বিএনপির বৈঠক

আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ

আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ

মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: নিউজবাংলা

সভায় নেতারা মূলত তিনটি বিষয়কে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, প্রথমত, এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া উচিত হবে না। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে দরকার হলে আবার ২০১৩ সালেরে মতো কঠোর আন্দোলনে যাওয়া উচিত। তৃতীয়ত, আন্দোলন করতে ছাত্রদলকে শক্তিশালী করতে হবে। সেই সঙ্গে বলেছেন, জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখায় দেশের ভেতরে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিএনপিকে বেকায়দায় পড়তে হয়।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের কৌশল নির্ধারণে প্রথম দিনের বৈঠকে বিএনপির শীর্ষ নেতারা আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ভোটে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমানকে। সেই সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক মিটিয়ে ফেলার তাগিদ দিয়েছেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে বিএনপির পক্ষ থেকে চারটি শর্ত উত্থাপন এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংলাপের আহ্বান আসার মধ্যে মঙ্গলবার এই বৈঠক হলো।

বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এই বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মিলিয়ে ৬২ জন অংশ নেন। যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকে শেষ হওয়ার আগেই দলের ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ দুই-তিনজন নেতা বেরিয়ে যান। এর পর বক্তব্য দেন ২৮ জন।

সব মিলিয়ে পাঁচ ঘণ্টা চলে এ বৈঠক। এরপর বৈঠকস্থলের বাইরে অবস্থানরত সাংবাদিকদের নিরাশ করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। এ সময় তিনি সংবাদকর্মীদের প্রশ্ন না করার অনুরোধ করেন।

তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে জানিয়েছেন নিউজবাংলাকে।

তারা জানান, বৈঠকের শুরুতে সূচনা বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে কথা বলেন তারেক রহমান।

এরপর দলের ভাইস চেয়ারম্যান এবং উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন।

সভায় নেতারা মূলত তিনটি বিষয়কে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন।

তারা জোর দিয়ে বলেছেন, প্রথমত, এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়া উচিত হবে না। দ্বিতীয়ত, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায়ে দরকার হলে আবার ২০১৩ সালের মতো কঠোর আন্দোলনে যাওয়া উচিত। তৃতীয়ত, আন্দোলন করতে ছাত্রদলকে শক্তিশালী করতে হবে।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া ভোটে যেতে রাজি হয়নি বিএনপি ও তার জোট। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোট ঠেকাতে সহিংস আন্দোলন করে তারা।

তবে জাতীয় পার্টি ও আরও কয়েকটি ছোট দলকে নিয়ে ভোট করে আওয়ামী লীগ ও তার শরিকরা। আর সেই সরকার ৫ বছর মেয়াদও পূর্ণ করে।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের ভোটে বিএনপি অংশ নেয় আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই আর ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল করে তারা। তবে এই নির্বাচন নিয়ে তাদের ব্যাপক আপত্তি আছে।

প্রায় তিন বছর আগের সেই জাতীয় নির্বাচনের পর বিভিন্ন উপনির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। আর এ জন্য আওয়ামী লীগ ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো ভোটে না যাওয়ার ঘোষণা আছে দলটির।

এই অবস্থায় সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে চারটি শর্ত দেন। এগুলো হলো, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার।

এরপর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বলেছেন, নির্বাচন হবে সংবিধান মেনেই।

বিএনপির নেতারা জানান, তাদের বৈঠকে বেশির ভাগ নেতাই আলোচনায় না গিয়ে আন্দোলনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, বিএনপিকে মাঠে নেমেই ক্ষমতা আদায় করতে হবে। তার জন্য কঠোর আন্দোলনের পক্ষে যুক্তি দেন সবাই।

ছাত্রদলকে শক্তিশালী করা

সভায় উপস্থিত একজন ভাইস চেয়ারম্যান নিউজবাংলাকে বলেন, ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানান। তারা দাবি করেন নতুন কমিটি দিয়ে ছাত্রদলকে শক্তিশালী করার। বলেছেন, মাঠে টিকে থাকতে হলে ছাত্রদলকে শক্তিশালী করতে হবে।

আ.লীগের অধীনে ভোট নয়, জামায়াত ত্যাগের পরামর্শ


আগাম নির্বাচনের ধারণা

একাধিক নেতা তাদের বক্তব্যে বলেছেন, সরকার আগাম নির্বাচন দিতে পারে। এ কারণে বিএনপিকেও সব দিক দিয়ে প্রস্তুত থাকতে হবে।

বৈঠকে উপস্থিত স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যনিবাহী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতা-কর্মীদের নির্বাচনি প্রস্তুতির জন্য যে বক্তব্য রাখেন সেটিকে তুলে ধরে ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে কয়েকজন ও উপদেষ্টা পরিষদের ৩ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। তারা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রস্তুতি নেয়ার ঘোষণায় আগাম নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সকল বিরোধী দলকে অপ্রস্তুত অবস্থায় রেখে আগাম নির্বাচন দিয়ে দিতে পারে। তাই বিএনপিকে আগাম নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই সব পরিকল্পনা করতে হবে।’

জামায়াত নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে আসার তাগিদ

একাধিক নেতা জানান, এই বিষয়টি নিয়েও দলের সুস্পষ্ট অবস্থান ঘোষণার পরামর্শ দেন একাধিক নেতা।

দুইজন ভাইস চেয়াম্যান ও উপদেষ্টা পরিষদের একজন সদস্যের মত হলো, স্বাধীনতাবিরোধী দল জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক রাখা নিয়ে নতুন করে বিবেচনা করা উচিত।

