সৈয়দপুর-কক্সবাজার বিমান চলাচল অক্টোবরে

সৈয়দপুর-কক্সবাজার বিমান চলাচল অক্টোবরে

বিমান কর্মকর্তা জিয়া উদ্দীন জানান, অক্টোবরে সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে বিমান চলাচল শুরু হলে স্থানীয়ভাবে থাকবে বাস সার্ভিস। এর আওতায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ও দিনাজপুরের যাত্রীদের বিনা মূল্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) মাইক্রোবাসে সেবা দেয়া হবে।

দিনক্ষণ ঠিক না হলেও সামনের মাসেই সৈয়দপুর-কক্সবাজার আকাশ পথে চালু হচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সার্ভিস।

নীলফামারী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে মতবিনিময় সভায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) জিয়া উদ্দীন আহমেদ।

তিনি বলেন, ফ্লাইট চালু হলে রংপুর বিভাগের আট জেলার মানুষ সরাসরি পর্যটন শহর কক্সবাজারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সপ্তাহে তিন দিন এই রুটে সেবা দেবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা। যাত্রীর চাপ থাকলে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো হবে।

এর আগে ডিসি অফিস চত্বরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ও দিনাজপুর শহরে বিমান যাত্রীদের আনা নেয়ার জন্য এসি বাস সার্ভিস উদ্বোধন করেন জিয়া উদ্দীন।

বিমান কর্মকর্তা জিয়া জানান, অক্টোবরে সৈয়দপুর-কক্সবাজার রুটে বিমান চলাচল শুরু হলে স্থানীয়ভাবে থাকবে বাস সার্ভিস। এর আওতায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ও দিনাজপুরের যাত্রীদের বিনা মূল্যে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) মাইক্রোবাসে সেবা দেয়া হবে।

পর্যায়ক্রমে নীলফামারী-পঞ্চগড়েও এ বাস চলাচল করবে বলে জানান যুগ্ম সচিব জিয়া উদ্দীন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নীলফামারীর ডিসি হাফিজুর রহমান চৌধুরী।

উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ট্রান্সপোর্ট বিভাগের জিএম মেজর তাগির, স্থায়ীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আব্দুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মীর্জা মুরাদ হাসান বেগ, বিমানের নীলফামারী জেলা ম্যানেজার হারুন আর রশীদ, জেলা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ সরকার ও এস এম সফিকুল আলম ডাবলু, চেম্বারের পরিচালক ফরহানুল হক।

আরও পড়ুন:
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে এসি বাস

শেয়ার করুন

মন্তব্য

কুমার নদে নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢল

কুমার নদে নৌকাবাইচ দেখতে মানুষের ঢল

সাঈদ নামে একজন বলেন, ‘বর্তমানে নৌকাবাইচ খুব কম দেখা যায়। তাই নৌকাবাইচের কথা শুনে এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে এবং আনন্দ পেয়েছি। আমি চাই আমাদের রাজৈরে নৌকাবাইচের আয়োজন আরও করা হোক।’

মাদারীপুরের রাজৈরে কুমার নদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগীতা।

উপজেলার আমগ্রাম ব্রিজ সংলগ্ন নদ এলাকায় নৌকাবাইচকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

বাংলা ও বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির প্রাচীনতম এ উৎসব উপভোগ করতে শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ নির্বিশেষে মেতে ওঠেন আনন্দে-উল্লাসে। নদের পাড়ে বসে হরেক রকমের খেলনা ও মিষ্টির পশরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শুক্রবার বিকেলে মুজিববর্ষ উপলক্ষে রাজৈরে কুমার নদের পাড়ের স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরদের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় মনোমুগ্ধকর নৌকাবাইচ। এ সময় কুমার নদের পাড় পরিণত হয় রাজৈরসহ আশপাশের শত শত মানুষের মিলন মেলায়। প্রতিযোগিতায় ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩২টি নৌকা অংশগ্রহণ করে।

শুক্রবার বিকেলে শুরু হয়ে নৌকাবাইচ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। উৎসবমুখর এ প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী নৌকার দলপতির হাতে পুরস্কার তুলে দেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা দেখতে আসা মানুষ ঐতিহ্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।

