টয়লেটে যাবে গরু

টয়লেটে যাবে গরু

গরুর জন্য বিশেষভাবে তৈরি এই টয়লেটের নাম মো-লো।

নিছক কোনো খেয়ালের বশে নয়। ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমণ কমাতেই গরুকে টয়লেট ব্যবহারে অভ্যস্ত করা হচ্ছে। কারণ গরুর মূত্রে রয়েছে অ্যামোনিয়া। যা মাটির সঙ্গে মিশে নাইট্রাস অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। আর এই নাইট্রাস অক্সাইডই হলো- গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রধান উপকরণ!

জার্মানিতে নিম্নচাপ পেলেই সোজা টয়লেটে গিয়ে হাজির হচ্ছে বেশকিছু গরু। মুখ দিয়ে ঠেলে নিজেরাই টয়লেটের দরজা খুলছে। তারপর ভদ্রতার সঙ্গে প্রাকৃতিক কর্মটি সারছে।

গরুদের জন্য বিশেষভাবে নির্মিত এই টয়লেটের নাম দেওয়া হয়েছে ’মো-লো’। টয়লেট ব্যবহারের এই শিক্ষাটি তারা পেয়েছে এক দল গবেষকের কাছ থেকে।

নিছক কোনো খেয়ালের বশে নয়। ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমণ কমাতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণায় দেখা গেছে, সারা বিশ্বে মনুষ্যসৃষ্ট কারণে যত গ্রিনহাউস নির্গত হয় তার ১০ ভাগই হয় পশু খামার থেকে। এ ক্ষেত্রে গরুর একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। কারণ গরুর মূত্রে রয়েছে অ্যামোনিয়া। যা মাটির সঙ্গে মিশে নাইট্রাস অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়। আর এই নাইট্রাস অক্সাইডই হলো- গ্রিনহাউস গ্যাসের প্রধান উপকরণ।

গরুকে মানুষের মত টয়লেট ব্যবহার করানো তো আর সহজ ব্যপার নয়। তাই তাদের প্রশিক্ষণ দিতে কিছু বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছেন গবেষকরা।

এ ক্ষেত্রে প্রথমেই তারা ১৬টি গরুকে বেছে নিয়েছেন। এসব গরুর মধ্যে যারা মো-লো’তে গিয়ে মূত্র ত্যাগ করছে তাদের পুরস্কৃত করা হয়। আর যারা মো-লোর বাইরে এই কর্মটি সারছে তিরস্কার হিসেবে তাদের দিকে টানা তিন সেকেন্ড প্রচণ্ড গতিতে পানি ছোড়া হচ্ছে।

কয়েকদিনের মধ্যে আশাতীত ফলও পেয়েছেন তারা। দেখা গেছে, ১৬টি গরুর মধ্যে ১১টিই টয়লেট ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

মো-লো’তে ত্যাগ করা গরুর মূত্র পরে সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করছেন গবেষকরা। দেখা গেছে এই প্রক্রিয়ায় ওই খামারে ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত অ্যামোনিয়া নিঃসরণ কমিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন তারা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বেঁচে থাকায় বিশ্ব রেকর্ড যমজ দুই বোনের

বেঁচে থাকায় বিশ্ব রেকর্ড যমজ দুই বোনের

উমেনো সুমিয়ামা ও কউমি কোডামা

বহু বছর ধরে দুই বোন বেঁচে থাকলেও শৈশবে প্রাথমিক স্কুল শেষ করার পরই একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা।

ক’দিন পরই ১০৮তম জন্মদিন উদযাপন করবেন জাপানি যমজ বোন উমেনো সুমিয়ামা ও কউমি কোডামা। তবে তার আগেই পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বছর বাঁচা যমজ হিসেবে গিনেস বুকে নাম লিখেয়েছেন তারা।

গত ১ সেপ্টেম্বর ১০৭ বছর ৩৩০ দিন বয়সে তারা আগের রেকর্ড ভেঙ্গে দিলেও সোমবার (২০ সেপ্টেম্বর) তা ঘোষণা করেছে গিনেস বুক কর্তৃপক্ষ। কাকতালীয়ভাবে এদিনই ছিল জাপানের ‘বয়স্ক দিবস’। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের তৃতীয় সোমবার এই দিবসটিকে সসম্মানে পালন করে জাপানিরা।

