ব্যাংক হিসাব তলব: সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক সাংবাদিকদের

ব্যাংক হিসাব তলব: সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক সাংবাদিকদের

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন। ছবি: নিউজবাংলা

‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনসমূহের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি। নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।’

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতেই এটা করা হয়েছে অভিযোগ করে কর্মসূচিতে বলা হয়, এর সন্তোষজনক সমাধান না হলে আন্দোলন চলবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বিএফআইইউ।

অন্য যাদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে, তারা হলেন: বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, বিএফইউজের সভাপতি এম আবদুল্লাহ, মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী উল্লেখ করে এই প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।

গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে করে এই ১১ নেতা বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল হতে পারে এই আদেশ। সেদিনই রোববার মানববন্ধনের ডাক দেয়া হয়।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল বলেন, ‘যেভাবে হিসাব চাওয়া হয়েছে তা নজিরবিহীন। আমরা রাষ্ট্রের কাছে এর ব্যাখা চাই। এর নিরসন চাই। উৎকণ্ঠা দূর করতে হবে।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘একটি গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সরকার ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে।

‘কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের তদন্ত হতেই পারে। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠনসমূহের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের নামে ঢালাওভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ উদ্দেশ্যমূলক বলে আমরা মনে করি। নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সব সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকতা পেশাকে জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।’

এই আদেশে গণমাধ্যমকর্মীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কী, তা সুস্পষ্ট জানাতে হবে। নানাভাবে আমাদের চরিত্র ক্ষুণ্ন হচ্ছে। কিন্তু সুনাম ক্ষুণ্ন করবেন, এই অধিকার আপনাদের দেয়নি কেউ।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের রাস্তায় দাঁড়ানোর কথা নয়। কিন্তু আজ তাদের রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে বিশ্বে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে উদ্দেশ করে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘এই চিঠি ইস্যু হওয়ার আগে আপনার কাছে গেছে। আপনি কি এটা দেখেননি?’

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা
‘সাংবাদিক সবকিছুর ঊর্ধ্বে নন, সরকার হিসাব চাইতেই পারে’
প্রেস ক্লাব সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করেছে ফেসবুক’

‘ভারতে মুসলিমবিদ্বেষ ছড়াতে সাহায্য করেছে ফেসবুক’

দিল্লির ঐতিহাসিক জামে মসজিদের সিঁড়িতে কয়েকজন মুসল্লি। ছবি: এএফপি

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ফেসবুক জানত। এরপরেও সেগুলো ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে নিজেদের ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় আরএসএসকে বিপজ্জনক সংগঠনের ক্যাটাগরিতে ফেলার বিষয়েও দ্বিধা দেখিয়েছে ফেসবুক।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাদের পোস্টের ক্ষেত্রে সত্যতা যাচাই করত না সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। একই সঙ্গে এটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নেতাদের মুসলিমবিরোধী পোস্ট ছড়াতেও সাহায্য করেছে।

সম্প্রতি ফেসবুকের সাবেক কর্মকর্তা ফান্সিস হাউগেনের বরাতে এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দি নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে

এতে বলা হয়েছে, ফেসবুকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেয়া ফ্রান্সিস হাউগেনের নথি থেকে।

৩৭ বছর হাউগেন প্রায় দুই বছর ধরে ফেসবুকে কাজ করেছেন। সেখানে তার কাজ ছিল মিথ্যা সংবাদ ট্র্যাক করা এবং নিশ্চিত করা যে, প্ল্যাটফর্মটি গণতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না।

হাউগেনের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, কীভাবে ফেসবুকের প্রধান মার্ক জুকারবার্গের নীতি অনুযায়ী মেসেজ দেয়া-নেয়ার ওপর নজরদারি ভারতে আরও ভুল তথ্যের কারণ হয়েছিল। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব দেখা যায়, করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে।

ফেসবুকের নথি অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি মুসলিমবিরোধী পোস্টসহ ভারতে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল, সেটি মোকাবিলা করতে পারেনি।

