ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজনে সহযোগিতা করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজনে সহযোগিতা করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত করেন ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান। ছবি: নিউজবাংলা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাতটি বিষয়ভিত্তিক ওয়েবিনারেরও আয়োজন করা হবে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা, মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা, গবেষক, অর্থনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন। দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০০ ব্যবসায়ীদের নিয়ে ১৬০টিরও বেশি বিটুবি সেশনের আয়োজন থাকবে এ সম্মেলনে।

মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)।

২৬ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত সাতদিনব্যাপী ভার্চুয়াল এই বাণিজ্য সম্মেলনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সোমবার ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতে এই আশ্বাস দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

২৬ অক্টোবর এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘কানেক্টিং দি ইকোনমি অফ টুমরো’।

নয়টি প্রধান সম্ভাবনাময় খাত যেমন অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ও আইটিইএস ও ফিনটেক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, অটোমোটিভ ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক পণ্য, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পাট ও বস্ত্র, এফএমসিজি এবং রিটেইল ব্যবসার বিদ্যমান সক্ষমতা ও ভবিষৎ সম্ভাবনা এই সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে আলোচিত হবে।

বিশ্বের পাঁচটি বড় অঞ্চল যেমন আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়া, এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক এবং আফ্রিকার প্রায় ৫০টি দেশ থেকে শতাধিক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনের বিজনেস টু বিজনেস (বিটুবি) সেশনে অংশ নেবেন।

এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাতটি বিষয়ভিত্তিক ওয়েবিনারেরও আয়োজন করা হবে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা, মন্ত্রী, নীতিনির্ধারক, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা, গবেষক, অর্থনীতিবিদ এবং শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন। দেশি-বিদেশি প্রায় ৩০০ ব্যবসায়ীদের নিয়ে ১৬০টিরও বেশি বিটুবি সেশনের আয়োজন থাকবে এ সম্মেলনে।

আয়োজনের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘করোনা মহামারির কারণে বিশ্বে যখন কোনো সম্মেলন সশরীরে উপস্থিতির মাধ্যমে হচ্ছে না, তখন বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনাকে এতগুলো দেশের মাঝে ভার্চুয়ালি তুলে ধরার উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি সত্ত্বেও বাংলাদেশ অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে পেরেছে। শুধু বিদেশি উদ্যোক্তারা নন বরং বিদেশে বাস করা বাংলাদেশি ডায়াসপোরাও এ দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী। ব্যবসা-বানিজ্যের পরিবেশ বাংলাদেশে এখন যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি ভালো।’

ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, ‘করোনা মহামারির সময়েও বাংলাদেশ ২০২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সমর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে ও পরিবর্তিত ভূ-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকারের নেয়া বিভিন্ন নীতি সংস্কার এবং কৌশলগত পদক্ষেপ নেয়ায় বিশ্বে বাংলাদেশের ওপর আস্থা বেড়েছে।’

আরও পড়ুন:
মুদ্রানীতিকে গতানুগতিক বলল ডিসিসিআই
সম্ভাবনাময় শিল্পে সমান সুযোগ চায় ডিসিসিআই
শিল্পখাতে গবেষণা বাড়াতে ডিসিসিআই-বুয়েটের সমঝোতা
ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব
ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ডিসিসিআই

শেয়ার করুন

মন্তব্য

রাশিয়ায় সরাসরি পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

রাশিয়ায় সরাসরি পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সোমবার সচিবালয়ে ঢাকায় নবনিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেনতেভিচ মাস্তিতস্কি এর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

টিপু মুনশি বলেন, ‘রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। অথচ এই তৈরি পোশাকও বিভিন্ন জটিলতার কারণে রাশিয়ার বাজারে নিতে অন্য দেশের মাধ্যমে পাঠাতে হচ্ছে। তাই তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য সরাসরি রপ্তানিতে রাশিয়ান সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

প্রতিবন্ধকতা দূর করে রাশিয়ায় সরাসরি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে দেশটির রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে রুশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

সোমবার সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে ঢাকায় নবনিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেনতেভিচ মাস্তিতস্কি এর সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ সহযোগিতা চান।

