তারেকের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিএনপি

তারেকের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বিএনপি

চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের ফটকের সামনেই ছিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার’ শিরোনামে একটি ব্যানার। এর সামনে দাঁড়িয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, মা মাটি ডাকছে’ স্লোগান দিতে দেখা যায় নেতা-কর্মীদের।

পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করতে ধারাবাহিক বৈঠকের তৃতীয় দিনে দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া চারটায় এই বৈঠক শুরু হয়। যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন তারেক রহমান।

বৈঠকের আগে বেলা তিনটা থেকেই নেতা-কর্মীরা একে একে আসতে থাকেন। প্রথম দুই দিনের তুলনায় আজ শেষ দিনে গুলশান কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

নেতারা ভেতরে বৈঠকে থাকলেও কার্যালয়ের বাইরেই তিন শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা ধাপে ধাপে কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান।

কার্যালয়ের ফটকের ঠিক সামনেই ছিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার’ শিরোনামে একটি ব্যানার। এর সামনে দাঁড়িয়ে ‘তারেক রহমান আসছে, মা মাটি ডাকছে’ স্লোগান দিতে দেখা যায় নেতা-কর্মীদের।

এদিকে কার্যালয়ের ভেতরে অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠক তখনও চলছিল।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক কর্মকৌশল ঠিক করতে ও নেতাদের মতামত জানতে মঙ্গলবার এই ধারাবাহিক বৈঠক শুরু হয়।

তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত আছেন।

প্রথম দিন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের এবং দ্বিতীয় দিন দলের যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্যদের মতামত জেনেছেন তারেক।

তৃতীয় দিন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, তাঁতী দল, উলামা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতা মিলিয়ে ৯২ জন অংশ নেন।

তাদের মধ্যে যু্বদলের সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোরতাজুল করীম বাদুর, নুরুল ইসলাম নয়ন, মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, গোলাম সারোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ই্য়াসীন আলী, সাদরেজ জামান, রফিকুল ইসলাম, নাজমুল হাসান, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, নেওয়াজ হালিমা আরলী শাম্মী আখতার, জেবা খান, হেলেন জেরিন খান, চৌধুরী নায়াবা ইউসুফ, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের রফিকুল ইসলাম মাহতাব, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন শ্যামল, কাজী রওনুকুল ইসলাম শ্রাবণ, জাকিরুল ইসলাম জাকির, আশরাফুল আলম ফকির লিংকন, হাফিজুর রহমান হাফিজ, মামুন খান, পার্থদেব মণ্ডল, মোস্তাফিজুর রহমান, আমিনুর রহমান আমিন, উলামা দলের শাহ নেসারুল হক, নজরুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ, চেয়ারপারসন কার্যালয়ের এ বি এম আবদুস সাত্তার, রিয়াজ উদ্দিন নসু এবং প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার প্রমুখ রয়েছেন।

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এটি তারেক রহমানের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

আরও পড়ুন:
আরও বৈঠক করবে বিএনপি: ফখরুল
এবার যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সম্পাদকদের মত নিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির নির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক বিকেলে
আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল

শেয়ার করুন

মন্তব্য

এবার টিকা ছাড়া সেবা নয়

এবার টিকা ছাড়া সেবা নয়

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী গণটিকা কার্যক্রম। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস/নিউজবাংলা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘এরই মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়ে গেছে। এরমধ্যে সিঙ্গেল ডোজ প্রায় ৬ কোটির মতো আর ডাবল ডোজও প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি হয়ে গেছে। সব পর্যায়ের মানুষকে টিকা দেয়ার জন্য আমরা একেবারে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত টিকা পৌঁছে দিচ্ছি। এরপরেও দেখা যায় অনেকেই এখনও টিকা নেন নাই।’

দেশের সব মানুষকে করোনা টিকার আওতায় আনতে ‘নো মাস্ক, নো সার্ভিসের’ মতোই এবার ‘নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার।

