জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত ‘আরও বৈঠকের পরে’

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত ‘আরও বৈঠকের পরে’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

গত ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বৈঠকের পর এবার ২১ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বসতে যাচ্ছে বিএনপি। এরপর দলের অবস্থান তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দলের স্থায়ী ও নির্বাহী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি।

দলের পক্ষ থেকে এবার সিদ্ধান্ত হয়েছে মাঠপর্যায়ের সঙ্গেও তারা ধারাবাহিক বৈঠক করবে, যা শুরু হবে মঙ্গলবার থেকে, চলবে টানা তিন দিন।

শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির নেয়া এই সিদ্ধান্তের কথা রোববার বিকেলে জানান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘গত ১৪, ১৫ ও ১৬ তারিখে দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ধারাবাহিক সভায় মতবিনিময় হয়েছে। অবশিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে আগামী ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে গতকালকের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে।’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারব্যবস্থা বাতিলের পর বিএনপি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। তবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ সংসদ নির্বাচনে তারা অংশ নেয় আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই।

এই ভোটে ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফলাফল করার পর বর্তমান সরকারের অধীনে বেশ কিছু উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তারা হেরে যায় বড় ব্যবধানে।

সদ্য সমাপ্ত পৌর নির্বাচন শেষে বিএনপির ঘোষণা আসে, এই সরকারের অধীনে আর কোনো ভোটে যাবে না তারা।

এরই মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ চলে এসেছে। দুই বছরের কিছু বেশি সময় বাকি থাকতে বিএনপির পক্ষ থেকে আবার নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মামলা প্রত্যাহারের শর্ত দেয়া হয়েছে।

পরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দেয়া হয় আলোচনার প্রস্তাব, যা নিয়ে বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এই পরিস্থিতিতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ার পর বিএনপি নিজেদের মধ্যে আলোচনার পরিধি বাড়াতে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরে মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় হবে কি না- জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই তিন দিনের সভায় তারাও থাকবেন। কারণ, জেলার সভাপতি পদাধিকার বলে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। তারা অবশ্যই আসবেন।’

তিনি বলেন, ‘মতবিনিময় শেষ হলে কর্মপন্থা জানানো হবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যখন ধারাবাহিক সভাগুলো শেষ হবে তখন আমরা সময়মতো আমাদের মতামতগুলো আপনারা জানতে পারবেন। আমাদের পরের কর্মপন্থাও জানতে পারবেন।

‘এসব মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক বিষয় আলোচনা হয়েছে। পুরো রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বর্তমান পরিস্থিতি, একদলীয় শাসন প্রবর্তন করার যে একটা প্রচেষ্টা, বিরোধী দলের ওপরে যে নির্যাতন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি না দেয়া, মিথ্যা মামলা-গায়েবি মামলা ইত্যাদি বিষয় আলোচনা হয়েছে।’

কমিটি পুনর্গঠন হবে

বিএনপির মাঠপর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়ার কথাও জানান দলের মহাসচিব। বলেন, ‘আমাদের বেশির ভাগ কমিটি তাদের পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেছে, কাজ চলছে। অঙ্গসংগঠনগুলোরও কাজ শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে।

‘থানা পর্যায়ে, মাঠপর্যায়ে হয়ে গেছে, ইউনিয়ন পর্যায়ে হয়েছে। এখন জেলা পর্যায়ে হয়ে যাবে, হতে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে সম্মেলনগুলো করা সম্ভব হয়নি। বেশির ভাগ জায়গায় সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে।’

‘ঠিক একইভাবে বিএনপির মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোয় নতুন করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তারা ওয়ার্ড পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে একেবারে মাঠপর্যায়ে এবং একেবারে জেলা পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। কয়েকটি জেলায় সম্মেলন অতি দ্রুত শেষ হবে।’

আরও পড়ুন:
নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি
মেয়রসহ বিএনপি নেতাদের মুক্তিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে
সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী
‘ক্ষমতায় যেতে চোরাগলি খুঁজছে বিএনপি’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘অপশক্তিকে আর ছোবল মারার সুযোগ দেয়া হবে না’

