অবৈধ ভিওআইপি ধরতে লালমাটিয়ায় অভিযান

অবৈধ ভিওআইপি ধরতে লালমাটিয়ায় অভিযান

লালমাটিয়ার অভিযানে র‍্যাব জব্দ করেছে বিপুল পরিমান ভিওআইপি সরঞ্জামাদি। ছবি: নিউজবাংলা

র‌্যাব বলছে, অবৈধ টেলিযোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক লাখ আন্তর্জাতিক কল মিনিট অবৈধভাবে বাংলাদেশে টার্মিনেট করছে। এসব চক্রের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। টেলিযোগাযোগে রাজস্ব ফাঁকি দিতে অবৈধ ভিওআইপি কারবারে জড়িত একাধিক চক্র।

অবৈধ ভিওআইপি কারবার বন্ধে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি রাজধানীর লালমাটিয়ায় বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) সহযোগিতায় এ অভিযান শুরু হয়েছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। তা শেষ হতে গভীর রাত হতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (এএসপি) ইমরান খান জানান, মোহাম্মদপুরের জাকির হোসেন রোড ও লালমাটিয়ার ব্লক-ই-তে অভিযান চলছে। ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ ভিওআইপি সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। অভিযানের বিষয়ে পরে বিস্তারিত তথ্যসহ ব্রিফিং করা হবে।

র‌্যাব বলছে, অবৈধ টেলিযোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিদিন কয়েক লাখ আন্তর্জাতিক কল মিনিট অবৈধভাবে বাংলাদেশে টার্মিনেট করছে। এসব চক্রের অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

টেলিযোগাযোগে রাজস্ব ফাঁকি দিতে অবৈধ ভিওআইপি কারবারে জড়িত একাধিক চক্র। কোটি কোটি টাকা তারা হাতিয়ে নিচ্ছে এ পন্থায়। বাসাবাড়িতে ভিওআইপি সরঞ্জামাদি স্থাপন করে তারা কারবার পরিচালনা করে।

বিভিন্ন সূত্রে তথ্য নিশ্চিত হয়ে মঙ্গলবার র‍্যাব ও বিটিআরসির সমন্বয়ে লালমাটিয়ায় অভিযান শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অবৈধ ভিওআইপি: এক চক্রেরই দিনে তিন লাখ

শেয়ার করুন

মন্তব্য

‘ইব্রাহীম-তত্ত্ব’: ব্যাখ্যা না পেলে আইনি ব্যবস্থা

‘ইব্রাহীম-তত্ত্ব’: ব্যাখ্যা না পেলে আইনি ব্যবস্থা

মুফতি কাজী ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই মুফতি ইব্রাহীম উল্টা-পাল্টা কথা বলে যাচ্ছেন। তিনি প্রথমত করোনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব ছড়িয়েছেন। এরপর আবার ভ্যাকসিন নিয়েও বলেছেন, ছেলেরা ভ্যাকসিন নিলে মেয়ের কণ্ঠ হয়ে যাবে, আর মেয়েরা ছেলে। তিনি আরো বলেছেন, স্বপ্নের মাধ্যমে তিনি করোনাভাইরাসের সব কিছুই আগে থেকে জানতেন। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করছি, তিনি কীভাবে আগে থেকে এত কিছু জানতেন।’

বিভিন্ন সময়ে উসকানিমূলক, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচারের বিষয়ে মুফতি কাজী ইব্রাহীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসব বিষয়ে সদুত্তর না পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ মঙ্গলবার দুপুরে অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই মুফতি ইব্রাহীম উল্টা-পাল্টা কথা বলে যাচ্ছেন। তিনি প্রথমত করোনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব ছড়িয়েছেন। এরপর আবার ভ্যাকসিন নিয়েও বলেছেন, ছেলেরা ভ্যাকসিন নিলে মেয়ের কণ্ঠ হয়ে যাবে, আর মেয়েরা ছেলে। তিনি আরো বলেছেন, স্বপ্নের মাধ্যমে তিনি করোনাভাইরাসের সব কিছুই আগে থেকে জানতেন। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করছি তিনি কীভাবে আগে থেকে এত কিছু জানতেন।’

পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার হারুন আরও বলেন, ‘উনি নানা সময়ে তার বক্তব্যে হিন্দুস্তানি দালালের এজেন্ট বলে অনেককে বোঝাতে চেয়েছেন। আমরা তার কাছে জানতে চাচ্ছি, তিনি কাদের দালাল আর এজেন্ট বলছেন। তারা কীভাবে তার দৃষ্টিতে দালাল হলো, কোন ভূমিকার জন্য তাদের দালাল বলা হচ্ছে, সেটাও আমরা তাকে জিজ্ঞেস করছি।

‘পাশাপাশি নানা সময়ে তিনি যেসব ধর্মীয় উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, অসত্য তথ্য প্রচার করে সাধারণদের বিভ্রান্ত করেছেন- এসব বিষয়েও তাকে প্রশ্ন করা হবে। এসব কারণেই তাকে ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তিনি যদি এসবের সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সোমবার রাত ১টার পর মুফতি ইব্রাহীম তার ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন। প্রায় ২০ মিনিটের লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন রোডে তার বাসায় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। তিনি আশপাশের সবাইকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে বলেন।

মঙ্গলবার সকালে ডিবি থেকে জানানো হয়, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিবির একটি বিশেষ দল ইব্রাহীমকে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে আটক করেছে।

ফেসবুক লাইভে ইব্রাহীম জানান, দেশের সরকার ও জনগণের কল্যাণে, দেশের স্বাধীনতার জন্য গত দুই জুমার নামাজে খুতবা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে হিন্দুস্তানি রাজাকার ও তাদের এজেন্টরা তার পেছনে লেগেছে। মাঝরাতে বাসায় হামলা করেছে।

সেই লাইভে মুফতি ইব্রাহীম বঙ্গবন্ধুর মতো স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম দেশকে স্বাধীন করার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম দেশকে হিন্দুস্তানি রাজাকারমুক্ত করার সংগ্রাম।

‘দেশের পক্ষে কথা বললেই রাজাকাররা আমাদের ওপর হামলা করে, মামলা দিয়ে হয়রানি করে। দুই সপ্তাহ দেশের পক্ষে কথা বলেছি, আর সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে তারা বলে হুজুর আপনার নামে মামলা আছে। এরা সবাই হিন্দুস্তানি দালাল। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
অবৈধ ভিওআইপি: এক চক্রেরই দিনে তিন লাখ

শেয়ার করুন

‘রাষ্ট্র তুমি বিচার কর’

‘রাষ্ট্র তুমি বিচার কর’

স্কলাস্টিকা স্কুলের শিক্ষক ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের দাবিতে সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ। ছবি: নিউজবাংলা

সমাবেশে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সম্পাদক ইমতিয়াজ ফারুক বলেন, ‘ইভানার মৃত্যুর ঘটনার পেছনে কারা জড়িত সেটি সামনে আসুক। সেটাই আমরা চাই। এভাবে যেন আর কোনো ইভানাকে মৃত্যুবরণ করতে না হয়। সেজন্য তার মৃত্যুর পেছনে জড়িত কেউ থাকলে তাকে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।’

রাজধানীর স্কলাস্টিকা স্কুলের ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সিলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে দাবি জানিয়েছেন তার সহপাঠি ও সহকর্মীরা।

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে প্রতিবাদ সভায় এ দাবি করেন তারা। তাদের ব্যানারে লেখা ছিল, ‘রাষ্ট্র তুমি বিচার কর। আমরা শুধু বিচার চাই।’

ইভানার মৃত্যুর পূর্বে ও পরের ঘটনাগুলোর তদন্তের দাবি তোলা হয় প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে।

সমাবেশে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ সম্পাদক ইমতিয়াজ ফারুক বক্তব্যে বলেন, ‘ইভানার মৃত্যুর ঘটনার পেছনে কারা জড়িত সেটি সামনে আসুক। সেটাই আমরা চাই। এভাবে যেন আর কোনো ইভানাকে মৃত্যুবরণ করতে না হয়। সেজন্য তার মৃত্যুর পেছনে জড়িত কেউ থাকলে তাকে বের করে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।’

আইনজীবী জেসমিন সুলতানা বলেন, ‘ইভানাকে কেন এভাবে জীবন দিতে হলো, কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন আমরা এ প্রশ্নের জবাব চাই।’

আইনজীবী তামান্না ফেরদৌস বলেন, ‘রাষ্ট্র তুমি বিচার কর। আমরা শুধু ইভানার মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই। ইভানার আত্মহত্যার পেছনে কারা জড়িত সেটা প্রকাশ করুন।’