ফাঁস হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে ফেসবুক গবেষকরা লিখেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির গ্রুপ এবং পৃষ্ঠাগুলো ‘উসকানিমূলক এবং বিভ্রান্তিকর মুসলিমবিরোধী সামগ্রীতে ভরা’।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, মুসলমানদের ‘শুয়োর’ এবং ‘কুকুর’ এর সঙ্গে তুলনা করে বেশ কিছু অমানবিক পোস্ট রয়েছে। অনেক পোস্টে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে যে, কোরআন পুরুষদের তাদের পরিবারের নারীদের ধর্ষণ করতে বলে।

এতে বলা হয়েছে, বেশিরভাগ কনটেন্টই পাওয়া গেছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের মতবাদ প্রচারকারী ফেসবুক গ্রুপে। এই গোষ্ঠীগুলো বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান সীমান্তের কাছে মুসলমান সংখ্যালঘু জনবসতির বিস্তার নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছিল। এরা ভারত থেকে মুসলমানদের অপসারণ এবং মুসলমান জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ আইন তৈরির জন্য ফেসবুকে পোস্ট করেছিল।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, মুসলিমবিদ্বেষী পোস্ট ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে ফেসবুক জানত। এরপরেও সেগুলো ঠেকাতে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি প্রতিষ্ঠানটি। ভারতে নিজেদের ব্যবসার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় আরএসএসকে বিপজ্জনক সংগঠনের ক্যাটাগরিতে ফেলার বিষয়েও দ্বিধা দেখিয়েছে ফেসবুক।

ফেসবুকের একটি নথি অনুযায়ী, ভুয়া তথ্য শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য কোম্পানির ব্যয়ের ৮৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বরাদ্দ, বাকি বিশ্বের জন্য এটি মাত্র ১৩ শতাংশ।

ফেসবুকের মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন দাবি করেছেন, এই পরিসংখ্যান অসম্পূর্ণ এবং এতে কোম্পানির তৃতীয় পক্ষের ফ্যাক্টচেকিং অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা
‘সাংবাদিক সবকিছুর ঊর্ধ্বে নন, সরকার হিসাব চাইতেই পারে’
প্রেস ক্লাব সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব

শেয়ার করুন

ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরাতে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

করোনা মহামারিতে স্কুল বন্ধ থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়েছে কারখানার কাজে। ফাইল ছবি

আলোচনায় করোনাকালে বাল্যবিয়ের শিকার কন্যাশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে নানাধরণের সুপারিশমালা উঠে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রণোদনা সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট শতকরা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, বিয়ের পরেও ছাত্রীর জন্য উপবৃত্তি চালু রাখা ও অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারণ করা।

করোনাকালে ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে খুব দ্রুত সম্মিলিতভাবে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি, বেসরকারি সংস্থা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

সোমবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনায় করোনাকালে বাল্যবিয়ের শিকার কন্যাশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে নানা ধরনের সুপারিশমালা উঠে এসেছে। এরমধ্যে রয়েছে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারের জন্য প্রণোদনা সুবিধা বাড়ানো, শিক্ষা খাতে সরকারের বাজেট শতকরা ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করা, সার্বক্ষণিক মনিটরিং, বিয়ের পরেও ছাত্রীর জন্য উপবৃত্তি চালু রাখা, অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা স্তর নির্ধারণ করা, সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রামে ছাত্রছাত্রী ও তাদের পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বোপরি তথ্য-উপাত্তগত ব্যবধানে নিরসন।

অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম।

এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফম, বাংলাদেশ এর আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ সিপিডি’র ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য স্বাগত বক্তব্যে বলেন, স্কুলের পরিচালনা পর্ষদকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে এবং সেই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি সকল সেক্টরের মধ্যে একটা সমন্বয় ঘটাতে হবে।

