কর দিয়ে পুরস্কার পেল শীর্ষ ৩০ প্রতিষ্ঠান

কর দিয়ে পুরস্কার পেল শীর্ষ ৩০ প্রতিষ্ঠান

বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা প্রধান অতিথির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। ছবি: নিউজবাংলা

করদাতা দুই ধরনের। ব্যক্তি করদাতা এবং কোম্পানি করদাতা। কর প্রদানকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর উভয় ক্ষেত্রের করদাতাদের সম্মাননা দিয়ে আসছে এনবিআর।

গত অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি কর দেয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের শীর্ষ ৩০ করদাতা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড- এনবিআর। ব্যাংক, বিমা উৎপাদনমুখীসহ পাঁচ ক্যাটাগরিতে এ সম্মাননা দেয়া হয়।

মঙ্গলবার এনবিআরের অধীন বৃহৎ করদাতা ইউনিট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজীয়দের নাম ঘোষণা করা হয়। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর বিসিএস কর অ্যাকাডেমিতে ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন।

বৃহৎ করদাতা ইউনিটে ১ হাজার ১৭১টি কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক, বিমাসহ ৩০টি কোম্পানি গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ কর পরিশোধ করায় তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দেয়া হলো।

মূলত দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানের কর আদায় নিবিড় তদারকির জন্য গঠিত হয় বৃহৎ করদাতা ইউনিট বা লার্জ ট্যাক্সপেয়ার ইউনিট।

করদাতা দুই ধরনের। ব্যক্তি করদাতা এবং কোম্পানি করদাতা। কর প্রদানকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর উভয় ক্ষেত্রের করদাতাদের সম্মাননা দিয়ে আসছে এনবিআর।

কোম্পানির পাঁচ ক্যাটাগরির মধ্যে এবার ব্যাংক খাতে ১৩টি, সেবা খাতে ৩টি, নন-ব্যাংক আর্থিক খাত ২টি, বিমা খাত ২টি এবং উৎপাদনমুখী খাতের ১০টি প্রতিষ্ঠানকে শীর্ষ করদাতা হিসেবে বাছাই করা হয়।

অনুষ্ঠানে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নির্বাহীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র গ্রহণ করেন।

সেরা করদাতার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উৎসে কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, গ্রামীণফোন ও তিতাস গ্যাসকেও পুরস্কার দেয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন গভর্নর ফজলে কবির।

সরকারের পক্ষ হয়ে কর আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয় উৎসে কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে এনবিআরের তালিকাভুক্ত প্রায় তিন হাজার উৎসে কর কর্তনকারী কর্তৃপক্ষ রয়েছে।

এবার পুরস্কার পাওয়া ব্যাংক খাতের শীর্ষ করদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ইসলামী, স্ট্যান্ডার্ড, এইচএসবিসি, ডাচবাংলা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল, ন্যাশনাল, ইষ্টার্ন, আল-আরাফাহ, এক্সিম, ট্রাস্ট, দ্য প্রিমিয়ার ও প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড।

সেবা ক্যাটাগরিতে রয়েছে- গ্রামীণফোন, শেভরন বাংলাদেশ ও এম জে এল বাংলাদেশ লিমিটেড। নন-ব্যাংক আর্থিক ক্যাটাগরিতে রয়েছে আইডিএলসি, ফাইন্যান্স, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।

বিমা ক্যাটাগরিতে আছে আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সাধারণ বিমা করপোরেশন। এ ছাড়া উৎপাদনমুখী ক্যাটাগরিতে আছে- ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, স্কয়ার ফার্মসিউটিক্যালস, শেখ আকিজ উদ্দিন লিমিটেড, উত্তরা মোটর্স, উত্তরা অটোমোবাইলস, পারফেক্ট টোব্যাকো, নেসলে বাংলাদেশ, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

বৃহৎ করদাতা ইউনিটের কমিশনার ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, রাজস্ব বোর্ডের জ্যেষ্ঠ সদস্য মো. আলমগীর হোসেন ও গোলম নবী।

আরও পড়ুন:
সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত সেরা করদাতারা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ

‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা ক্ষীণ

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ বাংলাদেশে আঘাত হানার আশঙ্কা করছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফাইল ছবি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘‘গুলাব’ ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িশ্যায় আগামীকাল রোববার বিকেল নাগাদ আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশে এটির আসার আশঙ্কা খুবই কম। তবে তার প্রভাবে উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।’

