‘তোমার কাজে আমরা সবাই খুশি। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে, তুমি ভালো কাজ করছ। খুব তাড়াতাড়ি তুমি নতুন কাজ পাবে।’—বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে উদ্দেশ করে মুক্তিযুদ্ধের সময় এভাবেই চিঠি লিখেছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওই সময়ের কর্নেল আসলাম বেগ।
এ রকম একটি চিঠি সম্প্রতি নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। চিঠিটি মুক্তিযুদ্ধে ‘বীর উত্তম’ খেতাব পাওয়া সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বলা হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধে ছদ্মবেশে পাকিস্তানি হানাদারদের পক্ষ নিয়েছিলেন তিনি। আর দেশের স্বাধীনতায় ঝাঁপিয়ে পড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ঠেলে দিয়েছেন মৃত্যুর দিকে।
এ নিয়ে সংসদে কথা বলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সংসদের চতুর্দশ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি তার বক্তব্যের পক্ষে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তার লেখা একটি চিঠির কথা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেদিন সংসদে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘সে (জিয়াউর রহমান) কী করেছে, আমি বলি। কর্নেল আসলাম বেগ, সে তখন ঢাকায় কর্মরত ছিল, পরবর্তীতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান হয়েছিল, সেই কর্নেল বেগ জিয়াকে একটা চিঠি দেয় মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন, ’৭১ সালে। সেই চিঠিতে সে লিখেছিল, আপনি খুব ভালো কাজ করছেন। আমরা আপনার কাজে সন্তুষ্ট। আপনার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না। আপনাকে ভবিষ্যতে আরও কাজ দেয়া হবে।’
প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বলেন, ওই চিঠি তার কাছে আছে। তিনি বলেন, ‘কথাটা উঠবে জানলে আমি চিঠিটা নিয়ে আসতাম। একসময় আমি নিয়ে আসব। এটা আমাদের প্রসিডিংসের পার্ট হয়ে থাকা উচিত।’
সেই চিঠির একটি অনুলিপি পেয়েছে নিউজবাংলা। ১৯৭১ সালের ২৯ মে মেজর জিয়াকে উদ্দেশ করে লিখেছিলেন কর্নেল বেগ।
যা লেখা ছিল মূল চিঠিতে
Dacca
Major Zia Ur Rahman, Pak Army
We all happy with your job. We must say, good job. You will get new job soon.
Don’t worry about your family. Your wife and kids are fine.
You have to be more careful about Major Jalil.
Col. Baig Pak Army
May 29. 1971
বাংলায় যা দাঁড়ায়:
ঢাকা
মেজর জিয়াউর রহমান, পাক আর্মি
তোমার কাজে আমরা সবাই খুশি। আমাদের অবশ্যই বলতে হবে, তুমি ভালো কাজ করছ। খুব তাড়াতাড়ি তুমি নতুন কাজ পাবে।
তোমার পরিবার নিয়ে চিন্তা কোরো না। তোমার স্ত্রী ও সন্তানরা ভালো আছে।
মেজর জলিল সম্পর্কে তোমাকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে।
কর্নেল বেগ, পাক আর্মি
মে ২৯, ১৯৭১
মুক্তিযুদ্ধের বীরত্ব দেখানোর স্বীকৃতি হিসেবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানকে দেয়া হয় ‘বীর উত্তম’ খেতাব। বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ফেনী নদী পর্যন্ত বিস্তৃত সেক্টর-১ এর দায়িত্ব পালন করেছেন মেজর জিয়া। ১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এরপর সেক্টরটির দায়িত্বভার বর্তায় ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের কাঁধে।
তবে এ চিঠির বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর-১ এর কমান্ডার এবং সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, বীর উত্তম।
তিনি বলেন, ‘এসব বিষয় নিয়ে সংসদের বক্তব্য শুনুন। আমি এসব নিয়ে এখন কোনো কথা বলব না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদকে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার ছিলেন না।
বৃহস্পতিবার সংসদে শেখ হাসিনা বলেন, ‘খালেদ মোশাররফ যখন আহত হয়ে যান, তখন মেজর হায়দার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান সেক্টর কমান্ডার হয়নি।’
