অসতর্কতা-অব্যবস্থাপনায় সৈকতে যাচ্ছে প্রাণ

অসতর্কতা-অব্যবস্থাপনায় সৈকতে যাচ্ছে প্রাণ

সৈকতে গোসলে নেমে গত দুইদিনে প্রাণ গেছে তিনজনের। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্রসৈকতে এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সামনে এসেছে বেশ কিছু বিষয়। তার মধ্যে পর্যটকদের অসতর্কতা, সৈকত এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি ও উদ্ধার সরঞ্জামের সংকটের কথা উঠে এসেছে অনেকের কথায়।

পরিবারসহ কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিক মকবুল। গোসলে নেমে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারান ওই তরুণ।

আনন্দ যাত্রার বিষাদ রূপ দেখে তৌহিদের মরদেহ নিয়ে কক্সবাজার ছাড়ে তার পরিবার। এ ঘটনা গত ৮ সেপ্টেম্বরের।

এরপর গত শুক্রবার তিন ঘণ্টার ব্যবধানে সৈকতের দুই পয়েন্ট থেকে উদ্ধার করা হয় এক কিশোর ও যুবকের মরদেহ এবং শনিবার আরেক পয়েন্টে ভেসে আসে আরও এক যুবকের নিথর দেহ।

কক্সবাজার সৈকতের লাইফ গার্ড কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, সাগরে গোসল করতে নেমে গত এক মাসে তিন ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। এর মধ্যে শুধু পর্যটকই নন, আছেন স্থানীয় লোকজনও।

আর কক্সবাজার সি সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থার তথ্যে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে সমুদ্রে নেমে মৃত্যু হয়েছে ১৯ পর্যটকের। আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ৩৫৪ জনকে।

বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্রসৈকতে এসব দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সামনে এসেছে বেশ কিছু বিষয়। তার মধ্যে পর্যটকদের অসতর্কতা, সৈকত এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি ও উদ্ধার সরঞ্জামের সংকটের কথা উঠে এসেছে অনেকের কথায়।

সমুদ্রস্নানের সময় পর্যটকের নিরাপত্তায় থাকা কর্মীদের সংখ্যাও অনেক কম। কক্সবাজার সি সেইফ লাইফ গার্ড সংস্থার তথ্যে, এ ধরনের নিরাপত্তায় আছেন দুই শিফটে মাত্র ২৭ কর্মী।

অসতর্কতা-অব্যবস্থাপনায় সৈকতে যাচ্ছে প্রাণ

তবে লাইফ গার্ড কর্মীদের দাবি, সৈকতে নামার নির্দেশনা উপেক্ষা করায় একের পর এক প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সৈকতে আসা পর্যটকদের মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে বৈরী আবহাওয়া ও ভাটার সময় পানিতে না নামতে প্রতিনিয়ত মাইকিং ও সতর্ক চিহ্ন অর্থাৎ লাল পতাকা উড়ানো হয়। তবে অনেক সময় দেখা যায়, কিছু পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন তা না মেনে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’

পর্যটকদের দাবি, সৈকতে নিরাপত্তাকর্মীদের সংখ্যা নগণ্য। আর সতর্কতামূলক যে ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে, তার অর্থ অনেকেই জানে না। নিরাপদ সৈকতের জন্য নজরদারি বাড়াতে হবে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যাওয়া বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা এস এম আসাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতিটি পয়েন্টে লাইফ গার্ড কর্মীর সংখ্যা কম। লাবণী পয়েন্টে আমি মাত্র তিনজনকে দেখেছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। এ ছাড়া নির্দিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই। যার কারণে অনিরাপদ হয়ে উঠেছে সৈকত।’

চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সৈকতের প্রবেশদ্বারগুলোতে নেই সমুদ্রস্নানের নির্দেশনা। তবে সৈকতের বালিয়াড়িতে টাঙানো আছে সংকেতবাহী লাল ও লাল-হলুদ পতাকা। তবে এসব রঙের পতাকার অর্থই জানেন না পর্যটকরা। প্রতিটি পয়েন্ট নির্দেশনা অমান্য করে দিব্যি বিপজ্জনক জায়গায় যাচ্ছেন পর্যটকরা।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যটকদের অসতর্কতা ও অনিরাপদ সৈকতের কারণেই প্রাণহানি বাড়ছে। এ জন্য সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নেট বা জাল দিতে হবে। পাশাপাশি গোসলের স্থান বিভিন্ন জোনে ভাগ করতে হবে।

অসতর্কতা-অব্যবস্থাপনায় সৈকতে যাচ্ছে প্রাণ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নূরুল আজিম সিকদার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সব সময় সাগরের আচরণ পাল্টায়। এটা প্রাকৃতিকভাবে হয়ে থাকে।

‘যেমন জোয়ারের সময় যেই স্থানে সমতল, ভাটার সময় সেখানে খাদের সৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণিপাকে হঠাৎ সৃষ্টি হয় চোরাবালির। তাই সৈকতে গোসল করতে নামতে হবে নিরাপদ জায়গায়। নয়তো যেকোনো সময় প্রাণহানি ঘটতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি সমুদ্রসৈকত অনিরাপদ। এর কারণ পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব। এ ব্যবস্থার উন্নতি ছাড়া সৈকত নিরাপদ করা সম্ভব নয়। পাশাপাশি পর্যটকদের সতর্ক হতে হবে। নয়তো প্রাণহানি ঠেকানো যাবে না।’

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্যসচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সৈকতে একের পর এক ভেসে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্কিত পর্যটকরা। সৈকতে বিনোদনের প্রধান মাধ্যম নোনা জলে গোসল। এটি কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

সৈকতের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নির্দিষ্ট দূরত্বে পরিবেশবান্ধব নেট দিয়ে নিরাপদ গোসলের পরিবেশ নিশ্চিত করা উচিত বলে জানান তিনি।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সৈকতের কলাতলী, লাবণী ও সুগন্ধা পয়েন্টে পর্যটকদের চাপ বেশি থাকে। তাই তারা কিছু এলাকাকে গোসল করার জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তবে সে নির্দেশনা না মেনে অনেকে গোসলে নামেন। এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে।

অসতর্কতা-অব্যবস্থাপনায় সৈকতে যাচ্ছে প্রাণ

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বিশ্বের দীর্ঘতম এই সমুদ্রসৈকতে লাখ লাখ পর্যটক আসেন। তবে একটু অসর্তকতার কারণে অনেক পর্যটকের আনন্দ বিষাদে পরিণত হচ্ছে, যেটা আমাদের কারও কাম্য নয়।

‘এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আমরা রোধ করতে চাই। পর্যটকরা সাগরে সতর্কতার সঙ্গে বা নিয়ম মেনে গোসলে নামলে সহজেই এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, অনেকেই প্রশাসনের নির্দেশনা মানছেন না।’

সাগরে নামতে ১০ নির্দেশনা

পর্যটকদের এমন মৃত্যুর পর সাগরে নামার আগে ১০ করণীয় নিয়ে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন।

নির্দেশনাগুলো হলো সাঁতার না জানলে সমুদ্রের পানিতে নামার সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা, লাল পতাকা চিহ্নিত পয়েন্টে কোনোভাবে না নামা, সৈকত এলাকায় সব সময় লাইফ গার্ডের নির্দেশনা মানা, বিকেল ৫টার পর সমুদ্রে না নামা ও সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার-ভাটাসহ আবহাওয়ার বর্তমান অবস্থা জেনে নেয়া।

আরও বলা হয়, লাইফ গার্ড নির্দেশিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো পয়েন্ট থেকে সমুদ্রে না নামা, সমুদ্রে যেকোনো মুহূর্তে তীব্র স্রোত এবং গুপ্ত গর্ত সৃষ্টি হতে পারে, যেকোনো ভাসমান বস্তু নিয়ে পানিতে নামার আগে বাতাসের গতি সম্পর্কে জেনে নেয়া, শিশুদের সৈকতে সব সময় অভিভাবকের সঙ্গে রাখা এবং অসুস্থ বা দুর্বল শরীর নিয়ে সমুদ্রে হাঁটুপানির বেশি না নামা।

