১১ বছর আগের হত্যায় ৪ জনের ফাঁসি, ৯ জনের যাবজ্জীবন

১১ বছর আগের হত্যায় ৪ জনের ফাঁসি, ৯ জনের যাবজ্জীবন

প্রতীকী ছবি

২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় শিক্ষক ছামাদ আজাদ শরীয়তপুরের পালং থানাধীন সন্তোষপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার লক্ষ্মীর মোড়ে বাবুল মুন্সির ক্রোকারিজের দোকান থেকে বের হন। রাস্তায় আসার সঙ্গে সঙ্গে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে রহিম পেদা, ওয়াজেদ শীল, সেলিম ফকির, ইসাহাক মুন্সী ও বিশ্বজিৎ শীল গুলিবিদ্ধ হন।

১১ বছর আগে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দি সরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস ছামাদ আজাদ হত্যা মামলায় চার আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মো. মনির কামাল বুধবার এ দণ্ডাদেশ দেন।

বিচারক মামলার ৯ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন নুরুজ্জামান খান, জাহাঙ্গীর মাতবর, জুলহাস মাতবর ও চান মিয়া। তাদের ২০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করেছেন বিচারক।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আব্দুল হালিম মোল্লা, আজিজুল মাতবর, ফারুক খান, আজাহার মাতবর, মীজান মীর, আকতার গাজী, জলিল মাতবর, এমদাদ মাতবর ও লাল মিয়া। তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ টাকা অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাস কারাভোগ করতে হবে।

আজিবর বালী, আব্দুল খন্দকার, খোকন বেপারী, আজাহার মোল্লা ও ছোরাব মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছে আদালত।

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শরীয়তপুর সদরের চিকন্দি সরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আব্দুস ছামাদ আজাদ। তিনি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৎকালীন চেয়ারম্যান হালিম মোল্লার কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন। পরবর্তী নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য তিনি এলাকায় পোস্টারিং করে আসছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হালিম মোল্লা হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

ওই অবস্থায় ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি শিক্ষক ছামাদ আজাদ সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের পালং থানাধীন সন্তোষপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার লক্ষ্মীর মোড়ে বাবুল মুন্সির ক্রোকারিজের দোকান থেকে বের হন। রাস্তায় আসার সঙ্গে সঙ্গে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এসে রহিম পেদা, ওয়াজেদ শীল, সেলিম ফকির, ইসাহাক মুন্সী ও বিশ্বজিৎ শীল গুলিবিদ্ধ হন।

ওই ঘটনায় তৎকালীন চেয়ারম্যান হালিম মোল্লা ও সাবেক চেয়ারম্যান আজিবর বালীসহ ৩০ জন এবং অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জনের নামে পালং থানায় একটি মামলা করেন নিহত ছামাদ মাস্টারের স্ত্রী।

মামলাটি তদন্তের পর একই বছরের ১৪ আগস্ট পালং থানার এসআই শহীদুল ইসলাম ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেন। পরে মামলাটি নারাজির ভিত্তিতে অধিকতর তদন্তে যায়।

অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১১ মে একই থানার এসআই সুলতান মাহমুদ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

মামলাটি বিচারের জন্য শরীয়তপুরের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে ২০১৪ সালে যায়। সেখানে ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

পরে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর প্রজ্ঞাপন জারি হয়। ওই বছরের ২১ জুন মামলার নথি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আসার পর একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ১৫ বছর পর গ্রেপ্তার
ভাই-ভাবিসহ ৪ জনকে হত্যায় ছোট ভাইয়ের ফাঁসি
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
নাতি হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘নিউ ইয়র্কের লটে নিউইয়র্ক প্যালেসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি।’

বাংলাদেশের বিস্ময়কর উন্নয়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়শী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের লটে নিউইয়র্ক প্যালেসে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন তিনি।

পরে এক ব্রিফিংয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের এ কথা জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

তিনি বলেন, ‘বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহাসচিব গুতেরেসকে স্বাগত জানান। বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলোকে জাতিসংঘ গুরুত্ব দেয় জানিয়ে মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মত বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো জাতিসংঘেরও অগ্রাধিকার।

