চার মাস আগে দাফন, মরদেহ অবিকৃত থাকার দাবি

চার মাস আগে দাফন, মরদেহ অবিকৃত থাকার দাবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি বিভাগের অধ্যাপক হুমায়রা নওসাবা নিউজবাংলাকে বলেন, চার মাস আগে দাফন করা মরদেহে কোনো বিকৃতি ঘটেনি-এমনটি সম্ভব নয়। এই সময়ের মধ্যে মাংসে পচন এবং মরদেহে কোনো না কোনো পরিবর্তন ঘটবেই। তবে তাপমাত্রা অনেক সময়ে মরদেহের পচনে প্রভাব ফেলে।

নদীভাঙনে কবর ধসে যাওয়ায় বেরিয়ে আসে মরদেহের একাংশ। সেটি পরে আবারও দাফন করেন স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। তাদের ভাষ্য, চার মাস আগে ওই নারীকে কবর দেয়া হলেও মরদেহে পচন ধরেনি। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে লাশ দেখতে উৎসুক মানুষ ভিড় করে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে উত্তর ধলডাঙা গ্রামে।

৫০ বছর বয়সী ওই নারীর নাম রেনুকা বেগম। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আমবাজ আলীর স্ত্রী।

শিলখুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ নিউজবাংলাকে বলেন, রেনুকা শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাড়ে চার মাস আগে মারা যান। পরে বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

চলতি মাসে কালজানি নদীর ভাঙনে কবরের একপাশ ধসে গেলে মরদেহের একাংশ বেরিয়ে আসে। এ সময় এলাকার মানুষ অক্ষত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মরদেহটি দেখার জন্য ওই এলাকায় মানুষের ঢল নামে। পরে পরিবারের সদস্য এবং এলাকার লোকজন মরদেহটি ফের দাফন করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এ রকম অলৌকিক ঘটনার কথা লোকমুখে শুনেছি। এই প্রথম নিজে এমন ঘটনার সাক্ষী হলাম। পরিবারের সদস্যদের কাছে শুনেছি, তিনি পরহেজগার ও দানশীল নারী ছিলেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এস এম সায়েম বলেন, ‘এমনটা হওয়া বিজ্ঞানসম্মত নয়। কোনো সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা ছাড়া সাধারণত দাফনের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই প্রাকৃতিক নিয়মেই মরদেহ পচে যাওয়ার কথা।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি বিভাগের অধ্যাপক হুমায়রা নওসাবা নিউজবাংলাকে বলেন, চার মাস আগে দাফন করা মরদেহে কোনো বিকৃতি ঘটেনি- এমনটি সম্ভব নয়। এই সময়ের মধ্যে মাংসে পচন এবং মরদেহে কোনো না কোনো পরিবর্তন ঘটবেই। তবে তাপমাত্রা অনেক সময়ে মরদেহের পচনে প্রভাব ফেলে।

তথ্য আদান-প্রদানের উন্মুক্ত অনলাইন ফোরাম কোরা ডটকমে কিছু কিছু মৃতদেহ দীর্ঘদিন অবিকৃত থাকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। এর মধ্যে নৃবিজ্ঞানী ফ্লয়েড অ্যারানয়েসি বলেন, মাটির অম্লত্ব, শীতলতা, অক্সিজেনের ঘাটতিসহ পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে মরদেহ পচিয়ে দেয়ার ব্যাকটেরিয়ার অভাব ঘটতে পারে। এ কারণে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন পরেও অবিকৃত থাকে মৃতদেহ। এর পেছনে অলৌকিক কারণ নেই।

আরও পড়ুন:
গণশৌচাগারের পাশে ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ
সেতু থেকে বাসের হেলপারের মরদেহ উদ্ধার
পরীবাগে দুই ভবনের ফাঁকে পড়ে ছিলেন স্কলাস্টিকা শিক্ষিকা
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ পুকুরে উদ্ধার
রূপপুর প্রকল্পে রুশ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিস্ফোরণে আহত কিশোর পাথর শ্রমিক

বিস্ফোরণে  আহত কিশোর পাথর শ্রমিক

বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে আহত রনি। ছবি: নিউজবাংলা

হরবলা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থলবন্দরের পাথর কোয়ারিতে ছোট ডিভাইসের মতো কিছু একটা পেয়ে কৌতুহলবশত হাতে নেয় রনি। পরে বন্দরের কাছেই ভাড়ায় নেয়া ঘরে যায় সে। একপর্যায়ে ডিভাইসে লাগানো দুটি ক্যাবল একসঙ্গে লাগানোর চেষ্টা করলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় রনি।  

শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দরে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে এক কিশোর পাথর শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে। পুলিশ বলছে, পাথর ভাঙা বোমার বিস্ফোরণে এ ঘটনা ঘটতে পারে।

১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরের নাম রনি। সে নালিতাবাড়ীর উত্তর কাপাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

রনির নানী পাথর শ্রমিক হরবলা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে স্থলবন্দরের পাথর কোয়ারিতে ছোট ডিভাইসের মতো কিছু একটা পেয়ে কৌতুহলবশত হাতে নেয় সে। পরে বন্দরের কাছেই ভাড়ায় নেয়া ঘরে যায় রনি। একপর্যায়ে ডিভাইসে লাগানো দুটি ক্যাবল একসঙ্গে লাগানোর চেষ্টা করলে সেটি বিস্ফোরিত হয়। এতে গুরুতর আহত হয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় সে।

এমন অবস্থায় হরবলা তাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।

তিনি জানান, পরে রনির পরিস্থিতির অবনতি হলে রাত ৯টার দিকে তাকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রনিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহাম্মেদ বাদল বলেন, ‘আমাদের লোক ঘটনাস্থলে গেছে। এখনও আসেনি। ধারণা করা হচ্ছে, পাথর ভাঙা বোমা দিয়েই এ ঘটনা ঘটতে পারে। এটি পরীক্ষা ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
গণশৌচাগারের পাশে ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ
সেতু থেকে বাসের হেলপারের মরদেহ উদ্ধার
পরীবাগে দুই ভবনের ফাঁকে পড়ে ছিলেন স্কলাস্টিকা শিক্ষিকা
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ পুকুরে উদ্ধার
রূপপুর প্রকল্পে রুশ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

যুবলীগের পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা ঘিরে শহরের বিভিন্ন স্থানে পদপ্রত্যাশীদের ব্যানার, ফেস্টুন-তোরণে ভরে গেছে। ছবি: নিউজবাংলা

জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতাকর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জুড়ে, বিশেষ করে শহরে যে দিকেই তাকানো হোক শুধু ব্যানার-পোস্টার আর ফেস্টুন। সে সঙ্গে জেলার মহাসড়ক থেকে শুরু করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক, তৈরি করা হয়েছে বড় বড় তোরণ।

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হবে। সে সভাকে ঘিরেই এমন সাজ সাজ অবস্থা।

১৭ বছর পর যুবলীগের কমিটি গঠনের যে গুঞ্জন সেটি এই বর্ধিত সভায় আলোচনা হবে। এজন্য সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে শহর ছেয়ে ফেলেছেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাঈম।
জেলা শহর ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রবেশপথ আশুগঞ্জ থেকে শুরু শহরের কাউতলী, টিএ রোড, কালীবাড়ির মোড়, কুমাড়শীল মোড়, কোর্ট রোড, সাব রেজিস্ট্রার অফিসসহ বিভিন্ন সরকারি স্কুল কলেজের ভবনে লাগানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন।

একইভাবে সার্কিট হাউজ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও লাগানো হয়েছে ব্যানার ও তোরণ।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের যুবলীগের নেতাকর্মীদের নামে শুভেচ্ছাবার্তার ফেস্টুন ও তোরণ দেয়া হয়েছে। বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সরব যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর এলাকায় তোরণ লাগিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সভাপতি ভিপি হাসান সারোয়ার। তিনি যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী।

শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর পর বর্ধিত সভা হচ্ছে। তা নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। তাছাড়া কমিটি নিয়েও জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন কেন্দ্রীয় নেতারা। নেতাদের আগমনকে কেন্দ্র করে আশুগঞ্জ থেকে শুরু করে জেলা শহরের প্রধান সড়ক পর্যন্ত ২৬টি তোরণ বসিয়েছি। তাছাড়া শহরজুড়েই টাঙিয়েছি ব্যানার ফেস্টুন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন বছরের জন্য ২০০৪ সালের ২৮ জুন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটি গঠন হয়েছিল। ১৭ বছর পার হলেও নতুন কমিটি হয়নি। এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ৪ বার হয়েছে। তাতে সাবেক ছাত্রলীগের নেতারাও পদহীন আছেন দীর্ঘদিন।

