ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা

ছিনতাইয়ের নাটক করে ধরা

ওসি নেজাম উদ্দিন জানান, পোশাক কারখানায় চাকরির পাশাপাশি ব্যবসা করতেন রিপন। সম্প্রতি ব্যবসায় বড় অঙ্কের লোকসান হয় তার। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পোশাক কারখানার ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে ছিনতাইয়ের নাটক সাজান।    

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় একটি পোশাক কারখানার পিয়নসহ দুইজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের তোলা হলে বিচারক হোসেন মোহাম্মদ রেজা তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে আসামি রিপনকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নেজাম উদ্দিন জানান, ১০ লাখ টাকা আত্মাসাৎ করতে ছিনতাইয়ের নাটক সাজায় রিপন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিষয়টি স্বীকার করলে তাকে আদালতে তোলা হয়।

পুলিশ বলছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন জানিয়েছিল, ২০১৪ সালে পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ক্লিফটন গ্রুপে পিয়ন পদে চাকরি নেন তিনি। কাজ করেন টানা সাত বছর। এই সময়ে অনেকের আস্থা অর্জন করেন। এরই সুবাদে তাকে প্রায়ই ব্যাংক থেকে টাকা লেনদেনের জন্য পাঠাতেন কর্মকর্তারা।

ব্র্যাক ব্যাংকের চট্টগ্রাম কাজীর দেউড়ি শাখা থেকে ১০ লাখ টাকা তুলতে সোমবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে তাকে একটি চেক দেন গ্রুপের হিসাবরক্ষক মো. সাহেদ।

টাকা তুলে তা স্ট্যান্ডার্ড চ্যার্টার্ড ব্যাংকে জমা দিতে কোতোয়ালি থানা এলাকার নূপুর মার্কেটে যান তিনি। সেই মার্কেটের সামনে থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নেয়। অটোরিকশায় তোলার পর প্রথমে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। পরে মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয়া হয়।

রিপন পুলিশকে বলেছিল, ‘অটোরিকশাটি যখন বায়েজিদ লিংক রোডে পৌঁছায় তখন আমি পানি খেতে চাইলে দেয়া হয়। এর পরপরই জ্ঞান হারাই। পরদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে জ্ঞান ফিরলে অলংকার এলাকার একটি ঝোপে নিজেকে আবিষ্কার করি। পরে এক বৃদ্ধের সহায়তায় একটি অটোরিকশা ধরে বাসায় ফিরি।

‘মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরিবারের সদস্যরা আমাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে নগরীর ন্যাশনাল হাসপাতালে আমাকে ভর্তি করা হয়।’

টাকাসহ রিপন নিখোঁজের ঘটনায় সোমবার কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করা হয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ পরদিন মঙ্গলবার হাজির হয় ন্যাশনাল হাসপাতালে। এদিন অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রিপনকে আসামি করে মামলা করেন ক্লিফটন গ্রুপের কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক।

হাসপাতালে গিয়ে পুলিশ রিপনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ সময় তার কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হয়। তারা চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন সুস্থ আছেন রিপন। এতে তাদের সন্দেহ প্রবল হয়।

পরে রিপনের দেয়া বর্ণনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। ফুটেজ বিশ্লেষণে রিপনের দেয়া বর্ণনার সত্যতা না পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়।

পরে আত্মসাৎ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিপনকে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে তুলে রিমান্ড চায় পুলিশ। বিচারক এক দিনের রিমান্ড দেন।

রিমান্ডে টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন রিপন। জানান, ব্যবসার লোকসান পুষিয়ে নিতে নাটক সাজিয়েছিলেন। পরে তার তথ্যে গ্রেপ্তার করা হয় সহযোগী সেলিমকে। তার রেলওয়ে কলোনির বাসা থেকে উদ্ধার হয় ১০ লাখ টাকা, মানিব্যাগ ও মোবাইল ফোন।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

সিলেবাস কমানোর দাবিতে মহাসড়কে বিক্ষোভ

ঢাকার সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করলে সৃষ্টি হয় যানজট। ছবি: নিউজবাংলা

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এসএসসি-২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তেমন পড়াশোনার সুযোগ পাননি। ইতিমধ্যে তাদের সিলেবাসে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব। তাই সিলেবাসে ৭০ পারসেন্ট কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার দাবিতে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ।