সেদিন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদের কথার প্রসঙ্গ ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য বলেছেন, জিয়া যেখানে দায়িত্বে ছিল, সেখানে নাকি বেশি মানুষ মারা গেছে। ক্যাজুয়ালিটি সব থেকে বেশি। সে একটা সেন্টারে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। আর সেখানে ক্যাজুয়ালিটি বেশি হয়েছে।’
জিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া থেকে মনে প্রশ্ন জেগেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘তাহলে প্রশ্ন আসে: সে তাহলে যুদ্ধে কী কাজ করেছে? পাকিস্তানিদের পক্ষে, যাতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা মৃত্যুবরণ করে, ওই ব্যবস্থা করেছিল কি না সেটাই আমার প্রশ্ন। সে তো একটা সেক্টরের অধিনায়ক, সেক্টর কমান্ডার না।’
গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭২তম সভা থেকে জিয়াউর রহমানসহ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিনের রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিলের সুপারিশ আনা হয়।
এ বছরের ৬ জুন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যায় জড়িত এবং আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া চার আত্মস্বীকৃত খুনির বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
যারা খেতাব হারিয়েছেন তারা হলেন: লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী (বীর বিক্রম গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক গেজেট নং ২৬৭) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক গেজেট নং ৩২৯)।
তবে জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। সেটি প্রক্রিয়াধীন আছে।
কে এই বেগ?
খোঁজখবর করে জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীতে মির্জা আসলাম বেগ নামে একজন সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ’৭১-এ পাকিস্তানের একটি পদাতিক রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দেন।
কিন্তু মির্জা আসলাম বেগ ইংরেজিতে নিজের নামের বানান লিখেছেন ‘Beg’। আর যিনি জিয়াউর রহমানকে চিঠি লিখেছেন, তার বানান ছিল ‘Baig’। এ দুজন একই ব্যক্তি কিনা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
১৯৭১ সালে আসলাম বেগ একটি পদাতিক রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিলেও পরে তাকে ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটিতে পাঠানো হয়। যেখানে পাঠদান বিষয়েই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ওই সময়টায় তিনি যুদ্ধবিদ্যায় এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৮ সালের ১৭ আগস্ট বিমান দুর্ঘটনায় প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াউল হক মারা গেলে পাকিস্তানের চিফ অফ আর্মি স্টাফের দায়িত্ব পান মির্জা আসলাম বেগ। ১৯৯১ সালে অবসর জীবনে যান বেগ। তার আগ পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই চার তারকা জেনারেল।
ছবি: সংগৃহীত
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে বিএনপি। শনিবার (১৮ জুলাই) দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় পাট (জুট) ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা হিসেবে শোকজ নোটিশ জারি করেছে বিএনপি।
ছবি: সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে, আমরা সংবিধান সংশোধন করতে চাই। আমরা সংবিধান সংস্কারের কথা কখনোই বলিনি।’
জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধীদল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলেও এ সময় অভিযোগ তোলেন তিনি।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত স্মরণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রফেসর এমাজ উদ্দিন আহমেদ রিসার্চ সেন্টার ও জাতীয় সাংবাদিক সমিতি যৌথভাবে এই স্মরণ সভার আয়োজন করে।
