হাসপাতালে ইভ্যালির রাসেল

হাসপাতালে ইভ্যালির রাসেল

ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল। ছবি: নিউজবাংলা

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করে।

হঠাৎ অসুস্থবোধ করায় আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেলকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পরে মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার পুলিশের উপপরিদর্শক ওহিদুল ইসলাম নিউজবাংলাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

ঢাকা মেডিক্যাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টা ২৮ মিনিটে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করে।

রাত ১১টা ৫ মিনিটে তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালের উদ্দেশে ঢামেক থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের নামে বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় অর্থ আত্মসাতের মামলা করেন আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক। পণ্য কেনার জন্য অর্ডার করে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমা দিয়েও তা না পাওয়ার মামলা করেন এই গ্রাহক।

এ মামলায় দুজনকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাদের নেয়া হয় র‍্যাবের হেডকোয়ার্টারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওহিদুল ইসলাম জানান, মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলামের আদালতে রাসেল ও শামীমার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। বিচারক তিন দিনের রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহক ও মার্চেন্ট এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার কাছে ইভ্যালির দেনা ৫৪৩ কোটি টাকা।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার র‌্যাবের হাতে আটকের পর শুক্রবার সংস্থাটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রাহকের সার্বিক পাওনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

ইভ্যালির বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদন চিত্র পর্যালোচনার পর দেখা যায়, এ দেনা পরিশোধের সক্ষমতা বা পাওনা পরিশোধে সমপরিমাণ নগদ অর্থ কিংবা সম্পত্তি কোনোটাই নেই ইভ্যালির হাতে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইভ্যালির বর্তমান পরিচালন থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিপুল পরিমাণ পাওনা পরিশোধ সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন না।

আরও পড়ুন:
‘কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে হলে রাসেলদের মুক্ত হতে হবে’
‘মহামারির কারণে গ্রাহকদের পণ্য দিতে পারেনি ইভ্যালি’
ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন?
‘রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’
ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

তুলার বাড়তি দামে সংকট বস্ত্র খাতে

তুলার বাড়তি দামে সংকট বস্ত্র খাতে

বিশ্ববাজারে বেড়েই চলেছে তুলার দাম। ছবি: সংগৃহীত

নেতারা বলেন, কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে তুলার দাম বেড়ে চলেছে। গত এক দশকের মধ্যে এখন তুলার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিল ৯০ সেন্ট। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২০ সেন্টে। প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে দাম। এভাবে তুলার দাম বাড়ার কারণে বস্ত্র ও পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

তৈরি পোশাকশিল্পের মৌলিক কাঁচামাল তুলার দাম আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় বস্ত্র ও পোশাক খাতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উদ্বেগে ব্যবসায়ীরা।

রাজধানীতে সোমবার প্যান-প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা জানান এ উদ্বেগের কথা।

তুলার দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারি নীতি সহায়তার পাশাপাশি জরুরিভাবে সমন্বিত নীতি প্রণয়নের দাবি জানান বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ), তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ রপ্তানি খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

বিশ্ববাজারে তুলার দাম বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সংকটজনক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এ যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, কয়েক মাস ধরে বিশ্ববাজারে তুলার দাম বেড়ে চলেছে। গত এক দশকের মধ্যে এখন তুলার দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তুলার দাম যেভাবে বাড়ছে তা শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে তা কেউ বলতে পারছে না।

সেপ্টেম্বরের ২১ তারিখে প্রতি পাউন্ড তুলার দাম ছিল ৯০ সেন্ট। এখন তা বেড়ে দাড়িয়েছে ১২০ সেন্টে। প্রায় প্রতিদিন বাড়ছে দাম।

নেতারা বলেন, শুধু তুলার দাম বাড়ার কারণে বস্ত্র ও পোশাক খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বর্ধিত জাহাজ ও কন্টেইনার ভাড়া, বন্দরের যানজটসহ অন্য অনেক সমস্যা। সব মিলিয়ে বস্ত্র ও পোশাক খাত বিপর্যের মুখে পড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, তুলা পোশাকশিল্পের প্রধান মৌলিক কাঁচামাল। তুলা থেকে সুতা, এরপর সুতা থেকে কাপড় এবং তা থেকে পোশাক তৈরি হয়। বাংলাদেশে ৯৯ শতাংশ তুলা আমদানি করা হয়।

তুলার দাম বাড়ার ফলে সুতার দাম বাড়ছে। ফলে কাপড়ের দামে তা প্রভাব ফেলছে। এ অবস্থায় তৈরি পোশাক খাত তীব্র প্রতিযোগিতায় পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে। কারণ, ক্রেতারা বেশি দামে বাংলাদেশি পোশাকপণ্য কিনতে চাচ্ছে না। এ অবস্থায় তুলার দাম স্থিতিশীল রাখা জরুরি বলে মনে করে বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহাম্মদ আইউব।

এ সময় বিকেএমইর নিবার্হী সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ টেরিটাওয়াল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহদাত হোসেনসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিকেএমইএর মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘রপ্তানিমুখী বস্ত্র ও পোশাকশিল্পের স্বার্থে সুতার বাজার স্থিতিশীল রাখা উচিত। সুতার দাম বাড়ার বিষয়ে আমরা একটা সতর্ক বার্তা দিলাম। যাতে করে বায়ারদের সঙ্গে দরকষাকষিতে পোশাকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায়।’