ডেইলি মেইল জানায়, ১৯১৩ সালের ৫ নভেম্বর জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শোদোশিমা দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন উমেনো ও কোডামা। ১১ ভাই-বোনের মধ্যে তারা ছিলেন যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ।

বহু বছর ধরে দুই বোন বেঁচে থাকলেও শৈশবে প্রাথমিক স্কুল শেষ করার পরই একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা। কারণ সেই বয়সেই কোডামাকে জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কাইশু দ্বীপে গৃহপরিচারিকার কাজে পাঠায় তার পরিবার। সেখানেই তিনি বড় হন এবং বিয়ে করেন। অন্যদিকে, উমেনো থেকে যান নিজ দ্বীপেই। তিনিও বিয়ে করে নিজের পরিবার গড়েন।

জীবনের শেষ বেলায় এসে ছোটবেলার কঠোর দিনগুলোর কথা তাদের মনে পড়ে। যমজ হওয়ার কারণে প্রায়ই তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের শিকার হতেন তারা। কারণ সেই আমলে জাপানে এ ধরনের জন্মকে ঘিরে নানা ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত ছিল।

সমাজের কটু কথা থেকে বাঁচাতেই ছোটবেলায় আলাদা করে দেয়া হয়েছিল দুই বোনকে। ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত মাত্র হাতে গোনা কয়েকবার দেখা হয়েছে তাদের। জাপানের শিকোকু দ্বীপের কতগুলো বৌদ্ধ মন্দিরে তীর্থযাত্রী হয়ে একই সময়ে গেলেই কেবল তাদের দেখা হতো।

বেঁচে থাকায় বিশ্ব রেকর্ড যমজ দুই বোনের
৭০ বছর বয়স পর্যন্ত মাত্র হাতে গোনা কয়েকবার দেখা হয়েছে তাদের

বিগত বছরগুলোতে একত্র হলেই দুই বোন মজা করে বলতেন, যমজ বোন হিসেবে তারা সবচেয়ে বেশি বছর বেঁচে থাকা কিন নারিতা ও গিন কিনের রেকর্ড ভেঙ্গে দেবেন। উমিয়ো ও কোডামার আগে এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন তারাই। কিন আর গিনও ছিলেন জাপানি যমজ বোন। ৯০-এর দশকে বেঁচে থাকা অবস্থায় জাপানে তারা বেশ সুপরিচিত ও সম্মানিত ছিলেন।

শেষ পর্যন্ত উমেনো ও কোডামার হাসি তামাশাই সত্য হল। তারা সত্যি সত্যিই আগের রেকর্ড ভেঙ্গে দিয়ে এখনও দিব্যি বেঁচে আছেন।

সম্প্রতি আলাদা আলাদা দুটি নার্সিং হোম থেকে নিজেদের জন্মসনদ গিনেস বুক কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছিলেন তারা।

শেয়ার করুন

কয়েদির পেট থেকে বের হলো মোবাইল ফোন

কয়েদির পেট থেকে বের হলো মোবাইল ফোন

কেন আর কিভাবে ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনটি গিলেছিলেন, তা জানা যায়নি। ছবি: গালফ নিউজ/ফেসবুক

আস্ত মোবাইল গিলে ফেলেও এন্ডোসকপির সাহায্যে পেটের ভেতর মোবাইলটির তিনটি অংশ পৃথক করা হয়। এরপর আলাদাভাবে বের করা হয়েছে অংশগুলো। দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এ প্রক্রিয়া।

কয়েদির পেট থেকে একটি মোবাইল ফোন বের করেছেন এক চিকিৎসক। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ কসোভোতে।

গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দিন পেট ব্যথায় ভোগার পর গত সপ্তাহে ওই কয়েদিকে প্রিস্টিনা ইউনিভার্সিটি হসপিটাল গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

ওই ব্যক্তির পেটে অস্ত্রোপচার করা চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারদিন ধরে পাকস্থলীতে মোবাইল ফোনটি ছিল। পুরো যন্ত্রটি ওই ব্যক্তি গিলে ফেলেছিলেন।

