লো-ভোল্টেজ ও লোডশেডিংয়ে নাজেহাল রংপুর

লো-ভোল্টেজ ও লোডশেডিংয়ে নাজেহাল রংপুর

প্রতীকী ছবি

রংপুর অঞ্চলের নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, ‘সাপ্লাই কম থাকায় লো-ভোল্টেজ হচ্ছে। আমরা বিষয়টি উচ্চ পর্যায় জানিয়েছি। একটি ট্রান্সমিটার নষ্ট হবার কারণে অন্যগুলো দিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা হচ্ছে। এ কারণে একটু লোডশেডিং হচ্ছে। সমস্যাগুলো দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে।’

বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ আর লোডশেডিংয়ে নাজেহাল রংপুর নগরীর বাসিন্দারা। গত এক সপ্তাহ ধরে দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

স্থানীয় লোকজন জানান, দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলেও প্রায় এক মাস বিদ্যুতের লুকোচুরি চরমে উঠেছে। কখন বিদ্যুৎ আসে, কখন যায় তার ঠিক নেই। আবার লো-ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক সামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। গরমে ঘরে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা দায়। এ পরিস্থিতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে মন্দা। মার্কেটগুলোতে ক্রেতার উপস্থিতি কম।

শনিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেছে নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)। পরিস্থিতির জন্য দু:খ প্রকাশ করেছে তারা।

নেসকো জানায়, রংপুর নগরীতে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা গড়ে ৮৫০ মেগাওয়াট। তবে সময় ভেদে কিছুটা হেরফের হয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৬০০-৭০০ মেগাওয়াট।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। ওই কেন্দ্র থেকে আগে দেড় শ মেগাওয়াট পেলেও এখন মিলছে ৭৬ মেগাওয়াট।

কর্মকর্তারা জানান, রংপুরে নেসকোর তিনটি ইউনিট আছে। প্রতিটি ইউনিটে দুইটি করে পাওয়ার ট্রান্সমিটার। শুক্রবার সন্ধ্যায় নেসকো-১ (বাজার ফিডার) এর একটি ট্রান্সমিটার বিকল হয়। ট্রান্সমিটার কুড়িগ্রাম থেকে আনা হচ্ছে। ৪০ টন ট্রান্সমিটারটি স্থাপন করতে সময় লাগছে।

ট্রান্সমিটার মেরামত করে পুনরায় স্থাপনে কমপক্ষে সাতদিন সময় লাগবে। সাতদিনের আগে সংকট কাটছে না।

লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজ নিয়ে নেসকোর দেয়া ব্যাখ্যায় অসন্তুষ্ট নগরবাসী। তারা বলছেন, গড়ে প্রতিদিন ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের অভাবে এমন পরিস্থিতি হতে পারে না। আগে এর চেয়ে বেশি ঘাটতি থাকলেও মানুষের দুর্ভোগ ছিল কম।

নগরীর জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী সোলায়মান সাফিন বলেন, ‘দিনে ৬-৭ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনা চলছেই। অনেক সময় বিদ্যুৎ আসার পর থাকছে একটানা এক ঘণ্টারও কম।’

রংপুর প্রেসক্লাব বিপনী বিতানের ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘লো-ভোল্টেজের কারণে মেশিন চলছে না, মেশিন নষ্ট হচ্ছে।’

কামাল কাছনা এলাকার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলায় আমরা অতিষ্ঠ। সকালে বিদ্যুৎ থাকে না, দুপুরে থাকে না। আবার রাতে ৩-৪ ঘণ্টার লোডশেডিং।’

নগরীর গুঞ্জন মোড় এলাকার শাহানুর বেগম বলেন, ‘লো-ভোল্টেজে টেলিভিশন চলে না, ফ্যান ঘুরলেও বাতাস নেই। ফ্রিজ নষ্টের পথে।’

রংপুর অঞ্চলের নেসকোর প্রধান প্রকৌশলী শাহাদৎ হোসেন সরকার বলেন, ‘সাপ্লাই কম থাকায় লো-ভোল্টেজ হচ্ছে। আমরা বিষয়টি উচ্চ পর্যায় জানিয়েছি। একটি ট্রান্সমিটার নষ্ট হবার কারণে অন্যগুলো দিয়ে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা হচ্ছে। এ কারণে একটু লোডশেডিং হচ্ছে। সমস্যাগুলো দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাসসংকট

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দুধের শিশু সঙ্গে নেয়ায় ক্লাস থেকে বহিষ্কার

দুধের শিশু সঙ্গে নেয়ায় ক্লাস থেকে বহিষ্কার

নাটোরের রাণী ভবানী সরকারি মহিলা কলেজ। ছবি: নিউজবাংলা

ওই ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, শিশুদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে অংশ নেয়ায় অধ্যক্ষ মঞ্জুরা বেগম ও সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা তিন ছাত্রীকে বের করে দেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তাদের আর অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছাত্রীর সন্তানকে কোলে নিয়ে শিক্ষকের ক্লাস করার ছবি ভাইরাল হওয়ার পর প্রশংসা বাণীর মধ্যে উল্টো একটি ঘটনা ঘটল নাটোরে।

জেলার রাণী ভবানী সরকারি মহিলা কলেজের অনুষ্ঠানে শিশু সন্তান নিয়ে যাওয়ায় তিন ছাত্রীকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, বৃহস্পতিবার কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে নিজেদের সন্তান নিয়ে যান ওই তিন ছাত্রী। শিশু নিয়ে যাওয়ায় পরে অনুষ্ঠান থেকে তাদের বের করে দেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ মঞ্জুরা বেগম এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন।

রোববার এ নিয়ে দুই ছাত্রী ফেসবুকে পোস্ট দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়। দুই শিক্ষকের ছবিসহ ‘এমন শিক্ষকের হাত ধরে কীভাবে এগোবে নারী শিক্ষা’ শিরোনামে দেয়া ওই পোস্টের পর শুরু হয়েছে প্রতিবাদ ও নিন্দা। এ ছাড়া শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যেও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিজেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন দুই শিক্ষক।

সহকারী অধ্যাপক তাসলিমার দাবি, শিশুরা কান্না করায় অনুষ্ঠানে বিঘ্ন হচ্ছিল। এ জন্য তিনি তাদের বাইরে ঘুরে আসতে বলেছেন। আর অধ্যক্ষ শুনিয়েছেন ষড়যন্ত্রতত্ত্বের কথা। তার দাবি, এমন কিছু তিনি করেননি। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

ওই ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া এক ছাত্রী অভিযোগ করেন, শিশুদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে অংশ নেয়ায় অধ্যক্ষ মঞ্জুরা বেগম ও সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা তিন ছাত্রীকে বের করে দেন। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করলেও তাদের আর অনুষ্ঠানে ঢুকতে দেয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক তাসলিমা বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠানে খুবই ছোট্ট বাচ্চারা কান্নাকাটি করায় অনুষ্ঠানে বিঘ্ন হচ্ছিল। তাই আমি তাদের সেখান থেকে বের হয়ে একটু ঘুরে আসতে বলেছি।

‘তাদের সাথে ছবিও উঠেছি। বের করে দেয়া ঠিক না। আমি তাদের অনুরোধ করেছি মাত্র। তবে এখনও পোস্টটি দেখিনি, তাই এই বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

অধ্যক্ষ মঞ্জুরা বেগম বলেন, ‘এমন কোনোই ঘটনা ঘটেনি। আমি অল্প দিন হলো কলেজটিতে যোগদান করেছি। একটি মহল আমাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

‘আপনি নাম ঠিকানা দেন। তাদের সাথে কথা বলি। তারা যে ভাষায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে তা কোনো শিক্ষার্থীর ভাষা হতে পারে না। কারো ইন্ধনে ওই কজন শিক্ষার্থী ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। আপনারা ষড়যন্ত্রের কারণ খুঁজে বের করেন।’

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছেন। তিন শিক্ষার্থীকে যোগাযোগ করতে বলেছেন। তাদের কাছ থেকে ঘটনা শুনে বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাসসংকট

শেয়ার করুন

ডাব পাড়তে গিয়ে মৃত্যু

ডাব পাড়তে গিয়ে মৃত্যু

ডাব পাড়তে গিয়ে মারা গেছেন ব্যবসায়ী শরিফুল আলম বাচ্চু। ছবি: সংগৃহীত

রোববার দুপুরে নিজ বাড়ির দোতলার ছাদের পাশে একটি নারকেলগাছ থেকে হাত বাড়িয়ে ডাব পাড়তে যান ওই ব্যবসায়ী। এ সময় পা-পিছলে পড়ে যান তিনি। জেলা সদর হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে ডাব পাড়তে গিয়ে বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

শহরের দক্ষিণ পৈরতলা মাজার গেট এলাকায় রোববার বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তির নাম শরিফুল আলম বাচ্চু। ৫৫ বছর বয়সী বাচ্চু পৈরতলা মাজার গেট এলাকার সাবেক মেম্বর আজগর আলীর ছেলে ও সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানের ছোট ভাই।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, বাচ্চু দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি দেশে ফিরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার যন্ত্রপাতির ব্যবসা শুরু করেন।

রোববার দুপুরে বাড়ির দোতলার ছাদের পাশে একটি নারকেলগাছ থেকে হাত বাড়িয়ে ডাব পাড়তে যান বাচ্চু। এ সময় পা-পিছলে পড়ে যান তিনি।

পুলিশ আরও জানায়, আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা বাচ্চুকে জেলা সদর হাসপাতালে আনেন। পরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফাইজুর রহমান ফয়েজ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।’

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাসসংকট

শেয়ার করুন

প্রাইভেট কারচালক হত্যার ৯ বছর পর ছয়জনের যাবজ্জীবন

প্রাইভেট কারচালক হত্যার ৯ বছর পর ছয়জনের যাবজ্জীবন

প্রাইভেট কারচালক হত্যা মামলায় দণ্ডিত দুই আসামি। ছবি: নিউজবাংলা

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১২ সালের ১৪ জুলাই রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে প্রাইভেট কার চালিয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে রওনা দেন খোকা। রাত ১১টার দিকে খোকার স্ত্রী তাকে ফোন দিলে অপরিচিত একজন ধরে জানান, খোকা তার মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে রেখে চারজন যাত্রী নিয়ে সিলেটের জাফলং চলে গেছেন। দুই দিন পর পুলিশ মানিকগঞ্জ সদর থানার অরঙ্গবাদ এলাকার হাকিম আলীর মৎস্য খামারের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

মানিকগঞ্জে প্রাইভেট কারচালক হত্যার ৯ বছর পর ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক উৎপল ভট্টাচার্য রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ রায় দেন।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিরঞ্জন বসাক।

দণ্ডিতরা হলেন ঢাকার সাভারের জোরলপুর কান্দার চর এলাকার দুই ভাই হাসান মিয়া ও ইজু মিয়া, একই এলাকার আব্দুর রহিম মাহমুদ, হেমায়েতপুরের জয়নাবাড়ী এলাকার মনির হোসেন, দারোগ আলী এবং বাগেরহাটের শরণখোলার দক্ষিণ রাজাপুর এলাকার আব্দুর রহিম।

রায় ঘোষণার সময় দারোগ আলী ও আব্দুর রহিম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা পলাতক।

আনোয়ার হোসেন খোকা হত্যা মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১২ সালের ১৪ জুলাই রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে প্রাইভেট কার চালিয়ে সাভারের হেমায়েতপুরে রওনা দেন খোকা। রাত ১১টার দিকে খোকার স্ত্রী পাপিয়া আক্তার তাকে ফোন দিলে অপরিচিত একজন ধরেন। তিনি জানান, খোকা তার মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে রেখে চারজন যাত্রী নিয়ে সিলেটের জাফলং চলে গেছেন।

দুই দিন পর পুলিশ মানিকগঞ্জ সদর থানার অরঙ্গবাদ এলাকার হাকিম আলীর মৎস্য খামারের পাশ থেকে খোকার মরদেহ উদ্ধার করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে শনাক্ত করেন।