বিটিএমএর ফজলুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিনই সুতার দাম বাড়ছে। কোথায় গিয়ে যে ঠেকে তা বলা কঠিন। বিশ্ববাজারে সব কিছুর দাম বাড়ছে। শুধু বাড়ছে না বাংলাদেশি পোশাকের দাম। বিষয়টি নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।’

টেরিটাওয়াল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘তুলার দাম না কমলে রপ্তানিমুখী শিল্পে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।’

বাংলাদেশ কটন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুহাম্মদ আইউব বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার বাড়তি দাম বিবেচনায় নিয়ে দেশীয় তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত ক্রেতাদের সাথে দরকষাকষি করা।’

আরও পড়ুন:
‘কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে হলে রাসেলদের মুক্ত হতে হবে’
‘মহামারির কারণে গ্রাহকদের পণ্য দিতে পারেনি ইভ্যালি’
ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন?
‘রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’
ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

শেয়ার করুন

‘নগদ’ ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইন বিজয়ীর হাতে বাইক তুলে দিলেন তামিম

‘নগদ’ ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইন বিজয়ীর হাতে বাইক তুলে দিলেন তামিম

বাইক বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তামিম ইকবাল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ‘নগদ’-এর আকর্ষণীয় এই ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইনে এ সপ্তাহের বিজয়ীরা হলেন খন্দকার রিয়াজুল হক ও মো. মাজহারুল ইসলাম। তারা দুজনই ঢাকার অধিবাসী।

ডাক বিভাগের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর চলমান ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়া বিজয়ীদের মোটরবাইক হস্তান্তর করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তামিম ইকবাল।

রোববার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচের পর ৭১ টিভিতে ‘নগদ’ প্রেজেন্ট তামিম ইকবাল শো-তে এসে দুই বিজয়ী বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালের কাছ থেকে মোটরবাইক বুঝে নেন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ‘নগদ’-এর আকর্ষণীয় এই ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইনে এ সপ্তাহের বিজয়ীরা হলেন খন্দকার রিয়াজুল হক ও মো. মাজহারুল ইসলাম। তারা দুজনই ঢাকার অধিবাসী।

বাইক হস্তান্তরের সময় তামিম ইকবাল বিজয়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তারা কুইজে অংশ নিয়ে কীভাবে স্কোর করেছেন, সে কৌশল জানতে চান।

গ্রাহকদের জন্য ‘নগদ’-এর বিশেষ ক্যাম্পেইনটি চলবে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত। ক্যাম্পেইনটির আওতায় ‘নগদ’ গ্রাহকেরা ক্যাশ-ইন বা অ্যাড মানি, মোবাইল রিচার্জ ও টি-টোয়েন্টি কুইজ খেলে প্রতিদিন জিতে নিতে পারবেন একটি করে মোটরবাইক। পাশাপাশি প্রতি মিনিটে ক্যাশ-ইন করা প্রথম পাঁচজন গ্রাহক পাবেন ১০০ টাকা পর্যন্ত বোনাস।

‘নগদ’-এর ক্যাশ-ইন ক্যাম্পেইন নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষের ক্রিকেটের প্রতি এই যে ভালোবাসা সে কারণেই বাংলাদেশের ক্রিকেট এক সময় অনেক উচ্চতায় উঠবে। কুইজে অংশ নিয়ে বেশি বেশি বোনাস পাওয়ার পাশাপাশি বাইক জেতার সুযোগ সবারই নেয়া উচিত।’

ক্যাম্পেইনটির বিষয়ে ‘নগদ’-এর চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) শেখ আমিনুর রহমান বলেন, “গ্রাহকদের জন্য সব সময় আকর্ষণীয় অফারসহ সেরা সেবা নিশ্চিত করে ‘নগদ’। আর সে কারণেই ‘নগদ’ আজ সাড়ে ৫ কোটি গ্রাহকের আস্থা আর নির্ভরতার জায়গা।”

টি-টোয়েন্টি কুইজে অংশ নেয়ার পদ্ধতি

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে প্রতিদিন মোটরবাইক জেতা ও বোনাস পাওয়ার ক্যাম্পেইন চালু করেছে ‘নগদ’। এ জন্য গ্রাহকদের ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে উদ্যোক্তা পয়েন্ট থেকে সকাল ১০টা থেকে রাত ০৯টা ৫৯ মিনিটের মধ্যে নূন্যতম ১ হাজার টাকা ক্যাশ-ইন অথবা যেকোনো ব্যাংকের ভিসা বা মাস্টার কার্ড থেকে নূন্যতম ১ হাজার টাকা বা তার বেশি টাকা অ্যাড মানি করতে হবে।

ক্যাম্পেইনটির আওতায় মোটরবাইক জিততে চাইলে গ্রাহককে ১ হাজার টাকা বা তার বেশি ক্যাশ-ইন বা অ্যাড মানি করতে হবে, পাশাপাশি যেকোনো পরিমাণ মোবাইল রিচার্জ ও ‘নগদ’ অ্যাপের মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি কুইজ খেলতে হবে।

এই তিনটি কাজ করতে হবে একসাথে। টি-টোয়েন্টি কুইজে করা সর্বোচ্চ স্কোরের ভিত্তিতে প্রতিদিন একজন গ্রাহক মোটরবাইক বিজয়ী হতে পারবেন।

