৪ শতাংশ সুদে কৃষক পাবেন তিন হাজার কোটি টাকা

৪ শতাংশ সুদে কৃষক পাবেন তিন হাজার কোটি টাকা

বর্তমান গ্রাহকদের মধ্য থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বা গ্রাহককে বিদ্যমান ঋণসুবিধার অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। এর সর্বোচ্চ সীমা ১০ কোটি টাকা। ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের শস্য বা ফসল চাষের জন্য এককভাবে জামানতহীন (শুধু ফসল দায়বন্ধনের বিপরীতে) সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়া যাবে। গৃহস্থালি পর্যায়ে গাভি পালন, গরু মোটাতাজা খাতে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

কৃষি খাতের জন্য নতুন করে তিন হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ তহবিলের আওতায় ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবেন কৃষক। আর ব্যাংকগুলো এই প্যাকেজ থেকে ১ শতাংশ সুদে তহবিল পাবে।

ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ এই ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে হবে ১৮ মাসের মধ্যে। তহবিলের মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

ঋণচুক্তি ও তহবিল বরাদ্দ

ঋণ নেয়ার জন্য ইচ্ছুক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের সঙ্গে একটি অংশগ্রহণ চুক্তি করবে। সার্কুলার জারির পর ১৫ দিনের মধ্যে এ চুক্তি করতে হবে।

কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা, ঋণ বিতরণের সক্ষমতা ইত্যাদির ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে তহবিল বরাদ্দ করা হবে। ব্যাংকের ঋণ বিতরণের সক্ষমতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক পরে প্রয়োজনবোধে তহবিলের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে।

কী কী শর্ত

ব্যাংকগুলো নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করবে।

তবে বর্তমান গ্রাহকদের মধ্য থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বা গ্রাহককে বিদ্যমান ঋণসুবিধার অতিরিক্ত ২০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। এর সর্বোচ্চ সীমা ১০ কোটি টাকা।

ক্ষুদ্র, প্রান্তিক ও বর্গাচাষিদের শস্য বা ফসল চাষের জন্য এককভাবে জামানতহীন (শুধু ফসল দায়বন্ধনের বিপরীতে) সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ঋণ দেয়া যাবে।

গৃহস্থালি পর্যায়ে গাভি পালন, গরু মোটাতাজা খাতে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শস্য ও ফসল ঋণ ব্যতীত অন্যান্য খাতের ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ন্যূনতম জামানত গ্রহণের বিষয়ে ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।

এ তহবিলের ঋণ কোনোভাবেই গ্রাহকের পুরোনো ঋণ সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না।

ঋণখেলাপিরা এ তহবিলের ঋণ নিতে পারবেন না।

ঋণের খাত

কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত শস্য ও ফসল খাতের আওতাভুক্ত দানা শস্য, অর্থকরী ফসল, শাকসবজি, কন্দাল ফসল ফল ও ফুল চাষ, মৎস্য চাষ, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাত, কৃষি ও সেচ যন্ত্রপাতি, বীজ উৎপাদন খাতসমূহে ঋণ বিতরণ করা যাবে।

৪ শতাংশ সুদে কৃষক পাবেন তিন হাজার কোটি টাকা

আমদানি বিকল্প ফসল, যেমন ডাল, তেলবীজ, মসলাজাতীয় ফসল ও ভুট্টা চাষে গ্রাহক পর্যায়ে ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ বিতরণের পৃথক স্কিম চালু থাকায় এ খাতে বিশেষ তহবিলের এ ঋণ দেয়া যাবে না।

বরাদ্দকৃত তহবিলের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ শস্য ও ফসল খাতে বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

ঋণের মেয়াদ

ব্যাংকগুলো পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের তারিখ থেকে অনধিক ১৮ মাসের (১২ মাস + গ্রেস পিরিয়ড ৬ মাস) মধ্যে আসল এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ১ শতাংশ সুদ পরিশোধ করবে।

কৃষক বা গ্রাহক পর্যায়ে শস্য বা ফসল খাতে বিতরণকৃত ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ১২ মাস। অন্যান্য খাতে বিতরণকৃত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ন্যূনতম ৩ মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৮ মাস।

আবেদন পদ্ধতি

ঋণ বিতরণ শুরু করার পর অংশগ্রহণকারী ব্যাংক মাসিক ভিত্তিতে পুনঃঅর্থায়ন দাবি করতে হবে।