আয়োজক কমিটির সদস্য রাজৈর পৌরসভা কাউন্সিলর উজির মিয়া বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে নৌকাবাইচের আয়োজন করেছি। করোনা মহামারি ও লকডাউনের জন্য রাজৈরবাসী দীর্ঘদিন ঘরবন্দি ছিল। তাদের বিনোদন দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম আমরা নয় কাউন্সিলর।’

আরেক কাউন্সিলর সুলাইমান বলেছেন, ‘গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। এ কারণে আমরা এই নৌকাবাইচ আয়োজন করেছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে নৌকাবাইচের আয়োজন করব।’

নৌকাবাইচ দেখতে এসে স্নিগ্ধা নামের একজন বলেন, ‘আমি এর আগে কখনও নৌকাবাইচ দেখিনি। প্রথম দেখলাম। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে।’

স্বর্ণা নামের একজন জানান, ‘প্রতিযোগিতার কথা শুনে অনেক দূর থেকে এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে নৌকাবাইচ।’

সাঈদ নামে একজন বলেন, ‘ বর্তমানে নৌকাবাইচ খুব কম দেখা যায়। তাই নৌকাবাইচের কথা শুনে আমি এসেছি। আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে, আনন্দ পেয়েছি। আমি চাই আমাদের রাজৈরে নৌকাবাইচের আয়োজন আরও করা হোক।’

সংসদ সদস্য শাজাহান খান বলেন, ‘প্রতিবছর এ আয়োজন ধরে রাখতে সহযোগিতা করব। ঐহিত্য ধরে রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সে হিসেবে এ ধরণের প্রতিযোগিতা আমাদের আরও আয়োজন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে এসি বাস

শেয়ার করুন

নতুন দুটি ট্রেন পাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন দুটি ট্রেন পাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘আমি শুক্রবারও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আমাদের একটি নয়, দুইটি শাটল ট্রেন দেবেন। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে চালু হবে ট্রেন দুটি।’

পহেলা অক্টোবর থেকে দুটি নতুন ট্রেন পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

৩৩তম সিনেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে শনিবার এ কথা বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। সিনেট সদস্য ড. ওমর ফারুক রাসেলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘আমি শুক্রবারও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আমাদের একটি নয়, দুইটি শাটল ট্রেন দেবেন। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে চালু হবে ট্রেন দুটি।’

২০১৯ সালের জুলাই মাসে শাটল ট্রেনে চড়ে ক্যাম্পাসে আসেন রেলমন্ত্রী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রেলওয়ের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রেলমন্ত্রী।

তখন তিনি ঘোষণা দেন, এসি ও ওয়াই-ফাইসহ ১৫-১৬ বগিবিশিষ্ট একটি নতুন ট্রেন দেবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

আরও পড়ুন:
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে এসি বাস

শেয়ার করুন

ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী

ত্যাগীরা আসবেন আ.লীগের নেতৃত্বে: তথ্যমন্ত্রী

থ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। আপনার একটি খারাপ আচরণ সরকারের সব অর্জন নষ্ট করে দেয়। আওয়ামী লীগ সবাই করতে পারবেন, তবে নেতৃত্বে আসবেন ত্যাগীরাই। দলের খারাপ সময়ে যারা মাঠে থাকবেন, তাদের মূল নেতৃত্বে আনতে হবে।’

আওয়ামী লীগ সবাই করতে পারবেন, তবে ত্যাগীরাই নেতৃত্বে আসবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার সকালে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। আপনার একটি খারাপ আচরণ সরকারের সব অর্জন নষ্ট করে দেয়। আওয়ামী লীগ সবাই করতে পারবেন, তবে নেতৃত্বে আসবেন ত্যাগীরাই। দলের খারাপ সময়ে যারা মাঠে থাকবেন, তাদের মূল নেতৃত্বে আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে দেশের মানুষের ক্ষুধা-দারিদ্র্য দূর করেছেন। আমরা এখন নানা দুর্যোগে বিভিন্ন দেশকে খাদ্যসহায়তা করি। তারপরও বিএনপি নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তারা প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চায়।’

৬ বছর পর শনিবার সকালে থানা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে সম্মেলন উদ্বোধন করেন সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কে এম হোসেন আলী হাসান।

