রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কমনওয়েলথের উদ্যোগ চায় ঢাকা

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে কমনওয়েলথের উদ্যোগ চায় ঢাকা

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

বৈঠকে মোমেন অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বৃদ্ধি, টিকা সহায়তা ও জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলার আহ্বান জানান কমনওয়েলথের প্রতি। এতে কমনওয়েলথ নেতারা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।

প্রাণভয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নিতে কমনওয়েলথের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ভার্চুয়াল বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।

বৈঠকে মোমেন অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বৃদ্ধি, টিকা সহায়তা ও জলবায়ুর প্রভাব মোকাবিলার আহ্বান জানান কমনওয়েলথের প্রতি।

এতে কমনওয়েলথ নেতারা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বৈঠকে মোমেন রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন এবং ভাসানচরে তাদের আংশিক স্থানান্তরের বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি রোহিঙ্গাদের নিয়ে মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণে সহায়তার জন্য কমনওয়েলথ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী কমনওয়েলথ নেতাদের ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) চেয়ারম্যান হিসেবে গৃহীত উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি কমনওয়েলথ এবং সিভিএফের মধ্যে আরও সহযোগিতার আহ্বান জানান।

মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে কমনওয়েলথ সদস্যদেশগুলোকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে একসঙ্গে দাঁড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ এবং উন্নয়নবিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিজাবেথ ট্রাস এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এতে কমনওয়েলথ মহাসচিবসহ সংস্থাভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ইস্যু হারাচ্ছে না: মোমেন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারকে চাপে রাখবে ইইউ, আশা রাষ্ট্রপতির
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৯ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পলাতক ১৯ রোহিঙ্গা আটক 

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

ভারত থেকে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে আসছে মাদকদ্রব্য। ফাইল ছবি

বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সভা হয় বুধবার। সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত থেকে আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ইনজেকশন ও হেরোইন।

প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে পাঁচ ধরনের মাদক। কোন মাদক কোন পথে আসছে, তা চিহ্নিত করার পর কারবারিরা পথ পরিবর্তন করছে। একেক ধরনের কারবারি একেক সীমান্ত ব্যবহার করছে।

বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ভারতের নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোর মহাপরিচালক পর্যায়ে সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সভায় বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

সভায় উপস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তারা জানান, বুধবারের সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত থেকে আসছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ইনজেকশন ও হেরোইন।

কী আলোচনা হয়েছে সভায়

সভায় উভয় পক্ষই সমুদ্রপথকে ব্যবহার করে মাদক চোরাচালান এবং মাদক কারবারিদের উদ্ভাবিত নতুন নতুন পথ সম্পর্কিত তথ্য বিনিময়, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনাবিষয়ক নীতিমালা ও বিধি-বিধান নিয়ে তথ্য বিনিময়, ফলপ্রসূ অপারেশনের মাধ্যমে অর্জিত অভিজ্ঞতা বিনিময়, মাদকবিষয়ক প্রাসঙ্গিক অপরাপর সম্যক তথ্য বিনিময় এবং যথাসময়ে তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

সভায় মাদক চেরাচালান বন্ধে ভারতের উদ্যোগ বা কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মন্ডল।

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ষষ্ঠ সভায় ভারতের সীমান্তে থাকা ফেনসিডিল কারখানার তালিকা দিয়েছিল বাংলাদেশ। তালিকা অনুযায়ী যেসব কারখানা পাওয়া গেছে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারত। ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে তারা।

কোন সীমান্ত দিয়ে আসে কোন মাদক

সভায় উপস্থিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন,

দেশে সবচেয়ে বেশি আসছে ফেনসিডিল। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের তিন দিকের সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশে ফেনসিডিল ঢুকছে।

তিনি জানান, ভারতের সীমান্ত এলাকায় কারখানা স্থাপন করে এ সিরাপ তৈরি করা হচ্ছে। ফেনসিডিল নামটি বেশি পরিচিত হওয়ায় নতুন নতুন নামে এটি তৈরি করে বাংলাদেশে ঢোকানো হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, অন্তত পাঁচটি নামে ফেনসিডিল দেশে আসছে। বোতলজাত অবস্থায় আসার পাশাপাশি বড় ড্রাম ও পলিথিনে করেও সীমান্ত দিয়ে ফেনসিডিল আসে।

আগের চেয়ে ফেনসিডিলের ব্যবহার কমলেও সম্প্রতি এটি বেড়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

কোরেক্স, এসকাফ, এমকে ডিল (কোডিন ফসফেট), কোডোকফ নামে ফেনসিডিল জাতীয় এ মাদক আসে ভারত থেকে বাংলাদেশে।

