হাইকোর্টে জামিন চাইলেন কেয়ার চেয়ারম্যান

হাইকোর্টে জামিন চাইলেন কেয়ার চেয়ারম্যান

আবদুল খালেক পাঠান, তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তাদের নামে পৃথক পাঁচটি মামলা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. শফি উল্লাহ বাদী হয়ে এসব মামলা করেন।

দুর্নীতির মামলায় কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল খালেক পাঠান হাইকোর্টে আগাম জামিন আবেদন করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আবদুল খালেক পাঠান ছাড়াও তার স্ত্রী এবং তিন সন্তানের জামিন চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানান দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

আবদুল খালেক পাঠান, তার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় তাদের নামে পৃথক পাঁচটি মামলা হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. শফি উল্লাহ বাদী হয়ে এসব মামলা করেন।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১৮৩ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার ২৬৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৯৬ কোটি ২৯ লাখ ৭২ হাজার ৭৩৯ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

পাঁচ মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারাসহ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ২০১২-এর ৪ (২) ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

হাইকোর্ট সূত্র জানায়, আসামিদের জামিন আবেদনটি বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হতে পারে।

আরও পড়ুন:
জামিন জালিয়াতি: জজ কোর্টের আইনজীবী রিমান্ডে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নির্বাচনি সহিংসতা: ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় মামলা

নির্বাচনি সহিংসতা: ছাত্রলীগ নেতা হত্যায় মামলা

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সজিব হোসেন। ছবি: নিউজবাংলা

রামগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, ইছাপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হিসেবে সদ্য জয়ী আমিরকে প্রধান আসামি করে সজিবের বোন ২১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ইছাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও এর বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে।

নিহত সজিব হোসেনের বোন মঙ্গলবার সকালে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীকে প্রধান আসামি করে রামগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, ২৮ তারিখের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমির হোসেন খাঁন। তিনি এই নির্বাচনে জয় পান।

আমিরকে প্রধান আসামি করে সজিবের বোন ২১ জনের নামসহ অজ্ঞাতপরিচয় ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর আগে রোববার ওসি জানান, রোববার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নৌকা ও এর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে এটি সংঘর্ষ পর্যন্ত গড়ায়। সে সময় মাথায় আঘাত পান সজিব হোসেন।

তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় সেখান থেকে চাঁদপুরের হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন:
জামিন জালিয়াতি: জজ কোর্টের আইনজীবী রিমান্ডে

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্য হত্যা: চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে মামলা

বিজিবি সদস্য হত্যা: চেয়ারম্যানকে প্রধান আসামি করে মামলা

নিহত বিজিবি নায়েক রুবেল মণ্ডল। ছবি: নিউজবাংলা

কিশোরগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক গুলনাহার বেগম জানান, মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদেরকে আদালতে নেয়া হয়েছে। সব আসামিকে ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্য হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিককে। এজাহারে নাম আছে আরও ৯৫ জনের।

কিশোরগঞ্জ থানায় সোমবার রাত সোয়া ১২টার দিকে মামলাটি করা হয়।

গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় মামলাটি করেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদেরকে আদালতে নেয়া হয়েছে।

যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন পশ্চিম দলিরাম গ্রামের আনোয়ার হোসেন, ইসমাইল হোসেন, যাদু মিয়া, মজনু মিয়া, শরিফুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন, মো. নিশাদ ও মো. নিরব।

কিশোরগঞ্জ থানার ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক গুলনাহার বেগম জানান, মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় অনেককে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামিসহ জড়িত সবাইকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

এর আগে ২৮ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে ফল ঘোষণার পর গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া ভোট কেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

যা ঘটেছিল

স্থানীয়রা জানান, গাড়াগ্রাম ইউপিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী জোনাব আলীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ফল প্রত্যাখান করেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা। কেন্দ্র থেকে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে রির্টানিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাওয়ার সময় কর্মকর্তাদের ওপর লাটিসোটা নিয়ে হামলা চালান তারা।