আরও পড়ুন:
‘কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে হলে রাসেলদের মুক্ত হতে হবে’
‘মহামারির কারণে গ্রাহকদের পণ্য দিতে পারেনি ইভ্যালি’
ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন?
‘রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’
ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

শেয়ার করুন

রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী

রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী

রিজার্ভ বাড়িয়ে বলা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইএমএফ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাড়িয়ে বলার সুযোগ নেই। এক কর্মকর্তা বলেছেন, আইএমএফের কথা না শুনে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেয়া হয়েছে। সে কারণেই এ বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাটি নাখোশ হয়ে হঠাৎ করে রিজার্ভের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে থাকতে পারে।

বাংলাদেশে বিদেশি মুদ্রার মজুদ বা রিজার্ভ একটুও বাড়িয়ে বলা হয়নি বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই সব সময় রিজার্ভের হিসাব করে থাকে বাংলাদেশ। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) অযথাই রিজার্ভ বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে বলে প্রশ্ন তুলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আইএমএফের এই প্রশ্নে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছেন, ‘রিজার্ভ কীভাবে বাড়িয়ে বলা সম্ভব! এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। হঠাৎ আইএমএফ রিজার্ভ নিয়ে কথা বলছে কেন, সেটাই তো আমি বুঝতে পারছি না।’

২০২১ সালের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সুরক্ষা মূল্যায়নের একটি খসড়া প্রতিবেদনে আইএমএফ বিদেশি সম্পদের ভুল শ্রেণীকরণ চিহ্নিত করেছে। এই ভুল শ্রেণীকরণের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের আকার বড় হয়েছে বলে দাবি করেছে আইএমএফ।

আইএমএফ বলেছে, চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে বাংলাদেশে ৪৬ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ থাকার যে কথা বলা হয়েছিল, তা আসলে ১৫ শতাংশ বাড়িয়ে বলা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে রিজার্ভ হবে ৩৯ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভ-বহির্ভূত সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করে রিজার্ভ ৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রিজার্ভ নিয়ে আইএমএফের আপত্তির নেপথ্যে কী

আইএমএফের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করেই সব সময় রিজার্ভের হিসাব করে থাকে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্পর্শকাতর এই সূচকটির বিষয়ে সব সময় সঠিক মানদণ্ড অনুসরণ করে হিসাব-নিকাশ করে রিজার্ভের হিসাব করা হয়। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভুল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা (কেন্দ্রীয় ব্যাংক) আইএমএফের এই হিসাব মোটেই আমলে নিচ্ছি না। আইএমএফ তাদের কথা বলেছে, বলুক। আমরা তো জানি, আমাদের কোনো ভুল নেই। আমরা যে মেকানিজমে, যে সংজ্ঞার মাধ্যমে যেটাকে রিজার্ভ হিসেবে ট্রিট করি, সে ব্যাখ্যা কিন্তু আইএমএফকে জানানো আছে। আইএমএফ এখন সেটা যাচাই-বাছাই করে দেখুক। যেহেতু তারা প্রশ্ন তুলেছে, তাদের প্রশ্নের ভিত্তি আছে কি না, তারাই এখন দেখুক।’

তিনি বলেন, ‘আইএমএফ কিন্তু জানে, বাংলাদেশ ব্যাংক কোন কোন বিষয় রিজার্ভের সঙ্গে দেখায়। তারা এখন পর্যালোচনা করে দেখুক, তারা কী মতামত দেয় দেখি। তখন আবার আমরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব।

‘তবে, আমি আবারও বলছি, রিজার্ভ একটুও বাড়িয়ে বলা হয়নি। এটা বাড়িয়ে বলার কোনো সুযোগ নেই।’

রিজার্ভ বাড়িয়ে বলা বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডলারের দর ওঠা-নামার ওপর এটা রিজারভেশন (রিজার্ভ) হয়। ডলারের দর বাড়লে বা কমলে সেটা সমন্বয় করা হয়। এটাকে গেইন অর লস বলে। কিন্তু এটা তো মূল রিজার্ভ না।’

সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঋণ পেমেন্ট করলে একটা ভ্যালু ডেট থাকে। যারা ঋণ নেয়, তারা সেটা না তোলা পর্যন্ত রিজার্ভ হিসেবে থাকবে।’

সালেহউদ্দিন বলেন, ‘হঠাৎ আইএমএফ রিজার্ভ নিয়ে কথা বলছে কেন, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎপর হওয়া দরকার। আগ বাড়িযে এসব কেন বলছে, সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। হুট করে একটা স্টেটমেন্ট দিলে তো হবে না।’

অন্য দেশকে ঋণ দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একটা দেশের তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমানে আমাদের রিজার্ভ দিয়ে ৯ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। শ্রীলঙ্কাকে খুব সামান্য ঋণ দেয়া হয়েছে। যেহেতু রিজার্ভ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত হবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা। বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভের খাত সম্পর্কে আইএমএফকে আরও স্পষ্ট করতে হবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফ রিজার্ভ থেকে পায়রা বন্দরসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন না করতে অনেক আগে থেকেই বলে আসছিল। তাদের সেই আপত্তি উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভার অনুমোদন নিয়ে বন্দর এবং বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য সরকারের গঠন করা বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডে (বিআইডিএফ) রিজার্ভ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই তহবিল থেকে প্রথম ঋণ দেয়া হয়েছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে। ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার ৪১৭ কোটি টাকার সমান, যা দেয়া হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ইউরোয়।

