বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

বিমানবন্দরে করোনাভাইরাসের পিসিআর টেস্টের সুবিধা না থাকায় বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ থেকে আমিরাতগামী যাত্রীদের নেবে না বলে গত ১ সেপ্টেম্বর জানায় এমিরেটস কর্তৃপক্ষ। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ রিয়াজ বলেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা না থাকায় কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না হাজারো আরব আমিরাত প্রবাসী। তাই কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আটকে পড়া আমিরাত প্রবাসীদের ফিরিয়ে নিতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

বিমানবন্দরে কোভিড-১৯ দ্রুত পরীক্ষায় জন্য র‍্যাপিড পিসিআর টেস্ট ল্যাব বসানোর দাবি জানিয়েছেন করোনার কারণে দেশে আটকে পড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসীরা৷

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানানো হয়৷

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের চেয়ারম্যান আহমেদ রিয়াজ বলেন, ‘সোমবার থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পতাকাবাহী বিমান পরিবহন সংস্থা এমিরেটস এয়ার ও আবুধাবির ইত্তেহাদ এয়ারলাইনস বাংলাদেশ থেকে ফের ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু আমাদের এয়ারপোর্টগুলোতে র‍্যাপিড পিসিআর ল্যাব না থাকায় আবারও বাংলাদেশে ফ্লাইট বন্ধ করে দিতে পারে এই দুই এয়ারলাইনস।’

বিমানবন্দরে করোনাভাইরাসের পিসিআর টেস্টের সুবিধা না থাকায় বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশ থেকে আমিরাতগামী যাত্রীদের নেবে না বলে গত ১ সেপ্টেম্বর জানায় এমিরেটস কর্তৃপক্ষ।

এমিরেটস জানিয়েছে, ওই ৫ দেশের সব যাত্রী ইউএই ভ্রমণে অনুমতি পাবেন যদি তারা কোভিড-১৯ পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধিবিষয়ক প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করতে পারেন।

বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: নিউজবাংলা

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া দেশগুলো থেকে যাত্রীদের আমিরাতের উদ্দেশে যাত্রা শুরুর ছয় ঘণ্টা আগে পিসিআর টেস্ট করার শর্ত দেয়া হয়। বাংলাদেশসহ ওই ৫ দেশের বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্টের সুবিধা না থাকায় সেসব দেশের যাত্রীদের আমিরাতে না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এমিরেটস এয়ারলাইনস।

তবে সোমবার ফের বাংলাদেশে ফ্লাইট চালু করেছে এমিরেটস।

আহমেদ রিয়াজ আরও বলেন, ‘বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা না থাকায় কর্মস্থলে ফিরে যেতে পারছে না আমাদের প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার আটকে পড়া আমিরাত প্রবাসী। গত ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে র‍্যাপিড টেস্ট ল্যাব স্থাপনের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু এ নির্দেশ আজও কর্তৃপক্ষ যথাযথ পালন করেনি৷’

তিনি বলেন, ‘দুবাইতে আগামী অক্টোবরে এক্সপো-২০২০ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সেই বাণিজ্যমেলায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্যাভিলিয়ান তৈরির কাজ চলছে। বিশ্ববাসীর সামনে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশকে তুলে ধরতে এই প্রয়াস ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি আরব আমিরাত সরকারের শর্ত অনুযায়ী দ্রুত সময়ের মধ্যে বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্ট ল্যাব স্থাপন করা না যায়।’

বিমানবন্দরে র‍্যাপিড পিসিআর টেস্টের দাবি প্রবাসীদের

তিনি আরও বলেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও বিমানবন্দরে পিসিআর টেস্টের ব্যবস্থা না থাকায় কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না হাজারো আরব আমিরাত প্রবাসী। তাই কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে আটকে পড়া আমিরাত প্রবাসীদের ফিরিয়ে নিতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামীদের ভরসাস্থল ‘আমিপ্রবাসী’
‘ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, কবে টিকা পাব জানি না’
অর্থনৈতিক সংকট, লেবানন ছাড়তে মরিয়া বাংলাদেশিরা
দ. কোরিয়ায় ফিরতে চান আটকে পড়া প্রবাসীরা
প্রবাসী স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর ৩ দিনের রিমান্ড