ফখরুল বলেন, ‘জনগণ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। ম্যানিফেস্টোর মধ্যে যেটা ছিল, সেই ম্যানিফেস্টোতে টু-থার্ড মেজরিটি নিয়ে বিএনপি আজকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। সুতরাং ওই জায়গায় কোনো রকমের কোনো বিভ্রান্তি অবকাশ আছে বলে আমি মনে করি না।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আজকে অনেকগুলো প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছি। বিরোধীদল থেকে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথের ফায়সালা হবে। আমার কাছে মনে হয়, জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। জুলাই সনদ আমরা স্বাক্ষর করেছি একসঙ্গে। যে সকল দল আমরা আন্দোলন করেছি একসঙ্গে, তারা সবাই স্বাক্ষর করেছি। আমরা বারবার করে বলছি, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরাই বাস্তবায়িত করব…এটাতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ।’
গণভোটের একটি অংশ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘উচ্চকক্ষে আনুপাতিক হারে ভোটে প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আমরা কখনোই একমত হইনি। সে সময় আমি নিজে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলাম, জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। সংস্কার কমিশন আমাদের কনসেন্ট ছাড়াই কথাগুলো সেদিন নিয়ে এসেছে। জুলাই সনদের বইটা যদি আপনারা পড়েন...সেখানে প্রতিটি জায়গায় বলা আছে, যে দল নির্বাচিত হবে তারা তাদের ম্যানিফেস্টো অনুযায়ী সেটাকে বাস্তবায়িত করবে। আমরা বারবারই এই কথা বলে এসেছি এবং আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা ৩১ দফাতে যেমন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ঠিক তেমনভাবে আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু সেটা আমরা যেভাবে চেয়েছি, সেভাবে আমরা বলছি।’ এখানে বিরোধীদল সম্পূর্ণভাবে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে যে, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না,’ যোগ করেন তিনি।
‘সংস্কার বিএনপিই এনেছে’: ফখরুল বলেন, ‘সংস্কার এদেশে কারা এনেছে? বিএনপি এনেছে। একদলের শাসনব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র বিএনপি নিয়ে এসেছে।’
বিরোধীদলের অনেকে মুখরোচক কথা বলে জনগণকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জনগণের চেয়ে ভালো তো আর কেউ বোঝে না। আমরা যতই মনে করি...জনগণ কিন্তু সবচেয়ে ভালো বোঝে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে কী বলেছি?’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি, বিরোধীদল শুধুমাত্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই জুলাইকে (জুলাই সনদ) ব্যবহার করতে চায়। আমরা কিন্তু চাই না জুলাই ক্ষমতার যাওয়ার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।’
জুলাই আন্দোলনের বিএনপি ত্যাগ সবচেয়ে বেশি মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলেন। বিএনপির ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়েছে, বিএনপির প্রায় এক হাজার ৭০০ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। বিএনপি কয়েক হাজার মানুষ হত্যার শিকার হয়েছে এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে। এই কথাগুলো বারবার করে আমাদেরকে বলতে হয় এ জন্য যে, অনেকে এটাকে নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন।’
ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তারা সব সময় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে নিজেই পানিতে পড়ে যায়। সীমান্ত হত্যা, পুশইন নানা ঘটনার পরেও ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলেছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ, শেখ হাসিনার টোনে জামায়াত কথা বললে, জনগণ তা মেনে নেবে না। শুক্রবার (১৭ জুলাই) যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের যে উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ আছে, যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগের প্রতিরোধ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। শ্রাবণের বৃষ্টির মতো যাত্রাবাড়ীতে যখন গোলাগুলি করা হচ্ছিল সেদিন বিএনপি-ছাত্রদল, জামায়াত-শিবির, মাদ্রাসার ছাত্ররাসহ অন্যান্য সংগঠনগুলোও বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিক্কা খান কোন দোষ করেছে? শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কী করেছে?’