দলীয় কার্যালয় চত্বরে সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রশিদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, হাইব্রিডদের দিন শেষ। এখন ত্যাগী ও দলের দুর্দিনের কর্মীদের মূল্যায়নের সময় এসেছে।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাই একমাত্র প্রধানমন্ত্রী, যিনি জাতিসংঘে সবচেয়ে বেশিবার বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি ১৭ বার বক্তব্য রেখে রেকর্ড গড়েছেন। তার সুযোগ্যে নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো ষড়যন্ত্র শেখ হাসিনার অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল মমিন মণ্ডল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, আব্দুল আওয়াল শামীম, বনানী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর মোশারফ হোসেন,
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুর রহমান, বিমল দাস, আবু ইউসুফ সূর্যসহ অনেকে।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী।

পরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের ভোটে ডা. আবদুল হাই সরকার এনায়েতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আজগর আলী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন:
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে এসি বাস

শেয়ার করুন

নদী বাঁচানোর দাবিতে ‘নদী পরিভ্রমণ’

নদী বাঁচানোর দাবিতে ‘নদী পরিভ্রমণ’

মানুষ বাচাঁতে ও পরিবেশ-প্রতিবেশ ঠিক রাখতে এখনই নদীগুলোকে বাঁচানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখা। ছবি: নিউজবাংলা

বাপার হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘নদীগুলো আজ নানামুখী অত্যাচারের চরম বিপর্যযের শিকার হচ্ছে। নদী নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। নদী দখল ও হত্যা করে আর্থিক ফায়দা লুটছে একশ্রেণির ক্ষতিকর মানুষ। নদীর উপর স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। যে কারণে নদী আজ মহাসঙ্কটাপন্ন।’

দখল-দূষণসহ নানা কারণে হবিগঞ্জ অধিকাংশ নদীই এখন বিলিন হয়ে গেছে। অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে জেলার সবগুলো বড় নদী। তাই মানুষ বাচাঁতে ও পরিবেশ-প্রতিবেশ ঠিক রাখতে এখনই নদীগুলোকে বাঁচানোর দাবি জানিয়েছেন পরিবেশবাদিরা।

রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) ‘বিশ্ব নদী দিবস’। এবার নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘মানুষের জন্য নদী’।

এ উপলক্ষে শনিবার হবিগঞ্জের খোয়াই নদীতে ‘নদী পরিভ্রমণ’ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জ শাখা ও খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার।

এ সময় সংক্ষিপ্ত এক পথসভায় বক্তারা বলেন, বহু বছর ধরেই খোয়াই নদীর নাব্যতার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। খোয়াই নদী খনন না হওয়াতে নদীর তলায় পলি ও বালি জমে স্থানে স্থানে চড়া পরেছে। নদীর তলদেশ শহর থেকে ১২ থেকে ১৫ ফুট উঁচু হয়ে উঠেছে। যে কারণে নদীকে শহর থেকে অন্তত ১০ ফুট গভীরে নিতে দ্রুত খনন করতে হবে।

তারা অভিযোগ করেন, খোয়াই নদী থেকে যন্ত্র দ্বারা অপরিকল্পিত-অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের কারণে নদী সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরেছে নদীর বিভিন্ন স্থানের বাঁধ। নদীতে বর্জ্য ফেলার কারণে দুষিত হচ্ছে পানি। অবৈধভাবে মাটি-বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে পরিবেশ আরও বিপর্যয়ের মূখে পড়বে।

নদী বাঁচানোর দাবিতে ‘নদী পরিভ্রমণ’

বাপার হবিগঞ্জ শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন, ‘নদীগুলো আজ নানামুখী অত্যাচারের চরম বিপর্যযের শিকার হচ্ছে। নদী নিয়ে ব্যবসা করা হচ্ছে। নদী দখল ও হত্যা করে আর্থিক ফায়দা লুটছে একশ্রেণির ক্ষতিকর মানুষ। নদীর উপর স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। যে কারণে নদী আজ মহাসঙ্কটাপন্ন।’

মুক্তিযুদ্ধা মোহাম্মদ আলী মুমিন বলেন, ‘আমরা যখন নৌকা পরিভ্রমণে গিয়েছি। তখন খোয়াই মুখ থেকে মশাজান পর্যন্ত নদীতে অগণিত ড্রেজার মেশিন চোখে পরেছে। অবৈধ বালু, মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।