প্রতিবাদ সমাবেশে ইভানার সহপাঠি, সহকর্মীরা আইনজীবীরাও অংশ নেন। এ প্রতিবাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে উদিচি শিল্পী।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পরিবাগ থেকে স্কলাস্টিকা স্কুলের ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সেলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দুটি ভবনের মাঝখানে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ইভানা লায়লা চৌধুরী (৩২) স্কলাস্টিকা স্কুলের উত্তরা ও মিরপুর শাখার ইউনিভার্সিটি প্লেসমেন্ট সার্ভিসের প্রধান ছিলেন।

ইভানার মৃত্যু নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এ ঘটনায় ইভানার পরিবারের পক্ষ থেকে গত ২৫ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনায় মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অবৈধ ভিওআইপি: এক চক্রেরই দিনে তিন লাখ

শেয়ার করুন

বিমানবন্দরে ল্যাব বসলেও শুরু হয়নি পরীক্ষা 

বিমানবন্দরে ল্যাব বসলেও শুরু হয়নি পরীক্ষা 

বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপন করা হলেও পরীক্ষা শুরু হয়নি। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিমন্ত্রী আইনজীবী মাহবুব আলী বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে সব কাজ এগিয়ে নিয়েছি। সংযুক্ত আরব আমিরাত এসওপি দিলেই আরটি-পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা শুরু করতে পারব ৷’

প্রবাসী ও বিদেশগামী যাত্রীদের করোনা শনাক্তে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপন করা হয়েছে আরটি-পিসিআর ল্যাব।

ল্যাবগুলোতে মঙ্গলবার থেকে নমুনা পরীক্ষা শুরু করার কথা থাকলেও সেটি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আইনজীবী মাহবুব আলী।

বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মঙ্গলবার দুপুরে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এসওপি না পাওয়ার কারণে নমুনা পরীক্ষা শুরু করা যাচ্ছে না।’

তবে কবে শুরু হতে পারে সেটি জানাতে পারেননি তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আমাদের জায়গা থেকে সব কাজ এগিয়ে নিয়েছি। সংযুক্ত আরব আমিরাত এসওপি দিলেই পরীক্ষা শুরু করতে পারব৷’

তবে একাধিক ল্যাব কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজের অনুমতি দিতেই মূলত এই সময় নষ্ট করা হচ্ছে।

এ বিষয় জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘এ অভিযোগ ঠিক নয়। আমরা চাইব না, আমাদের কোনো কাজের জন্য দেশের মানুষের ক্ষতি হোক, প্রবাসীরা দিনের পর দিন দেশে আটকে থাকুক।’

করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রায় তিন মাস ধরে বাংলাদেশের যাত্রীদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ ৪ আগস্ট বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশের যাত্রীদের ট্রানজিট সুবিধা চালু করে তারা। তবে ভ্রমণের ছয় ঘণ্টার মধ্যে বিমানবন্দরে র‌্যাপিড পিসিআর পদ্ধতিতে কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা করে নেগেটিভ রিপোর্ট থাকতে হবে- এমন শর্ত জুড়ে দেয় দেশটি।

আরও পড়ুন:
অবৈধ ভিওআইপি: এক চক্রেরই দিনে তিন লাখ

শেয়ার করুন

পুলিশি হয়রানি বন্ধ চান অ্যাপভিত্তিক চালকরা

পুলিশি হয়রানি বন্ধ চান অ্যাপভিত্তিক চালকরা

পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও ছয়দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে অ্যাপভিত্তিক মোটরগাড়ি চালকরা। ছবি: নিউজবাংলা

মানববন্ধনে অ্যাপভিত্তিক চালকরা বলেন, ‘গাড়ি, জ্বালানি ও শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা থেকে কোম্পানিগুলো ২৫ শতাংশের বেশি কমিশন নিচ্ছে। এ ছাড়া রাস্তায় বের হলেই আমরা বিভিন্নভাবে পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের নির্দিষ্ট কোনো পার্কিং নেই। কোথাও দাঁড়াতে দেখলেই ট্রাফিক পুলিশ যে পরিমাণ জরিমানা করে আমরা ৭ দিনেও তা আয় করতে পারি না।’

পুলিশি হয়রানি বন্ধ ও সব ধরনের রাইডে কমিশন ১০ শতাংশ নির্ধারণসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন অ্যাপভিত্তিক মোটরগাড়ির চালকরা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মঙ্গলবার তারা মানববন্ধন করেন।

