বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে সোহাগের ‘পদ্মা সেতু’

বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে সোহাগের ‘পদ্মা সেতু’

ধামরাইয়ে বানের পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সোহাগের পদ্মাসেতু। ছবি: নিউজবাংলা

সোহাগ বলেন, ‘পানি যদি আর একটু বাড়ে তাইলে পুরা সেতুটাই তলায় যাইব। মাঝখানের স্প্যানের তিনটা পিলার যাতে খুইলা না পড়ে, এই জন্য আমি ইটা দিয়া ঠ্যাকা দিয়া রাখছি।’

বাংলাদেশের অর্জন পদ্মা সেতু ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে যাচ্ছে। দেশের অর্থায়নে নির্মাণাধীন এই সেতুর প্রতি ভালোবাসা কোটি মানুষের।

ঢাকার ধামরাইয়ের এক শিক্ষার্থীও ভালোবাসা থেকে কয়েক মাস আগে নিজ হাতে মাটি দিয়ে গড়েছিলেন পদ্মা সেতুর অবয়ব। হুবহু পদ্মা সেতুর নকশার আদলে তৈরি সোহাগের নান্দনিক পদ্মা সেতুটি তার বাড়িতেই।

কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে বন্যার পানিতে ডুবতে বসেছে তার সেতুটি। পাঁচ মাস ধরে তৈরি করা কষ্টের পদ্মা সেতু তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে সোহাগের।

বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে সোহাগের ‘পদ্মা সেতু’

উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ ও মাটির তৈরি পদ্মা সেতুটির চারপাশ পানিতে তলিয়ে গেছে। ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যের সেতুটির মাঝখানে পানি জমে গেছে।

মাটি থেকে ২ ফুট উচ্চতার সেতুটির কাছাকাছি উঠে গেছে পানি। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক এরই মধ্যে তলিয়ে গেছে।

বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে সোহাগের ‘পদ্মা সেতু’

সোহাগের মতে, মূল পদ্মা সেতুর এলাকা হিসেবে তার বানানো সেতুটির শরীয়তপুরের অংশ ডুবে গেছে।

শিক্ষার্থী সোহাগ হোসেন নিউজবাংলাকে বলে, ‘অনেক কষ্ট কইরা পাঁচ মাস ধইরা আমি সেতুটা বানাইছিলাম। সেতুটা বানাতে বাঁশ আর মাটি ব্যবহার করছি।

‘গত এক সপ্তাহ ধরে বন্যার পানি এলাকায় ঢুকতেছে। আমাদের বাড়ির সামনেও পানি আইসা পড়ছে। আমার সেতুটার ১০ ফুটের মতো দৈর্ঘ্যের জায়গা পানিতে তলায় গেছে।’

বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে সোহাগের ‘পদ্মা সেতু’

সে আরও বলে, ‘পানি যদি আর একটু বাড়ে তাইলে পুরা সেতুটাই তলায় যাইব। মাঝখানের স্প্যানের তিনটা পিলার যাতে খুইলা না পড়ে, এই জন্য আমি ইটা দিয়া ঠ্যাকা দিয়া রাখছি।’

বন্যায় তলিয়ে যাচ্ছে সোহাগের ‘পদ্মা সেতু’

সোহাগ আক্ষেপ করে বলেন, ‘চোখের সামনে আমার কষ্ট কইরা বানানো পদ্মা সেতুটা ডুইবা যাইতে দেইখা খুব খারাপ লাগতেছে। পানি আটকানোর কোনো উপায় নাই। এখনো প্রতিদিন মানুষজন পানি ভাইঙ্গা আমার পদ্মা সেতুটা দেখতে আইতাছে।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

হামলা শঙ্কায় রাতভর মন্দির পাহারা ছাত্রলীগের

হামলা শঙ্কায় রাতভর মন্দির পাহারা ছাত্রলীগের

হামলা হতে পারে এমন তথ্য পেয়ে রোববার রাতে সিলেটের বেশ কয়েকটি মন্দির পাহারা দেয় ছাত্রলীগকর্মীরা। ছবি: নিউজবাংলা

সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখতে হলে প্রয়োজন অসাম্প্রদায়িক শক্তির ঐক্য। ছাত্রলীগের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার এবং এই সময়ে তা আরও বড় পরিসরে প্রয়োজন।’

কুমিল্লার ঘটনার জেরে দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, মণ্ডপ ও বাড়ি-ঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে সিলেট নগরের মেজরটিলা এলাকার একটি মন্দিরেও হামলার চেষ্টা চালানো হয়।

শতাধিক লোক জড়ো হয়ে মেজরটিলার নুরপুর এলাকার শ্যামসুন্দর মন্দিরে হামলার চেষ্টা করে। পরে নুরপুরসহ আশপাশের কয়েকটি মন্দিরের পাশে অবস্থান নেয় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কর্মীরা।

হামলা ঠেকাতে রাত জেগে মন্দির পাহারা দেন তারা। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠক তাদের অভয়ও দেন নেতারা।

অস্থিতিশীল এমন পরিস্থিতিতে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের এমন উদ্যোগে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। আর ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, যখনই কোনো মন্দির বা হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা চেষ্টার খবর পাবেন সঙ্গে সঙ্গেই তারা সেখানে গিয়ে হামলাকারীদের প্রতিহত করবেন। রক্ষা করবেন মন্দির ও বাড়িঘর।

ছাত্রলীগ নেতারা জানান, হামলা হতে পারে এমন খবর পেয়ে রোববার মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সিলেটের গেপালটিলা মন্দির, নুরপুর শিবসুন্দর মন্দির, বালুচরের দুর্গাবাড়ি মন্দির এবং ওই এলাকার একটি আখড়া পাহারা দেয়া হয়। এ সময় ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

হামলা শঙ্কায় রাতভর মন্দির পাহারা ছাত্রলীগের
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে বৈঠকে অভয় দেন ছাত্রলীগ নেতারা

সিলেট জেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে যে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস চলছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নিপীড়ন চলছে তা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। কাল রাত থেকে এই তাণ্ডবকারীদের প্রতিহত করার জন্য আমরা মাঠে নেমেছি। এখন থেকে এদের বিরুদ্ধে আমরা সোচ্চার থাকব।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত রাতে রংপুরের বস্তিতে আগুন দেয়ার পরপরই জানতে পারি মেজরটিলার শ্যামসুন্দর মন্দিরে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে একদল লোক। সাথে সাথেই আমি দলীয় নেতা-কর্মীদের আশপাশের সব মন্দিরগুলোয় পাহারা দেয়ার নির্দেশ দিই।’

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদেরকে এ ধরনের ঘটনা প্রতিহত করার নির্দেশনা দিয়েছেন জানিয়ে নাজমুল বলেন, ‘আমরা প্রশাসন ও স্থানীয়দের সাথে যোগাযোগ রাখছি। কোথাও যদি হামলার আশঙ্কা দেখা যায়, সেখানেই আমাদের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা করবে।’

দেশে চলমান সহিংসতার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে
শান্তির পতাকা মিছিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

সিলেট মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তি রুখতে হলে প্রয়োজন অসাম্প্রদায়িক শক্তির ঐক্য। ছাত্রলীগের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার এবং এই সময়ে তা আরও বড় পরিসরে প্রয়োজন। আওয়ামী লীগের সব অঙ্গসংগঠন ও অন্যান্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল-ব্যক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন প্রয়োজন।’

শেয়ার করুন

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

যুবলীগ নেতা হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন

ঝিনাইদহে যুবলীগ নেতা শান্তি হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ৭ জুলাই গান্না বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তৎকালীন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন মণ্ডল শান্তি। পথে কাশিমনগর ব্রিজের ওপর পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। ১১ জুলাই সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শান্তির মৃত্যু হয়।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন মণ্ডল ওরফে শান্তি হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শওকত হোসাইন সোমবার সকালে এ দণ্ডাদেশ দেন। প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা ও বিস্ফোরক আইনে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়।