সিলেবাস কমানোর দাবিতে ঢাকার সাভারে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে প্রায় আধাঘণ্টা পর তারা সড়ক ছেড়ে দেন।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা।

কর্মসূচিতে আমিন মডেল টাউন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টাঙ্গাইল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আমিন ক্যাডেট একাডেমি, এম এ সালাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, মাতাব্বর মুজিব স্কুলের প্রায় তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী বিক্ষোভে অংশ নেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা জানান, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এসএসসি-২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তেমন পড়াশোনার সুযোগ পাননি। ইতিমধ্যে তাদের সিলেবাসে ৩০ শতাংশ কমানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে এই সিলেবাস শেষ করা অসম্ভব। তাই সিলেবাসে ৭০ পারসেন্ট কমিয়ে ৩০ শতাংশ করার দাবিতে তারা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ।

বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশ বন্ধ করে দেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে থানা ও হাইওয়ে পুলিশ বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে তুলে দিলে প্রায় ৩০ মিনিট পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান নিউজবাংলাকে জানান, শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।

শেয়ার করুন

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে রাবিতে ৭ দিনব্যাপী উৎসব

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বর।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে, জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান। উৎসবের প্রথম দিনের দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ৭ দিনব্যাপী বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে উৎসবের শুরু হবে।

প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করবেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ৩ থেকে ৫ ডিসেম্বর ও ১১ থেকে ১৪ ডিসেম্বর দুই ধাপে এ কর্মসূচী পালিত হবে।

নিউজবাংলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক ড. আজিজুর রহমান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) ফজলে হোসেন বাদশা, রাজশাহী-৩ আসনের এমপি মো. আয়েন উদ্দিন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের মাননীয় সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া ও অধ্যাপক মো. সুলতান-উল-ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মলয় ভৌমিক।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ‘জাতির পিতার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান।

উৎসবের প্রথম দিনে দ্বিতীয় পর্বে বেলা ৩টা থেকে ‘সাবাস বাংলাদেশ’ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ৪ ডিসেম্বর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ সিনেট ভবনে আলোচনা সভা ও পরে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ৫ ডিসেম্বরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

এদিকে ১১ থেকে ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে সাবাস বাংলাদেশ চত্বরে শুরু হবে নাট্যোৎসব ও ১৪ ডিসেম্বর প্রামাণ্যচিত্র ‘বদ্ধভূমিতে একদিন’ প্রদর্শিত হবে।

শেয়ার করুন

মেয়র আব্বাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রোববার

মেয়র আব্বাস কারাগারে, রিমান্ড শুনানি রোববার

রাজশাহীর মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাসেম আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ মেয়র আব্বাস আলীকে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে। বিচারক শংকর কুমার রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল বসানোয় আপত্তি তোলা রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ তাকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে। আগামী রোববার রিমান্ডের শুনানি হবে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস নিউজবাংলাকে জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকায় র‌্যাবের কাছ থেকে আব্বাসকে গ্রহণ করে বোয়ালিয়া থানা পুলিশের একটি দল। রাতেই তারা রাজশাহী এসে পৌঁছান।

সকাল সাতটার দিকে পুলিশ তাকে আদালতে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

রাজশাহীর মহানগর পুলিশের আদালত পরিদর্শক হাসেম আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ মেয়র আব্বাস আলীকে তোলা হয়। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে।

বিচারক শংকর কুমার আগামী রোববার রিমান্ড শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

রাজধানীর হোটেল রাজমনি ইশা খাঁ থেকে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে আটক করে র‍্যাব।

ঘরোয়া একটি আলোচনায় মেয়র আব্বাস বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল স্থাপনের বিরোধিতা করে কথা বলেন। ২২ নভেম্বর সেই আলোচনার অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

২৪ নভেম্বর মেয়র আব্বাসের নামে বোয়ালিয়া থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়। মামলার বাদী হন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ১৩ নম্বর কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন।

এ ছাড়া চন্দ্রিমা থানায় নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন একই ধরনের অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

আপত্তিকর মন্তব্যের সূত্রধরে ২৫ নভেম্বর তাকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ এবং ২৬ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