তারা আরও জানান, ওই সময় আত্মরক্ষায় বিজিবি সদস্য রুবেল কেন্দ্রের একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধরা সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পুলিশের গাড়ি ও ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও চলান তারা। আত্মরক্ষায় তখন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ললিত চন্দ্র রায় বলেন, ‘ফল ঘোষণার পর লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মারুফ হোসেন অন্তিক লোকজন নিয়ে এসে ওই কেন্দ্রে তাকে জয়ী ঘোষণার দাবি জানিয়ে নির্বাচনি সরঞ্জাম নিতে বাধা দেন।

‘ওই সময় আমাদের ওপর আক্রমণ চালাতে শুরু করলে আমি নিজে, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কয়েকজন পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য আহত হই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরে আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।’

আরও পড়ুন:
জামিন জালিয়াতি: জজ কোর্টের আইনজীবী রিমান্ডে

শেয়ার করুন

প্রিসাইডিং অফিসার ও এসআইয়ের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

প্রিসাইডিং অফিসার ও এসআইয়ের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা

হামলায় আহত হন প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া। ছবি: নিউজবাংলা

বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে কতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে এবং কে মামলা করেছেন তা বলা যাচ্ছে না।

কুমিল্লার বরুড়ায় প্রিসাইডিং অফিসার ও পুলিশকে আহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে।

সোমবার দুপুরে বরুড়া থানায় মামলাটি করেন ওই কেন্দ্রের এক সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

তিনি জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে কতজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে এবং কে মামলা করেছেন তা বলা যাচ্ছে না।

হামলায় আহত হন প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া ও এসআই আবু হানিফ।

এদিকে প্রিসাইডিং অফিসারের পকেট থেকে ৪৪ হাজার টাকা ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। এতে ভাতা বঞ্চিত হন কেন্দ্রে দায়িত্ব থাকা ১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী। স্থানীয়রা জানান, তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী মোখলেছুর রহমানের নেতৃত্বে এই হামলা হয়।

স্থানীয় পোলিং অফিসার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরুড়ার ঝলম ইউনিয়নের ডেউয়াতলী কেন্দ্রে নির্বাচনের আগের দিন শনিবার রাতে ব্যাপক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করা হয়।

নির্বাচনের দিন রোববার সকাল ৮টা থেকে ৬টি বুথে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। সকাল ৯টার দিকে তালা প্রতীকের মেম্বার প্রার্থী মোখলেছুর রহমান প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়ার কাছে ব্যালট বই নেয়ার দাবি করেন।

প্রিসাইডিং অফিসার তাকে ব্যালট বই দিতে রাজি না হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভোট কেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মোখলেছুরের নেতৃত্বে হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে কেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। আত্মরক্ষার্থে প্রিসাইডিং অফিসার কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন।

এ সময় হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ফেলে। হামলাকারীরা প্রিসাইডিং অফিসারকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করলে বাধা দেন আবু হানিফ।

এতে লাঠি ও রামদা দিয়ে আঘাত করে তাকে মাটিতে ফেলে দেয় ছয়-সাতজনের একটি দল। মাটিতে ফেলে তার কোমরে ছুরি ও রামদা দিয়ে কোপানো হয়। তার পিস্তল ছিনতাই করা হয়। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রার্থী মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমি একজন প্রতিবন্ধী ও নিরীহ প্রকৃতির মানুষ। প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার করছে। আমি এ ঘটনার সময় ভয়ে পালিয়ে যাই। হামলা করতে যাব কেন?’