সচিবালয়ে মঙ্গলবার দেশে ওমিক্রন ঠেকাতে এক আন্ত: মন্ত্রণালয় সভা শেষে এ কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এরই মধ্যে ১০ কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়ে গেছে। এরমধ্যে সিঙ্গেল ডোজ প্রায় ৬ কোটির মতো আর ডাবল ডোজও প্রায় ৪ কোটির কাছাকাছি হয়ে গেছে। সব পর্যায়ের মানুষকে টিকা দেয়ার জন্য আমরা একেবারে কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত টিকা পৌঁছে দিচ্ছি।

‘এরপরেও দেখা যায় অনেকেই এখনও টিকা নেন নাই। টিকা দেয়ায় আগে যে আগ্রহ পেয়েছি সেটা এখন কম। একটা জিনিস আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেটা সকলেই একমত হয়েছেন, সেটা হলো নো মাস্ক, নো সার্ভিস ছিল। এখন আমরা বলতে চাচ্ছি নো ভ্যাকসিন, নো সার্ভিস। এ কথাটা আমরা বলতে চাচ্ছি। এটা আমাদের পরামর্শ থাকলো। এটা করতে পারলে টিকা কার্যক্রমটা আরও বেগবান হবে এবং টিকা নেয়ার জন্য মানুষ হয়তো আরও বেশি আগ্রহ নিয়ে এগিয়ে আসবে।’

আরও পড়ুন:
আরও বৈঠক করবে বিএনপি: ফখরুল
এবার যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সম্পাদকদের মত নিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির নির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক বিকেলে
আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল

শেয়ার করুন

ওমিক্রন: কোয়ারেন্টিনে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার চিন্তা

ওমিক্রন: কোয়ারেন্টিনে সশস্ত্র বাহিনীকে যুক্ত করার চিন্তা

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোয়ারেন্টিনগুলোতে অত্যন্ত শক্ত ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে এর সঙ্গে যুক্ত করার কথা আলোচনা হয়েছে।’

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন রোধে আফ্রিকা মহাদেশের কোনো দেশ থেকে কেউ আসলে তাকে ১৪ দিনের কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই কোয়ারেন্টিনে সশন্ত্রবাহিনীকে যুক্ত করার কথাও আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

কোভিড নিয়ন্ত্রণে আন্তমন্ত্রণালয়ের জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘কোয়ারেন্টিনগুলোতে অত্যন্ত শক্ত ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীকে এর সঙ্গে যুক্ত করার কথা আলোচনা হয়েছে।’

বতসোয়ানায় প্রথম শনাক্ত হওয়া এই ভ্যারিয়েন্টের শুরুতে নাম ছিল ‘বি.১.১.৫২৯’ তবে আলোচনায় সুবিধার জন্য শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর নাম দেয় ‘ওমিক্রন’।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্পাইক প্রোটিনে ৩০ বারের বেশি মিউটেশনের মধ্য দিয়ে সার্স কভ টু ভাইরাসের নতুন ধরনটি তৈরি হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই ধরনটির মিউটেশন হয়েছে ৫০ বারের বেশি।

অত্যন্ত সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়েও ওমিক্রনের মিউটেশন হয়েছে চার গুণ বেশি। ফলে এটি দ্রুত মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

ওমিক্রন ঠেকাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আর দশটা দেশের মতো বাংলাদেশও সতর্ক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অন্য কোনো দেশে সংক্রমণ বাড়লে সেখান থেকে আসাদের জন্যও ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিমের কথা বলা হয়েছে। দেশে আসাদের জন্য ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা পরীক্ষার যে নির্দেশন আছে, সেটা ৪৮ বা ২৪ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার কথাও আমরা চিন্তা করছি।’

আরও পড়ুন:
আরও বৈঠক করবে বিএনপি: ফখরুল
এবার যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সম্পাদকদের মত নিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির নির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক বিকেলে
আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল

শেয়ার করুন

ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেসব শর্তে

ছাত্রদের হাফ ভাড়া যেসব শর্তে

বাসে হাফ পাসের দাবিতে বেশ কিছু দিন ধরে আন্দোলন করে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: নিউজবাংলা

শর্তগুলো হলো- ঢাকার বাইরে হাফ ভাড়া নেয়া হবে না। হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীদেরকে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড দেখাতে হবে। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত কার্যকর এ শর্ত। ছুটির দিন কোনো হাফ পাস নাই।

