ডাকাতির স্বর্ণ রাখা নিয়ে হাতাহাতি, গুলিতে আহত ১

ডাকাতির স্বর্ণ রাখা নিয়ে হাতাহাতি, গুলিতে আহত ১

নোয়াখালীতে সহযোগীদের গুলিতে আহত ডাকাত রুবেল। ছবি: নিউজবাংলা

বুধবার রাতে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে ডাকাত দল। ওই সময় লুট করা স্বর্ণালঙ্কার রুবেলের কাছে রাখা নিয়ে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ করে অন্য ডাকাতরা গুলি ছোড়ে।

নোয়াখালী সদর উপজেলায় ডাকাতির সময় স্বর্ণ রাখা নিয়ে নিজেদের মধ্যে হাতাহাতি এবং গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্য সদস্যদের ছোড়া গুলিতে মো. রুবেল নামের এক ডাকাত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের আতাশপুর গ্রামের মিলন মিয়ার নতুন বাড়িতে বুধবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৩টার দিকে দাদপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর ব্রিকস ফিল্ড এলাকা থেকে গুলিবিদ্ধ রুবেলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গুলিবিদ্ধ রুবেলের বাড়ি দাদপুর গ্রামে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মিলনের পরিবারের সদস্য আমেনা বেগম শিউলি জানান, বুধবার রাত ২টার দিকে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে ডাকাত দল। ওই সময় লুট করা স্বর্ণালঙ্কার রুবেলের কাছে রাখা নিয়ে দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এতে রুবেলের মুখোশ খুলে যায়। পরে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তাকে লক্ষ করে অন্য ডাকাতরা গুলি ছুড়লে তিনি আহত হন।

আমেনা আরও জানান, ডাকাতি শেষে মালপত্র ও রুবেলকে নিয়ে চলে যায় দলটি। পরে দাদপুর ইউনিয়নের হাকিমপুর ব্রিকস ফিল্ড সংলগ্ন এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, রুবেলের চোখ, মুখ ও পেটে ছররা গুলি লেগেছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সুধারার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ উদ্দিন উদ্দিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সরেজমিন তদন্তে জানা গেছে, রুবেলের নেতৃত্বে ওই বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে।

ওসি আরও জানান, রুবেলের সঙ্গে সাদ্দাম, কালামসহ ৪-৫ জন সহযোগী ছিল। এ ঘটনায় আমেনা বেগম শিউলি ডাকাতির মামলা করেছেন। জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

আরও পড়ুন:
ডাকাতি শেষে পুলিশের ওপর ককটেল হামলা
এটিএম বুথে ডাকাতির চেষ্টা, কারাগারে ৩
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
১৯ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, অস্ত্রসহ আটক ৯
নিরাপত্তাকর্মীর বর্ণনায় সাভারে স্বর্ণের ১৯ দোকানে ডাকাতি

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘রাজাকারের’ ছেলেকে নৌকা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

‘রাজাকারের’ ছেলেকে নৌকা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মানববন্ধন। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ছিল রাজাকাররা। এখন কিছু নেতাকর্মী টাকা খেয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির দল আওয়ামী লীগে ভিড়িয়েছে। এই জন্য কী বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম?’

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুরে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারী তৎকালীন শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এমন সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। বিল্লালকে নৌকা প্রতীক দেয়ার প্রতিবাদে শনিবার তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করেছেন।

বিল্লালকে নৌকা প্রতীক দেয়ার প্রতিবাদে বিকেলে রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল রায়পুর বাজার প্রদক্ষিণ করে।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া বিল্লাল হোসেন। তার দাবি, তার বাবা রাজাকার ছিলেন না। আর এর আগে তিনি যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলেন।

তবে মানববন্ধনে বক্তারা জানান, রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগের একটি পক্ষকে অর্থের মাধ্যমে হাত করে এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য রনজিৎ রায়ের মদদপুষ্ট হয়ে বিল্লাল হোসেন আওয়ামী লীগের নেতা হয়ে উঠেছেন।

এভাবেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বিল্লালকে নৌকার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছে। এখন রাজাকারের ছেলে যদি নৌকা প্রতীক পান তবে আওয়ামী ইজ্জত বলে কিছু থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই বলেন, ‘এই দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ছিল রাজাকাররা। এখন কিছু নেতাকর্মী টাকা খেয়ে তাদের মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে শক্তির দল আওয়ামী লীগে ভিড়িয়েছে। এই জন্য কী বঙ্গবন্ধুর ডাকে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছিলাম?’