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। হামলাকরীরা কেউ রেহাই পাবে না।’

আরও পড়ুন:
জামিন জালিয়াতি: জজ কোর্টের আইনজীবী রিমান্ডে

শেয়ার করুন

কলেজছাত্রী নাহিদার মৃত্যুর পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট

কলেজছাত্রী নাহিদার মৃত্যুর পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট

চট্টগ্রামের ডিটি রোডের গর্তে পড়ে কলেজছাত্রী নিহত হওয়ার পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট করছে সিটি করপোরেশন। ছবি: নিউজবাংলা

এলাকাবাসীর দাবি, অনেক দিন থেকেই এই সড়কের গর্তের জন্য যান চলাচলে অসুবিধা হচ্ছিল। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, ওয়াসার পাইপের লিকেজ থেকে বের হওয়া পানিতেই সড়কের এই গর্তের সৃষ্টি।

চট্টগ্রামের ডিটি রোডের গর্তে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে কলেজছাত্রী নিহত হওয়ার পর সেই সড়কের গর্ত ভরাট করছে সিটি করপোরেশন।

ওই সড়কে শুক্রবার বিকেল থেকে গর্ত ভরাট শুরু করেন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা। সোমবার বিকেলে সরেজমিনে ওই রাস্তায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে থাকা আগের গর্তগুলো ভাঙা ইট, পাথর ও বিটুমিন ঢালাই দিয়ে ভরাট করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে (২৫ নভেম্বর) এই সড়কের গর্তে ঝাঁকি খেয়ে মোটরসাইকেল থেকে পড়ে লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন কলেজছাত্রী নাহিদা আফরোজ আনিকা।

এলাকাবাসীর দাবি, অনেক দিন থেকেই এই সড়কের গর্তের জন্য যান চলাচলে অসুবিধা হচ্ছিল। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, ওয়াসার পাইপের লিকেজ থেকে বের হওয়া পানিতেই সড়কের এই গর্তের সৃষ্টি।

দেওয়ানহাট এলাকার ব্যবসায়ী আকবর হোসেন বলেন, ‘আমিও বাইক নিয়ে এই সড়কে চলাচল করি। এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় প্রাণ হাতে নিয়ে চলি রীতিমতো। এখানে অধিকাংশ সময়ই এ রকম গর্ত থাকে। সিটি করপোরেশন মাঝে মাঝে ভাঙা ইট দেয়, কিন্তু সেসব তো বেশি দিন থাকে না।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভারী যানের কারণে সড়কে গর্ত হয়। আমরা কিছুদিন আগেও সড়কটি সংস্কার করেছি। কিন্তু ওয়াসার পাইপের লিকেজ থেকে বের হওয়া পানিতে সড়ক বারবার নষ্ট হয়। তাছাড়া ওয়াসার পানির পাইপের কাজ করতে গিয়েও গর্তের সৃষ্টি হয়।’

সিটি করপোরেশনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী (মড-১) আব্দুর রউফ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পাইপের লিকেজ এটা রানিং, পৃথিবীর সব দেশে এটা হয়। এটা আমরা চাইলেই শূন্যে আনতে পারব না। তবে আমরা কমানোর চেষ্টা করতেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরোনো পাইপগুলো চেঞ্জ করে নতুন পাইপ বসাচ্ছি। আর পাইপের কাজ করানোর ফলে ওরা যে গর্ত হয়েছে দাবি করছে, আমরা তো সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়েই সড়কে পাইপের কাজ করি। আর কাজ করার পর টেম্পোরারি ঢালাই দিয়ে দিই।

‘এটা স্থায়ী সংস্কারের দায়িত্ব করপোরেশনের। কারণ যারাই সড়কে কাজ করুক, সড়ক কাটার জন্য অনুমতির প্রয়োজন হয়। আর টাকাও দিতে হয় ওদের।’

আরও পড়ুন:
জামিন জালিয়াতি: জজ কোর্টের আইনজীবী রিমান্ডে

শেয়ার করুন

নির্বাচনের দুই দিনে ১০ প্রাণহানি

নির্বাচনের দুই দিনে ১০ প্রাণহানি

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সহিংসতায় গুলিবিদ্ধ এই যুবকের মৃত্যু হয় রংপুর মেডিক্যালে। ছবি: নিউজবাংলা