‘অপশক্তিকে আর ছোবল মারার সুযোগ দেয়া হবে না’

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান কুমিল্লা নানুয়ার দিঘির পাড় এলাকা পরিদর্শন করেন। ছবি: নিউজবাংলা

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলার সঙ্গে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই সুযোগ পেয়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আবার দেশকে ছোবল মেরেছে। এটাই শেষ। তাদের আর ছাড় দেয়া হবে না।’

দেশকে ছোবল মারা স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান।

কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড় এলাকা পরিদর্শন শেষে বৃহস্পতিবার সকালে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

এই এলাকার অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর কুমিল্লা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শান্তিশৃঙ্খলার সঙ্গে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই সুযোগ পেয়ে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি আবার দেশকে ছোবল মেরেছে। এটাই শেষ। তাদের আর ছাড় দেয়া হবে না।’

এই এলাকা পরিদর্শনের পর প্রতিমন্ত্রী নগরীর চকবাজার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সান্ত্বনা ও সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহাউদ্দীন বাহার, কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদসহ জেলা এবং পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন:
নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি
মেয়রসহ বিএনপি নেতাদের মুক্তিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে
সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী
‘ক্ষমতায় যেতে চোরাগলি খুঁজছে বিএনপি’

শেয়ার করুন

নরসিংদীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ২

নরসিংদীতে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত ২

নরসিংদীর রায়পুরায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুইজন নিহত হয়েছেন। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আজিজুর রহমান জানান, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে শাহ আলম মেম্বার ও একই গ্রামের ছোট শাহ আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। সামনে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই দুই গ্রুপের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে সংঘর্ষ হলে ছোট শাহ আলম গ্রুপের দুজন নিহত হন।

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তার ও ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৩০ জন।

উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন উপজেলার কাচারিকান্দি গ্রামের সাদির মিয়া ও একই গ্রামের মো. হিরণ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দি গ্রামে শাহ আলম মেম্বার ও একই গ্রামের ছোট শাহ আলমের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলেছিল। সেই জেরে ৬ মাস আগে এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ওই সংঘর্ষে ছোট শাহ আলম গ্রুপের ইয়াসিন ও শাহিন নামে দুজন নিহত হন। এ ঘটনায় বড় শাহ আলম গ্রুপের সদস্যরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়।

ওসি আরও জানান, ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য শাহ আলম মেম্বারের লোকজন আবার গ্রামে ঢোকার চেষ্টা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ভোরে মেম্বার গ্রুপের সদস্যরা টেঁটা, বল্লম ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামে ঢুকে ছোট শাহ আলমের বাড়িতে হামলা চালায়।

এ সময় ছোট আলমের সমর্থকরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এবারও ছোট শাহ আলম গ্রুপের সাদির ও হিরণ নামের দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

গুলি ও টেঁটাবিদ্ধ হয়ে আহতদের উদ্ধার করে রায়পুরাসহ নরসিংদীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সবাই ছোট শাহ আলমের সমর্থক। তাদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় জজ মিয়াকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মামলার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও জানান ওসি।

আরও পড়ুন:
নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি
মেয়রসহ বিএনপি নেতাদের মুক্তিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে
সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী
‘ক্ষমতায় যেতে চোরাগলি খুঁজছে বিএনপি’

শেয়ার করুন

জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন চান রেজা কিবরিয়া 

জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন চান রেজা কিবরিয়া 

নতুন রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

নতুন আত্মপ্রকাশকারী রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া টেলিফোনে নিউজবাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমাদের দাবির দুই পার্ট আছে, একটা হলো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হোক এবং তার অধীনে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। না হলে আমরা চাই, অল্টারনেটিভ হলো, জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে একটা নির্বাচন হোক।’

দেশে এখন গৃহযুদ্ধকালীন অবস্থা চলছে বলে মনে করেন নতুন আত্মপ্রকাশকারী রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া। আগামী দিনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সব দলকে নিয়ে আন্দোলনে যাবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প হিসেবে তারা চান জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন। বুধবার টেলিফোনে নিউজবাংলাকে দেয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সব দলের সঙ্গে আন্দোলনে যেতে প্রস্তুত জানিয়ে রেজা কিবরিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দাবির দুই পার্ট আছে, একটা হলো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার হোক এবং তার অধীনে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হোক।