টানা আন্দোলনের মুখে ছাত্রদের বাস ভাড়া অর্ধেকের দাবি মেনে নিয়েছে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। তবে জুড়ে দিয়েছে কয়েকটি শর্ত।

শিক্ষার্থীদের জন্য বাস ভাড়া অর্ধেক করার বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলামোটরে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন সংগঠনটির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। জানান, হাফ ভাড়া কার্যকরের শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘সবদিক আলাপ-আলোচনা করে আমরা স্থির করেছি, ছাত্রদের যে দাবি, সেই দাবির প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়ে সেই দাবি কার্যকর করার জন্য। আগামীকালকে থেকে, ১ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের বাসে হাফ ভাড়া কার্যকর করা হবে।’

এ সময় কয়েকটি শর্তের কথাও উল্লেখ করেন এনায়েত উল্যাহ। শর্তগুলো হলো:

## ঢাকার বাইরে হাফ ভাড়া নেয়া হবে না।

## হাফ ভাড়া দেয়ার সময় অবশ্যই শিক্ষার্থীদেরকে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড দেখাতে হবে।

## সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া কার্যকর থাকবে।

## সরকারি ছুটির দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌসুমি ছুটিসহ অন্যান্য ছুটির সময় ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না।

এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আগামীকাল ১ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। সকল পরিবহন মালিকদের প্রতি এবং শ্রমিকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, ছাত্ররা যেন হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারে, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করার জন্য।

‘আমরা দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনা করে, বিভিন্ন সভা করে, মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম। দেশবাসীকে আমরা জানাতে চাই। আমরা হাফ ভাড়া কার্যকর ছাত্রদের জন্য করে দিলাম।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পরিবহন মালিক সমিতির এই নেতা বলেন, ‘ছাত্রদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, এরা আমাদেরই সন্তান; কোমলমতি ছাত্ররা আমাদেরই সন্তান। তারা যেন এখন থেকে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ দেয়। তারা যেন স্কুল-ভার্সিটিতে ফেরত যায়। রাস্তায় এইসব আন্দোলন না করে তারা যেন ফেরত যায়, এটা তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে।’

এর আগে হাফ ভাড়া কার্যকরের জন্য সরকারের কাছে প্রণোদনা চেয়েছিল মালিক সমিতি। সেই অবস্থান থেকে পরিবহন মালিকরা সরে এসেছেন কি না, এমন প্রশ্নে এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘আমরা সে দাবি এখনও করতে চাই। কেউ বিশ্বাস করুক আর না করুক ঢাকা শহরের ৮০ ভাগ বাসের মালিক গরিব। অনেক মালিক রয়েছেন যার একটিমাত্র গাড়ি রয়েছে সেই আয় দিয়ে তার সংসার চলে, তার সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চলে।

‘সে টাকা দিয়ে আবার বাসের ঋণ শোধ করে। অনেকে আবার বাসের চালক থেকে মালিক হয়েছেন। এখানে বড় কোনো বিনিয়োগ নেই। এটা দাবিটি সরকার পক্ষ থেকে বিবেচনা করবে বলে আমরা আশা করছি। আমরা পুরোটাই সরকারের ওপর ছেড়ে দিলাম।’

ভাড়া নিয়ে বিতর্কে বাস থেকে যাত্রীদের ফেলে দেয়া হচ্ছে, চালকের বেপরোয়া আচরণে পথচারী মারা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠছে। এসব প্রসঙ্গেও কথা বলেন এনায়েত।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ১ লাখের ওপর বাস রয়েছে সবখানেই বাসগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে রয়েছে, ভাড়াসহ সবকিছুই ঠিক আছে। শুধু ঢাকা শহরেই কিছুটা অনিয়ন্ত্রিত। কিছু অনিয়ম রয়েছে এগুলো নিয়মে আনার জন্য মালিক সমিতির নয়টি টিমসহ বিআরটিএ কাজ করছে। কিছু কিছু গাড়ি এখনও কন্টাকে চলে, ট্রিপ ভিত্তিতে চলে। এর পরিমাণ আগের চেয়ে কমে এসেছে। বাকিগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা কাজ করছি।’