২০০৪ সালে অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম খোকনকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌসকে সাধারণ সম্পাদক করে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট জেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সে কমিটি ঘোষণার প্রায় এক বছর পর ২০০৫ সালের ১৮ জুন কেন্দ্রীয় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম তিন বছর মেয়াদে এই কমিটির অনুমোদন দেন।

তবে সে কমিটি তিন বছরের জন্য অনুমোদন দেয়া হলেও ১২ বছর পার হয়। পরে জেলা যুবলীগের কমিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম খোকন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে চলে যান।

এরপর সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহনুর ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়।
এদিকে যুবলীগের কমিটির অপেক্ষায় বসে ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকর্মীরা। এবার নতুন কমিটিতে তারা পদ পাবেন বলে প্রত্যাশার কথা জানান।

সেজন্য বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে জেলা যুবলীগের সভাপতি পদে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন ১৪ জন প্রার্থী।

নতুন কমিটিতে সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস, সৈয়ত এহতেশামুল বারী তানজিল, হাজী মাহমুদুল হক ভূইয়া,হাসান সারোয়ার, জাহাঙ্গীর আলম, আলী আজম, শাহসুদ আলম , হাবিবুর রহমান পারভেজ, মাসুম বিল্লাহসহ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে বিভিন্ন প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ফেরদৌস বলেন, ‘ নানা কারণের ২০১৪ সালের পর আর সম্মেলন হয়নি। আমরা যেসব কমিটি দিয়েছিলাম সবগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা, আখাউড়া ও আশুগঞ্জ উপজেলায় আহ্বায়ক কমিটি দেয়া হয়েছিল তিন মাসের জন্য। তারও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে।’

তিনি জানান, জেলায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় কমিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।

আরও পড়ুন:
গণশৌচাগারের পাশে ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ
সেতু থেকে বাসের হেলপারের মরদেহ উদ্ধার
পরীবাগে দুই ভবনের ফাঁকে পড়ে ছিলেন স্কলাস্টিকা শিক্ষিকা
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ পুকুরে উদ্ধার
রূপপুর প্রকল্পে রুশ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পেতেন মানবতাবিরোধী অপরাধী

মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পেতেন মানবতাবিরোধী অপরাধী

গ্রেপ্তার তারা মিয়া। ছবি: নিউজবাংলা

বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আঠারবাড়ি এলাকার স্কুলশিক্ষক আব্দুল লতিফকে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তারা মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে ওই শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়। তদন্ত চলার সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে রাজাকার হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক স্কুলশিক্ষককে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। অথচ যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতাসহ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে আসছিলেন।

এমন অভিযোগে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইটাউলিয়া গ্রামের তারা মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা রঞ্জন ঘোষ জানান, গ্রেপ্তার তারা মিয়া প্রতারণার মাধ্যমে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধা সেজে ছিলেন। এতদিন সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আসন গ্রহণ করাসহ মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ে দাপটও খাটিয়েছেন। চোখের সামনে এমন দৃশ্য দেখে অন্য মুক্তিযোদ্ধারা ভেতরে ভেতরে ক্ষুব্ধ হলেও প্রকাশ্যে সবাই নীরব ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আঠারবাড়ি এলাকার স্কুলশিক্ষক আব্দুল লতিফকে প্রকাশ্যে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তারা মিয়ার বিরুদ্ধে। পরে ওই শিক্ষকের পরিবারের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়। তদন্ত চলার সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।’

ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তারা মিয়াকে মঞ্চে বসে থাকতে দেখা যেত। তখন মনে মনে কষ্ট নিয়ে ভেবেছিলাম, আমি জীবনের মায়া ত্যাগ করে যুদ্ধ করেছি, আর সে রাজাকার হয়েও মঞ্চে বসে আছে।’

তিনি বলেন, ‘এতদিন পর হলেও ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে গ্রেপ্তার করায় আমরা খুশি। তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃতুদণ্ড হবে এমনটাই আশা করি।’

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার হাবিবুর রহমান আকন্দ বলেন, ‘১৯৮৪ সালের দিকে তারা মিয়া ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার খাতায় নাম লিখিয়েছেন। তিনি ভাতাসহ সরকারি সকল সুবিধা ভোগ করেছেন। আদালতের রায়ে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ফাঁসি কার্যকর করা প্রয়োজন।’

বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহের ১২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপরই অভিযানে নামে কোতোয়ালি মডেল থানা ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরেক আসামিকে ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তার সাতজন হলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইটাউলিয়া গ্রামের তারা মিয়া ও হাবিবুর রহমান মেনু মিয়া, কালিয়ান গ্রামের রুস্তম আলী, সোহাগী বাজার এলাকার সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান, ফানুর গ্রামের আব্দুল মান্নান, সোহাগী চরপাড়া এলাকার আব্দুল হান্নান এবং পৌরসভার কাকনহাটি এলাকার শহীদুল্লাহ ফকির।

একাত্তরে গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহে এদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গণশৌচাগারের পাশে ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ
সেতু থেকে বাসের হেলপারের মরদেহ উদ্ধার
পরীবাগে দুই ভবনের ফাঁকে পড়ে ছিলেন স্কলাস্টিকা শিক্ষিকা
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ পুকুরে উদ্ধার
রূপপুর প্রকল্পে রুশ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম

পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম

সাভারে পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

যমজ শিশুর চাচা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই অনেকদিন প্রবাসে ছিলেন। ৪-৫ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ঢাকার একটি ওয়ার্কশপে অল্প বেতনে চাকরি করেন। সিনথিয়া ও নাদিয়া নামে তার দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তাদের যমন দুটি সন্তান হয়। কিন্তু তাদের দুজনের পেছনের অংশ জোড়া লাগা।’

ঢাকার সাভারে পশ্চাদ্দেশ জোড়া লাগা যমজ কন্যা শিশুর জন্ম হয়েছে।

চার দিন আগে জন্ম নেয়া নবজাতককে গত বুধবার রাজধানীর শ্যামলীতে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশু দুটি সুস্থ্য থাকলেও তাদের মা কিছুটা অসুস্থ বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার রাতে নিউজবাংলার প্রতিবেদকের কাছে যমজ শিশু চাচা দেলোয়ার হোসেন ভিডিও ও ছবি পাঠান।

গত ১৮ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে সাভারের সুপার মেডিক্যাল হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেড হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে শিশু দুটির জন্ম হয়।

যমজ শিশুটির মা সাথী আক্তারের আগেও ১৫ ও ৮ বছর বয়সী দুটি মেয়ে রয়েছে। বাবা মো. সেলিম রাজধানীর একটি ওয়ার্কশপে চাকরি করেন।

সেলিম পরিবার নিয়ে সাভারের আশুলিয়ায় পলাশবাড়ী বাজার এলাকায় নুরুল ইসলামের ভাড়া বাড়িতে থাকেন।

দেলোয়ার হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার ভাই অনেকদিন প্রবাসে ছিলেন। ৪-৫ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে আসেন। ঢাকার একটি ওয়ার্কশপে অল্প বেতনে চাকরি করেন।

‘সিনথিয়া ও নাদিয়া নামে তার দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এর মধ্যে বুধবার তাদের যমন দুটি সন্তান হয়। কিন্তু তাদের দুজনের পেছনের অংশ জোড়া লাগা।’

যমজ শিশু দুটির বাবা সেলিম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘১৮ তারিখ সাভারের সুপার হাসপাতালে আমার স্ত্রীর দুইটা যমজ বাচ্চা হয়। পরে রাত ১২টার দিকে ঢাকার শ্যামলীতে শিশু হাসপাতালে পাঠায়। শিশু হাতপাতাল থেকে পরে ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়। সেখানেও আইসিইউ নাই জানিয়ে ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরে শিশু হাসপাতালে এনে ভর্তি করি।’

জোড়া লাগানো শিশুকে আলাদা করা যাবে কিনা জানেন না সেলিম। এরই মধ্যে তার অনেক টাকা খরচ হয়েছে জানিয়ে বলেন, ‘সুপার হাসপাতালে ৫০-৬০ হাজার টাকা বিল দিছি। আর শিশু হাসপাতালে এই কয় দিনে আরও ৫০-৬০ হাজার টাকা খরচ হইছে।’

