প্রতি কেজি সারে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ

প্রতি কেজি সারে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়ার অভিযোগ

কৃষকদের অভিযোগ, প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার প্রতি এলাকায় ডিলার নিয়োগ করলেও তা কোনো কাজে আসছে না। বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের কাছ থেকে সরকারনির্ধারিত দামে সার কেনার কথা খুচরা ডিলার ও প্রান্তিক কৃষকদের। তবে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন তারা। প্রতি কেজিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুরে সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশিতে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসির) ডিলারদের বিরুদ্ধে। নির্দিষ্ট স্থানে সার বিক্রি না করে বেশি দামে অন্য স্থানে সার বিক্রির অভিযোগও করছেন চাষিরা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলাররা বলছেন, নির্ধারিত মূল্যের বেশি বা এলাকার বাইরে গিয়ে কোনো সার বিক্রি করা হচ্ছে না। আর জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, সার কারসাজি এবং কৃষক হয়রানির প্রমাণ পেলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কৃষকদের অভিযোগ, লক্ষ্মীপুরে আমনের ভরা মৌসুমে দেখা দিয়েছে রাসায়নিক সারের সংকট। ডিলারর বেশি দামে সার বিক্রির জন্য কৃত্রিম এ সংকট তৈরি করেছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে ধানের আবাদ। উপায় না থাকায় তারা বেশি দামে ইউরিয়া, টিএসপিসহ অন্যান্য সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, জেলার পাঁচ উপজেলার ৫৮টি ইউনিয়ন এবং চার পৌরসভায় বিসিআইসি ও বিএডিসির সারের ডিলার রয়েছেন ৯০ জন। আর খুচরা ডিলার রয়েছেন ৪৪৭ জন।

জেলায় এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। সব মিলিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলায় ইউরিয়া, টিএসপিসহ অন্যান্য সারের চাহিদা প্রায় ৪০ হাজার টন।

কৃষকদের অভিযোগ, প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার জন্য সরকার প্রতি এলাকায় ডিলার নিয়োগ করলেও তা কোনো কাজে আসছে না। বিসিআইসি ও বিএডিসির ডিলারদের কাছ থেকে সরকারনির্ধারিত দামে সার কেনার কথা খুচরা ডিলার ও প্রান্তিক কৃষকদের। তবে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন তারা। প্রতি কেজিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪-৭ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে।

চররুহিতার কৃষক তোফায়েল আহমদ, চররমনী মোহনের দেলোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন কৃষক জানান, সরকারনির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতি কেজি ইউরিয়া ১৬ টাকা, টিএসপি ২২ টাকা, এমওপি ১৫ টাকা, ডিএপি (ড্যাব) ১৬ টাকা। তবে ডিলাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে প্রতি কেজিতে ৪-৭ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছেন।

কৃষক ও খুচরা বিক্রেতাদের মতো একই অভিযোগ করেছেন রামগতির বড়খেরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাসান মাহমুদ নিজাম।

তিনি বলেন, ‘ডিলাররা একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারগুলো অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। ডিলারের কাছে খুচরা বিক্রেতা ও কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে। সত্যিকার অর্থে কোনো ডিলার ঠিকমতো কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করছে না।’

তবে বড়খেরী এলাকায় বিসিআইসির ডিলার শাখাওয়াত হোসেনের দাবি, নির্ধারিত মূল্যের বেশি এবং এলাকার বাইরে গিয়ে কোনো সার বিক্রি করা হচ্ছে না। সরকারনির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি করা হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। ব্যবসায়ীরা ষড়যন্ত্রের শিকার।

জেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসির একাধিক ডিলারও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘জনবলসংকটের কারণে অনেক কাজ করা যাচ্ছে না। তারপরও সার কারসাজি ও কৃষকদের হয়রানির প্রমাণ পেলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।’

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার
এআইইউবির গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবক রিমান্ডে
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় সার্বিয়া
৯০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমিল্লায় নিহত দিলীপ দাশের পরিবার চলবে কীভাবে?

কুমিল্লায় নিহত দিলীপ দাশের পরিবার চলবে কীভাবে?