রাষ্ট্রদূতের উদ্দেশে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে রাশিয়ার বাজারে সরাসরি বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ নেই। ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন করতে না পারা এবং আরও কিছু শুল্ক জটিলতার কারণে অন্য দেশের মাধ্যমে রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি করতে হচ্ছে। এতে রাশিয়ার বাজারে বাণিজ্য আশা অনুযায়ী বাড়ছে না।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘রাশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের বিপুল চাহিদা রয়েছে। অথচ এই তৈরি পোশাকও বিভিন্ন জটিলতার কারণে রাশিয়ার বাজারে নিতে অন্য দেশের মাধ্যমে পাঠাতে হচ্ছে। তাই তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য সরাসরি রপ্তানিতে রাশিয়ান সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বাণিজ্যমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে জানান, জটিলতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে। সমস্যার সমাধান হলে রাশিয়ার বাজারে বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশের তৈরি পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে রুশ সরকারের সহযোগিতা দাবি করে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ এখন উন্নতমানের পণ্য প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে সরবরাহ করতে সক্ষম। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের তৈরি পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশ রাশিয়াসহ ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন ও সিআইএসভুক্ত অন্যান্য দেশে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে আগ্রহী।’

এসব আগ্রহের জবাবে মন্ত্রীকে অবহিত করে নবনিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার ভিকেনতেভিচ মাস্তিতস্কি বলেন, ‘বাংলাদেশকে রাশিয়া বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতেও আগ্রহী। কারণ আমাদের দেশে (রাশিয়ায়) বাংলাদেশের পণ্যের অনেক চাহিদা রয়েছে। চলমান বাণিজ্য বাধা দূর হলে উভয় দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে। রাশিয়ান সরকার চলমান সমস্যাগুলো দূর করতে আন্তরিক। রাশিয়া বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগী হতে চায়।’

২০২০-২০২১ অর্থ বছরে রাশিয়ায় ৬৬ কোটি ৫৩ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে আমদানি করেছে ৪৬ কোাটি ৬৭ লাখ ডলারের পণ্য।

রুশ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাতের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ, অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) নূর মো. মাহবুবুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কমকর্তারা।

আরও পড়ুন:
মুদ্রানীতিকে গতানুগতিক বলল ডিসিসিআই
সম্ভাবনাময় শিল্পে সমান সুযোগ চায় ডিসিসিআই
শিল্পখাতে গবেষণা বাড়াতে ডিসিসিআই-বুয়েটের সমঝোতা
ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব
ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ডিসিসিআই

শেয়ার করুন

সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট

সরকার পদক্ষেপ নেয় গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর: হাইকোর্ট

এক রিটের ওপর শুনানির একপর্যায়ে ইভ্যালি, এহসান গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রতারণা নিয়ে বিচারক বলেন, ‘সরকার তো ব্যবস্থা নিচ্ছে, কিন্তু সেটা কখন? যখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম, আমার রেমিডিটা কোথায়।’

ইভ্যালি, এহসান গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করে গ্রাহক নিঃস্ব হওয়ার পর সরকারের পদক্ষেপ দেখা যায় বলে মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট।

দেশের গ্রাম পর্যায়ে সুদ কারবারিদের তালিকা প্রণয়নে নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের ওপর শুনানির সময় বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের বেঞ্চ এসব কথা বলে।

একপর্যায়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক সাইফুর রহমান বলেন, ‘আমার বাড়ি কেন অরক্ষিত। আমার বাড়ি মানে বাংলাদেশ। দেশের মানুষ দরজা-জানালা বন্ধ করে শান্তিতে ঘুমাবে, কিন্তু আমার ঘর কেন অরক্ষিত। মানুষের টাকা কেন লুট করে নিয়ে যাচ্ছে দেশের বাইরে। এগুলো বন্ধ করা কাদের দায়িত্ব? এটা আমরা দেখতে চাই। আমরা এটা পরীক্ষা করতে চাই।’

তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নুর উস সাদিক বলেন, ‘মাই লর্ড, সরকার যে ব্যবস্থা নিচ্ছে না তা কিন্তু নয়। এহসান গ্রুপের প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; ইভ্যালির মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তখন বিচারক সাইফুর রহমান বলেন, ‘সরকার তো ব্যবস্থা নিচ্ছে কিন্তু সেটা কখন? যখন আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম, আমার রেমিডিটা কোথায়। আমার টাকাটা নিয়ে গেল আমি দ্বারে দ্বারে ঘুরতেছি। সে থানায় যাবে, জেলে যাবে যাক, কিন্তু আমার টাকাটা যে নিয়ে গেল সেটা কোথায়। আমরা মামলা করার পর চোর ধরা পড়ছে। চুরি তো ঠেকানো যাচ্ছে না।’

এই বিচারক আরও বলেন, ‘সরকারের কাজ কী? এ দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, তাদের আইনের শাসন সমস্ত কিছু…। সেখানে সরকার ঠিকমতো কাজ করছে কি না আমরা দেখব।’

এই রিটের ওপর আরও শুনানির জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন রাখে বেঞ্চ।

গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সুদ কারবারিদের তালিকা করার নির্দেশনা চেয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন।

রিটে ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিবাদী করা হয়। ওই রিটের শুনানিতে আদালত এসব কথা বলে।

আরও পড়ুন:
মুদ্রানীতিকে গতানুগতিক বলল ডিসিসিআই
সম্ভাবনাময় শিল্পে সমান সুযোগ চায় ডিসিসিআই
শিল্পখাতে গবেষণা বাড়াতে ডিসিসিআই-বুয়েটের সমঝোতা
ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব
ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ডিসিসিআই

শেয়ার করুন

চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  

চীনের সঙ্গে টক্কর দিতে চিপ বানাবে ৪ দেশ  

চীনকে রুখতে চিপ তৈরিতে জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে চার দেশ। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক চিপ তৈরিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে চীন। চিপ তৈরিতে সেই চীনকে ঠেকাতে জোট বাঁধছে চার দেশ। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জোট তৈরি করে সেমিকন্ডাক্টার উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে।

বিশ্বে গত কয়েক বছর থেকেই সেমিকন্ডাক্টার বা চিপ সংকট দেখা দিয়েছে। গাড়ি, মোবাইল ফোন, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক পণ্য তৈরিতে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদানটির চাহিদা করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে বেড়ে যায় বহুগুন।

বৈশ্বিক চিপ তৈরিতে সবচেয়ে এগিয়ে আছে চীন। চিপ তৈরিতে সেই চীনকে ঠেকাতে জোট বাঁধছে চার দেশ। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া জোট তৈরি করে সেমিকন্ডাক্টার উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে।

জাপানের পত্রিকা নিক্কেই-এর বরাত দিয়ে সোশ্যাল নিউজের এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের চার দেশ বৈঠকে বসছে। সেখানেও অন্যতম এজেন্ডা হবে চিপ উৎপাদনে সেই জোট নিয়ে।

ধীরে ধীরে চিপের ক্ষেত্রে বিশ্ব নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে চীনের ওপর। সে নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে দেশগুলো। আর সে কারণে এমন জোট গঠন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জো বাইডেনের আমন্ত্রণে চার জাতি জোটের সম্মেলনে যোগ দিতে যাবেন যুক্তরাষ্ট্রে।

এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, খসড়া ওই প্রস্তাবে চার দেশ যতটা দ্রুত সম্ভব উৎপাদনে যেতে চাওয়ার কথা জানায়। এ ক্ষেত্রে চার দেশ তাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করবে।

চিপের স্বল্পতা বিশ্বব্যাপীই। সেটা ভারতের মতো চাহিদাসম্পন্ন দেশে আরও প্রকট হয়েছে। যে কারণে দেশটিতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় গাড়ি, স্মার্টফোন তৈরি বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

চিপের উৎপাদন বাড়াতে ও চীনের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে এরইমধ্যে ১৯০ বিলিয়ন ডলারের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

প্রযুক্তি বিশেষ করে চিপের উৎপাদন বাড়াতে এটি নিয়ে গবেষণা ও উন্নয়নে সে বরাদ্দ দেশটিতে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব গিনা রেইমন্ডো বলেন, এটি এমন একটি বরাদ্দ যা দিয়ে ৭ থেকে ১০টি সেমিকন্ডাক্টার কারখানা স্থাপন করা সম্ভব হবে।