এরপর খোকার বড় ভাই আতিকুল ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর থানায় অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় দারোগ আলী ও আব্দুর রহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আইনজীবী নিরঞ্জন বসাক জানান, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। এরপর ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেয়া হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম, লুৎফর রহমান ও শেখ মো. নজরুল ইসলাম জানান, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাসসংকট

শেয়ার করুন

সরকারি অফিস-হাসপাতালে দালালি, কারাগারে ১৬

সরকারি অফিস-হাসপাতালে দালালি, কারাগারে ১৬

মানিকগঞ্জে সরকারি অফিস ও হাসপাতালে দালালির অভিযোগে রোববার ১৬ জনকে আটক করে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন রাশেদুল ইসলাম, রায়হান মিয়া, আরিফ হোসেন, মো. শাওন, মেহেদী হাসান, রাসেল মিয়া, মো. শাহজাহান, মো. সম্রাট, ইলিয়াস হোসেন, আয়নাল মিয়া, নাসির হোসেন, নরেশ চন্দ্র শীল, রায়হান উদ্দিন, মনির হোসেন, জবেদা বেগম, রাশেদা বেগম। তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায়।

মানিকগঞ্জে সরকারি অফিস ও হাসপাতালে দালালির অভিযোগে দালাল চক্রের ১৬ সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বোরবার বেলা আড়াইটার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ মো. জুবায়ের তাদের কারাদণ্ড দেন।

দণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন রাশেদুল ইসলাম, রায়হান মিয়া, আরিফ হোসেন, মো. শাওন, মেহেদী হাসান, রাসেল মিয়া, মো. শাহজাহান, মো. সম্রাট, ইলিয়াস হোসেন, আয়নাল মিয়া, নাসির হোসেন, নরেশ চন্দ্র শীল, রায়হান উদ্দিন, মনির হোসেন, জবেদা বেগম, রাশেদা বেগম। তাদের বাড়ি মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায়।

মানিকগঞ্জ অঞ্চলের র‌্যাব-৪-এর কোম্পানি কমান্ডার আরিফ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সকাল থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস এবং সদর হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দালালসহ ২৩ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১৬ নারী ও পুরুষ তাদের অপরাধ স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাতজনকে ১০ দিন এবং নয়জনকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে ।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দালালমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাসসংকট

শেয়ার করুন

সোনাগাজীতে ট্রাকচাপায় স্কুলছাত্র নিহত

সোনাগাজীতে ট্রাকচাপায় স্কুলছাত্র নিহত

প্রতীকী ছবি

দুপুরে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সামনের সড়ক পার হচ্ছিল তিহাম। এ সময় সওদাগর হাটগামী একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। আহত অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে বিকেলে হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফেনীর সোনাগাজীতে ট্রাকচাপায় এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে।

উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে উপজেলা সদরের সোনাগাজী বাজারের প্রধান সড়কে ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সামনে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত স্কুলছাত্রের নাম সোহান কায়সার তিহাম। সে উপজেলার চরমজলিশপুর ইউনিয়নের চান্দলা গ্রামের একরামুল হকের ছেলে এবং সোনাগাজী মোহাম্মদ ছাবের মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্র।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রহিম।

পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সামনের সড়ক পার হচ্ছিল তিহাম। এ সময় সওদাগর হাটগামী একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। আহত অবস্থায় প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে বিকেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিদর্শক আবদুর রহিম জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় ট্রাকটি জব্দ করলেও এর চালক পলাতক। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাসসংকট

শেয়ার করুন

বাঘাইছড়িতে গুলি করে হত্যা

বাঘাইছড়িতে গুলি করে হত্যা

ইউপিডিএফ (প্রসিত) সাজেক থানার সমন্বয়ক আর্জেন্ট চাকমা দাবি করেন, দীপন জ্যোতি ইউপিডিএফের বিচার বিভাগীয় শাখার প্রধান। তিনি ওই এলাকায় একটি বিচারের কাজেই গিয়েছিলেন।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাঘাইছড়িতে একজনকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া গেছে।