একজন বিএনপি নেতা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সরাসরি জামায়াতকে ছাড়ার প্রসঙ্গটি কেউ বলেননি। তাদের বক্তব্য ছিল, জামায়াত নিয়ে জাতীয়-আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা সামনে রেখে বিএনপিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’

১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোটের সঙ্গে জোট করে বিএনপি। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জোট ছেড়ে দেয়ার পর তার দলে ভাঙন ধরে। এরপর বিএনপি জাতীয় পার্টির একাংশ ও অন্য তিনটি দলকে নিয়ে ভোটে যায়।

সেই নির্বাচনে বিএনপি বাজিমাত করলেও ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এই জোট নিয়ে বিএনপির ভরাডুবি হয়। সেই নির্বাচনের আগে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়ে যায় বিষয়টি। আর বিএনপি শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের খুনি বাহিনী আলবদরের দুই শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের পাঁচ বছরের মন্ত্রিত্ব বিএনপির জন্য ক্ষতির কারণ হিসেবে প্রমাণ হয়।

ভোটে ভরাডুবির পর বিএনপি ১০টি কমিটি গঠন করে। এর মধ্যে ৯টি কমিটিই এমন পরাজয়ের জন্য জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক থাকাকেই দায়ী করে। তারা দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের পরামর্শ দেয়।

গত বছর বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতাও জামায়াত ছাড়ার তাগিদ দেন। একপর্যায়ে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের সিদ্ধান্তও হয়। তবে পরে আবার বিষয়টি ঝুলে যায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন নেতা নিউজবাংলাকে জানান, এই বৈঠকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদসহ তিন নেতা জামায়াত ইস্যুতে বৈঠকে বক্তব্য দিয়েছেন। তারা সরাসরি জামায়াতকে ছেড়ে দিতে বলেননি। তবে আকার ইঙ্গিতে বিএনপি জোটে জামায়াতকে না রাখার মতামত তুলে ধরেন।

বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানান, তারেক রহমান তার সিদ্ধান্ত না জানিয়ে সবার মতামত লিখে রাখার কথা জানান।

জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির কৌশল নির্ধারণে বৈঠক আরও দুই দিন চলবে। এরপর বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য আসবে বলে জানিয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন:
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল
এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন: বিএনপিকে কাদের
জাতীয় নির্বাচনে যেতে বিএনপির চার শর্ত
মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে, নিশ্চয়তা পেয়েছেন ফখরুল
নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

কোন্দল সমাধান করুন, নেতাদের কাদের

আওয়ামী লীগের নেতারা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফাইল ছবি

মতভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরে কলহ-কোন্দল থাকলে নিজেরা বসে সমাধান করুন। কিন্তু নিজের ঘরের কথা, চা দোকানে বসে বসে যদি দলের গীবত করেন, অপপ্রচার করেন, এক নেতা আরেক নেতার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন এতে দলের সুনাম নষ্ট হবে।’

আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে কলহ-কোন্দল থাকলে তা নিরসনে দলীয় নেতাদের আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার সরকারি বাসভবন থেকে শুক্রবার আওয়ামী লীগের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

মতভেদ ভুলে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘দলের অভ্যন্তরে কলহ-কোন্দল থাকলে নিজেরা বসে সমাধান করুন। কিন্তু নিজের ঘরের কথা, চা দোকানে বসে বসে যদি দলের গীবত করেন, অপপ্রচার করেন, এক নেতা আরেক নেতার বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন এতে দলের সুনাম নষ্ট হবে।’

আওয়ামী লীগের প্রতিটি পর্যায়ের কাউন্সিলে ত্যাগী ও দুঃসময়ের কর্মীদের নেতৃত্বে আনতে নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, দল বিপদে পড়লে ‘বসন্তের কোকিলরা’ পাশে থাকবে না, থাকবে দুঃসময়ের কর্মীরা। তাই তাদেরকেই সামনে দেখতে চান কাদের।

অপকর্ম, লুটপাটের সঙ্গে জড়িত জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে সেই জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের মনোনয়ন পাবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে আমি অনুরোধ করব, দল প্রধানের নির্দেশনা মেনে চলতে। মনে রাখতে হবে নিজের অবস্থান ভারী করার জন্য নিজের লোক দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করা যাবে না। দলকে শক্তিশালী করতে হলে ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের এগিয়ে আনতে হবে। দুঃসময়ে তারাই দলের পাশে থাকে।’

সুসময়ে বন্ধুরা প্রকৃত বন্ধু নয় জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দুঃসময়ের কর্মীরাই দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। আবার যখন দুঃসময় আসবে এই ত্যাগী কর্মীরাই দলের সঙ্গে থাকবে। এখন যারা বসন্তের কোকিল এরা তখন দলে থাকবে না। হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও তাদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

দলকে সুসংগঠিত করতে হবে জানিয়ে কাদের বলেন, ‘চিহ্নিত অপরাধী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলদার, মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি, অনুপ্রবেশকারী, বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে টানা যাবে না।’

নিজের পছন্দের লোকদের নেতা বানানো যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘জনগণের পছন্দের ব্যক্তিকে নেতা বানাতে হবে। তা না হলে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। যে নেতা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়, আমাদের কিছু নেতার কাছে গ্রহণযোগ্য, তারা কোনোদিনও দলের পারপাস সার্ভ করতে পারবে না।’

জনপ্রতিনিধিদেরও সতর্ক করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই নেতা। তিনি বলেন, ‘যেসব জনপ্রতিনিধিরা অপকর্ম করছেন, লুটপাট করছেন, বেপরোয়া আচরণ করছেন, আগামী নির্বাচনে সেই জনপ্রতিনিধিরা আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের নমিনেশন পাবেন না।’