তিনি আরও বলেন, ‘বাঘারপাড়াসহ রায়পুরে শান্তি কমিটির প্রভাবশালী নেতা ছিল রাজাকার মোহাম্মদ আলী। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মানুষের বাড়িতে ডাকাতির সাথে নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে সে।

‘সেই রাজাকারের ছেলে বিল্লাল হোসেন। তার পরিবারও রাজাকার। বর্তমানে অর্থের প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করে নৌকা প্রতীক পাওয়ার পায়তারা করছে।’

রাজাকারের সন্তানের পরিবর্তে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের নৌকা প্রতীক দেয়ার দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা লাল মিয়া, ইয়াকুব আলী, ডা. ইরাদত আলী, হাফিজুর রহমান, আলী বক্স, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান ও আওয়ামী লীগ নেতা মফিজুর রহমান, রিপন হোসেন ও মাসুদুর রহমান রাজু।

অভিযোগের বিষয়ে বিল্লাল হোসেন জানান, তার বাবা রাজাকার ছিলেন না। সে সময় রাজাকার কমান্ডার ছিলেন ছড়িয়ালা আজিজ। পরে সভাপতি হন মৌলভী আবুল হোসেন।

তিনি বলেন, ‘আমি ২০০৬ সালে ভোটের মাধ্যমে জিতে রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। আমি এরশাদের সময় স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। এর আগে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে ছিলাম।’

তবে বিল্লাল হোসেন যাদের রাজাকার কমান্ডার বলছেন কীসের ভিত্তিতে বলেছেন জানতে চাইলে বলেন, ‘স্থানীয় মুরব্বিদের কাছে শুনেছি।’

আরও পড়ুন:
ডাকাতি শেষে পুলিশের ওপর ককটেল হামলা
এটিএম বুথে ডাকাতির চেষ্টা, কারাগারে ৩
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
১৯ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, অস্ত্রসহ আটক ৯
নিরাপত্তাকর্মীর বর্ণনায় সাভারে স্বর্ণের ১৯ দোকানে ডাকাতি

শেয়ার করুন

নাশকতার মামলায় ১২ জামায়াত-শিবির সদস্য কারাগারে

নাশকতার মামলায় ১২ জামায়াত-শিবির সদস্য কারাগারে

রাজশাহীর পবা থেকে গ্রেপ্তার জামায়াত-শিবিরের ১২ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ছবি: নিউজবাংলা

এজাহারের বরাতে আদালত পরিদর্শক আবুল হাশেম জানান, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার লক্ষ্যে বৈঠক চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পালোপাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জব্দ হয় বেশকিছু জিহাদি বই, ব্যানার, কর্মী সংগ্রহের ফরম ও চাঁদা আদায়ের রশিদ।

রাজশাহীর পবা থেকে গ্রেপ্তার জামায়াত-শিবিরের ১২ সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

রাজাশাহীর মুখ্য মহানগর হাকিম রেজাউল করিমের আদালতে শনিবার বিকেলে তোলা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়া হয়।

যাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে তারা হলেন, ৫০ বছরের মনিরুল ইসলাম, ৬৮ বছরের কলিম উদ্দিন, ২৫ বছরের আব্দুল মতিন ও আব্দুল মমিন, ২০ বছরের ফয়সাল আহমেদ, ৩৫ বছরের আজাহার আলী, ৪২ বছরের আবু বক্কর, ৩০ বছরের আব্দুর রব, ৩৪ বছরের উজ্জ্বল হোসেন, ৩৫ বছরের আব্দুল হালিম, ৫০ বছরের ওবেদ আলী ও ৬১ বছরের আবুল হোসেন। তারা সবার বাড়ি পবা উপজেলায়।

এসব নিশ্চিত করেছেন আদালত পরিদর্শক আবুল হাশেম।

মামলার এজাহারের বরাতে তিনি জানান, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র ও নাশকতার লক্ষ্যে বৈঠক চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পালোপাড়া মধ্যপাড়া গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় জব্দ হয় বেশকিছু জিহাদি বই, ব্যানার, কর্মী সংগ্রহের ফরম ও চাঁদা আদায়ের রশিদ।

পরে নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকেলে তাদের আদালতে তোলা হলে বিচারক রেজাউল করিম কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন:
ডাকাতি শেষে পুলিশের ওপর ককটেল হামলা
এটিএম বুথে ডাকাতির চেষ্টা, কারাগারে ৩
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
১৯ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, অস্ত্রসহ আটক ৯
নিরাপত্তাকর্মীর বর্ণনায় সাভারে স্বর্ণের ১৯ দোকানে ডাকাতি