৩৩ বছর বয়সী ওই রোগীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে সফল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ আছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলটির প্রধান স্কেন্দার তেলাকু বলেন, ‘ছোট একটা ফোন সে গিলে ফেলেছে বলে জানতে পারি আমরা। সেটা বের করেও এনেছি।

‘তবে মোবাইল ফোনটি বের করার জন্য ওই ব্যক্তির পেট কাটতে হয়নি। এন্ডোসকপির সাহায্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সফলভাবে শেষ করা হয়েছে।’

ওই চিকিৎসক আরও জানান, আস্ত মোবাইল গিলে ফেলেও এন্ডোসকপির সাহায্যে পেটের ভেতর মোবাইলটির তিনটি অংশ পৃথক করা হয়। এরপর আলাদাভাবে বের করা হয়েছে অংশগুলো।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে এ প্রক্রিয়া। শেষ পর্যন্ত কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই পুরো কাজটি শেষ হয়েছে।

তেলাকু বলেন, ‘আমরা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত ছিলাম মোবাইলের ব্যাটারি নিয়ে… পেটের ভেতরের রাসায়নিক ও অ্যাসিডে ব্যাটারির অংশ ক্ষয়ে পাকস্থলীতে ঢুকে যেতে পারত।

‘অস্ত্রোপচারটি ছিল অনেকটা রাস্তায় পুঁতে রাখা অবিস্ফোরিত মাইন খুঁজে বের করার মতো জটিল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে সব ভালোভাবেই শেষ হয়েছে।’

অস্ত্রোপচার শেষ পুলিশ রোগীকে আটক ও মোবাইল ফোনটি জব্দ করেছে। মোবাইল ফোনটির মডেল ২০০০ সালের পরের কোনো সময়ের।

কেন আর কিভাবে ওই ব্যক্তি মোবাইল ফোনটি গিলেছিলেন, তা জানা যায়নি।

চিকিৎসকদের ধারণা, ও ব্যক্তি যে কারাগারে শাস্তিভোগ করছিলেন, সেখানে লুকিয়ে মোবাইলটি ঢোকানো হয়েছিল। সম্ভবত মোবাইল ফোনটি ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি গোপনে বাইরে যোগাযোগ করতেন তিনি। কোনো এক সময়ের ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে পুলিশের নজর এড়িয়ে দ্রুত সেটি গিলে ফেলেছেন।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেনি কসোভো পুলিশ কিংবা এ বিষয়ে কিছু জানায়নি।

শেয়ার করুন

চার মাস আগে দাফন, মরদেহ অবিকৃত থাকার দাবি

চার মাস আগে দাফন, মরদেহ অবিকৃত থাকার দাবি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি বিভাগের অধ্যাপক হুমায়রা নওসাবা নিউজবাংলাকে বলেন, চার মাস আগে দাফন করা মরদেহে কোনো বিকৃতি ঘটেনি-এমনটি সম্ভব নয়। এই সময়ের মধ্যে মাংসে পচন এবং মরদেহে কোনো না কোনো পরিবর্তন ঘটবেই। তবে তাপমাত্রা অনেক সময়ে মরদেহের পচনে প্রভাব ফেলে।

নদীভাঙনে কবর ধসে যাওয়ায় বেরিয়ে আসে মরদেহের একাংশ। সেটি পরে আবারও দাফন করেন স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। তাদের ভাষ্য, চার মাস আগে ওই নারীকে কবর দেয়া হলেও মরদেহে পচন ধরেনি। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে লাশ দেখতে উৎসুক মানুষ ভিড় করে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে উত্তর ধলডাঙা গ্রামে।

৫০ বছর বয়সী ওই নারীর নাম রেনুকা বেগম। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য আমবাজ আলীর স্ত্রী।

শিলখুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন ইউসুফ নিউজবাংলাকে বলেন, রেনুকা শারীরিক অসুস্থতার কারণে সাড়ে চার মাস আগে মারা যান। পরে বাড়ির পাশে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