তহবিলের জন্য ব্যাংকগুলোকে বিতরণসংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র, বিতরণকৃত ঋণের বিবরণী, পরিশোধের প্রতিশ্রুতিপত্র ও লেটার অব কন্টিনিউটি, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বরাবর দাখিল করতে হবে।

পরিশোধ পদ্ধতি

বিভিন্ন দফায় ব্যাংকের অনুকূলে ছাড় করা অর্থ সংশ্লিষ্ট দফার মেয়াদ পূর্তির মধ্যেই সুদসহ আসলের সব অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংককে পরিশোধ করতে হবে।

ঋণের বকেয়া নির্ধারিত তারিখের মধ্যে পরিশোধিত না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব বিকলন করে তা সমন্বয় করা হবে।

স্কিমের আওতায় প্রদত্ত ঋণের অর্থ বা এর কোনো অংশের সদ্ব্যবহার না হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সে পরিমাণ অর্থের ওপর নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত ২ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করে এককালীন আদায় করবে।

৪ শতাংশ সুদে কৃষক পাবেন তিন হাজার কোটি টাকা
ব্যাংক ও আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক

কোনো ব্যাংক সুদ বেশি নিলে নির্ধারিত ৪ শতাংশ ছাড়াও অতিরিক্ত ১ শতাংশ হারে এককালীন আদায় করা হবে।

বিতরণকৃত প্রতিটি ঋণের জন্য আলাদা হিসাব সংরক্ষণ করতে হবে।

ঋণ বিতরণের পুঞ্জীভূত বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগে পাক্ষিক ভিত্তিতে (পক্ষ সমাপনান্তে সাত কর্মদিবসের মধ্যে) দাখিল করতে হবে।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শারদীয় উৎসবে ছাড় নিয়ে দেশে নতুন ই-কমার্স ‘সামগ্রী’

শারদীয় উৎসবে ছাড় নিয়ে দেশে নতুন ই-কমার্স ‘সামগ্রী’

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও নারী উদ্যোক্তা রায়হানা আফরোজ রিকা বলেন, ‘ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য। সঠিক ও মানসম্মত পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে সামগ্রী ডটকম।’

শারদীয় দুর্গা উৎসব উপলক্ষে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় নিয়ে যাত্রা করেছে অনলাইন শপ সামগ্রী ডটকম।

ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা নিয়ে দেবে প্রতিষ্ঠানটি। ৪৯৯ টাকার বেশি মূল্যের পণ্য কিনলে ঢাকার ভেতরে মিলবে ফ্রি ডেলিভারি সুবিধা।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সামগ্রী ডটকম লিমিটেডের ডিরেক্টর অপারেশন উৎপল চন্দ্র দাস।

তিনি বলেন, ‘দেশি-বিদেশি ৪০টি ব্রান্ডের ২ হাজার পণ্য সামগ্রীতে পাওয়া যাচ্ছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্পেন, তুরষ্ক, ইতালি ও শ্রীলঙ্কার স্বনামধন্য এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, সান ফ্লাওয়ার ও কোকোনাট অয়েল, শিশুদের সব ধরণের খাদ্য, গৃহস্থালির পণ্য, ইলেকট্রনিক্স ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স, বিশ্বখ্যাত ব্রান্ডের কসমেটিকসসহ জেন্টস ও লেডিস পণ্য।’

সামগ্রী ডটকমের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আব্দুল্লাহ রানা বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারির দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ই-কমার্স ডায়নামিক সলিউশন হিসেবে কাজ করছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যে কোনো স্থান থেকে ক্যাশ অন ডেলিভারি সুবিধা দিচ্ছে সামগ্রী ডটকম। অগ্রিম মূল্য পরিশোধ ছাড়াই ক্রেতারা কেনাকাটায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় পাবেন।’

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও নারী উদ্যোক্তা রায়হানা আফরোজ রিকা বলেন, ‘ক্রেতাদের সন্তুষ্টি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য। সঠিক ও মানসম্মত পণ্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে সামগ্রী ডটকম।’

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো

শেয়ার করুন

ক্ষতি পোষাতে একসঙ্গে ১১টি জাহাজ ভেড়াচ্ছে বন্দর

ক্ষতি পোষাতে একসঙ্গে ১১টি জাহাজ ভেড়াচ্ছে বন্দর

ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘শুক্রবার থেকে আমরা ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। যাতে দ্রুত আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারি।’

