তুরাগে যাত্রীসহ প্রাইভেটকার, নিহত ১

তুরাগে যাত্রীসহ প্রাইভেটকার, নিহত ১

প্রতীকী ছবি।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তুরাগ নদে পড়ে যায়। এসময় গাড়ি থেকে দুইজন বেরিয়ে আসতে পারলেও, আটকা পড়েন একজন।

ঢাকার সাভারে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তুরাগ নদে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইজন।

তাদের আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম ভোলা দাশ। আহত দুইজনের নাম জানা যায়নি।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তুরাগ নদে পড়ে যায়। এসময় গাড়ি থেকে দুইজন বেরিয়ে আসতে পারলেও, আটকা পড়েন একজন।

‘ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গাড়ির ভেতর থেকে একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। আহত দুইজনকে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।’

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, ‘পানিতে তলিয়ে যাওয়া প্রাইভেটকারের আহত দুই যাত্রীকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। পানির নিচে থাকা প্রাইভেটকারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

আরও পড়ুন:
বাসের ধাক্কায় গেল সেনা সদস্যের প্রাণ
নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত যুবক
ফ্লাইওভারে গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
রিকশাভ্যান উল্টে চালকের মৃত্যু
ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

শেয়ার করুন

মন্তব্য

জোড়া যমজ শিশু নিয়ে উৎকণ্ঠায় মা-বাবা

জোড়া যমজ শিশু নিয়ে উৎকণ্ঠায় মা-বাবা

সাভারে জন্ম নেয়া জোড়া লাগা জমজ শিশু। ছবি: নিউজবাংলা

বাবা সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হইছে। আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সহযোগিতা নিয়ে এই টাকা পরিশোধ করছি। এখন এই অবস্থা হলে আমার বাচ্চা দুইটার চিকিৎসা করব কীভাবে? শেষ পর্যন্ত আমার বাচ্চা দুইটার কপালে কি আছে জানি না।’

ঢাকার সাভারে জন্ম নেয়া জোড়া লাগানো যমজ শিশু নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় আছেন তাদের মা-বাবা।

চার দিন আগে জন্ম নেয়া শিশু দুটির চিকিৎসায় এরই মধ্যে লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়ে গেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে ব্যয়। এত টাকা খরচের সামর্থ্য না থাকায় শিশু দুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না শ্রমিক বাবা মো. সেলিমের।

স্বজনরা জানান, ১৮ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে সাভারের সুপার মেডিক্যাল হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে জমজ কন্যা শিশু দুটির জন্ম হয়। দুদিন আগে রাজধানীর শ্যামলীর শিশু হাসপাতালে শিশু দুটি ও তাদের মা সাথী আক্তারকে ভর্তি করা হয়েছে। শিশু দুটি সুস্থ থাকলেও তাদের মা কিছুটা অসুস্থ।

তারা আরও জানান, এ দম্পতির ১৫ ও ৮ বছরের দুটি মেয়ে রয়েছে। বাবা সেলিম রাজধানীর একটি ওয়ার্কসপে চাকরি করেন। তারা থাকেন সাভারের আশুলিয়ায় পলাশবাড়ী বাজার এলাকায় ভাড়া বাসায়।

শিশু দুটির চাচা দেলোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ভাই অনেক দিন প্রবাসে ছিলেন। ৪-৫ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন, কিন্তু তেমন কোনো পুঁজি না থাকায় ঢাকার একটি ওয়ার্কশপে অল্প বেতনে চাকরি নেন।’

বাবা সেলিম নিউজবাংলাকে জানান, ১৮ তারিখ সাভারের হাসপাতালে শিশু দুটি জন্মের পর রাত ১২টার দিকে ঢাকার শ্যামলীতে শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই জানিয়ে রাত ১টার দিকে তাদের পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

আইসিইউ না থাকায় তাদের সেখান থেকেও ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরে ভোর ৪টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তারা ফের সাভারের সুপার হাসপাতালে যান। পরদিন আবার শ্যামলীর শিশু হাসপাতালে নিয়ে মা-শিশুকে ভর্তি করেন।

তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মতো খরচ হইছে। সুপার হাসপাতালে ৫০-৬০ হাজার টাকা বিল দিছি। আর শিশু হাসপাতালে এই কয় দিনে আরও ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হইছে।

‘আত্মীয়-স্বজনদের কাছে সহযোগিতা নিয়ে এই টাকা পরিশোধ করছি। এখন এই অবস্থা হলে আমার বাচ্চা দুইটার চিকিৎসা করব কীভাবে? শেষ পর্যন্ত আমার বাচ্চা দুইটার কপালে কি আছে জানি না।’

আরও পড়ুন:
বাসের ধাক্কায় গেল সেনা সদস্যের প্রাণ
নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত যুবক
ফ্লাইওভারে গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
রিকশাভ্যান উল্টে চালকের মৃত্যু
ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

শেয়ার করুন

মন্দিরে হামলাকারীরা কোনো ধর্মের নয়: মেয়র আইভী

মন্দিরে হামলাকারীরা কোনো ধর্মের নয়: মেয়র আইভী

সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ছবি: নিউজবাংলা

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেন, ‘ইসলামে অন্য ধর্মকে আক্রমণ করার অনুমতি নেই। যারা মন্দিরে হামলা চালিয়েছে তারা মুসলিম নন, তারা জঙ্গি। আর জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই।’

দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে যারা হামলা চালিয়েছে তারা কোনো ধর্মের অনুসারী নয় বলে মন্তব্য করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

শহরের দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় বঙ্গবন্ধু সড়কে আয়োজিত এক সম্প্রীতি সমাবেশে শনিবার সকাল ১০টার দিকে এ মন্তব্য করেন আইভী।

তিনি বলেন, ‘ইসলামে অন্য ধর্মকে আক্রমণ করার অনুমতি নেই। যারা মন্দিরে হামলা চালিয়েছে তারা মুসলিম নন, তারা জঙ্গি। আর জঙ্গিদের কোনো ধর্ম নেই।’

একটি মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ধর্মীয় সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে উল্লেখ করে মেয়র আইভী বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি নষ্ট করতে মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে। জড়িতদের সাজা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের অপরাধ আর সংগঠিত হবে না।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই অপরাধে জড়িত তাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই, সম্প্রীতির শহর নারায়ণগঞ্জে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করবেন না। এখানে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে বাস করে। সম্প্রীতির এই আয়োজনে আজ যারা অংশ নেননি তাদের ধিক্কার জানাই।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল কাদির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন ও আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য আনিছুর রহমান দীপু।

আরও পড়ুন:
বাসের ধাক্কায় গেল সেনা সদস্যের প্রাণ
নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত যুবক
ফ্লাইওভারে গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
রিকশাভ্যান উল্টে চালকের মৃত্যু
ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

শেয়ার করুন

‘ভবঘুরে-উন্মাদ’ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

‘ভবঘুরে-উন্মাদ’ ইকবালকে ইন্ধন দিল কারা: প্রশ্ন গয়েশ্বরের

কুমিল্লার চকবাজার এলাকায় শনিবার মন্দির পরিদর্শন শেষে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: নিউজবাংলা

গয়েশ্বর বলেন, ‘জামায়াতকে দিনে দেখা যায় না, রাতেও দেখা যায় না, তারা কীভাবে হামলা-ভাঙচুর করতে পারে। হিন্দু-মুসলমানকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। না হয় ইন্ধনদাতাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না সরকার?’

