ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

একই উদ্ভিজ্জ তেল বারবার ব্যবহার করলে বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়।

ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছেন গবেষকরা।

হৃদরোগে মৃত্যুর পেছনে বড় আতঙ্কের নাম এখন ট্রান্সফ্যাট। খাদ্যে উচ্চমাত্রার শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাটের কারণে পৃথিবীতে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করে। আতঙ্কের ব্যাপার হলো, ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ১৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

খাবারের ট্রান্সফ্যাট বা ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড হলো ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় খাবার। এটি রক্তের ‘ভালো’ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ‘খারাপ’ কোলেস্টরেলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। খারাপ কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

বেশির ভাগ ট্রান্সফ্যাট তৈরি হয় শিল্প-প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিজ্জ তেল তৈরির সময় তাতে হাইড্রোজেন যুক্ত হয়। এই হাইড্রোজেনযুক্ত উদ্ভিজ্জ তেল, যা স্বাভাবিক তাপমাত্রায়ও জমে যায়, সেটিই হলো ট্রান্সফ্যাট। খাবার তৈরির সময় উদ্ভিজ্জ তেল পরিবর্তন না করে ভাজার জন্য বারবার ব্যবহার করলে তা বেশি বেশি ট্রান্সফ্যাটে পরিণত হয়, যা শরীরের জন্য খুব ক্ষতিকর।

শনিবার বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় ট্রান্সফ্যাট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একদল বক্তা। ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক ওই কর্মশালাটির আয়োজন করে অ্যাডভোকেসি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান)।

কর্মশালায় বক্তারা জানান, ভয়ংকর খাদ্য উপাদান ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণের খসড়া নীতিমালাটি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি সরকার। এ জন্য ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা চূড়ান্ত করে বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।

ট্রান্সফ্যাট: মৃত্যুর আরেক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ‘ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

কর্মশালায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট আবু আহমেদ শামীম বলেন, ‘শিল্পোৎপাদিত ট্রান্সফ্যাট খাদ্যের একটি বিষাক্ত উপাদান, যা হৃদরোগজনিত অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ডালডা বা বনস্পতি ঘি এবং তা দিয়ে তৈরি বিভিন্ন খাবার, ফাস্টফুড ও বেকারি পণ্যে ট্রান্সফ্যাট থাকে।’

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইপিডেমিওলজি অ্যান্ড রিসার্চ বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের গবেষক দল ঢাকায় ডালডার ৯২ শতাংশ নমুনায় ডব্লিউএইচও সুপারিশকৃত ২ শতাংশ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল থেকে ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে।

প্রবিধানমালার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিএফএসএর সদস্য মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, ‘খাদ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যেই খসড়া প্রবিধানমালাটি চূড়ান্ত করতে ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ে এটি চূড়ান্ত হবে।’

গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই)-বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মো. রূহুল কুদ্দুস বলেন, ‘ট্রান্সফ্যাট নির্মূলের অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। আমাদের প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের রপ্তানি বাজার দিন দিন বাড়ছে। ট্রান্সফ্যাটমুক্ত পণ্য তৈরি করতে না পারলে আমরা আন্ত‍‍র্জাতিক বাজার হারাব এবং দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশে ট্রান্সফ্যাটঘটিত হৃদরোগ ঝুঁকি বাড়বে এবং চিকিৎসা খাতে ব্যয় বাড়বে।’

কর্মশালায় প্রজ্ঞার পক্ষ থেকে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ট্রান্সফ্যাট নির্মূল প্রকল্পের টিমলিডার মো. হাসান শাহরিয়ার এবং প্রকল্প সমন্বয়ক মাহমুদ আল ইসলাম শিহাব।

কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের ২৯ সংবাদকর্মী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এটিএন বাংলার বার্তা সম্পাদক নাদিরা কিরণ ও প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ বি এম জুবায়ের।

আরও পড়ুন:
ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবি প্রজ্ঞার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা

নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই চাঁদপুরে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁদপুরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জেলে জানান, অভাবের তাড়নায় অনেক জেলে জেল-জরিমানার ঝুঁকি নিয়েও নদীতে নামছে ইলিশ ধরতে। এ কাজে অভিযানে জড়িত কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। তা ছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে ১৪-১৫ কেজি করে।

মা ইলিশ রক্ষায় গত ৪ অক্টোবর থেকে ২২ দিন সরকার সারা দেশে ইলিশ মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করলেও তা খুব একটা মানছেন না অনেক জেলে।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরে দিন-দুপুরে চলছে ইলিশ ধরা এবং কেনা-বেচা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে ইলিশ ধরা হচ্ছে ভোলা, বরগুনা ও ঝালকাঠিতেও।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের ইলিশ ধরার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে নিয়মিত। মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব। নিষেধাজ্ঞায় দাম কম থাকায় ইলিশ কিনতে নদীতীরে প্রতিদিনই ভিড় করেন ক্রেতারা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশ রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। দিন-রাত অভিযান চালানো হচ্ছে নদীতে। আর সচেতন জেলেরা বলছেন, এভাবে মা ইলিশ নিধন করা হলে ভবিষ্যতে ইলিশ সংকট আরও প্রকট হবে।

