ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

ই-কমার্স গ্রাহকের লোভ কমাতে প্রচারণা চালান: হাইকোর্ট

প্রতীকী ছবি

আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘আমাদের দেশে ই-কমার্স ব্যবসার নামে অনেক বেশি ফ্রি অফার থাকে, যা বিদেশি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, অ্যামাজনে থাকে না। আমাদের দেশের গ্রাহকেরা অতি লোভে পড়ে প্রতারণার শিকার হন।’ জবাবে আদালত বলে, ‘…গ্রাহকদের লোভ কমাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালান।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা অফারে লোভে পড়ে গ্রাহকদের প্রতারিত হওয়া ঠেকাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালাতে পরামর্শ দিয়েছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে রোববার ফোনালাপে আড়ি পাতা নিয়ে রিট শুনানির একপর্যায়ে ই-কমার্স প্রসঙ্গও উঠে আসে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। একপর্যায়ে আদালত তার কাছে ই-কমার্স ব্যবসার বিষয়ে জানতে চায়।

তখন শিশির মনির বলেন, ‘আমাদের দেশে ই-কমার্স ব্যবসার নামে অনেক বেশি ফ্রি অফার থাকে, যা বিদেশি প্রতিষ্ঠান আলিবাবা, অ্যামাজনে থাকে না। আমাদের দেশের গ্রাহকেরা অতি লোভে পড়ে প্রতারণার শিকার হন।’

তখন আদালত বলে, ‘হ্যাঁ, আমরা তো দেখি, একটা কিনলে আরেকটা ফ্রি। বিমানের টিকিট কিনলে হোটেল ফ্রি। এ জন্যই গ্রাহকদের লোভ কমাতে জনস্বার্থে প্রচারণা চালান।’

ই-কমার্সে টাকা কীভাবে লেনদেন হয়, আদালতের এমন প্রশ্নে শিশির মনির বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমেই টাকাটা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছে যায়।’

দেশে ই-কমার্স নিয়ে একটা অস্থির সময় যাচ্ছে। গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ ও ধামাকার মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

এর মধ্যে অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রিমান্ডে আছেন ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল ও তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন।

প্রেপ্তার করা হয়েছে ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন, তার স্বামী মাসুকুর রহমান ও প্রতিষ্ঠানের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমানউল্লাহ চৌধুরী ও সাবেক সিওও নাজমুল আলম রাসেলকে।

মামলা হয়েছে ধামাকার মালিকদের বিরুদ্ধেও।

ই-কমার্স নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দেখেন পৃথিবীর সব দেশেই ই-কমার্সের ব্যবসা রয়েছে। এটা জনপ্রিয় একটা সাইট। আমাদের দেশে ই-কমার্স ব্যবসা নতুন। কতিপয় অসাধু ব্যক্তি তাদের অসাধু কার্যকলাপের জন্য ই-কমার্সের ব্যবসা পেছনের দিকে নিয়ে গেল। নতুন একটা ব্যবসায় মানুষজন কাজ করতে পারত। সেটাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়ে ই-কমার্স ব্যবসাটাকে নষ্ট করে ফেলা হলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার জানা মতে ই-কমার্স নিয়ে কোনো আইন হয়নি। এটাকে আইনের আওতাভুক্ত করতে হবে। আমি মনে করি, যারা এ ধরনের ব্যবসা করবে তাদের কাছ থেকে একটা সিকিউরিটি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ে তাদের লাইসেন্স দেবে। সেক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো ধরনের প্রতারণার শিকার হন, তাদেরকে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি মানি থেকে ক্ষতিপূরণ দেয়া যেতে পারে।

‘আর কেউ প্রতারিত হলে সে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করতে পারে। এ ছাড়া, ক্রেতাকে সাবধান হতে হবে। আমি সবাইকে একটা পরামর্শ দেবো, কোনো ধরনের বিনিয়োগ করার আগে, কোনো পণ্য অর্ডার করার আগে দয়া করে করে এর ভালো-মন্দ দিকটা ক্ষতিয়ে দেখে তারপর অর্ডার করবেন।’

ফোনালাপে আড়ি পাতা নিয়ে আদেশ ২৯ সেপ্টেম্বর

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধের নিশ্চয়তা ও ফাঁস হওয়া ঘটনাগুলোর তদন্ত চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর আদেশের জন্য রেখেছে হাইকোর্ট।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ঠিক করে দেয়।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

ফোনালাপে আড়ি পাতা বন্ধ চেয়ে গত ১০ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবী রিটটি করেন।

রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সচিব, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুন এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ দেয়া হয়েছিল। কোনো জবাব না পাওয়ায় রিট করা হয়।

আড়ি পাতার ঘটনা বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বহুল প্রচারিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। অথচ সর্বজনীন মানবাধিকার সনদপত্র, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী পৃথিবীর সব আধুনিক ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার স্বীকৃত ও সংরক্ষিত।

এমনকি বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদে চিঠিপত্র ও যোগাযোগের অন্যান্য উপায়ের গোপনীয়তা সংরক্ষণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ অধিকার সংবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে আরেক মামলা
ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি
ধামাকার বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
গ্রাহকের টাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা

ইভ্যালি নিয়ে বিচারপতি মানিকের কী পরিকল্পনা

আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। ছবি: সংগৃহীত

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণসংক্রান্ত কমিটির প্রধান আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘আমার সঙ্গে আরও চারজন সদস্য আছেন। সবার সঙ্গে আলাপ করে ইভ্যালিকে ভায়াবেল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। যারা এখানে পয়সা ঢেলেছেন তাদের পয়সা ফেরত দেয়ার চেষ্টা করা হবে।’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে হাইকোর্টের গঠন করে দেয়া বিশেষ কমিটির প্রধানের দায়িত্ব পাওয়া আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ভায়াবেল’ তথা কার্যকর করার চেষ্টা করবেন।

বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার ইভ্যালিবিষয়ক পাঁচ সদস্যের একটি গঠন করে দেয়। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, মাহবুবুল করিম, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফখরুদ্দিন আহমেদ ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শামীম আজিজ।

ইভ্যালি নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চাওয়া হয় শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের কাছে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি তো মাত্র দেখলাম খবরটা। এই মুহূর্তে পুরোপুরি মন্তব্য তো দেয়া সম্ভব হবে না। কাগজপত্র দেখতে হবে। তবে এ মুহূর্তে যেটা বলতে পারি তা হলো ইভ্যালিকে ভায়াবেল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা…।

‘আমার সঙ্গে আরও চারজন সদস্য আছেন। সবার সঙ্গে আলাপ করে ইভ্যালিকে ভায়াবেল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। যারা এখানে পয়সা ঢেলেছেন তাদের পয়সা ফেরত দেয়ার চেষ্টা করা হবে।’

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে আরেক মামলা
ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি
ধামাকার বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
গ্রাহকের টাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা নয়

শেয়ার করুন

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি

ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে বিচারপতি মানিকের নেতৃত্বে কমিটি

ইভ্যালির অবসায়ন সংক্রান্ত বিশেষ একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। ছবি: নিউজবাংলা

আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর কোম্পানি আদালতে আবেদন করেছিলাম। সেখানে একটি আবেদন ছিল ইভ্যালি অবসায়নে যাতে একটি কমিটি গঠন করে দেয়। আজকে ওই আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি নিয়ে আদালত একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। ইভ্যালি এখন এই কমিটি দ্বারা পরিচালিত হবে।’

আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ভাগ্য নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে।

বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।

আইনজীবী সৈয়দ মাহসিব হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ইভ্যালির অবসায়ন চেয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর কোম্পানি আদালতে আবেদন করেছিলাম। সেখানে একটি আবেদন ছিল ইভ্যালি অবসায়নে যাতে একটি কমিটি গঠন করে দেয়। আজকে ওই আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানি নিয়ে আদালত একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। ইভ্যালি এখন এই কমিটি দ্বারা পরিচালিত হবে।’

তিনি জানান, এই কমিটির সদস্য থাকবে পাঁচ জন। যার মধ্যে প্রধান করা হয়েছে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে। বাকি চার সদস্য হলেন সাবেক সচিব মো. রেজাউল আহসান, মাহবুবুল করিম, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফখরুদ্দিন আহমেদ ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শামীম আজিজ।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে আরেক মামলা
ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি
ধামাকার বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
গ্রাহকের টাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা নয়

শেয়ার করুন

হিন্দু ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে হামলার নিন্দা এফবিসিসিআই-এর

হিন্দু ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠানে হামলার নিন্দা এফবিসিসিআই-এর

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআই সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সহ প্রশাসন ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিন্দু ব্যবসায়ীদের জানমাল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

হিন্দু ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও হামলার নিন্দা জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি (এফবিসিসিআই)।