ইকবালকে ভবঘুরে ও উন্মাদ দাবি করে তাকে ইন্ধন দিল কারা, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

তিনি বলেন, ‘ইকবাল ভবঘুরে-উন্মাদ, রাস্তায় রাস্তায় ঘোরে। কারা তাকে ইন্ধন দিল, সেটা খুঁজে বের করতে হবে।’

শনিবার কুমিল্লা নগরীর চকবাজার এলাকার শ্রীশ্রী চাঁন্দমনি রক্ষাকালী মন্দির পরিদর্শন শেষে তিনি এ বক্তব্য দেন।

গয়েশ্বর বলেন, ‘নানুয়ার দিঘির পাড়ের ঘটনার পর সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। কুমিল্লায় কিছু অপরিচিত যুবক বাড়িঘর, মন্দিরে হামলা-লুটপাট করে। অথচ পুলিশ মামলা দিচ্ছে বিএনপি-জামায়াত নেতাদের।

‘জামায়াতকে দিনে দেখা যায় না, রাতেও দেখা যায় না, তারা কীভাবে হামলা-ভাঙচুর করতে পারে। হিন্দু-মুসলমানকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে এটা সরকারের ষড়যন্ত্র। না হয় ইন্ধনদাতাদের কেন গ্রেপ্তার করছে না সরকার?’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা অজয় রায় চৌধুরী, গৌতম রায়, দেবাশীষ চৌধুরী, অমলেন্দু দাস, সৈয়দ জাহাঙ্গীর ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিনসহ অনেকে।

আরও পড়ুন:
বাসের ধাক্কায় গেল সেনা সদস্যের প্রাণ
নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত যুবক
ফ্লাইওভারে গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
রিকশাভ্যান উল্টে চালকের মৃত্যু
ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

শেয়ার করুন

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী

কুমিল্লায় সাম্প্রদায়িক হামলায় দিলীপ দাশের মৃত্যুর পর মুছে গেছে তার স্ত্রী রুপা দাশের সিঁথির সিঁদুর, পরেছেন সাদা শাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

দিলীপের মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যায় টিক্কার চর শ্মশানে দাহ করার আগে মুছে দেয়া হয় রুপার মাথার সিঁদুর, ভাঙা হয় হাতের শাঁখা। রঙিন শাড়ির পরিবর্তে তিনি এখন পরছেন বিধবার সাদা কাপড়।

দুই দিন আগেই পরনে ছিল রঙিন শাড়ি, মাথায় সিঁদুর আর হাতে শাঁখা। আর এখন সব রং মুছে দিয়ে সাদা শাড়িতে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছেন রুপা দাশ। স্বামীকে চিতার আগুনে পোড়ানোর আগে তার পায়ের বুড়ো আঙুলে মুছে দেয়া হয়েছে রুপার সিঁথির সিঁদুর।

কুমিল্লায় গত ১৩ অক্টোবর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় গুরুতর আহত হন দিলীপ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।

দিলীপের মরদেহ শুক্রবার সন্ধ্যায় টিক্কার চর শ্মশানে দাহ করার আগে মুছে দেয়া হয় রুপার মাথার সিঁদুর, ভাঙা হয় হাতের শাঁখা। রঙিন শাড়ির পরিবর্তে তিনি এখন পরছেন বিধবার সাদা কাপড়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সহিংসতার দিন সকালে বাসায় নাশতা সেরে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর রাজ রাজেশ্বরী কালীমন্দিরে পূজা দিতে গিয়েছিলেন দিলীপ দাশ।

নানুয়ার দিঘির পাড়ের একটি মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার পর তখন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে নগরীজুড়ে। রাজ রাজেশ্বরী কালীমন্দিরেও চলে হামলা।

সংঘাত দেখে বাসায় ফিরতে চেয়েছিলেন দিলীপ। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মন্দিদের গেটের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় হামলার শিকার হন, লুটিয়ে পড়েন মাটিতে।

রাজ রাজেশ্বরী কালীমন্দিরের পুরোহিত দুলাল চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে জানান, ১৩ অক্টোবর ওই সহিংসতার সময় মন্দির থেকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন দিলীপ। তবে বাইরে প্রচণ্ড গন্ডগোল শুরু হওয়ায় তিনি মন্দিরের গেটের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে মন্দিরের ভেতরে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে হামলাকারীরা। এ সময় গুরুতর আহত হলে পূজারীরা আহত দিলীপকে গামছা দিয়ে মাথা বেঁধে বসিয়ে রাখেন। পরে তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দিলীপের স্ত্রী রুপা দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওই দিন দেড়টায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ফোন পাই। এ সময় আমাদের বাসার সামনে পুলিশ ও হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলছিল। পুলিশ আমাদের বাইরে যেতে নিষেধ করে। এর মধ্যেই আমি এক আত্মীয়কে নিয়ে হাসপাতালে যাই।’