নিহত দিলীপ দাস। ছবি: নিউজবাংলা

প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। দিলীপ দাশের মেয়ে প্রিয়া জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর তেমন কেউ খোঁজখবর নিতে আসেনি। 

সকালে বাসায় নাস্তা সেরে কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর রাজ রাজেশ্বরী কালী মন্দিরে পূজা দিতে গিয়েছিলেন দিলীপ দাশ।

নানুয়ার দিঘীর পাড়ের একটি মণ্ডপে কোরআন পাওয়ার পর তখন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে নগরীজুড়ে। রাজরাজেশ্বরী কালী মন্দিরেও চলে হামলা।

সংঘাত দেখে বাসায় ফিরতে চেয়েছিলেন দিলীপ। তবে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে মন্দিদের গেটের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় হামলার শিকার হন, লুটিয়ে পড়েন মাটিতে।

রাজ রাজেশ্বরী কালী মন্দিরের পুরোহিত দুলাল চক্রবর্তী নিউজবাংলাকে জানান, ১৩ অক্টোবর ওই সহিংসতার সময় মন্দির থেকে বাড়িতে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন দিলীপ। তবে বাইরে প্রচণ্ড গণ্ডগোল শুরু হওয়ায় তিনি মন্দিরের গেটের ভেতরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। একপর্যায়ে মন্দিরের ভেতরে ইটপাটকেল ছুড়তে শুরু করে হামলাকারীরা। এ সময় গুরুতর আহত হলে পূজারীরা আহত দিলীপকে মাথায় গামছা দিয়ে মাথা বেঁধে বসিয়ে রাখেন। পরে তাকে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

দিলীপের স্ত্রী রুপা দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওইদিন দেড়টায় কুমিল্লা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে ফোন পাই। এ সময় আমাদের বাসার সামনে পুলিশ ও হামলাকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। পুলিশ আমাদেরকে বাইরে যেতে নিষেধ করে। এর মধ্যেই আমি এক আত্মীয়কে নিয়ে হাসপাতালে যাই।’

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে আমার স্বামীর অবস্থার অবনতি হয়। পরে দুপুর ২টার দিকে চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। আমরা তাকে সেখানে নিলে চিকিৎসক সিটিস্ক্যান করাতে বলেন।

কুমিল্লায় নিহত দিলীপ দাশের পরিবার চলবে কীভাবে?


রুপা দাশ অভিযোগ করে বলেন, ‘এ সময় হাসপাতালে বিদ্যুৎ না থাকায় সিটিস্ক্যান করাতে আমাদেরকে অন্তত আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। পরে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ১৫ তারিখে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।’

দিলীপ দাশ ধোপার কাজ করে সংসার চালাতেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় মেয়ে প্রিয়া রানী দাশ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। আর ছেলে রাহুল দাশ ঢাকায় লেখাপড়া করেন।

দিলীপের মেয়ে প্রিয়া বলেন, ‘বাবার মাথায় যে আঘাত দেখেছি তাতে স্পষ্ট যে হামলাকারীরা আমার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তার মাথার খুলি ভেঙে যায়। রক্তক্ষরণ ও তাৎক্ষণিক সঠিক চিকিৎসার অভাবে আমার বাবা মারা গেছেন।’

প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা। দিলীপ দাশের মেয়ে প্রিয়া জানান, তার বাবার মৃত্যুর পর তেমন কেউ খোঁজখবর নিতে আসেনি।

প্রিয়া নিউজবাংলাকে জানান, তিনি দৃষ্টিপাত নাট্যদলের সদস্য। তার বাবা হামলায় আহত হওয়ার পর ওই নাট্য সংগঠন চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। এছাড়া কেউ এগিয়ে আসেনি।

কুমিল্লায় নিহত দিলীপ দাশের পরিবার চলবে কীভাবে?


