‘ছাত্রলীগের কারণে শয্যাশায়ী, তারাই ফোন ধরে না’

‘ছাত্রলীগের কারণে শয্যাশায়ী, তারাই ফোন ধরে না’

অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসাইন। ছবি: নিউজবাংলা

ছাত্রলীগের শয্যাশায়ী উপ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসাইনের মা পারুল বেগম বলেন, ‘নেতাগো ম্যালাবার মোবাইল করছি। তারা ফোন ধরে নাই। এরা যদি একটু সহযোগিতা করত, তাইলে এরে লইয়া আমি আর দেশে আইতাম না, ঢাকায় অর চিকিৎসা করাইতাম। ওরা যেহেতু ফোন ধরে নাই, আমি ত আর একা কুলাইতে পারমু না। তাই তারে দেশে লইয়া আইছি।’

‘অনেক আশা-ভরসা করে ছেলেডারে ঢাহা ভার্সিটিতে পড়াইতে পাডাইছি। আশা ছিল, ছেলেডা পড়া লেহা করবে, চাকরি-বাকরি ধরবে। কিন্তু পোলাডা এমন নেতাগো পাছে পড়ল, এই নেতারাই অরে শেষ কইরা দিলো।'

শয্যাশায়ী ছেলের পাশে বসে মোবাইল ফোনে নিউজবাংলাকে কথাগুলো বলছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মেশকাত হোসাইনের মা পারুল বেগম।

চার দিন ধরে গুরুতর অসুস্থ ছাত্রলীগের মেশকাত হোসাইন। ছেলের অসুস্থতায় সহযোগিতার জন্য ছাত্রলীগ সভাপতিকে ফোন দিয়েও সাড়া মেলেনি। বাধ্য হয়ে ছেলেকে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর নিয়ে যায় মা পারুল বেগম।

আক্ষেপ করে নিউজবাংলাকে পারুল বেগম বলেন, ‘নেতাগো ম্যালাবার মোবাইল করছি। তারা ফোন ধরে নাই। এরা যদি একটু সহযোগিতা করত, তাইলে এরে লইয়া আমি আর দেশে আইতাম না, ঢাকায় অর চিকিৎসা করাইতাম। ওরা যেহেতু ফোন ধরে নাই, আমি ত আর একা কুলাইতে পারমু না। তাই তারে দেশে লইয়া আইছি।’

পারুল বেগম আরও বলেন, ‘ঢাহা থেইকা আহনের সময় পোলার যে অবস্থা হইয়া গেছিল, মনে করছি ঐহানেই তারে থুইয়া আহা লাগবে। জাগায় জাগায় নেতাগো মোবাইল করছি। তারা ফোন ধরে নাই।’

এখন মেশকাত হোসেনের কী অবস্থা জানতে চাইলে মা পারুল বেগম বলেন, ‘স্যালাইন দিছি, গিরায় গিরায় বল-শক্তি পায় না। একছের বমি করে। কোনো কিছু খাইতে-লতেই পারে না। এহন স্যালাইন দিছি, ঘুমের ওষুধ খাওয়াইয়া ঘুম লওয়াইতেছি।’

মেশকাত কী রোগে ভুগছেন, জানতে চাইলে তার মা জানান, ডাক্তার কিছু বলছে না। তার শরীরে হারের জোড়ায় জোড়ায় প্রচণ্ড ব্যথা। কিছু খেতে পারেন না। বিছানা থেকেও উঠতে পারে না।

গুরুতর অসুস্থ অথচ নিজ দলের কেন্দ্রীয় দুই নেতা কোনো খোঁজ না নেয়ার অভিযোগ ছাত্রলীগের উপ-প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক মেশকাতের। ক্ষোভে-দুঃখে মাকে মেশকাত অনুরোধ করেন যেন তার মৃত্যুর পর ছাত্রলীগ থেকে কোনো দোয়ার আয়োজন না করা হয়, প্রেস রিলিজ না দেয়া হয়। এ ছাড়া ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যেন তার জানাজায় না আসেন।