সভায় আলোচনার বরাত দিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গাঁজা পাচারের জন্য চোরাকারবারিরা নতুন নতুন পথ তৈরি করছে। বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে গাঁজা বেশি পাচার হয়ে দেশে প্রবেশ করছে।

ভারত থেকে আসছে ৫ মাদক

তারা জানান, বাংলাদেশের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে হেরোইন পাচার বেড়েছে। উদ্ধার হওয়া হেরোইন চালান তা-ই নির্দেশ করে।

সভায় বাংলাদেশ জানায়, ইয়াবা পাচারে ভারতের রুটও ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ভারত হয়ে বাংলাদেশে ঢোকানো হয়। ভারতের ত্রিপুরা, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত ব্যবহার হচ্ছে এ ক্ষেত্রে।

ভারতকে এ বিষয়ে আরও তৎপর হয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ।

ভারত থেকে বিভিন্ন ইনজেকশন প্রবেশ করছে জয়পুরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে।

দুই দেশের কারবারিরা মাদক কেনাবেচার জন্য ভার্চুয়াল মুদ্রা ব্যবহার করছে বলে সভায় আলোচনা হয়। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের জন্য হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচার হচ্ছে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সভায় বলা হয়, দেশে কোনো মাদক উৎপাদন না হলেও বাংলাদেশ এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী। সমস্যা সমাধানে ভারত-বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলেও সঙ্গ পাওয়া যাচ্ছে না মিয়ানমারের। ভয়াবহ মাদক ইয়াবা আসছে মিয়ানমার থেকেই। নতুন করে যুক্ত হয়েছে আইস।

এ নিয়ে কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে ভারত-বাংলাদেশ-মিয়ানমারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চায় বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ভারত।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর প্রধানের ভাষ্য

সভার সার্বিক বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে মাদক পাচারের নতুন নতুন রুট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের কিছু তথ্য দিয়েছি। তারাও কিছু তথ্য দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘দুই দেশের সীমান্ত থাকায় উভয় দেশ আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্ব বহন করে। আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য দুই দেশই ভূমিকা রাখবে।’

মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করে মাদক সমস্যা সমাধানে অগ্রসর হতে হবে বলে জানিয়েছেন মহাপরিচালক।

তিনি বলেন, ভারত, মিয়ানমার ও বাংলাদেশ মিলে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা চলছে। ভারতও এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার মাদক বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। নিলে এই হারে মাদক আসত না।’

মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারতের উদ্যোগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ইস্যু হারাচ্ছে না: মোমেন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারকে চাপে রাখবে ইইউ, আশা রাষ্ট্রপতির
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৯ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পলাতক ১৯ রোহিঙ্গা আটক 

শেয়ার করুন

অ্যাপ ছাড়া রাইডশেয়ারে আইনি ব্যবস্থা

অ্যাপ ছাড়া রাইডশেয়ারে আইনি ব্যবস্থা

অ্যাপ ছাড়া রাইডশেয়ারিংয়ে ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হবে বলে যাত্রী ও চালকদের সতর্ক করে দিয়েছে বিআরটিএ। ফাইল ছবি

নীতিমালা লঙ্ঘন করে চুক্তিভিত্তিক মোটরযান পরিচালনাসহ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযান মালিক, চালক এবং যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বিআরটিএ।

রাইডশেয়ারিংয়ে অ্যাপ ব্যবহার না করে চুক্তিভিত্তিক সেবা নিলে যাত্রী ও চালকসহ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযান মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

এতে বলা হয়, অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং সেবায় ‘রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭’ করেছে সরকার।

নীতিমালা অনুযায়ী, বিআরটিএ থেকে রাইডশেয়ারিং এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নিয়ে রাইডশেয়ারিং অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে সেবা প্রদান ও গ্রহণ এবং সুনির্দিষ্ট ভাড়া আদায়ের শর্ত রয়েছে।

সম্প্রতি কিছুসংখ্যক মোটরযান চালক নীতিমালা অমান্য করে চুক্তিভিত্তিক রাইডশেয়ারিং সেবা দিচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানতে পেরেছে বিআরটিএ। এটি রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা, ২০১৭-এর পরিপন্থি।

অ্যাপ ছাড়া চুক্তিতে রাইডশেয়ারিং সেবা না নিতে যাত্রীদের অনুরোধ করেছে বিআরটিএ।

নীতিমালা লঙ্ঘন করে চুক্তিভিত্তিক মোটরযান পরিচালনাসহ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করার অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট রাইডশেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোটরযানের মালিক, চালক এবং যাত্রীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বিআরটিএ।