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিথিল বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্য ভ্রমণ

২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিথিল বাংলাদেশিদের যুক্তরাজ্য ভ্রমণ

২২ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্য ভ্রমণে কোয়ারেন্টিনের বাধ্যবাধকতা থাকছে না বাংলাদেশিদের জন্য। ছবি: এএফপি

ব্রিটেনের পরিবহন সচিব গ্রান্ট শ্যাপস প্রায় সাড়ে চার মাস পর শুক্রবার বাংলাদেশকে এ তালিকা থেকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ছাড়া আরও সাত দেশের ওপর থেকে ভ্রমণ কড়াকড়ি তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর জারি রেড অ্যালার্ট তুলে নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

ব্রিটেনের পরিবহন সচিব গ্রান্ট শ্যাপস প্রায় সাড়ে চার মাস পর শুক্রবার বাংলাদেশকে এ তালিকা থেকে বাদ দেয়ার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ ছাড়া আরও সাত দেশের ওপর থেকে ভ্রমণ কড়াকড়ি তুলে নেয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি।

এই ঘোষণা কার্যকর হলে দেশটি সফরে যাওয়া বাংলাদেশিদের আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটা সুখবর। বর্তমানে দেশে কয়েক হাজার ব্রিটিশ নাগরিক আটকে আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশিরা তাদের প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যে যেতে পারছেন না। যারা যাচ্ছেন তাদের কয়েক লাখ টাকা খরচ করে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। রেড অ্যালার্ট তুলে নিলে তাদের আর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। আজই এই ঘোষণা আসবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফরে সে দেশের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি। সে দেশের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। তাদের বলেছি, বাংলাদেশ ব্রিটেনের ৫০ বছরের পুরোনো বন্ধু। স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর বছরে বাংলাদেশের ওপর এমন বিধিনিষেধ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘তারা আমার কথা রেখেছে। বাংলাদেশকে নরমাল ক্যাটাগারিতে আনা হচ্ছে। এ জন্য ব্রিটিশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রতিবার যুক্তরাজ্যে বিশ্রাম নেন। এবার তিনি ফিনল্যান্ডের বিশ্রাম নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত লন্ডনকে কড়া বার্তা দিয়েছে বলেই তারা দ্রুত এই তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত সপ্তাহে লন্ডন সফর থেকে ফিরে ব্রিটিশ সরকারের কড়া সমালোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।

সবশেষ গত রোববার রাজধানীর এক হোটেলে করোনাভাইরাসের আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশকে ব্রিটেনের লাল তালিকায় রাখা যুক্তিসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামীদের ভরসাস্থল ‘আমিপ্রবাসী’
‘ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, কবে টিকা পাব জানি না’
অর্থনৈতিক সংকট, লেবানন ছাড়তে মরিয়া বাংলাদেশিরা
দ. কোরিয়ায় ফিরতে চান আটকে পড়া প্রবাসীরা
প্রবাসী স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর ৩ দিনের রিমান্ড

শেয়ার করুন

৭১টি লাল গোলাপে মোদিকে হাসিনার শুভেচ্ছা

৭১টি লাল গোলাপে মোদিকে হাসিনার শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফাইল ছবি

নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গোলাপ ফুলের তোড়া পাঠায় দেশটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন। হাইকমিশনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৭১টি লাল গোলাপের তোড়া পৌঁছে দিয়ে আসেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭১তম জন্মদিনে ৭১টি লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে গোলাপ ফুলের তোড়া পাঠায় দেশটিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন।

হাইকমিশনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ৭১টি লাল গোলাপের তোড়া পৌঁছে দিয়ে আসেন।

দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার শাবান মাহমুদ বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন।

নরেন্দ্র মোদিকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ। তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। আগামী দিনেও তিনি দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করবেন- এমন আশা রাখেন রাষ্ট্রপতি কোবিন্দ।

দেশ ভাগের তিন বছর পর, ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের গুজরাটের ভাডনগরে জন্মগ্রহণ করেন নরেন্দ্র মোদি। প্রায় ১৪ বছর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মোদি ভারতের ১৪তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ২৬ মে থেকে তিনি ভারতকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ৬৫ মণ আম উপহার পাঠান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ বছরের ৪ জুলাই বেনাপোল নো ম্যানস ল্যান্ডে ভারতে নিযুক্ত কলকাতার প্রথম সচিব (রাজনৈতিক) সানিউল কাদের উপহারের ২৬০০ কেজি (২৬০ কার্টন) আম গ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঠানো উপহারের হাঁড়িভাঙ্গা আম মন ছুঁয়েছে বলে জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

তার দুই দিন পর, ৬ জুলাই শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা চিঠিতে এ কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

মোদি চিঠিতে লেখেন, ‘আম উপহারের সৌজন্যতা আমার হৃদয় ছুঁয়েছে। ঢাকা সফরকালে আমাকে যে অসাধারণ আতিথেয়তা দেয়া হয়েছিল, এ আম উপহার সেটাকে স্মরণ করিয়ে দিল।’

আরও পড়ুন:
বিদেশগামীদের ভরসাস্থল ‘আমিপ্রবাসী’
‘ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, কবে টিকা পাব জানি না’
অর্থনৈতিক সংকট, লেবানন ছাড়তে মরিয়া বাংলাদেশিরা
দ. কোরিয়ায় ফিরতে চান আটকে পড়া প্রবাসীরা
প্রবাসী স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর ৩ দিনের রিমান্ড

শেয়ার করুন

ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা

ব্যাংক হিসাব তলব: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন সাংবাদিক নেতারা

ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খানের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, ‘দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের নামে সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।’

সম্প্রতি সাংবাদিকদের ছয়টি সংগঠনের ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসার ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

তারা জানিয়েছেন, জাতীয় প্রেসক্লাবে শনিবার দুপুর ১২টায় সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হবে। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা তাদের ফেসবুকে এ নিয়ে স্ট্যাটাসও দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা মনে করি, আমাদের বিষয়ে জাতির কাছে ভুল বার্তা দেয়া হচ্ছে। আমরা আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই। আর তাই এ সংবাদ সম্মেলন।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খানের পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, ‘দেশের পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের নামে সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করে রোববার বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠায়।

চিঠিতে মঙ্গলবারের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরমে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী।

যেসব নেতাদের তথ্য চাওয়া হয়েছে এদের মধ্যে আছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান। এছাড়া অন্য সাংবাদিক নেতারা হলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) (বিএনপি সমর্থিত) সভাপতি আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) (বিএনপি সমর্থিত) সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) (আওয়ামী লীগ সমর্থিত) সভাপতি মোল্লা জালাল ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল মজিদ এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি মোরসালীন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানের তথ্যও চেয়েছে বিএফআইইউ।

ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন।

সোমবার নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘যারা (বিএফআইইউ) চেয়েছে তারা বলতে পারবে কেন চেয়েছে। সরকার এটা চাইতেই পারে। সাংবাদিকরা তো সব কিছুর ঊর্ধ্বে না।’

কেবল সাংবাদিক নেতাদের তথ্য চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের হয়তো মনে হয়েছে নেতারা শুধু দাবিদাওয়া জানায়, কী অবস্থায় (তারা) আছে দেখি। দল-মত নির্বিশেষে সব নেতার তথ্য তারা চেয়েছে।’

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন আমার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমার ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেখে, যারা চেয়েছে তারা লজ্জা পেতে পারে। আমার একটা টাকাও নেই।’