চীনের প্রযুক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানানোর ঘটনা এটা প্রথম নয়। জো বাইডেনের আগে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনের বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে দেশটিতে কালো তালিকাভুক্তি করে নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন।

তার ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন বাইডেন। তিনিও চীনের অর্ধশত কোম্পানিকে দেশটিতে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে কড়াকাড়ি আরোপ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভারতেও চীনের শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও অ্যাপ নিষিদ্ধ করে আদেশ দিয়েছে। ২০২০ সালের মে মাসে লাদাখ সীমান্তে চীন-ভারত সেনাদের মধ্যে এক সংঘর্ষের পর ভারত চীনের বেশ কিছু অ্যাপ নিষিদ্ধ করে।

আরও পড়ুন:
মুদ্রানীতিকে গতানুগতিক বলল ডিসিসিআই
সম্ভাবনাময় শিল্পে সমান সুযোগ চায় ডিসিসিআই
শিল্পখাতে গবেষণা বাড়াতে ডিসিসিআই-বুয়েটের সমঝোতা
ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব
ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ডিসিসিআই

শেয়ার করুন

জাহাজ রাখার সক্ষমতা বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের

জাহাজ রাখার সক্ষমতা বাড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরের

বন্দর সচিব ওমর ফারুক নিউজাবাংলাকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে অস্থায়ী স্থাপনার কারণে কিছু বয়া অপসারণ করতে হয়েছে। ৮টি বয়া তুলে ফেলার বিপরীতে আমরা ৪৮ বয়া স্থাপন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে অন্তত ১০০টি জাহাজ বাড়তি নোঙরের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা চাই কর্ণফুলী সেতুর উজান থেকে কালুঘাট পর্যন্ত লাইটার জাহাজগুলো নিরাপদে নোঙর করে রাখুক।

কর্ণফুলী নদীর শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট অংশ পর্যন্ত অন্তত আরও ১০০টি লাইটার জাহাজ নোঙর করার সুবিধা দিতে নতুন ৪৮টি বয়া বসাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। জায়গায়টি দুটি ব্লকে ভাগ করে এসব বয়া বসানো হবে, যার মধ্যে ১৬টি বয়া বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে বসবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন বয়া বসানোর ফলে ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে জাহাজগুলোকে নিরাপদে রাখা সম্ভব হবে। এ ছাড়াও বিদেশি জাহাজের সঙ্গে লাইটার জাহাজের সংঘর্ষের মতো দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে।

এরই মধ্যে কর্ণফুলী নদীতে বঙ্গবন্ধু টানেল, কোস্টগার্ডের নতুন স্থাপনা, নৌবাহিনীর নতুন বেইস স্টেশনের কারণে বেশ কটি বয়া কর্ণফুলী নদী থেকে তুলে ফেলতে হয়েছে। এতে করে নদীতে জাহাজ রাখার স্থান কমেছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে শাহ আমানত সেতু থেকে কর্ণফুলী সেতু হয়ে কালুরঘাট পর্যন্ত মোট ৪৮টি বয়া স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। শাহ আমানত সেতুর উজান থেকে ইতোমধ্যে ১৬টি বয়া বসানো শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে অন্তত ১০০টি ছোট জাহাজ নিরাপদে নোঙর করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে বন্দর সচিব ওমর ফারুক নিউজাবাংলাকে বলেন, ‘কর্ণফুলী নদীতে অস্থায়ী স্থাপনার কারণে কিছু বয়া অপসারণ করতে হয়েছে। ৮টি বয়া তুলে ফেলার বিপরীতে আমরা ৪৮ বয়া স্থাপন শুরু করেছি। এর মাধ্যমে অন্তত ১০০টি জাহাজ বাড়তি নোঙরের সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। আমরা চাই কর্ণফুলী সেতুর উজান থেকে কালুঘাট পর্যন্ত লাইটার জাহাজগুলো নিরাপদে নোঙর করে রাখুক।