রোববার এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নিন্দা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লায় গত বুধবার সকালে পবিত্র কোরআন অবমাননার খবরের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ও সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকটি জেলার হিন্দু ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ীরা তাদের দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার তথ্য জানিয়েছে এফবিসিসিআইকে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন হিসেবে এফবিসিসিআই এ হামলার নিন্দা জানিয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সহ প্রশাসন ও আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিন্দু ব্যবসায়ীদের জানমাল রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জন্মলগ্ন থেকেই অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ। এ দেশে সব সময়ই মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধসহ সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান ও সুসম্পর্ক বিদ্যমান। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব ব্যবসায়ীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই অর্থনৈতিক উন্নয়নের মহাসড়কে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। এফবিসিসিআই দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ভর করেই সব ধর্মের মানুষের যৌথ অবদানে অর্থনৈতিকভাবে আরও সুদৃঢ় অবস্থানে যাবে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে আরেক মামলা
ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি
ধামাকার বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
গ্রাহকের টাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা নয়

শেয়ার করুন

আবার বাড়ছে সয়াবিন তেলের দাম

আবার বাড়ছে সয়াবিন তেলের দাম

এক বছরেরও বেশি সময় ধরেই ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে বিশ্বে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ছবি: নিউজবাংলা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ও চিনি ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, লিটারে বাড়বে ৭ টাকা। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী পরে এই বিষয়টি চূড়ান্ত করবেন। তেলের পাশাপাশি চিনির দামও বাড়বে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

করোনা নিয়ন্ত্রণে আসার পর বেড়ে চলা পণ্যমূল্যের কারণে বিপাকে পড়া মানুষকে আরও বেশি খরচ করতে হবে খাদ্য তৈরিতে। কারণ, খুচরা বাজারে ভোজ্যতেলের দাম আরেক দফা বাড়তে যাচ্ছে।

খোলা ও বোতলজাত উভয় ধরনের সয়াবিনের দাম লিটার প্রতি ৭ টাকা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কত বাড়বে, তার চাবি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির হাতে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে মন্ত্রণালয় যে প্রস্তাব তৈরি করেছে, তাতে এক লিটার খোলা সয়াবিন বাজারে বিক্রি হবে ১৩৬ টাকা। অনুরূপভাবে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন বিক্রি হবে ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম পড়বে ৭৬০ টাকা।

রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ও চিনি ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে প্রাথমিকভাবে প্রস্তাব তৈরি করা হয়। তবে গত ১৪ অক্টোর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক ১০ শতাংশ শুল্ক কমানোর ঘোষণায় চিনির দাম বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

চিনির ওপর আরোপিত শুল্ক ১০ শতাংশ কমানোয় কেজিপ্রতি দাম কমবে সাড়ে তিন টাকা। কিন্তু শুল্ক প্রত্যহারের সুবিধা বাজারে সহসাই পড়বে না। কারণ শুল্ক সুবিধায় যে চিনি আমদানি হবে সে চিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে সময় লাগে আরও দেড় থেকে দুই মাস।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে পণ্যটির কাঁচামালের অব্যাহত দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে দেশে যে চিনি বিক্রি হচ্ছে তার ক্রয়মূল্যও বেশি। ফলে নতুন করে দাম পুনঃনির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সাড়ে তিন টাকা শুল্ক কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া সত্ত্বেও নতুনভাবে চিনির দাম পুনঃনির্ধারণের ক্ষেত্রে সেটি ৮০ টাকার কম হবে না।

এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর লিটারে তেলে দাম বাড়ানো হয় ৪ টাকা। ওই দাম বাজারে কার্যকর হওয়ার পর বর্তমানে বোতলজাত সয়াবিনের দাম নির্ধারিত আছে লিটারপ্রতি ১৫৩ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম ৭২৮ টাকা। প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছিল ১২৯ টাকা।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি) এএইচএম সফিকুজ্জামান বৈঠকে সভাপত্বি করেন। এতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ছাড়াও মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সদস্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এর উত্থাপিত দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে প্রাথমিক সম্মতি দেয়া হয়েছে। তবে দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

মন্ত্রী বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দাম বাড়ানোয় সম্মতিও দিতে পারেন কিংবা সুপারিশকৃত বর্ধিত দাম আরও কিছু সংশোধন করতে পারেন অথবা সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আরও কিছু দিন বর্তমান নির্ধারিত দামেই সয়াবিন তেল বিক্রি করতে ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করতে পারেন।