দিলিপের স্ত্রী জানান, তাদের পরিবারের মূল নির্ভরশীলতা ছিল স্বামীর আয়ের উপর। পাশাপাশি একটি ছোট দোকান ভাড়া দিয়ে মাসে পাঁচ হাজার টাকা পাওয়া যায়।

রুপা দাশ বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার পর আমরা বড় সমস্যায় পড়েছি। দোকান ভাড়ার মাত্র পাঁচ হাজার টাকায় কীভাবে সংসার চলবে, দুই ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাব তা নিয়ে দুঃচিন্তায় আছি।’

দুর্গাপূজায় সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার নানুয়ার দিঘির পাড়ের ওই মণ্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ পাওয়ার পর ছড়িয়ে পড়ে সহিংসতা।

ওই মণ্ডপের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় নগরীর আরও বেশ কিছু পূজামণ্ডপ। পরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার
এআইইউবির গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবক রিমান্ডে
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় সার্বিয়া
৯০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মণ্ডপে হামলা: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগ

মণ্ডপে হামলা: পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগ

কমলগঞ্জে দুটি মণ্ডপে ভাঙচুর করা হয় প্রতিমা। ছবি: নিউজবাংলা

মণ্ডপে হামলার অভিযোগগুলো কেন মামলা হিসেবে নেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান জানান, দুটি মণ্ডপ ছাড়া বাকিগুলোতে তেমন বড় কোনো হামলা হয়নি। আসা-যাওয়ার পথে গেট ভাঙচুর করা হয়েছে। এইগুলা জিডি আকারে আছে, তারা খতিয়ে দেখছেন।

কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় একাধিক মণ্ডপে ভাঙচুর হলেও সব ঘটনায় মামলা না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

মণ্ডপ কমিটির অভিযোগ, উপজেলায় ১৩ তারিখ রাতে পাঁচটিসহ মোট ১৪টি মণ্ডপে হামলা চালানো হয়। তবে পুলিশ মামলা নিয়েছে মাত্র দুটি। আরও চারটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও তা মামলা হিসেবে নেয়া হয়নি। বারবার চেষ্টা করেও মামলা করতে পারেনি মণ্ডপ কমিটি।

আর পুলিশের দাবি, হামলা হয়েছে আটটি মণ্ডপে। এর মধ্যে যে দুটি মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর হয়েছে সেখানকার মামলা নেয়া হয়েছে। অন্য মণ্ডপগুলোতে ছোটখাটো হামলা হয়েছে। এ জন্য জিডিগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, ভাঙচুর করতে গিয়ে অনেক জায়গায় প্রতিরোধের মুখে পড়ে হামলাকারীরা। এ জন্য সব জায়গায় সমান ক্ষতি হয়নি। দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে এবং বাকিগুলোতে মণ্ডপ, গেট, ডেকোরেশনসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

তার দাবি, প্রতিরোধের কারণে হামলা হলেও সব মণ্ডপে মূর্তি ভাঙতে পারেনি দুর্বৃত্তরা। আবার ঘটনার দিন ভয়ে অনেকে হামলার কথা প্রকাশও করেনি। তাদের হিসাবে, ১৩ তারিখ রাত থেকে দশমীর পরদিন পর্যন্ত ১৪টি মন্দিরে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টিতে অভিযোগ দেয়া হলেও পুলিশ মামলা নিয়েছে দুটি। অন্য মণ্ডপ সংশ্লিষ্টরা ভয়ে মামলা করতে চাইছে না।

পূজা উদযাপন পরিষদের এ নেতা বলেন, ‘আমরা তাদের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম, কিন্তু তারা যখন দেখছে অভিযোগ দিলেও তা মামলা হিসেবে নেয়া হচ্ছে না, তখন তারা আরও উৎসাহ হারাচ্ছে। আর পুলিশ কেন এমন করছে তা আমরা বুঝে উঠতে পারছি না।’

কুমিল্লার ঘটনার পর গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যার পর কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন স্থানীয়রা। সেই মিছিল থেকে মইদাইল সার্বজনীন পূজামণ্ডপ ও কামারছড়া চা বাগান পূজামণ্ডপের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়।

এ ছাড়া বৃন্দাবনপুর জগন্নাথ জিউর আখড়া পূজামণ্ডপ, বৈরাগির চক সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, রামপুর সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, নারায়ণক্ষেত্র শব্দকর একাডেমি পূজামণ্ডপ, রহিমপুর ইউনিয়নের শ্রীঘর পূজামণ্ডপ ও রানীরবাজারের সার্বজনীন পূজামণ্ডপের গেটে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ওই ঘটনায় হওয়া দুটি মামলায় এজাহারভুক্ত ও অজ্ঞাতপরিচয়সহ প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মন্সিবাজার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সুনিল মালাকার জানান, তার ওয়ার্ডে পড়েছে রামপুর ও নারায়ণক্ষেত্র মণ্ডপ দুটি। এখানে হামলা হলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। মামলা দিতে কয়েকবার থানায় গেলেও ফিরে আসতে হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার গিয়েছি, কিন্তু আমাদের অভিযোগকে কেন মামলা হিসেবে নেয়া হল না তা আমরা বুঝতে পারিনি।