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশপথ বা চ্যানেল থেকে শাহ আমানত সেতুর উজান পর্যন্ত ছোট বা লাইটার জাহাজগুলো কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা থাকে। সম্প্রতি নৌ বাণিজ্য দপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর, জাহাজ মালিকদের সংগঠন যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নেয় গুপ্তবাঁক থেকে চ্যানেল পর্যন্ত কোনো জাহাজ নোঙর করতে পারবে না। মূলত জাহাজ চলাচলের পথ নির্বিঘ্নে রাখতেই এই উদ্যোগ। আর একারণেই নতুন ৪৮ বয়া বসিয়ে বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
মুদ্রানীতিকে গতানুগতিক বলল ডিসিসিআই
সম্ভাবনাময় শিল্পে সমান সুযোগ চায় ডিসিসিআই
শিল্পখাতে গবেষণা বাড়াতে ডিসিসিআই-বুয়েটের সমঝোতা
ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব
ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ডিসিসিআই

শেয়ার করুন

ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট

ই-কমার্স ব্যবসার তদারকি সংস্থা চেয়ে রিট

প্রতীকী ছবি

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাঁধন সোমবার সকালে এ রিট করেন। এতে বাণিজ্যসচিব, অর্থসচিব, টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, ই-ক্যাবসহ ছয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে।

দেশে ই-কমার্স ব্যবসা তদারকি করতে একটি ই-কমার্স রেগুলেটরি অথরিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বাঁধন সোমবার সকালে এ রিট করেন।

রিটে বাণিজ্যসচিব, অর্থসচিব, টেলিযোগাযোগ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, ই-ক্যাবসহ ছয় ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে বিবাদী করা হয়েছে।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মুস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এই রিটের শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী।

এদিকে রোববার এক মামলার শুনানিতে দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আদালতকে বলেন, ‘মাই লর্ড, আমাদের দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিষয়টা এমন যে, প্রথমে তারা অফার দিবে একটা মোটরসাইকেলের টাকায় দুইটা মোটরসাইকেল। এরপর গ্রাহকরা টাকা দিয়ে মোটরসাইকেল পাবে এবং টাকাটা বাংলাদেশ ব্যাংকের গেটওয়ে দিয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে চলে যাবে।

‘এরপর আবার দুইটা কিনলে আরও দুইটা ফ্রি, চারটা কিনলে আরও চারটা ফ্রি পাবে, এমন অফার আসে এবং গ্রাহক সে মোটরসাইকেল পায়। কিন্তু একপর্যায়ে যখন গ্রাহক অধিকসংখ্যক যেমন, আটটা মোটরসাইকেল কিনলে আরও আটটা মোটরসাইকেল পাওয়ার জন্য টাকা দেয়, তখন সে টাকা চলে যায়, কিন্তু মোটরসাইকেল আর আসে না।’

আইনজীবী শিশির মনির আদালতকে আরও বলেন, ‘মাই লর্ড, আমাদের এখানে লোভের শিকার হয়ে এবং ই-কমার্সের প্রতিষ্ঠানের প্রতারণায় গ্রাহকেরা প্রতারিত হচ্ছে।’

তখন হাইকোর্ট বলে, ‘আপনারা তো পাবলিক ইন্টারেস্টের মামলা করেন। আপনাদের উচিত পাবলিকদের সচেতন করা, তারা যেন এ ক্ষেত্রে লোভ কমান।’

দেশের একাধিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কিছুদিন ধরে বিক্ষোভ করে আসছেন গ্রাহকরা। তাদের কেউ কেউ অর্থ আত্মসাতের মামলাও করেছেন।

এমন একটি মামলায় আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত।

আরও পড়ুন:
মুদ্রানীতিকে গতানুগতিক বলল ডিসিসিআই
সম্ভাবনাময় শিল্পে সমান সুযোগ চায় ডিসিসিআই
শিল্পখাতে গবেষণা বাড়াতে ডিসিসিআই-বুয়েটের সমঝোতা
ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব
ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ডিসিসিআই

শেয়ার করুন

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগে দিশেহারা ভোক্তা অধিকার

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিষ্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