‘না হলে আমরা চাই, অল্টারনেটিভ হলো, জাতিসংঘের নিয়ন্ত্রণে একটা নির্বাচন হোক। বিভিন্ন দেশে, যেখানে নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, বিভিন্ন কারণে সে সব দেশে তারা সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করে, যেটা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য। জাতিসংঘ যেন এখানেও একই ব্যবস্থা নেয়। এই দুইটার মধ্যে যে কোনোটা হলেই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

জাতিসংঘ পরিচালিত নির্বাচনব্যবস্থা বলতে কী বোঝাতে চাচ্ছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ বিভিন্ন দেশে এ ধরনের নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। দুঃখজনক আমাদের সেনাবাহিনী অন্য দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গেছে, কিন্তু আমাদের দেশে সেটা করার মানসিকতা কিংবা সাহস তাদের ছিল না। আপনি জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশে খোঁজ করেন, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে নির্বাচন হয়। যেখানে নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, সেখানে।’

জাতিসংঘের তত্ত্বাবধায়নে সে সব দেশেই নির্বাচন হয়, যেখানে গৃহযুদ্ধ হয়। তাহলে কি আপনি মনে করছেন বাংলাদেশে সেই অবস্থা চলছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি সেটাই হয়েছে। কিংবা আরও খারাপ হতে যাবে। কারণ যে দেশে একটা দল গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করেছে, মিথ্যা নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হয়েছে, সংসদে বসে আছে, সেখানে আমরা মনে করি এ ধরনের হস্তক্ষেপ করা দরকার। সাধারণত হয় না। খুবই দুঃখজনক যে আওয়ামী লীগ সরকারের কাজের জন্য এমন অবস্থা হয়েছে। জনগণের কাছে সরকারের সাজানো নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না কখনও।’

রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমরা কাদের সঙ্গে জোটে যাব, সেটা বড় ব্যাপার না। আমাদের সঙ্গে নিশ্চয়ই অন্য সব দল আসবে। কারণ দাবি তো এক।’

বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সব দলের সঙ্গে থাকব। কে ডেকেছে, কে ডাকেনি, সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমার মনে হয়, আমাদের সঙ্গে সব দল একসঙ্গে কাজ করবে। এটা হবে। আমরা বিএনপির ডাকে আসছি, কি অন্য কারও ডাকে আসছি- এটা গুরুত্বপূর্ণ না। আমরা সবাই একত্রিতভাবে এই অত্যাচারী এবং স্বৈরাচারী সরকারের কাজগুলো রোধ করব। এবং আমরা বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করব।’

প্রয়োজনে জামায়াতের সঙ্গে যাবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনার মনে হয় ওই দলে খুব ইন্টারেস্ট। কিন্তু আমি ওই দলটাকে অত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। জামায়াতের ব্যাপারে আমরা '৯১ সালে আমাদের যে এখন প্রধানমন্ত্রী, উনি যে সিস্টেমে কাজ করেছেন, ওই সিস্টেমটিকে আমরা অনুসরণ করতে পারি। উনি যেভাবে সারা দেশে ঐকমত্যের সঙ্গে ছিলেন, আমরাও সেভাবে ঐকমত্যের সঙ্গে থাকব। যারাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য যুদ্ধ করবে, আমরা তাদের সঙ্গে আছি, একসঙ্গে কাজ করব।’

আরও পড়ুন:
নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি
মেয়রসহ বিএনপি নেতাদের মুক্তিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে
সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী
‘ক্ষমতায় যেতে চোরাগলি খুঁজছে বিএনপি’

শেয়ার করুন

প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনই ধামরাইয়ে উত্তেজনা

প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনই ধামরাইয়ে উত্তেজনা

স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন, তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন নৌকার প্রার্থীরা।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের প্রথম দিনই উত্তেজনা ছড়িয়েছে ঢাকার ধামরাইয়ের চার ইউনিয়নে।

