উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’

বরগুনা সদরের আশ্রয়ণ প্রকল্পে মূল নকশা বদলে মূল ঘর ও বারান্দার একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সরকারি নকশা অনুযায়ী মূল ঘর ও বারান্দার জন্য আলাদা চালা থাকলেও বরগুনা সদরে নির্মাণ করা ঘরে একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছোট করা হয়েছে বারান্দার আয়তনও। নির্মাণসামগ্রীও নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে বরগুনায় সরকারি নকশা পাল্টে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুন্ন হয়েছে ঘরের গুণগতমান।

অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির ইচ্ছামতো নির্মাণ করেছেন এইসব ঘর। এতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন সুবিধাভোগীরা।

তারা জানান, ভিন্ন নকশার কারণে ঘরে বৃষ্টির পানি ঢুকছে। আর নিম্নমানের সামগ্রীর কারণে খসে পড়ছে প্লাস্টার, বালু উঠছে মেঝে থেকে।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের সবার জন্য ঘর নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর অধীনে বরগুনাসহ সারা দেশে ৭০ হাজার ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়। বরগুনা সদর উপজেলায় প্রথম ধাপে ৩০টিসহ পর্যায়ক্রমে ২১৯টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি ঘরের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে নীতিমালা। দুর্নীতি ঠেকাতে ঠিকাদারদের বাদ দিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তা দিয়ে তৈরি করা হয় ঘর নির্মাণ বাস্তবায়ন কমিটি। এ ছাড়া ঘরের জন্য দেয়া হয় আলাদা নকশা।

সারা দেশে সরকারি সেই নকশায় ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও বরগুনা সদর উপজেলায় ঘটেছে ব্যতিক্রম।

সরকারি নকশা অনুযায়ী মূল ঘর ও বারান্দার জন্য আলাদা চালা থাকলেও বরগুনা সদরে নির্মাণ করা ঘরে একটি চালা দেয়া হয়েছে। ছোট করা হয়েছে বারান্দার আয়তনও।

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’


এ ছাড়া নির্মাণকাজে ব্যবহার করা ইট, বালু, কাঠসহ সব সামগ্রী নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন সুবিধাভোগীরা। দেয়ালের পুরুত্বও ঠিক নেই বলে অভিযোগ তাদের।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের জন্য একটি বাস্তবায়ন কমিটি রয়েছে। যার সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। তবে বরগুনা সদর উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) না থাকায় প্রকল্প-২-এ সেই দায়িত্ব দেয়া হয় বেতাগী উপজেলার পিআইও মো. ওয়ালিউল্লাহকে।

তবে ওয়ালিউল্লাহ দুই উপজেলার দায়িত্বে থাকায় বরগুনা সদর উপজেলায় মূলত দেখাশোনা করেন উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন কবির।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকৌশলী হওয়ায় হুমায়ুন কারও পরামর্শ না নিয়ে নকশা বদলে ইচ্ছেমতো প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

সরেজমিনে সদর উপজেলার দক্ষিণ লাকুরতলা গ্রামে দেখা যায়, দুই শতাধিক ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। অন্য ঘরগুলোতে নির্মাণকাজ চলছে। এরই মধ্যে পুনর্বাসিত করা হয়েছে ৬০টি পরিবারকে।

হস্তান্তর করা ঘরের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ, মো. জহিরুলসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নকশায় ত্রুটি থাকায় বৃষ্টি হলেই ঘরের মধ্যে পানি ঢোকে। এখন পর্যন্ত সব ঘর হস্তান্তর না হলেও খসে পড়া শুরু করেছে পলেস্তারা। মেঝে থেকেও বালু উঠছে। কয়েকজন নিজ উদ্যোগে মেঝে ঠিকও করে নিয়েছেন।

উপহারের ঘরের ‘নকশা বদল’


বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘর নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে তার (প্রকৌশলী হুমায়ুন) সঙ্গে কোনো কথাই বলা যেত না। নিজের খেয়ালখুশিমতো ঘর তৈরি করেছেন উপসহকারী প্রকৌশলী হুমায়ুন। কার প্রভাবে কীভাবে হুমায়ুন এত ক্ষমতা পেল সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সদর উপজেলার ইউএনও সামিয়া শারমিন বলেন, ‘আমি এই উপজেলায় নতুন এসেছি। আমি আসার পর এখন পর্যন্ত কোনো ঘর হস্তান্তর হয়নি। ঘর নির্মাণে অনিয়ম কিংবা নকশাবহির্ভূত কোনো কাজ হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

বরগুনা জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জেনে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদীর পানি, ইউএনও বললেন বৃষ্টির
পানছড়ি আশ্রয়ণ: ৩০০ ঘরে ঠাঁই ৩৫০০ জনের
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণের ঘর দখলের অভিযোগ
আশ্রয়ণের হাজার ইউনিট ফাঁকা, মিলছে না ছিন্নমূল
উপহারের ঘরে চাঁদাবাজির সত্যতার প্রমাণ তদন্তে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পীরগঞ্জে সহিংসতা: গ্রেপ্তার আরও ১১

পীরগঞ্জে সহিংসতা: গ্রেপ্তার আরও ১১

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর হিন্দুপাড়ায় সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় আরও ১১ জনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হলো ৫৩ জনকে।

মঙ্গলবার রাতে পীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেশ চন্দ্র।

তিনি বলেন, যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা এজাহারভুক্ত আসামি। তাদেরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে তোলা হবে।

এর আগে পীরগঞ্জের ঘটনায় ৪২ জনকে আটক করা হয়। পরে দুটি আলাদা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রোববার রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ২৩টি বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৬০টি পরিবার।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে দুটি মামলা করেন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন। এর মধ্যে একটি মামলা হয়েছে হিন্দুদের বাড়িঘরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায়। এতে ৪১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে।

আরেকটি মামলা একজনকে আসামি করে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদীর পানি, ইউএনও বললেন বৃষ্টির
পানছড়ি আশ্রয়ণ: ৩০০ ঘরে ঠাঁই ৩৫০০ জনের
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণের ঘর দখলের অভিযোগ
আশ্রয়ণের হাজার ইউনিট ফাঁকা, মিলছে না ছিন্নমূল
উপহারের ঘরে চাঁদাবাজির সত্যতার প্রমাণ তদন্তে

শেয়ার করুন

ছাতক থানার সেই ওসি বদলি

ছাতক থানার সেই ওসি বদলি

সদ্য বদলি হওয়া সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওসি নাজিম উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামক ফেসবুকভিত্তিক একটি পেজে লাইভে আসেন। সেই ভিডিও ছড়ালে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

সুনামগঞ্জের ছাতক থানার সেই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বদলি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফেসবুক লাইভে আসার অভিযোগ উঠেছিল।

ছাতক থানার ওই পুলিশ কর্মকর্তার নাম শেখ নাজিম উদ্দিন। তাকে মঙ্গলবার সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, ওসি নাজিমের আসামিকে ফেসবুক লাইভে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি দায়িত্বে অবহেলার সমান। তাই তাকে ছাতক থানা থেকে বদলি করে সুনামগঞ্জ পুলিশ লাইনসে আনা হয়।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর ওসি নাজিম উদ্দিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ‘ছাতক টু সুনামগঞ্জ’ নামক ফেসবুকভিত্তিক একটি পেজে লাইভে আসেন। সেই ভিডিও ছড়ালে ওসির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আসামি আবু সুফিয়ান সোহাগকে গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান ও থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্যের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ওসি নাজিম। ভিডিওটি ভাইরাল হলে ১ ঘণ্টা পর সেটি পেজ থেকে ডিলেট করা হয়।

ওই সময় ওসি নাজিম উদ্দিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমি এগুলো করিনি। আসামি যখন আমাদের বিবরণ বলেছিল প্রমাণের জন্য তা ভিডিও করা হয়। কিন্তু এ ভিডিও লাইভে কীভাবে গেল সেটা আমি জানি না। আমি এসব কিছু করিনি।’

এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করেন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন:
আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদীর পানি, ইউএনও বললেন বৃষ্টির
পানছড়ি আশ্রয়ণ: ৩০০ ঘরে ঠাঁই ৩৫০০ জনের
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণের ঘর দখলের অভিযোগ
আশ্রয়ণের হাজার ইউনিট ফাঁকা, মিলছে না ছিন্নমূল
উপহারের ঘরে চাঁদাবাজির সত্যতার প্রমাণ তদন্তে