শেয়ার করুন

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্ধুকে বুকে টেনে নিলেন মন্ত্রী

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্ধুকে বুকে টেনে নিলেন মন্ত্রী

বন্ধু ছিতুয়ার সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বন্ধুকে নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমানের দেয়া পোস্টে মাত্র দুই ঘণ্টায় লাইক ও রিঅ্যাক্ট পড়েছে আট হাজার। কমেন্ট করেছেন তেরো শর বেশি বন্ধু ও অনুসারী। তারা সবাই মন্ত্রীর এমন আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

রংপুরের পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়েছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। সেখানেই তার দেখা হয় বাল্যবন্ধু ছিতুয়ার সঙ্গে।

পেশায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ছিতুয়া মানুষের ভিড়ে নিজেকে আড়াল করতে চাইলেও পারেননি। মন্ত্রী তাকে সবার সামনেই বন্ধু সম্বোধন করে টেনে নিয়েছেন বুকে। কাঁধে হাত রেখে তুলেছেন ছবি।

বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সেই ছবি নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্টও করেছেন ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী। প্রকাশ করেছেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের এক চিত্র।

ছিতুয়া সম্প্রতি রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। স্ত্রী গীতা রানী এখনও চাকরি করছেন। ছিতুয়ার মা চানিয়া রানীও ছিলেন রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

বন্ধুর কর্মস্থল রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর দপ্তরের সামনে জড়িয়ে ধরে রাখা ছবিটি তোলেন প্রতিমন্ত্রী এনামুর।

শনিবার রাতে নিজের ফেসবুক ওয়ালে সেই ছবি দিয়ে স্মৃতিচারণা করে আবেগঘন এক পোস্ট দেন ঢাকা-২০ আসনের (সাভার) এই সংসদ সদস্য।

তার সেই পোস্টে মাত্র দুই ঘণ্টায় লাইক ও রিঅ্যাক্ট পড়েছে আট হাজার। কমেন্ট করেছেন তেরো শর বেশি বন্ধু ও অনুসারী। তারা সবাই মন্ত্রীর এমন আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

হাসান ইকবাল শাহীন নামে একজন লেখেন, ‘আপনার এই অনুভূতি, চিন্তাধারা আর স্বীকারোক্তি এবং বাস্তবতার সংমিশ্রণ ভালোবাসার নিদর্শন আমাদের জন্য। প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য প্রেরণা ও আদর্শ হয়ে থাকবে। উঁচু-নিচুর বৈষম্যহীনতাই আমাদের জন্য জরুরি, যা ইসলাম ধর্মেও আছে… সবার উপরে মানুষ সত্য এটাই যেন রয়!’

মনির আহমেদ সুজন নামে আরেকজন লেখেন, ‘বাংলাদেশের সকল এমপি মহোদয়ের মনমানসিকতা এমন হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের বাংলাদেশ আরও বহুদূর এগিয়ে যেত।’

পরিচ্ছন্নতাকর্মী বন্ধুকে বুকে টেনে নিলেন মন্ত্রী

মন্ত্রী তার ফেসবুকে লিখেছেন- পতাকাবাহী গাড়ি। পুলিশ প্রটোকল। বাড়তি লোকজনের ভিড়। এসব দেখে কিছুটা হতভম্ব ছিতুয়া। আমাদের সেই বন্ধুত্বের আবেগ আর আমার দুরন্তপনার দিনগুলো তখন অতীতের স্মৃতির ঝাঁপি খুলে জ্বলজ্বলে তারা হয়ে উপস্থিত আমার চোখের সামনে।

কিন্তু ছিতুয়া প্রচণ্ড আড়ষ্ট। নিজেকে আড়াল করার কী ব্যর্থ চেষ্টা! আমি বুঝতে পারছিলাম, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে চারপাশের প্রটোকলের আবহ ছিতুয়া আর আমার সম্পর্কের মধ্যে এক অদৃশ্য দেয়াল টেনে দিচ্ছে।