এ নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক থেকে পোস্টও দেন মেশকাত। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনটা নিভু নিভু, আল্লাহর কাছে স্বাভাবিক মৃত্যু কামনা করছিলাম। গত ১৪ তারিখে আমি খুবই অসুস্থ হয়ে পড়ি। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বারবার ফোন দিই কিছু একটা করার জন্য, কিন্তু তারা ফোন ধরেননি। এতে বুঝা যায়, আমরা মরলেও তাদের সমস্যা নাই।’

আক্ষেপ করে মেশকাত বলেন, ‘জীবনে যেই পার্টির জন্য এত সময় ব্যয় করলাম, সেই পার্টি আমার অসুস্থতারও খোঁজ নিতে পারে না। তারা খোঁজ নিত যদি তাদের দালালি করতাম। যাই হোক, আমার প্রতিবাদ থেমে গেলেও তৃণমূলের কোনো না কোনো কর্মী প্রতিবাদের কলম হাতে তুলে নেবে আশা রাখি।’

মেশকাতের এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গত দুই মাসে আমার ফোনে মেশকাতের কোনো কলই আসেনি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনেকেই অসুস্থ থাকে। সবার খোঁজখবর নিয়েছি। ওর (মেশকাত) খোঁজ নেব না কেন! খোঁজ নিতে হলে তো সে যে অসুস্থ সেটি আমার জানা লাগবে।’

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের এমন দাবির বিষয়টি স্বীকারও করেন মেশকাত হোসাইন। তিনি বলেন, ‘সভাপতিকে ফোন দেয়া মানেই দুজনকেই ফোন দেয়া। জয় ভাইকে ফোন দিয়েও যেখানে তিনি ফোন ধরেননি, লেখক ভট্টাচার্য তো আমার ফোন ধরবেই না। কারণ এই লেখক ভট্টাচার্যই মধুর ক্যান্টিনে বসে আমাকে বলেছে, সে আমার রাজনীতি খেয়ে দেবে।’

মেশকাত বলেন, ‘প্রথম যেদিন অসুস্থ হয়েছিলাম, তখন ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসা না পেয়ে জয় ভাইকে অনেকবার ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি। যে সংগঠনের জন্য এত কিছু করলাম, সে সংগঠনের সভাপতি আমার ফোন ধরে না।’

কথাগুলো বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মেশকাত হোসেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠেই তিনি বলেন, ‘এই সংগঠনের জন্যই আমি অসুস্থ হয়েছি। না খেয়ে সারা দিন মধুর ক্যান্টিনে বসে ছিলাম। এ জন্যই আজকে আমার এই অসুস্থতা। আমি সংগঠনের ভুলত্রুটি নিয়ে লেখালেখি করি দেখেই তারা দুজন আমাকে শেষ করে দিচ্ছে। এই পার্টির জন্যই আমার পরিবার আর আমি শেষ হয়ে গেলাম।’

ফোন না ধরার বিষয়ে জানতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে ফোন না ধরার অভিযোগটি নতুন নয়। ফোন রিসিভ না করায় অনেক কেন্দ্রীয় নেতাও এই নেতার ওপর ক্ষুব্ধ।

আরও পড়ুন:
লেখকের জন্মদিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজন
সেপ্টেম্বরেই ঢাবি খোলার প্রস্তাব ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগ নয়, গণরুমের দায় প্রশাসনের: সাদ্দাম
‘হা হা’ রিঅ্যাক্টে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর: আটক হয়নি কেউ
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা

জোট নয়, এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায় জাপা

জাতীয় পার্টির আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ৩১ বছর ধরে বিরোধী দলে। পার্টির জন্য এতদিন ধরে যারা কাজ করছেন তারা পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী। তাদের নিয়ে দলের চেয়ারম্যান আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী দেব। আমরা এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চাই।'

জাতীয় সংসদের আগামী নির্বাচনে জোটগতভাবে ভোটে যেতে চায় না জাতীয় পার্টি। এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে সরকার গঠনের ব্যাপারে আশাবাদী পার্টির নতুন মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

রাজধানীতে শনিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।

দলীয়ভাবে ‘উপজেলা দিবস’ পালন করতে জাতীয় পার্টি রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শনিবার আলোচনা সভার আয়োজন করে।