অভিযোগ জানাতে একজন সহকারী পরিচালককেও দায়িত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলেছে, এ সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ সংস্থাটির রাইড শেয়ারিং শাখার সহকারী পরিচালককে (ইঞ্জিনিয়ারিং) জানাতে। একই সঙ্গে ০১৭১৪৫৫৬৫৭০ এবং ৫৫০৪০৭৪৫ নম্বরে ফোন করা যাবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পাশাপাশি [email protected] ঠিকানায় ই-মেইলেও অভিযোগ জানানো যাবে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ইস্যু হারাচ্ছে না: মোমেন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারকে চাপে রাখবে ইইউ, আশা রাষ্ট্রপতির
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৯ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পলাতক ১৯ রোহিঙ্গা আটক 

শেয়ার করুন

ইংরেজিতে প্রকাশ পেল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

ইংরেজিতে প্রকাশ পেল বঙ্গবন্ধুর ভাষণ

‘ফাদার অফ দ্য ন্যাশন: সিলেক্টেড স্পিচেস অফ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ বইটি পাওয়া যাচ্ছে বিশ্বের নামকরা অনলাইন বুকস্টোরগুলোতে। ছবি: সংগৃহীত

সংকলনটিতে থাকছে বঙ্গবন্ধুর ২৫টি ভাষণ। এতে স্থান পেয়েছে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংসদে ইংরেজি ভাষায় তার দুটি ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর বাকি ২৩টি ভাষণ ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কবি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

প্রথমবারের মতো ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্বাচিত ভাষণ সংকলন। এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘ফাদার অফ দ্য ন্যাশন: সিলেক্টেড স্পিচেস অফ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’।

অস্ট্রেলিয়া থেকে বইটি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা হে পাবলিশিং হাউসের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বালবোয়া প্রেস।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংকলনটিতে থাকছে বঙ্গবন্ধুর ২৫টি ভাষণ। এতে স্থান পেয়েছে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংসদে ইংরেজি ভাষায় তার দুটি ভাষণ।

বঙ্গবন্ধুর বাকি ২৩টি ভাষণ ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী কবি, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক ও অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন।

বইয়ের শুরুতে জাতির পিতার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনী রাখা হয়েছে। এটির মুখবন্ধ লিখেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে।

বইটির প্রচ্ছদ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার এনজি অ্যালিয়া। আর ইংরেজি ভাষার সম্পাদনা করেছেন নিউজিল্যান্ডের পল মেহু।

বালবোয়া প্রেস, অ্যামাজন, বুকটোপিয়াসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন বুকস্টোরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। বইটির ই-বুক, পেপারব্যাক ও হার্ডকাভারসহ তিনটি সংস্করণে পাচ্ছেন পাঠকরা।

শিগগিরই বাংলাদেশেও বইটি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্বেষা প্রকাশনের মাধ্যমে বইটি দেশের বাজারে পরিবেশন করা হবে।

কুরিয়ার চার্জসহ দেশে বইটির পেপারব্যাক সংস্করণের দাম পড়বে ২ হাজার ২০০ টাকা এবং হার্ডকাভার কিনলে দাম আসবে ৪ হাজার টাকা।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ৬ নভেম্বর বইটির প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। প্রকাশনা উৎসবে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহ্‌রিয়ার আলমের ভার্চুয়ালি যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, লেখক ও বাঙালি কমিউনিটি নেতারাও উপস্থিত থাকবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ইস্যু হারাচ্ছে না: মোমেন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারকে চাপে রাখবে ইইউ, আশা রাষ্ট্রপতির
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৯ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পলাতক ১৯ রোহিঙ্গা আটক 

শেয়ার করুন

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবিধানে যুক্ত করতে রিট

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা সংবিধানে যুক্ত করতে রিট

ছবি: সংগৃহীত

রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ স্বাধীনের পরে যে সংবিধান হয়েছে, তার কোথাও না কোথাও তো এটি উল্লেখ থাকবে। অথচ সংবিধানের কোথাও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।’

মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার বিষয়টি বাংলাদেশের সংবিধানে যুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে।

ছয় জন বীর মুক্তিযোদ্ধার করা গত মঙ্গলবারের রিটটি শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘রিটে সংবিধানের সঙ্গতিপূর্ণ স্থানে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়টি যুক্ত করার কেন নির্দেশ দেয়া হবে না সে মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।’