‘আইএমএফের কথা না শুনে রিজার্ভ থেকে ঋণ দেয়া হচ্ছে, সে কারণেই তারা নাখোশ হয়ে হঠাৎ করে রিজার্ভের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে থাকতে পারে।

‘রিজার্ভ থেকে যে ঋণ বা বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক নিয়মকানুনের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ডসভার অনুমোদন সাপেক্ষে যথার্থভাবে করা হয়েছে। এসব বিনিয়োগের গ্যারান্টি আছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। আইএমএফও সেটা ভালোভাবে জানে। এরপরও এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর বলে আমি মনে করি।’

স্পর্শকাতর বিষয়ে সবকিছু ভালোভাবে জেনেবুঝে বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে গণমাধ্যমকে অনুরোধ করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই কর্মকর্তা।

শনিবার একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭.২ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে বলা হয়েছে: আইএমএফ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আইএমএফ বলেছে যে, রিজার্ভের একটি অংশ অর্থায়ন, রেসিডেন্ট ব্যাংকগুলোতে আমানত, নন-ইনভেস্টমেন্ট গ্রেড বন্ডে বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক বোর্ড ও এর বিনিয়োগ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবু কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব রিজার্ভ-বহির্ভূত সম্পদকে রিজার্ভের পারফরম্যান্স ও ঝুঁকি বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করে চলেছে।

আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে এ রকম অতিরঞ্জন করলে রিজার্ভের পরিমাণ সম্পর্কে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষতা এবং আইটি সক্ষমতা দুটোই সীমিত পর্যায়ের।

আইএমএফ সুপারিশ করেছে, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির অবমূল্যায়ন এড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত রিজার্ভ-বহির্ভূত সম্পদ থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আলাদা রাখা এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে রিপোর্ট করা।

শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বৈদেশিক মুদ্রা সহায়তা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই স্বল্পমেয়াদি অর্থায়নের বিপরীতে গ্যারান্টি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকে সমপরিমাণ শ্রীলঙ্কান রুপি ডিপোজিট করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ দিলে তার জামিন হিসেবে ওই একই মুদ্রায় লেনদেন করা উচিত।

আইএমএফ যেসব রিজার্ভ-বহির্ভূত সম্পদ চিহ্নিত করেছে সেগুলো হলো, স্থানীয় ব্যাংকগুলোকে বিদেশি মুদ্রায় দেয়া ঋণ ৬ হাজার ১৯৮ মিলিয়ন ডলার, স্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ডিপোজিট ৬৫১ মিলিয়ন ডলার; আইটিএফসিতে (আইডিবি গ্রুপ) ডিপোজিট ২৮৮ মিলিয়ন ডলার এবং বিনিয়োগ গ্রেডের নিচে ফিক্সড ইনকাম সিকিউরিটিজ ৬০ মিলিয়ন ডলার।

পায়রা বন্দরসহ সরকারের অগ্রাধিকারমূলক অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার ব্যবহারের বিষয়েও আপত্তি তুলেছে আইএমএফ।

আইএমএফ বলেছে, অপর্যাপ্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারণে বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে প্রায়শই ভুগতে হয় এবং তাৎক্ষণিক ক্ষতির ভার সাধারণত অর্থ প্রদানকারীই বহন করে। ফলে রিজার্ভ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতিরও আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে পরামর্শ দেয়া হয়েছে, পেমেন্ট ব্যালেন্সের চাপ এবং রেমিট্যান্স ও বাণিজ্যের অস্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেয়ার আগে রিজার্ভ কোন পর্যায়ে আছে, তা যেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সোমবার দিনের শুরুতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঋণ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এক লাফে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

এর পর থেকে তা কমতে কমতে গত সপ্তাহে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। গত কয়েক দিনে খানিকটা বেড়ে রোববার ৪৬ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে হলে রাসেলদের মুক্ত হতে হবে’
‘মহামারির কারণে গ্রাহকদের পণ্য দিতে পারেনি ইভ্যালি’
ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন?
‘রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’
ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

শেয়ার করুন

ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ

ডলারের দাম বেড়ে ৯০, বাড়ছে আমদানি খরচ

ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণ কয়েকটি। করোনা শেষে মূলধনি যন্ত্র ও কাঁচামাল আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনি দেড় বছর পর খুলে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সীমান্ত। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। করোনার কারণে থেমে যাওয়া বহুজাতিক বিমান সংস্থাগুলো এখন অনেক রুট তথা গন্তব্যে তাদের বিমান চলাচল শুরু করেছে। ফলে মানুষের পেশাগত কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কেনাকাটার জন্য বিভিন্ন দেশে যাতায়াত শুরু হয়েছে।

পণ্যমূল্য বেড়ে চলার মধ্যে আরও একটি দুঃসংবাদ হলো ডলারের দরের ঊর্ধ্বগতি ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে আমদানি পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মুদ্রাবাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ডলারের। খোলাবাজারে ডলারের দর ৯০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে ৮৮ টাকার ওপরে। তবে সেখানে চাইলেই তা কেনা যায় না।

তবে আন্ত ব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত এক সপ্তাহে ডলারের দর বাড়েনি; ৮৫ টাকা ৬৫ পয়সা দরেই বিক্রি হয়েছে।