আরও পড়ুন:
সৈকতে ২ শিক্ষার্থীর লাশ: পরিবারে মাতম, দাবি পরিকল্পিত হত্যা
সৈকতে ২ দিনে ৩ মরদেহ
সৈকতের একই পয়েন্টে আরেক মরদেহ
নিজ রূপে ফিরছে সৈকত
খোলার আগেই সৈকতে ভিড়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শিক্ষিকাকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারাগারে ২

শিক্ষিকাকে ‘সংঘবদ্ধ ধর্ষণ’, কারাগারে ২

পুলিশ জানায়, সোমবার এক শিক্ষিকা হেঁটে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুজন পথরোধ করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার রাতে এলাকাবাসী ওই দুজনকে আটক করে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে এক শিক্ষিকাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে দিনাজপুরের আমলি আদালতে (বোচাগঞ্জ) নেয় পুলিশ। আসামিরা ওই শিক্ষিকাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যান বলে সন্ধ্যায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

বোচাগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি জানান, শিক্ষিকার করা মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে নেয়া হয়। সেখানে আসামিরা শিক্ষিকাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে ধর্ষণের কথা তারা স্বীকার করেননি, মেডিক্যাল রিপোর্ট এলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

সাজা পাওয়া আসামিরা হলেন উপজেলার সুলতানপুর আবাসনের মামুনুর রশিদ ও সেনিহারী গ্রামের সুজন আলী। তাদের বয়স ২৫-২৬ বছর।

পুলিশ জানায়, সোমবার এক শিক্ষিকা হেঁটে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ওই দুজন পথরোধ করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে বুধবার রাতে এলাকাবাসী ওই দুজনকে আটক করে বোচাগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

ওই শিক্ষিকা বুধবার রাতে দুজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, ওই মামলায় আসামিদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে নেয়া হয়। সন্ধ্যায় তারা নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাহবুবুর রহমান সরকার জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ওই নারীকে বিকেলে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সৈকতে ২ শিক্ষার্থীর লাশ: পরিবারে মাতম, দাবি পরিকল্পিত হত্যা
সৈকতে ২ দিনে ৩ মরদেহ
সৈকতের একই পয়েন্টে আরেক মরদেহ
নিজ রূপে ফিরছে সৈকত
খোলার আগেই সৈকতে ভিড়

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীকে মারধর, তিন আনসার সদস্য বরখাস্ত

শিক্ষার্থীকে মারধর, তিন আনসার সদস্য বরখাস্ত

মারধরের শিকার জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর ঐশ্বর্য সরকার। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘ঐশ্বর্য তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। টিকিট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আনসার সদস্য মাসুদ ও শরীফ ছুটে আসেন এবং তারাও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করেন তারা।’

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় তিন সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে দুপুর ১২টার দিকে মারধরের ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থীর নাম ঐশ্বর্য সরকার। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

বরখাস্ত হওয়া তিন আনসার সদস্য হলেন মো. মাসুদ, মো. শরীফ ও মো. শফিকুল। তারা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর আগে দুপুর ২টার দিকে মাসুদ ও শরীফকে মেডিক্যাল কলেজ থেকে সরিয়ে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে তাদের ময়মনসিংহের আনসার ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

এসব তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন।

মারধরের শিকার শিক্ষার্থী ঐশ্বর্য সরকারের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঐশ্বর্য তীব্র মাথাব্যথা নিয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। টিকিট সংগ্রহের লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আনসার সদস্য মাসুদ ও শরীফ ছুটে আসেন এবং তারাও তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করেন তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি জানতে পেরে দ্রুত ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করি এবং ঘটনাটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই। ঐশ্বর্য তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আসাদুজ্জামান নিউটনকে জানালে তিনি হাসপাতালে আসেন। তাকে আমরা হাসপাতালের উপপরিচালকের কাছে নিয়ে যাই।’