তবে সেটি কতটা ফলপ্রসূ হবে সেটি নিয়ে যেমন সংশয় রয়েছে। একইভাবে ভোজ্যতেলে শুল্ক না কমালে এবং আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির অবনতি না হলে দাম বাড়ানো ছাড়াও বিকল্প কোনো পথ খোলা থাকবে না। সব কিছু কাল সোমবার পরিষ্কার হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রাথমিক বৈঠকের পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এখন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বসেছেন।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে আরেক মামলা
ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি
ধামাকার বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
গ্রাহকের টাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা নয়

শেয়ার করুন

বিল গেটস-ওয়ারেন বাফেটের সমান সম্পত্তি ইলন মাস্কের

বিল গেটস-ওয়ারেন বাফেটের সমান সম্পত্তি ইলন মাস্কের

চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেফ বেজোসকে ছাড়িয়ে শীর্ষ ধনী হন ইলন মাস্ক। ছবি: সিএনবিসি

সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের ধারেকাছেও নেই বেজোস, গেটস বা বাফেট। তবে ধারণা করা হয়, মানবকল্যাণে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান না করছে সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের অনেক কাছাকাছি থাকতেন গেটস ও বাফেট। অনেক বছর ধরে বিভিন্ন দাতব্য কাজে কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছেন এই দুই ধনকুবের। অন্যদিকে নিজের বিশাল সম্পত্তির ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও দাতব্য কাজে অর্থ ব্যয় করেন না বলে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত মাস্ক।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী হয়েই থেমে নেই ইলন মাস্ক; শীর্ষ ১০ ধনকুবেরের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য দুই ব্যক্তি বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের সম্পত্তির সমপরিমাণের মালিক মাস্ক একাই।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ৫০ বছর বয়সী ইলন মাস্কের সম্পত্তির মূল্য বর্তমানে ২৩ হাজার কোটি ডলার।

বিশ্বের এক সময়ের শীর্ষ দুই ধনী বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেটের সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্যের যোগফল ২৩ হাজার কোটি ডলার।

বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় বর্তমানে চতুর্থ অবস্থানে বিল গেটস ও দশম অবস্থানে ওয়ারেন বাফেট আছেন। মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা গেটসের সম্পত্তির পরিমাণ ১৩ হাজার কোটি ডলার। বার্কশায়ার হ্যাথওয়ের প্রধান নির্বাহী বাফেটের আছে ১০ হাজার কোটি ডলারের সম্পত্তি।

২০১৭ সাল থেকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থানটি ধরে রেখেছিলেন সর্ববৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বেজোসকে ছাড়িয়ে শীর্ষ ধনী হন মাস্ক।

বর্তমানে শীর্ষ ধনীর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বেজোসের সম্পত্তির পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি ডলারের বেশি। অর্থাৎ সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের ধারেকাছেও নেই বেজোস, গেটস বা বাফেট।

তবে ধারণা করা হয়, মানবকল্যাণে বিপুল পরিমাণ অর্থ দান না করছে সম্পত্তির দিক থেকে মাস্কের অনেক কাছাকাছি থাকতেন গেটস ও বাফেট। অনেক বছর ধরে বিভিন্ন দাতব্য কাজে কয়েক হাজার কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছেন এই দুই ধনকুবের।

অন্যদিকে নিজের বিশাল সম্পত্তির ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও দাতব্য কাজে অর্থ ব্যয় করেন না বলে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত মাস্ক। যদিও তার দাবি, দানের বিষয়ে নিজের পরিচয় গোপন রাখতে চান তিনি।

অবশ্য চলতি বছর কার্বণবিরোধী একটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার হিসেবে ১৫ কোটি ডলার দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মাস্ক। তার প্রকাশ্য দাতব্য কর্মসূচির মধ্যে এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অংকের অর্থ।

পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বিদ্যুৎচালিত গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা পুঁজিবাজারে আগের চেয়েও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে যাওয়ায় চলতি বছর মাস্কের ঝুলিতে যোগ হয়েছে ছয় হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পত্তি।

এ ছাড়া পুঁজিবাজারে মাস্কের মালিকানাধীন আরেকটি প্রতিষ্ঠান- মহাকাশযান প্রস্তুতকারক ও মহাকাশযাত্রা সেবাদানকারী স্পেসএক্স সম্প্রতি কিছু শেয়ার বিক্রি করে, যার মূল্য ১০ হাজার কোটি ডলার।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে সাম্প্রতিক চুক্তির মাধ্যমে আরও এক হাজার ১০০ কোটি ডলার যুক্ত হয়েছে স্পেসএক্সের ঝুলিতে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে আরেক মামলা
ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি
ধামাকার বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
গ্রাহকের টাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা নয়