ঢাকা শহরে পরিবহন ব্যবসা লাভজনক নয় উল্লেখ করে এনায়েত বলেন, ‘এই কারণে দিনে দিনে ঢাকায় গণপরিবহনের সংখ্যা কমছে অনেকেই আগে একটা গাড়ি কিনেছিলেন, সেটার কোনো রকমে লোন শোধ করেছেন, তাই এখন সেটা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ঢাকায় রাস্তা অনুপাতে গাড়ির সংখ্যা বেশি, কিন্তু যাত্রী অনুপাত গাড়ির সংখ্যা কম।’

বাসের বিভিন্ন সার্ভিস বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ঢাকা শহরের বিভিন্ন সিটিং সার্ভিস, গেটলক সার্ভিস, ওয়েবিল বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত আমার একার ছিল না, সবগুলো মালিককে নিয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। এটা কার্যকর করা হবে। এসব সার্ভিস অনেকাংশে কমে এসেছে।’

আরও পড়ুন:
আরও বৈঠক করবে বিএনপি: ফখরুল
এবার যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সম্পাদকদের মত নিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির নির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক বিকেলে
আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল

শেয়ার করুন

অবৈধ সম্পদ: পাপিয়া-সুমনের বিচার শুরু

অবৈধ সম্পদ: পাপিয়া-সুমনের বিচার শুরু

শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী। ফাইল ছবি

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে আসামিদের পক্ষে করা মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামি ২২ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেন।

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

এর মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হলো।

সোমবার দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক মোহাম্মদ আলী হোসাইনের আদালতে আসামিদের পক্ষে করা অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামি ২২ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ঠিক করেন।

২০২০ সালের ৪ আগস্ট দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থার উপপরিচালক শাহীন আরা মমতাজ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় পাপিয়ার বিরুদ্ধে মোট ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত বছর ১২ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলের ২৫টি রুমে অবস্থান করে রুম-নাইট, রেস্টুরেন্ট (খাবার), রেস্টুরেন্ট (মদ), স্পা, লন্ড্রি, মিনি বার ফুড, মিনি বার বাবদ মোট তিন কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৭৬১ টাকার বিল ক্যাশে পরিশোধ করেন পাপিয়া।

হোটেলে থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রায় ৪০ লাখ টাকার কেনাকাটা করেন। এসব অর্থের বৈধ উৎস দেখাতে ব্যর্থ হন পাপিয়া। এভাবে মোট ৬ কোটি ২৪ লাখ ১৮ হাজার ৭১৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া যায়।

এ আয়ের উৎসের স্বপক্ষে কোনো দালিলিক প্রমাণ না পাওয়ায় পাপিয়া এবং সুমনের বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলা করা হয়।

চলতি বছরের মার্চ মাসে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন শাহীন আরা মমতাজ। এরপর গত ৬ অক্টোবর ঢাকা মহানগর জেষ্ঠ্য বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিদের উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে বদলির আদেশ দেন।

আরও পড়ুন:
আরও বৈঠক করবে বিএনপি: ফখরুল
এবার যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সম্পাদকদের মত নিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির নির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক বিকেলে
আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল

শেয়ার করুন

ওমিক্রন নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ওমিক্রন নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত জানাবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন ঠেকাতে করণীয় ঠিক করতে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে বসেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেলা সাড়ে ১১টায় এ বৈঠক শুরু হয়।

সভা শেষে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানায় প্রথম করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হয়। খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এ ধরনটি নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ সাউথ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়।

বাংলাদেশও সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার কথা জানায়।

আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন আগের ডেল্টার চেয়ে অধিক সংক্রামক বলে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন। এর বিস্তার রোধে রোববার সামাজিক, রাজনৈতিকসহ সব ধরনের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করতে সরকার ১৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ডিজিজ কন্ট্রোল) প্রফেসর ডা. নাজমুল ইসলামের সই করা এক নোটিশে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়।

তার আগে শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ওমিক্রন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারি সফর বাতিল করে মাঝপথ থেকে ঢাকায় ফেরেন।