এসময় বিএনপির রাজনীতির সমালোচনা করেন এই রাজনীতিক। বলেন, শেখ হাসিনার লক্ষ্য এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন আর বিএনপির লক্ষ্য নিজেদের পকেটের উন্নয়ন।

বিএনপির হাতে দেশের গণতন্ত্র নিরাপদ নয় মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তারা দেশের জন্য রাজনীতি করে না, তারা রাজনীতি করে লুটপাটের জন্য।’

যারা নিজেদের নেত্রীর জন্য একটা কার্যকরী মিছিল করতে পারে না, তাদের মুখে আন্দোলনের কথা মানায় না বলেও মন্তব্য করতে ছাড়েননি কাদের। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিরিজ বৈঠক হচ্ছে সিরিজ ষড়যন্ত্রের অংশ।’

জনগণ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে বলেই তারা নির্বাচনকে ভয় পায় বলে মনে করেন কাদের। বলেন, ‘তাই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

আরও পড়ুন:
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল
এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন: বিএনপিকে কাদের
জাতীয় নির্বাচনে যেতে বিএনপির চার শর্ত
মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে, নিশ্চয়তা পেয়েছেন ফখরুল
নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব

শেয়ার করুন

দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ

দল গুছিয়ে মাঠ দখলে রাখবে আওয়ামী লীগ

বাসে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ মিছিল। ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির বৈঠক ও আন্দোলনকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। তবে একটি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চায় তারা। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, নিজ দল শক্তিশালী হলে বিএনপি আন্দোলন করে বেশি দূর যেতে পারবে না।

বিএনপির আন্দোলনের পরিকল্পনাকে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। তবে আগামী নির্বাচনের আগে দল পুনর্গঠনের কাজ আরও বাড়িয়ে রাজনীতির মাঠ দখলে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন দল।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, রাজনীতির মাঠ দখলে থাকলে বিএনপির আন্দোলন মোকাবিলা করা কঠিন কোনো বিষয় হবে না। তবে জনগণের সম্পদের ওপর কোনো হামলা এলে দল হিসেবে আওয়ামী লীগও পাল্টা জবাব দেবে। আর বিএনপি গুজব ছড়ালে তা প্রতিরোধ করা হবে বলে বলছেন দলটির নেতারা।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে তৃণমূল থেকে দল গোছানোর কাজে আরও মনোযোগ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির বৈঠক ও আন্দোলনকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না দলটি। তবে একটি সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে চায় তারা। আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন, নিজ দল শক্তিশালী হলে বিএনপি আন্দোলন করে বেশি দূর যেতে পারবে না।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দলের তরুণ নেতাদের নেতৃত্বে আনতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া দলের যারা ত্যাগী নেতা, তাদের নেতৃত্বে আনতে চায় দলটি।

এরই মধ্যে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের সম্ভাব্য আন্দোলন মোকাবিলায় দলকে প্রস্তুত করতে তৃণমূল গোছাতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাজে নেমে পড়েছেন। আট বিভাগের জন্য আটটি সাংগঠনিক দল আরও সক্রিয় হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনে গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় ১ লাখ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছে দলটি। ইস্যু তৈরি করে জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো অপশক্তি আন্দোলনের চেষ্টা করলে রাজপথেই তার জাবাব দিতেও প্রস্তুত আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপি তো সব সময়ই আন্দোলনের কথা বলে, মুখে মুখে আন্দোলনের কথা বলে আর মিথ্যার আশ্রয় নেয়। কিন্তু তারা এখনও আন্দোলন করতে পারেনি।’

তাহলে বিএনপির আন্দোলনে আওয়ামী লীগ কী করবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন নিয়ে আমরা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন তৎপর আছি। আমরা মূলত জনগণকে সচেতন করব।

‘আমরা মূলত তিনটা কাজ করব। সেগুলো হলো: বিএনপি যদি জ্বালাও-পোড়াও করে, তাহলে দলের নেতা-কর্মীরা তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তুলে দেবে। আর গুজব রটালে তাদের বিষয়ে আমরা জনগণকে সচেতন করব। তাদের মিথ্যা কোনো তথ্যের বিষয়ে আমাদের নেতা-কর্মীরা সচেতন থাকবে। তৃতীয়ত, তাদের যেকোনো অসত্য বক্তব্যের বিষয় জনগণ যাতে বিভ্রান্ত না হয়, সে বিষয়ে আমরা অবশ্যই কাউন্টার দেব।’

বিএনপির নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপির কাছে পৃথিবীর সকল নির্বাচন নিরপেক্ষ, যদি তারা যেত। বিএনপি নেত্রী ১৯৯৬ সালে বলেছিলেন, শিশু আর পাগল ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়। আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই যে কনসেপ্ট, এটা ধ্বংস করেছে বিএনপি। সুতরাং এ ইস্যুতে রাজনীতির মাঠ গরম হতে দেয়া হবে না।’

গত শনিবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে দেশে বিএনপির কথিত আন্দোলনের অবজেক্টিভ কোনো অবস্থা নেই। করোনাভাইরাসের অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের মানুষ এখন নিজের অবস্থান উন্নয়নে প্রাণান্ত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এ সময় গণ-অভ্যুত্থানের দিবাস্বপ্নে বিভোর বিএনপি। দলটি ভাবছে, আন্দোলনের ডাক দিলেই মানুষ হুড়মুড় করে বেরিয়ে আসবে। প্রকৃতপক্ষে এসব তাদের আকাশ-কুসুম ভাবনা। বিএনপি নেতারা যা বলছেন, নিজেরাও সেটি বিশ্বাস করেন না।’