উপজেলার রোয়াইল, সোমভাগ, বালিয়া ও গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নে বুধবার বিকেলে ও সন্ধ্যার বিভিন্ন সময় সহিংসতাসহ উত্তেজনার নানা ঘটনা ঘটে।

এসব ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন, তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন নৌকার প্রার্থীরা।

রোয়াইল ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম সামসুদ্দিন মিন্টু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেলে নৌকার লোকজন মোটরসাইকেল নিয়া আমার অফিসের সামনে হামলা করছে। এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুইড়া আতঙ্ক ছড়ায়ে আধাঘণ্টা পর চইলা গেছে।

‘খড়ারচর মাঠে ১০০-১৫০ মোটরসাইকেলে ২-৩ জন কইরা আসছে। প্রত্যেক মোটরসাইকেলে ওদের হাতে একটা কইরা লাঠি আর নৌকার প্রতীক লাগানো। ওরা মূলত চাইছিল আমরা প্রতিবাদ করি। আর প্রতিবাদ করলেই বড় ধরনের সংঘর্ষ হইত। তো আমরা অফিসের ভেতরেই বসা ছিলাম। আমি ওসি সাহেব ও রিটার্নিং অফিসারকে জানাইছি। ওনারা বলছে, লিখিত অভিযোগ দিতে। আমি অভিযোগ দেব।’

এ বিষয়ে রোয়াইল ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজিম উদ্দিন খান বলেন, ‘না, বিষয়টি আমি জানিও না। আমার বিশ্বাস, আমার যারা সমর্থক তারা এই ধরনের কাজ করবে না। আমার শতভাগ আস্থা আছে নিজের মানুষের প্রতি। ওই প্রার্থী আগেও একবার বলছে, একটা মিছিল গিয়ে তার বাড়ির গেট, দেয়াল ভাঙছে। পরে আমি সেই বাড়ির ছবি তুলে এমপি মহোদয়কে দেখাই, সেখানে কিছু হয়নি। সে এমন মিথ্যা অভিযোগ করতেই থাকে।’

সোমভাগ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওলাদ হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা অভিযোগ করেন, বানেশ্বর পশ্চিমপাড়া এলাকায় স্থানীয় একটি মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায়ে যান আওলাদ। সে সময় ওই এলাকায় মিছিল বের করেন নৌকার প্রার্থী আজাহার চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। আওলাদ মসজিদ থেকে বের হতেই মিছিলের লোকজন তাকে গালমন্দ করতে থাকেন।

এ ঘটনার ভিডিও করতে গেলে আওলাদের এক সমর্থকের ফোন ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে আওলাদ হোসেন, তার ছোট ভাই বাবু, সাইফুল, সুরুজসহ তিন-চারজনকে মারধর করা হয়। পরে তারা ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

তবে নৌকার প্রার্থী আজাহার আলী পাল্টা অভিযোগ করেন, ‘একটা মারামারির ঘটনা ঘটছে। আবার আমার নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর করেছে আওলাদ হোসেনের লোকজন। সেই বিষয়ে আমি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে উপজেলা পরিষদে গিয়েছি।’

বালিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী নূরে আলম নান্নুর কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

নূরে আলম সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিকেলে একটি ভ্যানে মাইক নিয়ে আমার চার কর্মী প্রচার চালিয়ে বালিয়া ইউনিয়নের কামারপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। পথে সামনে থেকে আসা প্রায় ৪০-৫০টি মোটরসাইকেলের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা সবাই নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমানের রাজীব ও সজীবের লোক।

‘রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আমার চারজন কর্মীকেই বেধড়ক মারধর করতে থাকে। এ সময় স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে তারা চলে যায়। পরে চারজনকেই মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে একজনের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।’

নূরে আলম আরও বলেন, ‘এলাকার নিরীহ মানুষ এমনিতেই আতঙ্কে আছেন। তার ওপর এ ধরনের ঘটনায় তাদের আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাচন অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। এভাবে চললে আমার নিজের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কিত আমি। আমরা চাই সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হোক। তাই প্রশাসনের প্রতি কঠোর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি আমার জানা নেই। শুনেছি পোলাপান মারামারি করছে। আমি জানি না। অভিযোগের বিষয়টি আপনার কাছেই শুনলাম।’