শিশুদের চিকিৎসা নিয়ে শঙ্কিত এই বাবা বলেন, ‘আত্মীয়স্বজনদের কাছে সহযোগিতা নিয়ে এই টাকা পরিশোধ করছি। এখন এই অবস্থা হলে আমার বাচ্চা দুইটার চিকিৎসা করাবো কীভাবে? শেষ পর্যন্ত আমার বাচ্চা দুইটার কপালে কী আছে জানি না।’

আরও পড়ুন:
গণশৌচাগারের পাশে ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ
সেতু থেকে বাসের হেলপারের মরদেহ উদ্ধার
পরীবাগে দুই ভবনের ফাঁকে পড়ে ছিলেন স্কলাস্টিকা শিক্ষিকা
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ পুকুরে উদ্ধার
রূপপুর প্রকল্পে রুশ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

ইউটিউব দেখে কবিরাজি, ফোনে ৪০ নারীর অশ্লীল ভিডিও

ইউটিউব দেখে কবিরাজি, ফোনে ৪০ নারীর অশ্লীল ভিডিও

কবিরাজি চিকিৎসার নামে নারীদের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা অহাদুরকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

র‍্যাব জানায়, কবিরাজ আহাদুর রহমান পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। কবিরাজি করার আগে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করতেন। দুই বছর আগে ইউটিউব দেখে সে কবিরাজিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়।

হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে অপচিকিৎসা ও নারীদের অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজির অভিযোগে কথিত এক কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

গ্রেপ্তার কবিরাজ আহাদুর রহমানের বাড়ি বানিয়াচং উপজেলার কুর্শা খাগাউড়া গ্রামে।

উপজেলার ইমামবাড়ি বাজার থেকে শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা।

এ সময় তার কাছ থেকে একটি কম্পিউটার, মেমোরি কার্ড, দুটি মোবাইল ও অন্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ নাহিদ হাসান শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন।

র‌্যাব জানায়, কবিরাজ আহাদুর রহমান পড়াশোনা করেছেন পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। কবিরাজি করার আগে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বিভিন্ন হোটেল রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করতেন। দুই বছর আগে ইউটিউব দেখে সে কবিরাজিকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়।

স্থানীয় ইমামবাড়ি বাজারে চেম্বার বসিয়ে কুফরী, বান, বেদ, কন্নি, যাদু, চালান, স্বামী-স্ত্রীর অমিল, বিবাহ না হওয়াসহ নানা বিভিন্ন চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা শুরু করেন বলে জানায় র‍্যাব।

একপর্যায়ে তিনি বিভিন্ন চিকিৎসার নামে নারীদের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ভিডিও ধারণ শুরু করেন। পরে সেগুলো ছড়িয়ে দেয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আহাদুর রহমান এ পর্যন্ত ৩০-৪০ জন নারীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় র‍্যাব।

র‌্যাব-৯ হবিগঞ্জ ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জানান, একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের আঁচ পেয়ে তার দুই সহযোগী পালিয়ে যায় বলে জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা জানান, রাতেই তাকে বানিয়াচং থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গণশৌচাগারের পাশে ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ
সেতু থেকে বাসের হেলপারের মরদেহ উদ্ধার
পরীবাগে দুই ভবনের ফাঁকে পড়ে ছিলেন স্কলাস্টিকা শিক্ষিকা
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ পুকুরে উদ্ধার
রূপপুর প্রকল্পে রুশ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

থানায় ঢুকে বিষপান: সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

থানায় ঢুকে বিষপান: সেই ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

থানায় ঢুকে ফেসবুক লাইভে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাসেল ইকবাল। ছবি: নিউজবাংলা

বাঁশখালী থানার ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, ‘রাসেলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষ হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে। রাসেল ইকবাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সাক্ষী-প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনি পুলিশকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার অভিনয় করেন। তবে কাজ হয়নি। এই মামলায় আরও সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্ত চলছে।’

বাবাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানায় ঢুকে ফেসবুকে লাইভ করে বিষপান করা সেই ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার রাসেল ইকবাল চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক। তিনি বাঁশখালীর শীলকূপ ইউনিয়নের মনছুরিয়া বাজার এলাকার সিদ্দিক আহমদের ছেলে।

গত বুধবার বাঁশখালী উপজেলার শীলকূপ ইউনিয়নের মনছুরিয়া বাজার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারিতে দুজন নিহত ও তিনজন আহত হয়। ঘটনার পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে সিদ্দিক আহমদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।