ধর্মঘটের ধকল সামাল দিতে ও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে একসঙ্গে ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়াচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের ৩৬ ঘণ্টা ধর্মঘটের কারণে সৃষ্ট জট সামলে বহির্নোঙরে জাহাজের লাইন আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে এ উদ্যোগ নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, ‘বহির্নোঙরে জাহাজের জট আছে বলা যাবে না। জাহাজের অপেক্ষমাণ সময় যে আমরা ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছিলাম, সেটাতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে।

‘গত দেড় মাস ধরে আমরা ৫০ শতাংশ জাহাজ কোনো অপেক্ষা ছাড়াই জেটিতে ভেড়াতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুক্রবার থেকে আমরা ১১টি কনটেইনার জাহাজ জেটিতে ভেড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। যাতে দ্রুত আমরা আগের অবস্থায় ফিরতে পারি।’

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বৃহস্পতিবার ১১টি কনটেইনার জাহাজ ছিল। যার মধ্যে একটি জাহাজ চার দিন অপেক্ষায় ছিল। ৭টি জাহাজের মধ্যে তিন দিন, দুই দিন করে অপেক্ষমাণ ছিল। বাকি তিনটি জাহাজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বহির্নোঙরে পৌঁছায়।

গত ২১ সেপ্টেম্বর পরিবহন শ্রমিক-মালিকদের ধর্মঘটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানামা বন্ধ ছিল। বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি পুরোপুরি বন্ধ ছিল। রপ্তানি পণ্য বন্দর জেটিতে না পৌঁছানোয় ও আমদানি পণ্য জাহাজ থেকে নামাতে না পারায় নির্ধারিত দুটি কনটেইনার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দর জেটি ছাড়তে পারেনি।

কনটেইনার পরিবহনকারী গাড়িতে চট্টগ্রামের ১৮টি ডিপো থেকে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি ও খালি কনটেইনার আনা-নেয়া হয়। কর্মবিরতির কারণে ডিপো থেকে কনটেইনার আনা-নেয়া বন্ধ ছিল।

কনটেইনার পরিবহনকারী প্রাইম মুভার ট্রেইলর গাড়িতে রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরে নেয়া হয়। আবার আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দর থেকে ডিপোতে আনা হয়। এ ছাড়া খালি কনটেইনার ডিপো ও বন্দরে নিয়মিত আনা-নেয়া হয় এসব গাড়িতে। ধর্মঘটের কারণে কনটেইনার পরিবহন বন্ধ ছিল। গাড়ি না থাকায় জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ব্যাহত ছিল।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো

শেয়ার করুন

চামড়া শিল্পের উন্নয়নে আসছে কর্তৃপক্ষ

চামড়া শিল্পের উন্নয়নে আসছে কর্তৃপক্ষ

রাজধানীর হাজারীবাগে শুকিয়ে যাওয়া চামড়া জড়ো করছেন এক শ্রমিক। ফাইল ছবি

‘চামড়া শিল্প খাত একটি বৃহৎ শিল্প। চামড়া রপ্তানির জন্য বিদেশে নতুন বাজার খুঁজতে হবে। চামড়া ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ জন্য সরকার সব রকম সহযোগিতা করবে।’

চামড়া শিল্পের উন্নয়ন এবং এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে চামড়া শিল্প কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্সের চতুর্থ সভায় এ প্রস্তাব করা হয়।

বৃহস্পতিবার টাস্কফোর্সের আহ্বায়ক ও শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপির সভাপতিত্বে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, বিসিক চেয়ারম্যান মোশতাক হাসান, রাজউক চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আশরাফ উদ্দিন, ট্যানারি শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী নেতারাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়/দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘চামড়া শিল্প খাত একটি বৃহৎ শিল্প। চামড়া রপ্তানির জন্য বিদেশে নতুন বাজার খুঁজতে হবে। চামড়া ব্যবসায়ীদের ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য প্রচেষ্টা চালাতে হবে। এ জন্য সরকার সব রকম সহযোগিতা করবে।’

সভায় গত ২৮ আগস্টে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সাভারের চামড়া শিল্পনগরী বন্ধের সুপারিশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