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি হয়। পরে বেলা ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। আমরা তাকে সেখানে নিলে চিকিৎসক সিটিস্ক্যান করাতে বলেন।’

রুপা দাশ অভিযোগ করে বলেন, ‘এ সময় হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকায় সিটিস্ক্যান করাতে আমাদের অন্তত আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী
পরিবারের কাছে দিলীপ দাশ এখন কেবলই ছবি

দিলীপ দাশ ধোপার কাজ করে সংসার চালাতেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে প্রিয়া রানী দাশ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। আর ছেলে রাহুল দাশ ঢাকায় লেখাপড়া করেন।

দিলীপের মেয়ে প্রিয়া বলেন, ‘বাবার মাথায় যে আঘাত দেখেছি তাতে স্পষ্ট যে হামলাকারীরা আমার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তার মাথার খুলি ভেঙে যায়। রক্তক্ষরণ ও তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমার বাবা মারা গেছেন।’

প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। দিলীপ দাশের মেয়ে প্রিয়া জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর তেমন কেউ খোঁজখবর নিতে আসেনি।

প্রিয়া নিউজবাংলাকে জানান, তিনি দৃষ্টিপাত নাট্যদলের সদস্য। তার বাবা হামলায় আহত হওয়ার পর ওই নাট্য সংগঠন চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। এ ছাড়া কেউ এগিয়ে আসেনি।

শাঁখা ভেঙে সিঁদুর মুছে সাদা শাড়িতে দিলীপের স্ত্রী
ছেলে মেয়েকে নিয়ে চোখে অন্ধকারে দেখছেন দিলীপের স্ত্রী


দিলীপের স্ত্রী জানান, তাদের পরিবারের মূল নির্ভরশীলতা ছিল স্বামীর আয়ের ওপর। পাশাপাশি একটি ছোট দোকান ভাড়া দিয়ে মাসে পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

রুপা দাশ বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর আমরা বড় সমস্যায় পড়েছি। দোকান ভাড়ার মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় কীভাবে সংসার চলবে, দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাব তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন:
বাসের ধাক্কায় গেল সেনা সদস্যের প্রাণ
নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত যুবক
ফ্লাইওভারে গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
রিকশাভ্যান উল্টে চালকের মৃত্যু
ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

শেয়ার করুন

মণ্ডপে হামলা: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগ

মণ্ডপে হামলা: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগ

কমলগঞ্জে দুটি মণ্ডপে ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা। ছবি: নিউজবাংলা

মণ্ডপে হামলার অভিযোগগুলো কেন মামলা হিসেবে নেয়া হচ্ছে না, জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, দুটি মণ্ডপ ছাড়া বাকিগুলোতে তেমন বড় কোনো হামলা হয়নি। আসা-যাওয়ার পথে গেট ভাঙচুর করা হয়েছে। এগুলো জিডি আকারে আছে, তারা খতিয়ে দেখছেন।

কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় একাধিক মণ্ডপে ভাঙচুর হলেও সব ঘটনায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

মণ্ডপ কমিটির অভিযোগ, উপজেলায় ১৩ তারিখ রাতে পাঁচটিসহ মোট ১৪টি মণ্ডপে হামলা চালানো হয়। তবে পুলিশ মামলা নিয়েছে মাত্র দুটি। আরও চারটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও তা মামলা হিসেবে নেয়া হয়নি। বারবার চেষ্টা করেও মামলা করতে পারেনি মণ্ডপ কমিটি।

