করোনায় টানা দেড় মাস কম শনাক্ত ও মৃত্যু

করোনায় টানা দেড় মাস কম শনাক্ত ও মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ৩৬৮ জন। এর আগের সপ্তাহে মারা গেছেন ৫৪৮ জন। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত্যুর হার কমেছে ৩২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। কমেছে রোগী শনাক্তের হারও।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়াবহ পরিস্থিতি ছিল জুলাইয়ে। সে সময় সারা দেশে তিন লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে শুধু জুলাই মাসেই মারা গেছে সাত হাজারের বেশি মানুষ। তবে আগস্টের প্রথম দিকেই কমতে শুরু করে সংক্রমণ।

গত সপ্তাহে তার আগের সপ্তাহের চেয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষা, রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। টানা দেড় মাস ধারাবাহিকভাবে কমে আসছে করোনা সংক্রমণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ৩৬৮ জন। এর আগের সপ্তাহে মারা গেছেন ৫৪৮ জন। ওই এক সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত্যুর হার কমেছে ৩২ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

কমে এসেছে রোগী শনাক্তের হারও। গত সপ্তাহে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৫ হাজার ৯৫৭ জন, আগের সপ্তাহে শনাক্ত হয়েছিলেন ২০ হাজার ৯১৯ জন। রোগী শনাক্তের হার কমেছে ২৩ দশমিক ৭২ শতাংশ।

রোগী শনাক্তের হার কমে আসার কারণে সুস্থতার হার কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহে রোগী সুস্থ হয়েছেন ২৭ হাজার ৭৫৮ জন। এর আগের সপ্তাহে সুস্থ হয়েছিলেন ৩৫ হাজার ৩৬৬ জন।

রোগী সুস্থ হওয়ার হার কমেছে ২১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

একই সঙ্গে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও কমে আসছে, গত সপ্তাহে (৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর) করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার ৭১৮টি।

এর আগের সপ্তাহে (৩০ আগস্ট থেকে ৫ সেপ্টেম্বর) নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল এক লাখ ৯৪ হাজার ৬২২টি। অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষার হার কমেছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ।

এর আগের সপ্তাহে নতুন রোগী শনাক্ত কমেছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। এ সময়ে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যাও কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ। এই সপ্তাহে মোট ৫৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনাক্ত হিসেবে এই সপ্তাহে মৃত্যু কমেছে ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ।

এ সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৯১৯ জনের দেহে। গত এক সপ্তাহে মোট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬২২ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এক সপ্তাহে নমুনা পরীক্ষা কমে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এর আগে ২৩ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে করোনা নতুন রোগী ধরা পড়ে ৩১ হাজার ৫৩৯ জন, যা শনাক্ত হিসেবে আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৬ দশমিক ৮২ শতাংশ কম। এ সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৭৩৩ জনের, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৩ শতাংশ কম।

এর আগে ১৬ থেকে ২২ আগস্ট করোনাভাইরাসে নতুন রোগী শনাক্ত হয় ৪৩ হাজার ৯৫ জন। এর আগের সপ্তাহের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৯১ শতাংশ কম শনাক্ত। এ সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয় ১১ হাজার ৭ জনের, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৭ দশমিক ৩১ শতাংশ কম।

৯ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয় ৬৫ হাজার ২০৭ জন, যা শনাক্তের হিসাবে আগের সপ্তাহের তুলনায় ২৭ দশমিক ৩ শতাংশ কম। এ সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫২৩ জনের, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১২ দশমিক ২৭ শতাংশ কম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে মার্চ থেকে। তখন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ে। পরের কয়েক মাস এটির দ্রুত বিস্তার ঘটে, যা দেশজুড়ে শঙ্কা ও চিকিৎসা সংকট তৈরি করে।

তবে পাঁচ মাস পর পরিস্থিতির উন্নতি দেখা যাচ্ছে। গত দেড় মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হার।

গত জুলাই মাসে দ্বিতীয় ঢেউ তার চূড়া স্পর্শ করে। তখন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়, যা এখন ৯ শতাংশের ঘরে।

করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের দেয়া লকডাউনের মধ্যে প্রতিদিন আড়াই শর বেশি মানুষের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। এ ছাড়া করোনা উপসর্গে মারা গেছেন আরও বহুজন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সম্ভবত শেষ হতে চলেছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মানলে তৃতীয় ঢেউ আসার শঙ্কা রয়েছে।