আরও পড়ুন:
আরও বৈঠক করবে বিএনপি: ফখরুল
এবার যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সম্পাদকদের মত নিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির নির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক বিকেলে
আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল

শেয়ার করুন

বাসে বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক

বাসে বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক

বাসে অর্ধেক ভাড়ার দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। ফাইল ছবি/নিউজবাংলা

মালিক সমিতি থেকে জানানো হয়েছে, ১ ডিসেম্বর থেকে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। হাফ ভাড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ছবিসহ আইডি কার্ড দেখাতে হবে। তবে ছুটির দিনগুলোতে হাফ ভাড়া কার্যকর করা হবে না।

শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়ার দাবি মেনে নিয়েছে বাস মালিক সমিতি। তবে তারা বলেছে, এ সিদ্ধান্ত কেবল কার্যকর হবে ঢাকা মহানগর এলাকায়।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

বাস মালিক সমিতির এই সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১ ডিসেম্বর থেকে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে। হাফ ভাড়া দেয়ার সময় আইডি কার্ড দেখাতে হবে। ছুটির দিনে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না। হাফ ভাড়া শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ অন্যান্য জেলার জন্য নয়।

আরও বলা হয়, সকাল ৭ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া দিতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। এই সময়ের পর বাসে উঠলে পুরো ভাড়া দিতে হবে।

সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর পরই বাড়ে বাস ভাড়াও। বাসের মালিকরা তুলে দেয়, শিক্ষার্থীদের হাফ পাস।

এরপর থেকেই বাসে হাফ ভাড়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থীর নিহতের পর এ দাবি আরও জোরাল হয়।

এর মধ্যে সোমবার রাতে রাজধানীর রামপুরায় অনাবিল পরিবহনের চাপায় নিহত হন এসএসসি পরীক্ষা দেয়া এক শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় রাতেই আটটি বাসে আগুন এবং চারটি বাস ভাঙচুর করা হয়।

বাসে বুধবার থেকে শিক্ষার্থীদের ভাড়া অর্ধেক

যা বলল মালিক সমিতি

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘গতকালকে (সোমবার) রাত্রের ঘটনায় মাঈনুদ্দিন দুর্জয় নামের আমাদের যে ছাত্রটা মারা গেলেন, দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা গেলেন, তার জন্য আন্তরিকভাবে আমরা দুঃখ প্রকাশ করতেছি।

‘তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করে এবং এই ঘটনায় যারা জড়িত, প্রকৃতি দোষী যারা তাদেরকে তদন্ত সাপেক্ষে যেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়, সেটা আমরা আমাদের সংগঠন থেকে বলতে চাই।’

হাফ বাস ভাড়া কার্যকর নিয়ে তিনি বলেন, ‘আজকে বাস ভাড়ার ছাত্রদের যে দাবি ছিল, অর্ধেক বাস ভাড়া নেয়ার ব্যাপারে দীর্ঘদিন যাবত যে আন্দোলন ছিল, সে আন্দোলনের ব্যাপারে, সে দাবির ব্যাপারে আজকে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সুস্পষ্ট ঘোষণা দেবো। আপনারা জানেন এই বিষয়টি নিয়ে কিন্তু আমরা বসে নাই।

‘ছাত্রদের যে দাবি ছিল, সেটাকে কী করা যায়, সে নিয়ে আমরা দফায় দফায় গত কয়েক দিন যাবত আমরা সভা করেছি। বিআরটিএর সঙ্গেও আমরা দুইটা সভায় মিলিত হয়েছি এবং আমাদের শ্রমিক-মালিকদের নিয়ে আমরা দফায় দফায় সভা করেছি।’

সোমবারের সভা নিয়ে এনায়েত বলেন, ‘সর্বশেষ গতকালকে ২৯ নভেম্বর আমরা ঢাকার ১২০টি পরিবহন কোম্পানির এমডি-চেয়ারম্যান এবং ঢাকাস্থ পাঁচটি শ্রমিক ইউনিয়ন, তাদের প্রেসিডেন্ট-সেক্রেটারি এবং ফেডারেশনের সেক্রেটারিসহ আমরা গতকালকে এ কক্ষে দীর্ঘক্ষণ যাবত আমরা সভা করেছি।