শেয়ার করুন

‘জুয়ার টাকা বাঁটোয়ারা’ নিয়ে যুবক খুন

‘জুয়ার টাকা বাঁটোয়ারা’ নিয়ে যুবক খুন

নিহতের বোন সুফিয়া আক্তার জানান, সুরুজ আলী প্রতি রাতেই জুয়া খেলতেন। মঙ্গলবার রাতেও জুয়া খেলতে দুর্লভপুর চৌমুহনীতে যান তিনি। খেলার সময় টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে অন্য জুয়াড়িদের সঙ্গে সুরুজের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সুরুজকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

হবিগঞ্জে জুয়া খেলার টাকা ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে এক যুবককে খুনের অভিযোগ উঠেছে।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত ৩টার দিকে সুরুজ আলী মারা যান। এর আগে শহরের দুর্লভপুর গ্রামে বুধবার রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরীফ আহমেদ নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ৩৫ বছর বয়সী সুরুজ আলীর বাড়ি দুর্লভপুর গ্রামে।

নিহতের বোন সুফিয়া আক্তার জানান, সুরুজ আলী প্রতি রাতেই জুয়া খেলতেন। মঙ্গলবার রাতেও জুয়া খেলতে দুর্লভপুর চৌমুহনীতে যান তিনি। খেলার সময় টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে অন্য জুয়াড়িদের সঙ্গে সুরুজের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা সুরুজকে পিটিয়ে হত্যা করেন।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই শরীফ আহমেদ জানান, মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, জুয়ার টাকার ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে সুরুজকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় মামলা হবে।

আরও পড়ুন:
আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদীর পানি, ইউএনও বললেন বৃষ্টির
পানছড়ি আশ্রয়ণ: ৩০০ ঘরে ঠাঁই ৩৫০০ জনের
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণের ঘর দখলের অভিযোগ
আশ্রয়ণের হাজার ইউনিট ফাঁকা, মিলছে না ছিন্নমূল
উপহারের ঘরে চাঁদাবাজির সত্যতার প্রমাণ তদন্তে

শেয়ার করুন

পীরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুপাড়ায় এখনও আতঙ্ক, বিনিদ্র রাত

পীরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুপাড়ায় এখনও আতঙ্ক, বিনিদ্র রাত

পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামে হামলার পর আতংকে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ছবি: নিউজবাংলা

পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা কনক মালা বলেন, ‘ছোট ছোয়া (ছেলে) সুজন কয়, মা ওমরা কি ফির আইসপে (আসবে)। মুই কইচোং (বলেছি), না বাবা আর আইসপের নয়। তুই ঘুম যা। ঘুম পড়ে না ভয়োতে (ভয়ে)...।’

যেই আইত (রাত) হইল অমনি ভয় ধরিল, খালি ভয় নাগে (লাগে), শরীল (শরীর) দলদল করি কাঁপে। মনে হয় ওমরা (ওরা) ফির আসিল। ওই চিন্তায় ঘুম হয় নাই। ঘুমোতে চটকি চটকি (চমকে চমকে) উটি। ছৈল গুল্যা ঘুম পাড়ে নাই।’

কথাগুলো বলছিলেন, পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের রুহিনী চন্দ্র দাস।

ওই এলাকার বাসিন্দা কনক মালা বলেন, ‘ঘুমোতে মনে হয় বাড়িত আগুন ধরি দেইল। সোউগ (সব) নিয়ে গেইল। ভাঙি (ভেঙে) ফেলাইল। খালি এ্যাইলা (এগুলো) দেকি। ঘুমবার পাড়ি নাই। সারা আইত (রাত) বসি আচিনোং (ছিলাম)। ছোয়াগুলেক (বাচ্চাদের) কই তোমরা ঘুমেন হামরা (আমরা) জাগি আচি, ওমরাও ঘুমেয় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছোট ছোয়া (ছেলে) সুজন কয়, মা ওমরা কি ফির আইসপে (আসবে)। মুই কইচোং (বলেছি), না বাবা আর আইসপের নয়। তুই ঘুম যা। ঘুম পড়ে না ভয়োতে (ভয়ে)...।’