ট্যানারি কারখানাগুলো হাজারীবাগ থেকে নির্মাণাধীন চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হলেও এর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (সিইটিপি) এবং অন্যান্য উপাদানের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ অবস্থায় কয়েকটি ট্যানারির অনুকূলে পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান করা হলেও এখন পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

আর পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়নপ্রাপ্তি বিলম্বিত হওয়ায় রপ্তানিকারক হিসেবে এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা ইআরসি, আমদানিকারক হিসেবে ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আইআরসি ও শুল্কমুক্তভাবে পণ্য আমদানির বন্ড সুবিধার ছাড়পত্র পেতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ট্যানারি শিল্পনগরী বন্ধ করার পক্ষে নই। আমাদের কাঁচামাল আছে, জনশক্তি আছে, অভিজ্ঞতা আছে। কাজেই শিল্পনগরীর চামড়া কারখানাগুলোর সুষ্ঠু উৎপাদন কার্যক্রমের স্বার্থে পরিবেশগত ছাড়পত্রের নবায়ন ত্বরান্বিতকরণ, সিইটিপি কার্যকর করা, আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ করার পাশাপাশি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে হবে।’

সভায় ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘আমরা চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে বিলিয়ন ডলার আয় করতে চাই। সে লক্ষ্যে কাজ করছি।’

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘সাভারে ২৫ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য শোধনের ক্ষমতা থাকলেও উৎপাদন হচ্ছে ৩৫-৪০ হাজার ঘনমিটার তরল বর্জ্য। এতে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে। আমাদের যৌথভাবে সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন করতে হবে।’

কোরবানির ঈদে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করার পরও প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা কেন যথাযথ মূল্য পাননি, তা শিল্প মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েরও খোঁজ নেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘চামড়ার মূল্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাজার ধরার জন্য দুই মন্ত্রণালয়ের টানাটানি না করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একক সিদ্ধান্ত থাকা প্রয়োজন।’

শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা কেন্দ্রীয়ভাবে চামড়া মজুত ও সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বারোপ করেন।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো

শেয়ার করুন

ই-কমার্স ভোক্তাদের সুরক্ষার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ই-কমার্স ভোক্তাদের সুরক্ষার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন দেয়। ছবি: পিআইডি

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই তাদের জন্য সুরক্ষার পদক্ষেপ নিতে হবে। ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় খাত। কিছু লোকের কারণে এ খাতটি যেন শুরুতেই মুখ থুবড়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।’

ই-কমার্স খাতের ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই তাদের সুরক্ষা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ ছাড়া দেশে দ্রুত প্রসারণশীল ই-কমার্স ব্যবস্থায় ভোক্তা প্রতারণা বন্ধে কার্যকর উপায় বের করতে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই তাদের জন্য সুরক্ষার পদক্ষেপ নিতে হবে। ই-কমার্স একটি সম্ভাবনাময় খাত। কিছু লোকের কারণে এ খাতটি যেন শুরুতেই মুখ থুবড়ে না পড়ে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হতে হবে।’

বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের একটি প্রতিনিধিদল বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির কাছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদন দেয়। এ সময় ই-কমার্স নিয়ে রাষ্ট্রপতি এসব আহ্বান জানান।

এ ছাড়া তিনি এ খাতে প্রতারণাসহ ভোক্তার স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সেগুলো কঠোরভাবে দমনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে আরও অংশ নেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং কমিশনের সদস্য জি এম সালেহ উদ্দিন, ড. এ এফ এম মনজুর কাদির ও নাসরিন বেগম।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো

শেয়ার করুন

অস্থিরতা কাটিয়ে ই-কমার্সের প্রসার হবে : পলক

অস্থিরতা কাটিয়ে ই-কমার্সের প্রসার হবে : পলক

কারওয়ান বাজারে ‘ভিশন ২০২১ টাওয়ার-২’ নামে ‘দ্বিতীয় সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ স্থাপনের জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: নিউজবাংলা

ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা প্রয়োজন উল্লেখ করে তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এই সেক্টরে নিয়ম আনতে হবে। এজন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি-টেলিকম মন্ত্রণালয়সহ সব রেগুলেটর মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান ইন্ডাস্ট্রি কোনভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ জন্য আমাদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