চাঁদপুর নদী কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান জানান, আশ্বিন মাসের অমাবস্যা ও ভরা পূর্ণিমায় মা ইলিশ ডিম ছাড়তে সমুদ্র ছেড়ে নদীর মিঠা পানিতে ছুটে আসে। ইলিশের ডিমের পরিপক্বতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে এবং আগের গবেষণার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়।

তিনি বলেন, এ বছর ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটারসহ দেশের উপকূলীয় জেলার নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময়ে যদি মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে দেয়া যায়, তবে আগামী বছর ইলিশের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।

চাঁদপুর সদরের পুরানবাজার থেকে হরিণা পর্যন্ত, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের পুরো এলাকা, সদর উপজেলার আনন্দ বাজার, মতলব উত্তরের মোহনপুর এখলাসপুর, ষাটনল এলাকায় এবং হাইমচর উপজেলার কাটাখালী, গাজীনগর এবং চরভৈরবী এলাকায় বিকেল থেকে ভোর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরার মহোৎসব চলে। মা ইলিশ রক্ষায় প্রতিদিন প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগের লোকজন অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু কিছুতেই নিভৃত করা যাচ্ছে না অসাধু জেলেদের।

নিউজবাংলার প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ ধরা চলছে ভোলা, বরগুনা ও ঝালকাঠিতেও। ভোলার মনপুরা, মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে রাতের আঁধারে ইলিশ ধরছেন অনেক জেলে। লুকিয়ে লুকিয়ে ইলিশ শিকার চলছে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী, বিষখালী নদী এবং বরগুনার নদীগুলোতেও।

কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে জেলেদের সংঘর্ষেরও খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জ সদরের মেঘনায় মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে গিয়ে জেলে ও এলাকাবাসীর হামলায় আহত হয়েছেন নৌপুলিশের পাঁচ সদস্য।

তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বেশি ইলিশ ধরা হচ্ছে চাঁদপুরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জেলে জানান, অভাবের তাড়নায় অনেক জেলে জেল-জরিমানার ঝুঁকি নিয়েও নদীতে নামছে ইলিশ ধরতে। এ কাজে অভিযানে জড়িত কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। তা ছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের ২০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও দেয়া হয়েছে ১৪-১৫ কেজি করে।

এভাবে চলতে থাকলে অভিযানে সফলতা আসবে না বলেও মনে করছেন অনেকে।

সদর উপজেলার হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলে মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘আমরা যারা প্রকৃত জেলে রয়েছি, তারা ইলিশ না ধরলেও অনেকেই পেটের দায়ে মাছ ধরতে যায়। তাদের অনেকে আবার ধরাও পড়েছে। জেলেদের চাল দেয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা দেয়া হলে তারা মাছ ধরতে যেত না। অভিযান সফল করতে জেলেদের সহায়তা বৃদ্ধি করতে হবে। তাহলেই অভিযানের সময়ে জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে নামবে না।’

নিষেধাজ্ঞায়ও থেমে নেই ইলিশ ধরা

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে ইলিশ শিকার করতে না পারে, সে জন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা পুলিশ, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করছি। আমরা ইলিশ রক্ষায় সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

জেলা মৎস্য থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন ৪৪ হাজার ৩৫ জেলেকে ২০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে। তা ছাড়া নিষেধাজ্ঞার পর থেকে এ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণ কারেন্ট জাল ও ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। দুই শতাধিক জেলেকে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

চাঁদপুর অঞ্চরের নৌপুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় আমরা নিয়মিতভাবে নদীতে টহল দিয়ে যাচ্ছি। কোনো অবস্থায় যেন জেলেরা ইলিশ নিধন করতে না পারে সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি করছি। তার পরও অনেক সময় কিছু অসাধু জেলে নদীতে নেমে মাছ ধরার চেষ্টা করে। তাদের বিরত রাখতেও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:
ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবি প্রজ্ঞার

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

পীরগঞ্জ হামলার অন্যতম হোতা গ্রেপ্তার: র‍্যাব

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুরে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ি। ছবি: নিউজবাংলা

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম পরিচয় জানানো হয়নি। র‍্যাব দাবি করছে, তিনি হামলার অন্যতম হোতা। শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু পল্লীতে সাম্প্রদায়িক হামলা ও আগুন দেয়ার ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম পরিচয় জানানো হয়নি। বাহিনীটি দাবি করছে, তিনি হামলার অন্যতম হোতা।