উপেন চন্দ্র দাস বলেন, ‘হামলা করি তো সোউগ নষ্ট করি ফেলাইচে, পুড়ি ফেলাইচে। কাল থাকি চুলেত আগুন ধরাই নাই। এখানে সরকার থাকি পাক-সাক (রান্না-বান্না) করোছে (করছে) ওইলা খাওচি (খাচ্ছি)। খাবার তো ভিতরোত (ভেতরে) ঢোকে না। খালি চিন্তা হয়, সোগ শ্যাষ হইল এ্যালা চলমো কেমন করি। বউ বাচ্চাক কেমন করি চলামো।

রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রামনাথ পুরের উত্তর পাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা।

এতে ৬০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলাকারীদের দেয়া আগুনে পুড়ে যায় ধান, চাল, আসবাব, ঘরে থাকা জামাকাপড়সহ প্রয়োজনীয় সবকিছু। এ সময় বাড়ি-ঘর ছেড়ে ধানক্ষেত, বাঁশঝাড়ে আশ্রয় নেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

বর্তমানে তারা পুলিশের অস্থায়ী তাবুতে রাত কাটাচ্ছেন। তবে হমলার সেই দৃশ্য তাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। ভয়, ক্ষোভ আর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পল্লীতে নেয়া হয়েছে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা। তাদের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে খাবার, কাপড় এবং ঘর নির্মাণের জন্য টিন ও নগদ আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। তাদের নিরাপত্তায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙখলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।

রংপুর পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, এ ঘটনায় আলাদা দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৪২ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন।

আরও পড়ুন:
আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদীর পানি, ইউএনও বললেন বৃষ্টির
পানছড়ি আশ্রয়ণ: ৩০০ ঘরে ঠাঁই ৩৫০০ জনের
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণের ঘর দখলের অভিযোগ
আশ্রয়ণের হাজার ইউনিট ফাঁকা, মিলছে না ছিন্নমূল
উপহারের ঘরে চাঁদাবাজির সত্যতার প্রমাণ তদন্তে

শেয়ার করুন

৩৫ বছরের হকারি জীবন গেল কাভার্ডভ্যানের চাপায়

৩৫ বছরের হকারি জীবন গেল কাভার্ডভ্যানের চাপায়

কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত হকারের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাভার হাইওয়ে থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, কাভার্ডভ্যানটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ঢাকার সাভারে রাস্তা পারাপারের সময় কাভার্ডভ্যানের চাপায় পত্রিকার হকার নিহত হয়েছেন।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বুধবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

৬০ বছর বয়সী রুহুল আমিন ৩৫ বছর ধরে পত্রিকার হকার হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর থানায়।

আশুলিয়ার ডেন্ডাবর নতুন পাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন তিনি।

নিহতের সহকর্মী আশরাফুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে পত্রিকা বিলি করে আসছিলেন রুহুল আমিন। প্রতিদিনের মতো আজও ভোরে নিজ বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে নবীনগরে আসছিলেন পত্রিকা নিতে।

‘জয় রেস্তোরাঁর সামনে রাস্তা পারপারের সময় একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান তাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।’

ওই সময় স্থানীয় লোকজন কাভার্ডভ্যানটিকে জব্দ করে পুলিশে দেয়। গাড়িটির চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, কাভার্ডভ্যানটি থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদীর পানি, ইউএনও বললেন বৃষ্টির
পানছড়ি আশ্রয়ণ: ৩০০ ঘরে ঠাঁই ৩৫০০ জনের
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণের ঘর দখলের অভিযোগ
আশ্রয়ণের হাজার ইউনিট ফাঁকা, মিলছে না ছিন্নমূল
উপহারের ঘরে চাঁদাবাজির সত্যতার প্রমাণ তদন্তে

শেয়ার করুন

ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট

ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট

তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

বেলা পৌনে ১১টার দিকে ভেঙে গেছে ব্যারেজের লালমনিরহাট অংশের একটি ফ্লাড বাইপাস বাঁধ। ওই এলাকায় পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল।