রিটে বিবাদী করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইন সচিবকে।

হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, দেশ স্বাধীনের পরে যে সংবিধান হয়েছে, তার কোথাও না কোথাও তো এটি উল্লেখ থাকবে। অথচ সংবিধানের কোথাও মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে কিছু উল্লেখ নেই।’

তার মতে, বিষয়টি নিয়ে সুস্পষ্টভাবে সংবিধানে উল্লেখ না থাকায় ইতিহাস বিকৃতির সম্ভাবনা থাকে।

তিনি বলেন, ‘যাদের জীবনের ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে সংবিধানে তাদের স্বীকৃতি কেন থাকবে না। দেশটি যে একটি যুদ্ধের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে সেটি সংবিধানে উল্লেখ থাকুক। সে কারণে আমরা রিটটি দায়ের করেছি।’

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ইস্যু হারাচ্ছে না: মোমেন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারকে চাপে রাখবে ইইউ, আশা রাষ্ট্রপতির
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৯ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পলাতক ১৯ রোহিঙ্গা আটক 

শেয়ার করুন

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করবে ঢাকা-ব্রাসেলস

কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর উদযাপন করবে ঢাকা-ব্রাসেলস

বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মিসেস থিওডোরা জেনজিসের সঙ্গে বৈঠক করেন দেশটিতে সফররত পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। ছবি: নিউজবাংলা

এ বিষয়ে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রসচিব ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মিসেস থিওডোরা জেনজিসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে দেশটিতে সফরে থাকা পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের।

বাংলাদেশ ও বেলজিয়াম কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। সম্পর্কের এই মাইলফলক উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা ও ব্রাসেলস।

এ উপলক্ষে ২০২২ সালে দেশ দুটির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় এবং সাংস্কৃতিক ও ব্যাবসায়িক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রসচিব ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মিসেস থিওডোরা জেনজিসের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে দেশটিতে সফরে থাকা পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের।

বৃহস্পতিবার সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্রাসেলস দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বেলজিয়ামের ফেডারেল পাবলিক সার্ভিস ফরেন অ্যাফেয়ার্স, ফরেন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন অফ বেলজিয়ামের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে দুই পক্ষ করোনা পরিস্থিতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বাংলাদেশে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ এবং শিক্ষা, চিকিৎসা গবেষণা ও সংস্কৃতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। কোভিড-১৯-এর রেড জোন তালিকা থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ারও অনুরোধ জানান পররাষ্ট্রসচিব।

দুই পররাষ্ট্রসচিব বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে বিশেষ করে আইসিটি, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হন।

বাংলাদেশও বেলজিয়ামের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ মিশন গ্রহণের জন্য তার প্রস্তুতির কথা জানায়। জবাবে বেলজিয়ামপক্ষ আরও ব্যাবসায়িক প্রতিনিধিদল বিনিময় করতে তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট কোনো জাতীয় ইস্যু নয়, এটি একটি আঞ্চলিক সমস্যা এবং বেলজিয়াম রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’

পররাষ্ট্রসচিব চতুর্থ বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক পরামর্শে দুই দিনের সফরে বেলজিয়ামে রয়েছেন।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ইস্যু হারাচ্ছে না: মোমেন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারকে চাপে রাখবে ইইউ, আশা রাষ্ট্রপতির
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৯ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পলাতক ১৯ রোহিঙ্গা আটক 

শেয়ার করুন

আসলামুলের ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের কী হবে

আসলামুলের ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের কী হবে

প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হক রাজনীতির পাশাপাশি করতেন ব্যবসাও। তার মালিকানাধীন মায়শা গ্রুপের কাছে বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা কয়েক হাজার কোটি টাকা। ফাইল ছবি

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক মারা যান গত ৪ এপ্রিল। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাও করতেন। আবাসন ব্যবসায় তার বড় বিনিয়োগ ছিল। পাশাপাশি দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছিলেন। আসলাম ব্যবসার মূলধন জোগাড় করেছেন প্রধানত ব্যাংক থেকে। আর এই মুহূর্তে ব্যাংকের দায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। অনাদায়ী সুদযুক্ত হয়ে দিন দিন বাড়ছে এই অঙ্ক।

প্রয়াত সংসদ সদস্য আসলামুল হকের মৃত্যুর পর তার গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান মাইশা গ্রুপের বিপুল পরিমাণ ব্যাংক ঋণ নিয়ে তৈরি হয়েছে দুশ্চিন্তা।