চলতি মাসে কালজানি নদীর ভাঙনে কবরের একপাশ ধসে গেলে মরদেহের একাংশ বেরিয়ে আসে। এ সময় এলাকার মানুষ অক্ষত অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মরদেহটি দেখার জন্য ওই এলাকায় মানুষের ঢল নামে। পরে পরিবারের সদস্য এবং এলাকার লোকজন মরদেহটি ফের দাফন করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এ রকম অলৌকিক ঘটনার কথা লোকমুখে শুনেছি। এই প্রথম নিজে এমন ঘটনার সাক্ষী হলাম। পরিবারের সদস্যদের কাছে শুনেছি, তিনি পরহেজগার ও দানশীল নারী ছিলেন।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এস এম সায়েম বলেন, ‘এমনটা হওয়া বিজ্ঞানসম্মত নয়। কোনো সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা ছাড়া সাধারণত দাফনের ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই প্রাকৃতিক নিয়মেই মরদেহ পচে যাওয়ার কথা।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানাটমি বিভাগের অধ্যাপক হুমায়রা নওসাবা নিউজবাংলাকে বলেন, চার মাস আগে দাফন করা মরদেহে কোনো বিকৃতি ঘটেনি- এমনটি সম্ভব নয়। এই সময়ের মধ্যে মাংসে পচন এবং মরদেহে কোনো না কোনো পরিবর্তন ঘটবেই। তবে তাপমাত্রা অনেক সময়ে মরদেহের পচনে প্রভাব ফেলে।

তথ্য আদান-প্রদানের উন্মুক্ত অনলাইন ফোরাম কোরা ডটকমে কিছু কিছু মৃতদেহ দীর্ঘদিন অবিকৃত থাকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। এর মধ্যে নৃবিজ্ঞানী ফ্লয়েড অ্যারানয়েসি বলেন, মাটির অম্লত্ব, শীতলতা, অক্সিজেনের ঘাটতিসহ পরিবেশগত বিভিন্ন কারণে মরদেহ পচিয়ে দেয়ার ব্যাকটেরিয়ার অভাব ঘটতে পারে। এ কারণে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন পরেও অবিকৃত থাকে মৃতদেহ। এর পেছনে অলৌকিক কারণ নেই।

শেয়ার করুন

সাতক্ষীরার ২ তরুণ এখন চাঁদের ‘নাগরিক’

সাতক্ষীরার ২ তরুণ এখন চাঁদের ‘নাগরিক’

৫৫ ডলারে চাঁদে এক একর জমি ‘কিনেছেন’ সাতক্ষীরার দুই বন্ধু। ছবি: নিউজবাংলা

‘লুনার অ্যাম্বেসি’ নামের একটি ওয়েবসাইট থেকে চাঁদে জমি কিনেছেন শাহিন ও শাকিল। খরচ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ টাকা। জমির দলিলের পাশাপাশি চাঁদে নাগরিকত্বও পেয়েছেন এই দুই তরুণ।

সাতক্ষীরার দুই বন্ধু শাহিন আলম ও শেখ শাকিল হোসেন। হঠাৎ পেয়ে বসে চাঁদে জমি কেনার শখ। ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করে পেয়েও যান চাঁদের জমি ‘পাইয়ে দেয়া’ একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের ঠিকানা।

দেরি না করে দুই বন্ধু অনলাইনে চুকিয়ে দেন দাম। আর ঠিক এক সপ্তাহ পর হাতে আসে চাঁদের জমির কাঙ্ক্ষিত দলিল। সেই সঙ্গে পৃথিবীর সবচেয়ে নিকট প্রতিবেশীর ‘নাগরিকত্বও’ পেয়েছেন তারা।

শাহিন ও শাকিল বেশ গর্ব নিয়েই সেই দলিল দেখিয়েছেন নিউজবাংলাকে।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র শাহিনের বাড়ি শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালি গ্রামে। তার বন্ধু শাকিল থাকেন সাতক্ষীরা সদরের জোড়দিয়া গ্রামে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম বর্ষের ছাত্র তিনি।

শাহিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগে ফেসবুকে দেখি মঙ্গলগ্রহে মানুষ নাকি জমি কিনছে। কৌতূহল থেকে বিষয়টি নিয়ে আমরা ইন্টারনেটে ঘাটাঘাটি করতে থাকি। সে সময়েই জানতে পারি চাঁদেও কেনা যায়।