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ওয়ায়েজ উদ্দিন ফরাজি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুপুর দুইটার দিকে হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শিক্ষার্থীকে মারধরের সত্যতা পাওয়া যায়। তখনই দুই আনসার সদস্যকে ময়মনসিংহের আনসার ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপমহাপরিচালক নূরে আলম সিদ্দিকী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আনসার সদস্য মাসুদ ও শরীফের সঙ্গে শফিকুলকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ ঘটনার সময় শফিকুল ওই দুই আনসার সদস্যকে না ফিরিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাদেরকে আনসার ক্যাম্প থেকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রধান সহকারী জেলা কমান্ডেন্ট সোহাগ পারভেজ। অন্য সদস্যরা হলেন জেলা সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট ওসমান গণি ও উপজেলা আনসার কমান্ডার রমজান মিয়া। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।’

প্রতিবেদন পেলে ওই তিন আনসার সদস্যকে চাকরিচ্যুতসহ কালোতালিকাভুক্ত করা হবে বলেও জানান নূরে আলম।

আরও পড়ুন:
সৈকতে ২ শিক্ষার্থীর লাশ: পরিবারে মাতম, দাবি পরিকল্পিত হত্যা
সৈকতে ২ দিনে ৩ মরদেহ
সৈকতের একই পয়েন্টে আরেক মরদেহ
নিজ রূপে ফিরছে সৈকত
খোলার আগেই সৈকতে ভিড়

শেয়ার করুন

চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি

চাঁদপুরে সহিংসতা: আদালতে জামায়াত নেতার স্বীকারোক্তি

তৌহিদী জনতার ব্যানারে মিছিল নিয়ে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপে হামলা চালানো হয়। ফাইল ছবি

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ঘটনা সময়ের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে যাচাই-বাছাই করে এবং গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক অভিযুক্তের নাম পাওয়া গেছে। আমাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে মন্দিরে হামলা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামের নেতা ও হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি মো. কামাল উদ্দিন আব্বাসী।

চাঁদপুর বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক কামাল উদ্দিনের কাছে বৃহস্পতিবার বিকেলে জবানবন্দি দেন তিনি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মিলন মাহমুদ।

এর আগে বুধবার রাতে কামালকে হাজীগঞ্জ থেকে আটকের পর পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এসপি মিলন মাহমুদ নিউজবাংলাকে জানান, হাজীগঞ্জে পূজা মণ্ডপে ভাঙচুর ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ১০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ দুটি মামলা করেছে। বাকি আটটি মামলা করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ। এসব মামলায় এজারনামীয় ৭ জনসহ আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় পাঁচ হাজার জনকে।

ওই ঘটনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এসপি আরও জানান, ঘটনার সময় বিভিন্ন স্থানে থাকা ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘ঘটনা সময়ের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে যাচাই-বাছাই করে এবং গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও অনেক অভিযুক্তের নাম পাওয়া গেছে। আমাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

গত ১৩ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লার ঘটনায় তৌহিদী জনতার ব্যানারে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার একটি মিছিল বের করা হয়। সেই মিছিল থেকে মন্দিরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষ হয়।

ওই সময় হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া (ত্রিনয়নী), দি বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ মন্দির, পৌর মহাশ্মশান, জমিদার বাড়িসহ কয়েকটি পূজা মণ্ডপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালালে পাঁচজন নিহত হন।

আরও পড়ুন:
সৈকতে ২ শিক্ষার্থীর লাশ: পরিবারে মাতম, দাবি পরিকল্পিত হত্যা
সৈকতে ২ দিনে ৩ মরদেহ
সৈকতের একই পয়েন্টে আরেক মরদেহ
নিজ রূপে ফিরছে সৈকত
খোলার আগেই সৈকতে ভিড়

শেয়ার করুন

বসতবাড়িতে গোখরার ৮ বাচ্চা, বনে অবমুক্ত 

বসতবাড়িতে গোখরার ৮ বাচ্চা, বনে অবমুক্ত 

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাট এলাকার এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে বুধবার রাতে সাপের বাচ্চাগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানান বন কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি বসতবাড়ি থেকে উদ্ধার গোখরা সাপের ৮টি বাচ্চাকে অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ।

