহে খুন
স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে বন্ধুকে খুন
রাজশাহীতে চোরের হাতে গেল ২ প্রাণ

শেয়ার করুন

কারওয়ানবাজার এলাকায় ট্রেন লাইনচ্যুত

কারওয়ানবাজার এলাকায় ট্রেন লাইনচ্যুত

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রেন কারওয়ানবাজার এলাকায় লাইনচ্যুত হয়েছে। ছবি: সাইফুল ইসলাম

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মালবাহী ট্রেন কারওয়ানবাজার এলাকায় লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে কমলাপুরগামী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমনা ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার রেফাতুল ইসলাম।

প্রাথমিকভাবে তিনি বলেন, তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে মগবাজার থেকে এফডিসি মোড় হয়ে সাত রাস্তা বা কারওয়ান বাজারের দিকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ট্রেন উদ্ধারে কতক্ষণ লাগবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না ঘটনাস্থলে থাকা রেলের কর্মীরা।

তবে বেলা পৌনে ১টায় ট্রেনটি সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসি ট্রাফিক, রমনা। ট্রেন সরানোর পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মোবাইল ফোন নিয়ে মারামারিতেই খুন হন ভাসমান যুবক
কে এই মোল্লা হাসান আখুন্দ
প্রেমিকার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী’ সন্দেহে খুন
স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে বন্ধুকে খুন
রাজশাহীতে চোরের হাতে গেল ২ প্রাণ

শেয়ার করুন

ব্যাংকার দম্পতির বাসায় গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ

ব্যাংকার দম্পতির বাসায় গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ

রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় ব্যাংকার দম্পতির বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া গৃহকর্মীর মরদেহ ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

রামপুরা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ব্যাংকার দম্পতির বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করি।’

রাজধানীর রামপুরা থানাধীন বনশ্রী এলাকায় ব্যাংকার দম্পতির বাসা থেকে কোহিনুর আক্তার (১৬) নামের গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ বৃহস্পতিবার বিকেলে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে নেয়া হয়।

কোহিনুরের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলায়। তার পরিবারের একাধিক সদস্য রাজধানীতে থাকেন।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ব্যাংকার দম্পতির বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই গৃহকর্মীর মরদেহ উদ্ধার করি।’

তিনি বলেন, ‘শরীফুল আলম ওয়ান ব্যাংকের অফিসার এবং তার স্ত্রী মাহবুবা সুলতানা উত্তরা ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত। আমাদের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে এই দম্পতি জানায়, তাদের বাসায় দেড় মাস আগে কাজ করতে আসে সে (কোহিনুর)।

‘এর আগেও সে এই বাসায় কাজ করেছিল। তাদের (দম্পতি) ৫ বছরের একটি সন্তানকে দেখাশোনা করার জন্য তাকে আনা হয়েছিল। তার বড় বোনও এই বাসায় আগে কাজ করত। তারা আরও জানায়, তাদের বাসায় সিসি ক্যামেরা আছে, কিন্তু সেটায় কোনো স্টোরেজ নেই।’

ওসি বলেন, ‘আমরা একটি অপমৃত্যু মামলা নিয়েছি। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।’

পুলিশ জানায়, ওই গৃহকর্মীর মা ও বাবাকে তারা কল দিয়েছিল, কিন্তু তারা আসেনি।

ওসি রফিকুল বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি তার (গৃহকর্মী) মা হাজারীবাগ এলাকায় থাকে। তাকেও আসতে বলা হবে।

‘একটি বোন আছে উত্তরায়। আমরা তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি।’

আরও পড়ুন:
মোবাইল ফোন নিয়ে মারামারিতেই খুন হন ভাসমান যুবক
কে এই মোল্লা হাসান আখুন্দ
প্রেমিকার ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী’ সন্দেহে খুন
স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে বন্ধুকে খুন
রাজশাহীতে চোরের হাতে গেল ২ প্রাণ

শেয়ার করুন