শুক্রবার রাতে এ তথ্য জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান।

র‍্যাব বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে। সংবাদ সম্মেলনটি কারওয়ান বাজরে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।

১৭ অক্টোবর রাতে পীরগঞ্জের রামনাথপুরের উত্তরপাড়ায় হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনায় হওয়া তিন মামলায় এখন পর্যন্ত ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মামলায় ৩৭ আসামিকে বৃহস্পতিবার তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

বাহিনীটির একটি সূত্র জানিয়েছে, রিমান্ডে থাকা অনেকেই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন:
ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবি প্রজ্ঞার

শেয়ার করুন

বিআরটিএ অফিসে শর্ষের মধ্যে ভূত: কাদের

বিআরটিএ অফিসে শর্ষের মধ্যে ভূত: কাদের

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রায়ই দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। ফাইল ছবি

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেকগুলো ত্রুটি আমাদের আছে, সেটা তো অস্বীকার করে লাভ নেই। সুন্দর সুন্দর ব্যানার পোস্টার করলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপদ সড়ক দিবস করতে হবে প্রতিদিন।’

নিজের মন্ত্রণালয়ের বিস্তর উন্নয়নের পরও সড়ককে নিরাপদ না করতে পারায় স্বস্তিতে নেই বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনায় ওই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমরা সড়কে শৃঙ্খলা কেন আনতে পারব না? সড়কে শৃঙ্খলা আনা বড় চ্যালেঞ্জ।’

শুক্রবার জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২১ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ওই আলোচনায় এবারের বিষয় ছিল ‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি।’

তার বক্তব্যের আগে হাইওয়ে পুলিশের আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম গত ৯ মাসের জরিমানার পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সে প্রসঙ্গ তুলে হাইওয়ে পুলিশের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘কত টাকা জরিমানা তুলেছেন, এটার হিসাব দিয়ে কোনো লাভ নেই। এটা কোনো বিষয় নয়। আমার কাছে বিষয় সড়ক নিরাপদ আছে কি না। গাড়িগুলো নিয়মমতো চলছে কি না, গাড়ির ফিটনেস আছে কি না, চালকের ফিটনেস, গাড়ির চালক গাড়ি চালাবার যোগ্য কি না, গাড়ি ওভারলোডেড কি না, গাড়ি বেশি গতিতে চলছে কি না। আমি এটাই দেখব। আমার কাছে বিষয় দুর্ঘটনা কমেছে কি না।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। পাখির মতো মানুষ মরে, মাছির মতো মানুষ মরে। এ মর্মান্তিক দৃশ্যপট মানুষ হিসেবে সইতে পারি না। অনেক কষ্ট হয়।’

তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো ত্রুটি আমাদের আছে, সেটা তো অস্বীকার করে লাভ নেই। সুন্দর সুন্দর ব্যানার পোস্টার করলেই আমাদের দায়িত্ব শেষ হয় না। নিরাপদ সড়ক দিবস করতে হবে প্রতিদিন।’

কাদের বলেন, ‘এত উন্নয়ন হলো, কিন্তু অনেকে বলেন এই কাজটি হয় না কেন। সড়কে শৃঙ্খলা কেন আনতে পারব না। এখন সংকট শৃঙ্খলা, পরিবহন ও সড়কের। এখানে ব্যর্থ হলে আমাদের উন্নয়ন ম্লান হয়ে যাবে। এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।’

মন্ত্রী হলেও আমি তো মানুষ

বক্তব্যের শুরুতে প্রতিদিন সড়কে মৃত্যু নিজেকে কষ্ট দেয় বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘প্রতিদিন সকালটা আমার কাছে আসে ভিন্নভাবে, সবার দিন শুরু হয় একভাবে, আর আমার দিনটি শুরু হয় অন্যভাবে। কাগজের পাতার অপ্রত্যাশিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা খবর পড়ে আমার দিন শুরু হয়। মন্ত্রী হলেও আমি তো মানুষ। আমারও কষ্ট হয়। আমিও দগ্ধ হই অদেখা দহনে। মনে হয় আমিও সেই অসহায় পরিবারের একজন।’

আগামীতে তার মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প আসছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘অবকাঠামোগতভাবে পরিবর্তন দৃশ্যমান। আগামী বছর সড়কে আমি তো বলব বৈপ্লবিক পরিবর্তন পুরোপুরি দৃশ্যমান হবে। পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে, আমি গর্ব করে বলব, আমার মন্ত্রণালয়ে মেগা প্রকল্পগুলো আগামী বছর উদ্বোধন হবে। সেগুলো হলো পদ্মা সেতু, এমআরটি লাইন ৬, মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ও চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেল।’