কেউ কেউ বলছেন, তৃতীয় ঢেউ আঘাত হানার আশঙ্কা কিছুটা কম। তবে এরই মধ্যে করোনার তৃতীয় ঢেউ প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে ও দেশের বিমানবন্দরগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে তৃতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২০ দিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে সাড়ে ৫ হাজার, মৃত্যু ১৩

২০ দিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে সাড়ে ৫ হাজার, মৃত্যু ১৩

করোনার মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে হাতপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে এক শিশু। ছবি: সাইফুল ইসলাম

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৯৭৬ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ১৪ হাজার ৮৪৫ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৭২ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৫৭ ডেঙ্গু রোগী।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২৭৫ জন। এ নিয়ে মাসের ২০ দিনে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেন ৫ হাজার ৬২০ রোগী। এদের মধ্যে মারা গেছে ১৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে সোমবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২৭৫ জনের মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই ভর্তি হয়েছে ২১১ জন। অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৬৪ জন।

চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৯৭৬ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ১৪ হাজার ৮৪৫ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৭২ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪১ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮৫৭ ডেঙ্গু রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়। চলতি মাসের ২০ দিনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে। সেই বছর ১ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনও দেখেনি দেশ।

তার আগে ডেঙ্গুতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় ২০০২ সালে, সেবার ৫৮ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ ছাড়া ২০০১ সালে ৪৪ জন মারা যায়। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে ডেঙ্গু তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী ও মৃত্যুর হার।

শেয়ার করুন

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

স্তন ক্যানসার রোধে অ্যাস্ট্রাজেনেকার যুগান্তকারী সাফল্য

অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

বিশ্বে প্রতি আটজনে অন্তত একজন নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশেও প্রতিবছর দেড় লাখের বেশি মানুষ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন।

এবার স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাফল্যের দাবি করেছে গবেষণাভিত্তিক বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের আবিষ্কৃত একটি ওষুধ স্তন ক্যানসারে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি কার্যকর। তাদের ওষুধ রোগীর শরীরে প্রয়োগ করলে মৃত্যুর ঝুঁকি এবং রোগটি ছড়িয়ে পড়া অনেকাংশেই কমে যায়।

ব্রিটিশ ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিটি দাবি করছে, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে তাদের ‘এনহার্টু’ ট্রায়ালে যুগান্তকারী ফলাফল দেখা গেছে। রোগীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এটি শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে জানা গেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার এই এনহার্টু ট্রায়ালে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ওশেনিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার অন্তত ৫০০ রোগীকে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।

ইনডিপেন্ডেন্টের খবর- ট্রায়ালে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে ৭৫ শতাংশের শরীরেই স্তন ক্যানসার আর বাড়তে পারেনি। সেই তুলনায় ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন (টি-ডিএম১) নামে প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে মাত্র ৩৪.১ শতাংশের শরীরে এমন সাড়া মিলেছে। এনহার্টু পদ্ধতিতে রোগটি না বাড়ার সময়সীমা ৭.২ মাস থেকে ২৫.১ মাসে উন্নীত হয়েছে।

তিন ধাপের এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার ১২ মাস পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার এনহার্টু গ্রহণ করা রোগীদের মধ্যে ৯৪.১ শতাংশ বেঁচে ছিলেন। আর ট্রাস্টুজুমাব এমটানসাইন গ্রহণ করাদের মধ্যে বেঁচেছিলেন ৮৫.৯ শতাংশ।

ট্রায়ালের ফলাফলের কথা জানিয়ে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অঙ্কোলজি বিভাগের নির্বাহী উপপ্রধান সুসান গ্যালব্রেইথ বলেছেন, ‘এই ফল যুগান্তকারী।’

শেয়ার করুন

মজুত কোটির বেশি, এসএমএসের অপেক্ষায় অর্ধকোটি

মজুত কোটির বেশি, এসএমএসের অপেক্ষায় অর্ধকোটি

দেশে টিকা পেতে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৪১ জন। এর মধ্যে টিকা পেয়েছেন ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৪ হাজার ৩২ জন। এই হিসাবে নিবন্ধন করেও টিকা পেতে অপেক্ষায় আছেন ৫৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৯ জন।