আর পুলিশের দাবি, হামলা হয়েছে আটটি মণ্ডপে। এর মধ্যে যে দুটি মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে সেখানকার মামলা নেয়া হয়েছে। অন্য মণ্ডপগুলোতে ছোটখাটো হামলা হয়েছে। এ জন্য জিডিগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, ভাঙচুর করতে গিয়ে অনেক জায়গায় প্রতিরোধের মুখে পড়ে হামলাকারীরা। এ জন্য সব জায়গায় সমান ক্ষতি হয়নি। দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বাকিগুলোতে মণ্ডপ, গেট, ডেকোরেশনসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তার দাবি, প্রতিরোধের কারণে হামলা হলেও সব মণ্ডপে মূর্তি ভাঙতে পারেনি দুর্বৃত্তরা। আবার ঘটনার দিন ভয়ে অনেকে হামলার কথা প্রকাশও করেনি। তাদের হিসাবে, ১৩ তারিখ রাত থেকে দশমীর পরদিন পর্যন্ত ১৪টি মন্দিরে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টিতে অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ মামলা নিয়েছে দুটি। অন্য মণ্ডপসংশ্লিষ্টরা ভয়ে মামলা করতে চাইছে না।

পূজা উদযাপন পরিষদের এই নেতা বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু তারা যখন দেখছে অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে নেয়া হচ্ছে না, তখন তারা আরও উৎসাহ হারাচ্ছে। আর পুলিশ কেন এমন করছে, তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।’

কুমিল্লার ঘটনার পর গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন স্থানীয়রা। সেই মিছিল থেকে মইদাইল সর্বজনীন পূজামণ্ডপ ও কামারছড়া চা-বাগান পূজামণ্ডপের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।

এ ছাড়া বৃন্দাবনপুর জগন্নাথ জিউর আখড়া পূজামণ্ডপ, বৈরাগির চক সর্বজনীন পূজামণ্ডপ, রামপুর সর্বজনীন পূজামণ্ডপ, নারায়ণক্ষেত্র শব্দকর একাডেমি পূজামণ্ডপ, রহিমপুর ইউনিয়নের শ্রীঘর পূজামণ্ডপ ও রানীরবাজারের সর্বজনীন পূজামণ্ডপের গেটে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই ঘটনায় হওয়া দুটি মামলায় এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতপরিচয়সহ প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মন্সিবাজার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুনিল মালাকার জানান, তার ওয়ার্ডে পড়েছে রামপুর ও নারায়ণক্ষেত্র মণ্ডপ দুটি। এখানে হামলা হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। মামলা দিতে কয়েকবার থানায় গেলেও ফিরে আসতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার গিয়েছি, কিন্তু আমাদের অভিযোগকে কেন মামলা হিসেবে নেয়া হলো না, তা আমরা বুঝতে পারিনি।

‘ওসি সাহেব বলেছেন, ক্ষতি বেশি হয়েছে যে দুইটার, তার মামলা নিয়েছি। আমরা প্রতিরোধ করার কারণে আমাদের এখানে ক্ষতি কম হয়েছে, কিন্তু মামলা নেয়ার ব্যাপারে ক্ষয়ক্ষতির হিসেবটা বুঝিনি। আমাদের বড় ক্ষতি হলে মামলা নিয়ে কী হতো?’

বাসুদেবপুর সর্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মলয় মালাকার জানান, ১৩ অক্টোবর তাদের মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর হয়। পরদিন থানায় অভিযোগ দেন। তবে শনিবার পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। বারবার তাগাদা দিলেও কাজ হচ্ছে না।

কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, ‘মইদাইল সর্বজনীন দুর্গামন্দির ও কামারছড়া চা-বাগান পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের জানামতে, কমলগঞ্জ উপজেলায় মোট আটটি পূজামণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুর হয়।’