জনারণ্যে ‘এ্যাই ছিতুয়া’ বলে ডাকতেই ফিরে তাকাল সে। পড়ন্ত বয়সেও যেন সেই হারানো যৌবনের চকচকে চোখে মৃদু হাসিতে তাকাল আমার দিকে। দৃষ্টি বিনিময় হতেই বন্ধুকে বুকে টেনে নিয়ে বুক ফুলিয়ে গর্বের সাথে বললাম, এই ছিতুয়াই আমার স্কুলের বন্ধু। ছিতুয়ার তখন ছলছলে চোখ। আমারও গোপন অশ্রুবিন্দুগুলো তখন স্মৃতির মণিমুক্তা হয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে দুই নয়ন।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) থেকে সম্প্রতি অবসর নিয়েছে ছিতুয়া। ছিতুয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে ধারাবাহিক পেশাগত সম্পর্ক ধরে রেখেছে বৌদি গীতা রানী। সেও এখন সুইপার পদে কর্মরত।

তো আসছি ছিতুয়ার প্রসঙ্গে। আমার বাবা মরহুম আক্তারুজ্জামান খান ছিলেন এই অফিসেরই উচ্চমান সরকারী (ইউডি অ্যাসিসট্যান্ট)। আর ছিতুয়ার মা (আমাদের প্রিয় মাসি মা) চানিয়া রানী ছিলেন সুইপার।

তখন ছিল স্বর্ণালি যুগ। আমরা যে মূল্যবোধে বেড়ে উঠছিলাম, সেখানে জাতপাতের কোনো বালাই ছিল না।

আরও অন্য বন্ধুদের মতো ছিতুয়াও ছিল আমার দুরন্ত শৈশব আর কৈশোর অসাধারণ এক বন্ধু। রংপুরের রবার্টসনগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আমাদের সঙ্গেই ছিল ছিতুয়া। তারপর পড়াশোনায় সে ইস্তফা দিলেও আমাদের বন্ধুত্বে ভাটা পড়েনি কখনো।

আহারে জীবন। আমার সোনালি অতীত। সোনালি কৈশোরের কত শত স্মৃতিমাখা এই রংপুর।

আজ ছিতুয়া ঝাপসা করে দিচ্ছে আমার চোখ দুটো।

ছিতুয়া আর আমার দুরন্তপনায় রীতিমতো অস্থির থাকত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলোনি। আমি দুঃসাহসী ‘গাছো’ ছিলাম। যে কোন গাছে কাঠবিড়ালের মতো তরতর উঠে পড়তে আমার আর ছিতুয়ার ছিল জুড়ি মেলা ভার। তো কলোনির আঙিনায় সারি সারি নারিকেল গাছের নারিকেল পরিপক্ব হওয়ার আগেই তা আমাদের কারণে সাবাড় হয়ে যেত। তেমনি আম-কাঁঠালও।

জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে কৈশোরের হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো একদিকে যেমন আনন্দের, অন্যদিকে অনেক কষ্টের।

সেই আনন্দ আর কষ্টের মিশেলে ভিন্ন‌ এক অনুভূতি আজ উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছে আমার বন্ধু ছিতুয়া।

সরকারি চাকরি কনটিনিউ করলে বেশ কয়েক বছর আগে আমার নিজেরও অবসর নিতে হতো। আমার বন্ধুদের অনেকেই দেশবরেণ্য চিকিৎসক, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিবসহ আরও কত কি!

ছিতুয়া অবশ্যই তাদের তুলনায় কম কিছু নয়।

বন্ধু মানে আস্থা, নির্ভরতা। বন্ধু মানে ভালোবাসা, যেখানে থাকে না কোনো স্বার্থ।

গাড়ির পতাকা, প্রটোকল, পদ-পদবি, সামাজিক অবস্থান এগুলো সব কিছুই সাময়িক। কিন্তু বন্ধুত্বের বন্ধন চিরদিনের।

ছিতুয়া বন্ধু আমার। তোর জন্য ভালোবাসা।

আরও পড়ুন:
ডাকাতি শেষে পুলিশের ওপর ককটেল হামলা
এটিএম বুথে ডাকাতির চেষ্টা, কারাগারে ৩
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
১৯ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, অস্ত্রসহ আটক ৯
নিরাপত্তাকর্মীর বর্ণনায় সাভারে স্বর্ণের ১৯ দোকানে ডাকাতি

শেয়ার করুন

জেএমসেন মণ্ডপে ভাঙচুর: দায় স্বীকার নুরের সংগঠনের নেতার

জেএমসেন মণ্ডপে ভাঙচুর: দায় স্বীকার নুরের সংগঠনের নেতার

চট্টগ্রামের জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপে হামলার দায় স্বীকার যুব অধিকার পরিষদের নেতার। ছবি: নিউজবাংলা

তদন্ত কর্মকর্তা বাবলু কুমার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে সাত জনকে শুক্রবার ১ দিন করে রিমান্ডে পাই আমরা। রিমান্ড শেষে শনিবার তাদের আদালতে তোলা হলে হাবিবুল্লাহ মিজান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’