‘এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে নদী, তীরবর্তী বাড়িঘর-রাস্তাঘাট ও পরিবেশের। দ্রুত এসব বন্ধ না করলে খোয়াই নদী খুব শিগগিরই বিলিন হয়ে যাবে। তখন কৃষিজমিতে সেচ ব্যহতসহ বিভিন্ন বিপর্য নেমে আসবে জেলাজুড়ে।’

কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সাবেক জনপ্রতিনিধি হাবিবুর রহমান, বিজন বিহারী দাস, চিকিৎসক ও পরিবেশকর্মী এসএস আল-আমীন সুমন, আফরোজা ছিদ্দিকা, তারুণ্য সোসাইটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম।

আরও পড়ুন:
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে এসি বাস

শেয়ার করুন

অচেতন তাবলিগ জামাতের ১৩ সদস্য হাসপাতালে

অচেতন তাবলিগ জামাতের ১৩ সদস্য হাসপাতালে

তাবলিগ জামাতের ১৩ জনকে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাতে তাবলিগ জামাতের সদস্যরা খাবার খেয়ে ঘু‌মিয়ে পড়লে শ‌নিবার তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়।

পটুয়াখালীর এক‌টি মসজি‌দ থে‌কে তাবলিগ জামাতের ১৩ সদস‌্যকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে পটুয়াখালী মে‌ডি‌ক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শহরের কলাতলা এলাকার বটতলা জামে মসজিদে শনিবার সকালে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার রাতে তাবলিগ জামাতের সদস্যরা খাবার খেয়ে ঘু‌মিয়ে পড়লে শ‌নিবার তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। এরপর তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, খাবারে বিষক্রিয়া নাকি নেশাজাতীয় কোনো কিছু মেশানো ছিল তা পরীক্ষার পর বলা যাবে।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার তাবলিগ জামাতের সদস‌্য রাসেল আহমেদ জানান, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইলসহ দেশের কয়েক জেলা থেকে ১৫ সদস‌্যকে তিন‌ দিনের চিল্লার (সফর) জন্য কাকরাইল মসজিদ থেকে তাব‌লিগের আ‌মির তাদের পটুয়াখালীতে পাঠান। বৃহস্প‌তিবার সন্ধ‌্যায় ঢাকা থেকে লঞ্চে রওনা হয়ে শুক্রবার ভোরে তারা পটুয়াখালীর হেতা‌লিয়া বাধঘাট এলাকার মারকাজ মসজিদে পৌঁছেন। সেখানকার তাব‌লিগ কমিটির সিদ্ধান্তে শহরের কলাতলা এলাকার বটতলা জামে মসজিদে পা‌ঠানো হয়।

রাসেল বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী আমরা যে যার কাজ করি। আ‌মিরের নির্দেশমতো আমরা দিনভর মানুষকে দিনের দাওয়াত দিয়ে‌ছি, ইসলামি আলাপ-আলোচনা করেছি। রাতে খাবার খেয়ে আমরা ঘুমাই। তারপর এলাকার এক সাথি জানান তার শরীর খারাপ লাগছে। আমরা তখন মসজিদের সামনে একটু হেঁটে এসে ঘুমাই।’

ফজরে তাবলিগের ওই দুই সদস্য ছাড়া অন্যরা কেউ উঠতে না পারলে মসজিদ কমিটিকে খবর দেন রাসেল। পরে সেই ১৩ জনকে অচেতন অবস্থায় পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভ‌র্তি করা হয় বলে জানান তিনি।

পটুয়াখালী মেডিক্যালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাহমুদুর রহমান জানান, ‘অচেতন ১৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারিরিক পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে বলা যাবে কী কারণে তারা অচেতন হয়ে পড়ছিলেন।’

বটতলা জামে মসজিদের ‌পেশ ইমাম মাওলানা মো. কলিমুল্লাহ জানান, ফজর নামাজের আগে মসজিদের মুয়াজ্জিনের ফোন পেয়ে মসজিদে গিয়ে দেখেন তাব‌লিগ জামাতের সদস্যরা সবাই ঘুমাচ্ছেন। ‌অনেক ডাকাডাকির পরও কারও ঘুম ভাঙে না।