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের গান্ধুলিয়া গ্রামে পোস্টার লাগাতে গিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কর্মীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে আমার কর্মী জাকির হোসেন গান্ধুলিয়া গ্রামে পোস্টার লাগাতে গিয়েছিল। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাদের মোল্লার ভাতিজা আবুল কাশেম কাশি তাকে বাধা দেয়। সে প্রতিবাদ জানালে কাশি তাকে চড়-থাপ্পড় দেয়। এ ঘটনায় আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দেব।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাওয়া ধামরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরাফাত উদ্দিন বলেন, ’পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে সত্যতা পেয়েছি। তবে অভিযুক্ত কাউকে ঘটনাস্থলে পাইনি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল কাদের মোল্লাকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ব্যস্ততার অজুহাতে তিনি ফোন রেখে দেন।

ঢাকা জেলা জ্যেষ্ঠ রিটার্নিং অফিসার মুনীর হোসেন খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখনও কোনো অভিযোগ পাইনি। এসব বিষয় উপজেলা রিটার্নিং অফিসাররা আছেন, তারাই ব্যবস্থা নিবেন। নির্বাচনের দায়িত্বই তাদের। রিটার্নিং বরাবর আবেদন করলে তারা ব্যবস্থা নেবেন।’

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ হাই জকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ফাঁকা গুলির ঘটনা আপনার কাছেই শুনলাম। আর সোমভাগ ও বালিয়া ইউনিয়নে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হইছে। কয়েকজন আহত হইছে। তবে এখনও আমার কাছে কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। তবে তারা মৌখিক অভিযোগ করেছেন। আমি প্রশাসনকে বলেছি। তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’

আরও পড়ুন:
নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি
মেয়রসহ বিএনপি নেতাদের মুক্তিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে
সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী
‘ক্ষমতায় যেতে চোরাগলি খুঁজছে বিএনপি’

শেয়ার করুন

প্রার্থীদের অজান্তে এমপির নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার!

প্রার্থীদের অজান্তে এমপির নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার!

শরীয়তপুরে ইউপি চেয়ারম্যান পদে ভোট না হলেও সদস্য পদে ভোট হওয়ার কথা ছিল। বুধবার নির্বাচন অফিসে প্রতীক নিতে গিয়ে ইউপি সদস্য প্রার্থীরা জানতে পারেন, তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়েছে। তারা জানান, কোনো কাগজে সই করেননি, তবে কীভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হলো তারা জানেন না।

শরীয়তপুর সদরের চিতলীয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতি ওয়ার্ডে একজন ছাড়া সব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র তাদের অজান্তে প্রত্যাহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইউপির ৯ ওয়ার্ডে সদস্য পদে মনোনয়নপত্র তোলা ৪৮ প্রার্থীর মধ্যে প্রত্যাহার হয়েছে ৩৯ জনের। আর সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১২ প্রার্থীর মধ্যে ৯ জনের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়েছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর নির্দেশ পেয়ে নির্বাচন কার্যালয় থেকে এটি করা হয়েছে। প্রার্থীদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কথোপকথনের একটি ভিডিও নিউজবাংলার হাতে এসেছে।

ওই ভিডিওতে নিজ কার্যালয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন প্রার্থীদের বলেন, ‘এমপি স্যার বলেছেন, চিতলীয়া ইউনিয়নে কোনো নির্বাচন হবে না। সিলেকশন হবে।’

নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কাছে অবশ্য বিষয়টি অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন। কোন প্রেক্ষাপটে এমন মন্তব্য করেছেন, তা নিশ্চিত নন বলে দাবি করেন তিনি।

প্রার্থীদের অজান্তে এমপির নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার!
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন

সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো কিছু আমি বলতে পারি না। এ বিষয়ে আমার কারও সঙ্গে কোনো কথা হয়নি।’

চিতলীয়া ইউনিয়নে ভোট হওয়ার কথা ছিল ১১ নভেম্বর। মঙ্গলবার স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস সালাম হাওলাদার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় এখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হচ্ছেন হারুন-অর-রশিদ।