আগামীতে চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে আরেকটি মেরিন ড্রাইভ উদ্বোধন করা হবে বলেও এ সময় জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২৪ অক্টোবর পায়রা সেতুর উদ্বোধন হবে। আর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

এত উন্নয়নমূলক কাজের পরও স্বস্তি পাচ্ছেন না বলে আলোচনায় জানান মন্ত্রী। বলেন, ‘এত কিছু করার পরও আমি স্বস্তি পাচ্ছি না।’

রাজনৈতিক তদবির বন্ধ করেছি

আলোচনায় তার মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক তদবির বন্ধ করেছেন বলে দাবি করেন মন্ত্রী। বলেন, ‘আমার মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক তদবির বন্ধ করে দিয়েছি। ইঞ্জিনিয়ার ট্রান্সফার, বিআরটিএ-এর অফিসার ট্রান্সফার, এসব তদবির শুরুতে আমার জন্য ছিল চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু আমি কঠোর হয়েছি, প্রধানমন্ত্রী আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন, সচিবরা আমার সঙ্গে ছিল, যে কারণে আমি এসব প্র্যাকটিস বন্ধ করতে পেরেছি।

‘মন্ত্রীকে কিছু দিয়ে চিফ ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার একটা প্র্যাকটিস মন্ত্রণালয়ে আগে ছিল। কিন্তু আমি আসার পর তা বন্ধ করেছি। সেই প্র্যাকটিস এখন আর নেই। কাউকে টাকা দিয়ে যদি চিফ ইঞ্জিনিয়ার হতে হয়, ওই টাকা সে ওঠাবে যখন দায়িত্ব পাবে। এটাই তো স্বাভাবিক।’

বিআরটিএতে শর্ষের মধ্যে ভূত

নিজ বক্তব্যে টিআরটিএর দুর্নীতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন মন্ত্রী। বলেন, ‘রাজনৈতিক তদবির হয়, কারণ সবাই আসতে চায় মিরপুরে না হলে ইকুরিয়ায় (কেরানীগঞ্জ)। টাকার খনি আছে ওখানে। যেখানে গাড়ি বেশি সেখানে সবাই ট্রান্সফার হয়ে যেতে চায়। এসব অপকর্ম আমি বন্ধ করেছি।’

বিআরটিএ চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি বলব, যা বন্ধ হয়নি সেটা বন্ধ করেন। এখনও বিআরটিএ অফিসগুলোতে শর্ষের মধ্যে ভূত। এই ভূত হলো দালাল।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভেতরের আশ্রয়-প্রশয় না পেলে কীভাবে বাইরে থেকে তারা দৌরাত্ম্য করে? এগুলো বন্ধ করতে হবে যেকোনো মূল্যে। আমি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা কাউকে অ্যালাউ করি না।’

বিআরটিএ চেয়ারম্যানের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে কাদের বলেন, ‘বিআরটিএতে অপকর্ম যারা করে, তাদের ভালো হয়ে যেতে বলুন চেয়ারম্যান সাহেব। এগুলো নিয়ে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন নিন।’

এক পশলা বৃষ্টিতে রাস্তা উঠে যায়

এ সময় আলোচনায় উপস্থিত ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনেক ইঞ্জিনিয়ার ভালো কাজ করেন। কিন্তু কেউ কেউ যে কাজ করেন, এক পশলা বৃষ্টি হলেই সে রাস্তা ভেসে যায়। এ রাস্তা করার কোনো দরকার নেই। কাজের মান ঠিক রাখুন। যারা ভালো কাজ করে আমি তাদের প্রশংসা করব।’

মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক বছরের মধ্যে কিছু চার লেন রাস্তা এবড়োখেবড়ো হয়ে গেছে। দেশের টাকা খরচ করে এই রাস্তা করার দরকারটা কী?’

এ সময় উপস্থিত সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের উদ্দেশে মহাসড়কে চালকদের জন্য নির্মাণাধীন বিশ্রামাগার প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

সড়ক ও মহাসড়ক পরিবহনের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের ইলিয়াস কাঞ্চন, সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সবুর ও হাইওয়ে পুলিশের আইজিপি মল্লিক ফখরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবি প্রজ্ঞার

শেয়ার করুন

শনাক্ত ও মৃত্যু দেড় বছরে সর্বনিম্ন

শনাক্ত ও মৃত্যু দেড় বছরে সর্বনিম্ন

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় আগের মতোই জমে উঠেছে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ১২৯ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮০৫ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গত দেড় বছরের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। এর চেয়ে কম মৃত্যু হয়েছিল গত বছরের ৬ মে। সেদিন ৩ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২৩২ জনের শরীরে। এই হিসাবটিও গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এর আগে গত বছরের ১৪ এপ্রিল এর চেয়ে কম শনাক্ত ছিল। সেদিন ২০৯ জনের দেহে করোনা ধরা পড়ার তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুক্রবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ১২৯ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮০৫ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ১৭ হাজার ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সেই দেশে মহামারি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা হয়। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখন নিয়ন্ত্রণে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। এ জন্য সাবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী মার্চে আরও একটি ঢেউ আসতে পারে। এটি প্রতিরোধে এখন থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়লে এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ জন, নারী ২ জন। এর মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব ৩ ও ষাটোর্ধ্ব ১ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এর পরই চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৫৬৪ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হলো ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৬৪৭ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবি প্রজ্ঞার