এ সময় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের উচ্চপদে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর আরও বেশি সদস্যকে নিযুক্ত করতে গুতেরেসের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গুতেরেস এ আহ্বানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। তিনি এটিকে ন্যায্য মনে করেন ও বাংলাদেশের জন্য আরও কিছু করতে চান।’

গতিশীল অর্থনীতির বাংলাদেশকে জাতিসংঘ ‘রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলেও জানান মোমেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নেদারল্যান্ডের রাণী ম্যাক্সিমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী।

মহাসচিবের পাশাপাশি জাতিসংঘ সদরদপ্তরে নেদারল্যান্ডের রাণী ম্যাক্সিমা, ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুক এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মাদ সহিলের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নেদারল্যান্ডের রাণী ম্যাক্সিমার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে তার সরকার ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা চালু করার চিন্তা ভাবনা করছে।

এ সময় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় জাতিসংঘ মহাসচিব
ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মাদ সহিলের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে ড. মোমেন বলেন, ‘মালে ও চট্টগ্রামের মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চালু করার ব্যাপারে দুই দেশ এক সঙ্গে কাজ করছে।’

ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট নগুয়েন জুয়ান ফুকের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ১৫ বছর পর গ্রেপ্তার
ভাই-ভাবিসহ ৪ জনকে হত্যায় ছোট ভাইয়ের ফাঁসি
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
নাতি হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

শেয়ার করুন

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে আট কর্মকর্তার পদায়ন

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে আট কর্মকর্তার পদায়ন

প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাহেদ মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান, মো. নাজমুল ইসলাম, মো. শরিফুল আলম, আতিকুর রহমান চৌধুরী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আটজন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।

শুক্রবার পুলিশ সদরদপ্তর থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ পদায়ন করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাহেদ মিয়া, মো. মনিরুজ্জামান, মো. নাজমুল ইসলাম, মো. শরিফুল আলম, আতিকুর রহমান চৌধুরী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলামকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টিআর) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

একই দিনে পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেনকে শিল্পাঞ্চল পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ১৫ বছর পর গ্রেপ্তার
ভাই-ভাবিসহ ৪ জনকে হত্যায় ছোট ভাইয়ের ফাঁসি
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
নাতি হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

শেয়ার করুন

মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন ১৪০ পুলিশ সদস্য

মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক পেলেন ১৪০ পুলিশ সদস্য

শান্তিরক্ষায় অসামান্য অবদান ও উঁচুমানের পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পদক দেয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

কমান্ডার (পুলিশ সুপার) বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যরা চলমান কোভিড-১৯ মহামারিতেও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখেছেন।’

মালির রাজধানী বামাকোতে ইউনাইটেড নেশনস মাল্টিডাইমেনশনাল ইন্টিগ্রেটেড স্ট্যাবিলাইজেশন মিশনে (এমআইএনইউএসএমএ) কর্মরত বাংলাদেশ ফর্মড পুলিশ ইউনিটের ১৪০ জন সদস্য জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদকে ভূষিত হয়েছেন।

শান্তিরক্ষায় অসামান্য অবদান ও উঁচুমানের পেশাদারত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের এ পদক দেয়া হয়।

এমআইএনইউএসএমএ এর সদরদপ্তরে ২১ সেপ্টেম্বর পদক দেয়ার সময় প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ কমিশনার জেনারেল বেটিনা পেট্রিসিয়া বুগানি। চিফ অপারেশনস শারফাদিন মার্গিস ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের মিলিটারি, পুলিশ ও সিভিলিয়ান সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কমিশনার জেনারেল বেটিনা পেট্রিসিয়া বুগানি, বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, মিশন ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে ব্যানএফপিইউ-১ এর সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছেন। তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ মেডেল দেয়া হয়েছে।

কমান্ডার (পুলিশ সুপার) বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যরা চলমান কোভিড-১৯ মহামারিতেও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের সম্মান অক্ষুণ্ন রেখেছেন।’

