বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়িতে গুলি, আহত ২

বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়িতে গুলি, আহত ২

বান্দরবানে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক আকাশ মারমা জানান, বান্দরবানের রুমা থেকে রাজস্থলী পোয়াইতি মুখ পাড়ার ১৯ জন পর্যটক ফেরার পথে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের গলাচিপা এলাকায় হামলার শিকার হন। এ সময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে একদল সন্ত্রাসী। এতে দুই জন আহত হন।

বান্দরবানে একটি গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ২ আদিবাসী নারী আহত হয়েছেন। জেলার গলাচিপা এলাকায় শনিবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই নারীর একজন য়‌ইসিং‌নু মারমা, অন্যজন মেহাইসিং মারমা। তারা কাপ্তাই চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টান হাসপাতলে ভর্তি আছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক আকাশ মারমা জানান, বান্দরবানের রুমা থেকে রাজস্থলী পোয়াইতি মুখ পাড়ার ১৯ জন পর্যটক ফেরার পথে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের গলাচিপা এলাকায় হামলার শিকার হন। এ সময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে একদল সন্ত্রাসী। এতে দুই জন আহত হন।

এ ঘটনায় জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করছে স্থানীয়রা। জেএসএস অবশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়িতে হামলার ঘটনার কথা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, মিলল ২ মরদেহ
সন্তানকে ম্যাজিস্ট্রেটের গুলি ছোড়া শেখানোর ভিডিও ভাইরাল
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ
রাঙ্গামাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১
নিজেকে অবরুদ্ধ করে বাবার পিস্তল দিয়ে যুবকের গোলাগুলি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

চুল কর্তন: ফারহানার শাস্তি চেয়ে ফের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

চুল কর্তন: ফারহানার শাস্তি চেয়ে ফের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীদের চুল কাটায় অভিযুক্ত শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকার অফিসে শুক্রবার বিকেলে সিন্ডিকেট বৈঠক হয়। টানা তিন ঘণ্টা বৈঠকের পরও ফারহানার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সিন্ডিকেট। বিষয়টি জানার পর অনশন কর্মসূচি ও লাগাতার আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেয়া শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট বৈঠক মুলতবি করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ফের আন্দোলনে নেমেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকার অফিসে শুক্রবার বিকেলে সিন্ডিকেট বৈঠক হয়। টানা তিন ঘণ্টা বৈঠকের পরও ফারহানার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সিন্ডিকেট।

বিষয়টি জানার পর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে অপেক্ষমান শিক্ষার্থীরা জরুরি বৈঠক করে ফের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন। তারা অনশন কর্মসূচি ও লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন।

শিক্ষার্থীরা দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে শাহজাদপুরের কান্দাপাড়ার প্রশাসনিক ভবনের সামনে অনশন এবং বিসিক বাসস্ট্যান্ড এলাকার শাহজাদপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচি শুরু করেন।

এতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

চুল কর্তন: ফারহানার শাস্তি চেয়ে ফের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রবীন্দ্র উপাচার্য ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা অফিসে সিন্ডকেট বৈঠক ডাকেন ভিসি। বৈঠক হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে আন্দোলনকারীদের পক্ষে শিক্ষার্থী শামীম হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুক্রবারের সিন্ডিকেট বৈঠকে শিক্ষিকা ফারহানা ইয়াসমিনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত আশা করেছিলাম, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আমাদের পরীক্ষার হলে ফিরে যেতে বলেন। আমরা তাদের এ আদেশ গ্রহণ না করে শিক্ষিকা ফারহানার স্থায়ী বরখাস্ত না হওয়া পর্যন্ত আবারও আন্দোলন শুরু করেছি।’

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও ট্রেজারার আব্দুল লতিফ এবং রেজিস্ট্রার সোহরাব আলী জানান, শুক্রবার সিন্ডিকেট সভায় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কিছু মতভেদের কারণে পরবর্তীতে আবার বৈঠক হবে। এখন আবার ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করেছে।

চুল কর্তন: ফারহানার শাস্তি চেয়ে ফের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা

২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ অধ্যয়ন বিভাগের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী প্রক্টর ফারহানা ইয়াসমিন বাতেন দরজায় কাঁচি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীরা হলে ঢোকার সময় যাদের মাথার চুল হাতের মুঠোর মধ্যে ধরা যায়, তাদের সামনের অংশের বেশ খানিকটা কেটে দেন তিনি। এভাবে ১৪ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।

ওই ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। শিক্ষক ফারহানার শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে দফায় দফায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। মীমাংসা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ফারহানা ইয়াসমিন শিক্ষার্থীদের গালাগালি করে পরীক্ষার হলে যেতে বাধ্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে নাজমুল হাসান তুহিন নামের প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে গালাগালি করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বহিষ্কারের হুমকি দেন।

ওই ঘটনার পর ‘অপমান সইতে না পেরে’ তুহিন রাতে দ্বারিয়াপুরের শাহ মখদুম ছাত্রাবাসের নিজ কক্ষে দরজা আটকে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনার পর থেকে শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের শাস্তির দাবিতে দফায় দফায় আন্দোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন:
বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, মিলল ২ মরদেহ
সন্তানকে ম্যাজিস্ট্রেটের গুলি ছোড়া শেখানোর ভিডিও ভাইরাল
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ
রাঙ্গামাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১
নিজেকে অবরুদ্ধ করে বাবার পিস্তল দিয়ে যুবকের গোলাগুলি

শেয়ার করুন

পঞ্চগড়ের মোটা বালু, অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

পঞ্চগড়ের মোটা বালু, অব্যবস্থাপনায় রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

পঞ্চগড়ের নদ-নদীতে উজান থেকে আসা নুড়ি পাথর, সিলিকা ও মোটা দানার বালুর চাহিদা রয়েছে সারা দেশে। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক এই সম্পদের ক্ষেত্র। করতোয়া, মহানন্দা, ডাহুক, চাওয়াই, করুম, ভেরসাসহ অন্যান্য নদীর বিশাল এলাকা থেকে তোলা হচ্ছে মোটা ও সিলিকা বালু। এসব বালু বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক, বহুতল ভবনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়ের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক নদ-নদী। এসব নদ-নদীতে উজান থেকে আসে মূল্যবান নুড়ি পাথর, সিলিকা ও মোটা দানার বালু।

গুণগত মানের কারণে পঞ্চগড়ের সিলিকা ও মোটা দানার বালুর চাহিদা এখন দেশজুড়ে। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি বালু সংরক্ষণ ও বিপণনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় পরিবেশেরও ক্ষতি হচ্ছে।

পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রয়েছে প্রাকৃতিক এই সম্পদের ক্ষেত্র। করতোয়া, মহানন্দা, ডাহুক, চাওয়াই, করুম, ভেরসাসহ অন্যান্য নদীর বিশাল এলাকা থেকে তোলা হচ্ছে মোটা ও সিলিকা বালু। এসব বালু বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক, বহুতল ভবনসহ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা থেকে ভজনপুর-তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা এলাকা পর্যন্ত করতোয়াসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পাড়ে প্রায় হাজারখানেক স্থান থেকে বালু তোলা হয়। সারা বছর এসব স্থান থেকে দিন-রাত চলে বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ।

স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন এসব বালু শত শত ট্রাকে ঢাকা, বগুড়া, রাজশাহী, চাঁপাই, পাবনা, কুষ্টিয়া, মাগুরা, খুলনাসহ পাঠানো হয় দেশের বিভিন্ন জেলায়।

নদী থেকে বালু উত্তোলন, পরিবহন ও বালু ব্যবসায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত দুই লাখের বেশি মানুষ। একজন বালুশ্রমিক সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আয় করেন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।

পরিবেশ ও প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন, জেলার ভূগর্ভস্থ নুড়ি পাথর এবং বিভিন্ন নদ-নদীর সিলিকা ও মোটা দানার বালু উত্তোলন, বিপণন ও সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারি কোনো নীতিমালা নেই। এতে কিছু মানুষ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে নামমাত্র মূল্যে ইজারা দিয়ে লাভবান হচ্ছে।

এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। আর পরিবেশ বিপর্যয় করে অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এসব সম্পদ আহরণ করায় জেলার জীববৈচিত্র্যে নানা প্রভাব পড়ছে।

পঞ্চগড় জেলা আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সদস্য আবু বক্কর সিদ্দীক বলেন, ‘পঞ্চগড় জেলায় ভূগর্ভস্থ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে সরকারের সুষ্ঠু কোনো পরিকল্পনা নেই। বর্তমানে জমি যার, খনি তার এই নীতিতেই চলছে। পরিকল্পিতভাবে এসব সম্পদের ব্যবহার করতে না পারলে ভবিষ্যতে পরিণতি খারাপ হবে।’

অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের বলেন, ‘নদীকেন্দ্রিক এই জনপদের বালু, পাথরসহ অন্যান্য সম্পদ সংরক্ষণ, বিপণন যেভাবে চলছে, তাতে সম্ভাবনার জায়গাগুলো অতি দ্রুতই বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।

প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে অতিরিক্ত লোড নিয়ে বালু-পাথর পরিবহন করায় গ্রামীণ জনপদের রাস্তাঘাট ভেঙে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। আর লাভবান হচ্ছে একটি মহল। জাতীয় স্বার্থে সরকারের এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন।’

তবে বালু ব্যবসায়ীদের দাবি, সব খরচ বাদ দিয়ে তাদের খুব বেশি লাভ থাকে না।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বটতলীর বালু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বাবলু জানান, ১০ চাকার একটি ট্রাকে মান অনুযায়ী ৮ হাজার থেকে ১৩ হাজার টাকার বালু বিক্রি হয়। এ ক্ষেত্রে ইজারাদারকে দিতে হয় ৮০০ টাকা।

নিজের নৌকার খরচসহ শ্রমিকদের আনুষাঙ্গিক উপকরণ সরবরাহ করতে হয়। ট্রাকপ্রতি বালু শ্রমিকদের দিতে হয় পাঁচ হাজার টাকা। সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ট্যাক্স।

ইজারাদার আব্দুর রহমান জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিবছর বালুমহালের ডাক বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যবসায় তেমন লাভ আর হয় না। তবে এলাকার শ্রমিকরা খেয়ে-পরে জীবন চালাতে পারছেন।

জেলা পাথর-বালু ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আবু সালেক বলেন, ‘জেলার ১৫টি বালুমহাল থেকে চলতি বছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪ কোটি ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্থানীয় অর্থ বাণিজ্যে এই শিল্প ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। সঠিক নীতিমালা অনুসরণ করে এই সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করতে পারলে অর্থ বাণিজ্যে এই জেলা স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।’

পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট জানান, এখানকার বালুর গুণগত মান উন্নত। দেশে চাহিদা রয়েছে প্রচুর। সঠিক ব্যবস্থাপনায় সুষ্ঠু বিপণনে সরকার কাজ করছে। দেশের কংক্রিট শিল্পে বড় ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নে এই বালুর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

পঞ্চগড় সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এই জেলার মোটা দানার বালু দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে চলে যাচ্ছে। সরবরাহ ও বন্দোবস্তের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হতে পারলে সরকার লাভবান হবে।

আরও পড়ুন:
বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, মিলল ২ মরদেহ
সন্তানকে ম্যাজিস্ট্রেটের গুলি ছোড়া শেখানোর ভিডিও ভাইরাল
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ
রাঙ্গামাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১
নিজেকে অবরুদ্ধ করে বাবার পিস্তল দিয়ে যুবকের গোলাগুলি

শেয়ার করুন

এক কিলোমিটার সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি

এক কিলোমিটার সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় মানিকগঞ্জ পৌরসভার বেউথা-আন্দারমানিক সড়কটিতে চলাচলে লাখো মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