সেখানে বক্তারা বলেন, আধুনিক অ্যাপনির্ভর ‘রাইড শেয়ার’ পরিষেবা দিন দিন ব্যাপক হারে বাণিজ্যিক রূপ ধারণ করছে। রাইড শেয়ারিং পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলো যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত বিল গ্রহণ করলেও চালকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের কমিশন কেটে নেয়।

তারা অভিযোগ করেন, গাড়ি, জ্বালানি ও শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্ত টাকা থেকে কোম্পানিগুলো ২৫ শতাংশের বেশি কমিশন নিচ্ছে। তার ওপর বিনা কারণে কিছু কোম্পানি অ্যাপ বন্ধ করে তাদের কর্মহীন করছে।

তারা আরও বলেন, ‘রাস্তায় বের হলেই আমরা বিভিন্নভাবে পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছি। আমাদের নির্দিষ্ট কোনো পার্কিং নেই। কোথাও দাঁড়াতে দেখলেই ট্রাফিক পুলিশ যে পরিমাণ জরিমানা করে আমরা ৭ দিনেও তা আয় করতে পারি না।

‘এদিকে মাস শেষে ধার-দেনা করে গাড়ি মেরামতের কাজ করতে হচ্ছে, আর বছর শেষে তুলতে হচ্ছে লোন। এর মধ্যেই সরকার রাইড-শেয়ারিং এনালিস্টকৃত যানবাহনগুলোর ওপর অগ্রিম ইনকাম ট্যাক্স (এআইটি) চাপিয়ে দিয়েছে।’

তাদের দাবিগুলো হলো-

. অ্যাপভিত্তিক মোটরগাড়ির চালকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কর্ম সময়ের মূল্য দিতে হবে।

. সব ধরনের রাইডে কমিশন ১০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে।

. মিথ্যে অজুহাতে তাদের কর্মহীন করা যাবে না।

. রাইড শেয়ারিংয়ের আওতাভুক্ত যানবাহনের পার্কিং ব্যবস্থা করতে হবে।

. পুলিশি হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

. রাইড শেয়ারকারী যানবাহনকে অগ্রিম ইনকাম ট্যাক্স মুক্ত রাখতে হবে।

আরও পড়ুন:
অবৈধ ভিওআইপি: এক চক্রেরই দিনে তিন লাখ

শেয়ার করুন

ডিবির হাতে আটক মুফতি ইব্রাহীম

ডিবির হাতে আটক মুফতি ইব্রাহীম

মুফতি কাজী ইব্রাহিম। ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘মুফতি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ছিল। তিনি ফেসবুক, ইউটিউব ও ওয়াজে উল্টা-পাল্টা কথা বলেন। তার এসব কথার জন্য মানুষের কাছে ভুল মেসেজ যায়। ওই সব অভিযোগ যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা নিয়ে এসেছি। আমরা তার সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছি, তিনি এসব কেন করেন।’

আলোচিত-সমালোচিত ইসলামিক বক্তা মুফতি কাজী ইব্রাহীমকে আটক করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

সোমবার দিবাগত রাত ২টার পর ডিবির একটি বিশেষ দল তাকে মোহাম্মদপুরের নিজ বাসা থেকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুফতি ইব্রাহীমকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার। তিনি বলেন, ‘মুফতি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ছিল। তিনি ফেসবুক, ইউটিউব ও ওয়াজে উল্টা-পাল্টা কথা বলেন। তার এসব কথার জন্য মানুষের কাছে ভুল মেসেজ যায়। ওই সব অভিযোগ যাচাই করতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা নিয়ে এসেছি। আমরা তার সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছি, তিনি এসব কেন করেন।’

মুফতি ইব্রাহীমের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না এবং তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, জানতে চাইলে হাফিজ আক্তার বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না সেটা আমরা জানার চেষ্টা করছি। আর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তিনি উল্টা-পাল্টা কথা কেন বলেন, সেটার উত্তর জানতে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তার উত্তরের ওপর ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ভর করছে।’

সোমবার রাত ১টার পর মুফতি ইব্রাহীম তার ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে আসেন। প্রায় ২০ মিনিটের লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন রোডে তার বাসায় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। তিনি আশপাশের সবাইকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসতে বলেন।