সেদিন বিকেলে গ্রেপ্তার ব্যক্তির ছেলে রাসেল ইকবাল বাবাকে আটকের প্রতিবাদে থানায় ঢুকে ফেসবুকে লাইভে গিয়ে বিষপান করেন। এ ঘটনায় বাঁশখালীতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

বিষপানের পর থেকে চিকিৎসাধীন থাকা রাসেলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তাকে পুলিশ আবদুল খালেক ও সুলতান মাহমুদ টিপু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখায়।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাসেল ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় বলে দাবি করলেও নিহতদের পরিবারের দাবি, রাসেল ও তার লোকজনের হাতেই খুন হয়েছেন আবদুল খালেক ও সুলতান মাহমুদ টিপু।

পুলিশ জানায়, মামলা থেকে বাঁচতেই রাসেল বিষপান ও আত্মহত্যার অভিনয় করেন।

তবে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও প্রমাণ পাওয়ার পরই গ্রেপ্তার করা হেছ বলে দাবি করেছে পুলিশ।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল উদ্দিন বলেন, ‘রাসেলকে শুক্রবার গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষ হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাসেল ইকবাল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সাক্ষী-প্রমাণও পাওয়া গেছে। তিনি পুলিশকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে থানায় ঢুকে আত্মহত্যার অভিনয় করেন। তবে কাজ হয়নি। এই মামলায় আরও সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহ এবং তদন্ত চলছে।’

আরও পড়ুন:
গণশৌচাগারের পাশে ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ
সেতু থেকে বাসের হেলপারের মরদেহ উদ্ধার
পরীবাগে দুই ভবনের ফাঁকে পড়ে ছিলেন স্কলাস্টিকা শিক্ষিকা
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ পুকুরে উদ্ধার
রূপপুর প্রকল্পে রুশ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন

‘চক্রান্তকারীদের বিষদাঁত তুলে ফেলা হবে’

‘চক্রান্তকারীদের বিষদাঁত তুলে ফেলা হবে’

হাজীগঞ্জে হামলার শিকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ অসম্প্রদায়িক রাজনৈতিতে বিশ্বাস করে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিষদাঁত তুলে ফেলা হবে। কোন অবস্থাতে ছাড় দেয়া হবে না।’

দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চক্রান্তকারীদের বিষ দাঁত তুলে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম।

শুক্রবার বিকেল চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হামলার শিকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের খোঁজ-খবর নেন এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।

মেজর রফিক বলেন, ‘হাজীগঞ্জে ১৫০ বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি। হামলাকারীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ নিয়ে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে এখানে অনেক কথা বলা যাচ্ছেনা। আওয়ামী লীগ হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ অসম্প্রদায়িক রাজনৈতিতে বিশ্বাস করে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিষদাঁত তুলে ফেলা হবে। কোন অবস্থাতে ছাড় দেয়া হবে না।’

হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

রফিকুল ইসলাম বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার রামপুর এলাকার চৌধুরী বাড়ি পূজামণ্ডপ, হাজীগঞ্জ বাজার এলাকার লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর আখড়া, পৌর শশ্মানঘাট মন্দির, বিবেকানন্দ বিদ্যাপীঠ মন্দির পরিদর্শন করেন।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র আ স ম মাহবুব উল আলম লিপন, শাহরাস্তি উপজেলা চেয়ারম্যান নাছরিন জাহান শেফালী, শাহরাস্তি পৌর মেয়র আব্দুল লতিফ, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, আওয়ামী লীগ নেতা আহসান হাবীব অরুন, সৈয়দ আহমেদ খসরুসহ অনেকে।

হাজীগঞ্জে পূজামণ্ডপ ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১০টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ দুটি, আটটি মামলা করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ। এসব মামলায় এজাহারভুক্ত সাত জনসহ আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় পাঁচ হাজার জনকে।

এসব মামলায় শুক্রবার পর্যন্ত ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
গণশৌচাগারের পাশে ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দি মরদেহ
সেতু থেকে বাসের হেলপারের মরদেহ উদ্ধার
পরীবাগে দুই ভবনের ফাঁকে পড়ে ছিলেন স্কলাস্টিকা শিক্ষিকা
নিখোঁজ শিশুর মরদেহ পুকুরে উদ্ধার
রূপপুর প্রকল্পে রুশ কর্মীর মরদেহ উদ্ধার

শেয়ার করুন