ভারতের ভয়াবহ বন্যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের তিস্তা নদীতে। এতে তিস্তা নদীবেষ্টিত জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুরের নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে ভেঙে গেছে তিস্তা ব্যারেজের লালমনিরহাট অংশের একটি বাঁধ। হুমকির মুখে অন্য বাঁধগুলোও।

বুধবার সকাল ৬টা থেকে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা যায়। সকাল ৯টায় আরও ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এ অবস্থায় পানি উন্নয়ন বোর্ড রেড অ্যালার্ট (লাল সংকেত) জারি করে তিস্তার আশপাশের মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে ভেঙে গেছে ব্যারেজের লালমনিরহাট অংশের একটি ফ্লাড বাইপাস বাঁধ। ওই এলাকায় পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নিম্নাঞ্চল।

হঠাৎ ভয়াবহ বন্যায় নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে।

ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েও তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এতে তিস্তা ব্যারেজ রক্ষায় উত্তর পার্শ্বে অবস্থিত ফ্লাড ফিউজ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে বুড়িমারী, পাটগ্রাম, হাতিবান্ধার সঙ্গে নীলফামারী জেলার সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা ডালিয়া পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫১ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

১২ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই পানি ১০৭ সেন্টিমিটার বেড়ে সকাল ৬টায় বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, যা সকাল ৯টায় আরও ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে বর্তমানে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারতে বন্যা, তিস্তায় রেড অ্যালার্ট

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান জানান, এলাকার জিরো পয়েন্টে তিস্তার ডান তীর ও গ্রোয়েন বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে গ্রোয়েন বাঁধটির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ওই বাঁধটি ভেঙে গেলে ডান তীর বাঁধসহ এলাকার শত শত ঘরবাড়ি তিস্তার পানিতে ভেসে যাবে।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, ‘পরিস্থিতি খুব খারাপ। এরই মধ্যে তিস্তাবাজার, তেলিরবাজার, দোলাপাড়া, চরখড়িবাড়ি এলাকা তলিয়ে গেছে। চরের ফসলের জমি সব পানির নিচে। ঘরবাড়ি ছেড়ে মানুষ গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদে সরে গেছে।’

খালিশাচাঁপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘কার্তিক মাসের এমন হঠাৎ বন্যা এলাকাবাসীকে পথে বসিয়ে দিচ্ছে। এলাকার ছোটখাতা, বাইশপুকুর, সুপারীপাড়া গ্রাম এখন নদীতে পরিণত হয়েছে।’

ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘ভেন্ডাবাড়ি ছাতুনামা ফরেস্টের চর এলাকার ওপর দিয়ে এখন তিস্তা নদীর পানি বয়ে যাচ্ছে। ঘরবাড়িতে গলা সমান পানি। এ ছাড়া নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ২২টি চরের ৫০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।’

হঠাৎ তিস্তায় পানি বেড়ে বন্যা সৃষ্টি হওয়ায় চরাঞ্চলের সবজিসহ ফসলের জমি পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

চরাঞ্চলের রমজান আলী বলেন, ‘রাতে হঠাৎ তিস্তার পানি বেড়ে যাবে ভাবতে পারিনি। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, ভেবে পাচ্ছি না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন আগে কোনো রকম ঘোষণা দেয়নি যে বাড়ি থেকে সরে যেতে হবে। পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে আছি।’

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদ্দৌলা প্রিন্স বলেন, ‘উজানের ঢলে তিস্তা নদীতে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রেখেও পানি সামাল দেয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেকোনো সময় তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড ফিউজ বিধ্বস্ত হতে পারে। আমরা তিস্তা অববাহিকায় লাল সংকেত দিয়ে মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলেছি।’

আরও পড়ুন:
আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদীর পানি, ইউএনও বললেন বৃষ্টির
পানছড়ি আশ্রয়ণ: ৩০০ ঘরে ঠাঁই ৩৫০০ জনের
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণের ঘর দখলের অভিযোগ
আশ্রয়ণের হাজার ইউনিট ফাঁকা, মিলছে না ছিন্নমূল
উপহারের ঘরে চাঁদাবাজির সত্যতার প্রমাণ তদন্তে