‘লুনার অ্যাম্বেসি নামের একটি ওয়েবসাইট আছে, যেখানে চাঁদ-মঙ্গলগ্রহের জমি বিক্রি হয়। দেখলাম চাঁদে জমির দাম একদম কম, একর প্রতি ২৪ দশমিক ৯৯ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৪৯৯ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ২ হাজার ১২৫ টাকা থেকে ৪২ হাজার ৪৩৭ টাকা। কোন ধরনের জমি কিনব, তার ওপর ওঠানামা করে দাম।’

এরপর শাহিন ও শাকিল ৫৫ ডলারে (সাম্প্রতিক বিনিময় মূল্য হিসেবে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ টাকা) চাঁদে এক একর জমির অর্ডার দেন।

সাতক্ষীরার ২ তরুণ এখন চাঁদের ‘নাগরিক’
চাঁদের জমির এই দলিল পান শাকিল ও শাহিন

কীভাবে নিশ্চিত হলেন ওয়েবসাইটটি ভুয়া নয়, এমন প্রশ্নে শাহিনের জবাব, ‘আমরা ওই ওয়েবসাইট নিয়েও ঘাটাঘাটি করেছি। দেখেছি অনেক সেলিব্রিটি সেখান থেকে চাঁদে-মঙ্গল গ্রহে জমি কিনেছেন। তাই সাহস করে অর্ডার দিয়েছি। এক সপ্তাহ আগে অর্ডার দিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিচিত একজনের কার্ডের মাধ্যমে পে করেছি।

‘আজ (বুধবার) আমাদের কাছে মেইল আসে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে। তারা চাঁদে আমাদের কেনা জমির দলিল পাঠিয়েছে। চাঁদের গায়ে জমি চিহ্নিত করে ছবিও দিয়েছে।’

এই জমি ভোগদখল যে করা যাবে না, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই শাহিনের। বলেন, ‘আসলে এটা তো সম্ভব না জানেনই। সত্যি বলতে গেলে ওই দলিলটাই মূল।

‘যিনি ওই ওয়েবসাইট চালান, তিনিও তো চাঁদের মালিক না। মনে করেন উনি নিজে নিজে চাঁদের ইজারা নিয়ে জমি বিক্রি করছেন। মানুষ টাকা দিয়ে আসলে চাঁদের জমির ওই দলিলটাই কেনে। চাঁদে গিয়ে ওই জমি বুঝে নেয়ার তো সুযোগ নাই। ওই ওয়েবসাইটেও কোথাও বলা নাই যে, তারা আমাদের নিয়ে গিয়ে জমি বুঝিয়ে দেবে।’

সাতক্ষীরার ২ তরুণ এখন চাঁদের ‘নাগরিক’
চাঁদের ‘নাগরিকত্বের’ এই সার্টিফিকেট পান শাহিন ও শাকিল

চাঁদের দলিল পেয়ে ‘বিখ্যাতদের’ সারির একজন ভাবতে ভালোই লাগছে শাহিনের। তিনি বলেন, ‘অনেক বিখ্যাত লোকজনের নাম ইন্টারনেটে আছে যে, তারা চাঁদ-মঙ্গল গ্রহের জমির মালিক। এর মধ্যে সাবেক তিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, জিমি কার্টার ও রোনাল্ড রিগ্যান আছেন। তাদের সঙ্গে এখন আমাদের (শাহিন ও শাকিল) নামও জুড়বে। নামেমাত্র হলেও আমরাও এখন চাঁদের জমির মালিক। বাংলাদেশে সম্ভবত আমরাই প্রথম চাঁদে জমি কিনলাম।’

যা আছে শাহিন ও শাকিলের দলিলে

চাঁদের জমির দলিলের প্রথম পাতাতেই দেয়া আছে একটি সার্টিফিকেট, যাতে লেখা- চাঁদের সি অফ ক্লাউড নামের অংশে একখণ্ড জমির মালিক হিসেবে আন্তর্জাতিক লুনার ল্যান্ড রেজিস্ট্রির নথিভুক্ত হয়েছেন শাহিন আলম ও শাকিল হোসেন।

এর পরের দুই পাতায় জমি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এবং চাঁদের মানচিত্রে সেই কথিত জমির ছবি দেয়া আছে।

আরেকটি পাতায়, শাহিন ও শাকিলকে চাঁদের নাগরিকত্বের ‘স্বীকৃতিও’ দেয়া হয়েছে। কল্পিত সেই রাষ্ট্রের নাম ‘লুনার রিপাবলিক’।