চেয়ারম্যান পদে ভোট না হলেও সদস্য পদে ভোট হওয়ার কথা ছিল। তবে বুধবার নির্বাচন অফিসে প্রতীক নিতে গিয়ে ইউপি সদস্য প্রার্থীরা জানতে পারেন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হয়েছে।

তারা জানান, কোনো কাগজে সই করেননি, তবে কীভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার হলো তারা জানেন না। নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে প্রতীক চাইতে গেলে তিনি তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানান।

এ বিষয়ে তার কিছু করণীয় নেই বলেও জানান নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন।

বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি, তারা কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেননি। তাদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চিতলীয়া ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন বলেন, ‘আনন্দ নিয়া উপজেলায় আইছি। প্রতীক পাইমু। নির্বাচন হইব। কিন্তু রিটার্নিং অফিসার কয় নির্বাচন অইব না। আপনারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করছেন। সব সেলেকশনে নির্বাচিত হইছে।

‘আমি আকাশ থিক্কা পড়লাম। কিছুই জানি না, আর নির্বাচন শ্যাষ। প্রত্যাহার তো দূরের কথা, ত্যাজ পাতায়ও সই করি নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তয় ক্যামনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার অইল। এর উত্তর চাই। নির্বাচনের চাই। নির্বাচনে যার হাইর জিত হয় মাইন্যা নিমু।’

ওই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি, কিন্তু প্রত্যাহার করিনি। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে প্রতীক নিতে আসি। রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন আমি নাকি প্রত্যাহার করছি। আমি কাগজপত্র দেখতে চাইলাম তিনি আমাকে কিছুই দ্যাখাননি।

‘এই দ্যাশটা কি মগের মুল্লুক? যে যার যা ইচ্ছা তাই করবে। নির্বাচন না দিলে আমরা আইনের ব্যবস্থা নেব। আদালতে যাব।’

প্রার্থীদের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও সম্পর্কে রিটার্নিং কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনি বিধিমালায় নেই কারো নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার। এমন কথা কোন প্রেক্ষিতে আমি বলেছি, তা এখন বলতে পারছি না।’

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ইউপি সদস্য হচ্ছেন যারা

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে জানা যায়, বাকি প্রার্থীদের মনোনয়ন এভাবে প্রত্যাহার হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ইউপি সদস্য হতে যাচ্ছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডে আব্দুল হাই মৃধা, ২ নম্বর ওয়ার্ডে ছলেমান হাওলাদার, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নান্নু মাল, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ফারুক মুন্সি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তরিকুল ইসলাম, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ধীরেন হালদার, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে সালাম তালুকদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অলিলুর রহমান সরদার ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এস আজিজুল হক।

এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মনোয়ার বেগম, ৪, ৫, ৬ নম্বরে রাজিয়া বেগম ও ৭, ৮, ৯ নম্বরে নীলফার ইয়াসমিন নির্বাচিত হচ্ছেন।

আরও পড়ুন:
নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি
মেয়রসহ বিএনপি নেতাদের মুক্তিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে
সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী
‘ক্ষমতায় যেতে চোরাগলি খুঁজছে বিএনপি’

শেয়ার করুন

স্বাচিপের সম্প্রীতি সমাবেশে বিএনপিকে দোষারোপ

স্বাচিপের সম্প্রীতি সমাবেশে বিএনপিকে দোষারোপ

শাহবাগের সম্প্রীতি সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন হাসাপাতালের অর্ধশতাধিক চিকিৎসক ও আওয়ামী লীগ নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, দেশে আবার অশান্তি সৃষ্টি করলে বিএনপিকে বড় শিক্ষা দেয়া হবে। তারা শান্তি মিছিলের নামে পুলিশকে আক্রমণ করছে। সরকার হটাতে গণঅভ্যুত্থানের নামে তারা পূজামণ্ডপে হামলা করছে। তারা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক ও অকার্যকর রাষ্ট্র।

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য সমাবেশ থেকে দায়ী করা হয়েছে বিএনপি ও জামায়াতকে।