আমদানির জোয়ারে আর রেমিট্যান্সের নিম্নগতিতে দেখা দিয়েছে এই সংকট। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভেও টান পড়েছে। বাজার স্বাভাবিক রাখতে ডলার বিক্রি করে চলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে ঠিক। কিন্তু ডলারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত ডলার আছে। চাহিদা পূরণে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণ কয়েকটি। করোনা শেষে মূলধনি যন্ত্র ও কাঁচামাল আমদানি যেমন বেড়েছে, তেমনি দেড় বছর পর খুলে দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন দেশের সীমান্ত। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। করোনার কারণে থেমে যাওয়া বহুজাতিক বিমান সংস্থাগুলো এখন অনেক রুট তথা গন্তব্যে তাদের বিমান চালানো শুরু করেছে। ফলে মানুষের পেশাগত কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কেনাকাটার জন্য বিভিন্ন দেশে যাতায়াত শুরু হয়েছে।

ডলার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাইরে যাওয়ার জন্য হঠাৎ ডলারের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। সে তুলনায় হাতে হাতে দেশে ডলার আসছে না। ফলে দাম বেড়ে গেছে। হাতে হাতে ডলার দেশে না এলে এই ঊর্ধ্বগতি শিগগির থামবে না।

মতিঝিলের ডলার ব্যবসায়ী রিপন মিয়া নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ডলারের প্রচুর চাহিদা। কেউ বিক্রি করতে আসে না; সবাই কিনতে আসে। সে কারণেই প্রতিদিনই দাম বাড়ছে।’

গ্রাহকরা চাইলে পাসপোর্ট এনডোর্স করে ব্যাংক থেকেও ডলার কিনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোও ৮৮ টাকা দরে ডলার বিক্রি করছে। তবে ঋণপত্রের (এলসি) দেনা পরিশোধে ব্যবসায়ীদের প্রতি ডলারের জন্য দিতে হচ্ছে ৮৫ টাকা ৬৫ পয়সা।

ফলে খোলাবাজারের সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের দামের পার্থক্য সাড়ে ৪ টাকা ছাড়িয়ে গেছে; স্বাভাবিক সময়ে যা দুই-আড়াই টাকার মধ্যে থাকে।

রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক রোববার ৮৮ টাকায় ডলার বিক্রি করেছে; কিনেছে ৮৬ টাকা ২৫ পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক কিনেছে ৮৫ টাকা ৮০ পয়সায়। বিক্রি করেছে ৮৭ টাকা ৭০ পয়সায়।

মতিঝিল ও গুলশানের এক্সচেঞ্জ হাউস ও খোলাবাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ডলার বিক্রি করতে কেউ আসছেন না। শুধু কেনার জন্য আসছেন। এই কারণে দাম বাড়ছে।

ডলারের দাম বাড়ায় পণ্য আমদানিতে ব্যবসায়ীদের বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। আর আমদানি খরচের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছে করোনার টিকা।

রোববার ৯০ টাকা ২৯ পয়সা দরে ডলার বিক্রি করেছেন বলে জানান তিনি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান এইচ মনসুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি বাড়ায় ডলারের চাহিদা বাড়ছে; আর এতে দাম বাড়াটা স্বাভাবিক। গত অর্থবছরে প্রচুর রেমিট্যান্স আসায় ডলারের সরবরাহ বেড়ে গিয়েছিল। চলতি অর্থবছরে তেমনটি আর নেই। প্রতি মাসেই কমছে।’

‘রেমিট্যান্স কমতে থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও ডলার বিক্রি করতে হবে’ পরামর্শ দিয়ে আহসান মনসুর বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এখান চাহিদা মোতাবেক বাজারে ডলার ছাড়তে হবে।’

আগস্ট থেকে উত্তাল ডলারের বাজার

গত আগস্ট মাসের শুরু থেকেই আমদানি বাড়ার কারণে ডলারের চাহিদা বাড়তে থাকে। প্রায় প্রতিদিনই ৫-১০ পয়সা করে বেড়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ থেকে বাজারে ডলারের জোগান বাড়িয়েছে।

আগস্টে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারে ছেড়েছে ৩০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। সেপ্টেম্বরে এর পরিমাণ দ্বিগুণ করে ছাড়া হয়েছে ৬৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। চলতি অক্টোবর মাসের রোববার পর্যন্ত ছাড়া হয়েছে ৪০ কোটি ডলারের মতো।

আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত রিজার্ভ থেকে বাজারে ছাড়া হয়েছে ১৪০ কোটি ডলারের বেশি। শুধু চলতি অক্টোবরেই ৭০ কোটি ডলারের চাহিদার কথা ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শিল্পের কাঁচামাল, মূলধনি যন্ত্রপাতি–সব ধরনের পণ্যের আমদানি বাড়ছে। ইউরোপ-আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। বাংলাদেশে করোনা মহামারির মধ্যেই পুরোদমে উৎপাদন কর্মকাণ্ড চলছে।

‘সব মিলিয়ে আমদানি বাড়াটাই স্বাভাবিক। আর এটা অর্থনীতির জন্য মঙ্গল।’

তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডলার বিক্রি করছে। এত দিন বাজার স্থিতিশীল রাখতে ডলার কেনা হয়েছিল। এখন সেই একই কারণে বিক্রি করা হচ্ছে।