‘ওসি সাহেব বলেছেন, ক্ষতি বেশি হয়েছে যে দুইটার তার মামলা নিয়েছি। আমরা প্রতিরোধ করার কারণে আমাদের এখানে ক্ষতি কম হয়েছে, কিন্তু মামলার নেয়ার ব্যাপারে ক্ষয়ক্ষতির হিসেবটা বুঝিনি। আমাদের বড় ক্ষতি হলে মামলা নিয়ে কী হতো?’

বাসুদেবপুর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মলয় মালাকার জানান, ১৩ অক্টোবর তাদের মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর হয়। পরদিন থানায় অভিযোগ দেন। তবে শনিবার পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। বারবার তাগাদা দিলেও কাজ হচ্ছে না।

কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, ‘মইদাইল সার্বজনীন দুর্গামন্দির ও কামারছড়া চা বাগান পূজামণ্ডপে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আমাদের জানা মতে, কমলগঞ্জ উপজেলায় মোট আটটি পূজামণ্ডপের হামলা ও ভাঙচুর হয়।’

অভিযোগগুলো কেন মামলা হিসেবে নেয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়ারদৌস হাসান বলেন, ‘বাকিগুলোতে তেমন বড় কোনো হামলা হয়নি। আসা-যাওয়ার পথে গেট ভাঙচুর করা হয়েছে। এইগুলা জিডি আকারে আছে, আমরা খতিয়ে দেখছি।’

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার
এআইইউবির গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবক রিমান্ডে
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় সার্বিয়া
৯০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা: আটক ৮

ব্রাশফায়ারের পর কুপিয়ে হত্যা: আটক ৮

উখিয়ার ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা মসজিদ

এপিবিএন-৮-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার বলেন, শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। অস্ত্রসহ আটক মুজিবুর রহমান বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে।

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় ৮ জনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-৮-এর অধিনায়ক পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার।

তিনি বলেন, শুক্রবার রাত থেকে ভোর পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

শুক্রবার অস্ত্রসহ আটক মুজিবুর রহমান বাহিনীর হেফাজতে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার শহর থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে উখিয়ার থাইনখালীর ক্যাম্প-১৮-তে বৃহস্পতিবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসায় হামলা চালায় ৪০ থেকে ৫০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৬ জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।

৬ জন নিহত হওয়ার পর রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো সময়ে এসব ক্যাম্পে সহিংসতা ঘটতে পারে বলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকে আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে লাখ লাখ রোহিঙ্গার স্রোত নামার পর গত চার বছরে এ রকম আতঙ্কজনক পরিস্থিতি আর কখনও তৈরি হয়নি। হামলার ভয়ে রোহিঙ্গাদের অনেক নেতা ভয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এই হামলায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন হামলার প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে পুলিশ বলছে, মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কিন্তু আরসার নাম ব্যবহার করে অপতৎরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।

যে মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে, সেটি পরিচালনা করে ইসলামি মাহাস নামের রোহিঙ্গাদের একটি সংগঠন। ওই সংগঠনটির সঙ্গে আরসার দ্বন্দ্ব আছে বলে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন। তবে আরসার সশস্ত্র হামলার বিষয়ে ১৮ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দারা কথা বললেও তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।

গুলিতে নিহত নুর আলম ওরফে হালিমের স্বজন ও ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রতি রাতে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক-ছাত্র ও স্থানীয় রোহিঙ্গারা মিলে তাহাজ্জুতের নামাজ আদায় করেন। আমিও নিয়মিত তাহাজ্জুতে শরিক হই। তবে বৃহস্পতিবার আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হওয়ায় মসজিদে দেরিতে যাই।

‘কিন্তু আমি গিয়ে দেখি মাদ্রাসার ভেতরে সবাই ছোটাছুটি করছে। অনেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করছে। তাদের দেখে আমি দূরে সরে যাই। প্রায় আধা ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। এরপর সন্ত্রাসীরা চলে যায়।’