চট্টগ্রামে জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপে হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি ও তার সংগঠন যুব অধিকার পরিষদের নেতা হাবিবুল্লাহ মিজান।

শনিবার এক দিনের রিমান্ড শেষে মিজানসহ সাতজনকে আদালতে হাজির করলে চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম শফিউদ্দিনের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি।

জবানবন্দির বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বাবলু কুমার।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার ১০ জনের মধ্যে সাত জনকে শুক্রবার ১ দিন করে রিমান্ডে পাই আমরা। রিমান্ড শেষে শনিবার তাদের আদালতে তোলা হলে হাবিবুল্লাহ মিজান স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’

বাবুল কুমার আরও বলেন, ‘জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার আগের দিন শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতা মোক্তার হোসেনের বাসায় মিটিং করেন সবাই। মিটিংয়ে আন্দরকিল্লা মসজিদ থেকে জুমার নামাজের পর মিছিল বের করার পরিকল্পনা করা হয়।’

মিজান আগে ছাত্র অধিকার পরিষদের বন্দর থানার আহ্বায়ক ছিলেন। পরে যুব অধিকার পরিষদে যোগ দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে যুব অধিকার পরিষদের ৯ নেতাকর্মীসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের আহ্বায়ক মো. নাছির, সদস্য সচিব মিজানুর রহমান, বায়েজিদ থানার আহ্বায়ক ডা. রাসেল, ইয়ার মোহাম্মদ, কর্মী মো. মিজান, গিয়াস উদ্দিন, ইয়াসিন আরাফাত, হাবিবুল্লাহ মিজান, ইমন ও ইমরান হোসেন।

তাদের গ্রেপ্তারের পর জেএমসেন হলের পূজামণ্ডপের প্রবেশ পথ ও তোরণ ভাঙচুর এবং ব্যানার ছেঁড়ার পরিকল্পনায় যুব অধিকার পরিষদের নেতারা জড়িত বলে জানায় পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন শুক্রবার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করেছি। তারা ঘটনার পরিকল্পনায় ছিলেন। সাধারণ মুসল্লিদের ব্যবহার করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে হামলার নেতৃত্বও দিয়েছেন।’

আরও পড়ুন:
ডাকাতি শেষে পুলিশের ওপর ককটেল হামলা
এটিএম বুথে ডাকাতির চেষ্টা, কারাগারে ৩
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
১৯ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, অস্ত্রসহ আটক ৯
নিরাপত্তাকর্মীর বর্ণনায় সাভারে স্বর্ণের ১৯ দোকানে ডাকাতি

শেয়ার করুন

বিএনপি আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

বিএনপি আগামী নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে: পরিকল্পনামন্ত্রী

মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে শনিবার বিকেলে সুধী সমাবেশে বক্তব্য দেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: নিউজবাংলা

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নামক একটি দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর সমাবেশে বলে বেড়ান, নির্বাচন হতে দেবেন না। বিএনপিকে বলতে চাই, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ মোকাবিলা করবে।’

বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

শনিবার বিকেলে ভোলার মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে সুধী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নামক একটি দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা আলমগীর সমাবেশে বলে বেড়ান, নির্বাচন হতে দেবেন না। বিএনপিকে বলতে চাই, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ মোকাবিলা করবে।’

বাংলাবাজার আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব কলেজ মাঠে সমাবেশে এম এ মান্নান আরও বলেন, মনপুরা-চরফ্যাশনের প্রধান সমস্যা নদীভাঙন। আগামী একনেক সভায় মনপুরা-চরফ্যাশন নদীভাঙন রোধ প্রকল্প তুলে ধরা হবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, মনপুরা-চরফ্যাশনের মানুষ ভিটেমাটি রক্ষার জন্য নদীভাঙন রোধ চায়।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেলিনা আকতার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মিয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা, ওসি সাইদ আহমেদ, ইউপি চেয়ারম্যান অলিউল্লা কাজল, নিজাম উদ্দিন হাওলাদারসহ অনেকে।

এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী ও সংসদ সদস্য জ্যাকবসহ আওয়ামী লীগ নেতারা মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের মেঘনার ভাঙনকবলিত মাস্টার হাট এলাকা পরিদর্শন করেন।