অস্থির পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে দেশের ই-কমার্স খাত আরও প্রসার লাভ করবে বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ক্রমবর্ধমান এ খাত কোনভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার কারওয়ান বাজারে ‘ভিশন ২০২১ টাওয়ার-২’ নামে ‘দ্বিতীয় সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক’ স্থাপনের জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কথা বলেন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বরাদ্দকৃত জমি হস্তান্তর করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী। বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক শফিকুল ইসলাম।

কারওয়ান বাজারস্থ সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে (জনতা টাওয়ার) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পলক বলেন, ‘ইদানিং ই-কমার্স নিয়ে আমরা একটি চরম পরিস্থিতির মোকাবিলা করছি। কিন্তু এ আইসিটি প্রতিমন্ত্রী হিসাবে আমি স্টার্টআপ এবং এ খাতের ব্যবসায়িক উদ্যোক্তাদের আশ্বস্ত করতে চাই, ই-কমার্স কিন্তু প্রসার হবেই। সব বিজনেসই আস্তে আস্তে ডিজিটাল হতে বাধ্য।

ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই সেক্টরে নিয়ম আনতে হবে। এজন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি-টেলিকম মন্ত্রণালয়সহ সব রেগুলেটর মিলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান ইন্ডাস্ট্রি কোনভাবেই যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এ জন্য আমাদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

পলক বলেন, দেশের আগামী দিনে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হবে স্টার্টআপ। তাদের জন্য সরকার ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে। এখাতে প্রচুর বিনিয়োগ সম্ভাবনা রয়েছে। গত এক মাসেই বিভিন্ন স্টার্ট আপে ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ৮০০ কোটি টাকা বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে। ই-কমার্স বিটুবি প্ল্যাটফর্ম সপ-আপে এ পর্যন্ত ৭৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে, চালডালে এসেছে ১০ মিলিয়ন ডলার। যাত্রীতে ১.২ মিলিয়ন ডলার এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৪ সালে বিদেশি কোম্পানি স্যামসাং এ দেশে ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব দিলেও তৎকালীন সরকার তা নিতে পরেনি। পরবর্তীতে সে বিনিয়োগ ভিয়েতনামে চলে যায়। সেখানে প্রায় এক লাখ লোক কাজ করছে। বছরে এ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হচ্ছে। তবুও গত ১২ বছরে আইটি সেক্টরে অনেকে এগিয়ে গেছে। এ খাতে ১৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১২ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। ১৮ হাজার সরকারি অফিস ইন্টারনেট ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলে কানেক্টেড। দেশের ৩৮ শ ইউনিয়ন ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবলে কানেক্টেড, বাংলাদেশের সাড়ে ছয় লাখ আইটি ফ্রিল্যান্সার তারা ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করছে। ই-কমার্সের লক্ষাধিক উদ্যোক্তা আছেন।

পলক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ২০১৫ সালে বর্তমান সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ভবনের উদ্বোধন করেন। এখানে বর্তমান টেকনোলজি পার্কেই ১৫টি স্টার্টআপ ও ১৯টি প্রতিষ্ঠানে এক হাজার মানুষ কাজ করছে। বিদ্যমান ভবনের পাশেই দশমিক ৪৭ একর জমিতে আরেকটি আধুনিক ভবন নির্মাণ হবে। এখানে ১২ তলা গ্রীন ভবনটি হবে। এ ‘ভিশন ২০২১ টাওয়ার’ হবে দেশের ইনোভেশন ইকোসিস্টেমের মূল কেন্দ্রবিন্দু। এটি হবে জ্ঞান নির্ভর অর্থনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। এর সঙ্গে যুক্ত থাকবে দেশের আরও ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনকিউবেশন সেন্টার, যেখানে উদ্যোক্তা তৈরি করা হবে।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো

শেয়ার করুন

কিস্তিতে পণ্য ক্রয়ে সাউথ বাংলা ব্যাংক ও ইলেক্ট্রো মার্টের চুক্তি

কিস্তিতে পণ্য ক্রয়ে সাউথ বাংলা ব্যাংক ও ইলেক্ট্রো মার্টের চুক্তি

এসবিএসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের উপস্থিতিতে চুক্তিতে সই করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন এবং ইলেক্ট্রো মার্টের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আফসার। ছবি: নিউজবাংলা

এসবিএসি ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারী ও কর্মকর্তারা কনকা ও গ্রি ব্র্যান্ডের পণ্য ক্রয়ে ১২ মাস পর্যন্ত বিনাসুদে সমান মাসিক কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এ লক্ষে বুধবার এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেড ও ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।