‘এই কাজটি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব সময়ই করে থাকে। যখন যেটা প্রয়োজন, সেটাই করা হয়।’

আমদানি-রপ্তানি দুটিই বাড়ছে

করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করায় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান দুই সূচক আমদানি-রপ্তানি দুটিই বাড়ছে সমানতালে।

গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গত বছরের একই সময়ের চেয়ে পণ্য রপ্তানি থেকে ১১.৩৭ শতাংশ বেশি আয় করেছে বাংলাদেশ।

আগামী দিনে রপ্তানি আয় আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা বিশ্বে রপ্তানির পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এজন্য উদ্যোক্তারা প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে ব্যাক টু ব্যাক এলসির আওতায় কাঁচামাল আমদানির পরিমাণও বাড়ছে।

পণ্য আমদানির দুই মাসের তথ্য প্রকাশ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের (জুলাই-আগস্ট) পণ্য আমদানি বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। আর এলসি খোলার পরিমাণ বেড়েছে আরও বেশি; ৪৮.৬০ শতাংশ।

রেমিট্যান্স কমেছেই

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে অর্থনীতির সূচকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় ছিল প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। আগের বছরের চেয়ে বেড়েছিল ৩৬.১০ শতাংশ। কিন্তু এবার নিম্নমুখী এই সূচকে। প্রতি মাসেই কমছে রেমিট্যান্স।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গত বছরের একই সময়ের চেয়ে রেমিট্যান্স কমেছে ১৯.৪৪ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে বেড়েছিল ৪৮.৫৪ শতাংশ। পুরো অর্থবছরে রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৩৬.১০ শতাংশ।

চলতি অক্টোবর মাসেও সেই নেতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ১২০ কোটি ৭০ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের অক্টোবর মাসে এসেছিল ২১০ কোটি ২১ লাখ ডলার।

রিজার্ভে টান

রেমিট্যান্স কমায় আর আমদানি বাড়ায় বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে। রোববার দিন শেষে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৪৬.৪০ বিলিয়ন ডলার।

গত ২৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ১৪৪ কোটি ৮০ লাখ (প্রায় ১.৪৫ বিলিয়ন) ডলার এসডিআর (স্পেশাল ড্রয়িং রাইটস) ঋণ রিজার্ভে যোগ হওয়ায় এক লাফে রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) জুলাই-আগস্ট মেয়াদের আমদানি বিল পরিশোধের পর রিজার্ভ ৪৭ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে আসে।

এর পর থেকে তা কমতে কমতে গত সপ্তাহে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল। গত কয়েক দিনে খানিকটা বেড়ে রোববার ৪৬.৪০ বিলিয়র ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে হলে রাসেলদের মুক্ত হতে হবে’
‘মহামারির কারণে গ্রাহকদের পণ্য দিতে পারেনি ইভ্যালি’
ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন?
‘রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’
ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

শেয়ার করুন

আলমগীর কবির আবারও বিসিএমএর সভাপতি

আলমগীর কবির আবারও বিসিএমএর সভাপতি

আলমগীর কবির। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাসোসিয়েশনের ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ মেয়াদের জন্য সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আলমগীর কবির আবারও বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার অ্যাসোসিয়েশনের ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় তিনি ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ মেয়াদের জন্য সভাপতি পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

আলমগীর কবির এম আই সিমেন্ট ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (ক্রাউন সিমেন্ট) ভাইস-চেয়ারম্যান।

এছাড়া মেট্রোসেম সিমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মেট্রোসেম গ্রুপের চেয়ারম্যান শহিদুল্লাহ প্রথম সহসভাপতি এবং কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ বিসিএমএর দ্বিতীয় সহসভাপতি পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াপাড়া সিমেন্টের ফয়জুর রহমান বকুল।

অ্যাসোসিয়েশন কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন আব্দুল খালেক পারভেজ (ডায়মন্ড সিমেন্ট), মনোয়ার হোসেন (আনোয়ার সিমেন্ট), খোরশেদ আলম (ইউনিক সিমেন্ট), আশরাফুল আমিন বাদল (হেইডেলবার্গ সিমেন্ট), খন্দকার কিংশুক হোসেন (বসুন্ধরা সিমেন্ট), সাইফ রহমান (সেভেন রিংস সিমেন্ট), আমিরুল হক (প্রিমিয়ার সিমেন্ট), আসাদুল হক সুফিয়ানি (বেঙ্গল সিমেন্ট), মাহমুদ হাসান (সিয়াম সিটি সিমেন্ট) এবং খায়রুল আলম (শাহ সিমেন্ট)।

আলমগীর কবির বলেন, ‘করোনার পর অন্য খাতের মতো সিমেন্ট শিল্পও এক কঠিন সময় পার করছে। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে সিমেন্ট শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশের পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সরকারের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য।’

আরও পড়ুন:
‘কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে হলে রাসেলদের মুক্ত হতে হবে’
‘মহামারির কারণে গ্রাহকদের পণ্য দিতে পারেনি ইভ্যালি’
ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন?
‘রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’
ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

শেয়ার করুন

অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া, সংকটে আমদানি

অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া, সংকটে আমদানি

বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজ-জট এবং খালি কন্টেইনারের ঘাটতির কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) বাড়িয়েছে শিপিং লাইনগুলো। এতে আমদানি-রপ্তানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে।