বিএনপির আন্দোলনকে ‘হাঁকডাক’ হিসেবে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমও। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে তো মোকাবিলা করার দরকার নেই। তারা তো সব সময় হাঁকডাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, যাদের ওপর জনগণের আস্থা নেই। তারা কীভাবে আন্দোলন করবে? তারা ওয়েবিনার আর ভার্চুয়ালি সীমাবদ্ধ থাকবে? আমরা তাদের নিয়ে এত ভাবছি না। আমরা ভাবছি, কীভাবে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করা যায়, কীভাবে তৃণমূলে দলকে আরও জনপ্রিয় করা যায়। এ জন্যই আমরা কাজ করছি।’

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি তো শুক্রবার-শনিবার প্রতিদিনই আন্দোলন করছে। তারপরও যদি তারা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করবে। আর জনগণের ওপর আঘাত আসলে তো আমরা বসে থাকব না।’

আগামী দিনে দলের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে যে বিষয়গুলো নিয়ে নেত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, তা নিয়েই আমরা কাজ করে যাব। এ বিষয়গুলো নিয়ে গত শনিবার (১৪ই সেপ্টেম্বর) দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে।

‘করোনার কারণে দলীয় কার্যক্রমে যে ভাটা পড়েছিল, তা এখন আমাদের পূরণ করতে হবে। এ ছাড়া উপজেলা ও জেলা কমিটিগুলোতে যারা বিতর্কিত, তাদের বাদ দিতে আমরা কাজ শুরু করেছি। দলের মধ্য থেকে যারা দুর্নীতিমূলক কাজ করছে, তাদের বাদ নিয়ে স্বচ্ছ ব্যক্তিত্বের মানুষগুলোকে আমরা সামনে নিয়ে আসতে চাই। দলের যারা অপেক্ষাকৃত তরুণ, তাদের নেতৃত্বের সুযোগ করে দেয়া হবে।’

আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে যাতে গুজব প্রতিরোধ করা যায়, সে বিষয়ে দলকে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। দেশে ও বিদেশে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটা প্রতিরোধে দল কাজ করছে। এর বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীদের তথ্যপ্রমাণসহ জবাব দিতে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব-অপপ্রচারের জবাব দিতে এক লাখ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টের সমন্বয়ে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ করছে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপকমিটি।’

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী তত বেশি গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা করবে। এটা সঠিক। কিন্তু সেটা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। আমরা আমাদের নেতা-কর্মীদের তৈরি করছি, যাতে কোনো তথ্য সন্ত্রাস হলে তারা তৈরি থাকতে পারে। সেই সঙ্গে দলের নেতা-কর্মীরা যাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে।’

গুজব প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপকমিটি কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসলে এটা আমাদের কাজেরই একটা অংশ। আমরা দলীয় নেতা-কর্মীদের শেখাচ্ছি যে, কোনো ফেক নিউজ হলে নেতা-কর্মীরা কীভাবে দ্রুত সে বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজ করবে, যাতে দলের নেতা-কর্মীরা সর্বশেষ আপডেট দিতে পারেন।’

আরও পড়ুন:
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল
এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন: বিএনপিকে কাদের
জাতীয় নির্বাচনে যেতে বিএনপির চার শর্ত
মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে, নিশ্চয়তা পেয়েছেন ফখরুল
নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব

শেয়ার করুন

লাশ থাকুক আর না থাকুক, চন্দ্রিমায় কবর নয়: মন্ত্রী

লাশ থাকুক আর না থাকুক, চন্দ্রিমায় কবর নয়: মন্ত্রী

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের সমাধি। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘চদ্রিমা উদ্যানে লাশ থাকুক আর না থাকুক কারও কবর এখানে থাকতে পারবে না।… বঙ্গবন্ধুর খুনি, স্বাধীনতাবিরোধীদের কবর মহান জাতীয় সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না।’

চন্দ্রিমা উদ্যানে কোনো কবর থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটি আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এমন কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘চন্দ্রিমা উদ্যানে লাশ থাকুক আর না থাকুক কারও কবর এখানে থাকতে পারবে না।… বঙ্গবন্ধুর খুনি, স্বাধীনতাবিরোধীদের কবর মহান জাতীয় সংসদ চত্বরে থাকতে পারে না।’

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে তার মরদেহ নেই বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখার পর এই বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা পরস্পরকে আক্রমণ করে বক্তব্য রাখছেন।

এর মধ্যে সরকারের পুরনো একটি পরিকল্পনা সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদ ভবন প্রখ্যাত স্থপতি লুই আই কানের নকশায় ফেরানো।

এই নকশায় কোনো সমাধিস্থল ছিল না। আর এটি করতে হলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও সরাতে হবে।

জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থল ছাড়াও স্বাধীনতাবিরোধী নেতা খান এ সবুর এবং আরও একজন অজানা মানুষের কবর রয়েছে। এগুলো সরানোর দাবিও আছে।

মেয়র কথা বলছিলেন ‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা: সমস্যা ও প্রতিকার’ বিষয়ে।

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। বাংলার মানুষ মুক্তি পেয়েছে। তার কবর থাকবে টুঙ্গিপাড়ায় আর পাকিস্তানিদের দোসর যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, ৩০ লাখ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা ও দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে, তাদের কবর জাতীয় সংসদসহ গৌরবোজ্জ্বল জায়গায় থাকতে পারে না। এগুলো আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করে।’