আরও পড়ুন:
বিদেশগামীদের ভরসাস্থল ‘আমিপ্রবাসী’
‘ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, কবে টিকা পাব জানি না’
অর্থনৈতিক সংকট, লেবানন ছাড়তে মরিয়া বাংলাদেশিরা
দ. কোরিয়ায় ফিরতে চান আটকে পড়া প্রবাসীরা
প্রবাসী স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর ৩ দিনের রিমান্ড

শেয়ার করুন

টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে প্রধামন্ত্রীর ছয় দফা

শনিবার ‘মেজর ইকোনমিজ ফোরাম অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট’ শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওয়াশিংটন ডিসিতে জলবায়ুবিষয়ক এক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার প্রভাব ছাড়াও ১১ লাখ রোহিঙ্গা জোরপূর্বক মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ গুরুতর জলবায়ু প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।’

আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ লক্ষ্যে ছয় দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছেন সরকারপ্রধান।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ডাকা ‘মেজর ইকোনমিজ ফোরাম অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লাইমেট’ শিরোনামে শীর্ষ সম্মেলনে শনিবার দেয়া ভাষণে এ প্রস্তাব রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর রাখা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আছে:

১. প্রধান কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোকে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার লক্ষ্যে তাদের কার্বন নির্গমন হ্রাস করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে।

২. জলবায়ু তহবিলের জন্য উন্নত দেশগুলোর বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন ডলারের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে এবং অভিযোজন ও প্রশমনের মধ্যে ৫০:৫০ বিতরণ করতে হবে।

৩. উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রযুক্তি হস্তান্তরের পাশাপাশি সবচেয়ে কার্যকর জ্বালানি সমাধান নিয়ে উন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

৪. নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উত্তরণের ক্ষেত্রে জাতি-রাষ্ট্রগুলোর সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোর হিসাব নেয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লোকসান ও ক্ষতির বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত।

৫. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সব দেশের ভাগ করে নেয়া দরকার।

৬. পরবর্তী প্রজন্মের জন্য টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোকে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠেয় কপ২৬ সম্মেলনে দৃঢ় ও তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল কামনা করেন এবং এ লক্ষ্যে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা ও খরার প্রভাব ছাড়াও ১১ লাখ রোহিঙ্গা জোরপূর্বক মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে বাংলাদেশ গুরুতর জলবায়ু প্রভাবের সম্মুখীন হচ্ছে।’

জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও প্রশমন প্রচেষ্টায় তার সরকার অগ্রণী হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও হালনাগাদ করা এনডিসি জমা দিয়েছে।’

বাংলাদেশ বিশ্বের সর্বাধিক বিস্তৃত অভ্যন্তরীণ সৌরশক্তি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ‘মুজিব জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে, যা জলবায়ু ঝুঁকি থেকে জলবায়ু সহিষ্ণুতা এবং তা থেকে জলবায়ু সমৃদ্ধি পর্যন্ত একটি যাত্রা।”

জলবায়ু ঝুঁকি ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভি-২০-এর সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরা।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমেও বাংলাদেশ সেরা অনুশীলন ভাগ করে নেয়।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামীদের ভরসাস্থল ‘আমিপ্রবাসী’
‘ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, কবে টিকা পাব জানি না’
অর্থনৈতিক সংকট, লেবানন ছাড়তে মরিয়া বাংলাদেশিরা
দ. কোরিয়ায় ফিরতে চান আটকে পড়া প্রবাসীরা
প্রবাসী স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর ৩ দিনের রিমান্ড

শেয়ার করুন

ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ছবি: নিউজবাংলা

ডিজিটাল ই-কমার্স সেলপ্রধান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইভ্যালির গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের দায়দায়িত্ব মন্ত্রণালয় নেবে না। লেনদেনের বিষয়টি শুধু গ্রাহক ও কোম্পানির বিষয়। তবে গ্রাহকের প্রতি মন্ত্রণালয়ের সহানুভূতি রয়েছে।’

আলোচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও সিইও গ্রেপ্তার হওয়ার কারণে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে, এই প্ল্যাটফর্মের বিপুলসংখ্যক গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনার কী হবে? গ্রাহকরা পণ্য ডেলিভারির জন্য যে আগাম অর্থ পরিশোধ করেছেন, তা কীভাবে তারা ফেরত পাবেন? যেসব মার্চেন্ট পণ্য ডেলিভারি দিয়েছে, তাদের পাওনারই-বা কী হবে?

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও ডিজিটাল ই-কমার্স পরিচালনসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহক ও মার্চেন্ট এবং অন্যান্য সেবা সংস্থার কাছে ইভ্যালির দেনা ৫৪৩ কোটি টাকা। অপরদিকে বৃহস্পতিবার র‌্যাবের হাতে আটকের পর শুক্রবার সংস্থাটির কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রাহকের সার্বিক পাওনার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

ইভ্যালির বর্তমান আর্থিক প্রতিবেদন চিত্র পর্যালোচনার পর দেখা যায়, এ দেনা পরিশোধের সক্ষমতা বা পাওনা পরিশোধে সমপরিমাণ নগদ অর্থ কিংবা সম্পত্তি কোনোটাই নেই ইভ্যালির হাতে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইভ্যালির বর্তমান পরিচালন থেকে অর্জিত মুনাফা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বিপুল পরিমাণ পাওনা পরিশোধ সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন না।

এ প্রসঙ্গে দেশে ডিজিটাল ই-কমার্স সেলপ্রধান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইভ্যালির গ্রাহকের পাওনা পরিশোধের দায়দায়িত্ব মন্ত্রণালয় নেবে না। লেনদেনের বিষয়টি শুধু গ্রাহক ও কোম্পানির বিষয়। তবে গ্রাহকের প্রতি মন্ত্রণালয়ের সহানুভূতি রয়েছে। সে জন্য মন্ত্রণালয় চেষ্টা করবে নিরপেক্ষ কোনো থার্ড পার্টি অডিটর প্রতিষ্ঠান দিয়ে কোম্পানিটির ওপর নিরীক্ষা চালানোর মাধ্যমে তাদের প্রকৃত আর্থিক চিত্র বের করে আনতে। এতে যদি আরও কিছু বাড়তি সম্পদ বা অর্থের হদিস মেলে, সেটি হবে গ্রাহকদের জন্য মঙ্গল, যা গ্রাহকদের পাওনা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে কাজে আসবে।

‘তবে থার্ড পার্টি অডিটর নিয়োগের প্রক্রিয়াটিও সরাসরি মন্ত্রণালয়ের হাতে নেই। এর জন্য মন্ত্রণালয়কে আইনি দিক পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। আইনে সেটি অনুমোদন না করলে আদালতের অনুমতি নিয়ে করতে হবে। আমরা এর জন্য আদালতের অনুমতি নেয়ার চেষ্টা করব।’

এক প্রশ্নের জবাবে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইভ্যালির বিষয়ে এখন আদালত সিদ্ধান্ত নেবে। ইভ্যালির ব্যবসা চালু থাকবে কি না, থাকলে সেটি কোন প্রক্রিয়ায় হবে, আদালত জনস্বার্থে সেখানে কাস্টডিয়ান নিয়োগ দেবে, নাকি ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে জামিন দিয়ে তাদের মাধ্যমেই কোম্পানি পরিচালনা করাবে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে গ্রাহকদের পাওনা কিংবা পণ্য ও অর্থ পরিশোধ করবে, সেটি নির্ধারণ করবে।’

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও এমডিকে আইনের আওতায় নেয়ার মাধ্যমে ই-কমার্স খাতে বিদ্যমান একটা অনিশ্চয়তা বন্ধ করা হয়েছে। তবে এটাও ঠিক, এর মাধ্যমে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের পাওনা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি অনেকটা অনিশ্চয়তার দিকে চলে গেছে।’