বিদেশ থেকে পণ্য আনতে জাহাজ মিলছে না। ফলে বিভিন্ন দেশে আটকা পড়ে আছে আমদানি পণ্য। এতে ব্যাংক লোনের সুদসহ আমদানি খরচ বাড়ছে।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গত এক মাসে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে পাঁচ গুণের বেশি। এতে হুমকিতে পড়েছে পণ্য আমদানি। এর প্রভাব পড়ছে উৎপাদনসহ নানা খাতে।

জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা তোলা বন্ধ আছে অ্যামোনিয়ার অভাবে। জাহাজের অভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কেনা এই গ্যাস আনতে পারছে না খনি কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে কাতারসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস বা এলএনজি আমদানিতে বড় ধরনের ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে সরকারকে। যে এলএনজি কেনা হয়েছে, তা পরিবহনের জাহাজ মিলছে এক থেকে দেড় মাসের মাথায়।

কয়লা পরিবহনেও একই ধরনের ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে জ্বালানি বিভাগকে। কয়লাবাহী জাহাজগুলোর বহর গত কয়েক মাস ধরে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া বা ইন্দোনেশিয়া থেকে চীনের দিকে যাতায়াত করছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, তেল, গ্যাস, কয়লার মতো জ্বালানি পরিবহনকারী সমুদ্রগামী জাহাজগুলো বিশেষভাবে তৈরি। করোনার ঢেউ নিয়ন্ত্রণের পর জ্বালানী মজুত ও ব্যবহারে চীনের আগ্রাসী ভূমিকার ফলে অন্য দেশগুলো বিপদে পড়েছে। জ্বালানিবাহী জাহাজগুলো এখন চীনের পণ্য পরিবহনেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে।

একই অবস্থা দেখা যাচ্ছে অন্যান্য খাতেও। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার নিউজবাংলাকে বলেন, গত এক মাসে জাহাজ ভাড়া বেড়েছে পাঁচ গুণ।

তিনি বলেন, ‘সেপ্টেম্বর মাসে আমরা রাশিয়া থেকে ২ লাখ টন গম সরকারিভাবে ক্রয় করি। তখন টন প্রতি দর ছিল ২৫০ ডলার। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা আরও ২ লাখ টন গম আনার সিদ্ধান্ত জানাই। কিন্তু তখন জাহাজ মিলছিল না। দুই সপ্তাহ পর যখন জাহাজ মিলল, তখন দর বেড়ে দাঁড়িয়েছে টন প্রতি ৩৬৬ ডলার।

‘আমরা তখন ইউক্রেনে যোগাযোগ করি। তারা কিছুটা কম দরে আমাদের গম দিতে রাজি হলেও শর্ত হিসেবে নিজেদের জাহাজে করে তা পরিবহনের কথা বলে। কিন্তু আমরা সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করি।’

তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের চিত্রও একই। কেবল ট্যাংকার, বাল্ক জাহাজই নয়, কন্টেইনার জাহাজের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভাড়া নির্ধারণ করে ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। বিভিন্ন খাতে তাদের খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলসহ নানা খরচ বাড়ায় গত কয়েক মাসে ভাড়া বেড়েছে চার থেকে ছয় গুণ।’

তিনি বলেন, ‘বাল্ক ও ট্যাংকারের ক্ষেত্রে যে সংকট, তার পেছনে রয়েছে চীন। তারা খাদ্যপণ্য, কেমিক্যাল ও জ্বালানি ভেসেলগুলোকে ব্যস্ত রেখেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানি করে মজুদ গড়ে তোলার কথা শোনা যাচ্ছে দেশটির বিরুদ্ধে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশে কেমিক্যাল ও পণ্য রপ্তানি বাড়াতেও তারা আগ্রাসী।

‘প্যানডেমিক নিয়ন্ত্রণে আসার পর অনেক দেশে রপ্তানি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কন্টেইনারের ক্ষেত্রে। এখন সব কন্টেইনার ইউরোপ-আমেরিকামুখী। ফলে কলম্বো ও সিঙ্গাপুর থেকে কন্টেইনার ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কেউ তো খালি কন্টেইনার আনবে না।’

এদিকে সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বাল্ক জাহাজের ভাড়া বেড়েছে সার্বিকভাবে চার গুণ। ফলে দেশে চাল, সার, গম, পাথর, কেমিক্যাল, অ্যাশ আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে নানা ক্ষেত্রে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজ-জট এবং খালি কন্টেইনারের ঘাটতির কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ভাড়া (ফ্রেইট চার্জ) বাড়িয়েছে শিপিং লাইনগুলো। এতে আমদানি-রপ্তানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শ্রীলঙ্কার কলম্বোসহ কয়েকটি বন্দরে জাহাজ ও কন্টেইনারের তীব্র জট তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী আমদানি-রপ্তানির কন্টেইনার সংকট দেখা দিয়েছে। যার কারণে ফ্রেইট চার্জ বাড়িয়ে দিয়েছে শিপিং লাইনগুলো।

ফিডার জাহাজ অপারেটররা চট্টগ্রাম থেকে কলম্বো, সিঙ্গাপুরসহ আশপাশের বন্দরে পণ্য বোঝাই প্রতিটি কন্টেইনার পরিবহনে ফ্রেইট চার্জ ৭০ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি খালি কন্টেইনার পরিবহনে চার্জ বাড়ানো হয়েছে ৪০ ডলার পর্যন্ত।