উপজেলার পশ্চিমে পাহাড়ি বনে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটার দিকে বাচ্চাগুলোকে অবমুক্ত করা হয়।

উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকার হাট এলাকার এক ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে বুধবার রাতে সাপের বাচ্চাগুলোকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান বন কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের চৌধুরী।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বুধবার রাতে হাটহাজারীর সরকার হাটের বালুরটাল নামক এলাকার একটি বাসা থেকে গোখরা সাপের বাচ্চাগুলো উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিমে বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে বাচ্চাগুলো অবমুক্ত করা হয়।’

আরও পড়ুন:
সৈকতে ২ শিক্ষার্থীর লাশ: পরিবারে মাতম, দাবি পরিকল্পিত হত্যা
সৈকতে ২ দিনে ৩ মরদেহ
সৈকতের একই পয়েন্টে আরেক মরদেহ
নিজ রূপে ফিরছে সৈকত
খোলার আগেই সৈকতে ভিড়

শেয়ার করুন

বন্যার ক্ষতিতে সহায়তা গেল ৪ জেলায়

বন্যার ক্ষতিতে সহায়তা গেল ৪ জেলায়

নীলফামারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একাংশ। ছবি: নিউজবাংলা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলাগুলোতে শিশুখাদ্য ও গো-খাদ্য কেনা বাবদ ১৬ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি জেলার জন্য এক হাজার করে খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দেশের চার জেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তার জন্য সরকার ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। একই সঙ্গে বরাদ্দ হয়েছে চার হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার।

দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রংপুর, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার জন্য নগদ ৫ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলাগুলোতে গো-খাদ্য কেনা বাবদ ২ লাখ করে মোট ৮ লাখ টাকা ও শিশুখাদ্য কেনা বাবদ ২ লাখ করে মোট ৮ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।

প্রতিটি জেলার জন্য এক হাজার করে মোট চার হাজার শুকনা ও অন্যান্য খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খাবারের প্রতিটি প্যাকেটে আছে ১০ কেজি মিনিকেট চাল, ১ কেজি দেশি মসুরের ডাল, ১ কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি চিনি, ১০০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া, ১০০ গ্রাম ধনিয়া গুঁড়াসহ মোট আট ধরনের খাবার ও মসলা।

মন্ত্রণালয় জানায়, চার সদস্যের একটি পরিবার প্রতিটি প্যাকেটের খাবার অন্তত এক সপ্তাহ ব্যবহার করতে পারবে। বরাদ্দ করা টাকা ও খাবার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

শিশুখাদ্য হিসেবে বিভিন্ন প্রকার খেজুর, বিস্কুট, ফর্টিফাইড তেল, ব্রাউন চিনি, মসুর ডাল, সাগু, ফার্টিফাইড চাল, ওয়াটার পিউরিফাইং ট্যাবলেট, বাদাম, মানসম্মত রেডিমেড ফুডসহ খাদ্যদ্রব্য স্থানীয়ভাবে কিনে বিতরণ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া গো-খাদ্য হিসেবে বিভিন্ন প্রকার ভুসি, খৈল, চালের কুঁড়া, চিটাগুড়, খড়সহ মানসম্মত রেডিমেড ফুড স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে দ্রুত বিতরণ করতে হবে।

আরও পড়ুন:
সৈকতে ২ শিক্ষার্থীর লাশ: পরিবারে মাতম, দাবি পরিকল্পিত হত্যা
সৈকতে ২ দিনে ৩ মরদেহ
সৈকতের একই পয়েন্টে আরেক মরদেহ
নিজ রূপে ফিরছে সৈকত
খোলার আগেই সৈকতে ভিড়

শেয়ার করুন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন

শিক্ষার্থীদের চুল কর্তন: ফারহানার বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন। ছবি: সংগৃহীত

রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল বলেন, ‘আমরা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তিনি আসেননি এবং কোনো যোগাযোগ করেননি। ইতোপূর্বে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিয়েছি।’