বটতলা জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ জানান, তিনিও ফোন পেয়ে সেখানে যান। পরে স্থানীয় মারকাজ মসজিদের ইমামের সঙ্গে আলোচনা করে থানার ওসির পরামর্শে হাসপাতালে নেয়া হয়।

তবে কারও টাকাপয়সা হারানোর ব্যাপারে বা কোনো কিছু খোয়া গেছে এমন খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতার মোরশেদ জানান, ঘটনা শুনে তাৎক্ষ‌ণিকভা‌বে সেখানে অ‌ফিসার পাঠানো হয়ে‌ছিল। সবার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে খাবারেও হয়তো কোনো সমস্যা ছিল।

তিনি বলেন, ‘খাবারে কিছু মেশানো হয়েছিল কি না, তা ডাক্তারি পরীক্ষার পর জানা যাবে। মসজিদ কমিটি বা অসুস্থদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তারপরও আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছি।’

আরও পড়ুন:
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে এসি বাস

শেয়ার করুন

ধানক্ষেতে কিশোরের মরদেহ

ধানক্ষেতে কিশোরের মরদেহ

প্রতীকী ছবি।

কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার হয়।

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় একটি ধানক্ষেত থেকে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী সড়কের পাশের ধানক্ষেত থেকে শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

মৃত কিশোরের নাম মো. শাকিল। তার বাড়ি উপজেলার শিকলবহা ইউনিয়নে।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল মাহমুদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সকালে ধানক্ষেতে ওই কিশোরের মরদেহ দেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিষয়টি তদন্ত করছি।’

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে এসি বাস

শেয়ার করুন

জাহাঙ্গীরের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে বিরোধীরা ফের রাস্তায়

জাহাঙ্গীরের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে বিরোধীরা ফের রাস্তায়

মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তির দাবিতে টঙ্গীতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ। ছবি: নিউজবাংলা

কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করার পর এখন পর্যন্ত মেয়র জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। উল্টো শুক্রবার নির্লজ্জ বেহায়ার মতো আনন্দ মিছিলের নামে ভাড়া করা লোকজন দিয়ে শোডাউন দিয়েছে। আমরা তার কঠোর শাস্তি ও পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত মেয়র জাতির নিকট ক্ষমা না চাইবে এবং সব পদ থেকে পদত্যাগ না করবে ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।’

মধ্যরাতে নিজ বাসায় বসে একজনের সঙ্গে কথোপকথনের ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীরের বিচারের দাবিতে শনিবারও বিক্ষোভ হয়েছে।

কর্মসূচির সময় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা মেয়র জাহাঙ্গীরের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাকে নির্লজ্জ আখ্যা দিয়ে বলেন, বেহায়ার মতো তিনি আনন্দ মিছিলের নামে ভাড়া করা লোকজন দিয়ে শোডাউন করেছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের এই সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কে হঠাৎ থমকে যায় গাড়ির চাকা। দীর্ঘ যানজটে গন্তব্যে পৌঁছাতে ভোগান্তির শিকার হন যাত্রীরা।

মেয়র জাহাঙ্গীরের শাস্তির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো টঙ্গীতে বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে নামেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় তারা জাহাঙ্গীরের কুশপুত্তলিকায় আগুন দেন। ঘণ্টাব্যাপী চলা অবরোধ কর্মসূচি থেকে নেতাকর্মীরা পরে সরে আসেন পুলিশের অনুরোধে।

ফাঁস হওয়া রেকর্ডটিতে দেখা যায় যায়, মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের সংখ্যা ও আর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীকার আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গাজীপুর আওয়ামী লীগের অন্যতম এই নেতা।

গাজীপুর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানকে নিয়েও আপত্তিকর বক্তব্য আছে সেই ভিডিওতে।

স্বভাবতই বিষয়টি পছন্দ হয়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগের বড় অংশের। চার দিন ধরে নানাভাবে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তারা।

এরই অংশ হিসেবে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় শনিবার বিকেল ৪টায় ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরুর নেতৃত্বে কয়েকশ নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় তাদের সঙ্গে ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব আহসান উল্লাহ ও যুবলীগের আহ্বায়ক মনির হোসেন সাগরের নেতৃত্বে শতাধিক নেতাকর্মী যোগ দেয়। পরে নেতা-কর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে এক ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।