শেয়ার করুন

দুর্ঘটনায় কেন শুধু চালক দায়ী

দুর্ঘটনায় কেন শুধু চালক দায়ী

সড়ক দুর্ঘটনার দায় চালকের একার নয় বলে মনে করেন বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক। ফাইল ছবি

বুয়েটের অধ্যাপক শামসুল হক বলেন, ‘চালকেরা বেশি ট্রিপে বেশি রোজগার করতে চায়, কিন্তু তারা বিরতিহীনভাবে চালিয়ে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষকে দায়ী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে তাতে সিম্পটমের একটা চিকিৎসা হবে, রোগ কিন্তু থেকে যাবে।’

দেশে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যেসব ব্যবস্থা দরকার, তা নেয়া হচ্ছে না। তা ছাড়া দুর্ঘটনার জন্য পরিবহন শ্রমিকদের এককভাবে দায়ী ভাবার প্রবণতা রয়েছে। অথচ দুর্ঘটনার জন্য দুর্বল পরিকল্পনাও সমান দায়ী।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক মনে করেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাও মানা হচ্ছে না।

এমন বাস্তবতায় শুক্রবার পালন করা হচ্ছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘গতিসীমা মেনে চলি, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করি।’

এ উপলক্ষে নিরাপদ সড়ক বা সড়কে নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হতে পারে, সে বিষয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা বলেছেন অধ্যাপক শামসুল হক।

প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে মহাসড়কে গাড়িচালকদের বিশ্রাম ও টানা গাড়ি চালানোর সর্বোচ্চ সময় নির্ধারণের কথা বললেও সেটির কোনো বাস্তবায়ন দেখছেন না এ পরিবহন বিশেষজ্ঞ।

তিনি বলেন, ‘পুরো বিশ্বে হাইওয়েতে (মহাসড়ক) চার ঘণ্টার বেশি টানা গাড়ি চালানো নিষেধ। এতে চালকের অবসাদ চলে আসতে পারে। তার যে মনোযোগ দরকার হয় চলার জন্য, তাতে ঘাটতি পড়তে পারে।

‘চার ঘণ্টা পর ভিন্ন একজন চালক থাকবে। এটা মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরে আছে। আর পশ্চিমা দেশে তো আছেই। বাণিজ্যিক গাড়ি বিরতিহীনভাবে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি চালাতে দেয়া যাবে না।’

এ অধ্যাপক বলেন, ‘আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এই দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তবে কাজ হয়নি। এর মানে কী? পুলিশ এখানে কাজ করছে না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) কাজ করছে না। যারা কর্তৃপক্ষ, তারা কাজ করছে না। তার মানে চালকের দায়, পুলিশের দায়, ইঞ্জিনিয়ারের দায়।’

ট্রাফিক ও ব্যবস্থাপনায় জোর দিতে হবে

সড়কের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হলেও সেটি পরিকল্পিতভাবে নেয়া হয়নি বলে মনে করেন শামসুল হক।

তিনি বলেন, ‘সড়ক ব্যবস্থাপনা ও রোড ট্রাফিক সিস্টেম সুশৃঙ্খল হতে পারত, তবে তা হয়নি। আমি যদি ঢাকার কথাই বলি, ঢাকায় গণপরিবহনের যে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি, সেটা যদি আমরা করে ফেলতে পারতাম, তবে ঠিক হয়ে যেত।’

এ অধ্যাপক বলেন, ‘কিছু কাজ করতে দরদ লাগবে। এই যে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি, এটাতে তো পয়সা লাগে না। এটা রেগুলেশন। এটা এনফোর্সমেন্ট। এখানে তো পয়সা নাই বলতে পারবে না। এখানেই আমাদের অবহেলা।’

ঢাকার রাস্তায় ফ্র্যাঞ্চাইজি বাস বা ‘এক রুটে এক বাস কোম্পানি’ পদ্ধতি চালু হলে অনেক সমস্যার সমাধান হতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি হলে বাসের অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমে যাবে। হুড়োহুড়ি করতে গিয়েই ঢাকায় অনেক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়।

মহাসড়কের পরিকল্পনা

দেশের মহাসড়কগুলোতে বিশৃঙ্খলা রয়েছে আর সেটির জন্য ছোট পরিবহন ও গাড়ির ফিটনেসকে দায়ী করেন শামসুল হক।