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বক্তব্য ছাড়াই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে তদন্ত কমিটির কাছে নিজের বক্তব্য জানানোর কথা থাকলেও আসেননি শিক্ষক ফারহানা। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তিনি না আসায় বিকেল ৫টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও তদন্ত কমিটির প্রধান লায়লা ফেরদৌস হিমেল।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের জন্য বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তিনি আসেননি এবং কোনো যোগাযোগ করেননি। ইতোপূর্বে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অন্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা প্রতিবেদন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিয়েছি।’

এই শিক্ষক আরও বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলেও সেটি এখনও খোলা হয়নি। আগামীকাল (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় সবার সামনে এটা খোলা হবে এবং উপস্থিত সিন্ডিকেট সদস্যদের আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে তার (ফারহানা) বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনকে তিন দফায় তদন্ত কমিটি ডাকার পরও না এসে তিনি সময় চেয়ে বসেন। প্রথমে তাকে আর সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত না থাকলেও তিনি বার বার ইমেইলে সময়ের আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি তাকে দুই সপ্তাহ সময় দিয়ে আজ (বৃহিস্পতিবার) দুপুর ১টায় উপস্থিত হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নতুন সময় বেঁধে দিয়েছিল। তবুও তিনি আসেননি।

‘প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময়ের বাধ্যবাধকতা থাকায় আমরা আজ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আজ তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। আগামীকাল (শুক্রবার) সিন্ডিকেট সভায় সবার সামনে সেটি উন্মোচন করা হবে। প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণ হলে ওই সভাতেই তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

রাজধানীর ধানমন্ডিতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ভবনে শুক্রবার বিকেলে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান আব্দুল লতিফ।

এ বিষয়ে শিক্ষক ফারহানাকে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বিভাগের শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন দরজায় কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের সামনের অংশের বেশ খানিকটা কেটে দেন তিনি। এভাবে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।

ওই ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফারহানা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের গালিগালাজ করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজমুল হাসান তুহিন নামের ১ম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গালিগালাজ করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুমকি দেন।

ওই ঘটনার পর ‘অপমান সইতে না পেরে’ তুহিন রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহমুখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা আটকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন তার বিভাগের চেয়ারম্যান পদ, সহকারী প্রক্টর পদ ও প্রক্টরিয়াল বোর্ডের সদস্য পদ থেকে লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন।

ঘটনার তদন্তে পরে রবীন্দ্র অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান লায়লা ফেরদৌস হিমেলকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন:
সৈকতে ২ শিক্ষার্থীর লাশ: পরিবারে মাতম, দাবি পরিকল্পিত হত্যা
সৈকতে ২ দিনে ৩ মরদেহ
সৈকতের একই পয়েন্টে আরেক মরদেহ
নিজ রূপে ফিরছে সৈকত
খোলার আগেই সৈকতে ভিড়

শেয়ার করুন

গঙ্গাচড়ায় এক দিনের বন্যা: পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ

গঙ্গাচড়ায় এক দিনের বন্যা: পানি কমলেও বেড়েছে দুর্ভোগ

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার পানি বাড়ায় তলিয়ে গেছে বাড়িঘর, ফসলি জমি। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পানির তোড়ে রুদ্ধেশ্বর গ্রামে ভেঙে গেছে রংপুর-কাকিনা-বুড়িমারী সড়ক। ফলে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। গান্নারপাড় গ্রামে তিস্তার ডান তীর প্রতিরক্ষা মূল বাঁধ আংশিক ভেঙে গেছে। উপজেলায় তিস্তার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার কয়েক শ বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।

তিস্তায় আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলাবাসী। মাত্র এক দিনের বন্যায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ।

কাঁচা-পাকা সড়ক পানিতে ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির অভাব ও পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। আবার পানি কমলেও ঘরে ফিরতে পারছেন না ক্ষতিগ্রস্তরা। ফলে গবাদিপশুসহ সড়কে ও বাঁধে দুর্বিষহ জীবন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবার দুপুরে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পানির তোড়ে রুদ্ধেশ্বর গ্রামে ভেঙে গেছে রংপুর-কাকিনা-বুড়িমারী সড়ক। ফলে এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। গান্নারপাড় গ্রামে তিস্তার ডান তীর প্রতিরক্ষা মূল বাঁধ আংশিক ভেঙে গেছে। উপজেলায় তিস্তার চরাঞ্চল ও তীরবর্তী এলাকার কয়েক শ বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়েছে।

চরইশরকুল গ্রামের কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, ‘মঙ্গলবার আইত (রাত) থাকি হু-হু করি পানি ঢুকি হামার সোগে তলে গেইছে। সারা আইত ছাওয়াপোয়া নিয়্যা চৌকির ওপর বসি থাকা লাগছে। পরের দিন বাড়ি ছাড়িয়া বাঁধোত চলি আসছি। আন্নাবান্না (রান্না) নাই, খাওয়া নাই। যে একনা চিড়া-মুড়ি দিয়ে, তা এক দিনে শ্যাষ হইচে।’

চর ইচলী গ্রামের হযরত আলী জানান, টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় একটু পানি যে খাবেন সে উপায়ও নেই। অনেক দূরে অন্যের বাড়ি থেকে পানি আনতে হয়। বেশি যাওয়াও যায় না, মানুষ খারাপভাবে নেয়। এ জন্য কম করে পানি খাচ্ছেন।

চর ছালাপাক মহিষাশুর গ্রামের আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আস্তাঘাট সোগ শ্যাষ। পানিত ভাসি গেইচে। গোটায় আস্তাত কাদো (কাদা), ট্যাং পিচলি পিচলি যায়। হাঁটা যায় না।’

একই গ্রামের আবদুল মতিন বলেন, ‘পানিতবন্দি হয়া খুব কষ্টোত আছি। শুকনা জায়গাও নাই যে সেটে উঠমো। কী খামো, কোটে যামো, ভাবি পাওচি না।

‘এ্যালাও হামার খোঁজখবর নেবার জনতে কায়ো আইসে নাই। সারা বছর হামার কষ্ট লাগি থাকে। এমন হঠাৎ করি অসময়ে ভারত পানি ছাড়লে হামাক তো ডুবি মরা লাগবে।’

গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, চল্লিশ সাল, শংকরদহ, পশ্চিম ইচলী, মধ্য ইচলী ও বাগেরহাট এলাকায় তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়েছে ২৪০টি পরিবারের বাড়িঘর। ইউনিয়নে প্রায় ৩০০টি পুকুর প্লাবিত হয়ে ভেসে গেছে মাছ। এ ছাড়া প্রায় ৩০০ পরিবারের আসবাবপত্র, মালপত্র ও গৃহপালিত পশুপাখি ভেসে গেছে।

কোলকোন্দ ইউপির চেয়ারম্যান সোহরাব আলী রাজু জানান, ইউনিয়নের মটুকপুর, উত্তর চিলাখাল, মধ্য চিলাখাল, বিনবিনা, খলাইর চর, শখের বাজার, আবুলিয়া, সাউদপাড়া ও আলেকিশামত গ্রামের ৩৯০টি পরিবারের বাড়িঘর তিস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। বন্যার্ত পরিবারগুলোর মাঝে বুধবার রাত থেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়।

গঙ্গাচড়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক হিসাবে গতকালের (বুধবার) বন্যায় উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমির আমন, ৩০ হেক্টর বাদাম, ৩৫ হেক্টর জমির মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ টন চাল ও ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার দেয়া হয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলো বিতরণ করা হবে।’

আরও পড়ুন:
সৈকতে ২ শিক্ষার্থীর লাশ: পরিবারে মাতম, দাবি পরিকল্পিত হত্যা
সৈকতে ২ দিনে ৩ মরদেহ
সৈকতের একই পয়েন্টে আরেক মরদেহ
নিজ রূপে ফিরছে সৈকত
খোলার আগেই সৈকতে ভিড়

শেয়ার করুন