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়ার লাম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ডি ব্লকে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের (এআরএসপিএইচ) কার্যালয়ে ওই সংগঠনের চেয়ারম্যান মুহিবুল্লাহ বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন।

আরসা নেতা আবদুর রহিমের নেতৃত্ব ২০ থেকে ২৫ জন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ওই হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ পর্যন্ত মুহিবুল্লাহ হত্যার সঙ্গে জড়িত আরসার ৫ জন সদস্য ও ৪০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। আরসার সদস্যদের বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়ে ইসলামি মাহাসের সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন—এই ধারণা থেকে ওই মাদ্রাসায় হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করছে রোহিঙ্গারা।

১৮ নম্বর ক্যাম্পের মাঝি আবুল কালাম বলেন, ‘প্রত্যাবাসন নিয়ে ইসলামি মাহাসের সঙ্গে আরসার বিরোধ আছে। সম্প্রতি রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যার পর মাহাসের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে গেছে।

‘আরসা মনে করছে, তাদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সরকারি বাহিনীকে সহযোগিতা করছে মাহাস। তা ছাড়া মাহাসের মাদ্রাসাটি আরসা এর আগেও দখল করতে চেয়েছিল। হুকুমতের (সরকারি) বাহিনী মাদ্রাসাটি রক্ষা করতেছে। সব মিলিয়ে এই হামলাটি হয়েছে।’

তবে পুলিশ বলছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে আরসার অস্তিত্ব নেই। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন-৮ (এপিবিএন)-এর অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার শিহাব কায়সার খান বলেন, ‘মিয়ানমারের সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসা নামে কোনো সংগঠনের তৎপরতা নেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। কিন্তু আরসার নাম ব্যবহার করে অপতৎরতা চালাচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা।’

গুলি করে হত্যায় নিহতরা হলেন দারুল উলুম নাদওয়াতুল ওলামা আল-ইসলামিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও বালুখালী ২ নম্বর শিবিরের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস, বালুখালী-৯ নম্বর শিবিরের ব্লক-২৯–এর বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন, বালুখালী ১৮ নম্বর ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবক আজিজুল হক ও মোহাম্মদ আমিন, একই মাদ্রাসার শিক্ষক ও বালুখালী-১৮ নম্বর শিবিরের ব্লক-এফ-২২-এর নুর আলম ওরফে হালিম এবং মাদ্রাসার শিক্ষক ও ২৪ নম্বর শিবিরের হামিদুল্লাহ। এর মধ্যে প্রথম চারজন ঘটনাস্থলেই এবং অপর দুজনকে উখিয়ার এমএসএফ হাসপাতালে নেয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের ক্যাম্পে দাফন করা হয়েছে।

শরণার্থী বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গারা নানান অপরাধ ও অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের হত্যা করছে? এ প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর কাঠামো, আধিপত্য বিস্তার, আবাস-বিন্যাস, ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিবৃদ্ধি এবং নানান জাতের অবৈধ কারবারের বিস্তারে।’

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় সাতটি দল। সেগুলোর মধ্যকার ক্ষমতার দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ ছাড়া ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারের জন্য দ্বন্দ্বরত বিভিন্ন ছোট দল ও উপদলের মধ্যকার সংঘাত নিয়মিত চলছে। দলগুলোর মধ্যে কোনো একটি দল এ হত্যাযজ্ঞের মধ্য দিয়ে লাভবান হয়েছে। এ জন্য তারা হামলা চালিয়েছে।’

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার
এআইইউবির গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবক রিমান্ডে
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় সার্বিয়া
৯০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

চবি ছাত্রলীগ কর্মীকে ‘পেটালেন’ বাড়ির মালিক

চবি ছাত্রলীগ কর্মীকে ‘পেটালেন’ বাড়ির মালিক

চবির সহকারী প্রক্টর এসএএম জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বাড়ির মালিক মারধর করেছেন বলে শুনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ বক্সে আনা হলে তিনি একেকবার একেক কথা বলেন। আমরা বিষয়টি হাটহাজারি থানায় হ্যান্ডওভার করেছি।’