২৫ নভেম্বর কাটাখালী পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলরের সবাই তার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। এই দাবির একটি আবেদন রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন।

যা বলেছিলেন মেয়র আব্বাস

১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্য শোনা যাচ্ছে, তিনি একজনকে বলছেন, ‘সিটি গেট আমার অংশে। ... ফার্মকে দিয়েছে তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দিবে; ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি, গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছেৃ যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর, সেটা ইসলামি শরিয়ত মতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না (রাখব না), সব করব তবে শেষ মাথাতে যেটাৃ ওটা (ম্যুরাল)।’

মেয়র আব্বাস আলী বলছেন, ‘আমি দেখতে পাচ্ছি, ম্যুরালটা ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে; তো কেন দিব, দিব না। আমি তো কানা না, যেভাবে বুঝাইছে তাতে আমার মনে হয়েছে, ম্যুরালটা হলে আমার ভুল করা হবে।

‘এ খবরটা যদি যায় তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে যে এই ম্যুরাল দিছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়েৃ আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এ জন্য কিছু করার নাই। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না।’

এই বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে গত শুক্রবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে মেয়র আব্বাস বলেন, ‘আমি তো মানুষ। আমি তো ভুল করতেই পারি। তার জন্য ক্ষমা চাই। তারপরও না হলে বহিষ্কার করবেন, আমার নামে মামলা দিবেন যতটুকু ভুল করেছি, তার জন্য, কিন্তু একের পর এক অত্যাচার-জুলুম। আমার অসুস্থ মা তিন-চার দিন না খেয়ে আছে...

‘... আমি কী এত বড় অন্যায় করেছি? অন্যায় করলে তো আইন আছে। এভাবে এত কিছু করা কী ঠিক?... আমাকে বলা হচ্ছে, আমি দলের অনুপ্রবেশকারী। আমি যদি আওয়ামী লীগ ব্যতীত অন্য কোনো দল জীবনে করে থাকি তাহলে সব শাস্তি মাথা পেত নেব... কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করব।’

শেয়ার করুন

২২ বছর পর সুনামগঞ্জের তেরা মিয়া হত্যার রায়

২২ বছর পর সুনামগঞ্জের তেরা মিয়া হত্যার রায়

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট বাদীপক্ষ। প্রতিপক্ষের গুলিতেই তেরা মিয়া মারা যান। আসামিদের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৩১ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।’

সুনামগঞ্জের ছাতকে ২২ বছর পর আলোচিত তেরা মিয়া হত্যা মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন ও ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মহিউদ্দিন মুরাদ রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন ২৭ জন আসামি।

রায়ে ৩১ জনকে খালাস দেয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত ৯ জনের মধ্যে আসামি ফারুক আহমদ ওরফে মধু মিয়াকে ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

এ ছাড়া তাকে ৩০৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। বাকি ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয় আদালত।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা বলেন, 'আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট বাদীপক্ষ।’

তিনি জানান, প্রতিপক্ষের গুলিতেই তেরা মিয়া মারা যান। আসামিদের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং ৩১ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী সালেহ আহমদ বলেন, ‘রায়ে আমরা খুশি নই। আসামিপক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।’

আদালত সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ২২ নভেম্বর সকালে ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নে বলারপীরপুর গ্রামের তেতইখালী খালে সেতু নির্মাণের বিরোধকে কেন্দ্র করে আব্দুল হাই আজাদ মছকু মিয়া ও আরজু মিয়ার লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে আরজু মিয়ার বড় ভাই তেরা মিয়া নিহত হন। আহত তেরা মিয়াকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৩০ জন আহত হন।

এ ঘটনায় নিহতের ভাতিজা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই বছরের ২৪ নভেম্বর ছাতক থানায় ৪৮ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা চলাকালীন ৮ জন আসামি মারা যান। এখনও ১৩ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। ছাতক থানার তৎকালীন ওসি ২০০৪ সালের ২১ এপ্রিল আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলায় ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

শেয়ার করুন

শ্বাসরোধে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

শ্বাসরোধে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স জানান, ২০০৯ সালে মাইদুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলহার গ্রামের খাদিজা বেগমের। পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৭ সালে ঘুমন্ত খাদিজাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান স্বামী।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত।

জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাইদুল ইসলামের বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ প্রিন্স।

তিনি জানান, ২০০৯ সালে মাইদুলের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলহার গ্রামের আবদুল রেজ্জাকের মেয়ে খাদিজার। পরে পারিবারিক কলহের জেরে ২০১১ সালে তাদের বিয়েবিচ্ছেদ হয়।

বিচ্ছেদের দুই বছর পর ২০১৩ সালে তারা নতুন করে সংসার শুরু করেন। এর চার বছরের মাথায় আবারও কলহ দেখা দিলে ২০১৭ সালে ঘুমন্ত খাদিজাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান মাইদুল।

এ ঘটনায় খাদিজার বাবা ১১ জনকে অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ মাইদুলকে গ্রেপ্তার করে।

তদন্তের পর পুলিশ ১০ জনের নাম বাদ দিয়ে একমাত্র মাইদুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয়।

শেয়ার করুন

ডাকাতির মামলায় দুই ‘জলদস্যু’ কারাগারে

ডাকাতির মামলায় দুই ‘জলদস্যু’ কারাগারে

ইলিয়াসকে মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‌্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ইলিয়াস সংঘবদ্ধ জলদস্যু দলের সদস্য বলে স্বীকার করেন। এ ​দলে ১৫ থেকে ১৭ জন সদস্য রয়েছে। তার দায়িত্ব ছিল অপহরণকৃতদের মুক্তিপণের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থা করা। শানু হাওলাদার দলের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।

বরগুনার পাথরঘাটা থানায় করা ডাকাতির মামলায় দুই ‘জলদস্যুকে’ কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

পাথরঘাটার আমলি আদালত বৃহস্পতিবার তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

কারাদণ্ড পাওয়া দুজন হলেন ইলিয়াস হোসেন মৃধা ও শানু হাওলাদার। তাদের মধ্যে ২৮ বছর বয়সী ইলিয়াসের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ইছাদি গ্রামে। ৬৮ বছর বয়সী শানুর বাড়ি পটুয়াখালী সদরের লাউকাঠি এলাকায়।

দুজন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের ট্রলারে ডাকাতি, লুণ্ঠন ও অপহরণে জড়িত বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

বাহিনীটি আরও জানায়, ডাকাতির ঘটনায় গত ২৭ নভেম্বর একটি মামলা হয়। এর ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৩০ নভেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও পটুয়াখালী সদর থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, ইলিয়াস ও শানুকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাতে ইলিয়াসকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এবং শানুকে পটুয়াখালী সদর থেকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব।

এদিকে র‌্যাবের এক প্রেস নোটে দুজনকে গ্রেপ্তার ও পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তরের কথা জানানো হয়।

এতে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, সম্প্রতি পাথরঘাটা, বরগুনা ও পটুয়াখালী সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলেদের ট্রলারে ডাকাতি, লুণ্ঠন ও অপহরণের ঘটনার হোতা ইলিয়াস। তাকে মঙ্গলবার রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে মুক্তিপণের পাঁচ লক্ষাধিক টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ইলিয়াস সংঘবদ্ধ জলদস্যু দলের সদস্য বলে স্বীকার করেন। এ ​দলে ১৫ থেকে ১৭ জন সদস্য রয়েছে। তার দায়িত্ব ছিল অপহরণকৃতদের মুক্তিপণের অর্থ সংগ্রহ ও ব্যবস্থা করা। শানু হাওলাদার দলের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন।

শেয়ার করুন

কংক্রিটের সেতুতে বাঁশ দিয়ে চলাচল

কংক্রিটের সেতুতে বাঁশ দিয়ে চলাচল

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সেতুর ওপর দিয়েই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন স্থানীয়রা। ছবি: নিউজবাংলা

মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুনর্নির্মাণে আমরা পরিদর্শন করেছি। বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’

ভাঙাচোরা আর এবড়োখেবড়ো রাস্তা পেরিয়ে উঠতে হয় সেতুতে। কংক্রিটের তৈরি সেতুর অবস্থা জরাজীর্ণ। এর বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী পয়ে পড়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পারাপারের জন্য সেতুর ওপর বাঁশ বেঁধে দিয়ে গর্ত ভরাট করা হয়েছে।