জিয়াউর রহমানকে জাতির পিতার খুনি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এ কথা ধ্রুব সত্য। তাকে খুনি প্রমাণ করার জন্য সকল ধরনের দলিলাদি রয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব নিশ্চিত করার কথা ছিল জিয়াউর রহমানের। কিন্তু তিনি তা না করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সব ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করে পরিকল্পিতভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও স্বাধীনতার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য তখনই বাস্তবায়ন করতে পারব যখন এসব কুলাঙ্গারদের কবর জাতীয় মর্যাদাপূর্ণ স্থান থেকে অপসারণ করতে পারব।’

জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা অবান্তর বলে উল্লেখ করেন তাজুল ইসলাম। বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার অধিকার বাঙালি জাতি একমাত্র বঙ্গবন্ধুকেই দিয়েছে। আর কেউ স্বাধীনতার ঘোষক হতে পারে না, সুযোগও নেই। মুখে ঘোষণা করলেই স্বাধীনতার ঘোষক হওয়া যায় না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ওয়াসার যদি কোন রকম অব্যবস্থাপনা থাকে, যদি সেখানে কোনো দুর্নীতি থাকে, তাহলে এটা আমরা চিহ্নিত করব। তাদের দুর্নীতির তথ্য থাকলে দেন, হাইপোথেটিক্যাল তথ্য দিয়ে তো লাভ হবে না।’

ঢাকাকে দৃষ্টিনন্দন শহরে রূপান্তর করতে নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, শহরের প্রত্যেকটি খালের অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে। খালের দুই পাড়ে বাঁধ দিয়ে ওয়াকওয়ে তৈরি করা হবে। একই সঙ্গে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা খালগুলো শিগগির সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপ-কমিটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হোসেন মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উত্তর সিটি করপোরেশনের আতিকুল ইসলাম।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর সবুর। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক মফিজুর রহমান।

আরও পড়ুন:
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল
এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন: বিএনপিকে কাদের
জাতীয় নির্বাচনে যেতে বিএনপির চার শর্ত
মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে, নিশ্চয়তা পেয়েছেন ফখরুল
নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব

শেয়ার করুন

বাদী, বিবাদীই তো মিলাইতে পারতেছি না: মেয়র জাহাঙ্গীর

বাদী, বিবাদীই তো মিলাইতে পারতেছি না: মেয়র জাহাঙ্গীর

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

এখন মামলার ব্যবস্থা নিতাছি, এখন বাদী, বিবাদী কে এটাই তো মিলাইতে পারতেছি না। কে এটা করছে? আমি তো ছিলাম দেশের বাইরে। আসছি কালকে। আর আমাদের যারা আছে তারা সবাই এটা নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাইব, বলব কারা এটা করেছে, বাইর কইরা দিতে।

গাজীপুরে একটি ঘরোয়া আয়োজনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তুমুল সমালোচনার মুখে পড়া মেয়র জাহাঙ্গীর আলম একে বানোয়াট ও দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে চাপ কমাতে চাইছেন।

তবে মেয়র নিউজবাংলাকে বলেছেন, মামলা কার বিরুদ্ধে করবেন, সেটি তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না।

এই ঘটনাটি নিয়ে তিন দিন ধরে উত্তপ্ত গাজীপুর। নিজ দলের একাংশ জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে রাজপথে সোচ্চার।

বিরোধীরা যখন শক্তি প্রদর্শন করছে, সে সময় জাহাঙ্গীর ছিলেন ভারতে। দেশে ফিরে তিনি নিজেও দিলেন সমাবেশের ডাক। তাও দুই পক্ষের অবস্থান পাশাপাশি। সংঘর্ষের আশঙ্কায় মোতায়েন হয় পুলিশ, অবস্থান নেয় জলকামানও।

তবে শুক্রবার দুই পক্ষের পাশাপাশি এই সমাবেশ ডাকাকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের বোর্ডবাজারে তেমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হলেও বিরোধী এক নেতাকে পুলিশ সরিয়ে নেয়ার পর তার অনুসারীরাও ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় সব আয়োজন।

বাদী, বিবাদীই তো মিলাইতে পারতেছি না: মেয়র জাহাঙ্গীর
মেয়র জাহাঙ্গীরের অনুসারীদের ডাকা সমাবেশ

সমাবেশের আগে মেয়র কথা বলেছেন নিউজবাংলার সঙ্গে। তবে সামনাসামনি নয়, ফোনে।

যা বলেছেন মেয়র জাহাঙ্গীর

নিউজবাংলা: আমরা যে কনভার্সেশন অনলাইনে পাচ্ছি, সেখানে বোঝা যাচ্ছে দুইজন লোক কথা বলছেন। একজন আপনার কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে। আরেকজন সম্ভবত আপনারই কেউ ঘনিষ্ঠ। আপনি কি চিহ্নিত করেছেন কে এটা করেছে?

এটা আমার যেটা আমি শুনতেছি এটা আমার কণ্ঠ না, বুঝছেন?

নিউজবাংলা: আসলে কীভাবে ফাঁস হলো বলে আপনার ধারণা?

এইগুলা তো দেখা যায় সব বানাইছে বুঝছেন? নিউজটা বানাইছে। আমরা অনেক সময় মাইকে বলি না, ৩০ লক্ষ লোক শহীদ হইছে।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যখন দেশ স্বাধীন হইল, তখন কিন্তু বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে।

জামায়াত এবং যারা ওই সময় ছিল রাজাকার, আলবদররা ৩০ লক্ষ লোকরে শহীদ করছে। এই ৩০ লক্ষ টার ‘র’ টারে বাদ দিছে। বুঝছেন?