শেয়ার করুন

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

পঞ্চগড়ে এবার দেরিতে বাজারে আসা শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। ছবি: নিউজবাংলা

পঞ্চগড়ের কৃষকরা বলছেন, এ বছর জেলায় বৃষ্টি কম হওয়ায় শীতকালীন সবজির আবাদ ব্যাহত হয়েছে। আগাম সবজি উঠতে দেরি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা থেকে সবজি আসছে, এ কারণে দাম বেশি।

পঞ্চগড় জেলায় এ বছর একটু দেরিতে বাজারে আসা শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। বাজারে মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, গাজর, শিমসহ নানা ধরনের শীতের সবজি পাওয়া গেলেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে তার বেশি দামে। কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়, ফুলকপি ১০০, বাঁধাকপি ৮০, গাজর ২০০, শসা ৬০ ও টমেটো ২০০ টাকা কেজি দরে।

কৃষকরা বলছেন, এ বছর জেলায় বৃষ্টি কম হওয়ায় শীতকালীন সবজির আবাদ ব্যাহত হয়েছে। আগাম সবজি উঠতে দেরি হওয়ায় পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও, জয়পুরহাট ও বগুড়া জেলা থেকে সবজি আসছে, এ কারণে দাম বেশি।

এ ছাড়া বৃষ্টির অভাবে বাঁধাকপি, ব্রকলি, ফুলকপি ও শিমে বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়ায় এসব ফসলের উৎপাদন কম হবার আশঙ্কা তাদের। সেটিও দামে প্রভাব ফেলছে।

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার চাকলাহাট, হাড়িভাসা, রতনিবাড়ী, বোদা উপজেলার পাঁচপীর, মড়েয়া বড়শষি আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর, আলোয়া খাওয়া, সর্দারপাড়া, দেবীগজ্ঞ উপজেলার তিস্তাপাড়া, ফুলবাড়ি, কালিগঞ্জ এবং তেঁতুলিয়া উপজেলার শড়িয়ালজোত, বিল্লাভিটা ও শালবাহানহাট এলাকায় প্রচুর পরিমাণ সবজি চাষ হয়। এসব এলাকায় আগাম উৎপাদিত শীতকালীন সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রির পর চলে যায় রাজধানী ঢাকায়।

বোদা উপজেলার মাড়েয়া এলাকার সবজি চাষি রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতি বছর শীতের সবজি চাষ করে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ থাকে। এ বছর তিনি শিম, ঝিঙ্গা, শসা, বরবটি, লাউ ও কচুর লতির আবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘চলতি বছর বৃষ্টি আশাতীতভাবে না হওয়ায় সবজির ফলন ভালো হয়নি। সবজি ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় উৎপাদন কিছুটা হলেও কম হবে। আর প্রতি বছর আগাম সবজি বাজারজাত করতে পারলেও এ বছর একটু দেরি হবে।’

কম বৃষ্টিতে ব্যাহত শীতের সবজি চাষ

তবে সবজির চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম পাবেন বলে আশা করছেন বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার ভাবরঙ্গি গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি ও বেগুনের আবাদ ভালো হয়েছে। তবে আগে বাজারজাত করতে না পারায় লাভ কিছুটা কম হবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় সবজি চাষে ব্যাঘাত হয়েছে। শেষ সময়ের বৃষ্টিপাতে চাষিরা তা পূরণ করার চেষ্টা করছেন।

বৃষ্টি কম হওয়ায় এবার আগাম সবজি সেভাবে বাজারে ওঠেনি। তবে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সবজি সরবরাহ বাড়বে।

আরও পড়ুন:
আশ্রয়ণ প্রকল্পে নদীর পানি, ইউএনও বললেন বৃষ্টির
পানছড়ি আশ্রয়ণ: ৩০০ ঘরে ঠাঁই ৩৫০০ জনের
ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণের ঘর দখলের অভিযোগ
আশ্রয়ণের হাজার ইউনিট ফাঁকা, মিলছে না ছিন্নমূল
উপহারের ঘরে চাঁদাবাজির সত্যতার প্রমাণ তদন্তে

শেয়ার করুন