দণ্ডিতরা হলেন শান্তি হোসেন, আব্দুল করিম, লাভলু, আবু জাহিদ মনি, মিজানুর রহমান ওরফে টাক মিজান, ইব্রাহিদ খলিল ওরফে ইদ্রিস ওরফে ইদু, মুকুল ও নাসির।

এ মামলায় অপর আসামি গান্না ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন মালিথার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে। আর মশিউর রহমান ও উজ্জল হোসেন মারা যাওয়ায় তাদের মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১০ সালের ৭ জুলাই গান্না বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন তৎকালীন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন মণ্ডল শান্তি। পথে কাশিমনগর ব্রিজের ওপর পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল পরে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১১ জুলাই সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শান্তির মৃত্যু হয়।

মামলা থেকে আরও জানা যায়, এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম মালিথা সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ১১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়।

মামলা চলাকালে আটকদের মধ্যে তিনজন ঘটনার দায় স্বীকার করেন। মোট ১৯ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সোমবার এ মামলায় রায় ঘোষণা করে।

মামলায় ৮ জনকে যাবজ্জীবন ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে করা বিস্ফোরক মামলায় ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন বিচারক।

শেয়ার করুন

নিরাপত্তা চেয়ে রাজবাড়ীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

নিরাপত্তা চেয়ে রাজবাড়ীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

সহিংসতার প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়। ছবি: নিউজবাংলা

হিন্দু খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গণেশ নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আমরা একটা সিঙ্গারা ভাগ করে খাই, এক সঙ্গে ওঠাবসা করি, সামাজিক অনুষ্ঠানে চলাফেরা করি, তারা কেমন করে আমাদের ঘরে আগুন দেয়? যে চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই দেশ দেখতে চাই। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মন্দিরে হামলা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনার জেরে নিরাপত্তার দাবিতে রাজবাড়ীতে মানববন্ধন করেছে হিন্দু সম্প্রদায়।

জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার সকাল ১১টায় এ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়দেব কুমার, হিন্দু খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গণেশ নারায়ণ চৌধুরী, সেক্রেটারি জয়দেব কুমার, ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ শান্ত নিবাস দাসসহ অনেকে।

মানববন্ধনে পূজা উদযাপন পরিষদের সেক্রেটারি জয়দেব কুমার বলেন, ‘আমরা মুসলমানদের ধর্মকে সম্মান করি। মিথ্যা অভিযোগে আমাদের উপর অত্যাচার কেন করা হলো? আমাদের কোনো নিরাপত্তা নাই। আমরা কোথায় যাব? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

নিরাপত্তা চেয়ে রাজবাড়ীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন



হিন্দু খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গণেশ নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘যাদের সঙ্গে আমরা একটা সিঙ্গারা ভাগ করে খাই, এক সঙ্গে ওঠাবসা করি, সামাজিক অনুষ্ঠানে চলাফেরা করি, তারা কেমন করে আমাদের ঘরে আগুন দেয়? যে চেতনা নিয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম সেই দেশ দেখতে চাই। আমরা এর প্রতিকার চাই।’

শেয়ার করুন

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য গ্রেপ্তার

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য গ্রেপ্তার

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা দলের সদস্য শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির জানান, গোপন তথ্যের মাধ্যমে এন্টি টেররিজম ইউনিট শিমুলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

মানিকগঞ্জের শিবালয় থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার শামীম শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শামীম নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন সক্রিয় সদস্য। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রামে উগ্রবাদী কন্টেন্ট প্রচার ও উগ্রবাদী বই দেয়া-নেয়া করতেন।

গোপন তথ্যের মাধ্যমে এন্টি টেররিজম ইউনিট শিমুলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ

শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ

যশোরের শার্শা গোগা থেকে পিস্তল, গুলি ও ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে বিজিবি। ছবি: নিউজবাংলা

শার্শার গোগো ক্যাম্পের ১৭/৭এস ৪৪ আর পিলার থেকে প্রায় ১৫০০ গজ ভেতরে কালিয়ানী মাঠ থেকে ১টি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগজিন ও ২০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয় বলে জানায় বিজিবি।