রিজভী বলেন, ‘টকশোতে অনেকে ইনিয়ে-বিনিয়ে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন। শেখ হাসিনা এত বাহাদুর হলে পালালেন কেন? খালেদা জিয়া তো পালাননি। হাসিনা যে কী নিষ্ঠুর হতে পারে, তা কারাগারে নেতাদের ওপর হাত তোলা না দেখলে বোঝা যাবে না। ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরিয়ে আনা যায় না। হিটলারের দল ফিরে আসতে পারেনি।’
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরে ভাওয়াল রাজাদের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী মানিক্য মাধবের রথযাত্রা ও রথমেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শহরের রথখোলায় গাজীপুর প্রেসক্লাবের বটমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এম.মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, বিএনপি সবসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে আছে এবং থাকবে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও রথমেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি মো. নূরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট শহীদউজ্জামান, আহম্মদ আলী রুশদী, হাসান আজমল ভূঁইয়া, গাজীপুর মেট্রো সদর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান এলিস, গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের সদস্য সচিব খান জাহিদুল ইসলাম নিপু, গাজীপুর সদর মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল খন্দকার সুমন, গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহাজ বিন ফয়েজ প্রবাল, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তাহেরুল হক চৌহান, এডিসি জেনারেল শাহরিয়ার নজির, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন প্রমূখ।
ছবি: সংগৃহীত
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব ও প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছে। চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে সরকার ও বিএনপি নিজ নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাতায়াতের সুবিধার্থে হাওরের ওপর সড়ক নির্মাণের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির মুখে পড়েছে।
পাশাপাশি উন্নয়নের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যক্তিস্বার্থে কালভার্ট নির্মাণ জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। তিনি জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় খাল দখলমুক্ত করতে অভিযান চলছে।
তিনি আরো বলেন, দখলদার যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে।
পাশাপাশি সারাদেশে ২৬ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খাল খননের পাশাপাশি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপক ত্রিপুরা, আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সরওয়ার হোসেন মাসুদ, জাগির হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক গাজী ফোরকান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল বিন মনিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
ছবি: সংগৃহীত
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পাবনা জেলা শাখা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে পাবনা শহরের লাহিড়ীপাড়া বিএনপি কার্যালয়ে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাকসুদুর রহমান মাসুদ খন্দকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুল হক বাবু, আবু ওবায়দা শেখ তুহিন ও নূর মোহাম্মদ মাসুম বগা, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহামুদ মান্নান মাস্টার, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ তৌফিক হাবিব, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কে এম মুসা, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য জহুরুল ইসলাম বাবু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাবির হাসান বাচ্চু, সদর পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেহানুল ইসলাম বুলাল এবং সদর পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম লালু। সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন মুসাব্বির হোসেন সঞ্জু।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মেহেরুন্নেছা শাজাহান, সহ-সভানেত্রী লুৎফুন্নাহার হাজারী, ফারহানা পারভীন, মোহছিনা খান সেতু, জিনিয়া আফরোজ রিমা, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইয়ামিন খান এবং ছাত্রদলের নেতা সম্রাটসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী পালনকালে দলের বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুরের পল্লী নিবাসে আয়োজিত এক শোক সভায় তিনি মন্তব্য করেন যে, চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে এখনো পূর্ণাঙ্গ গণঅভ্যুত্থান বলা যায় না। তাঁর মতে, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত ভয়াবহ এবং বিদ্যমান চিত্র দেখে মনে হচ্ছে দেশ এখনো বৈষম্যমুক্ত হতে পারেনি।
জি এম কাদের তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষের জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা এখনো বাস্তবে রূপ লাভ করেনি। এই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-আন্দোলন এখনো অসমাপ্ত রয়েছে।’ ভবিষ্যতে দেশে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন একটি গণ-আন্দোলন গড়ে ওঠার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে জনগণ আবারও রাস্তায় নামতে পারে। বর্তমান সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জাপা চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন যে, ‘অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে একতরফা নির্বাচন উপহার দিয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ বা নিরপেক্ষ হয়নি এবং এখনো ‘মব’ বা গণপিটুনির সংস্কৃতির মাধ্যমে বিরোধী মতের মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে।
জাতীয় পার্টিকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার জন্য বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেন জি এম কাদের। তিনি সকল প্রতিকূলতা ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সারা দেশে দলকে সুসংগঠিত করার জন্য নেতা-কর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, ভবিষ্যতে জাতীয় পার্টির মাধ্যমেই উত্তরবঙ্গের মানুষের কাঙ্ক্ষিত এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। শোক সভায় এরশাদের স্মৃতিচারণ করে আরও বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং কো-চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য