তিনি বলেন, ‘আমি যদি হাইওয়েতে ফিট গাড়ি না চালাই, অবৈধ গাড়ি যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, তবে দুর্ঘটনা ঘটবে।’

দুর্ঘটনায় কেন শুধু চালক দায়ী

এ ক্ষেত্রে তিনি হাইকোর্ট ও সরকারের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সব জায়গা থেকে দিকনির্দেশনা আছে যে, আঞ্চলিক ও মহাসড়কে কোনো নছিমন, করিমন বা ভটভটি গাড়ি চলবে না।’

এ ক্ষেত্রে গতির বিশৃঙ্খলা হয়ে থাকে জানিয়ে শামসুল হক বলেন, ‘দ্রুতগতির সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ের ধীরগতির গাড়িগুলো চলাচল করে। ওই ড্রাইভারের কিন্তু রোডের কোনো সেন্স নাই। তাকে যদি রোডে এভাবে বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ দিই, তাহলে তো দুর্ঘটনা ঘটবে। আমরা কি এত দিকনির্দেশনার পরেও কিছু করেছি? করিনি।’

বিআরটিএ তার কাজ ঠিকমতো করে না বলে মনে করেন শামসুল হক। তিনি বলেন, ‘হাইওয়েতে যাদের চলার কথা না তারা চলছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলছে। আমরা যে গাড়িগুলোকে ফিট বলব, বিআরটিএর যে ফিটনেস সনদ ব্যবস্থা, সেটি পরিহাস ছাড়া কিছুই না।

‘একটা গাড়ির ৪২টা আইটেম দেখে তাকে চলার যোগ্যতার সার্টিফিকেট দেয়া সহজ কথা নয়। তবে এত কমসংখ্যক ইন্সপেক্টরে এত বিপুলসংখ্যক গাড়ির ইন্সপেকশন সম্ভব হওয়ার কথা না, যার ফলে আনফিট গাড়ি চলছে।’

দুর্ঘটনায় কেন শুধু চালক দায়ী

চালকের প্রশিক্ষণ ঘাটতি রয়েছে বলে জানান শামসুল হক। তিনি বলেন, ‘চালক প্রশিক্ষণের যে পদ্ধতি, সেটি ঠিক নেই। একটা চালককে হাইওয়েতে নামানোর আগে তার প্র্যাকটিক্যাল (ব্যবহারিক) যে পরীক্ষা হওয়ার কথা, সেটা হচ্ছে না। সারা বিশ্বে প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ার একটা স্ট্যান্ডার্ড আছে। আমরা তার ধারেকাছে নাই।’

সরকার উন্নয়নকেন্দ্রিক চিন্তা করলেও সড়ক নিরাপত্তার ব্যাপারে পরিকল্পিত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে মনে করেন তিনি।

এ বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘আমরা মৌসুমি কিছু কাজ করি। কিন্তু সিস্টেমের দিকে তাকাই না। আমাদের উন্নয়ন হচ্ছে রক্তক্ষরণের উন্নয়ন। এতে অনেক মানুষ হতাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার একসাথে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রকল্প হবে, তবে সিস্টেমের কোনো উন্নয়ন হবে না। তাই টেকসইভাবে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে গেলে বিজ্ঞান যেটা বলছে সিস্টেমকেন্দ্রিক, সেটা করতে হবে। কিন্তু আমাদের করার মতো প্রতিষ্ঠান নেই। তাদের দায়বদ্ধ করার মতো অভিভাবক নেই। তাই আমরা এর থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছি না।’

রাস্তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি

রাস্তায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়াতে হবে বলে জানান শামসুল হক।

তিনি বলেন, ‘চোর-পুলিশ খেলে এনফোর্সমেন্ট হবে না। ২৪ ঘণ্টা রাস্তায় থাকতে হবে। উন্নত বিশ্বে চালক নিজের গাড়ি নিজে চালাচ্ছে, তাদের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত, তারপরও তারা রাস্তা থেকে পুলিশ ছাড়িয়ে নিচ্ছে না। কারণ মানুষ জন্মগতভাবে সুযোগসন্ধানী। একজনের অপব্যবহার দেখে আর একজন করবে। আমাদের এখানে কিছুদিনের হেডলাইন তৈরি হলে বা কোনো দুর্ঘটনা হলে নড়েচড়ে বসে। এরপর আর খবর নেই।’

দুর্ঘটনায় দায় কার

দেশে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে ঢালাওভাবে পরিবহন শ্রমিকদের দায়ী করা হয়। দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলে। এ নিয়ে সাধারণ পরিবহন শ্রমিকেরা বিভিন্ন সময় আন্দোলন করছে।