যশোরের শার্শার সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র-গুলি ও মাদকের চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শার্শার গোগা সীমান্ত এলাকার একটি মাঠ থেকে সোমবার ভোরে এসব জব্দ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গোগা ক্যাম্পের সুবেদার সালেহ আহম্মেদ।

তিনি জানান, ওই এলাকায় ২১ বিজিবির অধীনস্থ গোগা বিওপির টহল দল অভিযান চালায়।

হাবিলদার দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৭/৭এস ৪৪ আর পিলার থেকে প্রায় ১৫০০ গজ ভেতরে কালিয়ানী মাঠ থেকে ১টি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগজিন ও ২০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে।

এসব মালামাল গোগা ক্যাম্পে জমা আছে।

তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানায় বিজিবি।

শেয়ার করুন

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

রংপুরের পীরগঞ্জে উত্তেজিত জনতার হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা এই প্রবীণ নারীর মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক পরিবার। ছবি: নিউজবাংলা

পীরগঞ্জের বড় করিমপুর কসবা গ্রামের উত্তরপাড়ায় রোববার রাতে অন্তত ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। অনেক বাড়ির সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা আসবাব, লোকজনের চোখে-মুখে আতঙ্ক আর ক্ষোভ। চারদিকে পোড়া গন্ধ আর বিলাপ।

‘হামরা খাবার বচচি, ওটি দেখি হৈ-হাঙ্গাম। পরে দেখি, কোবাকুবি, ফির দেখি আগুন জ্বলছে। পরে ক্যানে দেখি ঘুরি আসি, দোকানে, মন্দির, বাড়িত আগুন লাগি দিল। বউ বেটিত নিয়া, মানসের কানচেত কলার কাচের থোপে আচিনোং। ছাওয়া কান্দিছিল মুখ চিপি ধরি আচিনোং। আসি দেখি, নেপ তুলি কিস্তির সোগ টাতা নিয়ে গেছে।’

(আমরা খাবার খেতে বসছি, পরে দেখি কোপাকুপি, তারপর দেখি আগুন। পরে এসে দেখি দোকানে, মন্দিরে, বাড়িতে আগুন দিয়েছে। ঘরের মেয়ে-বউ-নাতি নিয়ে মানুষের বাড়ির পেছনে কলার গাছের নিচে লুকিয়ে ছিলাম। নাতি কান্না করছিল, তার মুখ চেপে রাখি। এরপর ফিরে এসে দেখি লেপ তুলে কিস্তির সব টাকা নিয়ে গেছে।)

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা গ্রামে রোববার রাতে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কথা জানাচ্ছিলেন সুবালা রানী। তিনি থাকেন গ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত উত্তরপাড়ায়। রোববার রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। এই গ্রামের দক্ষিণপাড়াটি অবশ্য রক্ষা পেয়েছে পুলিশি প্রতিরোধের কারণে।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার নিউজবাংলাকে জানান, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আটক হয়েছে ৪০ জন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের উত্তরপাড়ার অন্তত ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। অনেক বাড়ির সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা আসবাব, লোকজনের চোখে-মুখে আতঙ্ক আর ক্ষোভ। চারদিকে পোড়া গন্ধ আর বিলাপ।

গ্রামজুড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি। নিরাপত্তা তদারকিতে আছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সামনে শূন্য দৃষ্টিতে বসে থাকা নন্দ রানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাড়ি পুড়ি ফেলাইছে, গরু নিয়ে গেছে, চাউল-ডাউল, ট্যাকা-পয়সা সব নিয়ে গেছে, সোনা আছলো এক ভরি- তাকো নিয়ে গেছে। হামরা এখন কী করি খামো বাবা, কী করি খামো।’

ক্ষতিগ্রস্ত আরেক বাড়ির কিরোন বালা বলেন, ‘এই দ্যাশোত থাকার চাইয়ে মরি যাওয়াই ভালো। ভয়ে রাইতোত পালাইয়ে ছিলাম। পরে পুলিশ আসি কয় তোমরা পলাইচেন ক্যান। আইজ আইচচি, আসি দেখি কিচ্চু নাই। সোনা বানা সোহ নিচে।’