আসলামুলের মৃত্যুতে তার ব্যবসার হাল ধরেছেন স্ত্রী মাকসুদা হক। তবে তিনি সব টাকা দিতে পারবেন না বলে বিভিন্ন ব্যাংককে জানিয়েছেন। কোনো ব্যাংককে সুদ, কোনো ব্যাংককে আসলের অংশ মওকুফ করার অনুরোধ করেছেন।

মাইশা গ্রুপের ঋণ ছিল পাঁচটি ব্যাংকে। এর মধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকাই আছে ন্যাশনাল ব্যাংকে। এরই মধ্যে এই ঋণের একটি অংশ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বাকিগুলোও খেলাপি ঘোষণার পর্যায়ে আছে।

আসলাম পত্নীর আবেদনের পর অন্তত তিনটি ব্যাংক তাদের পর্ষদ বৈঠকে বিষয়টি তুলেছিল, কিন্তু সেই আবেদন নাকচ করে দেয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, আসল বা সুদ-কোনোটা মওকুফের সুযোগ নেই।

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আসলামুল হক মারা যান গত ৪ এপ্রিল। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসাও করতেন। আবাসন ব্যবসায় তার বড় বিনিয়োগ ছিল। পাশাপাশি দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছিলেন।

আসলাম ব্যবসার মূলধন জোগাড় করেছেন প্রধানত ব্যাংক থেকে। আর এই মুহূর্তে ব্যাংকের দায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। অনাদায়ী সুদ যুক্ত হয়ে দিন দিন বাড়ছে এই অঙ্ক।

আসলামের মৃত্যুর পরই এই ব্যাংক ঋণের কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সেই অনিশ্চয়তা আরও বড় হয়েছে এ কারণে যে গত ছয় মাসেও ব্যাংককে টাকা ফেরত দেয়া যায়নি। উল্টো সুদ দিতে অপারগতা জানিয়ে অন্তত পাঁচটি ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছেন আসলাম পত্নী। আসল পরিশোধেরও চেয়েছেন দীর্ঘ সময়।

তবে এমন প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে মার্কেন্টাইল, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংক। আর প্রস্তাব পর্যালোচনা করে মাইশার সঙ্গে যোগাযোগ চালু রেখেছে ন্যাশনাল ব্যাংক।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামস-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঋণের সুদ মওকুফের কোনো সুযোগ নেই। এটা আমরা তাদের জানিয়ে দিয়েছি। তাদের সঙ্গে আমাদের বৈঠকও হয়েছে। ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ন্যাশনাল ব্যাংকের ‍দুটি গ্যারান্টি ছিল। ৩০ ও ৩৫ কোটি টাকার ওই দুটি ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়ন করার জন্য আমরা ন্যাশনাল ব্যাংককে চিঠি দিয়েছি। তারা দেবে বলেছে। ব্যাংক গ্যারান্টির অর্থ সমন্বয় করা না হলে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ জানাব।’

মাইশা গ্রুপের যত ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রয়াত আসলামুল হকের মালিকানাধীন ঢাকার পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জে অনুমোদন পাওয়া রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের নামে ঋণ রয়েছে ১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। তার মালিকানাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মধ্যে এটিই শুধু উৎপাদনে আসতে পেরেছিল।

ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানি লিমিটেডের নামে ৩৭৮ কোটি টাকা ও ঢাকা ওয়েস্ট পাওয়ার লিমিটেডের নামে ৭৯ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে।

রিয়েল এস্টেট কোম্পানি মাইশা প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের নামে ঋণ রয়েছে ৬৫৬ কোটি টাকা।

একই গ্রুপের কোম্পানি মাহিম রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের নামে ৩৮০ কোটি ও মাহিম ট্রেড লিংক লিমিটেডের নামে ১১ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে।

সব মিলিয়ে গ্রুপটির কাছে দেশের ব্যাংক খাতের পাওনা প্রায় ৩ হাজার ৭৪ কোটি টাকা।

আসলামুলের ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণের কী হবে
রাজধানীর ধানমন্ডিতে মায়শা গ্রুপের করপোরেট অফিস

মাকসুদা হকের আবেদন

মাইশা গ্রুপের ছয় কোম্পানিকে ঋণ দেয়া ব্যাংকগুলোর ঋণের বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংককে চিঠি দিয়েছেন আসলামুল হকের স্ত্রী মাকসুদা হক।

বেসরকারি ন্যাশনাল, মার্কেন্টাইল ও এক্সিম এবং রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ও জনতা ব্যাংককে দেয়া চিঠিতে ঋণের সুদ পরিশোধে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তিনি। চিঠির অনুলিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে মাকসুদা হক বলছেন, ব্যাংক ঋণের কোনো সুদ তিনি পরিশোধ করতে পারবেন না। শুধু আসলের সমপরিমাণ অপরিশোধিত অর্থ তিনি পরিশোধ করবেন। সে জন্যও তার দীর্ঘ সময় দরকার।