ভাড়া নিয়ে তর্ক করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যম্পাসের বউবাজারের কাছে শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ছাত্র। তিনি ছাত্রলীগের উপগ্রুপ-ভিএক্স এর কর্মী।

অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন বউবাজারের কাছে বিসমিল্লাহ্ ভবন-১ এর মালিক মো. জসিম।

মাসুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃ্হস্পতিবার রাতে ভর্তি পরীক্ষার্থী রাখার জন্য জসিমের সঙ্গে বাসা ভাড়া নিয়ে আমার আলোচনা হয়। ছয় হাজার টাকায় তিনি বাসা ভাড়া দিতে রাজি হন। শুক্রবার সকালে তাকে ফোন দিলে তিনি বাসা ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ জানতে চাইলে বলেন, এখানে স্যার-ম্যাডাম থাকেন, তারা নিষেধ করেছেন। খবর নিয়ে জানলাম, এখানে স্যার ম্যাডাম থাকেন না।

‘এ নিয়ে তার সঙ্গে আমার তর্কাতর্কি হয়। এরপর চার-পাঁচটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে তার লোকজন নেমে আমাকে মারধর শুরু করে। জিরো পয়েন্টে এলে আমাকে আবার মারধর করা হয়। এ সময় আমার মোবাইল ভেঙে যায়।’

তিনি বলেন, ‘ঘটনার পর হাটহাজারি থানার ওসি (তদন্ত) আমাকে উদ্ধার করেন। এরপর প্রক্টোরিয়াল বডি আসে। এই ঘটনায় আমি হাটহাজারি থানায় অভিযোগ করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এসএএম জিয়াউল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বাড়ির মালিক মারধর করেছেন বলে শুনেছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশ বক্সে আনা হলে তিনি একেকবার একেক কথা বলেন। আমরা বিষয়টি হাটহাজারি থানায় হ্যান্ডওভার করেছি।’

হাটহাজারি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষার্থী রাখার জন্য বাড়ি ভাড়ার টাকা নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। একজন আট হাজার টাকা বলছেন, আরেকজন ছয় হাজার। এটা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি, ঝগড়া বিবাদ। আমরা মীমাংসা করে দিয়েছি।’

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার
এআইইউবির গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবক রিমান্ডে
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় সার্বিয়া
৯০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

মিতু হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ভোলার

মিতু হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ভোলার

মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ভোলা। ছবি: নিউজবাংলা

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহীন জানান, চট্টগ্রাম মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক শফিউদ্দিনের আদালতে শনিবার সকালে ভোলা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

চট্টগ্রামের সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আকতারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি এহতেশামুল হক ভোলা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতের বিচারক শফিউদ্দিনের আদালতে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, জবানবন্দি শেষে বিচারক ভোলাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) চট্টগ্রাম নগরীর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানা জানান, যশোরের বেনাপোল থেকে শুক্রবার ভোরে ভোলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

মিতু হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করলে ১৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের হাইকোর্ট বেঞ্চ ভোলাকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন দেয়।

জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফখরুদ্দিন চৌধুরী ১৪ অক্টোবর বলেন, ‘ভোলা আজ আত্মসমর্পণ না করে সময়ের আবেদন করেন। আমরা এর বিরোধিতা করি। ভোলা হাইকোর্টের নির্দেশনা পালন না করায় আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।’

মিতু হত্যা: স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ভোলার
মাহমুদা খানম মিতু

বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রী মিতুকে হত্যার অভিযোগে বাবুলের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের ১২ মে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়। মিতুর বাবা মোশাররফ হোসেনের করা সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওই দিনই বাবুলকে আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড শেষ হওয়ার পর থেকে কারাগারে আছেন বাবুল।

২০১৬ সালের ৫ জুন ভোরে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে বের হওয়ার পর চট্টগ্রাম নগরের জিইসি মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় মিতুকে।

ঘটনার পর তৎকালীন এসপি বাবুল আকতার পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করেন, তার জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের জন্য স্ত্রীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন ও শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ এই হত্যার জন্য বাবুলকে দায়ী করে আসছিলেন।

শুরুতে চট্টগ্রাম পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে আদালত মামলার তদন্তভার পিবিআইকে দেয়।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার
এআইইউবির গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবক রিমান্ডে
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় সার্বিয়া
৯০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