এ বিষয়ে শামসুল হক বলেন, ‘আমি বলব, পরিবহন এমন একটা ব্যবস্থাপনা, যেখানে পলিসি লেভেলে যারা পলিসি তৈরি করেন, যারা সড়কের পরিকল্পনা করেন, ডিজাইন যারা করেন, রক্ষণাবেক্ষণ করেন, নিয়ন্ত্রণ করেন এবং গাড়ির মালিক যারা, চালক যারা, ব্যবহারকারী যারা, সামগ্রিক যে বিন্যাস আছে, এখানে সবার দায়বদ্ধতা আছে।’

তিনি বলেন, ‘পরিকল্পনায় ঘাটতি থাকলে দুর্ঘটনা হবে। আমি সড়কের জন্য চমৎকারভাবে পরিকল্পনা করলাম, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ করলাম না। তাহলে দুর্ঘটনা ঘটে গেল।’

মালিকের দায়িত্ব সম্পর্কে এ অধ্যাপক বলেন, ‘চালক যদি টায়ার বদলাতে বলে, মালিক বলেন, এটা দিয়েই চালাতে হবে; না হলে আর একজন চালক নিয়ে আসব। এই মালিক দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিল। অথচ দুর্ঘটনা ঘটলে সব দায় চালকের ওপর চলে যায়।’

তিনি বলেন, ‘চালকেরা বেশি ট্রিপে বেশি রোজগার করতে চায়, কিন্তু তারা বিরতিহীনভাবে চালিয়ে অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এক পক্ষকে দায়ী করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে তাতে সিম্পটমের একটা চিকিৎসা হবে, রোগ কিন্তু থেকে যাবে। আইন করতে হবে সর্বজনীন আইন। আমাদের আইন এখনও চালকসর্বস্ব।

‘শুধু একজনকে দায়ী করে আইন করা যাবে না। চালক দেখছে, আরও অনেকের ঘাটতি আছে, কিন্তু তাদের কোনো শাস্তি বা জবাবদিহি করা হচ্ছে না। এতে তারাও মানতে চাইবে না। আন্দোলন হবে।’

পরিকল্পনাকারীদের দায় আছে

শুধু চালক নয়, বরং পরিবহন ব্যবস্থার যারা পরিকল্পনা করেন, দুর্ঘটনার উচ্চ হারের জন্য তারাও সমান দায়ী বলে মনে করেন শামসুল হক।

তিনি বলেন, ‘আমি বলব, পরিকল্পনায় যারা আছেন, তাদের ভুলের কারণে যখন দুর্ঘটনা হয়, সেটা কিন্তু বড় একটা বিষয়। তাদের অজ্ঞতার কারণে যে দুর্ঘটনা ঘটে, তাতে চালককে তো আমি শাস্তি দিতে পারি না।

‘উন্নত বিশ্বে হলে পরিকল্পনা পর্যায়ে যাওয়া হয়। আর আমরা কিন্তু তাৎক্ষণিক বিষয়ে থাকি। এটাতে সিস্টেম ঠিক হবে না। যে দুর্ঘটনা পরিকল্পনার ঘাটতির জন্য হয়, তাকেও কিন্তু জেল-জরিমানা করতে হবে। দুর্ঘটনা হলে তারা এসি রুমে বসে থাকে। পুলিশ আর ড্রাইভার হলো ভিজিবল ফোর্স। সব রোষানল পড়ছে সেখানে।’

আরও পড়ুন:
ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবি প্রজ্ঞার

শেয়ার করুন

প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত অঘটন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিত অঘটন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

সিলেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে সাতজন নিহতের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন যারা চায় না, তারা এমন অঘটন ঘটাতে পারে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, প্রত্যাবাসন ঠেকাতেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন অঘটন ঘটানো হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন যারা চায় না, যাদের স্বার্থে আঘাত লাগে, তারা হয়তো এমন অঘটন ঘটাতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে সাতজন নিহতের বিষয়ে এ মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সিলেটে এক সভায় শুক্রবার দুপুরে তিনি এ কথা বলেন।

তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এ ঘটনার বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানেন না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পুরো বিষয়টার খোঁজখবর নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ও বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গতকালই বৈঠক হয়েছে। এর পরপর এমন ঘটনা সত্যি আতঙ্কের বিষয়।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধে প্রয়োজনে মিয়ানমার সীমান্তে গুলি চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে আবারও জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।


দুই দিনের সফরে শুক্রবার সকালে সিলেট যান মন্ত্রী। সেখানে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অফ বাংলাদেশ ও জালালাবাদ অ্যসোসিয়েশনের আয়োজনে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন:
ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবি প্রজ্ঞার