নিউজবাংলা: জি জি।

এরা দিয়া দিয়া দিছে বঙ্গবন্ধু মারাইছে। এটা লেখছে।

নিউজবাংলা: আচ্ছা

এডিট করে দিছে।

নিউজবাংলা: আপনি বলছেন, একটা পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে ভিডিওটি ছড়িয়েছে এবং আপনি যখন দেশের বাইরে সে সময়টা হচ্ছে গিয়ে এইটা ঘটানো হয়েছে। আপনি মামুন সাহেবকে (৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুন মণ্ডল) উদ্দেশ করে করে আলোচনা করছিলেন। আপনার সঙ্গে যিনি কথা বলছিলেন, তিনি বারবার বলছিলেন মামুনকে নিয়ে কথা বলার জন্য। এটা কি মামুনসংশ্লিষ্টদের কাজ বলে মনে হয়?

মূলত যারা যারা, আসলে নাম নিতে পারতেছি না, যারা বিপজ্জনক পরিস্থিতি করতে চায়, গত…

নিউজবাংলা: বুঝতে পারছি। এখন আপনি এটার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেবেন?

এখন মামলার ব্যবস্থা নিতাছি, এখন বাদী, বিবাদী কে এটাই তো মিলাইতে পারতেছি না। কে এটা করছে? আমি তো ছিলাম দেশের বাইরে। আসছি কালকে। আর আমাদের যারা আছে তারা সবাই এটা নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাইব, বলব কারা এটা করেছে, বাইর কইরা দিতে।

নিউজবাংলা: আপনি বোর্ডবাজারে একটি কর্মসূচি ডেকেছেন। আপনার যে প্রতিপক্ষ, তারাও কর্মসূচি ডেকেছে। এতে কি কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে আপনার মনে হয়?

না, সাংঘর্ষিক অবস্থা তো আমাদের কর্মসূচি না। এখানে নেত্রী যেটা অ্যাওয়ার্ড পাইছে, সেটা আমাদের জন্য বড় একটা অর্জন।

নিউজবাংলা: এটা দেশের জন্য একটা সম্মান।

যারা সাংঘর্ষিক কিছু করবে তারা নেত্রীর ভালো চায় না, দেশের ভালো চায় না বা আওয়ামী লীগের ভালো চায় না।

আরও পড়ুন:
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল
এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন: বিএনপিকে কাদের
জাতীয় নির্বাচনে যেতে বিএনপির চার শর্ত
মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে, নিশ্চয়তা পেয়েছেন ফখরুল
নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব

শেয়ার করুন

বিরোধীরা হটল, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ‘দখলে’ বোর্ডবাজার

বিরোধীরা হটল, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ‘দখলে’ বোর্ডবাজার

গাজীপুরের বোর্ডবাজারে সমাবেশে যাওয়ার সময় মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। ছবি: নিউজবাংলা

টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বোর্ডবাজার বড় মসজিদের সামনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয় মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে। পাশেই বেলা সাড়ে তিনটায় বোর্ড বাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করে মেয়র অনুসারীরা। এই আয়োজন ঠিকঠাকমতো হলেও বিক্ষোভের আয়োজনে এক নেতাকে পুলিশ সরিয়ে নেয়ার পর তার অনুসারীরা সড়ক থেকে চলে যান।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ ওঠার পর গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তির দাবিতে সমাবেশস্থল থেকে হটে যেতে বাধ্য হয়েছেন আওয়ামী লীগের একাংশের নেতা-কর্মীরা।

যেখানে এই সমাবেশ ডাকা হয়েছিল, তার অদূরে সমাবেশ করেছে মেয়র অনুসারীরা। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের সম্মাননা অর্জন করায় এই আনন্দ সমাবেশ ডাকেন মেয়র অনুসারীরা।

চার দিন আগে মেয়র ভারত সফরে যাওয়ার পর একটি ঘরোয়া আয়োজনে তার কথা বলার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ ওঠার পর বুধবার থেকে আওয়ামী লীগের একটি অংশ গাজীপুরে বিক্ষোভ শুরু করে।

টানা তৃতীয় দিন বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে বোর্ডবাজার বড় মসজিদের সামনে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয় মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে।

পাশেই বিকেল সাড়ে তিনটায় বোর্ডবাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেন মেয়র অনুসারীরা। এ সমাবেশে মেয়র জাহাঙ্গীর যে যোগ দেবেন, তা জানানো হয় আগেই।

দুই পক্ষের এই বিক্ষোভে উত্তেজনার মধ্যে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুপুর থেকেই চার শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সেখানে মোতায়েন করা হয় জলকামানও। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

বেলা তিনটার পর থেকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরাই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে আসতে দেখা গেছে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মীদের।

বিরোধীরা হটল, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ‘দখলে’ বোর্ডবাজার
ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে আসতে থাকেন জাহাঙ্গীরবিরোধীরা

তবে বিকেল ৪টার দিকে ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ব্যানারে নেতা-কর্মীরা আনন্দ মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন।

জাহাঙ্গীরবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজকরা ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীদের মুখে পড়েন জাহাঙ্গীর অনুসারীরা।

বিরোধীরা হটল, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ‘দখলে’ বোর্ডবাজার
জাহাঙ্গীরবিরোধী বিক্ষোভের আয়োজকদের একজন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলকে পুলিশি পাহারায় সরিয়ে নেয়া হচ্ছে

এ সময় দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপে আবু সাঈদ নামে মেয়রের এক সমর্থক আহত হন। আবু সাঈদ জানান, হামলায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কাউন্সিলর মামুন মণ্ডলকে সরিয়ে নেয় পুলিশ। পরে জাহাঙ্গীরবিরোধী বিক্ষোভকারীরাও একে একে চলে যান।