যোগাযোগ সহজ হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে জেলার হরিরামপুর, ঘিওর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। বাস, ট্রাক, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট-বড় হাজারো যানবাহন চলে এই সড়কে। তবে সংস্কারের অভাবে পিচঢালাই উঠে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় শত শত গর্ত তৈরি হয়েছে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার বেউথা-আন্দারমানিক সড়কটি সংস্কার করা হয়নি দীর্ঘদিন। এতে সড়কের পিচ উঠে পরিণত হয়েছে মেঠো রাস্তায়। গ্রীষ্মে এ সড়কে থাকে ধুলা, আর বর্ষায় কাদা। মাত্র এক কিলোমিটার সড়কটির এমন অবস্থায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছে লাখো মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, জেলা শহরের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের সহজ মাধ্যম এই সড়ক। তবে সড়কটির বেহাল অবস্থায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, যোগাযোগ সহজ হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে জেলার হরিরামপুর, ঘিওর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করে। বাস, ট্রাক, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ ছোট-বড় হাজারো যানবাহন চলে এই সড়কে।

তবে সংস্কারের অভাবে পিচঢালাই উঠে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় শত শত গর্ত তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় লুৎফর রহমান লাভলু জানান, ‘গরমের দিনে নাক-মুখ ঢাইকা কোনোমতে চলা যায়, কিন্তু বৃষ্টির দিনে চলাচল করা যায় না। রাস্তায় বাইর হইলে গাড়ির চাকার কাদা-পানিতে জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। এভাবে চলাচল করা যায় আপনেই বলেন?’

আন্দারমানিক এলাকার টুটুল মিয়া জানান, ‘দীর্ঘদিন ধইরা রাস্তার মেরামত করা হই না। বেশি খারাপ হইলে মাঝেমধ্যে ইট আর সুরকি ফালায়। বৃষ্টি নামলেই রাস্তায় অ্যাক্সিডেন্ট হয়।

‘হয় গর্তে পড়ে যায়, না হয় কাদায় পিছলাইয়া যায়। মাঝেমধ্যে দেখি অটোবাইক উল্টাইয়া রইছে। বৃষ্টির দিনে রাস্তায় কম বের হই। মাইনসের বাড়ির ওপর দিয়া যাওয়া-আসা করি।’

ট্রাকচালক আবু কাদের জানান, ‘ভাইজান সারা রাস্তা ভালোই আসি। যখনই এই রাস্তায় ঢুকি মেজাজ খারাপ হইয়া যায়। খারাপের তো একটা ধরন আছে। এই রাস্তা এতই খারাপ যে, এর চাইতে খেতও ভালো। আল্লায় জানে এইখানে প্রশাসন আছে কি না।’

অটোরিকশাচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘অটো এমনেই ঝুঁকি। তার মধ্যে ভাঙাচোরা আর কাদার রাস্তা। মাঝেমধ্যেই গাড়ি নিয়া পইরা যাই। যাত্রীদের হাত-পা ছুইলা যায়। জামা-কাপড় নষ্ট হইয়া যায়। অনেক সময় যাত্রীরাও রাগারাগি করে। কী করুম, গাড়ি তো চালাইতে হইব।’

যাত্রী আমেনা, বিলকিস, নাজমাসহ বেশ কয়েকজন জানান, এই রাস্তায় যাতায়াত করলে শরীরের হাড় পর্যন্ত ব্যথা হয়ে যায়। বাড়িতে গিয়ে অনেকের ওষুধ খাওয়া লাগে। তা ছাড়া পড়ে গিয়ে মাঝেমধ্যেই আহত হতে হয়।

মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবু মো. নাহিদ বলেন, ‘রাস্তার দুই পাশের পানি বের হওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় পানি জমে। এতে মানুষের কষ্ট হয়। নতুন একটা প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করি, প্রজেক্টটা পাস হলে রাস্তাও সোজা হবে এবং মানুষের ভোগান্তিও কমবে।

আরও পড়ুন:
বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, মিলল ২ মরদেহ
সন্তানকে ম্যাজিস্ট্রেটের গুলি ছোড়া শেখানোর ভিডিও ভাইরাল
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ
রাঙ্গামাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১
নিজেকে অবরুদ্ধ করে বাবার পিস্তল দিয়ে যুবকের গোলাগুলি

