পুলিশ ইন্সপেক্টর মামুন হত্যা: ফারিয়ার আত্মসমর্পণ

পুলিশ ইন্সপেক্টর মামুন হত্যা: ফারিয়ার আত্মসমর্পণ

প্রতীকী ছবি

এ মামলায় ফারিয়া বিনতে মীমকে গত বছরের ১১ অক্টোবর জামিন দেয় হাইকোর্ট। এরপর কারাগার থেকে মুক্তি মিলে। তবে এ জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তার জামিন স্থগিত করে।

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশে পুলিশের ইন্সপেক্টর মামুন ইমরান খান হত্যা মামলার আসামি ফারিয়া বিনতে মিম ওরফে মাইশা আত্মসমর্পণ করেছেন।

বিচারিক আদালকে আসামি ফারিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে রোববার আপিল বিভাগে জানান তার আইনজীবী শেখ মুশফিক উদ্দিন বখতিয়ার।

পরে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানির জন্য ২৬ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করে দেয়।

মামলা থেকে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৮ জুলাই রাতে বনানীর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ভিকটিম মামুন ইমরান খানকে ডেকে এনে মারধর করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ১০ জুলাই গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন উলখোলার বাইরদিয়া রাস্তার পাশের বাঁশের ঝোপে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

ওই ঘটনায় ১০ জুলাই নিহতের ভাই জাহাঙ্গীর আলম খান বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা করেন। একই বছরের ১৮ জুলাই দিনগত রাতে রাজধানীর বাড্ডা ও হাজারীবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে রহমত উল্লাহ নামে আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, মামুন ইমরান খান টেলিভিশনের বিভিন্ন ক্রাইম সিরিয়ালেও অভিনয় করতেন। রহমতউল্লাকে তার বাসায় জন্মদিনের দাওয়াত দেন আসামি আফরিন।

রহমতউল্লাহ ওই অনুষ্ঠানে পুলিশ বন্ধু মামুনকেও যাওয়ার অনুরোধ করেন। আর সেই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়েই খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা মামুন।

এরপর তার মরদেহ গুম করতে বস্তায় ভরে রাজেন্দ্রপুর ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কালীগঞ্জের জঙ্গলে পেট্রোল দিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়।

ওই বছরের ১০ জুলাই বাসায় ফেরার সঙ্গে সঙ্গে রহমতউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। পরে তার দেয়া তথ্যানুযায়ী তিন নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামুন ইমরান খানের গ্রামের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার কলাকুপা এলাকায়। তিনি ২০০৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন।

এ মামলায় ফারিয়া বিনতে মীমকে গত বছরের ১১ অক্টোবর জামিন দেয় হাইকোর্ট। এরপর কারাগার থেকে মুক্তি মিলে। তবে এ জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তার জামিন স্থগিত করে।

এই অবস্থায় ২৬ আগস্ট ফারিয়া নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে বিষয়টি শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ওঠে।

আরও পড়ুন:
স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাসে ডাকাতের আত্মসমর্পণ  
সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে হাতকড়ার বদলে ফুল  
টাকা আত্মসাৎ: বিআইএফসির দুই কর্মকর্তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
২৩ মামলার আসামির আত্মসমর্পণ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি সিপিবির

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি সিপিবির

সাম্প্রদায়িক হামলাকারী ও মদদদাতাদের শাস্তির দাবিতে সিপিবি শনিবার চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ছবি: নিউজবাংলা

সিপিবি নেতা মৃণাল চৌধুরী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসন, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত; হামলাকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার-বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

চট্টগ্রাম নগরীর সিনেমা প্যালেস চত্বরে শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সাম্প্রদায়িক হামলা, খুন-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ এবং হামলাকারী ও মদদদাতাদের শাস্তির দাবিতে সিপিবি বন্দরনগরীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে।

সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল নবী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃণাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অশোক সাহা, সহকারী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক উত্তম চৌধুরী, মছি উদ দৌলা, কানাই লাল দাশ, নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া, অমৃত বড়ুয়াসহ অনেকে।

মৃণাল চৌধুরী বলেন, ‘১৩ অক্টোবর থেকে কুমিল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার অভিযোগ তুলে চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, নাটোর, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। প্রায় সবক্ষেত্রেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা, নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার প্রমাণ রয়েছে। যা সরকারের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছাড়া সম্ভব না।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনায় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ব্যক্তিকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্ত করে অভিযুুক্তকে গ্রেপ্তারের আগেই নেশাগ্রস্ত, পাগল ইত্যাদি অভিধা দিয়ে ঘটনাকে লঘু করার চক্রান্ত চলছে।’