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ভোট চলাকালে প্রাণহানির কোনো ঘটনা না ঘটলেও ভোট শেষে বিভিন্ন জেলা থেকে সহিংসতার খবর আসতে থাকে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাত জেলায় ১০ জন নিহতের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে আছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া দুজন।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে ভোটের পরে সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০ হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে। জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর সনগাঁও ইউনিয়নের ওই সংঘর্ষের ঘটনায় সোমবার দুপুর পর্যন্ত তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম এ তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, সনগাঁও ইউনিয়নের গিডক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফল ঘোষণা নিয়ে হট্টগোলের পর কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের অবরুদ্ধ করেন স্থানীয়রা। তাদের হটিয়ে দিতে গেলে বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুলি চালালে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।

ওসি জানান, গুলিবিদ্ধদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসক শাহপলি নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের চিকিৎসক আব্দুল জব্বার বলেন, ‘রাত ১২টার দিকে হাসপাতালে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আনা হয়। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাই। বাকি চারজনকে সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।’

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) নাদিরুল আজিজ চয়ন বলেন, ‘রাত ৩টার দিকে চারজনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। সারা রাত সেই দুজনকে আইসিইউতে রাখি এবং সকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করি। রাস্তায় সেই দুজন মারা যান।’

ওসি জাহাঙ্গীর জানান, সোমবার মারা যাওয়া দুজন হলেন ৪০ বছরের মো. মাজহারুল ও ১৭ বছরের আদিত্য রায়। তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

যেভাবে সংঘর্ষ শুরু

ওসি জাহাঙ্গীর আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ভোট শেষ হওয়ার পর ফল ঘোষণা করতে দেরি করছিলেন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরুজ্জামানের সমর্থকদের বিতর্ক হয়। পরে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নৌকার প্রার্থী শহীদ হোসেনকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

‘ফল ঘোষণার পর নাখোশ কিছু এলাকাবাসী ভোটকেন্দ্র অবরুদ্ধ করে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সেখান থেকে পালাতে পারলেও একটি রুমে অবরুদ্ধ করা হয় তিন পুলিশ ও ১৫-১৬ জন আনসার সদস্যকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও দুই প্লাটুন বিজিবি সেখানে যায়। এলাকাবাসী তাদের ওপর হামলা চালান। বিজিবি পরে গুলি চালালে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।’

নির্বাচনের দুই দিনে ১০ প্রাণহানি
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ভোটের পর সহিংসতায় ঘটনাস্থলে নিহত হন এই ব্যক্তি

তিনি আরও জানান, গুলিবিদ্ধ দুজন রংপুর মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতায় সোমবার সিরাজগঞ্জ ও কক্সবাজারে দুজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে ভোট দেখতে গিয়ে মারধরে প্রাণ হারায় স্কুলছাত্র দেলোয়ার হোসেন সাগর। সে মাছুয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ও সলঙ্গা ইসলামি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ত।

হাটিকুমরুল ইউপির চেয়ারম্যান হেতায়েতুল আলম নিউজবাংলাকে জানান, রোববার দুপুরে ভোট চলাকালে মাছুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী সেলিম রেজা মোল্লা ও হিরা সরদারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

ভোট দেখতে গিয়ে সেখানে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পড়ে আহত হয় সাগর। তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোররাতে ছেলেটি মারা যায়।

নির্বাচনের দুই দিনে ১০ প্রাণহানি
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত স্কুলছাত্র দেলোয়ার হোসেন সাগর

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আওয়ামী লীগের নতুন চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফের ভাগনেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ফল ঘোষণার পর।

বদরখালী ইউনিয়নে রোববার রাত পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে সোমবার দুপুরে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওসমাণ গণি বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