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ভারতীয় ভূখণ্ডে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ নামে আঘাত হানবে। ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে আঘাতের আশঙ্কা খুবই কম বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ নামটি পাকিস্তানের দেয়া, যার ইংরেজি নাম রোজ; বাংলায় যার অর্থ গোলাপ ফুল।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘‘গুলাব’ ঘূর্ণিঝড় ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও উড়িশ্যায় আগামীকাল রোববার বিকেল নাগাদ আঘাত হানতে পারে। বাংলাদেশে এটির আসার আশঙ্কা খুবই কম। তবে তার প্রভাবে উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাত হবে।’

রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শনিবার বৃষ্টি হয়েছে। এ বৃষ্টি রোববারও হবে জানিয়ে আব্দুর রহমান বলেন, ‘‘ঢাকায় শনিবার ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি নিম্নচাপের প্রভাবেই হয়েছে। ‘গুলাবের’ কারণে এখনও ভারী বর্ষন হয়নি কোথাও। সমুদ্রবন্দরগুলোতে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে। তবে গতিবিধি অনুযায়ী পরে সংকেত দেয়া হতে পারে।’’

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি শনিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি-বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ বলছে, ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ শনিবার পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে রোববার দক্ষিণ ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ ছাড়া তেলেঙ্গনা, চত্তিশগড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ বেশি। মাছ ধরার ট্রলারকে সোমবার পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে না যেতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত সেরা করদাতারা

শেয়ার করুন

ওসি হতে পারেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা: আইজিপি

ওসি হতে পারেন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা: আইজিপি

শনিবার ঢাকা রেঞ্জের আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন আইজিপি বেনজীর আহমেদ।

আইজিপি বলেন, ‘থানার ওসি চাইলেই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা হতে পারেন‌। মানুষের জন্য কাজ করে তাদের হৃদয় ও মন জয় করা যায়। এটা টাকা দিয়ে কেনা যায় না।’

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা চাইলেই ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার’ মতো মানুষের মন জয় করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ।

তিনি বলেছেন, ‘থানার ওসি চাইলেই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা হতে পারেন‌। মানুষের জন্য কাজ করে তাদের হৃদয় ও মন জয় করা যায়। এটা টাকা দিয়ে কেনা যায় না।’

শনিবার ঢাকা রেঞ্জের আগস্ট মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। সর্বদা সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে পুলিশিং কার্যক্রম চালু রাখতে হবে।’

বিট পুলিশিংকে একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিটি ইউনিয়নে থানা করার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বিট পুলিশিং ওই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছিলেন, প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেয়া হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি ইউনিয়নে অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিট পুলিশং কার্যকর অবদান রাখতে পারে।’

আইজিপি বলেন, ‘কোনো পুলিশ সদস্য যদি অপরাধে জড়িত থাকে, তাহলে তাকে সেটি বন্ধ করতে হবে। পুলিশে কোনো অপরাধীর জায়গা নেই। আমরা যত ভালো কাজ করি না কেন, একটি খারাপ কাজ সব অর্জন নষ্ট করে দেয়।’

জুনিয়রদের যোগ্য করে গড়ে তোলা সিনিয়রদের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জুনিয়রদের জন্য ভালো উদাহরণ তৈরি করতে হবে। ভালো কাজে তাদেরকে মোটিভেট করতে হবে। তাদেরকে সুপারভাইজ করতে হবে।’

আইজিপি বলেন, ‘চাকরিতে প্যাশন আনতে হবে। প্রত্যেক পুলিশ সদস্যের সম্মান ও মর্যাদাবোধ থাকতে হবে। পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

মাদারীপুর জেলা পুলিশ আয়োজিত এ সভায় ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজিরাসহ রেঞ্জের আওতায় থাকা সব জেলার পুলিশ সুপার এবং কর্মকর্তারা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত সেরা করদাতারা

শেয়ার করুন

পেন্সিলের ভারসাম্য নিয়ে গিনেস বুকে মনিরুল  

পেন্সিলের ভারসাম্য নিয়ে গিনেস বুকে মনিরুল  

৩০ সেকেন্ডে ৫০টি পেনসিল ব্যালান্স করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেন নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমে গিনেস রেকর্ডের ওয়েবসাইটে আমি আবেদনের নিয়ম-কানুনগুলো পড়ি। এরপর সে অনুযায়ী, ভিডিও করে পাঠাই। খুব শিগগিরই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করব।