মাদারীপুরে সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চরগোবিন্দপুর গ্রামের সেতু এটি। প্রায় ১০ বছর ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সেতুর ওপর দিয়েই প্রায় ৫ বছর ধরে গ্রামের শিশু, কিশোর, বৃদ্ধসহ ৮ হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন স্কুল, মাদ্রাসা, বাজার, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকবার সেতুটি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিলেও দুর্ভোগ লাঘবে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে খোয়াজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর গোবিন্দপুর গ্রামের চর গোবিন্দপুর ইউকে উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন খালের ওপর ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিত সেতুতে প্রায় ১০ বছর আগে ফাটল দেখা দেয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে পলেস্তারাও খসে পড়তে শুরু করে।

সরেজমিনে দেখা যায়, এ সেতু নির্মাণের ফলে ইউনিয়নের ফরাজীকান্দি, মাঝেরকান্দি, মাদবরকান্দি, ডিগ্রি খোয়াজপুর, ভসারচরসহ ৭ গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হয়। তবে পলেস্তারা খসে পড়তে পড়তে সেতুর অন্তত ৫টি স্থানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে বর্তমানে সেতুটি মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এর ওপর দিয়েই স্থানীয়রা মাদারীপুর শহর, স্থানীয় হাটবাজার গোবিন্দপুর ইউকে উচ্চ বিদ্যালয়, ৩৬ নম্বর চর গোবিন্দপুর উত্তরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিয়াচান দাখিল মাদ্রাসা, হাবিবা ইসলাম নূরানী মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছেন।

কংক্রিটের সেতুতে বাঁশ দিয়ে চলাচল

এ সময় এলাকার স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বারবার জানানোর পরও সেতুটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। চলাচলে বিকল্প আর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় ৫ বছর ধরে সেতুর গর্তের ওপর বাঁশ বেঁধে দিয়ে কোনো মতে হেঁটে চলাচল করছেন তারা। এ ছাড়া মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নিতে হলেও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় তাদের।

স্থানীয়রা আরও জানান, এভাবে সেতু পার হতে গিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে এ পর্যন্ত ৩ স্কুলশিক্ষার্থীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। সেতুটি পুনর্নির্মাণ করতে ৩ মাস আগে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। মাটি পরীক্ষার কাজ সম্পন্ন হলেও এখনও সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

৩৬ নম্বর চর গোবিন্দপুর উত্তরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘সেতুর ওপর দিয়ে চলাচলের সময় আমাদের অনেক ভয় লাগে। তবে স্কুলে আসতে হলে এভাবেই আসতে হবে, তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করি।’

চর গোবিন্দপুর ইউকে উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র সোবাহান বলেন, ‘এই সেতু দিয়ে স্কুলে আসার সময় গত বছর আমার এক সহপাঠী গর্ত দিয়ে নিচে পড়ে পা ভেঙে গেছে। এখানে আমরা দ্রুত নতুন একটি সেতু চাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা মজিবুর রহমান মীর বলেন, ‘কয়েক বছর ধইরা আমরা ঝুঁকি নিয়া এই সেতু দিয়া হাঁটাচলা করি। হাটবাজারে যাই, শহরে যাই, হাসপাতালে যাই, পোলাপাইন স্কুলে যায়। অনেকবার চেয়ারম্যানকে বলার পরও ব্রিজটা কইরা দেয় নাই। এখন সরকারের কাছে আমাগো একটাই দাবি, এই ব্রিজটি যেন তাড়াতাড়ি কইরা দেয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মুন্সি বলেন, ‘এই সেতু দিয়ে অন্তত ৭ গ্রামের ৮ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। আমরা নিজেরা মিলে ৫ বছর ধরে এভাবে বাঁশ বেঁধে সেতুর ওপর দিয়ে চলাফেরা করলেও দেখার মতো কেউ নেই। আমরা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চাই।’

এ বিষয়ে খোয়াজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মুন্সি বলেন, ‘সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। তিন মাস আগে মাটির পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। যেকোনো সময় অর্থ বরাদ্দ হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করি, শিগগির সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’

মাদারীপুর সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘সেতুটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুনর্নির্মাণে আমরা পরিদর্শন করেছি। বরাদ্দ পেলেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।’

শেয়ার করুন