গ্রাহকের পাওনা ফেরতের অনিশ্চয়তা দূর করার উপায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইন আইনের মতো চলুক। তবে একই সঙ্গে গ্রাহকের স্বার্থে ইভ্যালির ব্যবসাটা চালু রাখা হোক। কারণ ইভ্যালি বন্ধ করে দেয়া কোনো সমাধান হতে পারে না। আস্থার কিছু ঘাটতি থাকলেও আমি মনে করি, দেশে ইভ্যালির একটা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্রাহক সৃষ্টি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা উদ্ধারের স্বার্থে সরকার থেকে যদি ইভ্যালিতে প্রশাসকের মতো কিছু বসায় অথবা একটি পরিচালনা কমিটি গঠনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে চালু রাখা হয় এবং তারা ডিজিটাল ই-কমার্স খাতে সম্প্রতি জারি করা এসওপি অনুযায়ী পরিচালনা করে, তাহলে ইভ্যালি রান করতে সক্ষম।

‘তখন এর থেকে যে মুনাফা হবে, তা দিয়ে আস্তে আস্তে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা পরিশোধ করা যাবে। যদিও এতে অনেক দিন সময় লাগবে। এতে হয়তো কিছু গ্রাহক তার পাওনা ফেরত না-ও পেতে পারে, কিন্তু অনেক গ্রাহক তার পাওনা ফিরে পাবে। তবে পুরো বিষয়টিই নির্ভর করছে আদালত ও সরকারের ওপর।’

ইভ্যালির গ্রাহকদের পাওনা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করেন শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘আজকের ডিল’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ কে এম ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, ‘ওই টাকা আগেই হাওয়া হয়ে গেছে।’

ফেরত পাওয়ার উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখন তদন্ত করে দেখা উচিত ইভ্যালির মালিকপক্ষ কোথাও টাকা সরিয়েছে কি না। যদি কোথাও কোনো গোপন সম্পদ থাকে বা টাকা গচ্ছিত রাখে, তা উদ্ধারের ব্যবস্থা নিতে হবে, যা পাওনাদারদের মাঝে বণ্টন করা যেতে পারে।’

ইলেকট্রনিক কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাব উদ্দিন শিপন বলেন, ‘গ্রাহকরা পাওনা পাবে কি পাবে না, সে বিষয়ে মন্তব্য করার সময় এখনও আসেনি। বিষয়টি এখন আদালতের হাতে। নিশ্চয়ই আদালত এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেবে।’

তবে তিনি ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে বলেন, ‘র‌্যাবের ব্রিফিং থেকে শুনলাম ইভ্যালির এখন দেনার পরিমাণ ১ হাজার কোটি টাকা। এটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেয়া হিসাবের দ্বিগুণ। শুনে শুধু আশ্চর্যই হয়েছি।’

শাহাব উদ্দিন শিপন বলেন, ‘এই বিপুল পরিমাণ দায়ই বলে দিচ্ছে গ্রাহকরা এর থেকে খু্ব বেশি রিটার্ন পাবে বলে মনে হয় না। কারণ দেশে শুধু ই-কমার্স কেন, এখনও এমন কোনো অর্গানিক ব্যবসা গড়ে ওঠেনি, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দৈনন্দিন ব্যবসা করে তার মুনাফা দিয়ে হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে পারবে। এটা অসম্ভব একটি বিষয়।’

দেনা ও গ্রাহকের সংখ্যা কত?