‘সবদিক আলাপ-আলোচনা করে আমরা স্থির করেছি, ছাত্রদের যে দাবি, সেই দাবির প্রতি আমরা সমর্থন জানিয়ে সেই দাবি কার্যকর করার জন্য। আগামীকালকে থেকে, ১ ডিসেম্বর থেকে ছাত্রদের বাসে হাফ ভাড়া কার্যকর করা হবে।’

বাস মালিক সমিতির এই নেতা বলেন, ‘সে জন্য সকল পরিবহন মালিকদের প্রতি এবং শ্রমিকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, ছাত্ররা যেন হাফ ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারে, সে ব্যাপারটি নিশ্চিত করার জন্য।’

হাফ ভাড়ায় শর্ত

সংবাদ সম্মেলনে হাফ ভাড়া কার্যকরের ক্ষেত্রে শর্ত তুলে ধরেন পরিবহন মালিক সমিতির নেতা এনায়েত উল্যাহ।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কয়েকটি ব্যাপার, কিছু কিছু ঘটনা এ বিষয়ে, যেটা মানা প্রয়োজন এবং আমাদের মিটিংয়েও আমরা যেটা নিয়ে আলোচনা করেছি, সেটা হলো হাফ ভাড়া প্রদানের সময় স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সেকেন্ড, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত হাফ ভাড়া কার্যকর থাকবে। তার পরে সরকারি ছুটির দিন, সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌসুমি ছুটিসহ অন্যান্য ছুটির সময় ছাত্রদের হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না।

‘দ্যাট মিনস, ছুটির সময়, যখন স্কুল-কলেজ-ইউনিভার্সিটি ছুটি থাকবে, গর্ভমেন্টে যে ছুটিগুলো থাকবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে ছুটিগুলো থাকে, সাপ্তাহিক শুক্রবার ছুটি থাকে, এই ছুটির দিনে হাফ ভাড়া কার্যকর হবে না এবং এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র ঢাকা শহরের জন্য।’ ‘ঢাকার বাহিরে কোনোভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর নয়। ছাত্রদের হাফ ভাড়ার বিষয়টা ‍শুধু ঢাকার মধ্যে সিদ্ধান্ত’, যোগ করেন এনায়েত।

সংবাদকর্মী প্রতি আহ্বান, শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ

সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন, ‘আমি মনে করি, আজকে হাফ ভাড়ার ব্যাপারে আমরা দীর্ঘদিন আলাপ-আলোচনা করে, বিভিন্ন সভা করে, মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে, শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম, যেটা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে আমরা জানাতে চাই। আমরা হাফ ভাড়া কার্যকর ছাত্রদের জন্য করে দিলাম।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, এরা আমাদেরই সন্তান; কোমলমতি ছাত্ররা আমাদেরই সন্তান। তারা যেন এখন থেকে তাদের পড়ালেখায় মনোযোগ দেয়। তারা যেন স্কুল-ভার্সিটিতে ফেরত যায়। রাস্তায় এইসব আন্দোলন না করে তারা যেন ফেরত যায়, এটা তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে। ধন্যবাদ আপনাদেরকে।’

আরও পড়ুন:
আরও বৈঠক করবে বিএনপি: ফখরুল
এবার যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সম্পাদকদের মত নিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির নির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক বিকেলে
আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল

শেয়ার করুন

১২০০ টাকা দুর্নীতি মামলায় ৪৫ বছর পর নির্দোষ

১২০০ টাকা দুর্নীতি মামলায় ৪৫ বছর পর নির্দোষ

রমজান আলী ছিলেন রংপুর সাব ডিভিশনের কৃষি কর্মকর্তা। ছবি: নিউজবাংলা

রমজান আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুটি টিএ বিলে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে ট্রেজারি কর্মকর্তা। পরে আদালত আমাকে কারাদণ্ড দেয়। আমি তৎকালীন রংপুর হাইকোর্টের যে শাখা ছিল, সেখানে আপিল দায়ের করি, সেখান থেকে জামিন পাই। এরপর দীর্ঘ দিনেও আপিল শুনানি হয়নি। পরে আমার আইনজীবী জানিয়েছিল মামলাটি শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর খোঁজ রাখিনি।’