এক হাতের উপর সর্বোচ্চ সংখ্যক পেন্সিলের ভারসাম্য রক্ষা করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম। ৩০ সেকেন্ডে ৫০টি পেন্সিল ব্যালান্স করে এ কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুক কর্তৃপক্ষ শুক্রবার তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। শনিবার সকালে নিউজবাংলাকে স্বীকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন মনিরুল নিজেই। এ বছরের ৩ জুন এটি করেছিলেন মনিরুল।

মনিরুল জানান, ফেব্রুয়ারিতে ইউটিউবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বুক প্রতিযোগিতার এই ইভেন্টটি দেখতে পান তিনি। তিনি পারবেন মনে হওয়ায় ওই দিনই ৫০টি পেন্সিল কিনে আনেন অনুশীলনের জন্য।

প্রথম দিকে পারছিলেন না, তবে বাবা-মা আর বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় বারবার চেষ্টা করে সফল হয়েছেন বলে জানান তিনি।

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এ শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমে গিনেস রেকর্ডের ওয়েবসাইটে আমি আবেদনের নিয়ম-কানুনগুলো পড়ি। এরপর সে অনুযায়ী, ভিডিও করে পাঠাই। খুব শিগগিরই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করব। আরও কয়েকটি ইভেন্টের জন্য আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।

‘বাংলাদেশের হয়ে এমন কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। আগামীতে যেন দেশের জন্য আরও বড় কিছু করতে পারি সে জন্য সবার দোয়া চাই।’

পেন্সিলের ভারসাম্য নিয়ে গিনেস বুকে মনিরুল

মনিরুলের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়। বাবা জহিরুল ইসলাম ও মা খায়রুন নাহার। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি বড়।

বাংলাদেশের হয়ে ১৫তম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী মনিরুল ইসলামের কৃতিত্বে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন।

অবশ্য এই ইভেন্টে আগের রেকর্ডটিও ছিল বাংলাদেশির। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী টাঙ্গাইলের সিয়াম রেজোয়ান খান ৩০ সেকেন্ডে ৪৪টি পেন্সিল ব্যালান্স করে রেকর্ডটি করেছিলেন।

আরও পড়ুন:
সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত সেরা করদাতারা

শেয়ার করুন

কুমিল্লা-লাকসাম ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু

কুমিল্লা-লাকসাম ডাবল লাইনে ট্রেন চলাচল শুরু

কুমিল্লা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এলাকায় ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনের উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। ছবি: নিউজবাংলা

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় রেলকে ধ্বংস করা হয়েছিল। ধ্বংসপ্রাপ্ত রেলে পুনরায় গতি ফিরিয়ে আনেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করেন। বর্তমানে রেলওয়েতে অনেক প্রকল্প চলমান।’

কুমিল্লা থেকে লাকসাম পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার এলাকায় ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে শুরু হয়েছে ট্রেন চলাচল।

কুমিল্লা স্টেশনে শনিবার সকালে ট্রেন চলাচল উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, ‘একসময় রেলকে ধ্বংস করা হয়েছিল। ধ্বংসপ্রাপ্ত রেলে পুনরায় গতি ফিরিয়ে আনেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘প্রধানমন্ত্রী ২০১১ সালে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন করেন। বর্তমানে রেলওয়েতে অনেক প্রকল্প চলমান। সিঙ্গেল লাইনকে পর্যায়ক্রমে ডাবল লাইনে রূপান্তর করা হচ্ছে। নতুন নতুন ব্রিজ করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের যেসব এলাকায় রেল সংযোগ নেই সেখানে সংযোগ দেয়া হচ্ছে।’

সুজন বলেন, কক্সবাজারে নতুন রেললাইন চালু হবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। যমুনা নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে, যেটি ২০২৪ সালে চালু হবে।

তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত করা হচ্ছে। খুলনা থেকে মোংলা পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এভাবে অনেক প্রকল্প নেয়া হয়েছে রেলের উন্নয়নে।’

রেলপথ মন্ত্রণালয় জানায়, আখাউড়া-লাকসাম সেকশনে নতুন ৭২ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ দ্বিতীয় রেললাইন নির্মাণ এবং বিদ্যমান ৭২ কিলোমিটার মিটার গেজ রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ চলছে। এর মধ্যে লাকসাম-কুমিল্লা সেকশনের ২৪ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলো।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘যে দেশ যত উন্নত, সে দেশের রেল যোগাযোগ তত উন্নত। একটা ভারসাম্যপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী রেল খাতকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন।

‘আখাউড়া থেকে টঙ্গী পর্যন্ত পরবর্তী সময়ে ব্রডগেজ করা হবে। ভবিষ্যতে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাটাই ডুয়েলগেজ ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে।’

ওই সময় নিরাপদ যাত্রার অংশ হিসেবে ট্রেনে ঢিল ছোড়ার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘একটি নিরাপদ রেল ভ্রমণকে অনিরাপদ করে তুলছে কিছু দুষ্কৃতকারী। এর বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

রেলের উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামীতে ১২৫টি লাগেজভ্যান ক্রয় করা হচ্ছে। কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা তাদের পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে সারা দেশে সরবরাহ করতে পারবে।’

আরও পড়ুন:
সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত সেরা করদাতারা

শেয়ার করুন

সাগরে ‘গুলাব’, আঘাত হানছে ভারতে

সাগরে ‘গুলাব’, আঘাত হানছে ভারতে

ভারতের ওডিশা ও অন্ধপ্রদেশের দিকে ধেঁয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ‘গুলাব’ ভারতের ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ এলাকায় আঘাত হানবে; বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। এর প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টি হবে। ভারতের আবহাওয়া অফিসও জানিয়েছে একই তথ্য।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’-এ পরিণত হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারত ও বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস। আর এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানবে ভারতীয় ভূখণ্ডে।

ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ নামটি পাকিস্তানের দেয়া, যার ইংরেজি রোজ; বাংলায় অর্থ গোলাপ ফুল।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ‘গুলাব’ ভারতের ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ এলাকায় আঘাত হানতে যাচ্ছে; বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। তবে এর প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টি হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ নিউজবাংলাকে বলেন, সাগরে নিম্নচাপ আছে। সেটি ভারতে বেশি প্রভাব ফেলবে।

‘গুলাব’-এর প্রভাবে দেশে গরম কমবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই নিম্নচাপের ফলে যে বৃষ্টি হবে তাতে গরম কমবে। তবে গুলাবের আঘাতে দেশে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত থাকবে আজ থেকে। কালকের মধ্যেই গুলাব নেমে যাবে।’

রাজধানী ঢাকাসহ এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। শনিবার বেলা ২টা থেকে রাজধানীতে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়। আকাশ মেঘে ঢাকা। থেমে থেমে আরও বৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সামুদ্রিক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি শনিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪০৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে।

গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটে সাগর উত্তাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

আলিগড় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাঞ্চল ও ওড়িশার দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাবে ‘গুলাব’। বর্তমানে নিম্নচাপটি ভারতের গোপালপুর থেকে প্রায় ৪৭০ কিলোমিটার ও কলিঙ্গপত্তনম থেকে ৫৪০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। এটি রোববার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে আঘাত হানবে।

ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ বলছে, ঘূর্ণিঝড় ‘গুলাব’ শনিবার পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে এগিয়ে আসছে। এর প্রভাবে রোববার দক্ষিণ ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশের উত্তরাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া তেলেঙ্গনা, চত্তিশগড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলে তীব্রবেগে বায়ু বইছে। মাছ ধরার ট্রলারকে সোমবার পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে না যেতে বলা হয়েছে।

মৌসুমি বায়ুর অবস্থান নিয়ে বলা হয়েছে, বায়ু অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।

খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি-বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আরও পড়ুন:
সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত সেরা করদাতারা

শেয়ার করুন

জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই

জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রীকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে নিজের লেখা বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’ তুলে দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পাদিত এ গ্রন্থে রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার গুণীজনের ৭৫টি লেখা স্থান পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের নতুন বই ‘শেখ হাসিনা: বিমুগ্ধ বিস্ময়’।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শনিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে বইটি তুলে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