শেয়ার করুন

বিস্ফোরণে আহত কিশোর পাথর শ্রমিক

বিস্ফোরণে  আহত কিশোর পাথর শ্রমিক

বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে আহত রনি। ছবি: নিউজবাংলা

হরবলা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থলবন্দরের পাথর কোয়ারিতে ছোট ডিভাইসের মতো কিছু একটা পেয়ে কৌতূহলবশত হাতে নেয় রনি। পরে বন্দরের কাছেই ভাড়ায় নেয়া ঘরে যায় সে। একপর্যায়ে ডিভাইসে লাগানো দুটি কেব্‌ল একসঙ্গে লাগানোর চেষ্টা করলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় রনি।  

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দরে বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে এক কিশোর পাথর শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে। পুলিশ বলছে, পাথরভাঙা বোমার বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরের নাম রনি। সে নালিতাবাড়ীর উত্তর কাপাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

রনির নানি পাথর শ্রমিক হরবলা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থলবন্দরের পাথর কোয়ারিতে ছোট ডিভাইসের মতো কিছু একটি পেয়ে কৌতূহলবশত হাতে নেয় সে। পরে বন্দরের কাছেই ভাড়ায় নেয়া ঘরে যায় রনি। একপর্যায়ে ডিভাইসে লাগানো দুটি কেব্‌ল একসঙ্গে লাগানোর চেষ্টা করলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় সে।

এমন অবস্থায় হরবলা তাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

তিনি জানান, পরে রনির পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত ৯টার দিকে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রনিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহাম্মেদ বাদল বলেন, ‘আমাদের লোক ঘটনাস্থলে গেছে। এখনও আসেনি। ধারণা করা হচ্ছে, পাথরভাঙা বোমায়ই এ ঘটনা ঘটতে পারে। এটি পরীক্ষা ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, মিলল ২ মরদেহ
সন্তানকে ম্যাজিস্ট্রেটের গুলি ছোড়া শেখানোর ভিডিও ভাইরাল
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ
রাঙ্গামাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১
নিজেকে অবরুদ্ধ করে বাবার পিস্তল দিয়ে যুবকের গোলাগুলি

শেয়ার করুন

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার, ফেস্টুন-তোরণে ভরে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতা-কর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে, বিশেষ করে শহরে যেদিকেই তাকানো হোক শুধু ব্যানার-পোস্টার আর ফেস্টুন। সে সঙ্গে জেলার মহাসড়ক থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, তৈরি করা হয়েছে বড় বড় তোরণ।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সে সভাকে ঘিরেই এমন সাজ সাজ অবস্থা।

১৭ বছর পর যুবলীগের কমিটি গঠনের যে গুঞ্জন সেটি এই বর্ধিত সভায় আলোচনা হবে। এ জন্য সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে শহর ছেয়ে ফেলেছেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।
জেলা শহর ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রবেশপথ আশুগঞ্জ থেকে শুরু শহরের কাউতলী, টিএ রোড, কালীবাড়ির মোড়, কুমাড়শীল মোড়, কোর্ট রোড, সাবরেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি স্কুল-কলেজের ভবনে লাগানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন।

একইভাবে সার্কিট হাউস এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও লাগানো হয়েছে ব্যানার ও তোরণ।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতা-কর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর এলাকায় তোরণ লাগিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সভাপতি ভিপি হাসান সারোয়ার। তিনি যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী।

শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর পর বর্ধিত সভা হচ্ছে। তা নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। তা ছাড়া কমিটি নিয়েও জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতারা। নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জ থেকে শুরু করে জেলা শহরের প্রধান সড়ক পর্যন্ত ২৬টি তোরণ বসিয়েছি। তা ছাড়া শহরজুড়েই টাঙিয়েছি ব্যানার ফেস্টুন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন বছরের জন্য ২০০৪ সালের ২৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটি গঠন হয়েছিল। ১৭ বছর পার হলেও নতুন কমিটি হয়নি। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ৪ বার হয়েছে। তাতে সাবেক ছাত্রলীগের নেতারাও পদহীন আছেন দীর্ঘদিন।