বিশেষ বক্তা হিসেবে গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশিদা কে চৌধুরী বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ মাসে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে ভর্তি হয়েছে এবং সরকার জানে যে কতজন শিশু ভর্তি হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য সরকার আমাদের জানায়নি। এছাড়া কতজন ছাত্রছাত্রী অ্যাসাইমেন্ট গ্রহণ করেছে ও জমা দিয়েছে, সে সম্পর্কিত কোন তথ্যও আমরা পাইনি। এই সমস্যা সমাধানে সঠিক তথ্য উপাত্ত সবচেয়ে প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে করোনা মহামারির সময়ে বাল্যবিয়ের শিকার নীলফামারির মেয়ে আদুরী এবং ঝুঁকিপূণ শিশু শ্রমে নিয়োজিত কিশোর তাইজুল ইসলাম তাদের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানায়।

ওয়েবিনারটি পরিচালনা করেন সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, সিপিডি তৌফিকুল ইসলাম খান। ওয়েবিনারে সরকার গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এবং মাঠ পর্যায় থেকে সরাসরি কর্ম অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব নাজমা শেখ, মাউশি পরিচালক মো. বেলাল হোসাইন, ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচীর সাবেক পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. নান্নু মোল্লা।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা
‘সাংবাদিক সবকিছুর ঊর্ধ্বে নন, সরকার হিসাব চাইতেই পারে’
প্রেস ক্লাব সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব

শেয়ার করুন

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্ট

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্ট

একইসঙ্গে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ না দিয়ে টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

একইসঙ্গে আবাসিকে গ্যাস সংযোগ দিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি আবেদনকারীদের গ্যাস সংযোগ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে বিষয়টিও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

চার সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ), পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কর্ণফুলীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাখরাবাদের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ওয়াজি উল্লাহ, সঙ্গে ছিলেন আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী ও আফরোজা সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

গত ২৭ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মাসিক সমন্বয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ‘আবাসিকে গ্যাস সংযোগ আর চালুর সুযোগ না থাকায় ডিমান্ড নোটের প্রেক্ষিতে যারা টাকা জমা দিয়েছিল তাদেরকে ক্রস চেকের মাধ্যমে টাকা ফেরত দেয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।’

সরকারের এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে চট্টগ্রাম গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি গ্রাহক ঐক্যজোটের সভাপতি আলমগীর নূর ও মহাসচিব একেএম অলিউল্লাহ হক ও সাধারণ গ্রাহক মো. নুরুল আলম গত ৪ অক্টোবর হাইকোর্টে রিট করেন।

রিটকারীদের আইনজীবী ওয়াজি উল্লাহ বলেন, ‘আইনে বলা আছে, ডিমান্ড নোটের (চাহিদাপত্র) প্রেক্ষিতে গ্যাস সংযোগের জন্য টাকা জমা নেয়া হলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের গ্যাস সংযোগ দিতে সরকার বাধ্য। কিন্তু টাকা জমা নেয়ার পর নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তাদের গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়নি, বরং তাদের টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা আইন সম্মত নয়। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে আমরা আদালতে এসেছি। আদালত শুনানি শেষে রুল জারি করেছেন।’

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা
‘সাংবাদিক সবকিছুর ঊর্ধ্বে নন, সরকার হিসাব চাইতেই পারে’
প্রেস ক্লাব সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব

শেয়ার করুন

তুলার বাড়তি দামে সংকট বস্ত্র খাতে

তুলার বাড়তি দামে সংকট বস্ত্র খাতে

বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে তুলার দাম। ছবি: সংগৃহীত

নেতারা বলেন, কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে তুলার দাম বেড়ে চলেছে। গত এক দশকের মধ্যে এখন তুলার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিল ৯০ সেন্ট। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ সেন্টে। প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে দাম। এভাবে তুলার দাম বাড়ার কারণে বস্ত্র ও পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

তৈরি পোশাকশিল্পের মৌলিক কাঁচামাল তুলার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় বস্ত্র ও পোশাক খাতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীতে সোমবার প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা জানান এ উদ্বেগের কথা।