বাংলাদেশ পুলিশের শান্তিরক্ষীদের পদক দেয়ায় তিনি জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কমান্ডার বেলাল উদ্দিন এফপিইউ সদস্যদের মেডেল পরিয়ে দেন।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ১৫ বছর পর গ্রেপ্তার
ভাই-ভাবিসহ ৪ জনকে হত্যায় ছোট ভাইয়ের ফাঁসি
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
নাতি হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

শেয়ার করুন

স্কুলের গাছ, বেঞ্চ বিক্রির টাকা ‘আত্মসাৎ’

স্কুলের গাছ, বেঞ্চ বিক্রির টাকা ‘আত্মসাৎ’

বাজিতপুরের গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ছবি: নিউজবাংলা

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায়ের ব্যাপারটি স্বীকার করে স্কুল পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি আলমগীর বলেন, ‘গত ১ মাস আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। পরে সেগুলো আবার ফেরত দেয়া হয়েছে।’

কিশোরগঞ্জে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছ ও পুরাতন বেঞ্চ বিক্রির টাকা আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুরে ৫৩ নম্বর খাশালা গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত এ অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।

তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন কবির হোসেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, কবির হোসেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকার সময় তৎকালীন স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাবিবুর রহমান বকুলের সঙ্গে যোগসাজশে স্কুল প্রাঙ্গণের ১৭টি গাছ কেটে বিক্রি করেন।

এসব গাছের আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। ওই টাকার হিসাব বিদ্যালয়ের রেজুলেশন খাতায় উল্লেখ না করে তা আত্মসাৎ করা হয়।

আরও বলা হয়, বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হওয়ার পরও তাকে না জানিয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতির সঙ্গে যোগসাজশে কেজি দরে স্কুলের পুরাতন বেঞ্চ বিক্রি করেছেন কবির।

স্থানীয় ভাঙারি ব্যবসায়ী বিচন আলীর কাছে ৪৫ টাকা কেজি দরে বিদ্যালয়ের ৫০০ কেজি বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করেন। সেই হিসেবে দাম পেয়েছেন ২২ হাজার ৫০০ টাকা। এটিও রেজুলেশন খাতায় উল্লেখ করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে শিক্ষক কবিরের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, বিদ্যালয়ের ৫২৫ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৩০ টাকা করে মোট ৬৮ হাজার ২৫০ টাকা তোলেন কবির। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে সেই টাকা ফেরত দেয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার ছেলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। অ্যাসাইনমেন্টের জন্য আমার ছেলেসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৩০ টাকা করে নেয়া হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকার লোকেরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি করলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে টাকা ফেরত দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ।’

স্কুলের গাছ, বেঞ্চ বিক্রির টাকা ‘আত্মসাৎ’
ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য আরিফুল হক মুরাদ নিউজবাংলাকে জানান, নতুন স্কুল পরিচালনা কমিটিতে অভিভাবক সদস্য হয়েছেন তিনি। কিছু দিন আগে স্কুলের রেজুলেশন বই চেক করেন তিনি। তখন দেখতে পান গাছ বিক্রির কোনো তথ্য উল্লেখ নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো সদোত্তর দেননি কবির হোসেন।

বিভিন্ন সভায় এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা উঠলেও গাছ বিক্রির বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা হলেও কোনো প্রতিকার হয়নি।

পিরিজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা নেয়ার বিষয়টি অন্যদের মুখ থেকে শুনেছি। আমার ছেলেও এ স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। তার কাছ থেকে কোনো টাকা নেয়া হয়নি।’

অভিযোগ অস্বীকার করে স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বকুল নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। স্কুলের বাউন্ডারি করা হয়েছে দুই বছর আগে। এর আগে স্কুল প্রাঙ্গণে এতগুলো গাছ ছিল কি না বিষয়টি উনি প্রমাণ করুক, এ ঘটনায় আমিও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।’

স্কুল পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গাছ কেটে বিক্রি করার যে অভিযোগ সেটি আমার সময়ে নয়। তাই এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। তবে আমি সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পরে স্কুলের পুরাতন বেঞ্চ বিক্রি করার যে অভিযোগ সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যিনি অভিযোগটি করেছেন তিনি অন্য কারও প্ররোচনায় এমনটি করেছেন।’

তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্টের নামে টাকা আদায়ের ব্যাপারটি স্বীকার করেছেন তিনি। আলমগীর বলেন, ‘গত ১ মাস আগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল। পরে সেগুলো আবার ফেরত দেয়া হয়েছে।’

বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোরশেদা খাতুন নিউজবাংলাকে জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ১৫ বছর পর গ্রেপ্তার
ভাই-ভাবিসহ ৪ জনকে হত্যায় ছোট ভাইয়ের ফাঁসি
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
নাতি হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

শেয়ার করুন

বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থায় জোর প্রধানমন্ত্রীর

প্রতীকী ছবি

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার জন্য অধিক খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী একটি স্থিতিশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিউ ইয়র্কে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ‘জাতিসংঘ ফুড সিস্টেমস সামিট ২০২১’ শীর্ষক সম্মেলনে অনলাইনে যুক্ত হয়ে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

ওই সময় একটি বৈশ্বিক জোট ও অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে খাদ্যের অপচয় কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত খাবার পাওয়ার অধিকার একটি মৌলিক অধিকার, যা সকল নাগরিকের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সংযুক্ত।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৫০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জনসংখ্যা ১০ বিলিয়ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্য আরও খাদ্য উৎপাদন করা অপরিহার্য।’

শেখ হাসিনা তার পরামর্শে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি উন্নয়নের জন্য গবেষণা, বিনিয়োগ ও উন্নত প্রযুক্তি বিনিময়ের ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই খাদ্যব্যবস্থা অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বর্ধিত তহবিল প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা টেকসই নিরাপত্তা অর্জনে প্রযুক্তি শেয়ারিংসহ জলবায়ুজনিত চরম ঘটনাগুলোর সঙ্গে অভিযোজনের জন্য প্রতিশ্রুত তহবিল ছাড়েরও পরামর্শ দেন।

এ শীর্ষ সম্মেলনে আয়োজনে নেতৃত্ব দেয়ার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহামারি পরবর্তী পুনরুদ্ধার এবং স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থার মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে এই অনুষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি বলেন, ‘২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে আমাদের জাতীয় নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনায় সমন্বিত খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরকে একটি সমন্বিত কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৮, জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নীতি-২০২০ এবং এর কর্মপরিকল্পনা (২০২১-২০৩০) দেশের খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তাকে স্বীকৃতি দেয়।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির হার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে ছাড়িয়ে গেছে। আমরা খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠেছি এবং আমরা দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘনঘন চরম আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ এই গতিবেগকে প্রভাবিত করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বৈশ্বিক নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু-সহিষ্ণু কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার পাশাপাশি আমরা সবার জন্য মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রচেষ্টা জোরদার করেছি।’

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ১৫ বছর পর গ্রেপ্তার
ভাই-ভাবিসহ ৪ জনকে হত্যায় ছোট ভাইয়ের ফাঁসি
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
নাতি হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

শেয়ার করুন

সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ‘ডেলিভারিং দ্য ইউএন কমন এজেন্ডা: অ্যাকশন টু অ্যাচিভ ইকুয়েলিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশকে। এদের মধ্যে আছেন নারী, অতি দরিদ্র, জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং অন্যান্য দুর্বল জনগোষ্ঠী।’

করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষতি কোনো দেশের পক্ষে এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয় জানিয়ে সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়তে সাহসী এবং দৃঢ় পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ‘ডেলিভারিং দ্য ইউএন কমন এজেন্ডা: অ্যাকশন টু অ্যাচিভ ইকুয়েলিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের আলোচনায় ধারণ করা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ার জন্য জাতিসংঘের ঘোষণা বাস্তবায়নে আমাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

এসময় সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরিতে পাঁচটি প্রস্তাব তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

১. এই সময়ের সবচেয়ে জরুরি আহ্বান হলো, ধনী এবং দরিদ্রের মধ্যে ‘ভ্যাকসিন বিভাজন’ দূর করা।

২. আমাদের একটি নতুন দৃষ্টান্ত দরকার, যা সামগ্রিকভাবে বৈষম্যের সমাধান করবে। এর সঙ্গে দারিদ্র্য, ক্ষুধা, লিঙ্গ সমতা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা এসডিজির গভীর সম্পর্কে রয়েছে।