মাকসুদা হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা সুদ মওকুফের আবেদন করেছি। কিন্তু এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আমরা জানি না।’

ন্যাশনাল ব্যাংকের কমিটি

মাইশা গ্রুপের কাছে সবচেয়ে বেশি পাবে বেসরকারি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক বা এনবিএল। গ্রুপের চার কোম্পানির কাছে তাদের পাওনা ২ হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা।

অর্থাৎ মাইশার মোট ঋণের প্রায় ৮৫ শতাংশই ন্যাশনাল ব্যাংকের।

সম্প্রতি দুই কোম্পানির কাছে পাওনা ৯০১ কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করেছে ব্যাংক। ব্যাংকটির জেড এইচ সিকদার মেডিক্যাল কলেজ শাখার গ্রাহক মাইশা প্রপার্টির ৬৬৩ কোটি টাকা এবং মাইশা রিয়েল এস্টেটের ২৩৮ কোটি টাকার ঋণ সম্প্রতি খেলাপি করা হয়েছে।

সিএলসি পাওয়ার কোম্পানি ও ঢাকা ওয়েস্ট পাওয়ার কোম্পানির এক হাজার ৬৮৮ কোটি টাকার ঋণও খেলাপি করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘মাইশা গ্রুপের সঙ্গে ব্যাংক নিয়মিতভাবে যোগাযোগ রাখছে। ঋণ আদায় কীভাবে হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। আমরা চাচ্ছি প্রয়াত আসলামুল হকের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসুক। বিদ্যুৎকেন্দ্র চললে আমরা ব্যাংকের টাকা ফেরত পাব।’

ছাড় দিতে চায় না কোনো ব্যাংক

মাইশা প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের কাছে ৩১ কোটি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের গাড়ি ঋণ বাবদ ৩ কোটি টাকা পাবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। ব্যাংকটির পাওনা ৩৪ কোটি টাকার বিপরীতে মাত্র ৪ কোটি টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে মাইশা গ্রুপ।

বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদে তুলেছিল মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। পরিচালনা পর্ষদও এরই মধ্যে আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছে।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাইশা গ্রুপের আবেদনটি মার্কেন্টাইল ব্যাংক পর্ষদ এরই মধ্যে নাকচ করে দিয়েছে।’

দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাওনা ৪৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটিতে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পাবে ৩৮০ কোটি টাকা। আর রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) থেকে ঢাকা ওয়েস্ট পাওয়ার লিমিটেডে গেছে ৮০ কোটি টাকা।

এই কেন্দ্র দুটি আদৌ উৎপাদনে আসতে পারবে কি না- এ নিয়ে আছে সংশয়। কেন্দ্র দুটি বাতিলের আলোচনাও আছে।

এই দুই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে নেয়া ঋণের সুদ মওকুফের আবেদন আছে আসলামপত্নীর চিঠিতে।

তবে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামস-উল-ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মাইশা গ্রুপের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আনার উদ্যোগ নেয়াই ছিল উত্তম বিকল্প। অন্য কোনো কোম্পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো টেকওভার করতে চাইলে আমরা সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

জনতা ব্যাংকও সুদ মওকুফে নারাজ। ঢাকা নর্থ পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানির যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকে ঋণপত্র খোলা হয়েছিল। ঋণপত্রের অর্থ জার্মানির একটি কোম্পানিকে পরিশোধও করেছিল ব্যাংকটি।

এই ঋণের সুদ মওকুফে মাইশা গ্রুপের আবেদনটি জনতা ব্যাংকের পর্ষদে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু পর্ষদ সেটি নাকচ করে দেয়।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ইস্যু হারাচ্ছে না: মোমেন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারকে চাপে রাখবে ইইউ, আশা রাষ্ট্রপতির
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৯ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পলাতক ১৯ রোহিঙ্গা আটক 

শেয়ার করুন

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, লাগামহীন দাম বাড়ছে

জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, লাগামহীন দাম বাড়ছে

প্রতীকী ছবি

বিশ্ববাজারে গত এক বছরে এলএনজি, গ্যাসোলিন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লার দর। কেবল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকা।