দেশে এখন পর্যন্ত যারা করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা পেতে নিবন্ধন করেছেন, তাদের মধ্যে অর্ধকোটির বেশি মানুষ টিকা পাননি। নিবন্ধনের দুই মাসের বেশি সময় পরও পাচ্ছেন না টিকার এসএমএস।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে রোববার দেশের সবশেষ করোনা পরিস্থিতি তুলে ধরেন অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম। এ সময় টিকাবিষয়ক তথ্যও জানান তিনি।

নাজমুল বলেন, টিকা পেতে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭১ হাজার ৫৪১ জন। এর মধ্যে টিকা নিয়েছেন ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৪ হাজার ৩২ জন। এই হিসাবে নিবন্ধন করেও টিকা পেতে অপেক্ষায় আছেন ৫৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫০৯ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, টিকা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৪ কোটির বেশি মানুষ। এ ছাড়া পাসপোর্টের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৭ জন।

গণমাধ্যমকর্মী আজহারুল ইসলাম টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন ২ আগস্ট। এখনও এসএমএস পাননি। কবে পাবেন জানেনও না। হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শুনেছি লাখ লাখ টিকা আসছে, এরপরও এসএমএস পাচ্ছি না।’

করোনা সংক্রমণের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখে টিকা পেতে নিবন্ধন করেন গণমাধ্যমের আরেক কর্মী রাকিব খান। তার দশা আজহারুল ইসলামের মতোই। দেড় মাস হলো এসএমএস নেই।

আক্ষেপ করে রাকিব খান বলেন, ‘কবে যে টিকার এসএমএস আসবে। ভিড় এড়াতে এবং দ্রুত সময়ে টিকা নিশ্চিতে শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল কেন্দ্রে টিকার নিবন্ধন করেছিলাম। তবে এখনও টিকা পাইনি। যতদূর জানি, দেশে টিকার অভাবও নেই। এরপরও এসএমএস পাচ্ছি না।’

দেশে এখন পর্যন্ত টিকা এসেছে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ৮৫ হাজার ৮০ ডোজ। এর মধ্যে ৩ কোটি ৬৭ লাখ ৪ হাজার ৩২ ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। সরকারের হাতে টিকা মজুত আছে ১ কোটি ২৮ লাখ ৪১ হাজার ২৪ ডোজ। আগামী সপ্তাহে চীনের সিনোফার্ম থেকে আরও ৫০ লাখ টিকা আসার কথা রয়েছে।

টিকার পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও এসএমএস পাঠাতে দেরি কেন, এমন প্রশ্ন রাখা হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমানের কাছে।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এক কেন্দ্রে দৈনিক ২০০ জনের টিকা দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও নিবন্ধন ১ হাজারের বেশি মানুষ। সে ক্ষেত্রে এসএমএস আসতে একটু দেরি হচ্ছে। সেই সঙ্গে টিকা নিবন্ধনের বয়স কমিয়ে আনার পর থেকেই ব্যাপক হারে টিকার নিবন্ধন করছে মানুষ। নিবন্ধনের তালিকা অনেক লম্বা ছিল, এটি আস্তে আস্তে কমে আসছে।’

জট কমাতে বড় পরিসরে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। যদি সিদ্ধান্ত হয় তাহলে পরে জানাতে পারব।’

নিবন্ধনকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘একটু দেরি হলেও সবাই টিকা পাবেন।’

দেশে করোনা প্রতিরোধে গ্রামে গ্রামে টিকার ক্যাম্পেইন করা হয়েছিল গত ৭ আগস্ট। সেই সময়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ টিকা পেতে নিবন্ধন করেন। সরকারের পরিকল্পনা ছিল এক সপ্তাহে ১ কোটি টিকা দেয়ার। টিকার মজুত সীমিত থাকার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, শনিবার এক দিনে ৫ লাখের অধিক মানুষকে টিকা দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে ৬ হাজার ২২৭ জনকে এবং দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ১ হাজার ২২০ জনকে।

সবচেয়ে বেশি দেয়া হয়েছে সিনোফার্মের টিকা। এই টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ২ লাখ ৮৬ হাজার ৫৪২ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৫১৬ জন। আর মডার্নার টিকা প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৪ হাজার ২৪৮ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হয়েছে ১২ হাজার ২৮৮ জনকে।