বেশ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহক ঠকানোর অভিযোগ ওঠার পর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে গিয়ে হঠাৎ মামলা সংখ্যা বৃদ্ধির তথ্য মিলেছে। এত বেশি অভিযোগ আসছে যে, নিষ্পত্তিতে হিমশিম খাচ্ছে অধিদপ্তর। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়ে তা বন্ধ পাচ্ছেন।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে বিপুল পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে। এত বেশি সংখ্যায় অভিযোগ এর আগে জমা পড়েনি।

সম্প্রতি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। আরেক প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের কর্তাব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছেন ভারতে। আরেক প্রতিষ্ঠান ধামাকার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে।

কম দামে পণ্য পাওয়ার আশায় এই তিনটি ছাড়াও অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে টাকা দিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন মানুষ। নির্ধারিত সময়ে পণ্য না পেয়ে এখন তারা সমাধানের আশায় ছুটছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্ষুব্ধ মানুষ এসে লিখিতভাবে তুলে ধরছেন কোটি কোটি টাকার চাহিদা।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে কেবল ইভ্যালি নিয়েই অভিযোগ পড়েছে ৭ হাজার ১৩৮টি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘হঠাৎ করে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে। দুই মাসে যে অভিযোগ এসেছে, তা নিস্পত্তি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা যাচ্ছেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন। অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না।’

ভোক্তা অধিকার সূত্র জানায়, গেল জুন পর্যন্ত ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ ছিল ১৩ হাজার ৩৫৭টি। আর নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৬টি অভিযোগ। এক্ষেত্রে অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ। তবে জুলাই এবং আগস্ট ধরলে নিষ্পত্তির হার কম।

কোন প্রতিষ্ঠানের কত অভিযোগ

৩০ জুন পর্যন্ত ১৯টি প্রতিষ্ঠানের ১৩ হাজার ৩১৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয় ১১ হাজার ৪৩৪টি অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

তবে জুলাই ও আগস্ট এ দুই মাসে ই-কমার্স নিয়ে অভিযোগ বেড়েছে ৫ হাজার ৯৮৭টি। অভিযোগের সংখ্যা বেড়ে ১৯ হাজার ৩০৪টিতে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২ হাজার ২৯৭টি। নিষ্পত্তির হার ৬৪ শতাংশ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জ নিয়ে অভিযোগের হার বেশি। এর মধ্যে এক ভোক্তার ১ কোটি টাকার অভিযোগ আছে। এর বাইরে ৩০ লাখ, ৫০ লাখ টাকার অভিযোগ কম নেই।

এ সময়ে আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে ভোক্তার অভিযোগের সংখ্যা ৭ হাজার ১৩৮টি। ভোক্তা অধিকার নিষ্পত্তি করেছে ৪ হাজার ৪৯৫টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তি ৬৩ শতাংশ।

ই-অরেঞ্জ ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৩টি। এর মধ্যে মাত্র ৩৩টি নিষ্পত্তি করা গেছে। নিষ্পত্তির হার ১ শতাংশ।

দারাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ ১ হাজার ৫১টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৫৮টি। শতকরা হারে যা ৯১ শতাংশ।

ধামাকার বিরুদ্ধে ৩২৩টি অভিযোগের বিপরীতে ৫৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১৮ শতাংশ।

সহজডটকমের বিরুদ্ধে ৯৩টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ৮৫টি।

আজকের ডিল ডটকমের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা ১৮২টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬৭টি। শতকরা ৯২ শতাংশ অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ফুডপান্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ৩২২টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৫১টি। শতকরা হিসেবে নিষ্পত্তির হার ৭৮ শতাংশ।

চালডাল ডটকমের বিরুদ্ধে ভোক্তারা অভিযোগ করেছেন ১৯০টি। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৭৯টি। শতকরা নিষ্পত্তি ৮৯ শতাংশ।

প্রিয়শপ ডটকমের বিরুদ্ধে ৬২৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৪২টি। নিষ্পত্তির হার ৭১ শতাংশ।

ফালগুনি ডটকমের মালিক আইনের আওতায় আছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৬৪৪টি অভিযোগ পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ৪৫১টি।

অথবা ডটকমের বিরুদ্ধে ১৮৬টি অভিযোগের বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ১৬০টি। নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ।