গত ছয় মাস ধরে অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার। প্রায় প্রতি মাসে আমদানিনির্ভর এই পণ্যের দর বাড়ছে। এই অবস্থায় চাপে পড়েছে জ্বালানি বিভাগ। এমনিতেই বেশি দরে পণ্য এনে কম দামে বিক্রি করে লোকসানে ছিল সরকার। তার ওপর এই অতিরিক্ত লোকসান দুশ্চিন্তায় ফেলেছে সরকারকে। জ্বালানি বিভাগে আলোচনা চলছে, জ্বালানি পণ্যের দর বাড়ানোর।

বিশ্ববাজারে গত এক বছরে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি), গ্যাসোলিন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর বেড়েছে প্রায় ১০০ ভাগ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কয়লার দর।

কেবল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এরই মধ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) লোকসান দাঁড়িয়েছে প্রতিদিন প্রায় ২১ কোটি টাকা। করোনা কমায় জ্বালানির বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি হয়েছে এই অবস্থা। তবে এখনই দাম সমন্বয়ের পক্ষে নয় পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।

অন্যদিকে বাড়তি দামের কারণে তেল ও আমদানীকৃত কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ভর্তুকির চাপ বাড়ছে পিডিবির ওপর।

জ্বালানি বিভাগ জানায়, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে চাঙ্গা হতে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতি। যার অন্যতম ইঙ্গিত জ্বালানি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি। উৎপাদন, সমুদ্র পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি, ভূ-রাজনীতিসহ নানা কারণে বাড়তে শুরু করেছে দাম।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দর বাড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হচ্ছে বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মজুত করার মানসিকতাকে। এ ব্যাপারে অভিযোগের আঙুল মূলত চীন ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে।

সূত্র জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুর দিকে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর ছিল ৪৯ ডলার। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি তা বেড়ে হয়ে যায় ৬১ ডলার। চার মাস পর জুনের মাঝামাঝি আরও বেড়ে ৭১ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি হয় ৭৫ ডলার। এরপর ধীরে ধীরে বেড়ে এখন তা ৮০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

বাংলাদেশে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের ৬৫ শতাংশই ডিজেল, যা সবশেষ বিপিসি কিনেছে পরিশোধিত আকারে প্রতি ব্যারেল সাড়ে ৯৭ ডলারে। সে হিসাবে এক লিটারের পেছনে সব মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৭৮ টাকারও বেশি। কিন্তু বিপিসি তা বিক্রি করছে ৬৫ টাকায়। ফলে লোকসান দিতে হচ্ছে লিটারে ১৩ টাকা। সে হিসাবে প্রতিদিন দেশের সাড়ে ১২০০ টন ডিজেল বিক্রি করেই বিপিসির লোকসান হচ্ছে ১৯ কোটি টাকা।

তবে আপাতত দর বাড়াতে চায় না বিপিসি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জুলাই থেকে ডিসেম্বরের যে ফেইজ, তাতে আমরা ডিজেল সরবরাহকারী বিদেশি সংস্থার সঙ্গে যে মূল্য নির্ধারণ করেছিলাম, সেই মূল্যেই এখনও আমরা তা পাচ্ছি। যে কারণে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্তের দিকে আমাদের এখনই যাওয়ার মতো অবস্থা নেই। তবে বর্তমান বাজারমূল্যকে কতটুকু বিবেচনায় নেয়া হবে, সেটা সরকারের পলিসির ওপর নির্ভর করে।’

জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পিডিবির হিসাবে, বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কেবল জুলাই মাসেই ব্যবহার করেছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টনে। ফলে বাড়তি চাহিদার এই জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে চড়া দামের জালে আটকা পড়ে বিপিসি। অন্যদিকে মাসের ব্যবধানে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজেলের চাহিদাও বেড়ে গেছে তিন গুণের মতো। বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতি লিটার ফার্নেস অয়েলে বিপিসির লোকসান ৮ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকারও বেশি।

তবে বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, ‘ফার্নেস অয়েলের দর বাড়লেও সুবিধা হচ্ছে, আমরা এর মূল্য সমন্বয় করছি। যে কারণে এ তেল আনতে খরচ পড়লেও সেই অর্থে আমরা চাপে নেই।’

অন্যদিকে পিডিবির চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের যেহেতু সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, সুতরাং জ্বালানি তেলের কোনো প্রভাব বা জ্বালানি তেলের দামের কোনো প্রভাব নিয়ে আমাদের চিন্তা করার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে যদি এটা এমন একটা অবস্থায় চলে যায়, সে ক্ষেত্রে হয়তো সরকার ভাবলেও ভাবতে পারে।’

মাসে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা আর মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে বছরে ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকার মতো লোকসান হতে পারে বলে ধারণা বিপিসির।