৩. স্বল্পোন্নত ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বিশেষ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৪. অভিবাসী মানুষের ভঙ্গুরতা মোকাবিলা করা অপরিহার্য।

৫. বিকশিত ডিজিটাল যুগে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘ডিজিটাল বিভাজন’ দূর করতে হবে।

সমাজের প্রকৃত ‘চেঞ্জমেকার’ হিসেবে নারী এবং কন্যাশিশুদের ভূমিকা নিশ্চিত করতে তাদের আরও সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে বলেও জানান শেখ হাসিনা।

‘আমাদের অভিন্ন এজেন্ডা’ সম্পর্কিত জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের উদ্বেগজনক চিত্র ফুটে ওঠেছে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি সবচেয়ে দরিদ্র এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে আঘাত করেছে। দারিদ্র্য, বৈষম্য কমাতে আমাদের কয়েক দশকের অর্জন দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান ‘সকল নাগরিকের সুযোগের সমতা’ নিশ্চিত করে।”

প্রধানমন্ত্রী এসময় জাতির পিতার কথা স্মরণ করে বলেন, “১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় আমাদের জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘প্রত্যেকের নিজের এবং তার পরিবারের স্বাস্থ্য এবং কল্যাণে উপযুক্ত জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব রয়েছে।”

বঙ্গবন্ধুর এই উদ্ধৃতি ওই সময়ের তুলনায় বর্তমানে আরও প্রাসঙ্গিক বলে মনে করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই চেতনাকে ধরে রেখে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করতে আমরা একটি সামগ্রিক পন্থা নিয়েছি। একইসঙ্গে কোভিডের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও একটা পন্থা রয়েছে যেখানে, ‘বাদ যাবে না কেউ।”

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রাখা হয়েছে সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশকে। এদের মধ্যে আছেন নারী, অতি দরিদ্র, জাতিগত সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী মানুষ এবং অন্যান্য দুর্বল জনগোষ্ঠী।’

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ১৫ বছর পর গ্রেপ্তার
ভাই-ভাবিসহ ৪ জনকে হত্যায় ছোট ভাইয়ের ফাঁসি
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
নাতি হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

শেয়ার করুন

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পাশে থাকবে জার্মানি

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পাশে থাকবে জার্মানি

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ফাইল ছবি

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে হত্যা, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলে মত দিয়েছে জার্মান সরকার। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দেশটি। সাক্ষাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতে জার্মানির সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান আচিম টোস্টার।

মিয়ানমারে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমিতে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে ঢাকার পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত আচিম টোস্টার।

সচিবালয়ে বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলামের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এ কথা বলেন জার্মান রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকের পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যে হত্যা, নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবিকতার উদাহরণ সৃষ্টি করেছে বলে মত দিয়েছে জার্মান সরকার। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে দেশটি।

‘রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে তারা সবসময় বাংলাদেশ সরকারের পাশে থেকে বিশ্বসম্প্রদায়ের জনমত আদায়ে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত।’

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে পাশে থাকবে জার্মানি

সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত আচিম টোস্টার। ছবি: নিউজবাংলা

এ সময় সায়েদাবাদ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ফেইজ-৩ এ ইউরোপের দেশটির সরকারের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও যেকোন উন্নয়ন প্রকল্প যা মানুষের জন্য কল্যাণকর সেগুলোতে সহযোগিতা কামনা করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতে জার্মানির সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান আচিম টোস্টার।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টে শুরু হওয়া মিয়ানমারের সেনা অভিযানের পরের পাঁচ মাসে প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। অবশ্য এর আগে থেকেই বিভিন্ন সময়ে আরও প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। সেই ১৯৭৮ সাল থেকে শুরু করে সর্বশেষ আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এখন বাংলাদেশে।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি ১৫ বছর পর গ্রেপ্তার
ভাই-ভাবিসহ ৪ জনকে হত্যায় ছোট ভাইয়ের ফাঁসি
স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
ভ্যানচালক হত্যা মামলায় ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড
নাতি হত্যায় মৃত্যুদণ্ড

শেয়ার করুন