মহামারি প্রতিরোধে গত ফেব্রুয়ারি মাসে গণটিকাদান শুরু করে সরকার। দেশের মোট ৮০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৪ কোটি মানুষকে বিনা মূল্যে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। টিকাসংকটের কারণে মে মাসে নিবন্ধন-প্রক্রিয়া স্থগিত করা হলেও ৮ জুলাই থেকে নিবন্ধন পুরোদমে চলছে। এর মধ্যে কয়েক দফা কমিয়ে টিকা গ্রহণের বয়সসীমা ৫১ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ বছর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

মাসে ২ কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

মাসে ২ কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা

দেশে মাসে ২ কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘টিকা সরবরাহ এখন বেশ ভালো। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। আমরা সামনের দিনগুলোতে টিকা পাওয়ার উৎস নিশ্চিত করেছি।’

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে মাসে ২ কোটি ডোজ টিকা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সরকার।

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অধিদপ্তরের ফেসবুক পেজ থেকে লাইভে এসে টিকাদানের এ পরিকল্পনার কথা জানান মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

তিনি বলেন, ‘টিকা সরবরাহ এখন বেশ ভালো। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে। আমার সামনের দিনগুলোতে টিকা পাওয়ার উৎসও নিশ্চিত করেছি।

‘এই ধারবাহিকতায় মাসে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ১ কোটি থেকে ২ কোটি টিকা দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। সে লক্ষে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কী করে বাড়ানো যায় বা সম্প্রসার করা যা এ বিষয়ে আমরা সচেষ্ট আছি।’

খুরশীদ আলম বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে এক দিন নিবন্ধিত ও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের স্পট রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা টিকা দেয়ার সময় মাথায় রাখি যারা বয়স্ক তারা যেন আগে টিকাটা পান।

‘আমাদের পর্যালোচনা উঠে আসছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সী জনগোষ্ঠী বেশির ভাগ ক্ষেত্রে করোনা সংক্রমিত হয়েছে। তাদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যাও বেশি। তাদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদে যেদিন ২ দিন নিয়মিত টিকাদান থাকবে না, সপ্তাহে এমন দুই দিন টিকা দেয়া হবে। টিকা প্রত্যাশীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে নিবন্ধন করবেন এবং এসএমএস আসার পর টিকা নেবেন। আইসিটি বিভাগ ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে টিকা প্রতাশীদের কাছে এসএমএস পাঠাবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে টিকাকেন্দ্র ছিল তা সরিয়ে নেয়া হবে। এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি উপজেলা অডিটোরিয়ামে টিকাকেন্দ্র করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে বড় হল রুমেও টিকা কেন্দ্র করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশুদের টিকার বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছেন, সেই নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুদের টিকার আওতায় আনার কাজ করে যাচ্ছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন মাথায় রেখেই কীভবে দ্রুত সময়ের মধ্যে টিকার আওতায় আনা যায়, তার চেষ্টা করছি।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এ কাজ করার কথা জানান তিনি।

শেয়ার করুন

এখনও উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে পঞ্চগড়

এখনও উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিতে পঞ্চগড়

গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসে। একপর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়; নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেড় মাস ধরে নিম্নমুখী। এমন বাস্তবতায়ও ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা পঞ্চগড়। এ জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ২৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সপ্তাহের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত পঞ্চগড়ে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে ৩ হাজার ৬৮০ জনের দেহে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮৮ জন।

জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৭ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়; একজনের মৃত্যু হয়েছে।

দেশে করোনা প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। উদ্বেগ থাকলেও প্রথম কয়েক মাসে ভাইরাসটি সেভাবে ছড়ায়নি।

গত শীতে দ্বিতীয় ঢেউ আসার উদ্বেগ থাকলেও সংক্রমণ ও মৃত্যু কমে আসে। একপর্যায়ে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৩ শতাংশের নিচে নেমে যায়, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিবেচনায় মহামারি নয়; নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি।

দ্বিতীয় ঢেউ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পর। সে সময় বাড়তে থাকে সংক্রমণ ও মৃত্যু। এ পর্যায়ে শনাক্তের হার ৩৩ শতাংশের বেশি ছিল। দৈনিক মৃত্যু ২৫০ জন ছাড়িয়ে যায়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে দেশে চার মাসেরও বেশি সময় ধরে বিধিনিষেধ ছিল। এর প্রভাব দেখা গেছে করোনা সংক্রমণের ওপর। এক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণ হার ৫ থেকে ৬ শতাংশের ঘরে রয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আরও এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে।