গত ২৭ আগস্ট ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক-১-এর কাছে লিখিত প্রতিবেদনে ইভ্যালির এমডি মো. রাসেল জানান, ১৫ জুলাই পর্যন্ত ইভ্যালির কাছে গ্রাহকদের মোট পাওনা ৩১০ কোটি ৯৯ লাখ ১৭ হাজার ৮০২ টাকা। ২ লাখ ৭ হাজার ৭৪১ গ্রাহকের কাছে ইভ্যালির এই দেনা রয়েছে।

এর আগে প্রথম দফায় দেয়া সম্পদ ও দায় বিবরণীসংক্রান্ত পত্রে রাসেল জানান, ‘গত ১৫ জুলাই ২০২১ তারিখ পর্যন্ত গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম, সরবরাহকারীদের কাছে দেনা, ব্যবসায়িক ব্যয়সংক্রান্ত দেনাসহ অন্যান্য সব দেনা বাবদ ইভ্যালির মোট চলতি দায়ের পরিমাণ ৫৪২ কোটি ৯৯ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮২ টাকা।’

সবশেষ গত ২ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে ইভ্যালির কাছে মার্চেন্টদের পাওনা ২০৫ কোটি ৮৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৩ টাকা বলে জানান রাসেল।

চিঠিতে সমুদয় পাওনা আগামী ৫ মাসে স্বাভাবিক ব্যবসা কার্যক্রম চালিয়ে তার থেকে অর্জিত মুনাফা থেকে পরিশোধ করবেন বলে দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামীদের ভরসাস্থল ‘আমিপ্রবাসী’
‘ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, কবে টিকা পাব জানি না’
অর্থনৈতিক সংকট, লেবানন ছাড়তে মরিয়া বাংলাদেশিরা
দ. কোরিয়ায় ফিরতে চান আটকে পড়া প্রবাসীরা
প্রবাসী স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর ৩ দিনের রিমান্ড

শেয়ার করুন

কম্পিউটার অপারেটর সেই নুরুল ফের রিমান্ডে  

কম্পিউটার অপারেটর সেই নুরুল ফের রিমান্ডে  

টেকনাফ স্থলবন্দরে দালালি, চোরাকারবারিসহ কয়েকটি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের হোতা নুরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

নুরুল ইসলামকে এবার জাল টাকা ও বিদেশি মুদ্রা রাখার মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা শুক্রবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার কম্পিউটার অপারেটর নুরুল ইসলামকে এবার জাল টাকা ও বিদেশি মুদ্রা রাখার মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম ইয়াসমিন আরা শুক্রবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

মাদক মামলায় একদিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার নুরুল ইসলামকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে তোলা হয়।

এদিন জাল টাকা ও বিদেশি মুদ্রা রাখার মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোলাম কিবরিয়া নুরুল ইসলামকে ৭ দিনের রিমান্ডে চান।

নুরল ইসলামের আইনজীবী মিরাজ হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মোহাম্মদপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম এর বিরোধীতা করেন।

দুই পক্ষের শুনানি শেষে আদালত নুরুল ইসলামকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নুরুল ইসলামের আইনজীবী মিরাজ হোসেন।

এর আগে মাদক মামলায় বুধবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম তাকে একদিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছিলেন।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে নুরুল ইসলামকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় তার কাছ থেকে তিন লাখ ৪৬ হাজার টাকার জাল নোট, মিয়ানমারের ৩ লাখ ৮০ হাজার মুদ্রা, চার হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ও ২ লাখ ১ হাজার ১৬০ টাকা জব্দ হয়।

এ ঘটনায় র‍্যাব-৩ এর নায়েক সুবেদার ফিরোজ খান মোহাম্মদপুর থানায় মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে দুটি মামলা করেন।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার নুরুল ২০০১ সালে টেকনাফ স্থলবন্দরে কম্পিউটার অপারেটর থাকার সময় নিজের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চোরাকারবারি, শুল্ক ফাঁকি, অবৈধ পণ্য খালাস, দালালির কৌশল রপ্ত করে। পরে তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি সিন্ডেকেট গড়ে ওঠে। এসব করে গত ২০ বছরে তিনি ৪৬০ কোটি টাকার মালিক বনে যান।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামীদের ভরসাস্থল ‘আমিপ্রবাসী’
‘ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, কবে টিকা পাব জানি না’
অর্থনৈতিক সংকট, লেবানন ছাড়তে মরিয়া বাংলাদেশিরা
দ. কোরিয়ায় ফিরতে চান আটকে পড়া প্রবাসীরা
প্রবাসী স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর ৩ দিনের রিমান্ড