রাজধানীর শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে বুধবার দুপুরে সম্প্রীতি সমাবেশ করে স্বাচিপ। চিকিৎসক ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এতে অংশ নেন।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন বলেন, ‘দেশে আবার অশান্তি সৃষ্টি করলে বিএনপিকে বড় শিক্ষা দেয়া হবে। তারা শান্তি মিছিলের নামে অশান্তি করছে, পুলিশকে আক্রমণ করছে। সারাদেশে ২০১৩-১৪ সালে পেট্রোল বোমা হামলা ও সন্ত্রাস করে বিএনপি এখন মাশুল দিচ্ছে। জনপ্রতিরোধে বিএনপি-জামায়াত এখন কোনঠাসা হয়ে গেছে।

‘বিএনপি জামায়াত বাংলাদেশের অপশক্তি। সরকার হটাতে গণঅভ্যুত্থানের নামে তারা পূজামণ্ডপে হামলা করে। তারা প্রমাণ করতে চায় বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক ও অকার্যকর রাষ্ট্র। তবে এসব সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে সারাদেশ ঐক্যবদ্ধ। সে ঐক্যের সামনে অপশক্তি পরাজিত হতে বাধ্য।’

সিরাজগঞ্জ ২ আসনের সাংসদ ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন উন্নতির শিখরে যাচ্ছে, তখন জামায়াত-বিএনপি দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি তাদেরকে দাঁতভাঙা জবাব দেবে। সকল ধর্মের মানুষ মিলে আমরা তাদের প্রতিরোধ করব।’

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক আব্দুল আজিজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরফুদ্দিন আহমেদ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের মহাসচিব অধ্যাপক এম এ আজিজ, ডা. আব্দুর রউফ সরদার, অধ্যাপক আবু ইউসুফ ফকির, অধ্যাপক খলিলুর রহমান, মাকসুদুল আলম বাচ্চুসহ স্বাচিপ নেতারা।

রাজধানীর বিভিন্ন হাসাপাতালের অর্ধশতাধিক চিকিৎসকের পাশাপাশি সমাবেশে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যাক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি
মেয়রসহ বিএনপি নেতাদের মুক্তিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে
সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী
‘ক্ষমতায় যেতে চোরাগলি খুঁজছে বিএনপি’

শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না: ফখরুল

আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল।

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন তিনি এমন একটি দল গঠন করতে চেয়েছিলেন, যে দল ভবিষ্যতে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবে। রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেবে এবং জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে।’

নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে কোন নির্বাচন হবে না। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনও গঠন করতে হবে। এর মধ্য দিয়েই আমরা একটি নতুন সরকার গঠন করব। আর যুবদলকে অনুরোধ করব তারা যেন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তারা যেন স্বপ্ন দেখে একটি আধুনিক রাষ্ট্রের, একটি আধুনিক জাতি গঠনের।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন যুবদল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তখন তিনি এমন একটি দল গঠন করতে চেয়েছিলেন, যে দল ভবিষ্যতে বিএনপিকে নেতৃত্ব দেবে। রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেবে এবং জাতি গঠনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে। ৪৩ বছরে জাতীয়তাবাদী যুবদল নিঃসন্দেহে তার সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে।’

গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ যুবদলের নেতা-কর্মীদের স্মরণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের সংকট মুহূর্তে যুবদলকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। যুবদলের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশের মানুষকে সংগঠিত করে আমাদের বুকের উপর চেপে বসা ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে পরাজিত করতে হবে। যে সরকার আমাদের গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন ধরে আটক করে রেখেছে, আমাদের স্বপ্নের নেতা তারেক রহমানকে নির্বাসিত করে রেখেছে, অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে তাদেরকে পরাজিত করতে যুবদলকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।’

যুবদল সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরবের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের যৌথ সঞ্চলনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোরতাজুল করিম সহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন:
নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে বিএনপি
মেয়রসহ বিএনপি নেতাদের মুক্তিতে ৭ দিনের আল্টিমেটাম
ধর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতা কারাগারে
সাংবাদিকদের মুখ বন্ধ করতে হিসাব চেয়ে চিঠি: রিজভী
‘ক্ষমতায় যেতে চোরাগলি খুঁজছে বিএনপি’

শেয়ার করুন