৭ জেলায় সংক্রমণ ১০ শতাংশের বেশি

দেশে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ কমে এলেও ৭ জেলা এখনও ঝুঁকিপূর্ণ। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের যেসব জেলায় সংক্রমণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেগুলোকেই মূলত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সেই হিসাবে করোনা সংক্রমণের হার ১০ শতাংশ থেকে ১৯ দশমিক ৯৯ শতাংশের মধ্যে রয়েছে ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, নাটোর, মুন্সিগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলায়।

তবে দেশে একমাত্র জেলা পঞ্চগড়ে সংক্রমণ এখনও ২০ শতাংশের বেশি। এ জেলায় সংক্রমণ ২৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

১০ শতাংশের মধ্যে যেসব জেলায় সংক্রমণ

ভোলা, মেহেরপুর, দিনাজপুর, ঢাকা, নড়াইল, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ, যশোর, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, শরীয়তপুর, রাঙামাটি, গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, মাগুরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, খুলনা, কক্সবাজার, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাট, সিলেট, গাইবান্ধা, পিরোজপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম, ফেনী, নরসিংদী, সাতক্ষীরা, রংপুর, শেরপুর, খাগড়াছড়ি, মাদারীপুর জেলায় সংক্রমণ রয়েছে ৫ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশের মধ্যে।

যেসব জেলায় সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশের নীলফামারী, চাঁদপুর, মানিকগঞ্জ, নেত্রকোণা, ঝালকাঠি, টাঙ্গাইল, জামালপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লালমনিরহাট, লক্ষ্মীপুর, মৌলভীবাজার, নওগাঁ, সুনামগঞ্জ, বরগুনা, কুমিল্লা, পাবনা, হবিগঞ্জ, জয়পুরহাট জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে।

শেয়ার করুন

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বনিম্ন শনাক্তের হার, মৃত্যু ৪৩

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সর্বনিম্ন শনাক্তের হার, মৃত্যু ৪৩

করোনার রোগী কমে আসায় হাসপাতালে এমন ভিড় এখন আর দেখা যায় না। ফাইল ছবি

শনাক্তের হার নেমে এসেছে ৫.৬২ শতাংশে, যা গত ১৯৪ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ৯ মার্চ পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ৫.১৩ শতাংশ। এরপর কখনও তা এতটা নিচে নামেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার বিপরীতে করোনার সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলে এবং তা পরপর দুই সপ্তাহ সেখানে থাকলে করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরে নেয়া যায়।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ২২৫ জনে।

শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত এই সময়ে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৮৩ জনের শরীরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোববারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মৃত্যু এবং শনাক্তের এই সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও শনাক্তের হার বেশ আশা জাগানিয়া।

আগের ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছিল ৩৫ জনের, আর করোনা শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ১৯০ জনের শরীরে। তবে সেদিন পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ৬.০৫ শতাংশ।

সেই শনাক্তের হার নেমে এসেছে ৫.৬২ শতাংশে, যা গত ১৯৪ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত ৯ মার্চ পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ছিল ৫.১৩ শতাংশ। এরপর কখনও তা এতটা নিচে নামেনি।

গত বছরের মার্চে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তা নিয়ন্ত্রণে আসে বছরের শেষ দিকে। তবে মার্চ থেকে তা আবার বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার বিপরীতে করোনার সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে নামলে এবং তা পরপর দুই সপ্তাহ সেখানে থাকলে করোনা নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরে নেয়া যায়।

চলাচলের বিধিনিষেধ এখন কার্যত আর নেই। খুলে দেয়া হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। এখন কেবল উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস শুরুর অপেক্ষা। তার মধ্যেই শনাক্তের হার কমে আসা নিঃসন্দেহে স্বস্তিদায়ক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৪২ হাজার ৬২৩ জনের শরীরে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ২২৫ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ২২ ও নারী ২১ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশু আছে। বাকিদের মধ্যে ত্রিশোর্ধ্ব ৫, চল্লিশোর্ধ্ব ৩, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১০, ষাটোর্ধ্ব ১০, সত্তরোর্ধ্ব ৯ ও অশীতিপর ৫ জন। বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ৮, রাজশাহী ৪, খুলনাতে ৬, সিলেটে ২, রংপুরে ৩ ও ময়মনসিংহে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ২ হাজার ৮৮৭ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ১ হাজার ৫৪১ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত মার্চ থেকে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতির উন্নতির চিত্র দেখা যাচ্ছে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা। সেই সঙ্গে কমছে শনাক্তের হার।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়। এ অবস্থায় এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হলেও এরপর থেকে রোগী ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

এবিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘করোনার ক্ষেত্রে আমরা দেখছি সংক্রমণের ধারাটা নিম্নগামী। করোনা যা পরীক্ষা হচ্ছে, গেল এক সপ্তাহ ধরে করোনা শনাক্তের হার ৫ থেকে ৬ শতাংশের ঘরে। তবে এখনই আমরা বলতে পারব না, এটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সংক্রমণ যখন ৫ শতাংশের নিচে আসবে এবং এটা যদি তিন সপ্তাহ পর্যন্ত একইভাবে চলে, তাহলে আমরা বলতে পারি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। তবে আশঙ্কার বিষয়টা অন্য জায়গায়।

প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিভিন্ন দেশে আবার সংক্রমণ বাড়ছে। আমাদের এখনও দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আমার মনে করছি, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসবে। নিয়ন্ত্রণে আসার চার থেকে ছয় সপ্তাহ পরে আবার কিন্তু নতুন ঢেউ আসার আশঙ্কা থাকে।

শেয়ার করুন

সব হাসপাতালে সাপের বিষের প্রতিষেধক সরবরাহের নির্দেশ

সব হাসপাতালে সাপের বিষের প্রতিষেধক সরবরাহের নির্দেশ

দেশে সাপের বিষের প্রতিষেধক তৈরির কাজ অনেকটা এগিয়েছে। ফাইল ছবি

চতুর্থ আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রোববার ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব হাসপাতালে অ্যন্টিভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

দেশে বর্ষা মৌসুমে সাপের ছোবলের ঘটনা বেশি ঘটে। এ সময় সাপে কাটার শিকার বেশি হয় গ্রামের মানুষ। অথচ উপজেলা পর্যায়ে দেশের বেশিরভাগ সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) নেই।

এমন বাস্তবতায় সব হাসপাতালে অ্যন্টিভেনম সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

চতুর্থ আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে রোববার ভার্চুয়াল এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলম।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর আনুমানিক ছয় লাখ মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। আর সাপের কামড়ে মারা যান ছয় হাজার মানুষ।

‘সাপের কামড়ে যেন প্রাণহানি না হয়, সে জন্য উপজেলা পর্যায়সহ সবখানে অ্যান্টিভেনম ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করলেই হবে না, পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল থাকতে হবে। মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘সাপের কামড়ে মৃত্যু নন কমিউনিকেবল ডিজিজ (ছোঁয়াচে নয় এমন রোগ)। এমনিতেই এমন নন কমিউনিকেবল ডিজিজে অনেক মৃত্যু হচ্ছে। প্রতি বছর ক্যানসারে বহু মানুষ মারা যাচ্ছে, স্ট্রোক করে অনেক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে।

‘সড়ক দুর্ঘটনায়ও প্রতি বছর অনেক লোকের মৃত্যু হয়। দেশে সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছে বছরে ছয় লাখের মতো মানুষ। বিশ্বের এই পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর ৫০ লাখের অধিক মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। সাপের কামড়ের কারণে মৃত্যু না হলেও বহু মানুষের অঙ্গহানির ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ তিন থেকে চার লক্ষ মানুষের সাপের কামড়ের কারণে অঙ্গহানির ঘটনা ঘটে।’

মৃত্যুহার কমানোর উপায়

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাপে কাটা প্রতিরোধে আমরা যদি সচেতনতামূলক প্রোগ্রাম হাতে নিই, মানুষকে সচেতন করি বিভিন্নভাবে, গ্রামগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের সভা-সেমিনার করি, মানুষকে যদি বোঝাতে পারি সাপে কামড়ালে আতঙ্কিত না হয়ে, সময় নষ্ট না করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করে হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করেন, তাহলে অনেক মৃত্যু কমে আসবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা, অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলামসহ অনেকেই।

শেয়ার করুন