লাইভে ইব্রাহীম জানান, দেশের সরকার ও জনগণের কল্যাণে, দেশের স্বাধীনতার জন্য গত দুই জুমার নামাজে খুতবা দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে হিন্দুস্তানি রাজাকার ও তাদের এজেন্টরা তার পেছনে লেগেছে। মাঝরাতে বাসায় হামলা করেছে।

সেই লাইভে মুফতি ইব্রাহীম বঙ্গবন্ধুর মতো স্লোগান দিয়ে বলেন, ‘এবারের সংগ্রাম দেশকে স্বাধীন করার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম দেশকে হিন্দুস্তানি রাজাকার মুক্ত করার সংগ্রাম।’

‘দেশের পক্ষে কথা বললেই রাজাকাররা আমাদের ওপর হামলা করে, মামলা দিয়ে হয়রানি করে। দুই সপ্তাহ দেশের পক্ষে কথা বলেছি, আর সঙ্গে সঙ্গে ফোন করে তারা বলে হুজুর আপনার নামে মামলা আছে। এরা সকলেই হিন্দুস্তানি দালাল। তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।’

মুফতি ইব্রাহীমের ফেসবুক লাইভ শেষে রাত ২টার কিছু পর থেকে তার মোবাইল নম্বরও বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে জানা যায়, ডিবি হেফাজতে আছেন তিনি।

আরও পড়ুন:
অবৈধ ভিওআইপি: এক চক্রেরই দিনে তিন লাখ

শেয়ার করুন

নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে নারীর মৃত্যু

নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়ে নারীর মৃত্যু

সবুজবাগ থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আসলাম আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন জানায়, ওই নারী মায়াকানন মসজিদ এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় পাশের নির্মাণাধীন ভবনের পাঁচতলা থেকে একটি ইট তার মাথার ওপর পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।’

রাজধানীর সবুজবাগের মায়াকানন মসজিদ এলাকায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে মাথার ওপর ইট পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম ফুলি বেগম। তার বাড়ি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার পশ্চিম নয়াপাড়া গ্রামে। বর্তমানে সবুজবাগের মায়াকানন এলাকাতে ভাড়া থাকতেন তিনি। স্থানীয় বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন।

নিউজবাংলাকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সবুজবাগ থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আসলাম আলী।

তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন জানায়, ওই নারী মায়াকানন মসজিদ এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় পাশের নির্মাণাধীন ভবনের পাঁচতলা থেকে একটি ইট তার মাথার ওপর পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।’

তিনি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:
অবৈধ ভিওআইপি: এক চক্রেরই দিনে তিন লাখ

শেয়ার করুন

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য সমাপনী

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য সমাপনী

‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর সমাপনী অনুষ্ঠান মঞ্চে অতিথিরা। ছবি: নিউজবাংলা/সাইফুল ইসলাম

টুর্নামেন্টের সমাপনী দিনের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’-এর পর্দা নামল বর্ণাঢ্য সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

বনানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে সোমবার রাত ৮টার দিকে শুরু হয় সমাপনী অনুষ্ঠান।

বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন আয়োজিত ৯ দিনের এই টুর্নামেন্টে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ।

টুর্নামেন্টের সমাপনী দিনের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল।

সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং সাইফ পাওয়ারটেকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন, ফেডারেশনের সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ্, আবদুল মোনেম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন মোনেম, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. শোয়েব রিয়াজ আলম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য সমাপনী
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাতসহ আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গভীর অনুরাগের কথা তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ক্রীড়া ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বড় অর্জনগুলোর পেছনে ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুপ্রেরণা।

শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন থেকে ১২ বছর আগে বাংলাদেশ ছিল স্বল্পোন্নত দেশ, মাথাপিছু আয় ছিল বিশ্বের মধ্যে অনেক কম, বাংলাদেশ ক্ষুধা-দারিদ্র্যের দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল।

‘আর এখন চাষযোগ্য জমি অনেক কমলেও বাংলাদেশ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশ। এত জনঘনত্ব ও কম কৃষিজমির পরেও কীভাবে বাংলাদেশ খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে পরিণত হতে পেরেছে তা নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় বিস্মিত।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোনো জাদু নয়, বরং শেখ হাসিনার জাদুকরি নেত্বত্বের কারণেই বাংলাদেশ উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে এগিয়ে রয়েছে। করোনা মহামারির সময়েও বাংলাদেশের জিডিপির যে প্রবৃদ্ধি সেটি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে আন্তর্জাতিক দাবা টুর্নামেন্ট আয়োজন করায় চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের প্রশংসা করেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। আগামীতেও ড. নাফিজ সরাফাত এ ধরনের আয়োজন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য সমাপনী
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল

জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, ‘এই টুর্নামেন্ট এমন একজনের নামে আয়োজিত হয়েছে যিনি শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বের কাছে রোল মডেল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার রোল মডেল।

‘মিয়ানমারের নিপীড়িত লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব নেতাদের সামনে রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন।’

ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি শেখ হাসিনার ভালোবাসার বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘সর্বকালের সবচেয়ে প্রাজ্ঞ নেতাদের একজন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পেয়ে আমি আনন্দিত।’

তিনি বলেন, “একজন নেতাকে সব সময় মানুষ তার সাফল্যের গল্পের কারণে অনুসরণ করে না। মানুষ নেতার উদাহরণ ও আদর্শকে অনুসরণ করে।

“মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির শরণার্থীদের আমাদের দেশে আশ্রয় নেয়ার অনুমতি দেন। তিনি জানেন অন্ধকার দিয়ে অন্ধকারকে দূর করা সম্ভব নয়, আলো দিয়েই তা কেবল করা সম্ভব। পুরো বিশ্ব যখন ‘সবার উপরে মানবতা’ ধারণা সম্পর্কে নতুন করে ভাবছিল, তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকে দেখিয়েছেন এর প্রকৃত অর্থ কী এবং সেটি করতে গিয়ে তিনি ‘মানবতার জননী’ হিসেবে খ্যাতিলাভ করেছেন।”

শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবার বর্ণাঢ্য সমাপনী
‘জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার্স দাবা টুর্নামেন্ট’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত

ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে আমি তাকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই এবং মহান আল্লাহর কাছে তার সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করছি। তার সংগ্রাম আমাদের সংগ্রাম, তার জয় আমাদের জয়।’

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন নিয়ে নবম বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ক্রাউন জুয়েল’ বা ‘মুকুটের মণি’ অভিধা পাওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

পরে টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ভারতের সংকল্প গুপ্তসহ অন্য বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয় এ প্রতিযোগিতার। তবে বিজয়নগরের হোটেল ৭১-এ বিভিন্ন রাউন্ডের খেলা শুরু হয় এক দিন আগেই।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশন ও সাউথ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলের সভাপতি পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. বেনজীর আহমেদ। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সহসভাপতি এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, বোর্ড অফ ট্রাস্টিজ ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সহসভাপতি কে এম শহীদুল্লাহ্, দাবা ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. শোয়েব রিয়াজ আলম, ফেডারেশনের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান মল্লিক এবং কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত।

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে গত বছরের সেপ্টেম্বরে হয়েছিল জয়তু শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক অনলাইন দাবা টুর্নামেন্ট। ওই টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতি আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ এবং সহসভাপতি চৌধুরী নাফিজ সরাফাত ঘোষণা দিয়েছিলেন, প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে গ্র্যান্ডমাস্টার টুর্নামেন্ট আয়োজন করার। সে ঘোষণা অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছে এবারের টুর্নামেন্ট।

বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ১২ জন গ্র্যান্ডমাস্টার, ১৬ জন আন্তর্জাতিক মাস্টার ও তিনজন নারী আন্তর্জাতিক মাস্টার এই টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছেন।

প্রতিযোগিতায় মোট নগদ ১৫ হাজার আমেরিকান ডলার অর্থ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে মূল পুরস্কার ছিল ১৩ হাজার ডলার (চ্যাম্পিয়ন ৪০০০, রানার-আপ ২৫০০, তৃতীয় ১৫০০, চতুর্থ ১০০০, পঞ্চম ১০০০, ষষ্ঠ ১০০০, সপ্তম ১০০০, অষ্টম ১০০০ ডলার)।

বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য দুই হাজার আমেরিকান ডলার (প্রথম ৭০০, দ্বিতীয় ৫০০, তৃতীয় ৪০০, চতুর্থ ২০০ এবং পঞ্চমকে ২০০ ডলার) পুরস্কার দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
অবৈধ ভিওআইপি: এক চক্রেরই দিনে তিন লাখ

শেয়ার করুন