আরও পড়ুন:
ডাকাতি শেষে পুলিশের ওপর ককটেল হামলা
এটিএম বুথে ডাকাতির চেষ্টা, কারাগারে ৩
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
১৯ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, অস্ত্রসহ আটক ৯
নিরাপত্তাকর্মীর বর্ণনায় সাভারে স্বর্ণের ১৯ দোকানে ডাকাতি

শেয়ার করুন

সড়কে প্রাণ গেল মা-ছেলের

সড়কে প্রাণ গেল মা-ছেলের

ওসি শাহ আলম জানান, কুয়াকাটাগামী একটি বাস আমতলীর আমড়াগাছিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। দুই গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে পাশের খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুজন। আহত হন দুই বাসের অন্তত ৩০ জন।

বরগুনায় দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন দুজন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন।

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমড়াগাছিয়া এলাকায় শনিবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ৩২ বছরের আয়েশা বেগম ও এক বছরের আয়ান। সম্পর্কে তারা মা-ছেলে। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের কাঠগড় ধুমপাড়া এলাকায়।

এসব নিশ্চিত করেছেন আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম হাওলাদার।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে তিনি জানান, চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কুয়াকাটাগামী সেবা পরিবহনের একটি বাস আমতলীর আমড়াগাছিয়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দিনাজপুরগামী গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ হয়। দুটি গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে পাশের খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই মারা যান সেবা পরিবহনের দুই যাত্রী। আহত হন দুই বাসের অন্তত ৩০ জন।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে ২০ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাঠানো হয়েছে বরিশাল, পটুয়াখালী ও খুলনার বিভিন্ন হাসপাতালে।

মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুই বাসের চালক পলাতক। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর একটি মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
ডাকাতি শেষে পুলিশের ওপর ককটেল হামলা
এটিএম বুথে ডাকাতির চেষ্টা, কারাগারে ৩
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
১৯ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, অস্ত্রসহ আটক ৯
নিরাপত্তাকর্মীর বর্ণনায় সাভারে স্বর্ণের ১৯ দোকানে ডাকাতি

শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচন: আ.লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১

ইউপি নির্বাচন: আ.লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে নিহত ১

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ। ছবি: নিউজবাংলা

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জানান, নির্বাচন নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে শনিবার সকাল থেকে খারদিয়া এলাকায় রব ও রফিকের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ২টার দিকে শুরু হয় সংঘর্ষ। কয়েক দফা সংঘর্ষে আহতদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে মারিজ শিকদারের মৃত্যু হয়।

ফরিদপুরের সালথায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই প্রার্থীর প্রায় ২০ জন সমর্থক।

সংঘর্ষে নিহত ৩০ বছর বয়সী মারিজ শিকদার বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থক। তার বাড়ি খারদিয়া গ্রামে।

সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এলাকায় শনিবার বেলা ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। এ ছাড়া ভাঙচুর করা হয়েছে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি।

স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম নিউজবাংলাকে জানান, যদুনন্দী ইউপি নির্বাচনে গত ১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুর বর মোল্যা মনোনয়নপত্র জমা দেন। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন রফিক মোল্যা ও নুরুজ্জামান টুকু ঠাকুর।

বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও রফিকের সঙ্গে বিরোধের জেরে টুকু আব্দুর বর মোল্যা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মিয়ার সমর্থক হিসেবে কাজ করেন।

নির্বাচন নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে শনিবার সকাল থেকে খারদিয়া এলাকায় রব ও রফিকের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জড়ো হতে থাকেন। বেলা ২টার দিকে শুরু হয় সংঘর্ষ। কয়েক দফা সংঘর্ষে আহতদের ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৪টার দিকে মারিজ শিকদারের মৃত্যু হয়।

মারিজের মৃত্যুর সংবাদে রফিক মোল্যার অনুসারীরা আব্দুর রব মোল্যার সমর্থকদের প্রায় ৫০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।

জেলা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সুমিনুর রহমান বলেন, ‘আধিপত্য বিস্তারের জেরে সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে আব্দুর রব মোল্যা ও রফিক মোল্যার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কেউ ফোন ধরেননি।

আরও পড়ুন:
ডাকাতি শেষে পুলিশের ওপর ককটেল হামলা
এটিএম বুথে ডাকাতির চেষ্টা, কারাগারে ৩
সিসিটিভি ক্যামেরায় এটিএম বুথে ডাকাতির ভিডিও
১৯ স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি, অস্ত্রসহ আটক ৯
নিরাপত্তাকর্মীর বর্ণনায় সাভারে স্বর্ণের ১৯ দোকানে ডাকাতি

শেয়ার করুন