নিউ ইয়র্কের লোটে নিউ ইয়র্ক প্যালেস হোটেলে বইটি হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

ড. মোমেন সম্পাদিত এ গ্রন্থে রাজনীতিবিদ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার গুণীজনের ৭৫টি লেখা স্থান পেয়েছে।

চন্দ্রাবতী অ্যাকাডেমি প্রকাশিত এ বইয়ে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও বহুমাতৃক নেতৃত্বের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। তাকে চিত্রিত করা হয়েছে উজ্জ্বল, ত্যাগী, দূরদর্শী ও সৃষ্টিশীল নেতৃত্বের প্রতিভূ হিসেবে।

মোমেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে ছয় বছর জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। পেশাগত প্রয়োজনে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন এবং বিচিত্র মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পেয়েছেন। এই বইয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার লেখায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা জীবনের একটি তুলনামূলক চিত্র অঙ্কন করেছেন।

এ বই সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবন ও উন্নয়নের দৃষ্টিভঙ্গি দেশবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হাসিনা কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। লক্ষ্য অর্জনে কখনও পিছপা হননি তিনি। তার অক্লান্ত প্রয়াসে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। এ দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি আজ বিশ্ববাসীর কাছে এক বিস্ময়।

তিনি বলেন, ‘২০২১ সালে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী আমরা একসঙ্গে উদযাপন করছি। একই বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন। তিনটি বিষয়ই বাঙালি ও বাংলাদেশের জন্য গৌরব আর অহংকারের।’

মোমেন পেশাগত জীবনে দীর্ঘদিন অধ্যাপনায় নিযুক্ত ছিলেন। পেশাগত ব্যস্ততার মাঝে সময় পেলেই তিনি বই পড়েন ও লেখালেখি করেন।

তার গ্রন্থিত ও সম্পাদিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে জাতির উদ্দেশে ভাষণ: শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ-একুশ শতকের পররাষ্ট্রনীতি: উন্নয়ন ও নেতৃত্ব, বাংলাদেশ: রোড টু ডেভেলপমেন্ট, বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, বাংলাদেশ মার্চিং ফরোয়ার্ড, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ, বাংলাদেশ: উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সমগ্র ১৯৫৫-১৯৭৫, বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা: বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা ও কূটনীতি, টেকসই উন্নয়নের পথে অভিযাত্রা: বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা, সাউথ সাউথ কো-অপারেশন: ফাইন্যান্সিং এসডিজি, বাংলাদেশ কান্ট্রি অফ এমপাওয়ারিং পিপল, বাংলাদেশ: ফোরটি ইয়ারস ইন দ্য ইউএন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা গবেষণা গ্রন্থে তার প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা আড়াইশরও বেশি।

আরও পড়ুন:
সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত সেরা করদাতারা

শেয়ার করুন

প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান দেখছেন প্রধানমন্ত্রী

২০১৭ সালে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন লাখ লাখ রোহিঙ্গা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের মধ্য দিয়েই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানালেন তিনি।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৭৬তম অধিবেশনে নিজের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগেও বলেছি, আবারও বলছি- রোহিঙ্গা সংকটের সৃষ্টি মিয়ানমারে, সমাধানও রয়েছে মিয়ানমারে। রাখাইন রাজ্যে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমেই কেবল এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।’

রোহিঙ্গা সংকট পঞ্চম বছরে পড়লেও কোনো অগ্রগতি নেই জানিয়ে এই বিশ্বসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কিন্তু এখন পর্যন্ত বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের একজনকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি।’

প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান দেখছেন প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ৭৬তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: নিউজবাংলা

মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে সদা প্রস্তুত।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নেয়া পদক্ষেপ আসিয়ানের নেতারা আরও গতিশীল করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ীদের জবাদদিহিতা নিশ্চিতকরণে গৃহীত সকল কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করতে হবে।’

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ‘সাময়িক অবস্থানকে’ নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখতে সরকারের নেয়া পদক্ষেপও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার নাগরিককে আমরা ভাসানচরে স্থানান্তর করেছি। আশ্রয় শিবিরে কোভিড-১৯ মহামারির বিস্তাররোধে টিকালাভের যোগ্য সকলকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন:
সম্মাননা পেয়ে আনন্দিত সেরা করদাতারা

শেয়ার করুন