সাতক্ষীরার ২ তরুণ এখন চাঁদের ‘নাগরিক’
চিহ্নিত অংশটি শাহিন ও শাকিলের কথিত জমি

চাঁদের জমি বিক্রি করছে কারা

লুনার অ্যাম্বেসি নামের ওয়েবসাইটে গিয়ে জানা যায়, ড্যানিশ এম হোপ নামের এক আমেরিকান নাগরিক ১৯৮০ সালে জাতিসংঘ এবং আমেরিকান ও রাশিয়ান সরকারের কাছে চাঁদের মালিক হওয়ার ঘোষণাপত্র দেন। এরপর ১৯৯৬ সাল থেকে ওয়েবসাইট খুলে বসে চাঁদে জমি বিক্রি শুরু করেন তিনি।

সাতক্ষীরার ২ তরুণ এখন চাঁদের ‘নাগরিক’
চাঁদের কথিত মালিক ড্যানিশ এম হোপ

ভাইস ডটকমে ড্যানিশ এম হোপের একটি সাক্ষাৎকার পাওয়া গেছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি শুধু চাঁদই নয়, মঙ্গল, শুক্র, বুধেরও ‘মালিক’।

সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ১৯৮০ সালে তার বিয়েবিচ্ছেদ হয়। তখন আর্থিক অবস্থাও ভালো ছিল না। এক রাতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে মনে হলো এর মালিক হবেন, সেই জমি বিক্রি করে খুলবেন উপার্জনের পথ।

এরপর অনেক পড়াশোনা করে ড্যানিশ জানতে পারেন, পৃথিবী ছাড়া সৌরজগতের আর কোথাও ব্যক্তি মালিকানা নেই। এরপরই চাঁদ ও আটটি গ্রহের মালিকনা দাবি করে তিনি চিঠি পাঠান জাতিসংঘে।

চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, মালিকানা নিতে কোনো আইনি বাধা থাকলে যেন তাকে জানানো হয়। তবে সেই চিঠির কোনো জবাব দেয়নি জাতিসংঘ। আর যায় কোথায়, সেই থেকে চাঁদ এবং আটটি গ্রহের মালিক বনে গেছেন ড্যানিশ এম হোপ।

শেয়ার করুন

মানুষের সমাজে মারা গেলেন বাস্তবের টারজান

মানুষের সমাজে মারা গেলেন বাস্তবের টারজান

হো ভ্যান ল্যাং

ভিয়েতনামের গহীণ অরণ্য থেকে মানুষের সমাজে ফিরে আসার পর আট বছরের বেশি বাঁচলেন না ৫২ বছর বয়সী হো ভ্যান ল্যাং। অথচ এর আগের ৪০ বছর জঙ্গলেই দিব্যি কাটিয়ে দিলেন বাস্তব জীবনের এই টারজান। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে সম্প্রতি মারা গেছেন তিনি।

১৯৭২ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন সেনাদের ছোড়া বোমার আঘাতে মারা যান হো ভ্যান ল্যাংয়ের মা। এরপরই মাত্র চার বছর বয়সে মানুষের সমাজ থেকে পালিয়ে বাবার সঙ্গে গহীণ অরণ্যে চলে যান ল্যাং। সঙ্গে তার ভাইও ছিল।

জঙ্গলের গভীরে বসবাস করার সময় পুরো পৃথিবী থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তারা। যুদ্ধের ঘোর তাদের কখনোই কাটেনি। জঙ্গলে বসবাসের সময় তারা ভাবতেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ২০১৩ সালে তাদেরকে মানুষের সমাজে ফিরিয়ে আনা হয়। জঙ্গলে তাদের প্রিয় খাবার ছিল বানর, সাপ আর গিরগিটি। এ ছাড়া হাতের কাছে তারা যা পেতেন, তাই খেতেন। খাদ্য হিসেবে ল্যাংয়ের কাছে সবচেয়ে প্রিয় ছিল ইঁদুরের মাথা।

মজার ব্যাপার হলো- নারীরা কেমন হয় সে সম্পর্কেও কোনো ধারণা ছিল না ল্যাংয়ের। কারণ এ সম্পর্কে তার বাবা কখনোই তাকে কিছু বলেননি।