ফাঁস হওয়া ভিডিওকে বানোয়াট বলে পার পেতে চাইছেন জাহাঙ্গীর। তিনি তার অনুসারীদেরকে নিয়ে একটি সমাবেশও করেছেন, যার পাশে তার বিরোধীদের অবস্থান ছিল পুলিশ বিরোধীদেরকে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়ার পর জাহাঙ্গীর নির্বিঘ্নে সমাবেশ করেছে।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি করার পর এখন পর্যন্ত মেয়র জাতির কাছে ক্ষমা চায়নি। উল্টো শুক্রবার নির্লজ্জ বেহায়ার মতো আনন্দ মিছিলের নামে ভাড়া করা লোকজন দিয়ে শোডাউন দিয়েছে। আমরা তার কঠোর শাস্তি ও পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত মেয়র জাতির নিকট ক্ষমা না চাইবে এবং সব পদ থেকে পদত্যাগ না করবে ততক্ষণ আমাদের আন্দোলন চলবে।’

টঙ্গী বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খানের অনুসারীরা। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মহাসড়ক ঘুরে টঙ্গী বাজার এলাকায় মেয়র জাহাঙ্গীরের কুশপুত্তলিকায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ওসমান আলী খান, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আলী আফজাল খান দুলু, যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান জামান, ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব আজহারুল বেপারী, মুকুল সরকার, সালাম খান, বাসেত খান, আফিল উদ্দিন, কামরুল রাসেল, আদিম হায়দারসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের হাজারখানেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশের অনুরোধে বিকেল সাড়ে ৫টায় বিক্ষুব্ধরা অবরোধ তুলে নেয়।

বহুধাবিভক্ত গাজীপুর আওয়ামী লীগে নতুন সমীকরণ

গাজীপুরের রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলে যে ফাটল ধরে গেছে, তার ইঙ্গিতও স্পষ্ট।

২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনের আগেই তুমুল আলোচনায় ছিলেন জাহাঙ্গীর। আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে সে সময় দলের বড় পরাজয়ের পেছনে যেসব কারণ উঠে এসেছিল, তার মধ্যে ভোট থেকে সরে গেলেও জাহাঙ্গীর অনুসারীদের তৎপর না থাকা ছিল একটি।

পরে ২০১৮ সালে যখন জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ, তখন তিনি তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী হাসানউদ্দিন সরকারকে বলতে গেলে উড়িয়ে দেন।

এরপর থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বড় অংশ ভিড়তে শুরু করে তার কাছেই। তবে এবার তার গুণমুগ্ধদের একটি অংশই বেঁকে বসেছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগের যে নেতারা এতদিন জাহাঙ্গীরের বলয়ে ছিলেন, তারাও যোগ দিয়েছেন তার শাস্তি ও মেয়র পদ থেকে অপসারণের আন্দোলনে।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ কী করে, তার অপেক্ষায় আছেন এখনও কেউ কেউ।

টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রজব আলী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষরা চুপ আছি। আজকের বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও যাইনি, আনন্দ মিছিলেও যাইনি। এত বড় ঘটনা ঘটছে, সেন্ট্রাল (কেন্দ্র) কিছু বলছে না। আমরা সেন্ট্রালের নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি।’

জাহাঙ্গীর ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিকে বানোয়াট বললেও সেটা হালে পানি পাচ্ছে না। বরং এর আগে ৪ মিনিটের একটি ভিডিও ছড়িয়েছিল। এবার ছড়িয়েছে ১১ মিনিটের একটি। এখানে আরও বেশ কিছু কথা আছে, যা আরও ক্ষুব্ধ করছে তার বিরোধীদেরকে।

টঙ্গী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তুলে ধরেন সে কথাই। আওয়ামী লীগের প্রধান অর্জন মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি তিনি মেনে নিতে পারছেন না।

বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করি। তাকে নিয়ে যে বক্তব্য শুনা যাচ্ছে, তা নিয়ে আমরা পার্টি ফোরামে কথা বলব। কিন্তু মিটিং কে ডাকবে? সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক দুই পক্ষে অবস্থান করছে। আজকে মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ ছিল। কিন্তু এতে সভাপতি আসে নাই।’

মেয়র জাহাঙ্গীর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছে তা মিথ্যে প্রমাণ করা না পর্যন্ত তার সঙ্গে কোনো কর্মসূচিতে অংশ নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ। সে কথাও জানিয়ে দিলেন রজব আলী।