(এই দেশে থাকার চেয়ে মরাই ভালো। ভয়ে রাতে পালায় ছিলাম। পরে পুলিশ এসে বলে তোমরা পালাও কেন। এখন এসেছি, দেখি কিছু নাই। সোনা-দানা নিয়ে গেছে।)

বিকাল বাবু নামের একজন জানান, হামলাকারীরা বাড়িঘরে আগুন দিতে শুরু করলে তিনি শিশুসন্তানকে নিয়ে পাশের ক্ষেতে লুকিয়ে ছিলেন।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

তিনি বলেন, ‘যেলা আগুন নাগি দিচে, তখন আমি বাচ্চাক নিয়ে ঘাস বাড়ি যায়া নুকাইচিনুং। বাড়ির সোগ টাকা-পইসে নিচে, এখন ছৈলক বিস্কুট কাওয়ামো তার টাকা-পয়সা নাই।’

(যখন আগুন দেয়, তখন আমি বাচ্চা নিয়ে ঘাসের জমিতে লুকিয়ে ছিলাম। বাড়ির সব টাকা-পয়সা নিয়ে গেছে। বাচ্চাকে বিস্কুট কিনে খাওয়ানোর মতো টাকাও নেই।)

এসপি ও গ্রামবাসী জানায়, গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ১৫ বছরের এক কিশোর রোববার বিকেলে ফেসবুকে কোনো একটি পোস্টে আপত্তিকর একটি কমেন্ট করে।

মুহূর্তে এর স্ক্রিনশট আশপাশের গ্রামের মুসল্লিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একদল লোক ওই কিশোরের গ্রামে উপস্থিত হয়।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

পুলিশ জানায়, তারা খবর পাওয়ামাত্র সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠায়। তবে এর দুই ঘণ্টা পর শুরু হয় আকস্মিক হামলা।

গ্রামবাসী জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে দক্ষিণপাড়া থেকে কিছুটা দূরে ক্ষেতের ওপারে স্থানীয় মসজিদে জড়ো হয়। পরে রাশেদ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তারা গ্রামের উত্তরপাড়ায় প্রবেশ করে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে।

হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও আগুন দিতে থাকে। দুটি মন্দিরও ভাঙচুর করা হয়। লুট করা হয় স্বর্ণালংকার, টাকাসহ দরিদ্র পরিবারের নানা জিনিসপত্র। রাত ১১টা পর্যন্ত চলে এ অবস্থা। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, গায়ের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছু অক্ষত নেই। ওই পাড়ার অর্ধশত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অনেকে আছে খোলা আকাশের নিচে।

নারায়ণ চন্দ্র নামের একজন বলেন, ‘আমি বইনের (বোন) বাড়িতে আসছি। রাইতে খেয়ে বসে আছি। হুনতেছি (শুনছি) ওই গ্রামে একজন ফেসবুকে কী লিখছে, পুলিশ আসছে। আমরা শুনতেছি। এর কিছুক্ষণ পর হৈ দিয়ে মানুষ আসলো। ভাঙচুর আর আগুন দেয়া শুরু করল। ভয়ে ভাগনেকে নিয়ে পালায়ে গেছি। পরে ওমরা (হামলাকারীরা) যাবার পর বাড়ি আসি।’

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

পুলিশ মোতায়েনের পরও কীভাবে এত বড় হামলা হলো জানতে চাইলে এসপি বিপ্লব কুমার সরকার নিউজবাংলাকে জানান, যে কিশোরকে ঘিরে ঘটনার শুরু, তার বাড়ি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায়। সন্ধ্যার পর থেকে মূলত ওই পাড়ায়ই থানা পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এসপি বলেন, ‘সন্ধ্যা থেকেই ওই কিশোরের বাড়ির আশপাশে থানা পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। সেখানে পুলিশ ক্ষুব্ধ মানুষজনকে বোঝাতে চেষ্টা করে। ওই কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলা হলে তারা শান্ত হয়ে চলে যায়। সে সময় পুলিশ দক্ষিণপাড়ায় অবস্থান করছিল।