উবার ডটকমের বিরুদ্ধে ১২৮টি অভিযোগের মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ১২৫ অভিযোগ। নিষ্পত্তির হার ৯৮ শতাংশ।

পাঠাওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে ২৬৭টি। নিষ্পত্তি হয়েছে ২৬৫টি।

বিক্রয় ডটকমের বিরুদ্ধে ১৭৪টি অভিযোগের বিপরীতে ১৫৭টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নিষ্পত্তির হার ৯০ শতাংশ।

নিরাপদ ডটকম বিরুদ্ধে ১১৫টি অভিযোগের বিপরীতে ৬৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। যার হার ৫৬ শতাংশ।

আদিয়ানমার্ট ডটকম বিরুদ্ধে ১১৬টি অভিযোগের বিপরীতে ৩৮টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ৩৩ শতাংশ।

আলিশা মার্টের বিরুদ্ধে ২০টি অভিযোগের বিপরীতে মাত্র ২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। শতকরা হার ১০ শতাংশ।

গ্রাহক যা বলেন

ধানমন্ডি থেকে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন আলী শরীফ। তিনি জানান, সব মিলিয়ে বিভিন্ন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে ৫০ হাজার টাকার পণ্য কেনার জন্য অর্ডার দেয়া হয়। কিন্তু কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। অফিসে গেলে ডেলিভারির দিনক্ষণ দেয়া হয়নি।

শফিক খান নামে একজন বলেন, ‘একটি বাইক কেনার জন্য অর্ডার দিয়েছি তিন মাস আগে। কিন্তু বাইকটি দেয়া হচ্ছে না।’

অন্য একজন গ্রাহক জানান, দুটি মোবাইল সেট কেনার জন্য টাকা দিয়েও পণ্য পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘প্রথমবার পণ্য ডেলিভারির যে দিন নির্ধারণ করা হয়, সেই দিনে পণ্য দেয়া হয়নি। তারপরে এক মাসে সময় বাড়িয়ে দিন দেয়া হয়েছে। আসলে পাওয়া যাবে না।’

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, ‘ই-কমার্স নিয়ে এত অভিযোগ আসছে, তাতে অন্য অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিঘ্ন ঘটছে। লোকবল কম থাকায় হিমশিম অবস্থা তৈরি হয়েছে। তারপরও গ্রাহকের স্বার্থে সব ধরণের উদ্যোগ নেবে এই প্রতিষ্ঠান।’

আরও পড়ুন:
মুদ্রানীতিকে গতানুগতিক বলল ডিসিসিআই
সম্ভাবনাময় শিল্পে সমান সুযোগ চায় ডিসিসিআই
শিল্পখাতে গবেষণা বাড়াতে ডিসিসিআই-বুয়েটের সমঝোতা
ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব
ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ডিসিসিআই

শেয়ার করুন

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ চার্জমুক্ত রাখার নির্দেশ

‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ চার্জমুক্ত রাখার নির্দেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের সা‌র্বিক প‌রিচালনায় এ বিমার আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং‌য়ে করা যা‌বে। ত‌বে এ জন্য কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ বা ফি নেয়া যাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন বিভাগ রোববার এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়, ‘বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতায় মুজিব শতবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সম্মানে বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। জীবন বিমা করপোরেশনের বিমাকারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।’

বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমাসংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এ জন্য কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ বা ফি নেয়া যাবে না।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা ও লেনদেন অব্যাহত রাখার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে। এ ছাড়া বিমাসংক্রান্ত অন্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

অর্থের অভাবে কোমলম‌তি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন যেন নষ্ট না হয়, সে জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষাবিমা’ পলিসির আওতায় প্রিমিয়াম মাসে ২৫ টাকা, বছরে ৩০০ টাকা, বিমার অঙ্ক ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা।

আরও পড়ুন:
মুদ্রানীতিকে গতানুগতিক বলল ডিসিসিআই
সম্ভাবনাময় শিল্পে সমান সুযোগ চায় ডিসিসিআই
শিল্পখাতে গবেষণা বাড়াতে ডিসিসিআই-বুয়েটের সমঝোতা
ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট আলোচনায় ৪ খাতে গুরুত্ব
ইইউর সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে চায় ডিসিসিআই

শেয়ার করুন