জঙ্গলে টারজানের মতো জীবন কাটালেও মানুষের সমাজে মোটেও খাপ-খাওয়াতে পারেননি ল্যাং। ফল হয় মারাত্মক। তেল মশলা দিয়ে রান্না করা খাবার খেয়ে অবশেষে লিভার ক্যান্সার হয়ে যায় ল্যাংয়ের। ক্যান্সারে ভুগেই গত ৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যু হয় তার।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি স্টারের খবরে বলা হয়- অ্যালভারো সিরেজো নামে এক অভিযাত্রীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছিল ল্যাংয়ের। দুজন মিলে এক সপ্তাহের জন্য জঙ্গলেও বসবাস করে এসেছিলেন।

সিজেরো বলেন, ‘তার মৃত্যুতে আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। তবে আমি মনে করি, এই মৃত্যু তার মুক্তি। কারণ গত কয়েক মাস ধরেই সে খুব কষ্ট সহ্য করছিল।’

সিজেরো জানান, মানুষের সমাজে ল্যাংয়ের বসবাসকে তিনি পছন্দ করতেন না। কারণ তিনি জানতেন, জঙ্গলের সঙ্গে সমাজের যে বিরাট ব্যাবধান তা ল্যাংয়ের শরীর সহ্য করতে পারবেনা।

সিজেরোর কথাই সত্য হল। বন্ধু সম্পর্কে তার মন্তব্য হলো- ‘ল্যাং ছিল যেন ছোট্ট এক শিশু। কিন্তু তার দক্ষতা ছিল সুপারম্যানের মতো।’

শেয়ার করুন

হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার

হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার

হলুদভাইকে খুঁজে দিলে ২ হাজার টাকার পুরস্কার দেবে রায় পরিবার। ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও বেড়ালটিকে পাওয়া যায়নি। ‘হলুদভাই’কে হারিয়ে পরিবারের সবার ভীষণ মন খারাপ। বিশেষ করে ছোটরা খুব ভেঙে পড়েছে।

হারিয়ে যাওয়া প্রিয় বিড়ালকে খুঁজে দিতে পারলে নগদ ২ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে পোস্টার ছাপিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রায় পরিবার। বিড়ালটির গায়ে ডোরাকাটা দাগ, নাম ‘হলুদভাই’।

ব্যবসায়ী তাপস রায়ের বাড়ি হাওড়া জেলার উত্তর বাকসাড়া এলাকায়। তার স্ত্রী শুক্লা রায় ও কন্যা নবনীতা।

তিন বছর আগে ঝড় বৃষ্টির এক রাতে তাপসের বাড়ির দরজায় একটি বিড়াল কাঁদছিল। দরজা খুলে তার স্ত্রী ও কন্যা দেখেন, বৃষ্টিতে ভিজে একসার বিড়ালটি ঠকঠক করে কাঁপছে। এরপর পরম যত্নে বিড়ালটিকে ঘরে নিয়ে গরম দুধ খাইয়ে ধাতস্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।

সেই থেকে বিড়ালটি রায় পরিবারের একজন সদস্য। নাম রাখা হয় ‘ঘন্টি’। কিছুদিন পর বিড়ালটি চারটি বাচ্চার জন্ম দেয়। এদেরই একজন ‘হলুদভাই’। যাকে গত ১৫ দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

হারানো বিড়াল খুঁজে দিলেই পুরস্কার
প্রিয় বিড়ালের পোস্টারের সামনে নবনীতা

শুক্লাদেবী জানান, বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও লাভ হয়নি। ‘হলুদভাই’কে হারিয়ে পরিবারের সবার ভীষণ মন খারাপ। বিশেষ করে ছোটরা খুব ভেঙে পড়েছে।

তাই বাড়ির এই ছোট্ট সদস্যকে খুঁজে পেতে নগদ ২ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়।

কাঁদো কাঁদো নবনীতা বলেন, ‘শরীরে সাদার ওপর হলুদ ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। তাই ওর নাম দিয়েছি হলুদভাই। ও সবার খুব প্রিয়। প্রতিদিন ভোর বেলা ঘুম ভাঙাতো।’

বিড়ালের প্রতি এই ভালোবাসার ব্যাকুলতা নজর কেড়েছে হাওড়াবাসীর।

শেয়ার করুন