২০০৪ সালে অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্যবিশিষ্ট জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সে কমিটি ঘোষণার প্রায় এক বছর পর ২০০৫ সালের ১৮ জুন কেন্দ্রীয় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম তিন বছর মেয়াদে এই কমিটির অনুমোদন দেন।

তবে সে কমিটি তিন বছরের জন্য অনুমোদন দেয়া হলেও ১২ বছর পার হয়। পরে জেলা যুবলীগের কমিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম খোকন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চলে যান।

এরপর সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শাহনুর ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।
এদিকে যুবলীগের কমিটির অপেক্ষায় বসে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা-কর্মীরা। এবার নতুন কমিটিতে তারা পদ পাবেন বলে প্রত্যাশার কথা জানান।

সে জন্য বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন ১৪ জন প্রার্থী।

নতুন কমিটিতে সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস, সৈয়দ এহতেশামুল বারী তানজিল, হাজি মাহমুদুল হক ভূইয়া,হাসান সারোয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, আলী আজম, শাহসুদ আলম, হাবিবুর রহমান পারভেজ, মাসুম বিল্লাহসহ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে বিভিন্ন প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, ‘নানা কারণে ২০১৪ সালের পর আর সম্মেলন হয়নি। আমরা যেসব কমিটি দিয়েছিলাম সবগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, আখাউড়া ও আশুগঞ্জ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছিল তিন মাসের জন্য। তারও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।’

তিনি জানান, জেলায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় কমিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন:
বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, মিলল ২ মরদেহ
সন্তানকে ম্যাজিস্ট্রেটের গুলি ছোড়া শেখানোর ভিডিও ভাইরাল
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ
রাঙ্গামাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১
নিজেকে অবরুদ্ধ করে বাবার পিস্তল দিয়ে যুবকের গোলাগুলি

শেয়ার করুন

মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পেতেন মানবতাবিরোধী অপরাধী

মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পেতেন মানবতাবিরোধী অপরাধী

গ্রেপ্তার তারা মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আঠারবাড়ি এলাকার স্কুলশিক্ষক আব্দুল লতিফকে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তারা মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে ওই শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়। তদন্ত চলার সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে রাজাকার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক স্কুলশিক্ষককে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। অথচ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতাসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন।

এমন অভিযোগে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইটাউলিয়া গ্রামের তারা মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জন ঘোষ জানান, গ্রেপ্তার তারা মিয়া প্রতারণার মাধ্যমে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধা সেজে ছিলেন। এত দিন সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আসন গ্রহণ করাসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে দাপটও খাটিয়েছেন। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে অন্য মুক্তিযোদ্ধারা ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ হলেও প্রকাশ্যে সবাই নীরব ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আঠারবাড়ি এলাকার স্কুলশিক্ষক আব্দুল লতিফকে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তারা মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে ওই শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়। তদন্ত চলার সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়াকে মঞ্চে বসে থাকতে দেখা যেত। তখন মনে মনে কষ্ট নিয়ে ভেবেছিলাম, আমি জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করেছি, আর সে রাজাকার হয়েও মঞ্চে বসে আছে।’

তিনি বলেন, ‘এত দিন পর হলেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা খুশি। তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতুদণ্ড হবে- এমনটাই আশা করি।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘১৯৮৪ সালের দিকে তারা মিয়া ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তিনি ভাতাসহ সরকারি সব সুবিধা ভোগ করেছেন। আদালতের রায়ে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি কার্যকর করা প্রয়োজন।’

বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপরই অভিযানে নামে কোতোয়ালি মডেল থানা ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেক আসামিকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তার সাতজন হলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইটাউলিয়া গ্রামের তারা মিয়া ও হাবিবুর রহমান মেনু মিয়া, কালিয়ান গ্রামের রুস্তম আলী, সোহাগী বাজার এলাকার সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান, ফানুর গ্রামের আব্দুল মান্নান, সোহাগী চরপাড়া এলাকার আব্দুল হান্নান এবং পৌরসভার কাকনহাটি এলাকার শহীদুল্লাহ ফকির।