টঙ্গী পৌরসভার একাধিকবারের মেয়র আজমত গাজীপুরে ভীষণ জনপ্রিয় ছিলেন। ২০১৩ সালের মেয়র নির্বাচনে তার পরাজয় ছিল অপ্রত্যাশিত। সে সময় তিনি জাহাঙ্গীর অনুসারীদের সমর্থন পাননি বলে প্রচার আছে। এও প্রচার আছে যে, জাহাঙ্গীর সমর্থকরা তার বিপক্ষে কাজ করেছে। এই বিষয়টি আট বছর পর আবার সামনে আসছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন নেতা বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আজমত উল্লাহ খান ও জাহাঙ্গীর মুখোমুখি অবস্থানে থাকলেও ২০১৫ তারা দুজন এক হয়ে যান দুজন। নিজেদের মধ্যে কমিটিকে কেন্দ্র করে একটা সমঝোতা হয়। যা দীর্ঘদিন ধরেই বলবৎ ছিল।

‘এই দুজনের সমঝোতার কারণে একই এলাকার একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব কিছুটা পাশে পড়ে যান। যা মেয়র জাহাঙ্গীরকে গাজীপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শীর্ষস্থানে নিয়ে যায়।’

আগামী সিটি নির্বাচনও আছে হিসেবে

আগামী সিটি নির্বাচনকে ঘিরে সমীকরণও আছে। ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবদুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল এবার মেয়র নির্বাচনে আগ্রহী। তিনি মেয়রের শাস্তির দাবিতে কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। তারও একটি বড় সমর্থক গোষ্ঠী আছে সেখানে।

মামুন গাজীপুরের প্রভাবশালী একাধিক নেতা এমনকি আজমত উল্লাহ খানেরও সমর্থন পাচ্ছেন বলেও এলাকায় প্রচার আছে।

শুক্রবার মেয়র জাহাঙ্গীর যেখানে সমাবেশ করেছেন, তার অদূরে মামুনের কার্যালয় ঘিরে যে কর্মসূচি পালন করেন, তাতে আজমত অনুসারীদেরকেও দেখা গেছে, যদিও তিনি নিজে সেখানে যাননি।

কী করবেন জাহাঙ্গীর

দেশে ফিরেই মেয়র এক ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, এই ভিডিও (ভাইরাল রেকর্ড) বানোয়াট, কথা কেটে কেটে বসানো হয়েছে। ভিডিওগুলো ফেসবুক থেকে ডিলিট করার আহ্বান জানিয়েছেন, বলেছেন, নইলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

শুক্রবারের সমাবেশেও মেয়র বলেছেন, তিনি চক্রান্তকারীদের মুখ উন্মোচন করে দেবেন। তবে এগুলো যে মাঠের রাজনীতির কথা, সেটি নিউজবাংলাকে দেয়া তার সাক্ষাৎকারেই স্পষ্ট।

কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন, এমন প্রশ্নে জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এখন মামলার ব্যবস্থা নিতাছি, এখন বাদী, বিবাদী কে এটাই তো মিলাইতে পারতেছি না। কে এটা করছে? আমি তো ছিলাম দেশের বাইরে। আসছি কালকে। আর আমাদের যারা আছে তারা সবাই এটা নিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সহযোগিতা চাইব, বলব কারা এটা করেছে, বাইর কইরা দিতে।’

‘প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না’

মেয়র যে বক্তব্য রেখেছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় নিউজবাংলাকে আজমত উল্লাহ খান বলেন, ‘মেয়র জাহাঙ্গীর আলমকে প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’

তিনি বলেন, ‘উনি (জাহাঙ্গীর আলম) বলেছেন ওই ভিভিও অসত্য। কিন্তু বক্তব্যের কণ্ঠ তো তার। তাকেই প্রমাণ করতে হবে যে এই ভিডিও তার না।’

গাজীপুর তিনদিন ধরে উত্তপ্ত থাকলে প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় চুপ রয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। ঢাকা বিভাগের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে, তারাও কোনো মন্তব্য করছেন না। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মনে করছেন গাজীপুরের নেতারা।

আরও পড়ুন:
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে এসি বাস

শেয়ার করুন