নিহত গিয়াস উদ্দিন মিন্টুর বাড়ি ১ নম্বর ওয়ার্ড ঢেমুশিয়া পাড়ায়।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি জানান, রোববার বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আরিফ জয়ী হন। ফল ঘোষণার পর মিছিল বের করেন তিনি। গাউসিয়া মসজিদ হেফজখানা এলাকায় রাত পৌনে ১১টার দিকে মিছিলে হামলা চালান চশমা প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থী হেফাজ সিকদারের এক থেকে দেড় শ সমর্থক।

এ সময় আরিফের ভাগনে গিয়াস উদ্দিনকে লাঠি ও দা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৩টার দিকে মিন্টুর মৃত্যু হয়।

এর আগে রোববার ভোটের পর সহিংসতায় নরসিংদীতে দুজন এবং লক্ষ্মীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও নীলফামারীতে তিনজন নিহত হয়েছেন।

নির্বাচনের দুই দিনে ১০ প্রাণহানি

ভোট শেষে রোববার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব হুমায়ুন কবীর খোন্দকার জানান, সহিংসতাহীন নির্বাচন হয়েছে।

আগের দুই ধাপের তুলনায় এবার সহিংসতা কম হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘এবার সহিংসতা যাতে না হয়, তার জন্য আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে বেশি তৎপর ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও সহনশীল আচরণ করেছেন। এতে আগের চেয়ে বিচ্ছিন্ন ঘটনাও কম হয়েছে।

‘বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশন একটি সহিংসতার ঘটনা ঘটবে বলেও আশা করে না। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ এবং প্রার্থীদের সহনশীল এমন আচরণ অব্যাহত থাকলে ধীরে ধীরে সহিংসতা আরও কমবে।’

তার এই সংবাদ সম্মেলনের পরপরই বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা ও প্রাণহানির খবর আসতে থাকে।

এর আগে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের আগে-পরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু নরসিংদীতেই মৃত্যু হয়েছে সাতজনের। এ ছাড়া মাগুরায় ৪, মেহেরপুরে ২ এবং কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নিহত হয়েছেন ১ জন করে।

আরও পড়ুন:
জামিন জালিয়াতি: জজ কোর্টের আইনজীবী রিমান্ডে

শেয়ার করুন

বিজিবি সদস্যকে হত্যা: ঘটনাস্থলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিম

বিজিবি সদস্যকে হত্যা: ঘটনাস্থলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টিম

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চার সদস্যের টিম। ছবি: নিউজবাংলা

পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি।

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নির্বাচনি সহিংসতায় নিহত বিজিবি সদস্যের ময়নাতদন্ত হয়েছে।

জেনারেল হাসপাতালের মর্গে সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মেজবাহুর হাসান চৌধুরী।

তিনি জানান, দুপুর ১২টার দিকে বিজিবি সদস্যে রুবেল মন্ডলের ময়নাতদন্ত হয়। পরে কর্তৃপক্ষের কাছে মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিহত রুবেলের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দঞ্জ উপজেলার শালমারা ইউনিয়নের বাইগুনি গ্রামে।

এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি টিম। এতে ছিলেন বিজিবি রংপুর রিজিওনাল কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুবুর রহমান খান, রংপুর রেঞ্জের অতিরিক্ত উপপুলিশ মহাপরিদর্শক ওয়ালিদ হোসেন ও নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে মিজানুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। সবার সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানান হবে।

নির্বাচনি সহিংসতায় বিজিবি সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার পর নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়া এখন সুনসান।

ঘটনাস্থলে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে দেখা গেছে গুমট পরিবেশ। পশ্চিম দলিরাম মাঝাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আশপাশে কাউকে ভিড়তে দিচ্ছে না পুলিশ।

ফল ঘোষণার পর জাতীয় পার্টির পরাজিত প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকদের হামলায় বিজিবি সদস্য রুবেল হোসেন নিহত হন বলে অভিযোগ উঠেছে। রুবেল বাহিনীটির নায়েক ছিলেন।