শেয়ার করুন

যুক্তরাজ্য ভ্রমণে কড়াকড়ি শিথিল হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাজ্য ভ্রমণে কড়াকড়ি শিথিল হচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্য ভ্রমণ শিথিল হচ্ছে। ছবি: এএফপি

মন্ত্রী বলেন, ‘এটা সুখবর। বর্তমানে দেশে কয়েক হাজার ব্রিটিশ নাগরিক আটকে আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশিরা তাদের প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যে যেতে পারছেন না। যারা যাচ্ছেন তাদের কয়েক লাখ টাকা খরচ করে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। রেড অ্যালার্ট তুলে নিলে তাদের আর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। আজই এই ঘোষণা আসবে।’

করোনা সংক্রমণ কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর জারি রেড অ্যালার্ট তুলে নিচ্ছে যুক্তরাজ্য। তা কার্যকর হলে দেশটি সফরে যাওয়া বাংলাদেশিদের আর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন শুক্রবার ফেসবুক লাইভে এসে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এটা সুখবর। বর্তমানে দেশে কয়েক হাজার ব্রিটিশ নাগরিক আটকে আছে। এ ছাড়া বাংলাদেশিরা তাদের প্রয়োজনে যুক্তরাজ্যে যেতে পারছেন না। যারা যাচ্ছেন তাদের কয়েক লাখ টাকা খরচ করে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হচ্ছে। রেড অ্যালার্ট তুলে নিলে তাদের আর কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে না। আজই এই ঘোষণা আসবে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফরে সে দেশের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলেছি। সে দেশের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও কথা বলেছি। তাদের বলেছি, বাংলাদেশ ব্রিটেনের ৫০ বছরের পুরোনো বন্ধু। স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীর বছরে বাংলাদেশের ওপর এমন বিধিনিষেধ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘তারা আমার কথা রেখেছে। বাংলাদেশকে নরমাল ক্যাটাগারিতে আনা হচ্ছে। এ জন্য ব্রিটিশ সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

কূটনৈতিকরা বলছেন, বাংলাদেশের চেয়ে বেশি মৃত্যু ও আক্রান্ত থাকলেও ভারত, নেপাল ও ভূটানকে রেড অ্যালার্টে রাখেনি যুক্তরাজ্য। তাই এটিকে রাজনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছে ঢাকা।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে প্রতিবার যুক্তরাজ্যে বিশ্রাম নেন। এবার তিনি ফিনল্যান্ডের বিশ্রাম নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত লন্ডনকে কড়া বার্তা দিয়েছে বলেই তারা দ্রুত এই তালিকা হালনাগাদের সিদ্ধান্ত নেয়।

গত সপ্তাহে লন্ডন সফর থেকে ফিরে ব্রিটিশ সরকারের কড়া সমালোচনা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

সবশেষ গত রোববার রাজধানীর এক হোটেলে করোনাভাইরাসের আফ্রিকান ভ্যারিয়েন্টের দোহাই দিয়ে বাংলাদেশকে ব্রিটেনের লাল তালিকায় রাখা যুক্তিসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আরও পড়ুন:
বিদেশগামীদের ভরসাস্থল ‘আমিপ্রবাসী’
‘ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, কবে টিকা পাব জানি না’
অর্থনৈতিক সংকট, লেবানন ছাড়তে মরিয়া বাংলাদেশিরা
দ. কোরিয়ায় ফিরতে চান আটকে পড়া প্রবাসীরা
প্রবাসী স্বামী হত্যা মামলায় স্ত্রীর ৩ দিনের রিমান্ড

শেয়ার করুন