সিপিবি নেতা মৃণাল চৌধুরী বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসন, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত; হামলাকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার-বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।

সিপিবির চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল নবী বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সব ধর্ম ও জাতির মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে ছেদ ঘটিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে।

‘স্বাধীনতা-উত্তর গত ৫০ বছরে সব সরকারই ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় থাকা বা যাওয়ার নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে বিসর্জন দিয়েছে। একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ শাসন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক হানাহানির দেশে পরিণত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে রামু, নাসিরনগর, পাবনার সাঁথিয়া, বাঁশখালী, গোবিন্দগঞ্জ, রংপুর, সুনামগঞ্জের শাল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে ও নানা মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় ও জাতিগত নিপীড়ন ও হামলা হয়েছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তাদের দলীয় লোকজনই প্রধানত এসব সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িত ও নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।

‘বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে হামলায় আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যার কোনোটিরই বিচার হয়নি। শাসকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে। বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কুমিল্লা-হাজীগঞ্জের ঘটনা তার সর্বশেষ প্রমাণ।’

সিপিবি নেতা আবদুল নবী বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনাকে পূঁজি করে ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি, আরএসএস সে দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের পাঁয়তারা করছে এবং ভোটের রাজনীতিতে ফায়দা লুটতে চাইছে। ত্রিপুরায় এরই মধ্যে মসজিদে হামলাও হয়েছে।

‘ভারত ও বাংলাদেশের বামপন্থি শক্তি ও শান্তিপ্রিয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি। ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ-প্রতিরোধের শক্তিই সাম্প্রদায়িকতাকে উপমহাদেশ থেকে নির্মূল করতে পারে।’

আরও পড়ুন:
স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাসে ডাকাতের আত্মসমর্পণ  
সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে হাতকড়ার বদলে ফুল  
টাকা আত্মসাৎ: বিআইএফসির দুই কর্মকর্তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
২৩ মামলার আসামির আত্মসমর্পণ

শেয়ার করুন

‘ভবঘুরে-উন্মাদ’ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

‘ভবঘুরে-উন্মাদ’ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

কুমিল্লার চকবাজার এলাকায় শনিবার মন্দির পরিদর্শন শেষে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: নিউজবাংলা

গয়েশ্বর বলেন, ‘জামায়াতকে দিনে দেখা যায় না, রাতেও দেখা যায় না, তারা কীভাবে হামলা-ভাঙচুর করতে পারে। হিন্দু-মুসলমানকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। না হয় ইন্ধনদাতাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না সরকার?’

ইকবালকে ‘ভবঘুরে ও উন্মাদ’ দাবি করে তাকে ইন্ধন দিল কারা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘ইকবাল ভবঘুরে-উন্মাদ, রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে। কারা তাকে ইন্ধন দিল, সেটা খুঁজে বের করতে হবে।’

শনিবার কুমিল্লা নগরীর চকবাজার এলাকার শ্রীশ্রী চাঁন্দমনি রক্ষাকালী মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি এ বক্তব্য দেন।

গয়েশ্বর বলেন, ‘নানুয়ার দিঘির পাড়ের ঘটনার পর সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লায় কিছু অপরিচিত যুবক বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা-লুটপাট করে। অথচ পুলিশ মামলা দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের।

‘জামায়াতকে দিনে দেখা যায় না, রাতেও দেখা যায় না, তারা কীভাবে হামলা-ভাঙচুর করতে পারে। হিন্দু-মুসলমানকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। না হয় ইন্ধনদাতাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না সরকার?’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অজয় রায় চৌধুরী, গৌতম রায়, দেবাশীষ চৌধুরী, অমলেন্দু দাস, সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাসে ডাকাতের আত্মসমর্পণ  
সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে হাতকড়ার বদলে ফুল  
টাকা আত্মসাৎ: বিআইএফসির দুই কর্মকর্তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
২৩ মামলার আসামির আত্মসমর্পণ

শেয়ার করুন

‘এটা কোনো দলের দেশ হতে পারে না’

‘এটা কোনো দলের দেশ হতে পারে না’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) বাহাত্তরের সংবিধানের কথা বলে। বাহাত্তরের সংবিধানে জরুরি অবস্থা জারির কোনো বিধান ছিল না। সে বিধান তারাই সংবিধানে যুক্ত করেছে এবং তারাই প্রথম জরুরি অবস্থা জারি করেছে।’

‘বাংলাদেশকে যেভাবে দলীয় দেশে পরিণত করা হয়েছে, এর থেকে আমাদের মুক্ত করতে হবে। এটা কোনো বিশেষ দলের দেশ হতে পারে না। এটা বাংলাদেশের নাগরিকদের দেশ বানাতে হবে।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে শনিবার জাতীয় মানবাধিকার সমিতি আয়োজিত ‘একটি ভোরের প্রতীক্ষায়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ‘সে রকম একটা দেশ বানাতে হলে জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার আদর্শে উদ্দীপ্ত হয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে লড়াই করতে হবে।’

বইটি সংকলন করেছেন লন্ডনপ্রবাসী ডা. আব্দুল আজিজ ও সায়েক এম রহমান। বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) বাহাত্তরের সংবিধানের কথা বলে। বাহাত্তরের সংবিধানে জরুরি অবস্থা জারির কোনো বিধান ছিল না। সে বিধান তারাই সংবিধানে যুক্ত করেছে এবং তারাই প্রথম জরুরি অবস্থা জারি করেছে। তারা আজকে ইনডেমনিটির কথা বলে, ইনডেমনিটি তো তারাই প্রথম রক্ষীবাহিনীকে দায়মুক্তি দেয়ার জন্য করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘তথাকথিত এক-এগারোর সরকারের সাংবিধানিক কোনো ভিত্তি ছিল না। একটা তত্ত্বাধায়ক সরকার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করবে। সেই ৯০ দিন প্রায় শেষ, সেই সময় নতুন একটা সরকার, তারা ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে পারবে না, এটা জানা সত্ত্বেও তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কে গিয়েছিল? বিএনপি তো যায়নি, আওয়ামী লীগ এবং তাদের সাথিরা গিয়েছিল।

‘সেই সরকার যে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল, সেই জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৮ সালে নির্বাচন করতে রাজি ছিল আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোটের সাথিরা। একমাত্র খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার না করলে আমি নির্বাচনে যাব না। তার দাবির মুখে জরুরি অবস্থা বাতিল করতে হয়েছে, মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার বারবার ফিরিয়ে দিয়েছে বিএনপি। এবারও ইনশাল্লাহ ফিরিয়ে দেবে।’

নজরুল বলেন, ‘একসময় আওয়ামী লীগ সব দলকে বাতিল করে দিয়েছিল। এখন আইন করে দল বাতিল করে নাই, কিন্তু কোনো দলকে কাজ করতে দেয়া হয় না।’

জাতীয় মানবাধিকার সমিতির উপদেষ্টা ফয়সল মাহমুদ ফয়জীর সভাপতিত্বে ও মঞ্জুর হোসেন ইসার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, ছাত্রদল নেতা ইসহাক সরকার ও মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম সেকুল।

আরও পড়ুন:
স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাসে ডাকাতের আত্মসমর্পণ  
সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে হাতকড়ার বদলে ফুল  
টাকা আত্মসাৎ: বিআইএফসির দুই কর্মকর্তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
২৩ মামলার আসামির আত্মসমর্পণ

শেয়ার করুন

প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জনদুর্ভোগ যেন না হয়: তথ্যমন্ত্রী

প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জনদুর্ভোগ যেন না হয়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সহিংসতার ঘটনাগুলো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, যা আমাদের চেতনার বেদিমূলে আঘাত করেছে। আমরাও এর প্রতিবাদ জানাই ও প্রতিকারে সচেষ্ট। সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও কোথাও কোথাও রাস্তা অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। তবে রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জনগণ যেন ভোগান্তির শিকার না হয়।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জনদুর্ভোগ যাতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সরকারি বাসভবনে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও কোথাও কোথাও রাস্তা অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। সহিংসতার ঘটনাগুলো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, যা আমাদের চেতনার বেদিমূলে আঘাত করেছে। আমরাও এর প্রতিবাদ জানাই ও প্রতিকারে সচেষ্ট।

‘তবে রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জনগণ যেন ভোগান্তির শিকার না হয়। আবেগতাড়িত হলেও যেন কারও বক্তব্য বাস্তবতাবিবর্জিত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।’

বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবের কথা শুনে মনে হয়, কুমিল্লার ঘটনা কীভাবে ঘটানো হয়েছে, তা তাকে জিজ্ঞাসা করলেই ভালো জানা যাবে। প্রথম থেকেই তার বক্তব্যের ধরন- ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না।

‘এখন মনে হচ্ছে ইকবালকে কারা কক্সবাজারে পাঠিয়েছে, তা তিনি জানেন। যারা এ ঘটনায় ইন্ধন দিয়েছে, তারাই ইকবালকে কক্সবাজার পাঠিয়েছে। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনা ঘটিয়ে আবার বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্যই এসব ঘটনা। সরকার ঘটনার পরপরই কঠোর ও দ্রুততম ব্যবস্থা নিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। আর বিএনপি-জামায়াতসহ ধর্মান্ধ গোষ্ঠী যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা ক্রমাগত মিথ্যাচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

‘ঘটনার পর এক শর বেশি মামলা হয়েছে, কয়েক শ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূজামণ্ডপে যে কোরআন শরিফ রেখে এসেছিল, তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে বাকি তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

মন্ত্রী জানান, স্বল্পতম সময়ে পীরগঞ্জে পোড়া ঘরগুলো মেরামত, নতুন ঘর নির্মাণ এবং সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ এবং খাদ্যসহায়তা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাসে ডাকাতের আত্মসমর্পণ  
সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে হাতকড়ার বদলে ফুল  
টাকা আত্মসাৎ: বিআইএফসির দুই কর্মকর্তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
২৩ মামলার আসামির আত্মসমর্পণ

শেয়ার করুন

দেশ চালাচ্ছে ‘অদৃশ্য শক্তি’: ফখরুল

দেশ চালাচ্ছে ‘অদৃশ্য শক্তি’: ফখরুল

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অলি আহাদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সারভেইলেন্সটা এবং এই অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা এত গভীরে চলে গেছে যে তারা এ দেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ দেশের সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ রকম একটা অবস্থার মধ্যে আমরা গণতন্ত্রের লড়াইটা করছি।’

এক ‘অদৃশ্য শক্তি’ দেশ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “প্রতি মুহূর্তে প্রতিক্ষণে আমাদের ওপর খবরদারি করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে আমি নিচে জাতীয় প্রেস ক্লাবের লাউঞ্জে চা খাচ্ছিলাম। আজকে আওয়ামী ঘরানার সাংবাদিকদের একটা নির্বাচন হচ্ছে। আওয়ামী ঘরানার এক সাংবাদিক বললেন যে অদ্ভুত কাণ্ড, এই আমরা সবাই তো আওয়ামী ঘরানার। আমাদের কাছে মেসেজ আসতে শুরু করেছে ‘অদৃশ্য জায়গা’ থেকে যে অমুককে ভোট দিতে হবে, অমুককে ভোট দিতে হবে।”

ফখরুল বলেন, ‘সারভেইলেন্সটা এবং এই অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা এত গভীরে চলে গেছে যে তারা এ দেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ দেশের সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ রকম একটা অবস্থার মধ্যে আমরা গণতন্ত্রের লড়াইটা করছি।’

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রয়াত রাজনীতিক অলি আহাদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অংশগ্রহণে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা (বিএনপি) তো লড়ছি। আমরা আপনাদের কাছে এইটুকু আশা করব, এই লড়াইয়ে একটা ইস্যুতে অর্থাৎ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, সেই লড়াইয়ে আসুন আমরা একসঙ্গে আসি। লেট আস ফাইট টুগেদার। আমরা একসঙ্গে লড়াইটা করি এবং দেশকে এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে আসি। এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

তিনি বলেন, ‘এরপরে যার সেটা বোঝাপড়া তারা সেটা করে নেবেন। অন্তত একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমরা ফিরে আসি।’

প্রয়াত রাজনীতিক অলি আহাদের মেয়ে বিএনপিদলীয় সাংসদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

আরও পড়ুন:
স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাসে ডাকাতের আত্মসমর্পণ  
সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে হাতকড়ার বদলে ফুল  
টাকা আত্মসাৎ: বিআইএফসির দুই কর্মকর্তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
২৩ মামলার আসামির আত্মসমর্পণ

শেয়ার করুন

‘সরকারের কাছে একটা বালিশের দাম ২২ হাজার টাকা’

‘সরকারের কাছে একটা বালিশের দাম ২২ হাজার টাকা’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ডের বিষয়টি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করবে না কেন। ওরা একটা বালিশের দাম নেয় ২২ হাজার টাকা। এই দুর্নীতি এবং তাদের পকেট ভারী করার জন্যই দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, চাল…এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী। বলেছেন, সরকারের দুর্নীতির কারণেই বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম।

দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ডের বিষয়টি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করবে না কেন। ওরা একটা বালিশের দাম নেয় ২২ হাজার টাকা। এই দুর্নীতি এবং তাদের পকেট ভারী করার জন্যই দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, চাল…এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা। তার দাবি, এ ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত।

রিজভী বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত, এ কথা আগেও বলেছি। আমি যে কথাগুলো বলছি এটা বিএনপির কোনো বক্তব্য না। আজকে গণমাধ্যমগুলোতে সরকারের চাপের মুখেও সত্য কথা বেরিয়ে আসছে। সরকার নিজেদের স্বার্থের জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লা, হাজীগঞ্জ, রংপুর, চট্টগ্রাম প্রতিটি জায়গায় আওয়ামী লীগ নিশ্চুপ ছিল। পত্রপত্রিকায় এসেছে যেদিন সকালে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ওসি সাহেব গেলেন উনি পূজামণ্ডপ থেকে কোরআন শরীফ তুললেন, উনি কেন এতক্ষণ মিডিয়ার সামনে ধরে রাখলেন। প্রত্যেকটাতে প্রমাণিত হয় এটি পরিকল্পিত। এটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের বহির্বিশ্বে যে সুনাম রয়েছে তা এই সরকার বিনষ্ট করেছে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাসে ডাকাতের আত্মসমর্পণ  
সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে হাতকড়ার বদলে ফুল  
টাকা আত্মসাৎ: বিআইএফসির দুই কর্মকর্তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
২৩ মামলার আসামির আত্মসমর্পণ

শেয়ার করুন

মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল

মানুষ কী খাবে সরকারের খেয়াল নেই: ফখরুল

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা কথা দিয়েছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। এখন চাল খাওয়াচ্ছে ৭০ টাকায়। এক সপ্তাহের মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে, লবণের দাম বেড়েছে, সবজির দাম বেড়েছে, ডালের দাম বেড়েছে। মানুষ কী খাবে সেদিকে সরকারের খেয়াল নাই। তারা খেতে পারলেই হলো।’

দেশ পরিচালনা করতে আওয়ামী লীগ সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, এই সরকার মানুষের খাওয়া-পরার দাম কমাতে পারে না; জনগণ কী খেয়ে বাঁচবে তাতেও খেয়াল নেই।

দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা কথা দিয়েছিল ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে। এখন চাল খাওয়াচ্ছে ৭০ টাকায়। এক সপ্তাহের মধ্যে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। চিনির দাম বেড়েছে, লবণের দাম বেড়েছে, সবজির দাম বেড়েছে, ডালের দাম বেড়েছে। মানুষ কী খাবে সেদিকে সরকারের খেয়াল নাই।

‘তারা খেতে পারলেই হলো। আওয়ামী লীগ খাবে পেট মোটা করবে, শরীর মোটা করবে আর দুর্নীতি করে বিদেশে টাকা পাচার করে বিদেশে বাড়িঘর তৈরি করবে। অর্থাৎ এই সরকার দেশ পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিবের মতে, এই সরকার একদিকে যেমন নিত্য পণ্যের দাম কমাতে ব্যর্থ হয়েছে, গরীব মানুষকে অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান দিতে ব্যর্থ হয়েছে অন্যদিকে দেশে সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে পুলিশ প্রশাসন দিয়ে পুজামণ্ডপে কোনো প্রকার নিরাপত্তা দেয়া হয় না এবং সরকারের মদদেই এই সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। এর একটাই কারণ, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে মানুষের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। এই সরকার মানুষের অধিকারগুলোকে হরণ করছে; ধ্বংস করে দিচ্ছে।

মানুষ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মানুষ এখন তাদের অধিকার চায়, ভোটের অধিকার চায়, দেশনেত্রীকে মুক্ত দেখতে চায়, আমাদের ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে যে মামলা তা প্রত্যাহার চায়, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা তা প্রত্যাহার চায়।

‘আমাদের মনে রাখতে হবে কেন আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম, একটা স্বাধীন গণতান্ত্রিক মুক্ত বাংলাদেশের জন্য। সেই বাংলাদেশকে এই সরকার ধ্বংস করেছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে। তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল গঠন করতে চায়। আমরা পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই, অবিলম্বে গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তার বিরুদ্ধে থাকা সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। চাল, ডাল ও তেলের দাম কমাতে হবে।’

সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সরকারকে বলব, দয়া করে মানুষের ওপর অত্যাচার বন্ধ করে অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের কাছে দায়িত্ব দিন, যারা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
স্বাভাবিক জীবনের আশ্বাসে ডাকাতের আত্মসমর্পণ  
সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে হাতকড়ার বদলে ফুল  
টাকা আত্মসাৎ: বিআইএফসির দুই কর্মকর্তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
২৩ মামলার আসামির আত্মসমর্পণ

শেয়ার করুন