শেয়ার করুন

পেঁয়াজের বাজারে কারসাজি, নিশ্চিত এফবিসিসিআই

পেঁয়াজের বাজারে কারসাজি, নিশ্চিত এফবিসিসিআই

সরকার আমদানি শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেঁয়াজের দাম কমেছে। ফাইল ছবি

পেঁয়াজের দাম কমাতে সরকার দ্রুত আমদানি শুল্ক কমিয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিত্যপণ্যটির দাম কমেছে। হ্রাসকৃত হারে শুল্ক পরিশোধ করা পেঁয়াজ বাজারে আসার আগে দাম কমে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। এই ঘটনাই বলে দেয় পেঁয়াজের বাজারে অস্বাভাবিক কোনো বিষয় রয়েছে বলে জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।

নিত্যপণ্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার পেছনে কারসাজি রয়েছে বলে মনে করে খোদ ব্যবসায়ীদের সংগঠন এফবিসিসিআই।

বিশেষ করে পেঁয়াজের দাম নিয়ে যা ঘটেছে, তার উল্লেখ করে সংগঠনের সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, সরকার আমদানি শুল্ক কমানোর ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে যাওয়াই প্রমাণ করে যে, এই পণ্যের যে বাজারদর ছিল সেটি স্বাভাবিক ছিল না।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে কারসাজিতে জড়িত অল্প কয়েকজন ব্যবসায়ী। অর্থনীতি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য দূরীকরণে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখার পরেও, কয়েকজনের জন্য পুরো ব্যবসায়ী সমাজের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে।

রোববার রাজধানীর এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মজুদ, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি’ বিষয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী নেতারা।

পেঁয়াজের বাজারে কারসাজি, নিশ্চিত এফবিসিসিআই

এফবিসিসিআই কার্যালয়ে ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর মজুদ, আমদানি, সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি’ বিষয়ে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী নেতারা। ছবি: নিউজবাংলা

গত দুই বছর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর বাংলাদেশে পণ্যটির দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। ২০১৯ সালে কেজি প্রতি পেঁয়াজ বিক্রি হয় দুইশ থেকে আড়াইশ টাকায়। ২০২০ সালে দাম অতটা না বাড়লেও কেজিতে ১২০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

এবারও অক্টোবরের শুরুতে এক সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। ভারত আবার রপ্তানি বন্ধ করে দেবে, এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর এই ঘটনা ঘটে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে পরে নিশ্চিত করা হয় এবার নিষেধাজ্ঞা আসছে না আর এরপর পণ্যটির দাম কমতে শুরু করে।

পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ওপর আলোচনা করতে গিয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম কমাতে সরকার দ্রুত আমদানি শুল্ক কমিয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের কয়েক ঘন্টার মধ্যে পণ্যটির দাম কমেছে। হ্রাসকৃত হারে শুল্ক পরিশোধ করা পেঁয়াজ বাজারে আসার আগে দাম কমে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। এই ঘটনাই বলে দেয় পেঁয়াজের বাজারে অস্বাভাবিক কোনো বিষয় রয়েছে।’

নিত্যপণ্য বিক্রিতে অস্বাভাবিক মুনাফা হচ্ছে-এই অভিযোগও করেন জসিম উদ্দিন। বলেন, ‘শ্যামবাজারে এক আড়ত থেকে আরেক আড়তে ভিন্ন ভিন্ন দামে পেঁয়াজ পাইকারি বিক্রি হয়। আবার খুচরা বাজারেও এক বাজার থেকে আরেক বাজারে দামের পার্থক্য কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। এই অবস্থা অস্বাভাবিক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ব্যবসা করব, কিন্তু এমন কিছু করব না, যাতে পুরো ব্যবসায়ী সমাজের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

আলোচনায় পেঁয়াজের আড়তদার ও আমদানিকারকরা দাম বৃদ্ধি ও কমার পেছনে নানা যুক্তি দেন। পেঁয়াজ পরিবহনে চাঁদাবাজি, ভারতে বৃষ্টি এবং সরকারের বেঁধে দেয়া দামের চেয়ে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল দেয়ার কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম বেড়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, ‘দোকানিদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল নেয়ার কাজ মালিক সমিতির নয়। এ দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির।’

এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন এফবিসিসিআই সভাপতি। ব্যবসায়ীদের এমন আরও কোনো সমস্যা থাকলে তা এফবিসিসিআইকে জানানোর আহ্বানও জানান।

এক সপ্তাহের মধ্যে এফবিসিসিআই'র স্ট্যান্ডিং কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে সভাপতি বলেন, ‘কমিটিগুলো ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করবে।’

সংগঠনের সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, আমিনুল হক শামীম, হাবিব উল্লাহ ডন, পরিচালক ও সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রেজনুসহ অন্যান্য পরিচালক এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রধান নির্বার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহফুজুল হকও এতে বক্তব্য রাখেন।

চাল ও পেঁয়াজের আমদানিকারক, আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি ও রাজধানীর বিভিন্ন বাজার সমিতির ব্যবসায়ী নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে আরেক মামলা
ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি
ধামাকার বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
গ্রাহকের টাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা নয়

শেয়ার করুন

ই-কমার্স: গেটওয়েতে আটকা টাকা ফেরত দিতে আইনি নোটিশ

ই-কমার্স: গেটওয়েতে আটকা টাকা ফেরত দিতে আইনি নোটিশ

ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)। ছবি: সংগৃহীত

কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটির নোটিশে ই-কমার্সে অর্ডার করেছেন কিন্তু পণ্য পাননি এমন গ্রাহকদের অর্থ কেন ফেরত দেয়া হবে না তা আগামী সাত দিনের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ই-কমার্সে পেমেন্টের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত নিয়ম (এস্ক্রো সিস্টেম) সংশোধন করে গ্রাহকের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাওয়ার স্থায়ী পদ্ধতি কেন চালু করা হবে না তা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে পণ্য কিনতে গিয়ে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা গ্রাহকদের ফেরত দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সাত প্রতিষ্ঠানের দশ কর্তাব্যক্তিকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘কনশাস কনজ্যুমার্স সোসাইটি’ (সিসিএস)।

শনিবার সিসিএস এর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাবরিনা জারিন ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান।

নোটিশে ই-কমার্সে অর্ডার করেছেন কিন্তু পণ্য পাননি এমন গ্রাহকদের অর্থ কেন ফেরত দেয়া হবে না তা আগামী সাত দিনের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে ই-কমার্সে পেমেন্টের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত নিয়ম (এস্ক্রো সিস্টেম) সংশোধন করে গ্রাহকের টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত পাওয়ার স্থায়ী পদ্ধতি কেন চালু করা হবে না তা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে।

এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও ব্যাংকটির পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও একই মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ ও নগদ, পেমেন্ট গেটওয়ে এসএসএল ওয়্যারলেস, ফোস্টার পে এবং সূর্য পে- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সিসিএস এর আইনজীবী ব্যারিস্টার সাবরিনা জারিন বলেন, ‘আমরা সিসিএস থেকে প্রায় সাড়ে তিন’শ ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছি। এস্ক্রোতে টাকা আটকে থাকা নিয়ে বেশ জটিলতা হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। লিগ্যাল নোটিশের পর আদালতে যাওয়া হবে।

সিসিএস এর নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, ‘এস্ক্রো সিস্টেমে গ্রাহকের টাকা আটকে আছে। এখন গেটওয়েগুলো বলছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বা সরকারের অনুমতি লাগবে। কিন্তু আমার টাকা আমি ফেরত পেতে কেন ই-কমার্সের অনুমতির জন্য আটকে থাকতে হবে? হাজার হাজার ভোক্তার কোটি কোটি টাকা আটকে থাকছে। এটা নিয়ে একটু সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার। এজন্য আইনি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ই-কমার্সে কোনো গ্রাহক পণ্যের অর্ডার দিলে তার টাকা বর্তমানে পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকে। পণ্য ডেলিভারি হওয়ার পর প্রমাণ জমা দিয়ে সেই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান টাকা ছাড় পান। গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ থেকে এক নির্দেশনায় এ পদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু গ্রাহক পণ্য না পেলেও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়া টাকা ফেরত পান না। ফলে গ্রাহকের টাকা আটকে থাকছে। এ পদ্ধতি চালু হওয়ার পর থেকে ইতিমধ্যে গ্রাহকের কয়েক’শ কোটি টাকা গেটওয়েগুলোতে আটকে আছে।

আরও পড়ুন:
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার নামে আরেক মামলা
ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে আরেক মামলা
ইভ্যালির মতো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিবি
ধামাকার বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা
গ্রাহকের টাকা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে জমা নয়

শেয়ার করুন