অভিযোগগুলো কেন মামলা হিসেবে নেয়া হচ্ছে না, জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ‘বাকিগুলোতে তেমন বড় কোনো হামলা হয়নি। আসা-যাওয়ার পথে গেট ভাঙচুর করা হয়েছে। এগুলো জিডি আকারে আছে, আমরা খতিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
বাসের ধাক্কায় গেল সেনা সদস্যের প্রাণ
নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত যুবক
ফ্লাইওভারে গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
রিকশাভ্যান উল্টে চালকের মৃত্যু
ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

শেয়ার করুন

ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা: আটক ৮

ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা: আটক ৮

উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা মসজিদ

এপিবিএন-৮-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার বলেন, শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অস্ত্রসহ আটক মুজিবুর রহমান বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় ৮ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-৮-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

শুক্রবার অস্ত্রসহ আটক মুজিবুর রহমান বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।

৬ জন নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময়ে এসব ক্যাম্পে সহিংসতা ঘটতে পারে বলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গার স্রোত নামার পর গত চার বছরে এ রকম আতঙ্কজনক পরিস্থিতি আর কখনও তৈরি হয়নি। হামলার ভয়ে রোহিঙ্গাদের অনেক নেতা ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এই হামলায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে পুলিশ বলছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কিন্তু আরসার নাম ব্যবহার করে অপতৎরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

যে মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে, সেটি পরিচালনা করে ইসলামি মাহাস নামের রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠন। ওই সংগঠনটির সঙ্গে আরসার দ্বন্দ্ব আছে বলে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। তবে আরসার সশস্ত্র হামলার বিষয়ে ১৮ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দারা কথা বললেও তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

গুলিতে নিহত নুর আলম ওরফে হালিমের স্বজন ও ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি রাতে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক-ছাত্র ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা মিলে তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করেন। আমিও নিয়মিত তাহাজ্জুতে শরিক হই। তবে বৃহস্পতিবার আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় মসজিদে দেরিতে যাই।

‘কিন্তু আমি গিয়ে দেখি মাদ্রাসার ভেতরে সবাই ছোটাছুটি করছে। অনেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করছে। তাদের দেখে আমি দূরে সরে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এরপর সন্ত্রাসীরা চলে যায়।’

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লাম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ডি ব্লকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) কার্যালয়ে ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন।

আরসা নেতা আবদুর রহিমের নেতৃত্ব ২০ থেকে ২৫ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ওই হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পর্যন্ত মুহিবুল্লাহ হত্যার সঙ্গে জড়িত আরসার ৫ জন সদস্য ও ৪০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। আরসার সদস্যদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে ইসলামি মাহাসের সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন—এই ধারণা থেকে ওই মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছে রোহিঙ্গারা।

১৮ নম্বর ক্যাম্পের মাঝি আবুল কালাম বলেন, ‘প্রত্যাবাসন নিয়ে ইসলামি মাহাসের সঙ্গে আরসার বিরোধ আছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর মাহাসের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে গেছে।

‘আরসা মনে করছে, তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সরকারি বাহিনীকে সহযোগিতা করছে মাহাস। তা ছাড়া মাহাসের মাদ্রাসাটি আরসা এর আগেও দখল করতে চেয়েছিল। হুকুমতের (সরকারি) বাহিনী মাদ্রাসাটি রক্ষা করতেছে। সব মিলিয়ে এই হামলাটি হয়েছে।’

তবে পুলিশ বলছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আরসার অস্তিত্ব নেই। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খান বলেন, ‘মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কিন্তু আরসার নাম ব্যবহার করে অপতৎরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।’

গুলি করে হত্যায় নিহতরা হলেন দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও বালুখালী ২ নম্বর শিবিরের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস, বালুখালী-৯ নম্বর শিবিরের ব্লক-২৯–এর বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন, বালুখালী ১৮ নম্বর ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক আজিজুল হক ও মোহাম্মদ আমিন, একই মাদ্রাসার শিক্ষক ও বালুখালী-১৮ নম্বর শিবিরের ব্লক-এফ-২২-এর নুর আলম ওরফে হালিম এবং মাদ্রাসার শিক্ষক ও ২৪ নম্বর শিবিরের হামিদুল্লাহ। এর মধ্যে প্রথম চারজন ঘটনাস্থলেই এবং অপর দুজনকে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের ক্যাম্পে দাফন করা হয়েছে।

শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নানান অপরাধ ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের হত্যা করছে? এ প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর কাঠামো, আধিপত্য বিস্তার, আবাস-বিন্যাস, ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিবৃদ্ধি এবং নানান জাতের অবৈধ কারবারের বিস্তারে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় সাতটি দল। সেগুলোর মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের জন্য দ্বন্দ্বরত বিভিন্ন ছোট দল ও উপদলের মধ্যকার সংঘাত নিয়মিত চলছে। দলগুলোর মধ্যে কোনো একটি দল এ হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে লাভবান হয়েছে। এ জন্য তারা হামলা চালিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
বাসের ধাক্কায় গেল সেনা সদস্যের প্রাণ
নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত যুবক
ফ্লাইওভারে গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
রিকশাভ্যান উল্টে চালকের মৃত্যু
ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

শেয়ার করুন

চবি ছাত্রলীগ কর্মীকে ‘পেটালেন’ বাড়ির মালিক

চবি ছাত্রলীগ কর্মীকে ‘পেটালেন’ বাড়ির মালিক

চবির সহকারী প্রক্টর এসএএম জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বাড়ির মালিক মারধর করেছেন বলে শুনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ বক্সে আনা হলে তিনি একেকবার একেক কথা বলেন। আমরা বিষয়টি হাটহাজারি থানায় হ্যান্ডওভার করেছি।’

ভাড়া নিয়ে তর্ক করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যম্পাসের বউবাজারের কাছে শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র। তিনি ছাত্রলীগের উপগ্রুপ-ভিএক্স এর কর্মী।

অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বউবাজারের কাছে বিসমিল্লাহ্ ভবন-১ এর মালিক মো. জসিম।

মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃ্হস্পতিবার রাতে ভর্তি পরীক্ষার্থী রাখার জন্য জসিমের সঙ্গে বাসা ভাড়া নিয়ে আমার আলোচনা হয়। ছয় হাজার টাকায় তিনি বাসা ভাড়া দিতে রাজি হন। শুক্রবার সকালে তাকে ফোন দিলে তিনি বাসা ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ জানতে চাইলে বলেন, এখানে স্যার-ম্যাডাম থাকেন, তারা নিষেধ করেছেন। খবর নিয়ে জানলাম, এখানে স্যার ম্যাডাম থাকেন না।

‘এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার তর্কাতর্কি হয়। এরপর চার-পাঁচটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে তার লোকজন নেমে আমাকে মারধর শুরু করে। জিরো পয়েন্টে এলে আমাকে আবার মারধর করা হয়। এ সময় আমার মোবাইল ভেঙে যায়।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর হাটহাজারি থানার ওসি (তদন্ত) আমাকে উদ্ধার করেন। এরপর প্রক্টোরিয়াল বডি আসে। এই ঘটনায় আমি হাটহাজারি থানায় অভিযোগ করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এসএএম জিয়াউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বাড়ির মালিক মারধর করেছেন বলে শুনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ বক্সে আনা হলে তিনি একেকবার একেক কথা বলেন। আমরা বিষয়টি হাটহাজারি থানায় হ্যান্ডওভার করেছি।’

হাটহাজারি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষার্থী রাখার জন্য বাড়ি ভাড়ার টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। একজন আট হাজার টাকা বলছেন, আরেকজন ছয় হাজার। এটা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি, ঝগড়া বিবাদ। আমরা মীমাংসা করে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
বাসের ধাক্কায় গেল সেনা সদস্যের প্রাণ
নসিমন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত যুবক
ফ্লাইওভারে গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যু
রিকশাভ্যান উল্টে চালকের মৃত্যু
ট্রাকচাপায় নিহত অটোরিকশার ২ যাত্রী

শেয়ার করুন