‘তবে রাতে উত্তরপাড়ায় হাজার হাজার মানুষ উগ্রবাদী স্টাইলে হামলা চালায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় হামলাকারীদের রাবার বুলেট ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চলে।’

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

এসপি বিপ্লব আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক তথ্য এসেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। যাদের আটক করেছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুঁজে খুঁজে অন্য হামলাকারীদের বের করা হচ্ছে। যারাই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ফেসবুকে আপত্তিকর কমেন্ট করা কিশোরকেও পুলিশ খুঁজছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই কিশোরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিভাগীয় কমিশনার আবাদুল ওয়াহাব ভুঞা, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, জেলা প্রশাসক আসিব আহসানসহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে খাবার ও পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

এই হামলার প্রতিবাদে রোববার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া। মিছিলে বক্তারা ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

শেয়ার করুন

টাকা চুরি দেখে ফেলায় শিশুকে ‘হত্যা’

টাকা চুরি দেখে ফেলায় শিশুকে ‘হত্যা’

সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে নিহতের বড় বোন রুবিনা বেগম ভাইয়ের শোকে স্তব্ধ। ছবি: নিউজবাংলা

নিহত ফেরদৌসের বড় বোন রুবিনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক। ছোট ভাই ফেরদৌসকে তিন দিন আগে ওই পরিবহনে কাজে পাঠায়। বাসের হেলপার আর কন্ডাক্টর আমার ভাইকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে ভোর রাতে তারাই পুলিশকে খবর দিয়ে আনে।’

ঘুমিয়ে থাকা বাস কন্ট্রাকটরের পকেট থেকে হেল্পারের টাকা চুরি দেখে ফেলায় বাসটির চালকের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা থেকে সোমবার ভোরের দিকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়, রোববার ১২টার দিকে।

বিষয়টি সোমবার সকাল ১০টার দিকে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বাসের ওই কন্ট্রাকটরকে আটক করা হয়েছে। আর পলাতক হেল্পারকে আটকে অভিযান চলছে।

নিহত ১১ বছর বয়সী মো. ফেরদৌস ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ পরিবহনে কাজ করত। সে শেরপুর জেলার সদর থানার মুন্সিপাড়া গ্রামের বাসচালক রইচ উদ্দিনের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে থাকত আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ বালুর মাঠ এলাকায়।

এ ঘটনায় আটক ২০ বছর বয়সী মো. হৃদয় ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ পরিবহনের কন্ডাক্টর ছিলেন।

নিহত ফেরদৌসের বড় বোন রুবিনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক। ছোট ভাই ফেরদৌসকে তিন দিন আগে ওই পরিবহনে কাজে পাঠায়। বাসের হেলপার আর কন্ডাক্টর আমার ভাইকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে ভোর রাতে তারাই পুলিশকে খবর দিয়ে আনে।’

আটক হৃদয়ের বরাতে পুলিশ জানায়, রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে রাত ১২টার দিকে ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ বাসটি বাইপাইল পৌঁছায়। বাসের মধ্যে কন্ডাক্টর হৃদয় ও হেলপার পারভেজ ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় পারভেজকে হৃদয়ের পকেট থেকে টাকা চুরির ঘটনা দেখে ফেলে ফেরদৌস।

এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, পরে ঘুম ভাঙলে পকেট থেকে ৫০০ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি টের পান হৃদয়। এ নিয়ে তিন জনের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে পারভেজকে টাকা চুরি করতে দেখে ফেলের কথা জানায় ফেরদৌস। একপর্যায়ে পারভেজকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন হৃদয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পারভেজ ফেরদৌসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পারভেজ ও হৃদয় মিলে নিহত ফেরদৌসের মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে সাভার হাইওয়ে পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর দেন বলে জানায় পুলিশ।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

দুর্ঘটনায় নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করে সাভার হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় হৃদয়কে আটক করা গেলেও পারভেজ পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

শেয়ার করুন