দীঘিনালা ইউনিয়নের বাঘাইছড়িমুখ এলাকায় রোববার বেলা আড়াইটার দিকে বন্দুকধারীরা হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত দীপন জ্যোতি চাকমা উপজেলার কবাখালি ইউনিয়নের হাচিনসনপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- ইউপিডিএফের (প্রসিত) পক্ষের নেতা বলেও জানান চেয়ারম্যান।

ইউপিডিএফ (প্রসিত) সাজেক থানার সমন্বয়ক আর্জেন্ট চাকমা দাবি করেন, দীপন জ্যোতি ইউপিডিএফের বিচার বিভাগীয় শাখার প্রধান। তিনি ওই এলাকায় একটি বিচারের কাজেই গিয়েছিলেন।

এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) দলকে দায়ী করে হত্যার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

চেয়ারম্যান প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা বলেন, আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনের বিরোধের জেরে দীপনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি এবং মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি।

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাসসংকট

শেয়ার করুন

কঠিন চীবর দানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা

কঠিন চীবর দানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা

আশুলিয়ার উদযাপিত কঠিন চীবর দান। ছবি: নিউজবাংলা

ধর্মীয় গুরু নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে বলেন, ‘যারা দুঃখী ব্যক্তি তারা যেন মুক্তিলাভ করেন। যারা সুখী আছেন তারা যেন আরও সুখী হন। ইহলোকে যেমন সুখী হয়, পরলোকেও যেন জন্ম-জন্মান্তরে তারা সুখী হতে পারে। পুরো বিশ্বে যেন সম্প্রীতি বজায় থাকে।’

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উদযাপন চলছে ঢাকার সাভারে। আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় বন বিহার বৌদ্ধমন্দিরে শুক্রবার ভোর থেকে গৌতম বুদ্ধের উপাসনায় মগ্ন হয়েছেন পুণ্যার্থীরা।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দলে দলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা মন্দিরে জড়ো হতে থাকেন। উৎসবমুখর পরিবেশে নানা ধর্মীয় আচার পালন করেন তারা।

সেখানে ধর্মীয় গুরু পরম পূজ্য নন্দপাল মহাস্থবির ভান্তে ত্রিপিঠক পাঠ করেন। পুণ্যার্থিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই দানের মাধ্যমে প্রার্থনা করা হয় নিজের পরে যেন মানবজাতি সুখে থাকে। এরপর যে সমস্ত প্রাণী বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে আছে তারাও যেন সুখী থাকে।

‘সেই প্রাণীদের জন্যও আমরা এই পুণ্য বিতরণ করি। যারা দুঃখী ব্যক্তি তারা যেন মুক্তিলাভ করেন। যারা সুখী আছেন তারা যেন আরও সুখী হন। ইহলোকে যেমন সুখী হয়, পরলোকেও যেন জন্ম-জন্মান্তরে তারা সুখী হতে পারে। পুরো বিশ্বে যেন সম্প্রীতি বজায় থাকে।’

কঠিন চীবর দানে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কামনা

হিলি চাকমা নামে এক পুণ্যার্থী বলেন, ‘এই অনুষ্ঠানের জন্য সবাই অনেক দিনের একটা প্রতীক্ষায় থাকি। এই অনুষ্ঠানটা আমাদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। আমরা বলি দানোত্তম কঠিন চীবর দান। শাস্ত্রে বলা হয় যে, আজকে আমরা যে দান করব, এই দানের ফলটা শতবর্ষে আমরা অন্যান্য কোনো দান করলে যে ফলটা হবে, সেটা এটার ষোল ভাগের এক ভাগও হবে না... অনেক দূর থেকে সবাই এখানে এসেছেন।’

সাভার বন বিহার পরিচালনা কমিটির সভাপতি অজয় প্রকাশ চাকমা বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান আমাদের সর্বজনীন একটা গুরুত্ব লাভ করুক। দেশবাসীর কাছে আমাদের এই শান্তির বাণী পৌঁছে যাক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে একটি অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মান্ধহীন দেশে পরিণত হোক বাংলাদেশ এই কামনা করছি।’

আরও পড়ুন:
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ গ্যাসসংকট

শেয়ার করুন