এরপর জাহাঙ্গীরের অনুসারীরা নির্বিঘ্নে সমাবেশ করেন। সেখানে যোগ দেন মেয়র নিজেও।

বিরোধীরা হটল, জাহাঙ্গীর সমর্থকদের ‘দখলে’ বোর্ডবাজার
হাজারখানেক নেতা-কর্মী নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে সমাবেশে যোগ দেন মেয়র জাহাঙ্গীর

নগরীর ছয়দানা এলাকার নিজ বাসা থেকে বিকেল ৪টার কিছু সময় পর বের হন মেয়র জাহাঙ্গীর। হাজারখানেক নেতা-কর্মী নিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে সমাবেশস্থলের দিকে যান তিনি। বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তিনি মঞ্চে ওঠেন। মঞ্চে ওঠার পরপর নেতা-কর্মীরা তাকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন।

এর আগে বেলা পৌনে ৪টার দিকে মেয়রের অনুসারীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে যাওয়ার সময় দুই পক্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় মেয়রের শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধরা সমাবেশ ছেড়ে আশপাশের সড়কগুলোতে অবস্থান নেন।

সে সময় বোর্ডবাজার এলাকার সকল দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়।

গত কয়েক দিন ধরে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে একটি ঘরোয়া আয়োজনে মেয়র জাহাঙ্গীরকে কথা বলতে দেখা যায়।

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

এই ঘটনায় বুধবার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কার, তার পদ কেড়ে নেয়া ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার রেল লাইনও অবরোধ করে তারা।

এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সময় মেয়র জাহাঙ্গীর ছিলেন ভারতে। বুধবার গভীর রাতে দেখে ফিরে তিনি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তার দাবি, এই ভিডিওটি বানোয়াট। ভিডিওটি যারা শেয়ার করেছেন, তাদেরকে সেটি ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, না হলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন:
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল
এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন: বিএনপিকে কাদের
জাতীয় নির্বাচনে যেতে বিএনপির চার শর্ত
মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে, নিশ্চয়তা পেয়েছেন ফখরুল
নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব

শেয়ার করুন

তত্ত্বাবধায়ক নয়, সরকার পতনের আন্দোলন চান গয়েশ্বর

তত্ত্বাবধায়ক নয়, সরকার পতনের আন্দোলন চান গয়েশ্বর

প্রজন্ম দলের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি নিউজবাংলা

গয়েশ্বর বলেন, ‘কয়েক জন ফেরেশতা দিয়ে যদি একটা নির্বাচন কমিশন হয়, আর সরকার যদি একজন শয়তান থাকে; তাহলে কমিশনের কিছুই করার থাকে না। সুতরাং নির্বাচন কমিশন কে হবে, না হবে- সে ব্যাপারে আমাদের কোনো চিন্তার দরকার নাই। আমাদের দরকার সরকার পতন।’

নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী প্রজন্ম দল। সেই অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়েই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মন্তব্য করেছেন, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক নয় বরং সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে নামা উচিত নেতা-কর্মীদের।

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে সকল সমস্যার মূল আখ্যায়িত করেন গয়েশ্বর।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের এই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে কোনো আলোচনা বা আন্দোলনের দরকার নেই। শেখ হাসিনার সরকার পতনের দাবিতেই একমাত্র আন্দোলন হওয়া উচিত। কারণ সকল সমস্যার মূল হোতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকার।

‘আমাদের সকল চিন্তা, চেতনা, সামর্থ্য, শক্তি একত্রিত করে এই আন্দোলনে নেমে পড়তে হবে।’

গয়েশ্বর আরও বলেন, ‘কয়েক জন ফেরেশতা দিয়ে যদি একটা নির্বাচন কমিশন হয়, আর সরকার যদি একজন শয়তান থাকে; তাহলে কমিশনের কিছুই করার থাকে না। সুতরাং নির্বাচন কমিশন কে হবে, না হবে- সে ব্যাপারে আমাদের কোনো চিন্তা করার দরকার নাই। আমাদের দরকার সরকার পতন।

‘আমাদের প্রত্যেকের মামলা, মোকদ্দমা, হয়রানি, নির্যাতন, কারাবাস সবকিছুর উত্তর এক জায়গায়, যার বিরুদ্ধে লড়ছি তাকে সরাতে হবে। আর যার জন্য লড়ছি সেই গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে সমালোচনা করে গয়েশ্বর বলেন, ‘তিনি ঘরে বসেছিলেন গত দুই বছর। বিশ্ব এখনও করোনা মুক্ত নয়। ১৮৬ জন এর বিশাল বহর নিয়ে সফরে গেলেন, কত টাকা খরচ হয়েছে সেটা পরের কথা। আমার প্রশ্ন, তাদের কতজন কত টাকা সঙ্গে নিয়ে গেছেন বিদেশে রেখে আসার জন্য? সেটা আমার জানার বিষয়। কারণ স্পেশাল ফ্লাইট যেটায় প্রধানমন্ত্রী যান, সেটার জন্য সব দরজা খোলা থাকে। ঢাকা এয়ারপোর্ট কিছু জিজ্ঞেস করেনা। এ জন্য বিদেশে টাকা রেখে আসার সবচেয়ে বড় সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যাওয়া। তাই ইতিমধ্যেই যদি কয়েক লাখ কোটি টাকা পাচার হয়, তাহলে সেটা করেছে প্রধানমন্ত্রীর লোক জনই, প্রধানমন্ত্রীর ছত্রছায়ায় করেছে।’