এ ঘটনার পর পরাজিত প্রার্থীর বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দুজনকে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার অভিযোগও করেছেন ওই প্রার্থীর এক স্বজন।

সহিংসতার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, গাড়াগ্রাম ইউপিতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী জোনাব আলীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সেই ফল প্রত্যাখান করেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মারুফ হোসেন অন্তিকের সমর্থকরা। কেন্দ্র থেকে ব্যালটসহ নির্বাচনি সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা সদরে রির্টানিং কর্মকর্তার দপ্তরে যাওয়ার সময় কর্মকর্তাদের ওপর লাটিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান তারা।

তারা আরও জানান, ওই সময় আত্মরক্ষায় বিজিবি সদস্য রুবেল কেন্দ্রের একটি কক্ষে আশ্রয় নিলে বিক্ষুব্ধরা সেখানে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। পুলিশের গাড়ি ও ভোট কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগের চেষ্টাও চলান তারা। আত্মরক্ষায় তখন কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবদুর রহমান বলেন, ‘হামলায় পুলিশের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসসহ নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হয়েছেন।’

নির্বাচনি সহিংসতার পর গাড়াগ্রামের মাঝাপাড়ায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দা জোসনা বেগম জানান, প্রথম শোনা গেছে বর্তমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। পরে আবার জানা গেল সে হেরে গিয়ে জিতেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী। এনিয়ে সংঘর্ষ শুরু হয় স্থানীয়দের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

শুনছি সে সময় বিজিবির এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় কোনো মানুষ নেই।

পরাজিত প্রার্থীর চাচি ইয়ামিন বেগম জানান, ‘আমরা হেরে গেছি। তারপর কী হয়েছে আমাদের জানা নেই। রাত ২টার দিকে আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে কিছু ব্যক্তি।

‘আমার পরিবার থেকে দুজনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কে বা কারা নিয়ে গেছে তা আমরা জানি না।’

প্রতিবেশী ফজিলা বেগম বলেন, ‘রাতে শুনেছি হাঙ্গামার খবর। সকাল থেকে এই এলাকায় কোনো মানুষ পাওয়া যায়নি।’

সহিংসতার ঘটনায় কেউ আটক আছে কিনা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তিনি কথা বলতে চাননি মামলার প্রসঙ্গেও।

আরও পড়ুন:
জামিন জালিয়াতি: জজ কোর্টের আইনজীবী রিমান্ডে

শেয়ার করুন

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও দুই

কাউন্সিলর সোহেল হত্যায় গ্রেপ্তার আরও দুই

কুমিল্লার কাউন্সিলর সোহেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও দুজনকে। ছবি: নিউজবাংলা

সবশেষ গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর সুজানগরের জিসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু। এর মধ্যে জিসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাব্বিকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ছয়জন।

কুমিল্লায় কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেল ও তার সঙ্গীকে গুলি করে হত্যা মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হলেন ছয়জন।

সবশেষ গ্রেপ্তার দুজন হলেন নগরীর সুজানগরের জিসান মিয়া ও সংরাইশ এলাকার মোহাম্মদ রাব্বি ইসলাম অন্তু।

এর মধ্যে জিসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। আর রাব্বিকে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার মধ্যরাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী এলাকা থেকে জিসান ও দেবিদ্বার উপজেলা সদর থেকে অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সোহান সরকার।

জেলা পুলিশের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, ঘটনার দিন অন্তুর বাড়িতে দুপুরের খাবার খান এজাহারভুক্ত সাত আসামি। এ কারণে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিজ কার্যালয়ে গত ২২ নভেম্বর বিকেলে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ মো. সোহেলসহ গুলিবিদ্ধ হন অন্তত ছয়জন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোহেল ও তার সঙ্গী হরিপদ সাহার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ আলমকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নামে মামলা হয় কোতোয়ালি থানায়। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে।

আরও পড়ুন:
জামিন জালিয়াতি: জজ কোর্টের আইনজীবী রিমান্ডে

শেয়ার করুন