অস্থির বিশ্ব জ্বালানি বাজার

এক বছরের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের ওপরে। বিশ্বখ্যাত অর্থনৈতিক ওয়েবসাইট ‘ট্রেডিং ইকোনমিক্স’ এর হিসাব অনুযায়ী গত (২০ অক্টোবর) শুক্রবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বা ক্রুড অয়েলের দর ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৭৬ ডলার, যা বৃহস্পতিবার থেকে ১ দশমিক ২৬ ডলার বা ১ দশমিক ৫৩ ভাগ বেশি। সাপ্তাহিক হিসেবে যা ১ দশমিক ৮০ ভাগ, আবার গত মাসের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৭ ভাগ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭২ দশমিক ৬৩ ভাগ বেশি।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে বর্তমানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম। শুক্রবার প্রতি ইউনিট বা প্রতি ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ৫ দশমিক ৩০ ডলার, আগের দিনের চেয়ে যা প্রায় ২০ সেন্ট বা ৩ দশমিক ৭৭ ভাগ্য বেশি, যদিও আগের সপ্তাহের তুলনায় তা প্রায় ২ ভাগ কম। অন্যদিকে সেপ্টেম্বরের তুলনায় তা ৬ দশমিক ৫৭ ভাগ ও গত বছরের একই সময়ের থেকে ১০৯ ভাগ বেশি।

বিশ্বে এখনও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় খনিজ কয়লা। এই কয়লার দর এখন সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বমুখী। গত এক বছরে পণ্যটির দর বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। শুক্রবার প্রতিটন কয়লা বিশ্ববাজারে বিক্রি হয়েছে ২৩০ ডলারে, যা আগের দিন থেকে দেড় ডলার বা দশমিক ৬৬ ভাগ বেশি, যদিও তা গত সপ্তাহের তুলনায় ৪ দশমিক ১৭ ভাগ কম আবার গত মাসের তুলনায় ২৩ দশমিক ৭২ ভাগ এবং গত বছরের থেকে ১৮৫ দশমিক ৭১ ভাগ বেশি।

তিন কারণে অস্থির বিশ্ববাজার

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘একদিকে জোগানের সংকট, অন্যদিকে চাহিদা বৃদ্ধি– এ দুটি মিলেই এখন স্পট মার্কেটগুলোতে মূল্যের বৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি।’

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ওপেক দেশগুলোর জ্বালানি তেল উৎপাদন হ্রাস, মেক্সিকো উপসাগরে হারিকেনের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত এবং বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়ায় জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে শীতকালে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে তেলের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে তেলের চাহিদা বাড়ার আরেকটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ চীন সরকারের নীতিগত অবস্থান। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ থেকে তেলভিত্তিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে চীন। এই কারণে চীনে তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। এতে তেলের বাজার আরও চড়ছে। বিশ্ববাজারে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে জ্বালানি তেল।

অন্যদিকে বহু বছর পর অস্ট্রেলিয়া-চীনে জ্বালানি পণ্য রপ্তানির ওপর থেকে তাদের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে সাধারণ অস্ট্রেলিয়ানদের মধ্যেও জ্বালানি মজুতের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

দেশে কি দর বাড়বে?

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সারা বছরের জন্য দেশের জ্বালানি খাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ১ হাজার কোটি টাকা। অথচ গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কিনতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার। এমন পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে পারে। আর গ্যাসের দাম বাড়লে বিদ্যুতের দামও বাড়বে।

জ্বালানি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানিতে লোকসান যা হয়েছে, তার সিংহ ভাগই এলএনজি কিনতে গিয়ে। এখন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই লোকসানের পরিমাণ বাড়বে।

বাড়তি দামে এলএনজি কেনায় সরকারের কত টাকা লোকসান হচ্ছে তার হিসাব করছে সরকারের গ্যাস সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো।

তিতাস গ্যাস, কর্ণফুলী ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড এবং সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড কোম্পানি তাদের আর্থিক বিশ্লেষণের কাজ শেষে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দেবে মূল্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)।

একই সঙ্গে পাইকারি গ্যাস সরবরাহকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান ও গ্যাসের সঞ্চালন বা হুইলিং সংস্থা গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেডও (জিটিসিএল) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে।

আরও পড়ুন:
রোহিঙ্গা ইস্যু হারাচ্ছে না: মোমেন
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মিয়ানমারকে চাপে রাখবে ইইউ, আশা রাষ্ট্রপতির
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ
ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ৯ রোহিঙ্গা আটক
ভাসানচর থেকে পলাতক ১৯ রোহিঙ্গা আটক 

শেয়ার করুন