শেয়ার করুন

মোবাইল ফোন বন্ধ হচ্ছে না

মোবাইল ফোন বন্ধ হচ্ছে না

মন্ত্রণালয় বলছে, এনইআইআর দেশে একেবারেই নতুন। তাই সাধারণ মানুষ মোবাইল নিবন্ধন করতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ জন্য সরকার এখনই মোবাইল ফোন বন্ধের পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে। বৈধ বা অবৈধ কোনো ধরনের মোবাইল ফোন সেট একবার চালু হলে তা যেন আর বন্ধ না হয়, সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

অবৈধ মোবাইল ফোন সনাক্ত করে বন্ধ করার সিদ্ধান্তের এক মাসেরও কম সময়ে তা থেকে সরে এল সরকার। কোনো ধরনের মোবাইল ফোন সেট বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশনা দিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

বিটিআরসি বলছে, ১ জুলাই থেকে তিন মাস পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর ১ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়। এ ব্যবস্থা চালুর পর অবৈধভাবে আনা মুঠোফোন শনাক্ত করা হচ্ছিল। অবৈধ ফোন প্রমাণ দিয়ে নিবন্ধনের জন্যও বলা হচ্ছিল।

এতে প্রচুর আন-অফিসিয়াল বা অবৈধ ফোন সনাক্ত হয়, প্রথম ১০ দিনেই এ সংখ্যা ৪ লাখ অতিক্রম করে। অর্থাৎ এ সংখ্যক সেট বৈধভাবে আমদানি বা দেশে উৎপাদন হয়নি। কোনো না কোনোভাবে এগুলো শুল্ক এড়িয়ে বিদেশ থেকে এসেছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, এনইআইআর দেশে একেবারেই নতুন। তাই সাধারণ মানুষ মোবাইল নিবন্ধন করতে ভোগান্তিতে পড়ছেন। এ জন্য সরকার এখনই মোবাইল ফোন বন্ধের পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছে। বৈধ বা অবৈধ কোনো ধরনের মোবাইল ফোন সেট একবার চালু হলে তা যেন আর বন্ধ না হয় সে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বিটিআরসির ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র নিউজবাংলাকে বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, বৈধ বা অবৈধ কোনো মোবাইল সেটই বন্ধ হবে না। সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি থেকে রেহাই দেয়ার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, ‘তবে ফোন বন্ধ না হলেও গ্রাহকের সমস্ত তথ্য আমাদের ডাটাবেজে চলে আসবে। মোবাইলের আইএমইআই নাম্বার পরিবর্তন করা তখন কঠিন হবে। যেহেতু আমাদের ডাটাবেজে সব মোবাইলের তথ্য থাকবে, তাই আইএমইআই আর ক্লোন হবে না, ডুপ্লিকেট করাও একেবারেই কমে যাবে।’

বিটিআরসি বলছে, এখনও বাজারে বিক্রি হওয়া মোট ফোনের ৭০ শতাংশ হয় ফিচার ফোন, যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না। তাই নিবন্ধনের সঙ্গেও তারা অভ্যস্ত নয়। আবার নানা প্রমাণপত্র দিয়ে তাদের পক্ষে মোবাইল ফোন সেট নিবন্ধনও সম্ভব হচ্ছে না।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাধারণ মানুষের ভোগান্তিসহ এ খাতের নানা বিষয় নিয়ে গত ১২ অক্টোবর সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হয়। এতে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টাও অংশ নেন। ওই বৈঠকেই মোবাইল ফোন বন্ধ না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশনাও দেয়া হয়।

বিটিআরসি বলছে, আগস্টের সর্বশেষ হিসাব মতে দেশে চার মোবাইল ফোন অপারেটরের গ্রাহক সংখ্যা (সক্রিয় সিমকার্ড) ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ১ হাজার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্কহার অন্য অনেক দেশের তুলনায় বেশি। এ কারণে প্রতিবেশি অনেক দেশের তুলনায় এ দেশে মোবইল ফোন সেটের দাম অনেক বেশি। স্মার্ট ফোন আমদানিতে এ দেশে ৫৭ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়।

এ কারণে প্রতিবেশি দেশসহ বিভিন্ন দেশে থেকে প্রচুর মোবাইল ফোন আন অফিসিয়াল উপায়ে আসে। বৈধভাবে আমদানি হওয়া এসব ফোনের চেয়ে লাগেজে (আন অফিসিয়িাল) আসা মোবাইল ফোন সেট অনেক কম দামে পাওয়া যায়।

বেশি দামের কারণে দেশে স্মার্ট ফোন ব্যবাহরকারীর সংখ্যাও অনেক কম। অনেকেরই স্মার্ট ফোন ব্যবহারের সামর্থ্য নেই। দেশে মোট ফোনের ৪০ শতাংশ স্মার্ট ফোন, যা ভারতে ৬৯, পাকিস্তানে ৫১, নেপালে ৫৩ ও শ্রীলঙ্কায় ৬০ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
ট্রান্স ফ্যাট নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা চূড়ান্ত করার দাবি প্রজ্ঞার

শেয়ার করুন