তুলার দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারি নীতি সহায়তার পাশাপাশি জরুরিভাবে সমন্বিত নীতি প্রণয়নের দাবি জানান বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ রপ্তানি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বিশ্ববাজারে তুলার দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সংকটজনক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে তুলার দাম বেড়ে চলেছে। গত এক দশকের মধ্যে এখন তুলার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তুলার দাম যেভাবে বাড়ছে তা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে তা কেউ বলতে পারছে না।

সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিল ৯০ সেন্ট। এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে ১২০ সেন্টে। প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে দাম।

নেতারা বলেন, শুধু তুলার দাম বাড়ার কারণে বস্ত্র ও পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ধিত জাহাজ ও কন্টেইনার ভাড়া, বন্দরের যানজটসহ অন্য অনেক সমস্যা। সব মিলিয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাত বিপর্যের মুখে পড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, তুলা পোশাকশিল্পের প্রধান মৌলিক কাঁচামাল। তুলা থেকে সুতা, এরপর সুতা থেকে কাপড় এবং তা থেকে পোশাক তৈরি হয়। বাংলাদেশে ৯৯ শতাংশ তুলা আমদানি করা হয়।

তুলার দাম বাড়ার ফলে সুতার দাম বাড়ছে। ফলে কাপড়ের দামে তা প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় তৈরি পোশাক খাত তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। কারণ, ক্রেতারা বেশি দামে বাংলাদেশি পোশাকপণ্য কিনতে চাচ্ছে না। এ অবস্থায় তুলার দাম স্থিতিশীল রাখা জরুরি বলে মনে করে বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহাম্মদ আইউব।

এ সময় বিকেএমইর নিবার্হী সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ টেরিটাওয়াল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহদাত হোসেনসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেএমইএর মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘রপ্তানিমুখী বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের স্বার্থে সুতার বাজার স্থিতিশীল রাখা উচিত। সুতার দাম বাড়ার বিষয়ে আমরা একটা সতর্ক বার্তা দিলাম। যাতে করে বায়ারদের সঙ্গে দরকষাকষিতে পোশাকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায়।’

বিটিএমএর ফজলুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিনই সুতার দাম বাড়ছে। কোথায় গিয়ে যে ঠেকে তা বলা কঠিন। বিশ্ববাজারে সব কিছুর দাম বাড়ছে। শুধু বাড়ছে না বাংলাদেশি পোশাকের দাম। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।’

টেরিটাওয়াল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘তুলার দাম না কমলে রপ্তানিমুখী শিল্পে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।’

বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহাম্মদ আইউব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার বাড়তি দাম বিবেচনায় নিয়ে দেশীয় তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত ক্রেতাদের সাথে দরকষাকষি করা।’

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা
‘সাংবাদিক সবকিছুর ঊর্ধ্বে নন, সরকার হিসাব চাইতেই পারে’
প্রেস ক্লাব সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব

শেয়ার করুন

৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কারাগারে

৮ বছর আত্মগোপনে থাকার পর কারাগারে

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি ক্রয় সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় আইমুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

ওসি আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়ায় আত্মগোপন করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করে। সেখানে থাকাকালে চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি। 

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি ক্রয় সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানার নয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে ৮ বছর ধরে পলাতক ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।

কারাগারে পাঠানো আইমুদ্দিন উপজেলার রুপসীপাড়া (ভেকসি) গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার বরাত দিয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালের আইমুদ্দিন তার প্রতিবেশী মোজাহার আলীর কাছে ৪২ শতক জমি বিক্রির জন্য চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী মোজাহার ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা আইমুদ্দিনকে দেন। তবে জমি রেজিস্ট্রি করতে গেলে মোজাহার দেখতে পান দলিলে ৪২ শতকের পরিবর্তে ৩৬ শতক লেখা।

এ নিয়ে দুপক্ষের মাঝে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে আইমুদ্দিন তার জমি ছেলে-মেয়ের নামে লিখে দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ওই বছর ১৮ মার্চ তার ছেলে আব্দুল আজিজ আদালতে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করেন।