১২ শ ৯০ টাকার দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ ৪৫ বছর পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রমজান আলী। রংপুরের সাব ডিভিশনের কৃষি কর্মকর্তা থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল।

বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি সোহরাওয়ার্দীর হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ে তাকে শুধু খালাসই দেয়নি, ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছে। গত ২৪ নভেম্বর রায় হলেও তা জানা যায় সোমবার বিকেলে।

আদালতে রমজান আলীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুল হাই সরকার টুকু। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন আসিফ হাসান।

মামলা থেকে জানা যায়, স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ১ হাজার ২৯০ টাকা দুর্নীতির অভিযোগে তৎকালীন রংপুর সাব ডিভিশনের কৃষি কর্মকর্তা রমজান আলীর বিরুদ্ধে ১৯৭৭ সালে একটি মামলা হয়। মামলায় দুটি টিএ বিলের মাধ্যমে ৫১৬ টাকা ৬৮ পয়সা, ৭৭৩ টাকা ৮২ পয়সা দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।

মামলায় তখনকার রাজশাহীর বিশেষ আদালত ১৯৮৮ সালে দুর্নীতি দমন আইনে দোষী ঘোষণা করে রমজানকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেয়। পাশাপাশি ৩০০ টাকা জরিমানা করে।

এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে রমজান আলী তৎকালীন রংপুর হাইকোর্টে আপিল করেন। এরপর দীর্ঘ ৩৩ বছর আপিল বিভাগে মামলাটি শুনানির জন্য আসে। আপিল বিভাগ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন।

রমজান আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুটি টিএ বিলে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে ট্রেজারি কর্মকর্তা। পরে আদালত আমাকে কারাদণ্ড দেয়। আমি তৎকালীন রংপুর হাইকোর্টের যে শাখা ছিল, সেখানে আপিল দায়ের করি, সেখান থেকে জামিন পাই। এরপর দীর্ঘ দিনেও আপিল শুনানি হয়নি। পরে আমার আইনজীবী জানিয়েছিল মামলাটি শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর খোঁজ রাখিনি।’

‘হঠাৎ করে মাস দেড়েক আগে দুর্নীতি দমন কমিশন আমার খোঁজ করে। তারা আমাকে জানায় আদালত জানতে চেয়েছে আমি জীবিত আছি কি না। তখন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি সার্টিফিকেট নিয়ে তারা আদালতে দাখিল করে বলে আমি জীবিত। বিষয়টি জেনে আমিও ঢাকায় লোক পাঠিয়ে উকিল ঠিক করলাম। পরে সেই উকিল আমার পক্ষে শুনানি করেছেন। আদালত রায় দিয়ে আমাকে খালাস দিয়েছেন।’

রমজান আলী আরও বলেন, ‘এ রায়ে আমি খুশি, কিন্তু যে মামলার কারণে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে আমার চাকরি সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা না পেলে একটি ক্ষতিপূরণ মামলা করব।’

সাবেক এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, মামলা হওয়ার পর ১৯৮১ সালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে তিনি সে অবস্থাতেই আছেন।

রমজানের পক্ষের আইনজীবী আব্দুল হাই সরকার টুকু বলেন, ‘এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করা হয়নি। এ ছাড়া, যে দুটি বিল জব্দ করা হয়েছিল তারও কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়নি। আমরা আদালতে বিষয়গুলো তুলে ধরেছি আদালত সব কিছু দেখে তাকে নির্দোষ বলে রায় দিয়েছেন। এ রায়ের ফলে তার অবসরের বয়স না হলে তিনি চাকরি ফেরত পাবেন।’

আরও পড়ুন:
আরও বৈঠক করবে বিএনপি: ফখরুল
এবার যুগ্ম মহাসচিব, সহ-সম্পাদকদের মত নিচ্ছে বিএনপি
বিএনপির নির্বাহী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক বিকেলে
আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল

শেয়ার করুন