আরও পড়ুন:
‘কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে হলে রাসেলদের মুক্ত হতে হবে’
‘মহামারির কারণে গ্রাহকদের পণ্য দিতে পারেনি ইভ্যালি’
ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন?
‘রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’
ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

শেয়ার করুন

তরুণদের জন্য ক্রেডিট কার্ড আনল ব্র্যাক-মাস্টারকার্ড

তরুণদের জন্য ক্রেডিট কার্ড আনল ব্র্যাক-মাস্টারকার্ড

তরুণদের জন্য ক্রেডিটকার্ড এনেছে ব্র্যাক-মাস্টারকার্ড। ছবি: নিউজবাংলা

‘মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল টাইটেনিয়াম ক্রেডিট কার্ড’ ব্যবহার করে গ্লোরিয়া জিন্স, নর্থ-এন্ড কফি, ক্রিমসন কাপ, কুপার্স ও ডোমিনোজ পিৎজায় মাসে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা খরচে ১ হাজার রিওয়ার্ড পয়েন্ট জেতা যাবে।

ব্র্যাক ব্যাংক ও মাস্টারকার্ড দেশের তরুণদের জন্য ‘মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল টাইটেনিয়াম ক্রেডিট কার্ড’ চালু করেছে।

দেশের মিলেনিয়াল (২০০০ সাল ও তার পরে জন্মগ্রহণ করা) প্রজন্ম ও কর্মজীবী তরুণদের চাহিদায় এ কার্ড চালু করা হয়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরগুলোতে দেশের ‘ডিজিটাল-ফার্স্ট’ প্রজন্মের মধ্যে ব্যয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাস্টারকার্ড ও ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন এই কার্ড ব্যক্তি বিশেষের চাহিদামাফিক আর্থিক সমাধান দেবে।

এই কার্ড ব্যবহারকারীদের জন্য ‘ওয়েলকাম প্যাক’ হিসেবে থাকছে ই-কমার্স পোর্টাল, পোশাকের দোকান, বিউটি সেলুন ও কফি শপগুলোতে কেনাকাটার বিপরীতে ক্যাশব্যাক, ভাউচার, মূল্যছাড়সহ নানা পুরস্কার ও সুবিধা।

পাশাপাশি আছে দেশের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি অংশীদার আউটলেটে মুদি পণ্য ও অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটায় বোনাস পয়েন্ট রিওয়ার্ড, হোটেলে অবস্থানকালে (বোগো বা বাই-ওয়ান-গেট-ওয়ান) সুবিধা, ডাইনিং ও বিভিন্ন লাইফস্টাইল অফার।

এ ছাড়া আরও থাকবে বিমানবন্দর লাউঞ্জে বছরে দুটি কমপ্লিমেন্টারি ভিজিট ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে ৫ হাজার মার্কিন ডলার এনডোর্স করার বিপরীতে ৫০০ বোনাস পয়েন্ট।

এই কার্ড ব্যবহার করে মিলেনিয়ালরা সুদ ছাড়া খুচরা পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন।

‘মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল টাইটেনিয়াম ক্রেডিট কার্ড’ ব্যবহার করে গ্লোরিয়া জিন্স, নর্থ-এন্ড কফি, ক্রিমসন কাপ, কুপার্স ও ডোমিনোজ পিৎজায় মাসে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা খরচে ১ হাজার রিওয়ার্ড পয়েন্ট জেতা যাবে।

সপ্তাহ শেষে নির্ধারিত মুদি পণ্যের দোকানে কেনাকাটায় মাসিক ভিত্তিতে দ্বিগুণ বোনাস রিওয়ার্ড পয়েন্ট এবং নির্দিষ্ট অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাকসহ বছরজুড়ে আরও সুবিধা থাকবে বলে জানানো হয়।

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রেজা ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘মাস্টারকার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্রথম বাংলাদেশের মিলেনিয়াল প্রজন্মের জন্য ক্রেডিট কার্ড চালুর ঘোষণা দিতে পেরেছি। আমরা বিশ্বাস করি, তরুণ প্রজন্মকে দেশের অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত করা ও তাদের ক্ষমতায়নের জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এতে তারা নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনা ও গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবেন।’

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের প্রধান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার বড় এক অংশ মিলেনিয়াল প্রজন্মের। তাই ধারাবাহিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মোবাইল ফোনের মতো প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রজন্মকে ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত করে তোলার সম্ভাবনা আছে। প্রযুক্তিভিত্তিক অত্যাধুনিক লেনদেন সেবাদাতা কোম্পানি হিসেবে মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল প্রজন্মের গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ ও বিরামহীন লেনদেন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে।’

নেমেসিস ব্যান্ড দলের ভোকালিস্ট জোহাদ রেজা চৌধুরী ও অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন মাস্টারকার্ড মিলেনিয়াল ক্রেডিট কার্ডের প্রচারণা করবেন।

আরও পড়ুন:
‘কাস্টমারের অর্ডার সরবরাহ করতে হলে রাসেলদের মুক্ত হতে হবে’
‘মহামারির কারণে গ্রাহকদের পণ্য দিতে পারেনি ইভ্যালি’
ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন?
‘রাসেল ভাই গ্রেপ্তার হলে আমার বাইক দেবে কে?’
ইভ্যালি ছিল ‘ওয়ান ম্যান শো’

শেয়ার করুন