সভায় মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘জাতীয় পার্টি ৩১ বছর ধরে বিরোধী দলে। পার্টির জন্য এতদিন ধরে যারা কাজ করছেন তারা পরীক্ষিত ও ত্যাগী কর্মী। তাদের নিয়ে দলের চেয়ারম্যান আগামীতে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখতেই পারেন।

‘জাতীয় পার্টি এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চায়, এ জন্য রূপরেখা তৈরি করতে হবে। আগামী নির্বাচনে যেকোনো মূল্যে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে হবে।’

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ভালো নেই। সবখানে দুর্নীতি, নির্যাতন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের লোকেরা জোর করছেন। অনেকে টাকা দিয়ে নৌকা প্রতীক নিচ্ছেন। কারণ তারা জানেন, নৌকা পেলেই বিজয়ী।’

চুন্নু আরও বলেন, ‘দেশে প্রতিবছর প্রায় ২০ লাখ নতুন চাকরিপ্রত্যাশী। কয়েক কোটি বেকার নিয়েও সরকারের মাথাব্যথা নেই। এসব বেকারের জন্য রূপরেখা তৈরি করলে আমাদের আর জোটগতভাবে নির্বাচনে যেতে হবে না। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ৩০০ আসনে আমরা প্রার্থী দেব। আমরা এককভাবে ক্ষমতায় যেতে চাই।’

পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, ‘প্রশাসনিক বাধার কারণে উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। তারা মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করতে পারছে না। যেভাবে উপজেলা পদ্ধতি করা হয়েছিল, এখন আর সেভাবে চলছে না উপজেলা পরিষদ।’

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের দলকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের নতুন কর্মী তৈরি করতে হবে।’

জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি বর্তমানে বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকলেও বিগত কয়েকটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে অংশ নেয় তারা। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিপরিষদেও ছিলেন জাতীয় পার্টির কয়েকজন।

আরও পড়ুন:
লেখকের জন্মদিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজন
সেপ্টেম্বরেই ঢাবি খোলার প্রস্তাব ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগ নয়, গণরুমের দায় প্রশাসনের: সাদ্দাম
‘হা হা’ রিঅ্যাক্টে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর: আটক হয়নি কেউ
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি সিপিবির

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি সিপিবির

সাম্প্রদায়িক হামলাকারী ও মদদদাতাদের শাস্তির দাবিতে সিপিবি শনিবার চট্টগ্রামে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ছবি: নিউজবাংলা

সিপিবি নেতা মৃণাল চৌধুরী বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসন, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত; হামলাকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার-বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।

চট্টগ্রাম নগরীর সিনেমা প্যালেস চত্বরে শনিবার বিকেল ৪টার দিকে সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সাম্প্রদায়িক হামলা, খুন-ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদ এবং হামলাকারী ও মদদদাতাদের শাস্তির দাবিতে সিপিবি বন্দরনগরীতে বিক্ষোভ-সমাবেশ করে।

সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল নবী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মৃণাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অশোক সাহা, সহকারী সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক উত্তম চৌধুরী, মছি উদ দৌলা, কানাই লাল দাশ, নুরুচ্ছাফা ভূঁইয়া, অমৃত বড়ুয়াসহ অনেকে।

মৃণাল চৌধুরী বলেন, ‘১৩ অক্টোবর থেকে কুমিল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার অভিযোগ তুলে চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, নাটোর, রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। প্রায় সবক্ষেত্রেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা, নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার প্রমাণ রয়েছে। যা সরকারের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছাড়া সম্ভব না।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনায় পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ব্যক্তিকে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে শনাক্ত করে অভিযুুক্তকে গ্রেপ্তারের আগেই নেশাগ্রস্ত, পাগল ইত্যাদি অভিধা দিয়ে ঘটনাকে লঘু করার চক্রান্ত চলছে।’

সিপিবি নেতা মৃণাল চৌধুরী বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসন, জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত; হামলাকারী ও মদদদাতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার-বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।

সিপিবির চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল নবী বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সব ধর্ম ও জাতির মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের সঙ্গে ছেদ ঘটিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছে।

‘স্বাধীনতা-উত্তর গত ৫০ বছরে সব সরকারই ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আঁতাত করে ক্ষমতায় থাকা বা যাওয়ার নির্লজ্জ প্রতিযোগিতা করে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনাকে বিসর্জন দিয়েছে। একের পর এক মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ শাসন করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক হানাহানির দেশে পরিণত করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘অতীতে রামু, নাসিরনগর, পাবনার সাঁথিয়া, বাঁশখালী, গোবিন্দগঞ্জ, রংপুর, সুনামগঞ্জের শাল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে ও নানা মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে ধর্মীয় ও জাতিগত নিপীড়ন ও হামলা হয়েছে। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তাদের দলীয় লোকজনই প্রধানত এসব সাম্প্রদায়িক হামলায় জড়িত ও নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।

‘বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে হামলায় আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, যার কোনোটিরই বিচার হয়নি। শাসকদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে দেশে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে। বর্তমান সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। কুমিল্লা-হাজীগঞ্জের ঘটনা তার সর্বশেষ প্রমাণ।’

সিপিবি নেতা আবদুল নবী বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনাকে পূঁজি করে ভারতে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি, আরএসএস সে দেশের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের পাঁয়তারা করছে এবং ভোটের রাজনীতিতে ফায়দা লুটতে চাইছে। ত্রিপুরায় এরই মধ্যে মসজিদে হামলাও হয়েছে।

‘ভারত ও বাংলাদেশের বামপন্থি শক্তি ও শান্তিপ্রিয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়া এখন সময়ের দাবি। ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ-প্রতিরোধের শক্তিই সাম্প্রদায়িকতাকে উপমহাদেশ থেকে নির্মূল করতে পারে।’

আরও পড়ুন:
লেখকের জন্মদিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজন
সেপ্টেম্বরেই ঢাবি খোলার প্রস্তাব ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগ নয়, গণরুমের দায় প্রশাসনের: সাদ্দাম
‘হা হা’ রিঅ্যাক্টে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর: আটক হয়নি কেউ
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

‘ভবঘুরে-উন্মাদ’ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

‘ভবঘুরে-উন্মাদ’ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

কুমিল্লার চকবাজার এলাকায় শনিবার মন্দির পরিদর্শন শেষে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: নিউজবাংলা

গয়েশ্বর বলেন, ‘জামায়াতকে দিনে দেখা যায় না, রাতেও দেখা যায় না, তারা কীভাবে হামলা-ভাঙচুর করতে পারে। হিন্দু-মুসলমানকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। না হয় ইন্ধনদাতাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না সরকার?’

ইকবালকে ‘ভবঘুরে ও উন্মাদ’ দাবি করে তাকে ইন্ধন দিল কারা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘ইকবাল ভবঘুরে-উন্মাদ, রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে। কারা তাকে ইন্ধন দিল, সেটা খুঁজে বের করতে হবে।’

শনিবার কুমিল্লা নগরীর চকবাজার এলাকার শ্রীশ্রী চাঁন্দমনি রক্ষাকালী মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি এ বক্তব্য দেন।

গয়েশ্বর বলেন, ‘নানুয়ার দিঘির পাড়ের ঘটনার পর সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লায় কিছু অপরিচিত যুবক বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা-লুটপাট করে। অথচ পুলিশ মামলা দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের।

‘জামায়াতকে দিনে দেখা যায় না, রাতেও দেখা যায় না, তারা কীভাবে হামলা-ভাঙচুর করতে পারে। হিন্দু-মুসলমানকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। না হয় ইন্ধনদাতাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না সরকার?’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অজয় রায় চৌধুরী, গৌতম রায়, দেবাশীষ চৌধুরী, অমলেন্দু দাস, সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
লেখকের জন্মদিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজন
সেপ্টেম্বরেই ঢাবি খোলার প্রস্তাব ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগ নয়, গণরুমের দায় প্রশাসনের: সাদ্দাম
‘হা হা’ রিঅ্যাক্টে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর: আটক হয়নি কেউ
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

‘এটা কোনো দলের দেশ হতে পারে না’

‘এটা কোনো দলের দেশ হতে পারে না’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি: নিউজবাংলা

বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) বাহাত্তরের সংবিধানের কথা বলে। বাহাত্তরের সংবিধানে জরুরি অবস্থা জারির কোনো বিধান ছিল না। সে বিধান তারাই সংবিধানে যুক্ত করেছে এবং তারাই প্রথম জরুরি অবস্থা জারি করেছে।’

‘বাংলাদেশকে যেভাবে দলীয় দেশে পরিণত করা হয়েছে, এর থেকে আমাদের মুক্ত করতে হবে। এটা কোনো বিশেষ দলের দেশ হতে পারে না। এটা বাংলাদেশের নাগরিকদের দেশ বানাতে হবে।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে শনিবার জাতীয় মানবাধিকার সমিতি আয়োজিত ‘একটি ভোরের প্রতীক্ষায়’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

তিনি বলেন, ‘সে রকম একটা দেশ বানাতে হলে জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার আদর্শে উদ্দীপ্ত হয়ে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে লড়াই করতে হবে।’

বইটি সংকলন করেছেন লন্ডনপ্রবাসী ডা. আব্দুল আজিজ ও সায়েক এম রহমান। বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ছাড়াও অনুষ্ঠানে ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) বাহাত্তরের সংবিধানের কথা বলে। বাহাত্তরের সংবিধানে জরুরি অবস্থা জারির কোনো বিধান ছিল না। সে বিধান তারাই সংবিধানে যুক্ত করেছে এবং তারাই প্রথম জরুরি অবস্থা জারি করেছে। তারা আজকে ইনডেমনিটির কথা বলে, ইনডেমনিটি তো তারাই প্রথম রক্ষীবাহিনীকে দায়মুক্তি দেয়ার জন্য করেছিল।’

তিনি বলেন, ‘তথাকথিত এক-এগারোর সরকারের সাংবিধানিক কোনো ভিত্তি ছিল না। একটা তত্ত্বাধায়ক সরকার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করবে। সেই ৯০ দিন প্রায় শেষ, সেই সময় নতুন একটা সরকার, তারা ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে পারবে না, এটা জানা সত্ত্বেও তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কে গিয়েছিল? বিএনপি তো যায়নি, আওয়ামী লীগ এবং তাদের সাথিরা গিয়েছিল।

‘সেই সরকার যে জরুরি অবস্থা জারি করেছিল, সেই জরুরি অবস্থার মধ্যে ২০০৮ সালে নির্বাচন করতে রাজি ছিল আওয়ামী লীগ এবং তাদের জোটের সাথিরা। একমাত্র খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার না করলে আমি নির্বাচনে যাব না। তার দাবির মুখে জরুরি অবস্থা বাতিল করতে হয়েছে, মানুষ তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষী দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার বারবার ফিরিয়ে দিয়েছে বিএনপি। এবারও ইনশাল্লাহ ফিরিয়ে দেবে।’

নজরুল বলেন, ‘একসময় আওয়ামী লীগ সব দলকে বাতিল করে দিয়েছিল। এখন আইন করে দল বাতিল করে নাই, কিন্তু কোনো দলকে কাজ করতে দেয়া হয় না।’

জাতীয় মানবাধিকার সমিতির উপদেষ্টা ফয়সল মাহমুদ ফয়জীর সভাপতিত্বে ও মঞ্জুর হোসেন ইসার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, ছাত্রদল নেতা ইসহাক সরকার ও মানবাধিকার সমিতির মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম সেকুল।

আরও পড়ুন:
লেখকের জন্মদিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজন
সেপ্টেম্বরেই ঢাবি খোলার প্রস্তাব ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগ নয়, গণরুমের দায় প্রশাসনের: সাদ্দাম
‘হা হা’ রিঅ্যাক্টে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর: আটক হয়নি কেউ
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জনদুর্ভোগ যেন না হয়: তথ্যমন্ত্রী

প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জনদুর্ভোগ যেন না হয়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সহিংসতার ঘটনাগুলো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, যা আমাদের চেতনার বেদিমূলে আঘাত করেছে। আমরাও এর প্রতিবাদ জানাই ও প্রতিকারে সচেষ্ট। সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও কোথাও কোথাও রাস্তা অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। তবে রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জনগণ যেন ভোগান্তির শিকার না হয়।’

সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জনদুর্ভোগ যাতে না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

সরকারি বাসভবনে শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া সত্ত্বেও কোথাও কোথাও রাস্তা অবরোধের খবর পাওয়া গেছে। সহিংসতার ঘটনাগুলো অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, যা আমাদের চেতনার বেদিমূলে আঘাত করেছে। আমরাও এর প্রতিবাদ জানাই ও প্রতিকারে সচেষ্ট।

‘তবে রাস্তা বন্ধ করে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে জনগণ যেন ভোগান্তির শিকার না হয়। আবেগতাড়িত হলেও যেন কারও বক্তব্য বাস্তবতাবিবর্জিত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।’

বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেবের কথা শুনে মনে হয়, কুমিল্লার ঘটনা কীভাবে ঘটানো হয়েছে, তা তাকে জিজ্ঞাসা করলেই ভালো জানা যাবে। প্রথম থেকেই তার বক্তব্যের ধরন- ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না।

‘এখন মনে হচ্ছে ইকবালকে কারা কক্সবাজারে পাঠিয়েছে, তা তিনি জানেন। যারা এ ঘটনায় ইন্ধন দিয়েছে, তারাই ইকবালকে কক্সবাজার পাঠিয়েছে। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ঘটনা ঘটিয়ে আবার বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্যই এসব ঘটনা। সরকার ঘটনার পরপরই কঠোর ও দ্রুততম ব্যবস্থা নিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। আর বিএনপি-জামায়াতসহ ধর্মান্ধ গোষ্ঠী যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা ক্রমাগত মিথ্যাচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

‘ঘটনার পর এক শর বেশি মামলা হয়েছে, কয়েক শ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূজামণ্ডপে যে কোরআন শরিফ রেখে এসেছিল, তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে বাকি তথ্য বেরিয়ে আসবে।’

মন্ত্রী জানান, স্বল্পতম সময়ে পীরগঞ্জে পোড়া ঘরগুলো মেরামত, নতুন ঘর নির্মাণ এবং সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ এবং খাদ্যসহায়তা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:
লেখকের জন্মদিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজন
সেপ্টেম্বরেই ঢাবি খোলার প্রস্তাব ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগ নয়, গণরুমের দায় প্রশাসনের: সাদ্দাম
‘হা হা’ রিঅ্যাক্টে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর: আটক হয়নি কেউ
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

দেশ চালাচ্ছে ‘অদৃশ্য শক্তি’: ফখরুল

দেশ চালাচ্ছে ‘অদৃশ্য শক্তি’: ফখরুল

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে অলি আহাদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সারভেইলেন্সটা এবং এই অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা এত গভীরে চলে গেছে যে তারা এ দেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ দেশের সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ রকম একটা অবস্থার মধ্যে আমরা গণতন্ত্রের লড়াইটা করছি।’

এক ‘অদৃশ্য শক্তি’ দেশ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, “প্রতি মুহূর্তে প্রতিক্ষণে আমাদের ওপর খবরদারি করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে আমি নিচে জাতীয় প্রেস ক্লাবের লাউঞ্জে চা খাচ্ছিলাম। আজকে আওয়ামী ঘরানার সাংবাদিকদের একটা নির্বাচন হচ্ছে। আওয়ামী ঘরানার এক সাংবাদিক বললেন যে অদ্ভুত কাণ্ড, এই আমরা সবাই তো আওয়ামী ঘরানার। আমাদের কাছে মেসেজ আসতে শুরু করেছে ‘অদৃশ্য জায়গা’ থেকে যে অমুককে ভোট দিতে হবে, অমুককে ভোট দিতে হবে।”

ফখরুল বলেন, ‘সারভেইলেন্সটা এবং এই অদৃশ্য শক্তির ক্ষমতা এত গভীরে চলে গেছে যে তারা এ দেশের মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ দেশের সমাজকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এ রকম একটা অবস্থার মধ্যে আমরা গণতন্ত্রের লড়াইটা করছি।’

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে প্রয়াত রাজনীতিক অলি আহাদের নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে অংশগ্রহণে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা (বিএনপি) তো লড়ছি। আমরা আপনাদের কাছে এইটুকু আশা করব, এই লড়াইয়ে একটা ইস্যুতে অর্থাৎ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, সেই লড়াইয়ে আসুন আমরা একসঙ্গে আসি। লেট আস ফাইট টুগেদার। আমরা একসঙ্গে লড়াইটা করি এবং দেশকে এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে বের করে নিয়ে আসি। এই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করি।’

তিনি বলেন, ‘এরপরে যার সেটা বোঝাপড়া তারা সেটা করে নেবেন। অন্তত একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আমরা ফিরে আসি।’

প্রয়াত রাজনীতিক অলি আহাদের মেয়ে বিএনপিদলীয় সাংসদ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

আরও পড়ুন:
লেখকের জন্মদিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজন
সেপ্টেম্বরেই ঢাবি খোলার প্রস্তাব ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগ নয়, গণরুমের দায় প্রশাসনের: সাদ্দাম
‘হা হা’ রিঅ্যাক্টে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর: আটক হয়নি কেউ
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন

‘সরকারের কাছে একটা বালিশের দাম ২২ হাজার টাকা’

‘সরকারের কাছে একটা বালিশের দাম ২২ হাজার টাকা’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপির সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী। ছবি: নিউজবাংলা

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ডের বিষয়টি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করবে না কেন। ওরা একটা বালিশের দাম নেয় ২২ হাজার টাকা। এই দুর্নীতি এবং তাদের পকেট ভারী করার জন্যই দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, চাল…এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী। বলেছেন, সরকারের দুর্নীতির কারণেই বাড়ছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম।

দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শনিবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ডের বিষয়টি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি করবে না কেন। ওরা একটা বালিশের দাম নেয় ২২ হাজার টাকা। এই দুর্নীতি এবং তাদের পকেট ভারী করার জন্যই দ্রব্য মূল্যের দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেল, কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, চাল…এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে চালের দাম সবচেয়ে বেশি। এটার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা নিয়েও মন্তব্য করেন বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা। তার দাবি, এ ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত।

রিজভী বলেন, ‘এটা পরিকল্পিত, এ কথা আগেও বলেছি। আমি যে কথাগুলো বলছি এটা বিএনপির কোনো বক্তব্য না। আজকে গণমাধ্যমগুলোতে সরকারের চাপের মুখেও সত্য কথা বেরিয়ে আসছে। সরকার নিজেদের স্বার্থের জন্য এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

রিজভী বলেন, ‘কুমিল্লা, হাজীগঞ্জ, রংপুর, চট্টগ্রাম প্রতিটি জায়গায় আওয়ামী লীগ নিশ্চুপ ছিল। পত্রপত্রিকায় এসেছে যেদিন সকালে কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে ওসি সাহেব গেলেন উনি পূজামণ্ডপ থেকে কোরআন শরীফ তুললেন, উনি কেন এতক্ষণ মিডিয়ার সামনে ধরে রাখলেন। প্রত্যেকটাতে প্রমাণিত হয় এটি পরিকল্পিত। এটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের বহির্বিশ্বে যে সুনাম রয়েছে তা এই সরকার বিনষ্ট করেছে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, কৃষক দলের সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
লেখকের জন্মদিনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আয়োজন
সেপ্টেম্বরেই ঢাবি খোলার প্রস্তাব ছাত্রলীগের
ছাত্রলীগ নয়, গণরুমের দায় প্রশাসনের: সাদ্দাম
‘হা হা’ রিঅ্যাক্টে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর: আটক হয়নি কেউ
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ

শেয়ার করুন