একাত্তরে গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহে এদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, মিলল ২ মরদেহ
সন্তানকে ম্যাজিস্ট্রেটের গুলি ছোড়া শেখানোর ভিডিও ভাইরাল
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ
রাঙ্গামাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১
নিজেকে অবরুদ্ধ করে বাবার পিস্তল দিয়ে যুবকের গোলাগুলি

শেয়ার করুন

পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম

পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম

সাভারে পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

যমজ শিশুর চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই অনেকদিন প্রবাসে ছিলেন। ৪-৫ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ঢাকার একটি ওয়ার্কশপে অল্প বেতনে চাকরি করেন। সিনথিয়া ও নাদিয়া নামে তার দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তাদের যমন দুটি সন্তান হয়। কিন্তু তাদের দুজনের পেছনের অংশ জোড়া লাগা।’

ঢাকার সাভারে পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ কন্যা শিশুর জন্ম হয়েছে।

চার দিন আগে জন্ম নেয়া নবজাতককে গত বুধবার রাজধানীর শ্যামলীতে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশু দুটি সুস্থ্য থাকলেও তাদের মা কিছুটা অসুস্থ বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার রাতে নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কাছে যমজ শিশু চাচা দেলোয়ার হোসেন ভিডিও ও ছবি পাঠান।

গত ১৮ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে সাভারের সুপার মেডিক্যাল হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্ম হয়।

যমজ শিশুটির মা সাথী আক্তারের আগেও ১৫ ও ৮ বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে। বাবা মো. সেলিম রাজধানীর একটি ওয়ার্কশপে চাকরি করেন।

সেলিম পরিবার নিয়ে সাভারের আশুলিয়ায় পলাশবাড়ী বাজার এলাকায় নুরুল ইসলামের ভাড়া বাড়িতে থাকেন।

দেলোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ভাই অনেকদিন প্রবাসে ছিলেন। ৪-৫ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ঢাকার একটি ওয়ার্কশপে অল্প বেতনে চাকরি করেন।

‘সিনথিয়া ও নাদিয়া নামে তার দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তাদের যমন দুটি সন্তান হয়। কিন্তু তাদের দুজনের পেছনের অংশ জোড়া লাগা।’

যমজ শিশু দুটির বাবা সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ তারিখ সাভারের সুপার হাসপাতালে আমার স্ত্রীর দুইটা যমজ বাচ্চা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে ঢাকার শ্যামলীতে শিশু হাসপাতালে পাঠায়। শিশু হাতপাতাল থেকে পরে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। সেখানেও আইসিইউ নাই জানিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরে শিশু হাসপাতালে এনে ভর্তি করি।’

জোড়া লাগানো শিশুকে আলাদা করা যাবে কিনা জানেন না সেলিম। এরই মধ্যে তার অনেক টাকা খরচ হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘সুপার হাসপাতালে ৫০-৬০ হাজার টাকা বিল দিছি। আর শিশু হাসপাতালে এই কয় দিনে আরও ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হইছে।’

শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত এই বাবা বলেন, ‘আত্মীয়স্বজনদের কাছে সহযোগিতা নিয়ে এই টাকা পরিশোধ করছি। এখন এই অবস্থা হলে আমার বাচ্চা দুইটার চিকিৎসা করাবো কীভাবে? শেষ পর্যন্ত আমার বাচ্চা দুইটার কপালে কী আছে জানি না।’

আরও পড়ুন:
বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, মিলল ২ মরদেহ
সন্তানকে ম্যাজিস্ট্রেটের গুলি ছোড়া শেখানোর ভিডিও ভাইরাল
শোক দিবসের অনুষ্ঠানে ‘ছাত্রলীগের গোলাগুলি’, মহাসড়ক অবরোধ
রাঙ্গামাটিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১
নিজেকে অবরুদ্ধ করে বাবার পিস্তল দিয়ে যুবকের গোলাগুলি

শেয়ার করুন