এখন থেকে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডধারী ও কর্মকর্তারা কনকা ও গ্রি ব্র্যান্ডের পণ্য ক্রয়ে ১২ মাস পর্যন্ত বিনাসুদে সমান মাসিক কিস্তিতে (ইএমআই) মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।

এ লক্ষে বুধবার এসবিএসি ব্যাংক লিমিটেড ও ইলেক্ট্রো মার্ট লিমিটেডের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে।

ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের উপস্থিতিতে চুক্তিতে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সই করেন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন এবং ইলেক্ট্রো মার্টের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আফসার।

এ সময় ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের প্রধান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ শফিউল আজম, ইলেক্ট্রো মার্টের মহাব্যবস্থাপক (সেলস্ ও মার্কেটিং) মাহমুদ উন নবী চৌধুরী, সিনিয়র ম্যানেজার রিটেইল সেলস্ মো. জুলহক হোসেনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো

শেয়ার করুন

সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

সহজ হলো ডলার এনডোর্সমেন্ট

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের সার্কুলারে বলা হয়েছে, পাসপোর্টের মেয়াদ যত বছর থাকবে, তত বছরের জন্য একসঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করা যাবে। তবে বাৎসরিক সীমা ১২ হাজার ডলার অতিক্রম করতে পারবে না। ভ্রমণ কোটার অব্যবহৃত অংশ পরবর্তী বছরে স্থানান্তর করা যাবে না।

বি‌দেশ ভ্রমণে ডলার এনডোর্সমেন্ট সহজ করে‌ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এখন থে‌কে পাসপোর্টের মেয়াদ যত‌ বছর থাক‌বে, তত বছ‌রের জন্য একস‌ঙ্গে বৈ‌দে‌শিক মুদ্রা এনডোর্সমেন্ট করা‌ যা‌বে। তবে নিয়ম অনুযায়ী বছরে ১২ হাজার ডলারের বেশি খরচ করতে পারবে না।

বৃহস্প‌তিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগ এ সার্কুলার জারি করেছে।

সার্কুলারে বলা হ‌য়ে‌ছে, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকসংশ্লিষ্ট নিবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তির অনুকূলে তার পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন আন্তর্জাতিক কার্ডে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় ও নির্ধারণ করতে পারবে। ত‌বে এডি ব্যাংককে নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত মেনে চলতে হবে।

বাৎসরিক সীমা ১২ হাজার ডলার অতিক্রম কর‌তে পার‌বে না। ভ্রমণ কোটার অব্যবহৃত অংশ পরবর্তী বছরে স্থানান্তর করা যাবে না।

এ ছাড়া বিদেশে চাকরি ও ইমিগ্র্যান্ট হিসেবে কিংবা শিক্ষার জন্য বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদকালীন এনডোর্সমেন্ট করা যাবে না বলে সার্কুলারে বলা হয়েছে।

তবে সম্পূরক কার্ডধারী ব্যক্তি তার ভ্রমণ কোটার আওতায় এ সুবিধা পাবে।

বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভ্রমণ কোটা প্রযোজ্য হয়ে থাকে। তবে নির্দিষ্ট ভ্রমণ পরবর্তী বছরের মধ্যে পড়লে ৩১ ডিসেম্বর সময় পর্যন্ত একটি কোটা এবং ১ জানুয়ারি থেকে অন্য বছরের কোটা ব্যবহার করতে হবে।

পাসপোর্টের মেয়াদ থাকাকালীন বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় বা নির্ধারণ সুবিধা গ্রহণ করা না হলে কার্ডের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়ের ক্ষেত্রে ঘটনাত্তর এনডোর্সমেন্ট করার সুবিধা রাখা হয়েছে।

যৌক্তিক কারণে কার্ডের মাধ্যমে ভ্রমণ ব্যয় বাৎসরিক কোটা সীমা অতিক্রম করলে ওই অর্থ গ্রাহকের নিবাসী বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবের স্থিতি দ্বারা সমন্বয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ জাতীয় হিসাব না থাকলে পরবর্তী বছরের ভ্রমণ কোটার সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০০ ডলার সমন্বয় করা যাবে।

আরও পড়ুন:
কৃষিতে ২৮,৩৯১ কোটি টাকা ঋণ দেবে ব্যাংকগুলো

শেয়ার করুন