গয়েশ্বর বলেন, ‘আমার জানা মতে, প্রজন্ম দলের মতো প্রায় অর্ধশত সংগঠন আছে, প্রত্যেকে বিএনপিকে ভালোবাসে। তাহলে এই ছোট ছোট দ্বীপ করে ফেললেন কেন। এখন সময় হয়েছে এসব ছোট ছোট দ্বীপ মিলে একটা দ্বীপপুঞ্জ গঠন করার। প্রত্যেক সংগঠনের শীর্ষ নেতাকর্মীদের নিয়ে আলোচনা করতে হবে। তাদের ছোট ছোট চিন্তা একসঙ্গে এক দিকে প্রবাহিত করতে হবে।’

প্রজন্ম দলের সভাপতি জনি হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

আরও পড়ুন:
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল
এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন: বিএনপিকে কাদের
জাতীয় নির্বাচনে যেতে বিএনপির চার শর্ত
মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে, নিশ্চয়তা পেয়েছেন ফখরুল
নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

নগরীর বোর্ডবাজারের দুটি এলাকায় বিরোধী পক্ষ সমাবেশ ডেকেছে বেলা তিনটায়, আর জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা ডেকেছে বেলা সাড়ে তিনটায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, রাস্তায় নেমেছে জলকামান।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেশ স্বাধীন করার উদ্দেশ্য নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠার পর গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের শাস্তি চেয়ে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ।

জাহাঙ্গীরের শাস্তি চেয়ে তার বিরোধীরা আর মেয়রের পক্ষের কর্মীরা একই এলাকায় সমাবেশ ডাকায় নতুন করে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা শঙ্কা।

নগরীর বোর্ডবাজারে বিরোধী পক্ষ সমাবেশ ডেকেছে বেলা তিনটায়, আর জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা ডেকেছে বেলা সাড়ে তিনটায়। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও রাস্তায় নামানো হয়েছে জলকামান।

বোর্ড বাজার বড় মসজিদের সামনে শুক্রবার বিকাল তিনটায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের ব্যানারে সিটি মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তি ও বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়েছে। তাতে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকবেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

বিকাল সাড়ে তিনটায় বোর্ড বাজারের ইউটিসি চত্বরে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিলের আয়োজন করেছে মহানগর আওয়ামী লীগের আরেকটি অংশ। তাদের উপলক্ষ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের সম্মাননা অর্জন। এ সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা মেয়র জাহাঙ্গীর ও তার অনুসারী নেতাকর্মীদের।

বেলা তিনটার পর থেকে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরাই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করে। ঝাড়ু হাতে মিছিল নিয়ে আসতে দেখা গেছে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মীদের। তবে এখনও নেতাদের কেউ সেখানে আসেননি।

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

টানটান উত্তেজনার মধ্যে দুপুরের আগে থেকেই ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। আশপাশের ভবনের ছাদেও অবস্থান নিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার লুৎফুল কবির, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বরকত উল্লাহ, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ দক্ষিণ) মোহাম্মদ ইলতুৎমিশ, উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জাকির হোসেন, উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) হাসিবুল আলমসহ বাহিনীটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে আছেন পরিস্থিতি সামলাতে।

সব মিলিয়ে পুলিশের ৪ শতাধিক সশস্ত্র সদস্য অবস্থান নিয়ে আছেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হাসিবুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‌‘সমাবেশস্থলের আশপাশে জিএমপি কমিশনার স্যারের নেতৃত্বে ৪০০ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। জলকামানসহ সাদাপোশাকে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মহাসড়কে যেন যানচলাচল বন্ধ না হয় সেজন্য কাজ করছে পুলিশ।’

গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, সেখানে একটি ঘরোয়া আয়োজনে মেয়র জাহাঙ্গীরকে কথা বলতে দেখা যায়।

চার মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ ছাড়াও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, হেফাজতের প্রয়াত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে তার সখ্য ও রাষ্ট্রীয় দুটি সংস্থা নিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করছেন মেয়র জাহাঙ্গীর।

ভিডিওটির শুরুতে মেয়র জাহাঙ্গীরকে মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতে শোনা যায়। তার দাবি, বঙ্গবন্ধু তার স্বার্থে এই বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান ভাঙার পেছনে রাষ্ট্রপতি হওয়ার বাসনা কাজ করেছে বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা।

জাহাঙ্গীরের পক্ষে-বিপক্ষে সমাবেশে পুলিশের ব্যাপক নিরাপত্তা

তার ধারণা, বাংলাদেশ স্বাধীন না হয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে থাকলে পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত জাতি থাকত এখানকার মানুষ।

এই ঘটনায় বুধবার থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কার, তার পদ কেড়ে নেয়া ও আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে বৃহস্পতিবার রেল লাইনও অবরোধ করে তারা।

এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার সময় মেয়র জাহাঙ্গীর ছিলেন ভারতে। বুধবার গভীর রাতে দেখে ফিরে তিনি একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন। তার দাবি, এই ভিডিওটি বানোয়াট। ভিডিওটি যারা শেয়ার করেছেন, তাদেরকে সেটি ডিলিট করে দেয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, না হলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন:
প্লিজ প্রশ্ন নয়, ৫ ঘণ্টার বৈঠক শেষে ফখরুল
এদিক-ওদিক না ঘুরে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন: বিএনপিকে কাদের
জাতীয় নির্বাচনে যেতে বিএনপির চার শর্ত
মানুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়বে, নিশ্চয়তা পেয়েছেন ফখরুল
নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব

শেয়ার করুন