অস্ত্রের কারিগর গ্রেপ্তার, পাইপগান জব্দ

অস্ত্রের কারিগর গ্রেপ্তার, পাইপগান জব্দ

ময়মনসিংহে অভিযান চালিয়ে এক অস্ত্রের কারিগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

ময়মনসিংহ র‍্যাব-১৪ এর পুলিশ সুপার (কোম্পানি কমান্ডার) মাসুরা বেগম বলেন, ‘বাবুল মিয়া দেশীয় পাইপগান তৈরি ও বিক্রি করেন, এমন গোপন তথ্যে তাকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। কালিরবাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার শরীর তল্লাশি করে একটি দেশীয় পাইপগান জব্দ করা হয়েছে।’

ময়মনসিংহের ত্রিশালে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়া নামের এক অস্ত্রের কারিগরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তার কাছ থেকে একটি দেশীয় পাইপগান জব্দ করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ শনিবার বিকেল ৩টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালিরবাজার এলাকা থেকে বাবুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বাবুল কাঁঠাল ইউনিয়নের আয়নাখেত এলাকার বাসিন্দা। তিনি অবৈধভাবে দেশীয় পাইপগান বানিয়ে বিক্রি করতেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ এর পুলিশ সুপার (কোম্পানি কমান্ডার) মাসুরা বেগম বলেন, ‘বাবুল মিয়া দেশীয় পাইপগান তৈরি ও বিক্রি করেন, এমন গোপন তথ্যে তাকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। কালিরবাজার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার শরীর তল্লাশি করে পাওয়া একটি দেশীয় পাইপগান জব্দ করা হয়েছে।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল তার সঙ্গে আরও ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছেনে বলে জানান। এ ঘটনায় ত্রিশাল থানায় মামলা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান র‌্যাব কর্মকর্তা মাসুরা বেগম।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার
এআইইউবির গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবক রিমান্ডে
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় সার্বিয়া
৯০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন

নিজ প্রতিষ্ঠানে মারধরের শিকার সাঈদীর মামলার সাক্ষী

নিজ প্রতিষ্ঠানে মারধরের শিকার সাঈদীর মামলার সাক্ষী

পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাঈদীর মামলার স্বাক্ষী জলিল শেখ। ছবি: নিউজবাংলা

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সাক্ষী জলিল শেখের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এক ব্যক্তির সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত জাহিদুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।’

পিরোজপুরে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মারধরের শিকার হয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার সাক্ষী জলিল শেখ।

জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট বন্দর বাজারে শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পুলিশ হামলাকারী জাহিদুল ইসলামকে আটক করেছে। আর আহত জলিল শেখকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে জলিল শেখকে মারধর করেন জাহিদুল।

এ ঘটনায় আহত ৭২ বছরের জলিল শেখের বাড়ি পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামে। আটক জাহিদুলের বাড়ি খুলনার রামনগর এলাকায়।

পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জলিল শেখ জানান, পাড়েরহাট বন্দর বাজারে তার ইলেক্টনিক্স যন্ত্রাংশ মেরামতের দোকার রয়েছে। কয়েক দিন আগে স্থানীয় একজন তার কাছে একটি আইপিএস মেরামতের জন্য দেন।

শুক্রবার সেই ব্যক্তির পরিবর্তে জাহিদুল আইপিএসটি নিতে যান। অপরিচিত হওয়ায় তিনি আইপিএস দিতে না চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে জাহিদুল তার উপর হামলা চালায়।

পিরোজপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক তন্ময় মজুমদার জানান, জলিল শেখের পিঠের দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সাক্ষী জলিল শেখের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এক ব্যক্তির সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত জাহিদুলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।’

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, যুদ্ধাপরাধী মামলার সাক্ষী জলিল শেখের নিরাপত্তার জন্য থাকা পুলিশই তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন:
৯ বছরে ৬ বার পরাজিত ক্যানসার
এআইইউবির গাড়িতে পেট্রোল বোমা হামলায় যুবক রিমান্ডে
বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে চায় সার্বিয়া
৯০ হাজার টন সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন
আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ‘সদস্য’ গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন