সৌদিতে শুল্ক ছাড়াই ১৩৭ পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সৌদিতে শুল্ক ছাড়াই ১৩৭ পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে সৌদি আরবে সফররত বাংলাদেশি দল

সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও অনুরোধ সালমান এফ রহমান।

সৌদি আরবে ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী আল কাসাবির কাছে এই অনুরোধ করেন।

শনিবার আল কাসাবির সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন সালমান এফ রহমান। সরকারি সফরে তিনি এখন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব বর্তমানে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত ও প্লাস্টিক পণ্য, হিমায়িত মাছ ও ওষুধ আমদানি করে উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান হালাল মাংস রপ্তানিতেও আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জোরদার করতে সৌদি আরবে রপ্তানি হয় এমন ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চান তিনি। এ ছাড়া সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাবসা করার সুযোগ দেওয়ারও অনুরোধ করেন।

সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তার দেশ বিদেশিদের বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়। বাংলাদেশিরা এ ব্যপারে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহায়তা পাবে।

সৌদি আরব চাইলে বাংলাদেশ সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করে বিশেষ সুবিধা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও আল কাসাবিকে জানান সালমান এফ রহমান। সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যপারে ইতিবাচক মনোভব দেখান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীও।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ এবং কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করতে পারে।

এ ছাড়া ২০১৯ সালে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের সময় দুই বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা দ্রুত কার্যকর করারও অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন কাসাবি।

সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেন আল কাসাবি।

এর আগে বৈঠকের শুরুতেই সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন সালমান এফ রহমান। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সৌদি সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলে জানান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী।

ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীলে উত্তরণের পরও সুইডেনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পিপিই পার্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পিপিই পার্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং বেক্সিমকো পিপিই পার্ক পরিদর্শন করেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন।

বেক্সিমকো পিপিই পার্কে উচ্চমানের পিপিই উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এই বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী অত্যাধুনিক কারখানা স্থাপনের জন্য বেক্সিমকোকে ধন্যবাদ জানান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমানের পিপিই উপকরণ প্রাপ্যতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো গ্রুপের দুটি পার্ক পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন।

রোববার সকালে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং বেক্সিমকো পিপিই পার্ক পরিদর্শন করেছেন বলে প্রতিষ্ঠানটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের স্ত্রী মিসেস তেরেসা আলবর, হাইকমিশনের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ প্রধান ডেরেক গ্রিফিথস এবং শাসন ও রাজনৈতিক দলের প্রধান টম বার্জ উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সকাল সোয়া ১০টার দিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে পৌঁছান। বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান সোহেল এফ রহমান এবং গ্রুপের পরিচালক ও বেক্সিমকো টেক্সটাইল, অ্যাপারেলস ও পিপিই ডিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ নাভেদ হোসেন গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান।

হাইকমিশনার বেক্সিমকো পিপিই পার্কের অভ্যন্তরে আধুনিক পিপিই উৎপাদন ও সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন্টারটেক ল্যাব পরিদর্শন করেন। এ সময় বেক্সিমকো পিপিই টিম স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য হাসপাতাল গ্রেড গাউন, কভারঅল, সার্জিক্যাল মাস্ক, রেসপিরেটর এবং নন-উভেন কাপড় তৈরির অত্যাধুনিক উৎপাদন সুবিধা তুলে ধরেন।

বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও পিপিই পার্কে ব্রিটিশ হাইকমিশনার

বেক্সিমকো পিপিই পার্কে উচ্চমানের পিপিই উৎপাদন ও পরীক্ষার জন্য অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এই বৈশ্বিক মহামারি পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী অত্যাধুনিক কারখানা স্থাপনের জন্য বেক্সিমকোকে ধন্যবাদ জানান এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমানের পিপিই উপকরণ প্রাপ্যতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেক্সিমকো পিপিই পার্ক পরিদর্শন শেষে ব্রিটিশ হাইকমিশনার তার সঙ্গীদের নিয়ে বেক্সিমকো ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের অভ্যন্তরে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেকসই ওয়াশিং প্ল্যান্ট এবং বেক্সিমকো সিরামিক প্লান্ট ও অত্যাধুনিক উৎপাদন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীলে উত্তরণের পরও সুইডেনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি

শেয়ার করুন

পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তিতে বাণিজ্যমন্ত্রী

পেঁয়াজ নিয়ে অস্বস্তিতে বাণিজ্যমন্ত্রী

পেঁয়াজ নিয়ে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রয়েছেন জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘পেঁয়াজ উৎপাদনে আমাদের ঘাটতি আছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে আমদানি করে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে। সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

সংকটকালে ফলন পাওয়া যায় এমন জাতের পেঁয়াজ উদ্ভাবনে জোর দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

দেশে গত কয়েক বছরে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও আমদানি করি, এটা থেকে বের হতে সংরক্ষণে জোর দিতে হবে।’

আগামী তিন বছরের মধ্যেই পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পন্ন হবে বলেও প্রত্যাশা করেন মন্ত্রী।

‘বাংলাদেশের ৫০ বছর: কৃষির রূপান্তর ও অর্জন’ শীর্ষক কৃষি সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে জাতীয় দৈনিক বণিক বার্তা এবং বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) যৌথভাবে সম্মেলনটির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

বিষয়ের ওপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।

পেঁয়াজ নিয়ে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে রয়েছেন জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘পেঁয়াজের জ্বালায় আমি অস্থির হয়ে পড়েছি। পরিসংখ্যানের একটা ঝামেলা আছে। আমাদের প্রয়োজন ২৪-২৫ লাখ টন পেঁয়াজ। উৎপাদনও হয় ২৫-২৬ লাখ টন। তাহলে আমদানি কেন? এমন প্রশ্ন আসে। সে ক্ষেত্রে বক্তব্য হচ্ছে, প্রায় ২০ শতাংশ পেঁয়াজ আমাদের নষ্ট হয়। সংরক্ষণ করা যায় না।

‘পেঁয়াজ উৎপাদনে আমাদের ঘাটতি আছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে আমদানি করে ঘাটতি পূরণ করতে হচ্ছে। সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘সারা বছর উৎপাদনের জন্য পেঁয়াজের নতুন জাত উদ্ভাবন, উৎপাদিত পেঁয়াজ যাতে নষ্ট না হয় এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়, এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘দেশে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর সময়ে পেঁয়াজের ঘাটতি দেখা দেয়, এই সময়ের জন্য নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন বলে জেনেছি। হয়তো কিছুদিনের মধ্যে আর সংকট থাকবে না। আর তিন-চার বছর হয়তো লাগবে।’

দেশে কৃষির অগ্রগতি তুলে ধরে টিপু মুনশি বলেন, ‘কৃষিক্ষেত্রে আমরা অনেক এগিয়েছি। সরকারের আন্তরিক সহযোগিতায় আধুনিকায়নে সমর্থ হওয়ার কারণেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। সরকার খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। যা আমাদের উৎসাহিত করেছে। এতে আমরা বেশ সফলও হয়েছি।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাণিসম্পদে আমরা এখন স্বয়ংসম্পন্ন। একসময় দেশের কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো, আজ চাহিদার বেশি পশু আমরা উৎপাদন করছি।

‘এখন বাংলাদেশ মাংস রপ্তানির চেষ্টা করছে। মৎস্য চাষে পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। দেশে মৎস্য চাষে বিপ্লব ঘটেছে। বাংলাদেশ প্রতিবছর মাছ রপ্তানি করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার প্রতিটি সেক্টরে স্বয়ংসম্পন্ন হতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।’

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, কৃষি সেক্টরে বাণিজ্যিকীকরণে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ, ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। খাদ্য উৎপাদন অনেক বেড়েছে, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনে সফল হয়েছি আমরা। অনেক দেশের তুলনায় এখনও আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তবে এখনও কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ আছে।’

তিনি বলেন, ‘উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার ও নতুন জাত আবিষ্কারের মাধ্যমে আমাদের অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকার নীতিগত ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি করেছে।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

অন্যান্যের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ লাইভস্টক রিসার্স ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. সৈয়দ আরিফ আজাদ, লাল তীর লাইভস্টকের চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা এবং আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু লুৎফে ফজলে রহিম খানসহ অন্যরা।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীলে উত্তরণের পরও সুইডেনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি

শেয়ার করুন

ইলেকট্রনিকস শিল্প গার্মেন্টসকে ছাড়িয়ে যাবে: সালমান এফ রহমান

ইলেকট্রনিকস শিল্প গার্মেন্টসকে ছাড়িয়ে যাবে: সালমান এফ রহমান

গাজীপুরে ওয়ালটনের কারখানা পরিদর্শনের সময় ওয়ালটনের ১ লাখ ফ্রিজ রপ্তানির সাফল্য উদযাপনে কেক কাটেন সালমান এফ রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তি খাতে ওয়ালটন সরকারের সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে। তাদের প্রোডাক্ট ডাইভারসিটি অনেক। তারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে। তারা সব ধরনের যন্ত্রাংশও তৈরি করছে। ওয়ালটন যখন বলে মেইড ইন বাংলাদেশ তখন সেটা সত্যিই মেইড ইন বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা ও উন্নয়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ালটন এ ক্ষেত্রে ব্যাপক কাজ করছে। বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে তাদের আরএন্ডডি খুবই সমৃদ্ধ।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেছেন, বেসরকারি শিল্প খাতের জন্য সরকার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। সেসব কাজে লাগিয়ে ইলেকট্রনিক্স শিল্প খুব দ্রুতই রপ্তানি খাতে গার্মেন্টস শিল্পকে ছাড়িয়ে যাবে।

গাজীপুরের চন্দ্রায় শনিবার ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনের সময় এসব কথা বলেন সালমান এফ রহমান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন আইএফআইসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাহ আলম সরোয়ার।

কারখানা কমপ্লেক্সে অতিথিদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম, পরিচালক এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম ও সাবিহা জারিন অরনা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুর্শেদ।

কারখানা পরিদর্শনের সময় ওয়ালটনের ১ লাখ ফ্রিজ রপ্তানির সাফল্য উদযাপনে বিশালাকার কেক কাটেন সালমান এফ রহমান।

এ সময় তিনি বলেন, ‘ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তি খাতে ওয়ালটন সরকারের সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে। তাদের প্রোডাক্ট ডাইভারসিটি অনেক। তারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করছে। তারা সব ধরনের যন্ত্রাংশও তৈরি করছে। ওয়ালটন যখন বলে মেইড ইন বাংলাদেশ, তখন সেটা সত্যিই মেইড ইন বাংলাদেশ। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা ও উন্নয়ন খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ালটন এ ক্ষেত্রে ব্যাপক কাজ করছে। বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে তাদের আরএন্ডডি খুবই সমৃদ্ধ।’

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের এমডি ও সিইও গোলাম মুর্শেদ বলেন, ইলেকট্রনিকস শিল্পই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। ওয়ালটন পণ্য এখন বিশ্বের ৪০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশের রেফ্রিজারেটর মার্কেটের ৭৫ শতাংশ ওয়ালটনের। এসির প্রায় ৫০ শতাংশ আর টিভির ৪০ শতাংশ মার্কেট ওয়ালটনের। এর অর্থ মানুষ ওয়ালটন পণ্যের প্রতি আস্থা ও ভরসা রাখছে।

কারখানা প্রাঙ্গণে অতিথিরা ওয়ালটনের বিশাল কর্মযজ্ঞের ওপর নির্মিত ভিডিও ডকুমেন্টারি উপভোগ করেন। পরে ওয়ালটনের সুসজ্জিত প্রোডাক্ট ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন। ওয়ালটনের মেটাল কাস্টিং, কম্প্রেসর, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, এলইডি টেলিভিশন, কম্পিউটার ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, হোম অ্যাপ্লায়েন্সসহ বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়াও সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন অতিথিরা।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ শফিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মামুন সরদার, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ডিএমডি হুমায়ূন কবীর ও আলমগীর আলম সরকার, ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ডিএমডি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, ওয়ালটনের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী পরিচালক কর্নেল (অব.) শাহাদাত আলম, উদয় হাকিম, তানভীর রহমান, আনিসুর রহমান মল্লিক, ফিরোজ আলম, ইউসুফ আলী, মোস্তফা নাহিদ হোসেন, আমিন খান ও ইয়াসির আল ইমরান, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ইউনিটের প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড কিম, নির্বাহী পরিচালক শাহজাদা সেলিম, আবদুল্লাহ আল মামুন, জাহিদুল আলম, শাহজালাল হোসেন লিমন, মহসিন আলী মোল্লাসহ আরও অনেকে।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীলে উত্তরণের পরও সুইডেনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি

শেয়ার করুন

তুরস্ক-মিয়ানমার থেকে এসেছে সাড়ে ৫ হাজার টন পেঁয়াজ

তুরস্ক-মিয়ানমার থেকে এসেছে সাড়ে ৫ হাজার টন পেঁয়াজ

তুরস্ক-মিয়ানমার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টন পেঁয়াজ এসেছে। ছবি: নিউজবাংলা

কর্মকর্তারা জানান, তুরস্ক থেকে ১১, ১২, ১৮ ও ২১ অক্টোবর ৪ হাজার ৪ টন পেঁয়াজ এসেছে। আরও কিছু পেঁয়াজ এই সপ্তাহে আসবে।

অতিবৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতে। এ কারণে সেখানে দামও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ দেশে ঢুকেছে। আমদানি বাড়ায় এখন খাতুনগঞ্জে কমেছে পেঁয়াজের দাম।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র ও টেকনাফ স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহে তুরস্ক থেকে এসেছে ৪ হাজার ৪ টন পেঁয়াজ। মিয়ানমার থেকে এসেছে এক হাজার ৬৯৮ টন।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক নাছির উদ্দিন বলেন, ‘তুরস্ক থেকে ১১, ১২, ১৮ ও ২১ অক্টোবর ৪ হাজার ৪ টন পেঁয়াজ এসেছে। আরও কিছু পেঁয়াজ এই সপ্তাহে আসবে। এরই মধ্যে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছেন আমদানিকারকরা।’

টেকনাফ স্থলবন্দরের উপপরিচালক শৈবাল কান্তি নন্দী জানান, মূলত বাংলাদেশ ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে দাম বেড়ে গেলে এখানকার ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে থাকেন। দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখতে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে।

রোববার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানি বাড়ায় দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমেছে। আড়তে এখন মিয়ানমারের নিম্নমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-২২ টাকা, উন্নতমানের পেঁয়াজ মানভেদে ৩৫-৩৭ টাকা। আর ভারতীয় পেঁয়াজ মানভেদে ৪৫-৪৭ টাকায় এবং তুরস্কের পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের আড়তদার ইদ্রিছ আলী বলেন, ‘দুই সপ্তাহের আগ থেকে বর্তমানে পাইকারিতে ২০ টাকা কমে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। আড়তে প্রচুর পেঁয়াজ এসেছে, সামনে আরও দাম কমবে।’

খাতুনগঞ্জের আড়তদার সমিতির সাবেক সভাপতি সোলায়মান বাদশা বলেন, ‘মিয়ানমারের পেঁয়াজগুলো ৫০ শতাংশ খারাপ। তবে তুরস্ক ও অন্যান্য দেশের পেঁয়াজগুলো মোটামুটি ভালো। প্রতিদিন শ শ ট্রাক পেঁয়াজ ঢুকছে দেশে। ভারতীয় পেঁয়াজের অভাব এবার বাজারে পড়ছে। দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই। উল্টো আরও দাম কমবে বলে মনে হচ্ছে।’

এদিকে পাইকারিতে কমে যাওয়া খুচরা পর্যায়েও দাম কমেছে পেঁয়াজের। চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার, নিউ মার্কেট ও কাজীর দেউড়ীর খুচরা দোকানে কেজিপ্রতি মানভেদে ৪৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম কমলেও এর সুফল ভোক্তারা এখনও পুরোপুরি পাচ্ছেন না। আমাদের দেশের বাজারব্যবস্থাটা এমন- কোনো কিছুর দাম বাড়লে সবাই বাড়িয়ে দেয়। কমলে সবাই কমায় না।

‘পেঁয়াজের দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে খুচরা পর্যায়েও কমার দরকার ছিল। এর জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেয়া দরকার।’

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীলে উত্তরণের পরও সুইডেনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি

শেয়ার করুন

আবারও নিলামে ১১২টি বিলাসবহুল গাড়ি

আবারও নিলামে ১১২টি বিলাসবহুল গাড়ি

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা ১১২ গাড়ি পঞ্চমবারের মতো নিলামে উঠবে। ছবি: নিউজবাংলা

নিলামে গাড়ি পেলেও বন্দর থেকে খালাস নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ক্লিয়ারেন্স পারমিট নিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে এটি সংগ্রহ করতে হবে। আগের নিলামগুলোতে গাড়ি বিক্রি না হওয়ার প্রধান কারণ এই জটিলতা। এ ছাড়া বেশির ভাগ গাড়ির যন্ত্রাংশ নেই। এমনকি বেশ কিছু গাড়ির চাবিই নেই।

চলাচলের অনুপযোগিতা ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র (ক্লিয়ারেন্স পারমিট বা সিপি) নিয়ে অনিশ্চয়তা রেখেই আমদানি করা ১১২টি বিলাসবহুল গাড়ি নিলামে তুলেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এর আগে চারবার নিলামে তোলা হলেও বিক্রি হয়নি এসব গাড়ি। তাই পঞ্চমবারের মতো ডাকা নিলামেও গাড়ি বিক্রি নিয়ে সন্দিহান বিডাররা (অংশগ্রহণকারীরা)। এবারের নিলামকে তারা প্রহসন হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

তবে এবারের নিলামে বিডার বাড়বে দাবি করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, মোংলাসহ পাঁচ স্থানে আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর দরপত্র দাখিল করা যাবে। পাশাপাশি ই-অকশানের (অনলাইন নিলাম) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে কাস্টমস কাঙ্খিত দর পাবে; আবার গাড়ি বিক্রির মাধ্যমে বন্দরের জায়গা খালি হবে, সরকারি কোষাগারেও জমা হবে বিপুল রাজস্ব।

জানা গেছে, ২০১৬ সালের আগস্টে, ২০১৭ সালের মে মাসে, ২০১৮ সালের ৩০ মে এবং ২০১৯ সালের ১৬ এপ্রিল বিলাসবহুল এসব গাড়ি নিলামে তোলা হয়। তখন কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় গাড়িগুলো বিক্রি করা সম্ভব হয়নি।

জার্মানি, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে তৈরি উচ্চমূল্যের বিএমডব্লিউ, মার্সিডিজ বেঞ্জ, ল্যান্ড ক্রুজার, ল্যান্ড রোভার, জাগুয়ার, লেক্সাস ও মিৎসুবিসির মতো দামি ব্র্যান্ডের বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে এগুলোর মধ্যে। ২০১১ সাল থেকে গাড়িগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আমদানিনীতি আদেশের শর্ত অনুযায়ী গাড়ি তৈরির সাল থেকে পাঁচ বছরের বেশি পুরোনো গাড়ি আমদানি করা যাবে না। কিন্তু এখানের বেশির ভাগ গাড়ি ১০ থেকে ১২ বছরের পুরোনো।

নিলামে গাড়ি পেলেও বন্দর থেকে খালাস নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ক্লিয়ারেন্স পারমিট নিতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে এটি সংগ্রহ করতে হবে। আগের নিলামগুলোতে গাড়ি বিক্রি না হওয়ার প্রধান কারণ এই জটিলতাগুলোই। এ ছাড়া বেশির ভাগ গাড়ির যন্ত্রাংশ নেই। এমনকি বেশ কিছু গাড়ির চাবিই নেই।

নিলাম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ জহিরুল ইসলাম নাঈম বলেন, ‘নিয়মিত নিলামে অংশ নিই। কিন্তু এবার নিব না। নিলামের ক্যাটালগে দেয়া বেশির ভাগ গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নেই। এসব দামি গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন।

‘তা ছাড়া নিলামে গাড়ি পেলেও সিপি নিতে হবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে। আমদানিনীতি আদেশ অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিপি দেবে না। আর সিপি না পেলে গাড়ি খালাস নিতে পারবেন না ক্রেতারা।’

ক্যাটালগ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৭ সালে জার্মানের তৈরি একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য দেয়া হয়েছে ২ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার টাকা। ২ হাজার ৯৯৩ সিসির গাড়িটির চাবি নেই। রাবার চ্যানেল, হুইল ও ব্যাটারি ব্যবহারের অনুপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের তৈরি ল্যান্ড রোভার গাড়ির দাম দেয়া হয়েছে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। গাড়িটির চাবি ও ড্যাশবোর্ড নেই।

জানা গেছে, সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশের কম দাম পেলে দ্বিতীয়বার নিলামে তুলতে হবে। তখন প্রথমবারের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হবে। তবে তৃতীয়বার যেকোনো মূল্যে বিক্রির এখতিয়ার রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপকমিশনার আল আমীন বলেন, ‘গাড়িতে কোনো সমস্যা থাকলে তা হিসাব করে দাম কম দেবে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিজ উদ্যোগে সিপি সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা করব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে ১১২টি গাড়ির জন্য স্পেশাল অনুমতি চাইব। এ ক্ষেত্রে গাড়ির যৌক্তিক দাম হাঁকতে হবে।’

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীলে উত্তরণের পরও সুইডেনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি

শেয়ার করুন

‘বেস্ট রিটেইল অর্গানাইজেশন অফ দ্য ইয়ার’ জিতল স্বপ্ন

‘বেস্ট রিটেইল অর্গানাইজেশন অফ দ্য ইয়ার’ জিতল স্বপ্ন

‘মোস্ট সাসটেইনেবল রিটেইল ইনিশিয়েটিভ’, ‘বেস্ট একুইজিশন স্ট্যাটেজি’ ক্যাটাগরিতেও পুরস্কার জিতে নিয়েছে স্বপ্ন। এবারই প্রথম বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডস ২০২১’ শীর্ষক অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি আয়োজিত হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করার পর জুরি বোর্ড ২৩ অক্টোবর রাতে এই পুরস্কার ঘোষণা করে।

মর্যাদাকর ‘বেস্ট রিটেইল অর্গানাইজেশন অফ দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় চেইন সুপারশপ ‌‘স্বপ্ন’। এই পুরস্কার ছাড়াও ‌‘মোস্ট সাসটেইনেবল রিটেইল ইনিশিয়েটিভ’, ‘বেস্ট একুইজিশন স্ট্যাটেজি’ ক্যাটাগরিতেও পুরস্কার জিতে নিয়েছে ‌স্বপ্ন।

এবারই প্রথম বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডস ২০২১’ শীর্ষক অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি আয়োজিত হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করার পর জুরি বোর্ড ২৩ অক্টোবর রাতে এই পুরস্কার ঘোষণা করে।

অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েট পার্টনার ছিল দ্য ডেইলি স্টার। অনুষ্ঠানে অন্যান্য পার্টনার হিসেবে আরও ছিল ওয়ার্ল্ড রিটেইল ফোরাম, রিটেইল স্টোর টুরস (স্ট্যাটেজিক পার্টনার), এমএসবি (নলেজ পার্টনার), আমরা (টেকনোলজি), ব্যাক পেইজ পিআর।

এর আগে বিশ্বের ১৭টি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশের জনপ্রিয় সুপারশপ ‘স্বপ্ন’ জিতে ‘(এএমএফ) ষষ্ঠ এশিয়া মার্কেটিং এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’, যা এশিয়ার ‘মার্কেটিং কোম্পানি অফ দ্য ইয়ার ২০২০’ নামে স্বীকৃত।

উল্লেখ্য, ‘স্বপ্ন’ তাদের যাত্রা শুরু করে ২০০৮ সালে। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ড ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮, ২০১৯ এবং ২০২০ সালে ‘সুপারস্টোর’ বিভাগে পর পর ৫ বার বেস্ট ব্র্যান্ড অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছে।

এ ছাড়া ২০১৯ ও ২০২০ সালে পর পর দুই বছর সব ক্যাটাগরিতে দেশের প্রথম ১০টি ব্র্যান্ডের মধ্যে স্থান করে নিতে পেরেছে ‘স্বপ্ন’। এ ছাড়া সুপার ব্র্যান্ড বাংলাদেশের অধীনে ২০১৮ এবং ২০২০-২১ সালে ‘সুপার ব্র্যান্ড’ হিসেবে পুরস্কার জিতেছে ‘স্বপ্ন’।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীলে উত্তরণের পরও সুইডেনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি

শেয়ার করুন

রংপুরে মজুরি বাড়ছে সবচেয়ে বেশি, সিলেটে কম

রংপুরে মজুরি বাড়ছে সবচেয়ে বেশি, সিলেটে কম

বিবিএসের মজুরি সূচকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে দেশে শ্রমিকদের গড়ে মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। মঙ্গাকবলিত উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের মজুরি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি – ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। আর কম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে যে অঞ্চলে, সেই সিলেট বিভাগে – ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। তবে বিশ্লেষকরা এ তথ্যের সঙ্গে একমত নন।

মহামারি করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দিনমজুর ও শ্রমিকদের মজুরিতে। গত তিন মাস ধরেই বাড়ছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক মজুরি।

তবে অবিশ্বাস্য তথ্য হচ্ছে, রংপুরে মজুরি বেড়েছে সবচেয়ে বেশি, সিলেটে সবচেয়ে কম।

সরকারি হিসাবে গত সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের গড়ে মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর অর্থ হলো, গত বছরের সেপ্টেম্বরে শ্রমিক ও দিনমজুররা গড়ে ১০০ টাকা মজুরি পেলে এই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে পেয়েছেন ১০৫ টাকা ৯১ পয়সা।

দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বর মাসে একসময়ের মঙ্গাকবলিত উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের শ্রমিক-দিনমজুরদের মজুরি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে – ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ।

আর কম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে যে অঞ্চলে, সেই সিলেট বিভাগে – ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) যে হিসাব দিচ্ছে, তাতে দেখা যায়, গত কয়েক মাস ধরেই রংপুর অঞ্চলের শ্রমিক ও দিনমজুররা অন্য বিভাগের শ্রমিক ও দিনমজুরদের চেয়ে বেশি মজুরি পাচ্ছেন।

তবে অর্থনীতির গবেষক সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান পরিসংখ্যান ব্যুরোর এই তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘এ তথ্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, কেউ বিশ্বাস করবে না।’

নিউজবাংলাকে সেলিম রায়হান বলেন, ‘ঢাকার চেয়ে রংপুরের শ্রমিক-দিনমজুররা বেশি মজুরি পান, এটা কীভাবে সম্ভব? বিবিএসের গবেষণা পদ্ধতিতেই গোলমাল আছে। প্রথম কথা হচ্ছে, এই মহামারিতে কোনো শ্রমিক-দিনমজুরেরই মজুরি বাড়েনি; তারপর আবার রংপুর বিভাগের দিনমজুর-শ্রমিকদের মজুরি বেশি বেড়েছে, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

এ প্রসঙ্গে বিবিএসের মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা মাঠপর্যায় থেকে যে তথ্য পাই, সেটাই প্রকাশ করি।’

গত বছরের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও তছনছ হয়ে যায়; পাল্টে যায় সব হিশাব-নিকাশ। যার প্রভাব পড়ে মজুরি সূচকে।

পরিসংখ্যান ব্যুরো বৃহস্পতিবার মজুরি সূচকের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। এর অর্থ হলো, গত সেপ্টেম্বরে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের চেয়ে দিনমজুর-শ্রমিকদের মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। আগের দুই মাস আগস্ট ও জুলাইয়ে এই হার ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮০ ও ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

গত অর্থবছরের শেষ দুই মাস জুন ও মে মাসে এই হার ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং ৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে গড় মজুরি সূচক ছিল ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা খানিকটা কমে ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশে নেমে আসে।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে তা আরও কমে ৬ দশমিক ১২ শতাংশে নেমে আসে।

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই সূচক ৬ শতাংশের নিচে নেমে এসে ৫ দশমিক ৭২ শতাংশে দাঁড়ায়। আগস্ট মাসে তা সামান্য বেড়ে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশে ওঠে। সেপ্টেম্বরে আরও খানিকটা বেড়ে ৫ দশমিক ৯১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

অর্থনীতির পরিভাষায়, মূল্যস্ফীতির চেয়ে মজুরি বৃদ্ধির হার বেশি হলে কারও কাছে হাত পাততে হয় না। নিজেদের ক্রয়ক্ষমতা দিয়েই বাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কেনা যায়।

রংপুরে মজুরি বাড়ছে সবচেয়ে বেশি, সিলেটে কম

বিবিএসের হিসাবে সেপ্টেম্বর মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এতে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব ধরলে, দিনমজুরদের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজার থেকে বেশি দামে তাদের পণ্য কিনতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি; বরং কর্মহীন হয়ে যাওয়া গরিব মানুষের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা ধরনের সহায়তা কর্মসূচি নিতে হচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনও পরিসংখ্যান ব্যুরোর মজুরি সূচকের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘অর্থনীতি শাস্ত্রের কোনো যুক্তিতেই বিবিএসের মজুরি হার বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়। সাধারণত যখন শ্রমিকের চাহিদা বাড়ে, সরবরাহ কম থাকে, তখন মজুরি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এই মহামারির সময়ে শ্রমিকের চাহিদা বেশ কমেছে। অনানুষ্ঠানিক খাতে বেকারের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। তাহলে মজুরি বাড়ল কোন ভিত্তিতে?

‘মজুরি যদি বাড়ত, তাহলে এই করোনাকালে সরকারকে এত সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিতে হতো না। বিবিএস হয়তো অতীতের মজুরি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে এই তথ্য দিয়েছে, যা কোনোভাবেই বাস্তবসম্মত নয়।’

বিবিএস প্রতি মাসে কৃষিশ্রমিক, পরিবহন কর্মী, বিড়িশ্রমিক, জেলে, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিকসহ ৪৪ ধরনের পেশাজীবীর মজুরির তথ্য সংগ্রহ করে মজুরি হার সূচক তৈরি করে। এসব পেশাজীবীর মজুরি খুব কম এবং দক্ষতাও কম। শুধু দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি পান বা নগদ টাকার পরিবর্তে অন্য সহায়তা পান, তার ভিত্তিতে কোন মাসে মজুরি হার কত বাড়ল, তা প্রকাশ করে বিবিএস। অথচ করোনায় এসব শ্রমিকই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

পরিসংখ্যান ব্যুরো যে ৪৪ ধরনের পেশাজীবীর মজুরির তথ্য নেয়, তার মধ্যে ২২টি শিল্প খাতের এবং ১১টি করে কৃষি ও সেবা খাতের পেশা। বেতনভোগী কিংবা উচ্চ আয়ের পেশাজীবীদের বিবিএসের মজুরি সূচকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।

করোনাকালে মজুরির হার বাড়ল কীভাবে – এই প্রশ্ন জাতীয় মজুরির হার সূচক তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিবিএসের জাতীয় আয় শাখার একাধিক কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা নিউজবাংলাকে বলেন, মাঠপর্যায়ে যে তথ্য পাওয়া গেছে, এর ভিত্তিতে মজুরি সূচকের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

করোনাকালে দিন আনে দিন খায় এমন মানুষের আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি দেশের একাধিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় উঠে এসেছে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) ও ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে অতি গরিব, গরিব, গরিব হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকা মানুষ এবং গরিব নয় এমন মানুষের দৈনিক আয় ৬৫ থেকে ৭৫ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে গরিব মানুষের আয় ৭৫ শতাংশ ও অতি গরিবের আয় ৭৩ শতাংশ কমেছে। আয় কমে যাওয়ায় সার্বিকভাবে ২৩ শতাংশ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে।

রংপুরে মজুরি বাড়ছে সবচেয়ে বেশি, সিলেটে কম

মহামারিতে দারিদ্র্য দ্বিগুণ বেড়ে ৪২ শতাংশ হয়েছে বলে গত জানুয়ারিতে হিসাব দিয়েছিল সানেম।

আরেক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) হিসাবে, করোনার কারণে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ২০১৯ সাল শেষে দারিদ্র্যের হার ছিল সাড়ে ২০ শতাংশ। করোনাকালে আয়বৈষম্যও বেড়েছে বলে মনে করে সিপিডি।

গবেষণা সংস্থাগুলোর গবেষণা প্রতিবেদনে করোনাকালে সমাজের সবচেয়ে নিচে থাকা মানুষের আয় বা মজুরি কমার তথ্য উঠে এলেও বিবিএসের জাতীয় মজুরি হার সূচকে উল্টো চিত্র দেখা যায়। সে জন্য সরকারি সংস্থাটির তথ্য-উপাত্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বরাবর প্রশ্ন ওঠে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬-১৭ সালের শ্রমশক্তি জরিপের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের কর্মসংস্থানের বড় অংশই হচ্ছে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। মোট শ্রমশক্তির ৮৫ দশমিক ১ শতাংশই এ খাতে নিয়োজিত। আর ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করে।

অন্যদিকে কৃষিক্ষেত্রে নিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির ৯৫ দশমিক ৪ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। শিল্প খাতের ৮৯ দশমিক ৯ শতাংশ, সেবা খাতের ৭১ দশমিক ৮ শতাংশ শ্রমিক অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত।

কোন বিভাগে মজুরি কত বাড়ল

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা বিভাগে মজুরি বেড়েছে ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাইয়ে এই হার ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৭২ ও ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে মজুরি বাড়ার হার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাইয়ে ছিল ৫ দশমিক ৮১ ও ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

রাজশাহীতে সেপ্টেম্বরে মজুরি বাড়ার হার ছিল ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগস্টে ছিল ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ; জুলাইয়ে ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

রংপুরে সেপ্টেম্বরে মজুরি বেড়েছে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। আগস্টে বেড়েছিল ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ; জুলাইয়ে বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ২০ শতাংশ।

বরিশাল বিভাগে সেপ্টেম্বর মাসে মজুরি সূচকের হার ছিল ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাইয়ে ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৭৪ ও ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

খুলনায় সেপ্টেম্বর মাসে মজুরি বেড়েছে ৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। আগস্ট ও জুলাই মাসে বেড়েছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৫৪ ও ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

আর সিলেট বিভাগে সেপ্টেম্বর মাসে মজুরি সূচকের হার ছিল ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আগস্টে ছিল ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ; জুলাইয়ে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
উন্নয়নশীলে উত্তরণের পরও সুইডেনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দাবি

শেয়ার করুন