ওসি আরও জানান, পুলিশের হাতে আটক হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন মোজাহার। জামিন পেয়ে নিখোঁজ আইমুদ্দিনের বিরুদ্ধে জমি ক্রয় সংক্রান্ত জালিয়াতি মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। বিচারক নিখোঁজ আইমুদ্দিনকে ২ বছরের সাজাও দেন।

আইমুদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন জানিয়ে ওসি আবু হাসান কবির জানান, ২০১৩ সালে স্বেচ্ছায় ঘোড়াঘাট থেকে পালিয়ে তিনি প্রথমে বগুড়ায় আত্মগোপন করেন। পরে পাবনার সাঁথিয়া থানার কাশিনাথপুর এলাকায় দীর্ঘদিন অবস্থান করে।

সেখানে থাকাকালে চর অঞ্চলের কিছু লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সুবাদে তিনি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার বাকুটিয়া চরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখান স্থানীয় এক নারীকে বিয়েও করেন তিনি।

সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করে দুপুরে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা
‘সাংবাদিক সবকিছুর ঊর্ধ্বে নন, সরকার হিসাব চাইতেই পারে’
প্রেস ক্লাব সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব

শেয়ার করুন

নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

নাশকতা মামলায় আসলাম চৌধুরীর বিচার শুরু

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। ছবি: নিউজবাংলা

২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোড মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ নাশকতার ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক আহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন। পুলিশ ২০১৫ সালে আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নাশকতা মামলায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আদালত। আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।

চট্টগ্রামের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আ স ম শহীদুল্লাহ কায়সার সোমবার দুপুরে অভিযোগ গঠন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী আইনজীবী রুবেল পাল নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানি করেছে। শুনানি শেষে বিচারক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন। ২৩ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।’

২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলন চলাকালে ২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার গোডাউন রোড মহাসড়কে যানবাহনে ভাঙচুর, গাড়িতে আগুন দেয়াসহ নাশকতার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক আহাম্মদ আসলাম চৌধুরীসহ বিএনপি-জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মীর নামে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৫ সালে আসলাম চৌধুরীসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তাদের মধ্যে ৪৮ আসামি পলাতক। আসলাম চৌধুরী এই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে থাকলেও অন্য মামলায় তিনি কাশিমপুর কারাগারে আছেন।

আদালত সাত আসামির উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠন করে। এ সময় দুজন আসামি সময়ের আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করেছে।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীকে ২০১৬ সালের ১৫ মে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

তার নামে বিভিন্ন থানায় ২৬টি মামলা আছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে তিনটি মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা
‘সাংবাদিক সবকিছুর ঊর্ধ্বে নন, সরকার হিসাব চাইতেই পারে’
প্রেস ক্লাব সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব

শেয়ার করুন

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে সচেতনতায় নাটিকা

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা করেছে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন। ছবি: নিউজবাংলা

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

বায়ুদূষণ রোধে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবিতে বাগেরহাটে পথসভা ও নাটিকা প্রদর্শন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানব উন্নয়ন সংস্থা বাঁধন ও প্রাণ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে সভা ও নাটিকা প্রদর্শিত হয়।

পথসভার আগে ‘ফিরিয়ে দেও পৃথিবী’ শিরোনামে নাটিকা প্রদর্শন করে বাঁধনের বিভিন্ন যুব সংগঠনের সদস্যরা।

নাটিকার মাধ্যমে তরুণরা মাটি, বায়ু ও পানি দূষণমুক্ত রাখার পাশাপাশি শূন্য কার্বনভিত্তিক টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

পরে অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন বাঁধনের নির্বাহী পরিচালক এএসএম মঞ্জুরুল হাসান ও সাংবাদিক আরিফুল হকসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা
‘সাংবাদিক সবকিছুর ঊর্ধ্বে নন, সরকার হিসাব চাইতেই পারে’
প্রেস ক্লাব সভাপতি-সম্পাদকসহ ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব

শেয়ার করুন